ঝিনাইদহে নির্মাণের দু’দিন পর ভেঙ্গে পড়লো গরীবের ঘর - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

ঝিনাইদহে নির্মাণের দু’দিন পর ভেঙ্গে পড়লো গরীবের ঘর



রুহুল আমিন সৌরভ, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় “যার জমি আছে ঘর নেই তার জমিতে গৃহ নির্মাণ” উপ-খাতের আওতায় গৃহহীনদের বাসগৃহ নির্মাণের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।


শনিবার উপজেলার হাবিবপুর গ্রামে নির্মাণাধীন একটি ঘর সম্পন্ন হওয়া মাত্র দু;দিন পর একটি দেয়াল ধ্বসে পড়ে। দেয়াল পড়ে রাজন নামের এক নির্মাণ শ্রমিক আহত হয়। এ ঘটনার পর থেকে নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠে। যদিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, নির্মাণ শ্রমিকদের কারনে এমন ঘটনা ঘটেছে। ঘর হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত কোন ত্রæটি থাকলে তা শ্রকিরা ঠিক করে দেবেন।


জানা যায়, ২০১৯-২০ চলতি অর্থ বছরে আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের অধীনে ৪৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৭টি ঘর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির প্রথম থেকেই নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ হেল আল মাসুম প্রকল্পের সদস্য সচিব হিসাবে জানান, তার অফিসে এ সংক্রান্তে কোন তালিকা নেই, সম্পূর্ণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এককভাবে দেখভাল করছেন এমনকি কোন গ্রামের কোথায় ঘর হচ্ছে সে বিষয়ে তার কাছে কোন তথ্য দেয়নি নির্বাহী কর্মকর্তা। এ বিষয়ে তথ্য প্রদানে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেছেন।


হাবিবপুর গ্রামের নির্মাণাধীন ঘর ধ্বসে পড়ার বিষয়ে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুর রহমান বলেন, নামকাওয়াস্তে দায়সারাভাবে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। গরীবের ঘরে নির্মাণেও সিসি ঢালাইবিহীন নরম মাটি থেকে ইট গাঁথা শুরু করায় ভবিষ্যতে এসব ঘর ভেঙ্গে পড়া সম্ভাবনা রয়েছে।


অপরদিকে খুবই নিন্মমানের ইট বালি ও স্বল্প পরিমান সিমেন্ট ব্যবহার করায় ঘরগুলি ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ঘরে উপরের ছাউনীতে হালকা কাঁচা মেহগনি কাঠের ফ্রেম ও রেলিং বাঁধুনিতে রডের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে জিআই তার ফলে ঝড়বৃষ্টিতে উড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ব্যাপক। মনোহরপুর, নাকোল, দিগনগর, কাঁচেরকোলসহ বিভিন্ন এলাকায় হতদরিদ্রদের জন্য নির্মিত এসব ঘর খুবই দিনদিন ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে, কিছু ঘরের পলেস্তরা খসে পড়ছে।


তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গরীবের এসব ঘর পেতে একটি দালাল সিন্ডিকেট কাজ করেছে। অনেক এলাকায় ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিয়ে পাকা ঘরের তালিকায় নাম লেখাতে হয়েছে।


উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মোশাররফ হোসেন জানান, ইউএনও এ প্রকল্পের সভাপতি এবং পিআইও সদস্য সচিব হলেও যতটুকু জানা গেছে, অফিস সহকারি মিন্টুর দিয়ে ইউএনও’র তত্তাবধানে নিন্মমানের নির্মান সামগ্রি দিয়ে কাজ চলছে। সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গরীব মানুষের মাথা গোজার জন্য গৃহীত উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসরাম বলেন, নির্মাণ শ্রমিকদের অব্যবস্থাপনার কারনে হাবিবপুর গ্রামে এ দূর্ঘটনা ঘটে। পাকা ঘরগুলি সরকারি বিধিমোতাবেক করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে নিন্মমানের ইট, সিমেন্ট, বালি ব্যবহারের বিষয়টি ঠিক নয়। ঘরগুলি হস্তান্তরের পূর্ব পর্যন্ত কোথাও ভেঙ্গে পড়লে পুন:রায় মেরামত করে দেয়া হবে।


উপজেলা এর অন্যান্য খবরসমূহ
জেলা এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ