চেয়ারম্যানের নির্দেশে কৃষককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

চেয়ারম্যানের নির্দেশে কৃষককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন



তাবারক হোসেন আজাদ, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

চুরির অপবাদে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নির্দেশে লক্ষ্মীপুরে আমির হোসেন নামে এক কৃষককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের পর জোর করে শালিস বৈঠকে মামলা না করার প্রতিশ্রুতিতে আহত কৃষকের পরিবারের কাছ থেকে কয়েকটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়ারও অভিযোগও রয়েছে ওই ইউপি চেয়ারম্যান ও স্বপন নামে আরেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।


গত ২৩ আগষ্ট সদর উপজেলার চর রমনীমোহন এলাকায় ঘটনাটি ঘটলেও সোমবার (০১ সেপ্টেম্বর) ওই নির্যাতনের ছবি সামাাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সোমবার দুপুরে ওই কৃষককে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা জানায়, গত ২৩ আগষ্ট (সোমবার রাতে) ঘরের ফেরার পথে কৃষক আমির হোসেনকে চুরির অপবাধ দিয়ে প্রতিবেশী সোহাগ, জুলহাস, আরিফ হোসেন ও দেলু নামে কয়েকজন ব্যাক্তি আটক করে গাছের সাথে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালায়।


এক পর্যায়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল ও ইউপি সদস্য স্বপনকে খবর দেয়া হলে তাদের উপস্থিতিতেও আরেক দফা মারধর করায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন ওই কৃষক। তার চিৎকারে পরিবারের লোকজন এগিয়ে এলে আমির হোসেনকে ইউপি সদস্য স্বপনের বাড়িতে নিয়ে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে ওই ইউপি চেয়ারম্যান।


নির্যাতিত আমির হোসেন জানান, ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল দীর্ঘদিন ধরে তার কাছ থেকে কিছু জমি বাগিয়ে নিতে চায়। ওই জমি দিতে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে চুরির অপবাধ দিয়ে গাছের সাথে বেধে বর্বর নির্যাতন চালায়। মামলা না করতে ও চিকিৎসা না নেয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তার,ও স্ত্রী,তিন সন্তানের কাছ থেকে কয়েকটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয় চেয়ারম্যান। তাদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন পরিবার।


এদিকে কৃষকের স্ত্রী ও সন্তান জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল তাদের কাছে ২০শতক জমি দিতে চাপ সৃষ্টি করে। জমি না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যানের নির্দেশে চুরির অপবাদের নাটক সাজিয়ে গাছের সাথে বেঁধে বর্বর নির্যাতন চালানো হয়। তাদের ৩ সন্তান নিয়ে লোক লজ্জার ভয়ে বাড়ীঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী পরিবারের।


সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা.আরমানুর রহমান অপু জানান,কৃষক আমির হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এখনো তাকে আশংকামূক্ত বলা যাবেনা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তা বলা যাবে।


অভিযুক্ত চররমনী মোহন ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও নিজেদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন,আমির হোসেনকে চুরি করার অপরাধে স্থানীয়রা মারধর করেছে। জমির বিষয়ের সাথে তিনি জড়ি নয় বলে দাবী করেন তিনি।

এঘটনায় লক্ষ্মীপুরের-অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো.রিয়াজুল কবির মোবাইল ফোনে জানান, নির্যাতিত কৃষকে লিখিত অভিযোগ দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


উপজেলা এর অন্যান্য খবরসমূহ
জেলা এর অন্যান্য খবরসমূহ
লক্ষীপুর এর অন্যান্য খবরসমূহ
লক্ষ্মীপুর এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০