প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি আন্দোলনকারীরা, প্রতিক্রিয়া জানাবে সকাল ১০টায়

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি আন্দোলনকারীরা। এটাকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছেন তারা। বিশেষ করে ঢাবি ভিসির বাসভবনে হামলার ঘটনায় চারটি মামলা দায়েরের ঘটনায় আরো বেশি দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেয়ার প্রেক্ষিতে আলোচনা করে বৃহস্পতিবার সকালে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

 

বুধবার রাতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের একজন যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন একথা জানান।

এর আগে বিকেলে সংসদে সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান। তার এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আন্দোলনকারীরা সংস্কারের কথা বললেও বাতিলের ঘোষণা আসায় অনেকেই বলেন এই ঘোষণায় তারা অবাক হয়েছেন।

 

পুরোপুরি বাতিল না করে তাদের দাবি অনুযায়ী সংস্কার করার পক্ষে মন্তব্য করেন অনেকে।

 

সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা পদ্ধতি থাকলেই এ ধরণের আন্দোলন হবে বার বার হবে। প্রতিবন্ধী বা ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী যারা আছেন তাদেরকে আমরা অন্যভাবে চাকরীর ব্যবস্থা করে দিতে পারবো।’

 

এরই প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক কোন ঘোষণা না জানিয়ে বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বললেন আন্দোলনকারীরা।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের কিছু পর কাল সিদ্ধান্ত হবে এই ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনকারীরা সেখান থেকে চলে যান।

কোটা সংস্কারের দাবিগুলো কী ছিল?
কোটা সংস্কারে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদ’এর ব্যানারে যে পাঁচটি বিষয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলছে সেগুলো হল –

কোটা-ব্যবস্থা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা (আন্দোলনকারীরা বলছেন ৫৬% কোটার মধ্যে ৩০ শতাংশই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ। সেটিকে ১০% এ নামিয়ে আনতে হবে)

কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাতালিকা থেকে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া।

সরকারি চাকরিতে সবার জন্য অভিন্ন বয়স-সীমা- ( মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে চাকরীর বয়স-সীমা ৩২ কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০। সেখানে অভিন্ন বয়স-সীমার দাবি আন্দোলনরতদের।)

কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ পরীক্ষা নেয়া যাবে না (কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাকরি আবেদনই করতে পারেন না কেবল কোটায় অন্তর্ভুক্তরা পারে)

চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না।

ঢাবি ভিসির বাসভবনে হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় চার মামলা
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ এবং উপাচার্যের বাসায় হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় রমনা থানায় চারটি মামলা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জানান, উপাচার্যের বাসায় হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

‘এছাড়া পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পক্ষ থেকে করা একটি মামলাসহ মোট চারটি মামলা হয়েছে।’

তবে এসব মামলায় মোট কয়জনকে আসামি করা হয়েছে বা আসামির তালিকায় কাদের নাম রয়েছে- সেসব বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের করা মামলায় কী কী ক্ষতির কথা বলা হয়েছে, সে তথ্যও জানা যায়নি।

উপাচার্য আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বাসায় যারা এসেছিল তারা মুখোশ পড়ে এসছিল। লাশের রাজনীতি করতে এসেছিল। প্রাণনাশের জন্য এসেছিল। দেশকে অস্থিতিশীল করতে এসেছিল।’

অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই হামলা চালিয়েছে ‘বহিরাগত সন্ত্রাসীরা’। এর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কোনো সম্পর্ক নেই।

ওই হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার বিকালে সংসদে বলেন, ‘যারা ভাংচুর লুটপাটে জড়িত, তাদের বিচার হতে হবে। লুটের মাল কোথায় আছে, তা ছাত্রদেরই বের করে দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য হোমিওপ্যাথিকের বদলে শৈল্য চিকিৎসা: অধ্যাপক আকাশ
সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিল করে বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা পরিস্থিতি বিবেচনায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার বদলে এটাকে শৈল্য চিকিৎসা বলে অবিহিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক এম এম আকাশ।

বুধবার সন্ধ্যায় বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে অধ্যাপক আকাশ বলেন, এর মাধ্যমে ঊনিশ বাহাত্তরের সংবিধানে দেয়া নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। কেননা, বাহাত্তরের সংবিধান অনুসারে সরকারি চাকরিতে কোনো কোটা প্রথা থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, উন্নত দেশ গড়তেও এটা বিলুপ্তি প্রয়োজন। কেননা, সরকারি চাকরিতে কোটা থাকলে দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ পায় না। এটা খুবই বৈষম্যের দিক। এ থেকে বেরিয়ে আসাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

অধ্যাপক আকাশ বলেন, কোটা সংস্কারের ঝুঁকি না নিয়ে একেবারেই বাতিল করাটা খুবই ভাল হয়েছে। বাতিল করার চেয়ে কোটা সংস্কারের বিষয়টি সরকারের জন্য বেশি রাজনৈতিক ঝুঁকি ছিল বলে উল্লেখ করেন।