নির্বাচন সহিংসতায় নিহত ১৭

বিরোধী দলবিহীন একতরফা নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এক আনসার সদস্যসহ এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছে । গুলিবিদ্ধসহ বহু সংখ্যক আহত হয়েছেন।

রবিবার বিরোধী দলসহ নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৪০ দলের ২৮টির বর্জনের মুখে এই নির্বাচনে সহিংস হয়ে উঠে।

রবিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে বিএনপির দুই কর্মী নিহত হন। নিহতরা হলেন, উপজেলার খাগড়াবাড়ি গ্রামের বিএনপিকর্মী হারুন (২০) এবং বাসুদেবপুর গ্রামের জয়নাল (২১)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর ১টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে ওই কেন্দ্রের দিকে আসতে থাকে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিতে গেলে দুইপক্ষের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। একপর্যায়ে বিএনপির কর্মীরা ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে পুকুরে ফেলে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি ছুঁড়লে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।

এর আগে শনিবার রাতে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে অজ্ঞাতরা। রাত সোয়া ১১টার দিকে সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দেপড়িকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটনা।

ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে ফেনীর সোনাগাজীতে পুলিশের গুলিতে জামশেদ আলম (২৭) নামের এক যুবদল নেতা ও শহীদুল্লাহ (২২) নামের ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তর চরছান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

রবিবার সকাল ৮টার দিকে মুন্সীগঞ্জে একটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও আ.লীগের ধাওয়ায় পুকুরে পড়ে ও পুলিশের নির্যাতনে কঙ্কন মিয়া নামে এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

নিহত কঙ্কন মিয়া কাঠাদিয়া-শিমুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তিনি একই ইউনিয়নের আলদী গ্রামের প্রয়াত আবদুল হক মাস্টারের ছেলে।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মাছিমপুর কেন্দ্রে ১৮ দলের লোকজন হামলা করলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ছাত্রশিবিরের কর্মী রুবেল হোসেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।

গাজীপুরে চলন্ত ট্রাকে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রল বোমায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে আজ ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ট্রাকচালক নুরুজ্জামান। শনিবার রাতে তার ওপর পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনায় আরো একজন দগ্ধ হয়।

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় শনিবার রাতে গুলিবিদ্ধ যুবদলকর্মী ফারুক হোসেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত হয়েছেন।

সকালে পুলিশের গুলিতে রংপুরের পীরগাছায় জামায়াতে ইসলামী কর্মী মিরাজুল ইসলাম এবং ছাত্রশিবিরের কর্মী হাদিউজ্জামান নিহত হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে ১৮-দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে আবদুল ওয়াহেদ নামে এক আনসার সদস্য ও রায়হান চৌধুরী নামে স্থানীয় এক জাগপাকর্মী নিহত হয়েছেন। সকাল ৮টার দিকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরে উত্তর শালন্দার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

এরআগে শনিবার দিবাগত রাতে দিনাজপুরে সদর উপজেলার নশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে হামলা চালানোর সময় পুলিশের পুলিশের গুলিতে বাবুল হোসেন (৪০) নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। চেহেলগাজী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি।

নীলফামারীর ডিমলার চাপানি ও জলঢাকায় ভোটকেন্দ্রে আগুন দিতে গেলে পুলিশের গুলিতে দুই জামায়াতকর্মী নিহত হয়েছেন। শনিবার রাত ও আজ রবিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- জামায়াতকর্মী মমতাজ উদ্দিন (৪০) ও জাহাঙ্গীর আলম (২৭)।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী কেন্দ্রে প্রতিপক্ষের হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মতিউর রহমান নিহত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।