নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষায় অসঙ্গতি, কঠোর তদারকি ও শতভাগ নিষ্ঠা প্রয়োজন - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষায় অসঙ্গতি, কঠোর তদারকি ও শতভাগ নিষ্ঠা প্রয়োজন



অনলাইন ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

অদৃশ্য শত্রু করোনাভাইরাসের আক্রমণে বর্তমানে মানবসভ্যতা এক অভাবনীয় সংকটের মধ্যে পড়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এ সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত সারা বিশ্বে করোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩১।

এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১১ লাখ ২৪ হাজার ২৯০ জন আর মারা গেছেন ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৯১ জন। অন্যদিকে দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৭৯০। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৭৭ জন আর মারা গেছেন ১৭৫ জন। প্রকৃতপক্ষে করোনা যুদ্ধে প্রতিদিন-প্রতিক্ষণই মৃত্যুর হিসাব কষা হচ্ছে।

দেশে দেশে চলছে লকডাউন, শাটডাউন, জনতার কারফিউ, কারফিউ ইত্যাদি। ইতোমধ্যে দেশের অধিকাংশ জেলাসহ রাজধানীর অর্ধশতাধিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস।

এ অবস্থায় সন্দেহভাজন করোনা আক্রান্ত রোগীদের নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা ও ফলাফল প্রদানে বিভিন্ন অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে, যা মোটেই কাম্য নয়। অভিযোগ দ্রুত আমলে নিয়ে অসঙ্গতিগুলো দূর করা প্রয়োজন।

তা না হলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ বিষয়ে আমাদের এতদিনের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ, উদ্যোগ, সচেতনতা ও প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে এবং এর ফল হবে ভয়াবহ, যা সামাল দেয়া বাস্তবিকই কঠিন হবে।

জানা গেছে, কোনো কোনো রোগীর নমুনা সংগ্রহ না করেই তাকে ‘করোনা পজিটিভ’ বলা হচ্ছে। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে ১৪ দিন হাসপাতালে অতিবাহিত করার পর প্রথম পরীক্ষায় ‘নেগেটিভ’ এবং পরের পরীক্ষায় ‘পজিটিভ’ বলা হচ্ছে।

এভাবে ‘নেগেটিভ-পজিটিভ’-এর খেলা চলতে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই রোগী ও তার স্বজনরা বিভ্রান্ত হবেন এবং এজন্য তাদের নানারকম ভোগান্তি ও হয়রানির মধ্যে পড়তে হতে পারে।

আমরা মনে করি, করোনার মতো অতি সংবেদনশীল একটি বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে কাউকে ‘নেগেটিভ’ কিংবা ‘পজিটিভ’ হিসেবে ঘোষণা করা মোটেই কাম্য নয়।

এছাড়া নমুনা সংগ্রহকারীদের অনেকেই নমুনা সংগ্রহের কাজটি নিজে না করে রোগীদের হাতে কাঠি ধরিয়ে দিয়ে নমুনা নিয়ে আসতে বলেন। সঠিক প্রশিক্ষণের অভাবেই যে এমনটি ঘটছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও অনুপ্রেরণা জোগানো জরুরি।

অন্যদিকে খোদ স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাজকর্মেও নানা অসঙ্গতি লক্ষ করা যাচ্ছে, যা অনভিপ্রেত ও অনাকাক্সিক্ষত। দেখা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে নমুনা সংগ্রহের জন্য কোথাও কোথাও সঠিক টিউবের পরিবর্তে ইউরিন কালেকশন টিউব পাঠানো হচ্ছে।

এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তদারকির অভাব রয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্বীয় কর্তব্যে আন্তরিক হলে এবং যথাযথ তদারকি ও নজরদারি বহাল থাকলে এমন ঘটনা নিশ্চয়ই ঘটত না।

সঠিকভাবে নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে কিনা এবং সঠিকভাবে পিসিআর (পলিমার চেইন রি-অ্যাকশন) মেশিন পরিচালিত হচ্ছে কিনা, তা যথাযথ তদারকি করা প্রয়োজন।

সঠিকভাবে নমুনা সংগ্রহ না হলে সঠিক ফল পাওয়া যাবে না এবং এতে পুরো প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে, যা আমাদের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কাজেই নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রতিটি স্তরে কঠোর তদারকি এবং শতভাগ নিষ্ঠা ও একাগ্রতা প্রয়োজন।

সুত্র: যুগান্তর


Uncategorized এর অন্যান্য খবরসমূহ