খালেদার লিভ টু আপিল শুনানি ২৭ নভেম্ব ধার্য করেছেন আদালত

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) চেয়ে করা আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়েছেন চেম্বার বিচারপতি।  একই সঙ্গে আবেদন শুনানির জন্য ২৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। খালেদা জিয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা এ আদেশ দেন।

 

খালেদার আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমূখ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় গত ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদেশ দেন বিচারক বাসুদেব রায়ের আদালত। এ অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। হাইকোর্ট এ আবেদন খারিজ করে দিলে তিনি আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আদালত লিভ আপিলের ওপর শুনানির দিন ধার্য করে দিয়েছেন। এ আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল বিচারিক আদালতে মামলার কার্যক্রম চলার আর্জি জানান। কিন্তু আদালত এ ব্যাপারে কোনো আদেশ দেননি। ফলে নিম্ন আদালতে মামলার কার্যক্রম চলার কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দাবি করেছেন বিচারিক আদালতের মামলা চলতে কোনো বাধা নেই।

প্রসঙ্গত, আগামী ২৬ অক্টোবর বিচারিক আদালতে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার অপর আসামিরা হলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান খালেদাপুত্র তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ‘ইকোনো কামাল’, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।

তারেক রহমান দেশের বাইরে আছেন। মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ জামিনে আছেন। তবে শরফুদ্দিন আহমেদ আদালতে হাজির না থাকায় ১৯ মার্চ তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। অপর দুই আসামি ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

মামলাটি তদন্ত করে দুদকের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ অপর চারজনকে অভিযুক্ত করে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।