রাত জেগে ধান পাহাড়া দিচ্ছেন কৃষক

ভোলার রাজপুর ইউনিয়নের মেদুয়ার চরের সীমানা নিয়ে মেহেন্দীগঞ্জের সাথে বিরোধ শুরু হয়েছে। ওই উপজেলার লাঠিয়াল চক্র ভোলার চর সীমানার পিলার তুলে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে বোরো-ইরি ধান লুটের পায়তারা করায় সেখানকার কৃষকদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। চরের ধান লুটের আশঙ্কায় এখন রাত জেগে ধান পাহাড়া দিচ্ছেন কৃষকরা।  গত সপ্তাহে মেহেন্দীগঞ্জের একদল লাঠিয়াল মেদুয়ার চরে হানা দিলে ভোলার কৃষকদের প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হঠতে বাধ্য হয়। এ ঘটনার পর মেদুয়ার চরের ভূমি মালিকদের মনোনিত প্রতিনিধ ডাক্তার আব্দুল মালেক প্রতিকার চেয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন জানান।

ওই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন, রাজাপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ৯নং মেদুয়া মৌজার ৩৩ নং দাগের জমিতে বহিরাগত মেহেন্দীগঞ্জের লাঠিয়াল বাহিনী সাধারণ কৃষকের উৎপাদিত ইরি-বোরো ধান লুটের পায়তারা চালাচ্ছে। এমতাবস্থায় তাদের ধান ও জানমালের নিরাপত্তা প্রয়োজন। কৃষকের ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার এ ব্যাপারে ভোলার জেলা প্রশসকের কাছে ওই চর নিয়ে সীমানা বিরোধের প্রতিবেদন চান। ভোলার জেলা প্রশাসক মোঃ সেলিম রেজা তদন্ত সাপেক্ষে কোন প্রকার সীমানা বিরোধ নেই মর্মে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন পেশ করেন।

পাশা-পাশি ভোলার জেলা প্রশাসক মেদুয়ার চরের কৃষকের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ভোলার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভূমি কর্ম কর্তাকে নির্দেশ দেন। মেদুয়ার চরের কৃষক নেতা মালেক ডাক্তার জানান, চরের প্রায় ১শ’ ৫০ একর জমিতে উৎপাদিত ইরি ধান নিয়ে মেহেন্দীগঞ্জের রুকুন্দি ও বাহাদুরপুর মৌজার লাঠিয়াল বাহিনীর অত্যাচারে প্রাণভয়ে কৃষকের দিনরাত কাটছে। মেহেন্দীগঞ্জের সাথে সীমানা পিলার না থাকার জের ধরে প্রতি বছরই ধান কাটার মৌসূমে লাঠিয়াল চক্র ভোলা সীমানায় প্রবেশ করে ধান লুটে নিচ্ছে। এবার মৌসূমেও লাঠিয়ালরা লুটের মহড়া চালাচ্ছে বলে চরের কৃষকরা অভিযোগ করেছেন।

কৃষকরা জানান, মেহেন্দীগঞ্জের ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার সাইফুল ইসলাম, কর্মচারী হুমায়ুন কবির, লাঠিয়ালদের ইন্দন দিচ্ছেন। তারা লাঠিয়াল শেঠ জহির উদ্দিন খান, নিজাম ভূইয়ার নেতৃত্বে চরে হানা দেয়া লাঠিয়াল বাহিনীর সাথে গত ৭/৮ দিন পূর্বেও ভোলার মেদুয়ার চরে মাস্তানী করতে এসেছেন।

চরের কৃষকরা আরো জানান, মেহেন্দীগঞ্জের লাঠিয়াল মুসা, খোরশেদ, মালেক, আবু তাহের, আব্দুল্লাহ, বাছেদ, শাহে আলম, দেলোয়ার মাসুদ ভূইয়া, হাফেজ কবিরাজ, রত্তন, সেলিম ও আমিরসহ প্রায় শতাধিক সন্ত্রাসী মেদুয়ার চরে দল বেধে নৈরাজ্য চালাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না হলে চরের জনপদে তান্ডবলীলা বেড়ে যাবে। বর্তমানে মেদুয়ার চরের কৃষক রাত জেগে তাদের ইরি-বোরো পাহাড়া দিচ্ছেন। তারা নিরাপদে ধান কাটতে ওই চওে পুলিশ ক্যাম্প চেয়েছেন।

এ ব্যাপারে ভোলা সদর থানার ওসি মোবাশ্বের আলী জানিয়েছেন, চরের জমিতে বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তারা সকল ব্যবস্থা নিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।