শিখা অনির্বাণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

মঙ্গলবার সকালে সশস্ত্র বাহিনী দিবসে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে  ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তিন বাহিনীর প্রধানদের শ্রদ্ধা।

প্রতি বছরের মতো এবারও যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সশস্ত্র বাহিনি।

দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনির সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনি জাতির অহঙ্কার। মহান মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠা এ বাহিনির সদস্যরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতাসহ জাতি গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। শুধু দেশেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও অংশ নিয়ে পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করছেন তারা।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর দেশপ্রেমিক জনতা, মুক্তিবাহিনি, সশস্ত্র বাহিনি ও বিভিন্ন আধাসামরিক বাহিনির সদস্যরা দখলদার পাকিস্তানি বাহিনির বিরুদ্ধে আক্রমণ করেন। সম্মিলিত আক্রমণে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনির আত্মসমর্পণের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির অগ্রযাত্রা ও বিজয়ের স্মারক হিসেবে প্রতি বছর ২১ নভেম্বর ‘সশস্ত্র বাহিনি দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। সরকার সশস্ত্র বাহিনির আধুনিকায়নে সর্বাত্মক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব ও উন্নত নৈতিকতার আদর্শে স্ব-স্ব দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন বলে আমার বিশ্বাস।’

সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনির সমন্বয়ে ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনি ও তাদের দোসরদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সাধারণ জণগণের সঙ্গে একাত্ম হয়ে সমন্বিত আক্রমণ করে তারা। এর পর থেকে প্রতি বছর ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব সেনানিবাস, নৌঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমানবাহিনি ঘাঁটির মসজিদে দেশের কল্যাণ-সমৃদ্ধি ও সশস্ত্র বাহিনির উন্নতি কামনায় এদিন ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে। বেতার ও টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনির পরিচালনাধীন প্রতিষ্ঠানে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়েছে।

ঢাকা ছাড়াও সাভার, বগুড়া, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, যশোর, রংপুর, খুলনা এবং রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা, বরিশাল, চাঁদপুরে বিশেষভাবে সজ্জিত নৌবাহিনি জাহাজ এদিন বেলা ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এদিকে সশস্ত্র বাহিনি দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার ঢাকা সেনানিবাসের রাস্তা (শহীদ জাহাঙ্গীর গেট থেকে স্টাফ রোড পর্যন্ত প্রধান সড়ক) যানজটমুক্ত রাখার লক্ষ্যে সেনানিবাসে অবস্থানকারী ব্যক্তিবর্গ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের বহনকারী যানবাহন ব্যতীত সব যানবাহন চালকদের সকাল ৭টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এবং দুপুর ১২টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সেনানিবাস এলাকা দিয়ে চলাচল পরিহার করতে অনুরোধ করা হয়েছে।