ভোট গ্রহন শুরুর আগের দিনই ৫ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত, অনিশ্চিত ৯ কেন্দ্র

একতরফা নির্বাচন বিভিন্ন জেলায় বিরোধী জোটের তোপের মুখে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেয়ায় অন্তত পাঁচটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে নির্বাচনী সরঞ্জামে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম, গাইবান্ধা, যশোর, নরসিংদী, লক্ষ্মীপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারীর বিভিন্ন কেন্দ্রে।

এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের দুটি, সাতকানিয়ার দুটি ও দিনাজপুরের একটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া ব্যালট পুড়িয়ে দেয়ায় নীলফারামীতে দুটি, দিনাজপুরে চারটি, হবিগঞ্জে একটি এবং যশোরে দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এজন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এখন পর্যন্ত অন্তত ২০টি কেন্দ্রে এমন হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এ সব ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তথা পুলিশ ও আনসারের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়।

গাইবান্ধা জেলার সাতটি কেন্দ্রের সরঞ্জাম ছিনতাই করে আগুন ধরানো হয়েছে। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, কুঞ্জমহিপুর কেন্দ্রের সাতটি বাক্স ও ৩ হাজার একশ’ ব্যালট এবং তাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের আটটি বক্স ও ৪ হাজার পাঁচশ’ ব্যালট নিয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার পথে তিনমাথা মোড়ে হরতাল সমর্থকরা রাস্তায় ব্যরিকেড দিয়ে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে তারা এসব সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে আগুন দেয়।

সন্ধ্যার পর সাদুল্লাপুর খেকে খোর্দ্দকোমরপুর, ইদিলপুর, খোর্দ্দ মোজাহিদপুর, আলিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং পীরেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধারাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ব্যালট পেপার ছিনতাই ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে গেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর ওই সাত কেন্দ্রে আর কোন ব্যালট ও নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌছানো হয়নি। রাত পোহালেই কিভাবে ভোট নেয়া হবে তা বলতে পারেনি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার শফিকুল আলম।

ছদহা ও কেউটিয়া ইউনিয়নের দুইটি কেন্দ্রের নির্বাচনী সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে আগুন দিয়েছে বিরোধী দলের কর্মীরা। ছাদাহা ইউনিয়নের ফকিরহাট খাইরিয়া মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে ব্যলটবাক্স বহনকারী পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করে অবরোধকারীরা।

এ সময় তারা পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। ধস্তাধাস্তিতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তারা ভোটের সরঞ্জামে আগুন দেয়।

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সমসকাটিতে পুলিশের বহনকারী একটি মাইক্রোবাসে পেট্রোল বোমা হামলা চালিয়েছে নির্বাচন বিরোধীরা। আজ রাত ৮টার দিকে এ হামলায় পুলিশের বহনকারী ওই মাইক্রোবাসে আগুন ধরে গেলে পুলিশ ও আনসারের নয় সদস্য আহত হন। ভোলার চরফ্যাশনে নির্বাচনী অফিসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

টাঙ্গাইলের গোপালপুরের দুটি ভোটকেন্দ্র থেকে ৫ হাজার ৭৮১টি ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার দামুর চাকলা দেওয়ান সালেহ দাখিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। তাদের হামলায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আসাদ আলীসহ তিনজন আহত হয়েছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে অন্তত তিনটি ভোটকেন্দ্রে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সব কেন্দ্রের ভোটের উপকরণ উপজেলায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অন্তত সাতটি কেন্দ্রে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় এক পোলিং অফিসার আহত হয়েছেন।

ফেনীর সোনাগাজীতে ভোট কেন্দ্রের ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপারসহ নির্বাচন সামগ্রী ছিনতাই করে পানিতে ফেলে দিয়েছে নির্বাচন বিরোধীরা। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নের চরদরবেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

প্রসঙ্গত, গতকাল শুক্রবার রাত থেকে ৩৯টি জেলার অন্তত ১৪০টি ভোট কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ, বিষ্ঠা নিক্ষেপ, পুলিশের ওপর হামলা, নির্বাচন অফিসে ও কেন্দ্রে পেট্রল বোমা ছুঁড়ে দেশব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে বিরোধী কর্মীরা।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।