খালেদা-তারেক মদিনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান পবিত্র মদিনা শরিফে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকে বসছেন তারা। স্থানীয় সময় ২১ জুলাই প্রথম প্রহরে রোববার রাত ১২টা ১০ মিনিটে তারা মসজিদে নববিতে অবস্থিত মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা.-এর রওজা মোবারক জিয়ারত করেন। সেখানে দোয়া মোনাজাতে তারা দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেন।

এর আগে রোববার সৌদি বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে মসজিদে নববিতে ইফতার করেন তারেক রহমান। প্রতি ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করেন এবং ব্যক্তিগত নফল ইবাদতের পর বিশেষ মোনাজাত করেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন।

বাদশাহ’র আমন্ত্রণে সৌদি সফররত বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান মসজিদে নববির কাছে দারুল ঈমান হোটেলে অবস্থান করছেন। সঙ্গে রয়েছেন তারেক রহমানের স্ত্রী ও সন্তান, খালেদা জিয়ার ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তান, বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, তারেক রহমানের সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা রকীবুল ইসলাম বকুল, বিএনপি চেয়ারপারসনের আলোকচিত্রী নূর উদ্দিন আহমেদ এবং বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শরীফ শাহ কামাল তাজ।

সূত্র জানায়, রোববার ভোরে মদিনায় পৌঁছার পর খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দুই দিনে পারিবারিক সম্মিলনের পাশাপাশি চারবার একান্ত বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকের আগে ও পরে তারা দলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উদ্যোগী হন। এতে সহায়তা করছেন তিন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মারুফ কামাল খান ও রকীবুল ইসলাম বকুল। এর বাইরে সার্বিক বিষয় নিয়ে তারেক রহমান বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ’র সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। পার্থ পিছু ছাড়ছেন না তারেক রহমানের। যেখানেই তারেক রহমান, সেখানেই পার্থ। নামাজ, রওজা মোবারক জিয়ারত কিংবা হোটেল লবী, সর্বত্রই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গী থাকছেন বিজেপি চেয়ারম্যান।

সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বৈঠকগুলোতে মূলত দলের পুনর্গঠন এবং আন্দোলনের নতুন রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। দোয়া-মোনাজাতেও স্থান পাচ্ছে আন্দোলনের সফলতা এবং সরকার পতনের আল্লাহর সহায়তা কামনা।

সোমবার প্রথম প্রহরে মহানবী সা.-এর পবিত্র রওজা জিয়ারত শেষে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান মোনাজাত করেন। অশ্রুসিক্ত নয়নে তারা দেশবাসীর জন্য শান্তি কামনা ও দুঃশাসনের হাত থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর সহায়তা চান। এসময় সঙ্গে ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এনামুল হক চৌধুরী, ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী নূরউদ্দীন আহমেদ, তারেক রহমানের সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা রকীবুল ইসলাম বকুল, বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক শরীফ শাহ কামাল তাজ, সাংবাদিক ও গবেষক মাহাবুবুর রহমান, সৌদি আরব পশ্চিমাঞ্চল বিএনপির সভাপতি আহমদ আলী মুকিব প্রমুখ।
এর আগে মসজিদে নববির ২২ নম্বর গেইটের সামনের খোলা জায়গায় সৌদি বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে দোয়া মোনাজাত ও ইফতার করেন তারেক রহমান। সেখানে সফরসঙ্গী ছাড়াও বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, বিএনপি নেতা ও সৌদি আরব সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক আবদুর রহমান, সৌদি পশ্চিমাঞ্চল বিএনপির সভাপতি আহমদ আলী মুকীব, তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, য্বুদলের সাবেক আন্তজার্তিক সম্পাদক আব্দুল জলিল, জেদ্দা মহানগর বিএনপির সভাপতি কেফায়েতউল্লাহ চৌধুরী ও এম আজাদ চয়ন, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান তপন, যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এরশাদ আহমেদ, এক-এগারোর খালেদা জিয়া-তারেক রহমান মুক্তি পরিষদের আহ্বায়ক প্রিন্স আল লিনটন, মদিনা বিএনপির নেতা নুরুজ্জামান, আলতাফ হোসেন, ফারুক মমতাজ, শ্রমিক দল নেতা আব্দুল মান্নান, ভুট্টু, মাসুদ আহমেদ, জাসাস নেতা আমিনুল ইসলাম, তাঁতী দলের নেতা মো. রিপন, বিএনপি নেতা আতিকুর রহমান, মোস্তাক আহমেদ, আকতার হোসেন, টিপু সহ কয়েকশ নেতাকর্মী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।