কুমিল্লায় ছাত্রলীগের দু’গ্র“পের সংঘর্ষে সুমু নিহত হওয়ার ঘটনায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা ॥ জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ

কুমিল্লায় ছাত্রলীগের দু’গ্র“পের সংঘর্ষে সদর আসনের এমপি হাজি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের ভাতিজা আহসান হাবিব সুমু গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় অজ্ঞাতনাম আরো ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা শহরে ছাত্রলীগের দু’গ্র“পের সংঘর্ষে তার মৃত্যু হয়। নিহতের বড় ভাই হাবিবুন সায়ের বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ আহমেদ রাসেল। অন্য আসামিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে তারা রাসেল গ্র“পের কর্মী বলে জানা গেছে। এদিকে একদিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

 
বৃহস্পতিবার দুপুর দুপুর দেড়টায় কুমিল্লা মহানগরীর সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে শিার্থী ভর্তির েেত্র আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই আহসান হাবিব সুমু (৩২) মারা যান। এ ঘটনায়  আরো দু’জন গুলিবিদ্ধসহ ১০জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে প্রীতম চক্রবর্তী ঢাকার একটি হাসপাতালে ও প্রিয়মকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত সুমু নগরীর মুন্সেফবাড়ি এলাকায় ওমর ফারুকের ছেলে। তিনি কুমিল্লা সদর আসনের এমপি বাহাউদ্দিন বাহারের ভাতিজা।

 
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় ভর্তি নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউশন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিন্টু ও ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ আহমেদ রাসেল গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় দু’গ্র“পের মধ্যে প্রায় ২৫ রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। পরে এ সংঘর্ষ ভিক্টোরিয়া কলেজ সংলগ্ন মুন্সেফবাড়ি এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। মুন্সেফবাড়ি এলাকায় দু’গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে সুমু মারা যান। কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামসুজ্জামান জানান, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হলেও কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

 

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি খোরশেদ আলম জানান, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যাকারীদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

 
জেলা ছাত্রলীগের বক্তব্য:
কুমিল্লা দণি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আ ফ ম আহসান উদ্দিন টুটুল জানান, রিন্টু ও রাসেল দণি জেলা ছাত্রলীগের কোন পদ-পদবীতে নেই। তারা এমপি হাজী আকম বাহা উদ্দীন বাহার সাহেবের অনুসারী। আমরা এ হত্যাকান্ডের নিন্দা ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দীন বলেন, হত্যাকান্ডে জড়িতদের সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হবে। জেলা ছাত্রলীগে সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান নেই। এদিকে আ’লীগের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কুমিল্লায় ছাত্রলীগের দু’গ্র“পের সংঘর্ষে নিহত ও আহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন কুমিল্লার ঘটনায় আমরা মর্মাহত হয়েছি। আমরা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাইনা। তিনি অবিলম্বে ছাত্রলীগের বিরোধ মিটানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শুক্রবার বেলা সৌয়া ১২টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় উপরোক্ত বক্তব্য ও মন্তব্য করেন।

 
সুমুর জানাজা ও দাপন সম্পন্ন
বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় নগরীর মুন্সেফবাড়ি মসজিদের পাশে সুমুর নামাযের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে তাকে টমসমব্রীজ কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজা পূর্ব বক্তব্যে সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। যাতে আর কারো বাড়িতে হামলা না হয়, কারো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে। জানাযায় বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।

 
এদিকে কুমিল্লা সদর আসনের এমপি হাজী আকম বাহা উদ্দীন বাহার তার ভাতিজা আহসান হাবিব সুমু নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন  সে সাথে তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। ঘটনার খবর শুনে ঢাকা থেকে রাতেই তিনি কুমিল্লায় আসেন এবং রাতে তার জানাযায় অংশ নেন। ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সংসদ সদস্য হাজী আকম বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থ’া নেয়া হবে। আইন কাউকে নিজের হাতে তুলে নেয়ার সুযোগ দেয়া হবে না।

 
লাশের পাশে নির্বাক নিহত সুমুর শিশু ছেলে ইয়ামিন:
অশ্র“সজল চোখে বাবার লাশের পাশে দাঁড়িয়ে বাকরুদ্ব নিহত আহসান হাবিব সুমুর আট বছর বয়সি একমাত্র শিশু পুত্র ইয়ামিন আহসান। বুঝে উঠার মত বয়স না হলেও তার বাবা আর তার সাথে কথা বলবেননা এটা ঠিকই সে বুঝতে পেরেছে। তাই ফেল ফেল করে বাবার লাশের দিকে তাকাচ্ছে। মাঝে মঝে সে বলছে লাশের পাশে দাঁড়িয়ে বলছে বাবা কথা বলো। ইয়ামিন আহসান কুমিল্লার এ্যাথনিকা স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র। স্কুল বন্ধ থাকায় বাড়িতে বাবার সাথে বাগানে পরিচর্চা ও গাছের চার লাগাচ্ছিলেন। এই সময় সংঘর্ষের খবর পেয়ে দৌঁড়ে গেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাযান আহসান হাবিব সুমু। প্রিয় বাবার এমন মৃত্যু হবে এটা শিশু ইয়ামিনে মেনে নিতে পারছেনা। সে বাবার নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলছিল বাবা চোখ খোলো চোখ খোলো। তার গগন ফাটানো চিৎকারে ভারি হয়ে উঠে বাড়ীর পরিবেশ, স্তব্ধ হয়ে যায় উপস্থিত শুভাকাখি ও স্বজনরা। বাবার বন্ধুকে জড়িয়ে ধরে বার বার প্রশ্ন করে ইয়ামিন। আমার বাবার কি হয়েছে ? বাবা কি মারা গেছে ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।