সিরাজগঞ্জে গৃহবধূর সঙ্গে পরকীয়া, আ.লীগ নেতাকে গণপিটুনি

সিরাজগঞ্জে  পরকীয়ার সূত্রে এক গৃহবধূর সঙ্গে মিলনকালে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইয়াহিয়া মোল্লাকে ধরে ফেলেছে এলাকাবাসী। পরে তাকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে। তবে বিচারের আশ্বাস দিয়ে তার ভাই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গনি মোল্লা রাতেই ইয়াহিয়াকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ দুই সন্তানের জননী ও মাটি কাটা ওই নারী শ্রমিকের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। এ সময় তারা আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াহিয়াকে আটক করতে না পারলেও তার ব্যবহৃত জামা-কাপড় উদ্ধার করেছে।

শুক্রবার রাত ১১টার দিকে খাসকাউলিয়া ইউনিয়নের জোতপাড়া গ্রামের এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি চৌহালীতে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় জানান, জোতপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী আয়না খাতুনের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াহিয়ার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। শুক্রবার স্বামী মিজানুর বাড়িতে না থাকায় আওয়ামী লীগ ইয়াহিয়া রাত ১১টার দিকে আয়নার বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে মিলনে লিপ্ত হয়।

এ সময় বাড়ির লোকজনসহ স্থানীয়রা টের পেয়ে তাকে হাতে-নাতে বিবস্ত্র অবস্থায় আটকে গণপিটুনি দেয়। পরে রাতেই ঘটনাটি জানাজানি হলে ইয়াহিয়ার ভাই খাসকাউলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম গণি মোল্লা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা গৃহবধূর বাবার কাছে উপযুক্ত বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দেয়ার কথা বলে তাকে নিয়ে যায়।

গৃহবধূর বাবা খোরশেদ আলী সিকদার (ঘোড়া খোরশেদ) জানান, পুলিশ রাতে বাড়িতে এসে ইয়াহিয়ার গেঞ্জি, প্যান্টের বেল্ট ও চশমা নিয়ে গেছে।

বিচার দেয়ার আশ্বাস দেয়ায় মামলা করা হয়নি। তবে উপযুক্ত বিচার না পেলে মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

চৌহালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নওজেশ আলী মোল্লা বলেন, ইয়াহিয়ার জন্য দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চৌহালী থানার উপপরিদর্শক শামসুল হক জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই ইউপি চেয়ারম্যান বিচারের আশ্বাস দিয়ে তার ভাই ইয়াহিয়াকে নিয়ে গেছে।

আলামত হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতার গেঞ্জি ও বেল্ট আনা হয়। মেয়েটির পক্ষ থেকে থানায় মামলা করতে বলা হলেও শনিবার বিকেল পর্যন্ত কেউ থানায় আসেনি বলে জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।