লালমনিরহাটে ঝুঁকিপূর্ণ স্বর্ণামতি সেতুতে চলছে যানবাহন

লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কের আদিতমারী উপজেলায় স্বর্ণামতি নদীর ওপর নির্মিত স্বর্ণামতি সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় তা যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, কিন্তু তারপরেও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন আর প্রতিনিয়িত ঘটছে দুর্ঘটনা। সেতুটি অবিলম্বে স্থায়ীভাবে নির্মাণ না করলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে প্রাণহানির মতো বড় দুর্ঘটনা।

জেলা সড়ক ও জনপথ অফিস সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কের ওপর চার স্প্যান বিশিষ্ট দুইশ’ ফুট দৈর্ঘ্যের স্বর্ণামতি সেতুটি নির্মাণ করা হয় ১৯৬০ সালে। পরে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সেতুটির টবস্লাব ক্ষতিগ্রস্থ হলে তা মেরামত করা হলে আবারো সেতুটির ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে সেতুটির ওপর দিয়ে বুড়িমারী স্থলবন্দরের পণ্য আনা-নেয়া, যাত্রীবাহী বাসসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। আশপাশের প্রায় চারটি উপজেলার যোগাযোগের বিকল্প কোন সড়ক না থাকায় এই সেতুটির ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করছেন স্থানীয় জনগণ।

সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ কয়েক দফা উদ্যোগ নিলেও বারবার মেরামত করা ছাড়া আর কোন কাজই বিভাগটি করতে পারেনি। স্বর্ণামতি সেতুটি ভেঙে গেলে বুড়িমারী ও লালমনিরহাটের সঙ্গে ঢাকাসহ সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। একইসঙ্গে সরকার হারাবে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয়। গাড়িচালক মজিবর রহমান, আব্দুল ওয়াদুদ, শমসের আলীসহ আরো অনেকে জানান, সেতুটি মাঝে মধ্যে বিকল হওয়ার ফলে অনেক সময় মহাসড়কের দুই পাশে যানজট লেগে থাকে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে মেরামত করে দেয়া হলেও তা টেকসই হচ্ছে না। আর বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বিপজ্জনক জেনেও জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এর ওপর দিয়ে চলাচল করতে হয়।

কাজের কাজ না করে সর্তকতা হিসেবে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ সেতুটির উভয় পাশে ‘বিপজ্জনক’ লেখা সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েই দায়মুক্ত হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ লালমনিরহাট-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সুরুজ মিয়া জানান, সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে। সেতুটি জাইকার অর্থায়নে নির্মিত হবে বলে জরিপসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সেতুর কাজ শুরু হতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।