বৃষ্টি ও বাতাস না থাকায় পানি কমতে শুরুলক্ষ্মীপুরে মঘনার জোয়োরে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

বৃষ্টি ও বাতাস না থাকায় পানি কমতে শুরু
লক্ষ্মীপুরে মঘনার জোয়োরে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার



মো.আতোয়ার রহমান মনির, স্টাফ রিপোর্টার, (খবর তরঙ্গ ডটকম)



কদিন ধরে বৈরী আবহাওয়া, টানা বৃষ্টিসহ অস্বাভাবিক জোয়ারে লক্ষ্মীপুরে তলিয়ে বেড়িবাধ ও সড়ক ভেঙে ডুবে ছিলো লক্ষ্মীপুরের ২০ হাজার বেশি মানুষের ঘরবাড়ি। উড়তি আউশ, আমন বীজতলা পানির নীচে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫ দিন পর পানি কিছুটা কমলে বেড়িবাঁধ ও ভেঙে যাওয়া সড়ক পুনর্র্নিমাণ না করায় দিনে ও রাতে রয়ে গেছে প্রতিদিনের জোয়ারের পানি বাড়ার বিড়ম্বনা। সবছে বেশি বিড়ম্বনা ঘরে সাথে রান্না ঘরে ডুবে যাওয়া নিয়ে । এদের মধ্যে অতিদরিদ্রদের ঘরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।


সদর উপজেলার চররমনী মোহন এলাকার পল্লী চিকিৎসক মাইনুদ্দিন মিলন জানান, চররমনীমোহন ইউনিয়নে বাত্তিরখাল এলাকার বাঁধটি ভেঙ্গে দু’সহ¯্রাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে তার ৩৫০ শতাংশ নিয়ে মাছের ঘের থেকে চাষকৃত মাছ চলে গিয়ে ১৫ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এ জন্য সরকারি ভাবে সহায়তা না করা হলে আগামী ১০ বছরের ধার দেনা থেকে পুষিয়ে উঠতে পারবেন না বলে জানান তিনি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু মো. ইউছুৃফ ছৈয়াল জানান,তার ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে উড়তি আউশ, আমন বীজতলাসহ প্রায় দু’হাজার একর জমির ফসলের। এ জন্য সরকারি ভাবে ত্রান সামগ্রী তার ইউনিয়ন পরিষদে কার্যালয়ে এসে পৌচেছে। পানি কমলেই তা বিতরণ করা হবে।


কমলনগরের কালকিনি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি রফিক চৌধুরী জানান, অতি জোয়ারে কমলনগরের জয়বাংলা খালের পাশে মতিরহাট বাজারের পূর্ব পাশ থেকে মতিরহাট-তোরাবগঞ্জ রাস্তা ছয়টি স্পটে কয়েক’শ ফুট পাকা রাস্তা ছিড়ে গিয়ে মেঘনার প্রচন্ত জোয়ারের পানি এসব এলাকা প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে মতিরহাট বাজার, মতিরহাট হাইস্কুল, জেলার সবচেয়ে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, মাতব্বরহাট, নবীগঞ্জ, বলিরপুল, হাজীমার্কেট, মিয়া মার্কেট, কালকিনি এলাকা। বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে মতিরহাট বাজারের বাঁধটি । পানির নীচে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর উড়তি আউশ, আমন বীজতলা। এছাড়া রায়পুরে ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৫টি গ্রামে জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে ৫’শ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিন চৌধূরী জানান, জনপ্রতিনিধিদের বলা হয়েছে ক্ষতি র পরিমান লিপিবদ্ধ করে জানাতে । দ্রæত সময়ে প্রশাসন থেকে তাদের সহায়তা করা হবে।


এদিকে জেলার রামগতিতে মেঘনার উপকূলীয় এলাকা চরগাজী ইউনিয়নের টাংকি সুইচ গেট ও টাংকি বাজার এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারের মাঝে চাল-ডাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী ও শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. রাহিদ হোসেন।


ইউএনও বলেন, মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জেয়ার এবং অতিবৃষ্টিতে উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার ৪টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে ফসল, কাঁচাঘর (টিনের ঘর) নষ্ট, রাস্তাঘাট-কালভার্ট বিধ্বস্ত এবং মৎস্য খামারীরা চরম ক্ষতির শিকার হয়েছে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ব্যাপক অংশ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নদীতে ভেঙে গেছে অনেকের বসতবাড়ি। তিনি আরও বলেন, ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা হচ্ছে।


ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী করে সরকারী সহায়তার আওতায় আনা হবে। আর বিধ্বস্ত বাঁধ এবং রাস্তাঘাট মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দরিদ্রদের মাঝে ২ দফায় ৩০ মে. টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে দুই লাখ টাকা। এছাড়া সাড়ে ৬শ’ প্যাকেট প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে। দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।


উপজেলা এর অন্যান্য খবরসমূহ
জেলা এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ