মানবতাবিরোধী অপরাধের ট্রাইব্যুনালে নিজামী, রায়ের অপেক্ষা

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে আজ। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রথম ট্রাইব্যুনাল সকাল ১০টার পরে এই রায় দিবেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক।

 

রায় উপলক্ষে সকাল সোয়া নয়টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে নিজামীকে ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় রাখা হয়েছে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর মামলার রায় ঘোষণার মধ্যদিয়ে উভয় ট্রাইব্যুনাল থেকে ১০টি রায় ঘোষণা হবে।

 

এর আগে গত ২৪ জুন এ মামলার রায় ঘোষণার কথা থাকলেও নিজামী অসুস্থ থাকায় রায়টি পুনরায় সিএভি রাখা হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এটি হবে ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রথম কোনো রায়।

 

রায় ঘিরে ট্রাইব্যুনাল ও এর আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তল্লাশি করে সবাইকে আদালতের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। সুপ্রিমকোর্ট এলাকায় যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

 

এর আগে গত বছরের ২০ নভেম্বর এ মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শেষে যে কোনো দিন রায় দেয়া হবে মর্মে (সিএভি) অপেক্ষমান রেখে দেন আদালত। কিন্তু গত ৩১ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ এর সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির অবসরে গেলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমানই থেকে যায়।

 

এরপর চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমকে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-১ এ নিজামীর মামলায় পুনরায় যুক্তি উপস্থাপন শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়।

 

গত ১০ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত প্রসিকিউশনের পক্ষে মোহাম্মদ আলী, তুরিন আফরোজ ও সৈয়দ হায়দার আলী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এরপর আসামিপক্ষে মিজানুল ইসলাম ও তাজুল ইসলাম যুক্তি উপস্থাপন করেন। এ নিয়ে জামায়াত নেতা নিজামীর মামলায় দুবার যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। যুক্তি উপস্থাপনে নিজামীর বিরুদ্ধে একাত্তর সালে উস্কানি দেয়ার অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এ সময় তারা আদালতের কাছে সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করেন।

 

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম দাবি করেন, প্রসিকিউশন নিজামীর বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগে এনেছে, তা ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রতিহিংসাবশত তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। আশা করি সব অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পাবেন।

 

আসামিপক্ষ হরতালের কারণ দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালে না আসায় গত বছরের ১৩ নভেম্বর এ মামলার কার্যক্রম সমাপ্তি ঘোষণা করে সিএভি করেন ট্রাইব্যুনাল। ১৪ নভেম্বর  আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালের আদেশ পুনঃবিবেচনার আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে পুনরায় যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ দেন।

 

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে গত বছররে ২৬ আগস্ট থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রসকিউিশনের সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন মুক্তযিোদ্ধা, অধ্যাপক, সাংবাদিক ও ইতিহাসবিদসহ মোট ২৬ জন।

 

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ১৬টি অভিযোগ এনে গত বছরের ২৮ মে নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, লুট, ধর্ষণ, উস্কানি ও সহায়তা, পরকিল্পনা ও ষড়যন্ত্র এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ মোট ১৬টি ঘটনায় এ অভিযোগ আনা হয়।

 

উল্লেখ্য, একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একই বছরের ২ আগস্ট এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।