মঙ্গলবার সকাল-সন্ধ্যা ফের দেশব্যাপী জামায়াতের হরতাল

আবদুল কাদের মোল্লাকে বিচারের নামে হত্যার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল-সন্ধ্যা ফের দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করেছে জামায়াতে ইসলামী।সোমবার এক বিবৃতিতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, সরকার রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে সংবিধান, সুপ্রিমকোর্ট রুলস্‌ এবং জেলকোডের বিধান অবজ্ঞা করে আবদুল কাদের মোল্লাকে বিচারের নামে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে।সোমবার জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল পালন করেছে দাবি করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম- সরকার তার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করার অপচেষ্টা চালানো থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু মঙ্গলবার রাতেও এ রায় কার্যকর হতে পারে মর্মে বিভিন্ন মহলে আলোচনা করা হচ্ছে।’তিনি বলেন, ‘সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে। গোটা মামলার বিচার প্রক্রিয়া সরকার নির্দেশিত ছকে পরিচালিত হয়েছে।’জামায়াত সেক্রেটারি দাবি করেন, ‘কাদের মোল্লার বিচারে সরকার ভুয়া ব্যক্তিকে মোমেনা বেগম সাজিয়ে আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ায়। এ মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে।’‘সরকার কাদের মোল্লাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে রায়ের ১৩ দিন পর আইন সংশোধন করে এবং সংশোধিত আইনে মহামান্য সুপ্রিমকোর্টে আপিল করে। সুপ্রিমকোর্ট ভুয়া মোমেনা বেগমের সাক্ষ্য ও শোনা সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়’ যোগ করেন তিনি।শফিকুর রহমান দাবি করেন, ‘৭৯০ পৃষ্ঠার রায়ে একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও কাদের মোল্লা কোনো অপরাধে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে সাক্ষ্য দেননি। সম্পূর্ণ শোনা সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। উপমহাদেশের ইতিহাসে নিম্ন আদালতের সাজা বৃদ্ধি করে উচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান নজিরবিহীন।’তিনি দাবি করেন, এই মুহূর্তে তড়িঘড়ি কাদের মোল্লার রায় কার্যকরের নামে তাকে হত্যা করে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে সরকার ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। এ ধরনের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হলে আওয়ামী লীগকে ইতিহাসের করুণ পরিণতি বরণ করতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।