ভিন্ন নামে হেফাজতের সমাবেশ

আওয়ামী লীগ সব সময় হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে থাকে উল্লেখ করে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকজন হেফাজতের মাদ্রাসায় টাকা-পয়সা দিয়ে সব সময় সাহায্য-সহযোগিতা করে। তাদের কেন আমরা গালি দিতে যাব?’ তিনি সোমববার বিকেলে হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক ইসলামী মহাসম্মেলনে একথা বলেন।

নিজ নামে না করে অখ্যাত আল আমানাহ ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এই সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম।

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা অভিযানে হতাহতদের স্মরণে এ সমাবেশের আয়োজন করা হলেও ব্যানারে তা উল্লেখ করা হয়নি।

সমাবেশে হেফাজতের আমির বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে আমাদের কোন বিরোধ নেই। সরকারের বিরুদ্ধেও আমরা কিছু বলছি না। আমাদের আন্দোলন নাস্তিক মুরতাদদের বিরুদ্ধে।’

শফী বলেন, ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে নাস্তিক-মুরতাদরা আল্লাহ-রাসুলকে (সা.) অবমাননা করবে, তা মেনে নেয়া হবে না।

তিনি ঘোষণা করেন, ‘আমাদের একমাত্র লক্ষ্য নাস্তিক-মুরতাদদের মোকাবেলা করা। নাস্তিক-মুরতাদদের নির্মূল না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

শফী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ভাইদের সঙ্গে আমাদের কোন খারাপ সম্পর্ক নেই। তাদের কখনও আমরা গালি দিইনি। শেখ হাসিনাকেও কখনও গালি দিইনি। কাউকে গালাগালি করা অঅমাদের কাজ নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রলীগ নামে একটি সংগঠনের অভিযোগ- আমরা তাদের নাকি গালমন্দ করি। কিন্তু সত্য হলো- তাদের কখনও আমরা গালাগাল করি না। তবে এদেশে বিভিন্ন পার্টি এসে মুসলমানদের বিষয় নিয়ে এলোমেলো কথা বলবে, তা কখনও মেতে নেয়া যায় না।’

সম্মেলনে হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, ‘এই দেশ থেকে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য দেশি-বিদেশি কুফুরি শক্তি ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালাচ্ছে। দেশে ইসলামী তাহযিব, তামাদ্দুনের প্রচার-প্রসার, তাফসির মাহফিল ও ইসলামী সম্মেলন তথা ইসলামের পক্ষে কথা বলা সকল মাধ্যমকে সঙ্কুচিত করা হচ্ছে।

তিনি এসব ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সকল মুসলমানদের মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতের সিনিয়র নায়েবে আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ। আরও বক্তব্য দেন- হাটহাজারী উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনির, আল্লামা শামসুল আলম, হাফেজ আহমদুল্লাহ, মাওলানা নোমান ফয়জী, সাজেদুর রহমান, আজিজুর হক আল মাদানী, মুহাম্মদ শফী, সলিম উল্লাহ, জাফর আহাম্মদ, মুজিবুর রহমান, জাকারিয়া নোমান ফয়জী, হাবিবুল হক বাবু, এমরান শিকদার, মাহমুদুল হাসান, জাহেদুল্লাহ, আনাস মাদানী, আব্দুল্লাহ, ইসমাঈল খান, মীর ইদরীস, মুফতি সিরাজুল ইসলাম, আব্দুল আজিজ, শিহাবউদ্দীন প্রমুখ।

সম্মেলনে দুপুর থেকে হাটহাজারী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শ’ শ’ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে যোগ দেন। নাশকতার আশঙ্কায় সম্মেলনস্থল ছাড়াও বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।

শেষে আল্লামা শাহ আহমদ শফী দেশ জাতি ও ইসলামের কল্যাণে এবং হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনে গত ৫ ও ৬ মে শহীদসহ বিভিন্ন আন্দোলনের সকল শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা, আহতদের সুস্থতা ও কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তির জন্য দোয়া করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।