পাঁচবিবিতে হতদরিদ্র রাহেলা ও ছালেহার ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতা কার্ড - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

পাঁচবিবিতে হতদরিদ্র রাহেলা ও ছালেহার ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতা কার্ড



মোঃ বাবুল হোসেন, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বালিঘাটা ইউনিয়নের আরজি পাটাবুকা গ্রামের সহায় সম্বলহীন রাহেলা ও ছালেহার ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতার কার্ড। এক যুগ পূর্বে উভয়ের স্বামী মারা গেছে। জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী নিঃসন্তান রাহেলার বয়স ৬৮ বছর। ছালেহার বয়স ৬২ বছর। দুই জনেই থাকেন অন্যের ভিটায় ছোট্ট কুঁড়ে ঘড়ে। বেড়ার ফাঁক দিয়ে ঘড়ে আনায়াসে ঢুকতে পাড়ে ইঁদুর ও বিড়াল। শীত বর্ষায় নির্ঘুম রাত কাটে। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে তাদের। বয়স বেড়ে যাওয়ায় শরীরে নানান রোগ বাসা বেধেছে। দেখার কেউ নেই। বহু চেষ্টা করেও জোটাতে পারেননি ১ টি কার্ড। এক সময় স্বামী সংসার সবই ছিল, এখন কিছুই নেই। শেষ জীবনে এমন বাস্তবতার মুখোমুখি হবেন তা কখনো ভেবে দেখেননি। এতো বছর পর জীবনের কোন হিসাব মিলাতে পারছেননা। তাদের কথা কেউ যেন শুনতেই চায়না।
স্থানীয় লোকজন বলেন, তাদের বাড়ি ঘড় ও সহায় সম্বল বলতে কিছুই নেই। দুজনেরই বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতা কার্ড হওয়া উচিৎ ছিল। তাদের অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে ঈদের সময় ফেতরার টাকা দেয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি বলেন, মেম্বারদের মধ্যে কেউ কেউ কার্ড প্রতি ৫ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। ফলে প্রকৃত ব্যাক্তিরা কার্ড প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে কিছু সামর্থ্য বান ব্যাক্তি টাকা দিয়ে কার্ড পেয়েছেন।
রাহেলা ও ছালেহা অশ্রুশিক্ত কন্ঠে বলেন, দুনিয়াতে আমাদের কেউ নেই। বয়স্ক কিংবা বিধবা কার্ড পেলে খুবই উপকৃত হতাম। জনপ্রতিনিধিদের কাছে গেলে শুধু দেব, দিচ্ছি বলে আশ্বস্থ করে থাকেন। তারা জীবদ্দশায় কার্ড পাবেন কি-না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
বালিঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান নূরুজ্জামান চৌধুরী বিপ্লব বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী মহিলারা ৬২ বছর বয়সে বয়স্ক কার্ড পাবে। আর স্বামী মারা গেলে বিধবা কার্ড পাবেন। কিন্তু সীমিত কার্ড বরাদ্দ থাকায় সবাইকে কার্ড দেয়া সম্ভব হয়না। তিনি ওই দুই বৃদ্ধাকে তার সাথে দেখা করতে বলেন। পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে কার্ড দেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

Uncategorized এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ