Wednesday, January 28, 2026
Google search engine
Homeজাতীয়লাকসামে শীতের তীব্রতায় কষ্ট পাচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধারা

লাকসামে শীতের তীব্রতায় কষ্ট পাচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধারা

মশিউর রহমান সেলিম, লাকসাম, কুমিল্লা:
কুমিল্লা দক্ষিণাঞ্চল বৃহত্তর লাকসাম উপজেলায় ধীরে ধীরে শীতের তীব্রতা বাড়ায় জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে শত শত শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন ভাইরাস রোগে। প্রচন্ড ঠান্ডায় কাঁপছে এ অঞ্চলের কয়েক লাখ শীতার্ত মানুষ।

গত ৫/৬ দিনে শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে সকল পেশার মানুষের দূভোর্গ। প্রচন্ড শীতে নিন্ম আয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলোর কাছে খড়-কুটোতে আগুন জ্বালানোই যেন একমাত্র ভরসা। এ অঞ্চলের মানুষ রাত-দিন ঘন কুয়াশার কারনে কাজেও যেতে পারছে না। একটু সময় নিয়ে হলেও এ অঞ্চলে হঠাৎ করে জেঁকে বসেছে শীত। পৌষ শেষ নাগাদ গতকাল বুধবার মাঘের আগমনী বার্তায় শীতের দাপট অনেকটাই বেড়ে চলেছে।

পৌষের শুরুতে শীত কাঁপন ধরাতে না পারলেও পৌষের শেষ দিকে শীতের তীব্রতায় কাঁপন ধরেছে জেলার দক্ষিনাঞ্চলের সবকটি উপজেলায় বিশেষ করে এ শীতে কষ্ট পাচ্ছে এলাকার শিশু ও বৃদ্ধারা। ২০২৬ এর জানুয়ারি মাস জুড়ে শৈত্যপ্রবাহ সহ শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে বলে বার্তা দিয়েছেন আবহাওয়াবিদগণ।

জানা যায়, গত কয়েকদিনে জেলার দক্ষিনাঞ্চলের বৃহত্তর লাকসাম উপজেলায় শহরে কোন জরুরী প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাড়ীর বাহির হচ্ছে না। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে পরদিন দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় কিছূই দেখা যায় না। সারারাত বৃষ্টির মত কুয়াশা পড়ে এ এলাকায়। আবার শীতে কাঁতর হয়ে ছিন্নমূল মানুষ, শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধদের পোহাতে হচ্ছে বাড়তি দূর্ভোগ। দিনের বেলায় সড়ক পথে বাতি জ্বালিয়ে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির কারনে এ অঞ্চলে ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন ভাইরাস রোগ মারাত্মক ভাবে দেখা দিয়েছে।

প্রকৃতিতে চলছে গাছের পাতা ঝরার দিন। প্রতিনিয়ত দিন-রাতের তাপমাত্রা কমছে সব মিলিয়ে যেন ‘‘ পৌষের শীত লাগে বাঘের চামড়ায়, বাঘ কাঁপানো আগাম মাঘ মাসের আভাস দিচ্ছে শীতের তীব্রতা’’। কনকনে শীত আর হিমেল বাতাসে কাঁপছে এ অঞ্চলের মানুষ।

স্থানীয় লোকজন জানায় এ অঞ্চলে গত ৫-৬ দিন ধরে জেঁকে বসেছে শীত। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস চলতি জানুয়ারী ২০২৬ মাসে পরপর টানা কয়েকটি শত্য প্রবাহের আগাম বার্তা ঘোষনা দেয়ায় আগামী ইরি-বোরো মৌসুমের বীজতলা তৈরী এবং তীব্র শীতের মোকাবেলায় লেপ -তোষক বানানো ও শীতবস্ত্র কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের সাধারন মানুষগুলো। বর্তমান গ্রামীণ অর্থনৈতিক মন্থাভাব, রাজনৈতিক অস্থিরতায় আর্থিক সংকটে পড়ে অনেকটা বিপাকে পড়েছে এলাকার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষগুলো।

এ অঞ্চলে প্রচন্ড শীতের প্রকোপ দিনদিন বাড়তে শুরু করেছে। প্রত্যহ দিনরাত ১০ঘন্টা ব্যাপী এ অঞ্চলে পড়ছে ঘন কুয়াশা। শীতের তীব্রতার পাশাপাশি হিমেল হাওয়া জনজীবন দূর্বিসহ করে তুলেছে এবং স্থানীয় খেটে খাওয়া, দিনমুজুর ও ছিন্নমূল মানুষের জীবন যাত্রার উপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।

স্থানীয় ঔষধ বিক্রেতারা জানায়, বিগত কয়েকদিনের শীতের তীব্রতায় এলাকার সর্বত্র ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন রোগ- ব্যাধি বেড়ে গেছে। শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধরাই আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। এসব রোগে আক্রান্ত রোগীরা প্রতিদিন ভীড় করছে স্থানীয় ঔষধের দোকানগুলোতে।

ঔষধ কেনা-বেচায় ব্যস্ত দোকানীরা। সরকারী হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলোতে সু-চিকিৎসা না পেয়ে পৌরশহরের প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করে চিকিৎসা নিতে গিয়ে পরীক্ষা নিরিক্ষার নামে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারন মানুষগুলো। মনোহরগঞ্জে ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত বৃদ্ধ গৌরাঙ্গ চন্দ্র কর্মকার স্ত্রী দেবী বালা কর্মকার জানায়, রোগী নিয়ে লাকসাম হাসপাতালে গিয়েছি। প্রচুর ডাক্তার থাকলেও পরিবেশ ও অব্যস্থাপনা দেখে রোগী ভর্তি না করিয়ে পৌর শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করাই। সরকারী হাসপাতালে কোন উন্নত চিকিৎসা নাই বললেই চলে।

নামজানাতে অনিচ্ছুক লাকসাম পৌরশহরের একটি বেসরকারী ক্লিনিকের চিকিৎসক বোর্ডের সদস্য জানায়, শীতে আবহাওয়া সাধারনতঃ শুস্ক থাকে। অতিমাত্রার ঠান্ডায় শুস্ক আবহাওয়া চর্তুদিকে উড়ে বেড়ায় হাজারো রোগ জীবানু। এগুলো শ্বাস-প্রশ্বাস এবং যেকোন কিছুর মাধ্যমে মানুষের শরীরে ঢুকে যে কোন সময় অসুস্থতা ঘটাতে পারে। শত্য প্রবাহের দিনগুলোতে দূচিন্তা মুক্ত থাকা, ভীড় এড়িয়ে চলা, ভিটামিন সি জাতীয় ফল-মূল, শাকসবজি খাওয়া, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা ঠান্ডায় আক্রাšত স্থানে গরম জাতীয় মালিশ করার পরামর্শ দেন। এছাড়া শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে নিউরোপেপটাইড ও বিভিন্ন ভাইরাস জনিত রোগে আক্রাšত হতে পারে মানুষ। এদের মধ্যে শিশু- কিশোর ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশী।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments