কুবির বঙ্গবন্ধু হলে ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীদের ৭দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে হল শাখা ছাত্রলীগ ।

সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ ওয়হিদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল হল প্রভোস্ট মোঃ জিয়া উদ্দিন বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় এবারও তামীরুল মিল্লাতের চমক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের ভর্তি পরীক্ষায় চমক দেখিয়েছে তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। গতকাল ফলাফল প্রকাশ হবার পর দেখা যায় মাদ্রাসাটি থেকে ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৫ম, ৩০তম ও ৩৩তম সহ মোট ১০৩ চান্স পেয়েছেন। যাকে একটি চমকই বলা যায়।

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় বরাবরই মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। মাদ্রাসাটি থেকে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘ঘ’ ইউনিটে ১ম ‘খ’ ইউনিটে ৪র্থ স্থান অধিকার করে মুজাহিদ আব্দুল্লাহ মারুফ। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে আব্দল্লাহ মজুমদার। এর আগে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার ‘খ’ ও ‘ঘ’ ইউনিটে প্রথম স্থান অধিকার করে তারই বড় ভাই আব্দুর রহমান। এছাড়া ২০১১-১২ সেশনে ঢাবির ঘ ইউনিটে চতুর্থ ও খ ইনিটে নবম হন মিল্লাতের ছাত্র নুর মোহাম্মদ।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, দেশের কোনো কলেজ থেকেও এক বছরে এতো ছাত্র ঢাবিতে চান্স পেয়েছে কিনা আমাদের জানা নেই। তাদের মাদ্রাসা থেকে প্রতিবারই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ঢাবিতে ভর্তি হচ্ছেন।

মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ ও তা’মীরুল মিল্লাত ট্রাস্টের সেক্রেটারি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাওলানা যাইনুল আবেদীন বলেন, শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও নিবিড় পরির্চযা, ছাত্রদের কঠোর পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের আন্তরিকতা ও দোয়া এই ফলাফলের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। আগামীতে আরো ভালো করার জন্য ছাত্র ও শিক্ষকদের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং দেশ ও জাতীর ক্রান্তিলগ্নে তা‘মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার ছাত্ররা আদর্শিক ক্ষেত্রে আপসহীন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরো বলেন, দেশে যখন ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য নানা সীমাবদ্ধতা ও সংকীর্ণতা তৈরি হয়েছে তখনও তা‘মীরুল মিল্লাত ট্রাস্ট পরিচালিত প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি দেশ ও জাতি গভীর আস্থা রেখেছে। ফলশ্রতিতে ২০১৯-২০২০ সেশনে আলিম প্রথম বর্ষে প্রায় দুই হাজার এর অধিক ছাত্র-ছাত্রী তা‘মীরুল মিল্লাত মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছেন বলে তিনি জানান।

বিক্ষোভে উত্তাল বুয়েট ক্যাম্পাস

শিক্ষার্থীদের পেশ করা সব দাবি না মানা, এবং ভিসির ঘোষণা নোটিশ আকারে প্রকাশ না করায় আজ ষষ্ঠ দিনেও আন্দোলনে নেমেছেন বুয়েটেরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

আজ শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বুয়েটের শহীদ মিনার চত্বরে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।

‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’ ‘ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই’ ‘খুনিদের ঠিকানা এই বুয়েটে হবে না’ ‘এক আবরার কবরে লাখো আবরার বাইরে’, ‘শিক্ষা-সন্ত্রাস এক সাথে চলে না, ইত্যাদি স্লোগানে শহীদ মিনার এলাকা কম্পিত হয়ে উঠছে।

শনিবার সকাল থেকে বুয়েট প্রশাসন ও একাডেমিক ভবনগুলোয় তালা খোলা হয়েছে। একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকলেও শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ করছেন। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতে একাডেমিক ভবনগুলোয় সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, বুয়েট ভিসি এর আগেও আমাদের বিভিন্ন আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে দাবি মেনে নিয়েছে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেসব দাবি আজো বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা তার কথার ওপর আস্থা রাখছি না। সামনে যেহেতু ভর্তি পরীক্ষা, তাই দ্রুততার সঙ্গে আমাদের পাঁচটি দাবি বাস্তবায়নের শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।’

গতকাল ভিসি স্যারের সঙ্গে বৈঠকের পর আমরা আলোচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই পাঁচটি দাবি বাস্তবায়ন করা হলে আমরা ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করতে দেব। এর আগ পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করতে দেয়া হবে না।

তারা আরও বলেন, আমরা যে পাঁচটি দাবি দাবি উল্লেখ করেছি, ভিসি চাইলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করতে পারেন। এসব দাবি বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত নতুন করে বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

বুয়েটের শেরেবাংলা হলে সেই রাতে যা ঘটেছিল

রবিবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরারের কক্ষ ১০১১ নম্বর রুমে গিয়ে দেখি সে সেখানে নেই। পরে জানতে পারি রাত সোয়া আটটার দিকে তাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল ছাত্রলীগের ছেলেরা।

কথাগুলো বলছিলেন নিহত বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজন। আতংকিত এই ছাত্রটি নিজের নাম পরিচয় প্রকাশে একেবারেই রাজি নন। খবর বিবিসি বাংলার

এটা ক্যাম্পাসের নৈমিত্তিক ঘটনা। তাই এ ব্যাপারে ততটা গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু রাত ৩ টার দিকে তিনি জানতে পারেন আবরার কে হত্যা করে একতলা এবং দোতলার সিঁড়ির মাঝামাঝি ফেলে রাখা হয়েছে।

তিনি এসময় নানা জনের সাথে কথা বলে জানতে পারেন, আবরারকে দুই-দফা দুটি রুমে নিয়ে গিয়ে পেটানো হয়েছে। প্রথমে ২০১১ নম্বর রুমে, পরে ২০০৫ নম্বর রুমে।

সেই সময় আমি ঘটনা স্থলে যাই। দেখি বুয়েট মেডিকেলের ডাক্তার এসেছেন এবং আবরারকে দেখে মৃত বলে ঘোষণা করছেন।

সিঁড়ির কাছের জায়গাটি ঘিরে রেখেছে ছাত্রলীগের ছেলেরা। সাধারণ ছাত্রদের সেখানে জড়ো হতে বাধা দিচ্ছিলো তারা।

আমরা তখন হলের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রভোষ্ট কে বলি, স্যার আপনার সাথে কথা আছে। স্যার কে নিয়ে ১০১১ রুমে আসি এবং দরজা বন্ধ করে স্যার কে বলি, স্যার এখানে কিছু হচ্ছে, যেটা স্বাভাবিক না। স্যার আমাদের তখন বলেন, তোমরা নিজেরা একত্রিত হও।

এর মধ্যে ছাত্রলীগের ছেলেরা খবর পেয়ে আমাদের দরজা বাইরে থেকে ধাক্কা দিতে থাকে। তারা ভোর ৫টা পর্যন্ত সেখানেই ছিল। তারপর তারা চলে গেলে আমরা ফেসবুকে আমাদের বুয়েটের সব হলের ছাত্রদের সাথে যোগাযোগ করি এবং একত্রিত হতে থাকি।

ততক্ষণে ৬টা বেজে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ের পরিচালক মিজানুর রহমান এলে তাকে আমরা একটা কথাই বলি যে, এই ঘটনার তদন্ত চাই। কিন্তু তিনি আমাদের হতাশ করেন”।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ছাত্রের বয়ান
২০০৫ নম্বর রুমে আবরার কে আমি দেখি। তখন সে বেঁচে ছিল। তখন পুলিশ চলে এসেছে।

আমরা পুলিশের কাছে যাই, পুলিশ বলে ওকে (আবরারকে) নিচে নামানোর ব্যবস্থা করা হোক, যেন হাসপাতাল বা থানায় নেয়া হয়। এটা পুলিশের ভাষ্য। আমি কয়েকজন জুনিয়রকে নিয়ে আবরারকে কোলে করে নিয়ে আসার চেষ্টা করছিলাম।

সময়টা রাত ২ থেকে ৩ টার মধ্যে। সে তখন জীবিত ছিল এবং আমাদের বলছিল, আমাকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাও।

বিশেষ করে বিশেষায়িত কোন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সে।

এম্বুলেন্স আসতে দেরি হচ্ছিল। পুলিশ ছিল। যেকোন কারণেই হোক আমার আর সেখানে থাকা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ যা বলছে:
চকবাজার থানার ওসি সোহরাব হোসেন ঐ রাতের ঘটনা সম্পর্কে বলেন, আমরা প্রথম সংবাদ পাই আমাদের ঐ এলাকায় যে মোবাইল পেট্রোল পার্টি আছে তাদের কাছে। তারা থানায় ফোন করে জানায়, বুয়েটে গণ্ডগোল হচ্ছে। তখন পুলিশের এই দলটি বুয়েটে যায়।

রাত সোয়া দুইটার দিকে পুলিশের একটা দল যায় হলে। কিন্তু তাদের কে ভিতরে ঢুকতে দেয় নি। ছাত্রলীগের কিছু ছেলে এসে বলে এখন ঢুকতে পারবেন না, কারণ আমাদের হল কর্তৃপক্ষ এখন কেউ আসেনি।

তিনি বলেন, পুলিশের এই দলটি ৩টা পর্যন্ত সেখানে ছিল তারপর সেখান থেকে চলে আসে।

এরপর বুয়েট ছাত্রলীগের জেনারেল সেক্রেটারি রাসেল (বর্তমানে বহিষ্কৃত) আবার থানায় ফোন করে এবং জানায় এখন তাদের হলের প্রভোষ্ট এসেছে। এখন আপনারা আসতে পারেন।

ওসি সোহরাব হোসেন বলেন, ৪ টার দিকে আবারো পুলিশ সেখানে যায়। প্রভোষ্ট, ডাক্তার সেখানে সবাই উপস্থিত ছিল। ডাক্তার সেখানে আবরারকে মৃত ঘোষণা করে। এরপর সেখানকার প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহ ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।

তিনি আরো জানান, আবরারের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে আবরারের মৃতদেহে অনেক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

সোমবারই পুলিশ বলেছিল, আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

কিছু গণমাধ্যমে খবরে, পুলিশের দুই দফা সেখানে যাওয়া এবং তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

ওসি সোহরাব হোসেন বলেন, আমরা খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছি। কিন্তু অনুমতি ছাড়া আমরা হলের মধ্যে ঢুকতে পারি না। সেক্ষেত্রে আমরা আমাদের দায়িত্বের কোন গাফিলতি দেখতে পাচ্ছি না।

আবরার হত্যায় এ পর্যন্ত ১৩জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের সবাইকেই রিমান্ডে নেয়া জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

উত্তাল ক্যাম্পাস: বুয়েটের ভিসি কোথায়?

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার দুই দিনেও ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি (উপাচার্য) অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

আবরারের হত্যাকারীদের ফাঁসিসহ ৮ দফা দাবিতে আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা ভিসিকে বিকাল ৫টার মধ্যে ক্যাম্পাসে এসে জবাবদিহিতা করার দাবি জানিয়েছেন।

আন্দোলনকারীরা বলেছেন, মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে ভিসি ক্যাম্পাসে এসে জবাবদিহিতা না করা পর্যন্ত তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তারা বুয়েট শহীদ মিনারে অবস্থান করেন। এরপর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভিসির কার্যালয়সহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গা প্রদক্ষিণ করছেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে ভিসির কার্যালয় ঘুরে দেখা যায়, কার্যালয়ের নিচে একজন নিরাপত্তা প্রহরী দাঁড়িয়ে আছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘পূজার ছুটি থাকায় স্যার (ভিসি) গত দু’দিন ক্যাম্পাসে আসেননি।

ভিসির কার্যালয়ের পাশের ভবনের আরেকজন নিরাপত্তা প্রহরী জানায়, গত দুই দিন ধরে ভিসিকে তিনি ক্যাম্পাসে দেখেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বরাদ্দকৃত বাসভবন বাংলোতে নেই। তিনি বর্তমানে লালবাগে রয়েছেন।

মোবাইলে বুয়েট উপাচার্যের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত: রবিবার (৬ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আবরার ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। আবরারের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তার বাবা বরকত উল্লাহ একজন এনজিও কর্মী, মা রোকেয়া বেগম কিন্ডার গার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে আবরার বড়। তার ছোট ভাই ঢাকা কলেজের ছাত্র।

গুজব বিরোধী সেবা সপ্তাহ পালন করেন ইব‌নে তাইমিয়া স্কুল এন্ড ক‌লেজে

গুজব বিরোধী সেবা সপ্তাহ পালন করেন ইব‌নে তাইমিয়া স্কুল এন্ড ক‌লেজে। ওই কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবারে (৩০জুলাই), কু‌মিল্লা গুজব বিরোধী সেবা সপ্তাহ পালন। এ উপলক্ষে ব্যাপক প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। মাদক, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস,কু‌মিল্লা নেউরা উচ্চ বিদ্যালয় ও ইব‌নে তাইমিয়া স্কুল এন্ড ক‌লেজে ইভটিজিং ও গুজবের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মান্যবর পুলিশ সুপার, কুমিল্লা সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম (বার), পিপিএম মহোদয়ের নির্দেশনার আলোকে গুজব বিরোধী সপ্তাহ পালন। এ উপলক্ষে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা অংশ হিসে‌বে কু‌মিল্লা নেউরা উচ্চ বিদ্যালয় ও ইব‌নে তাইমিয়া স্কুল এন্ড ক‌লেজে। বিশেষ অতিথিঃ সহকারী পু‌লিশ সুপার জনাব প্রশান্ত পাল, মোঃ মামুন-অর-র‌শিদ পি‌পিএম।

প্রধান অতিথিঃ আব্দুল্লাহ আল- মামন, এ মত‌বি‌নিয় সভা ক‌রেন অধ্যক্ষ মু. শিফকুল আলম হেলাল। গুজব সম্পর্কে বলেন, এর আগে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়ে, আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই গুজব ছড়িয়েছে। এটা দেশ ও দেশের বাইরে থেকে করা হয়েছে। কারণ এর মাধ্যমে উস্কে দিয়ে আড়ালে থাকা যায়। তারা আরো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের কোনো ছাড় নয়। যেই হোক আইনের আওতায় নেওয়া হবে এবং সেটা শুরু হয়েছে।

গণপিটুনিতে কেউ মারা গেলে হত্যা মামলার আসামি হতে হবে মনে করিয়ে দিয়ে তারা বলেন, নিশ্চয় কেউ হত্যা মামলার আসামি হতে চাইবে না। কোনো সন্দেহ হলে ৯৯৯ এ ফোন দিতে হবে। পিপি এম বলেন, ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে এ পর্যন্ত ৮ জন নিহত হয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের কেউ ছেলেধরা ছিলেন না। সারাদেশ থেকে ৩১ মামলায় ১০৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এদের অনেকই সরকারবিরোধী। পুলিশ প্রধান বলেন, গুজব ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ৬০টি ফেসবুক লিংক ও ২৫টি ইউটিউব লিংক এবং ১০টি নিউজ পোর্টাল বন্ধ করা হয়েছে। এই সমস্ত ফেসবুক লিংক ও ইউটিউব লিংক এর মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ার হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ৩০জুলাই “গুজব ছড়াবেন না, আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না” এ স্লোগানকে সামনে রেখে গুজব বিরোধী সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন । এসময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাট বাজার, বাসষ্ট্যান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কাউকে সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেন। আইন যেনো কেউ হাতে না তুলে।

৪০তম বিসিএস প্রিলির ফল প্রকাশ

৪০তম বিসিএস পরীক্ষার প্রিলিমিনারি টেস্ট এর ফল প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কমিশনের বিশেষ সভায় প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল অনুমোদন করা হয়।

লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন কর্তৃক মোট ২০ হাজার ২৭৭ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে যোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

ফলাফল কমিশনের ওয়েবসাইট www.bpsc.gov.bd এ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে নিন্মোক্ত পদ্ধতিতে যে কোনো মোবাইল হতে এসএমএস করে ৪০ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি টেস্ট এর ফলাফল জানা যাবে।

Format: PSC<Space>40<Space>Registration Number লিখে ১৬২২২ তে পাঠাতে হবে। ফিরতি মেসেজ এ ফলাফল পাওয়া যাবে। লিখিত পরীক্ষার সময়সূচী যথাসময়ে জানানো হবে।

প্রসঙ্গত চলতি বছরের ৩ মে ৪০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৪০তম বিসিএসে অংশ নেন ৩ লাখ ২৭ হাজার পরীক্ষার্থী। আবেদন করেছিলেন ৪ লাখ ১২ হাজার ৫৩২ প্রার্থী।

এ বিসিএসে এক হাজার ৯০৩ জন ক্যাডার নিয়োগ দেয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, এবার প্রশাসনে ২০০, পুলিশে ৭২, পররাষ্ট্রে ২৫, করে ২৪, শুল্ক আবগারিতে ৩২ ও শিক্ষা ক্যাডারে প্রায় ৮০০ জন নিয়োগ দেয়া হবে। তবে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

কুমিল্লায় ৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজনও পাস করেনি

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। গত ৫ বছরের তুলনায় এবারের ফলাফল ভাল হয়েছে। ফলাফল বিশ্লেষণে এমন তথ্য দেখা গেছে। এবছর পাশের হার ৭৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২ হাজার ৩৭৫ জন শিক্ষার্থী।

শতভাগ পাশ করেছে ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১ জনও পাশ করেনি এমন ৩টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা রয়েছে।

১ জনও পাশ করেনি এমন ৩টি প্রতিষ্ঠান হলো- কুমিল্লার দাউদকান্দির বজ্রা স্বদিব এসইপি মডেল কলেজ, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ হজারী হাট স্কুল এন্ড কলেজ, নোয়াখালীর হাতিয়া তমরুদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুর পৌনে ১টার দিকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. আসাদুজ্জামান আজকের কুমিল্লাকে-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যেভাবে মার্কশীটসহ এইচএসসি`র ফল জানবেন

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০১৯ এর ফল আজ প্রকাশ করা হবে। ইতিমধ্যে সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

দুপুর ১টা থেকে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের ওয়েবসাইট (www.educationboardresults.gov.bd) থেকে ফল জানতে পারবেন। তবে এই সাইটে শুধুমাত্র গ্রেড পয়েন্ট দেখা যাবে। ফুল মার্কশিট পাওয়া যাবে (https://eboardresults.com/app/stud/) এই ঠিকানায়।

এছাড়া মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে ফল সংগ্রহ করা যাবে। এজন্য HSC/Alim/Tec লিখে স্পেস দিয়ে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৯ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। প্রতি এসএমএস (SMS)-এ ২ টাকা ৩০ পয়সা করে কাটা হবে।
ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য মোবাইল অপারেটর টেলিটক থেকে আগামী ১৮ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। 

উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

পাসের হারে মাদ্রাসা বোর্ড এগিয়ে

এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সারাদেশের ১০টি বোর্ডের মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার বেশি। সারাদেশে মোট পাসের হার যেখানে ৭৩.৯৩ শতাংশ, সেখানে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৮.৫৬ শতাংশ। এই বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ হাজার ২৪৩ জন শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে, কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৮২.৬২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৩৬ জন। অন্যদিকে, ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭১.৮৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪১ হাজার ৮০৭ জন। বুধবার সকাল ১০টায় বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলের সার-সংক্ষেপ তুলে দেন।

এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সারাদেশের ১০টি শিক্ষা বোর্ডে মোট পাসের হার ৭৩.৯৩ শতাংশ। এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৪৭,২৮৬ শিক্ষার্থী

জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর বেলা একটা থেকে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরীক্ষার ফলাফল জানতে পারবেন।

জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ হাজার ৫৮৬ জন

উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ হাজার ৫৮৬ জন শিক্ষার্থী। যা গতবার পেয়েছিল ২৯ হাজার ২৬২ জন। আর পাসের হার ৭৩.৯৩ শতাংশ। যা গতবছর ছিল ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

সকাল ১০টায় ফলাফলের সারসংক্ষেপ গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেওয়ার আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ তথ্য জানান। এরপরে দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী।

পরীক্ষার্থীরা বেলা ১টার পর নিজেদের ফল জানতে পারবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইন্টারনেট বা মোবাইলের মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে।

গত ১ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৫০৫ জন। এরমধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শুধু এইসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৪৭ জন। তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ১১ মে আর ১২ থেকে ২১ মের মধ্যে শেষ হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা।

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটে উত্তীর্ণদের ফের পরীক্ষা নেয়া হবে : ডিন কমিটি

প্রশ্ন ফাঁসের জের ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘ঘ’ ইউনিটে নতুন করে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিন কমিটি। তবে এক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করা সাড়ে ১৮ হাজার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, পরীক্ষায় পাশ করা সাড়ে ১৮ হাজার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। গত ১২ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় ভর্তি পরীক্ষা শুরুর আগে ৯টা ১৭ মিনিটে ওই পরীক্ষার উত্তরসহ প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। পরে প্রশ্নপত্র যাচাই করে দেখা হয় পরীক্ষার আগে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে ৭২টি প্রশ্ন ও উত্তর হুবহু মিলেছে।

গণমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামাদকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই কমিটি তার অনুসন্ধানে প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পায়। এই প্রমাণ পাওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ ১৬ অক্টোবর ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ করে। এ বছর ঘ ইউনিটে ১৬১৫টি আসনের বিপরীতে আবেদনকারী ছিলেন ৯৫ হাজার ৩৪১ জন। এর মধ্যে পাশ করে সাড়ে ১৮ হাজার পরীক্ষার্থী।

প্রশ্নপত্রের বিষয়টি সুরাহা না করে ওই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আইন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের একজন ছাত্র অনশন শুরু করে। সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ফের পরীক্ষা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়।

ছাত্রলীগ যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে আবার পরীক্ষা নেয়ার দাবিসহ চার দফা দাবি জানায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ওই সময় ছাত্রলীগের দাবির বিষয়ে একমত পোষণ করেন। উপাচার্য দেশে এলে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।

তবে সোমবার উপাচার্য দেশে এসে আজ অধিকতর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির প্রধান করা হয় প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমাদকে।

কিন্তু ওই কমিটি আগের বছর অনুষ্ঠিত ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে থাকলেও তারা প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

অক্টোবর মাসে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হচ্ছে না

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে তথ্য জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। রেকর্ড সংখ্যক আবেদন হওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে অক্টোবরে পরীক্ষার আয়োজন হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সচিব আকরাম আল হোসেনের সভাপত্বিতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে সভায় পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়ানো, ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, ওএমআর ফরম ডিজাইন ও মূল্যায়ন, পরীক্ষার সময়সূচি, ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ ও প্রকাশ এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের আসন বিন্যাসের পদ্ধতি উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা হলেও পরীক্ষা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি।

সভায় উপস্থিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এফ এম মনজুর কাদির বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে সভায় সার্বিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। যেহেতু এবার ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২৪ লাখের বেশি প্রার্থী আবেদন করেছে, সেহেতু আমাদের বড় ধরনের প্রস্তুতি প্রয়োজন রয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়ানো, নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ পূর্বের ক্রটি-বিচ্যুতিগুলো সংশোধন করে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করা। এ কারণে অক্টোবরে পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাবনা থাকলেও তা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

১ নভেম্বর থেকে সমাপনী-ইবতেদায়ি পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকবেন। পরীক্ষার পরে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়াতে এবার উপজেলা সদরের পাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কেন্দ্র নিশ্চিতকরণের দায়িত্ব প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে দেয়া হয়েছে। তারা প্রতিটি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে কেন্দ্র বৃদ্ধি ও পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সময় নির্ধারণ করবে। এরপর নিয়োগ পরীক্ষার সময় ঘোষণা করা হবে। একইসঙ্গে যদি সব জেলায় একসঙ্গে কেন্দ্র খালি না পাওয়া যায় তবে, কয়েকটি জেলায় সমন্বয় করে পর্যায়ক্রমে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করা হতে পারে বলেও জানান মনজুর কাদির।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এবার ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে ২৪ লাখ ১ হাজার ৫৯৭টি আবেদন হওয়ায় নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন ও প্রশ্নফাঁস রোধ করাটা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে পরীক্ষা পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হতে পারে।

সূত্র জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প-৪ (পিইডিপি-৪) আওতাভুক্ত ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। গত ৩০ জুলাই ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮’ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত ১-৩০ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়। সারাদেশ থেকে মোট ২৪ লাখ ১ হাজার ৫৯৭টি আবেদন এসেছে।

বর্তমানে সারাদেশে ৬৪ হাজার ৮২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ১২ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে নতুন করে আরও ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পুরনো নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

এ্যাড্ভেন্টিষ্ট ইন্টারন্যাশনাল মিশন স্কুলের (ইংলিশ ভার্সন) বৃত্তি প্রদান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্টান

আজ সোমবার ২৩ জুলাই ২০১৮ খ্রীঃ এ্যাড্ভেন্টিষ্ট ইন্টারন্যাশনাল মিশন স্কুলের নিজস্ব হলরুমে মেধাবী শিক্ষার্থীদেও মধ্যে টেলেন্টপুল ও জেনারেল বৃত্তি প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়। এ্যাড্ভেন্টিষ্ট ইন্টারন্যাশনাল মিশন স্কুল (ইংলিশ ভার্সন) ১৯৯৬ সাল থেকে সুনামের সাথে শিক্ষা বিস্তারে বরিশালে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বাংলা ও ইংরেজী হাতের লেখা, ফ্রি ইংরেজী প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠীত হয় এবং প্রতিযোগীতায় কৃতকার্য ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।প্রধান অতিথী হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন

 

স্থপতি মিলন মন্ডল। আরও উপস্থিত ছিলেন এ্যাড্ভেন্টিষ্ট ইন্টারন্যাশনাল মিশন স্কুল এর প্রিন্সিপাল বিপুল বারিকদার ও অন্যান্য শিক্ষক- শিক্ষিকা মন্ডলী। ছাত্র-ছাত্রীদেও উদ্দেশ্যে উৎসাহমূলক বক্তব্য রাখেন স্থপতি মিলন মন্ডল। অনুষ্ঠানের সভাপতি এ্যাড্ভেন্টিষ্ট ইন্টারন্যাশনাল মিশন স্কুল এর প্রিন্সিপাল বিপুল বারিকদারের সমাপনী বক্তব্যের মধ্যেদিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

বাকৃবিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মঞ্চ-প্যান্ডেল পুড়ে ছাই, তদন্তে পৃথক দুই কমিটি

ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধু চত্বরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মঞ্চ ও প্যান্ডেল পুড়ে গেছে। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে। পরে খবর পেয়ে ময়মনসিংহের চারটি ও ত্রিশালের একটিসহ ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। রাত সাড়ে ১২ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

 

রবিবার ওই মঞ্চে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে চার হাজার ৩০০ গ্র্যাজুয়েট ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণ করার কথা।

রাত পৌনে ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর জরুরি বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে আজকের অনুষ্ঠান হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

 

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

 

এ ছাড়া ময়মনসিংহ রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক ড. আক্কাস উদ্দিন ভূঁইয়াকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট আরেকটি কমিটি করেছে পুলিশ প্রশাসন। ওই কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

 

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. শাহীদুর রহমান জানান, রাত সাড়ে ১১টায় শটসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ময়মনসিংহের চারটি ও ত্রিশালের একটিসহ পাঁচটি ইউনিট এক ঘণ্টা চেষ্টা করে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

তবে ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজিতে ১০০ নম্বর কমানো হয়েছে

জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজিতে ১০০ নম্বর কমানো হয়েছে, চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা সচিব।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

বিস্তারিত আসছে…

সারাদেশের ২০২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ

দীর্ঘদিন ধরে অগ্রগতি নেই, কোনও শিক্ষার্থী নেই, এমনকি দু’একজন শিক্ষার্থী থাকলেও পাবলিক পরীক্ষায় পাস করতে পারে না সারাদেশের এমন ২০২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্তর্গত বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। এ বছর থেকে এসব মাদ্রাসায় আর শিক্ষা কার্যক্রম না চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের আশেপাশের স্বীকৃত মাদ্রাসাগুলোতে রেজিস্ট্রেশন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই ২০২ টি মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। পরে বুধবার মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েব সাইটেও নোটিশটি প্রকাশ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর এ কে এম সাইফুল্লাহ এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এসব মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ ছিল। তাদের কার্যক্রম সন্তোষজনক নয়। সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়েও ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। পরে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে তাতেও সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব কারণে মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

মাদ্রাসা বন্ধের নোটিশে বলা হয়েছে, ২০১৭ ও ২০১৮ সালের দাখিল পরীক্ষায় কোনও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেনি। এর কারণ জানতে চেয়ে মাদ্রাসা প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। অনেকেই এর জবাব দেননি। যারা জবাব দিয়েছে তাতে বোর্ড সন্তুষ্ট হতে পারেনি। এ কারণে এসব মাদ্রাসার অনুমতি ও একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিলসহ অনলাইনে পাসওয়ার্ড, মাদ্রাসার কোড নম্বর ও ইআইআইএন নম্বর বন্ধ করে দেওয়া হলো।

তালিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, সিরাজগঞ্জের ১০টি, দিনাজপুরের ১৯টি, চাঁদপুরের একটি, চাঁপাই নবাবগঞ্জের দুইটি, নাটোরের ১১টি, চট্টগ্রামের একটি, কুমিল্লার তিনটি, গাইবান্ধার ১২টি, ঠাকুরগাঁওয়ের ২৬টি, যশোরের পাঁচটি, ঝিনাইদহে একটি, জয়পুরহাটে দুইটি, বাগেরহাট জেলার চারটি, বরগুনার পাঁচটি, বরিশালের দুইটি, ভোলার ছয়টি, বগুড়ার চারটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি, খাগড়াছড়ির একটি, খুলনার চারটি, কিশোরগঞ্জের একটি, কুড়িগ্রামে একটি, কুষ্টিয়ার তিনটি, লালমনিরহাটের পাঁচটি, নোয়াখালীর একটি, পাবনার পাঁচটি, পঞ্চগড়ের সাতটি, পটুয়াখালীর সাতটি, মেহেরপুরের একটি, ময়মনসিংহের চারটি, নওগাঁ জেলার একটি, নড়াইলের একটি, নেত্রকোনার একটি, নীলফামারীর তিনটি, রাজবাড়ির দুইটি, রাজশাহীর ১১টি, রংপুরের নয়টি, সাতক্ষীরার পাঁচটি ও সিলেটের একটি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কালকের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে রবিবার থেকে সারাদেশে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা

বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আগামী রবিবার থেকে সারাদেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে আয়োজিত মানবববন্ধনে তারা এই ঘোষণা দেন।

 

মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে যা বলেছেন তা যদি বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন হিসেবে জারি না হয় তাহলে ছাত্ররা আবার রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। আগামী রবিবার থেকে সারাদেশে আন্দোলনের দাবানল জ্বলবে। আপনারা ছাত্রদেরকে রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না। বাধ্য করলে পরিস্থিতি বেগতিক হতে পারে।

এর আগে কোটা বাতিল-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের দাবিতে বুধবার বেলা ১১টায় সারা দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা করেছিল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সেই ঘোষণা অনুযায়ী দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে ব্যাপক শোডাউন দিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

 

এদিকে সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার (১১ এপ্রিল) পরও সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন এখন পর্যন্ত জারি না হওয়ায় হতাশ হয়েছেন আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা।

প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে তাদের দেয়া দ্বিতীয় দফার আল্টিমেটাম সোমবার (৭ মে) শেষ হয়।

 

এরপর মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা। বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

গেজেট প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে একটি মহল ষড়যন্ত্র করে আন্দোলনকারীদের সরকারের বিপক্ষে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করে শিক্ষার্থীরা।

 

এর আগে কোটা সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘোষণা পরবর্তী আওয়ামী লীগের মনোভাব জানতে গত ২৭ এপ্রিল দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের বাসায় বৈঠকে বসেন শাহবাগের কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নেতারা।

 

ঐদিন রাত ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধ দল রাজধানী ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ–সংলগ্ন ন্যাম ভবনে প্রবেশ করে। সেখানে ছিলেন আওয়ামী লীগের আরেক কেন্দ্রীয় নেতা এনামুল হক শামীম।

সেদিন রাতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন এই বলে যে, প্রধানমন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রী তখন বিদেশে সফররত ছিলেন) দেশে ফিরলে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

 

আন্দোলনকারীরা আগেই বলেছিলেন, যদি চলতি (এপ্রিল, ২০১৮) মাসের মধ্যে প্রজ্ঞাপন না হলে তারা মে মাস থেকে আবারও আন্দোলনে নামবেন।

শিক্ষামন্ত্রীকে কুমিল্লার এইচএসসি পরীক্ষার্থীর খোলা চিঠি…

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী,
আপনি পরীক্ষার আগে সকল পত্রিকা এবং মিডিয়ায় আগাম নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে- সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের এক প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হবে। কিন্তু পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে ঠিক উল্টোটাই আমাদের সাথে হচ্ছে। আমাদের প্রাণের জেলা ‘কুমিল্লা’ কি বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত? নাকি বাংলাদেশ এর আওতা বহির্ভূত করার ইচ্ছে আপনার মনে জন্মেছে? যদি তাই হয় তাহলে সরাসরি বলে দিন। মূলত একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিলো- মেধা যাচাইয়ে সমবিচার প্রদান করা। আর সেই অনুযায়ী প্রচার করা হয়েছে।

 

স্যার, আমরা তো বলিনি আমাদের একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিন। সেটা আপনি বলেছেন এবং আমাদের মা-বাবারা সেই আশাতেই বসে আছে যে- এবারসারাদেশের সাথে আমার সন্তানের মেধাটা যাচাই করা হবে। কিন্তু পরীক্ষার হল থেকে গত ০২/০৪/২০১৮ইং বের হয়ে যখন প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীর বেহাল অবস্থা তখনই মা-বাবা প্রশ্ন করে বসে- ‘ওমা! তোর খালাতো বোনের পরীক্ষা তো ভালো হয়েছে! তোরটা হলো না কেন? এর মানে ভালো করে পরিসনি এবং বাকি পরীক্ষাগুলোতেও একই অবস্থা হবে। কিন্তু মা-বাবাকেএটা কে বুঝাবে যে- আমরা কুমিল্লার নিরীহরা ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছি। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলোতেই-বা কে বুঝাবে- আমরা কুমিল্লা বোর্ড থেকে পরীক্ষা দিয়েছি। তখন তো আমাদের প্রতিযোগিতাটা সারাদেশের শিক্ষার্থীদের সাথেই হবে। আর প্রতিযোগিতা-টা তখনই সঠিক হবেযখন গন্তব্যটা সবার জন্য সমান দূরত্বে থাকবে। কিন্তু আমাদের সাথে তা হচ্ছে না। আমাদের আলাদাভাবেই যাচাই করা হচ্ছে। কিন্তু গণনা করা হবেসারাদেশের সাথে। মা-বাবা তো এইসব কথা শুনতে নারাজ। তাদের ভালো রেজাল্ট চাই। ওই যে তার ছেলে এত পয়েন্ট পেয়েছে তুমি পাওনি কেনো? কিন্তু এটা কে বুঝাবে যে- দেশ আমাদের আলাদা করেই যাচাই করছে। হয়তো দেশ আমাদের আপন ভাবতে পারছে না।

 

স্যার, আপনি ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেন ভালো কথা কিন্তু সেটা পুরো দেশকে জানিয়ে দিন। আমাদের মা-বাবাও জানুক এবং উপলব্ধি করুক কুমিল্লা বোর্ড থেকে পরীক্ষাটা দেয়া উচিত হচ্ছে না।
স্যার, সকলে যখন ১০০ মিটার দৌঁড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে তখন আপনি যদি কুমিল্লাকে ১২০ মিটার দৌঁড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করান, আর যারা ১০০ মিটার দৌঁড়ে অংশগ্রহণ করলো তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন তাহলে সেটা কি বেমানান না?

 

এখন বলবেন রেজাল্ট কিছুই নয়, তুমি কতটা শিখতে পেরেছো সেটা দেখার বিষয়। কিন্তু স্যার, সেই আপনিই আবার রেজাল্ট দিয়ে মেধা যাচাই করে জীবন নির্ধারণ করেন। সকলের সাথে তুলনা করেন। তুলনা-ই যেহেতু করবেন তাহলে প্রশ্নপত্রটাও সকলের সাথে মিলিয়ে পরীক্ষা নিয়ে তুলনা করেন। কুমিল্লা পিছিয়ে নেই স্যার কুমিল্লাকে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে।

 

ইতি,
কুমিল্লার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পক্ষে,
খন্দকার ইসরাত জাহান
এইচএসসি পরীক্ষার্থী
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ।

কুয়েট ৩য় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বুধবার খুলনা যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ৩য় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বুধবার খুলনায় যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

ওইদিন বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন রাষ্ট্রপতি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান। সমাবর্তন বক্তৃতা করবেন বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আসগর।

একইদিন বিকেল ৫টায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এ সময় ডিজিটাল পদ্ধতিতে চারটি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি।

কুয়েট ও মোংলা বন্দর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে রাষ্ট্রপতিকে বরণ করতে নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি। রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে নিশ্চিন্দ্র নিরাপত্তা দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি দেওয়া হচ্ছে।