পাটগ্রামে সংঘর্ষে দুই শিবির নেতাসহ নিহত ৫

রবিবার সকাল সাড়ে ৭টায় লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রামে বুড়িমারী স্থলবন্দর আঞ্চলিক মহাসড়কের সরোয়ার বাজারে জামায়াতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালের শুরুতেই পুলিশের গুলিতে উপজেলা শিবির সভাপতি ও পৌর শিবির সেক্রেটারিসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন- তমিরউদ্দিনের ছেলে উপজেলা শিবির সভাপতি মোমিনুল ইসলাম (২৫), পৌর শিবির সেক্রেটারি সাজু মিয়া (২২) এবং করম আলীর ছেলে শিবিরকর্মী আবদুর রহিম (২২)।

এছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় মিন্টু নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করে শিবির কর্মীরা। আর গুলি ও ককটেলের শব্দে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে সরোয়ার বাজার আঞ্চলিক মহাসড়কে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশ বাধা দিলে পিকেটাররা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল ছোঁড়ে।

এ সময় পুলিশ শটগানের গুলিবর্ষণ করলে ঘটনাস্থলেই শিবিরকর্মী আবদুর রহিম নিহত হন। মোমিনুলকে হাসপাতালে নেয়ার পথে এবং রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাজু।

আর সংঘর্ষের একপর্যায়ে শিবির কর্মীরা ছাত্রলীগ কর্মী মিন্টুকে পিটিয়ে হত্যা করে পাটগ্রাম রেলস্টেশনে লাশ ফেলে যায়।

এ ঘটনার পর থেকে পিকেটাররা আঞ্চলিক মহাসড়কের আট কিলোমিটার এলাকা গাছ কেটে এবং গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে রাখে। এছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাদের বাড়িতে হামলা করে।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও উপজেলা জামায়াতে সেক্রেটারি ও এক বিএনপি নেতার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পিকটারদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ৩০ রাউন্ড চাইনিজ রাইফেলের গুলি এবং ৪৭ রাউন্ড শটগানের গুলিবর্ষণ করে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।