বিক্রি না হওয়ায় পঁচে যাচ্ছে মহেশখালীর ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি পান

কক্সবাজার জেলা সদর থেকে ১২কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী অবস্থিত। ৩৬২.১৮বর্গকিলোমিটারের এ দ্বীপটি হচেছ বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়িয়া দ্বীপ। উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি পাহাড়ী জনবসতিপূর্ণ ইউনিয়ন রয়েছে। পাহাড়িয়া ইউনিয়নে বসবাসকারী লোকদের অন্যতম আয়ের প্রধান উৎস হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি পান উৎপাদন। সমতল ভূমির চেয়ে পাহাড়ীয়া এলাকায় মিষ্টি পানের উৎপাদন অনেকাংশে বেশী হওয়ায় পাহাড়ী জমিতে এ দ্বীপের অধিকাংশ মানুষ পান উৎপাদন করে আর্থিকভাবে অনেক উন্নত হয়েছে। উপজেলার ৫টি পাহাড়ীয়া ইউনিয়নের মধ্যে, শাপলাপুর ইউনিয়নে প্রায় ৬ হাজার, ছোট মহেশখালী ইউনিয়নে প্রায় ৭ হাজার, বড় মহেশখালী ইউনিয়নে প্রায় ৬ হাজার, হোয়ানক ইউনিয়নে প্রায় ৯ হাজার এবং কালারমারছড়া ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার বিভিন্ন আকারের বিখ্যাত মিষ্টি পানের বরজ রয়েছে বলে বিভিন্নসূত্রে জানা যায়।

দীর্ঘদিন ধরে মিষ্টি পান উৎপাদন করে মহেশখালীর অনেক মানুষ স্বাবলম্বী হয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসলেও বর্তমানে উক্ত পান বিক্রি হচ্ছেনা। অধিকাংশ পানবাজারে দেখা যায়, পানচাষীরা বিক্রি করার উদ্দেশ্যে পান নিয়ে বাজারে অপেমান থাকলেও পান ক্রেতার সংখ্যা একেবারেই নেই বললেই চলে।  বড় আকারের পান পানির ধরে বিক্রি হচ্ছে কিন্তু একেবারেই বিক্রি হচ্ছেনা ছোট আকারের পান। অনেক চাষীকে বিক্রি না হওয়ায় পান ফেলে দিতে দেখা যায়। পানচাষীরা জানায়, বর্তমানে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ডাকা হরতাল, অবরোধ সহ বিভিন্ন কর্মসূচীর কারণে সারাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম বাহন গাড়ী চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়েছে। যার দরুন ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রাজশাহী সহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা থেকে আগত পানব্যবসায়ীরা পান ক্রয় করতে আসছেনা। অনেকে আসলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা হুমকির মুখে থাকায় পরিবহনের অভাবে পান ক্রয় করছেনা।

তাছাড়া বিগত কিছুদিন পূর্বে যোগাযোগের বিকল্প পথ হিসেবে নৌ-পথে পান পরিবহন ব্যবস্থা চালু করলেও হঠাৎ নৌ- দূঘর্টনায় পতিত হয়ে ব্যবসায়ীদের প্রায় ১২ল টাকার পান সাগরে ডুবে যায়। যার কারণে বর্তমানে ব্যবসায়ীরা পান ক্রয় করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেনা। কুমিল্লার পান ব্যবসায়ী ফরিদুল আলম বলেন, মহেশখালীর মিষ্টি পানের দেশ বিদেশে চাহিদা থাকায় আমরা মহেশখালী থেকে পান ক্রয় করতে আগ্রহী। পূর্বে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা এবং তুলনামূলক চাহিদা বেশী থাকায় আমরা চড়া দামে পান ক্রয় করে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে লাভবান হতাম। কিন্তু বর্তমানে পানের চাহিদা থাকা সত্তেও দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশে পরিবহন ব্যবস্থা অনিরাপদ হওয়ায় আমরা পান ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করতে পারছিনা। যার কারণে আমরা ব্যবসায়ীদের পে পান ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছেনা। বড়মহেশখালী ইউপি সদস্য মোঃ ছোবহান বলেন, আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ দরিদ্র লোক মিষ্টিপান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। পান চাষ তাদের আয়ের মূল উৎস হওয়ায় এবং বর্তমান বাজারে পান বিক্রি করতে না পারায় তারা নানামুখী অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মূখিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপর মহলের সহযোগীতা দাবী করছি।

এই ব্যপারে মহেশখালী পানচাষী সমিতি সভাপতি বলেন, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পান বিক্রি করা না গেলেও চাষীদের পানবরজের খরচ টিকই বহন করতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে চাষীরা পানবরজের খরচ চালাতে পারবেনা। ফলে মহেশখালীর ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি পান উৎপাদন অচিরেই হারিয়ে যাবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।