বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে সন্ত্রাসী হামলার হুমকি!

সন্ত্রাসী হামলার হুমকি পেয়েছে ভারত দল। এ নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে চলছে তোলপাড়। বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে রোহিত শর্মাদের ওপর হামলা হবে, বেনামে এমন চিঠি পাঠানো হয়েছে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়াকে (বিসিসিআই)।

বিসিসিআইয়ের নিরাপত্তা সংস্থা চিঠিটি জাতীয় তদন্ত সংস্থার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। যে কারণে দিল্লিতে হতে যাওয়া ম্যাচটির নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেয়ার জন্য দিল্লি পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আগামী ৩ নভেম্বর (রবিবার) দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে (সাবেক ফিরোজ শাহ কোটলা) অনুষ্ঠিত হবে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি। দুই নভেম্বরের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যাবে দুই দল।

ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চিঠিটি কোজহিকোড ভিত্তিক ‘অল ইন্ডিয়া লস্কর’ থেকে দেয়া হয়েছে। ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি এবং সেই ম্যাচে উপস্থিত রাজনীতিবিদদের ওপর হামলা করার পরিকল্পনা করছে তারা। যদিও বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলছেন না কোহলি। তাঁর পরিবর্তে অধিনায়কত্ব করবেন রোহিত।

বিশ্বকাপের পর ভারতীয় দলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের সময়ও এমন হামলার গুঞ্জন ছড়ায়। যদিও পরবর্তীতে এমন কিছুই ঘটেনি। এমন গুঞ্জন ছড়ানো ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করা হয়। তবে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না ভারত। যে কারণে দিল্লির নিরাপত্তা আরও বাড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছে বিসিসিআই।

ভারতের বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি এবং দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এই সিরিজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল। টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানেরও ভারত সফর নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা বালিকায় সদর উপজেলা জেলা চ্যাম্পিয়ন

লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রিড়া অফিসের যৌথ আয়োজনে বৃহস্পতিবার জেলা স্টেডিয়াম মাঠে দুপুর ও বিকালে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।


খেলায় বালক দলে সদর উপজেলাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন লক্ষ্মীপুর পৌরসভা। বালিকা দলে রামগতি উপজেলাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সদর উপজেলা। বালক দলের খেলার প্রথমার্থের ৩৩ মিনিটির মাথায় পৌরসভা দলের ১০ নম্বর জার্জি পরিহিত আলভী জয় সূচক গোলটি করেন। পুরো খেলায় টান টান উত্তেজনা আর আক্রমন পাল্টা আক্রমন উপভোগ করেন দর্শকরা।


বালক দলে শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় নির্বাচিত হন সদর উপজেলার জুয়েল, সর্বোচ্চ গোলদাতা নির্বাচিত হন পৌরসভা দলের ও ম্যান অব দ্যা ফাইনাল নির্বাচিত হন রনি। জেলা চ্যাম্পিয়ন এ দুটি দল পরবর্তীতে বিভাগীয় খেলায় অংশ গ্রহণ করবে।


বালিকা দলে শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় নির্বাচিত হন রামগতি উপজেলা দলের ফারজানা, সর্বোচ্চ গোলদাতা নির্বাচিত হন সদর উপজেলা দলের নাহিদা সুলতানা মিলি ও ম্যান অব দ্যা ফাইনাল নির্বাচিত হন রত্না।


পরে বিজয়ী ও বিজিতদের মাঝে পুরুস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নান। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্রপাল, পৌর মেয়র আবু তাহের ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম সালাহ্ উদ্দিন টিপু প্রমুখ।

বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টে জেলা চ্যাম্পিয়ন কক্সবাজার পৌরসভা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টে প্রথমবারেরমতো জেলা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে কক্সবাজার পৌরসভা। এছাড়া বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মহেশখালী উপজেলা অনুর্ধ-১৭ প্রমিলা দল। ফলে এবার বিভাগীয় পর্যায়ে খেলবে কক্সবাজার পৌরসভা ও মহেশখালী।


সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে (অনুর্ধ-১৭) বালকদের ফাইনালে মুখোমুখি হয় কক্সবাজার পৌরসভা বনাম কুতুবদিয়া উপজেলা একাদশ। তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে কুতুবদিয়াকে ১-০ গোলে হারায় কক্সবাজার পৌরসভা। খেলার শুরু থেকেই শৈল্পিক ফটবলে কুতুবদিয়া উপজেলাকে চাপের মধ্যে রাখে কক্সবাজার পৌরসভার খেলোয়াড়রা। ৫ মিনিটের মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার ফয়সালের দাক্ষণ একটি হেড বারের বাইরে চলে যায়। এতে নষ্ট হয় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ। পুরো মাঠ জুড়েই ছিল শুধু কক্সবাজার পৌরসভা একাদশের আধিপত্য। ২৩ মিনিটে মোরশেদের একটি মাঠ কাঁপানো শট রুখে দেয় কুতুবদিয়ার গোলরক্ষক।
২৭ মিনিটের মাথায় আক্রমণে যায় কুতুবদিয়া উপজেলা একাদশ। এসময় তাদের স্টাইকাররা সহজ গোল মিস করে। রেফারির বিরতির বাঁশিতে ০-০ গোলে মাঠ ছাড়ে উভয়ই দল।


দ্বিতীয়ার্ধের কিছুটা জ¦লে উঠে গুছিয়ে খেলতে দেখা যায় কুতুবদিয়াকে। এতে কয়েকবার প্রতিপক্ষের গোলবারে হানা দিয়েও ব্যর্থ হয় তারা। কিন্তু পরক্ষণেই নিজেদের শৃঙ্খলায় ফেরান পৌরসভার রক্ষণ ও মধ্যভাগের খেলোয়াড়েরা। ৪৪ ও ৪৮ মিনিটে পরপর দু’টি নিশ্চিত গোল মিস হয় কক্সবাজার পৌরসভার। ওই সময় কায়সার ও রিফাতের দুটি দুর্দান্ত শট ভেস্তে দেয় কুতুবদিয়ার গোল রক্ষক। কুতুবদিয়ার গোল রক্ষক অভির দৃঢ়তায় অনেক বিপদ থেকে রক্ষা পায় দল। সর্বশেষ ৫৭ মিনিটে কুতুবদিয়ার ফিরোজ একটি সহজ গোল মিস করে। এর মিনিট পাঁচেক পর হতাশায় ডুবে কুতুবদিয়া শিবির। এসময় খেলার বয়স চলছিল প্রায় ৬৪ মিনিট। শেষ দিকে দলকে গোল করে এগিয়ে নেয় কক্সবাজার পৌরসভার দক্ষ স্টাইকার রিফাত হোসেন কায়সার। সে কুতুবদিয়ার গোল রক্ষককে বোকা বানিয়ে মাথার উপর দিয়ে আলতো করে বল পাঠিয়ে দেয় জালে। আর এতেই তুমুল উচ্ছ¡াসে ফেটে পড়ে কক্সবাজার পৌরসভার খেলোয়াড় ও সমর্থকরা। রেফারির শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত আর কোন গোল আসেনি। ফলে ১-০ গোলের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে কুতুবদিয়া। আর ওই প্রান্তে বিজয়ের জয়গানে মেতে উঠে কক্সবাজার পৌরসভা দলের হাজার হাজার সমর্থক, খেলোয়াড়, কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা।


এর আগে বেলা ২টার দিকে দিনের অপর ম্যাচে বালিকাদের ফাইনালে দুপুর ২টায় কুতুবদিয়া প্রমিলা দলকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় মহেশখালী প্রমিলা দল। খেলা শেষে সংক্ষিপ্ত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।


এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল। এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তাফা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ান আহমদ ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়–য়া অপু।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মাসুদুর রহমান মোল্লা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম সরওয়ার ও জেলা ক্রীড়া অফিসার আফাজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসনের ম্যাজিষ্ট্রেট এবং কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র-কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


পরে অতিথিরা চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলকে ট্রফি তুলে দেন।

দেশের ক্লাবগুলোতে বদলে ক্যাসিনো-জুয়া এলো কিভাবে?

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের খেলাধুলার ক্লাবগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর একের পর অভিযান প্রমাণ করছে যে এসব ক্লাবে নানা ধরণের অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে।

সম্প্রতি যেসব ক্লাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হানা দিয়েছে, সেসব ক্লাব ঢাকার ক্রীড়াঙ্গনে একসময় বেশ পরিচিত এবং শক্তিশালী নাম ছিল। খবর বিবিসি বাংলার

এসব ক্লাবের সাথে জড়িত বহু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

ক্রীড়া সংগঠকরা বলছেন, ঢাকায় নব্য ধনিক শ্রেণী গড়ে ওঠার সাথে সাথে তারা ক্লাবগুলোর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে নিজদের বিত্ত-বৈভব প্রদর্শন শুরু করলো।

একসময় খেলাধুলার সাথে জড়িত নিবেদিতপ্রাণ অনেকেই ক্লাবগুলো থেকে বিদায় নিল।

১৯৯৯ সালে ঢাকার ব্রাদার্স ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন স্থপতি ও ক্রীড়া সংগঠক মোবাশ্বার হোসেন।

ক্লাবগুলো থেকে নিবেদিতপ্রাণ ক্রীড়া সংগঠকদের বিদায়ের কারণে বাংলাদেশে নতুন প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে না।

মোবাশ্বার হোসেন বলেন, দেখেন আমি স্কুলের টিচার বানালাম সেই ব্যক্তিকে যার টাকা অনেক আছে কিন্তু লেখাপড়া নাই। তাহলে ঐ স্কুলের অবস্থাটা কী দাঁড়াবে? স্কুলের বিল্ডিং সুন্দর হবে, দামী-দামী ফার্নিচার আসবে, কিন্তু ছাত্র তৈরি হবেনা।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রত্যেকটি ক্লাবে এখন খেলাধুলা হয় পাতানো সিস্টেমে। অর্থাৎ যে যত টাকা ইনভেস্ট করেছে তার ক্লাবকে চ্যাম্পিয়ন করতে হবে। পাতানো খেলা দুর্বিষহ অবস্থায়।

সংগঠকদের অভিযোগ হচ্ছে, ক্রীড়াঙ্গনে নাম ক্রয় করা খুব সহজ। একটি ক্লাবে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে খেলাধুলার সাথে জড়িত থাকার প্রয়োজন নেই।

এটি হচ্ছে দ্রুত পরিচিতি হবার একটি রাস্তা।

ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবের মাঠে এখন খেলাধুলার কোন সুযোগও থাকে না। এসব ক্লাব পরিচালনার সাথে সম্পৃক্তরা নিজেদের আর্থিক সুবিধার জন্য বছরের অধিকাংশ সময় ক্লাবের মাঠ নানা কাজের জন্য ভাড়া দেন।

ক্রীড়া সংগঠকরা বলছেন, এই অবস্থা শুধু বড় ক্লাবগুলোতে নয়, বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গড়ে ওঠা খেলাধুলার ক্লাবগুলোতেও একই অবস্থা। ফলে ক্লাব সংস্কৃতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক ক্রিকেটার বলেন, অনেক ক্লাবে খেলার পরিবেশ ধ্বংস করে তৈরি হয়েছে অপরাধের আখড়া।

১৯৮০ র দশকে ঢাকার ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিত মুখ ছিলেন কামরুন্নাহার ডানা। তিনি ব্যাডমিন্টন এবং টেবিল টেনিস খেলতেন। পরবর্তীতে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেন তিনি।

কামরুন্নাহার ডানা বলেন, আমি এমন সংগঠকও দেখেছি যারা বৌয়ের গয়না বিক্রি করে প্লেয়ারদের টাকা দিয়েছে।

তিনি বলেন, যে কোনদিন খেলাধুলার সাথে জড়িত ছিলনা, সে কোনদিন খেলোয়াড়দের ভালোর বিষয়টা চিন্তা করবে না। তারা আসবেন শুধু নিতে, দিতে নয়।

যে ক্লাব খেলাধুলায় মগ্ন থেকে দেশের সুনাম কুড়ানোর কথা, সেই ক্লাবগুলোতে বসতো অপরাধের আসর।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার অনেক ক্লাব এখন অপরাধীদের দখলে এবং তাদের পেছনে কিংবা সামনে রয়েছে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা।

খেলাধুলার এসব ক্লাব যারা পরিচালনা করেন তাদের অনেকেই খেলাধুলার সাথে জড়িত নয় – এমন অভিযোগও বেশ জোরালো।

ক্রীড়া সংগঠকরা বলছেন, ক্লাবগুলোতে ওয়ান-টেন জুয়া খেলা প্রচলনের সাথে-সাথে এগুলোর চরিত্র আমূল বদলে যেতে শুরু করে। তাছাড়া একটি ক্লাবের শীর্ষ পদে যেতে পারলে স্থানীয়ভাবে সে ব্যক্তির বাড়তি প্রভাবও তৈরি হয়।

মোবাশ্বার হোসেন বলেন, দেখা যায়, আগে হয়তো আয় হতো ১০ লাখ টাকা আর এখন হয় ১০ কোটি টাকা। এটা প্রটেক্ট করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিরা।

তিনি বলেন, তখন ক্লাবগুলোতে হাউজি খেলার আড়ালে ওয়ান-টেন নামের একটি বিধ্বংসী জুয়ার আয়োজন করা হতো।

তিনি আরো বলেন, আমি দেখেছি গ্রামের লোকদেরকে দালালরা নিয়ে আসতো এসে এখানে জমি-জমা দলিল করে দিয়ে বের হয়ে যেতো। সেজন্য আমি দায়িত্ব নেবার পর ব্রাদার্স ক্লাবে হাউজি এবং ওয়ান-টেন খেলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করেছিলাম।

মোবাশ্বার হোসেনের বর্ণনা অনুযায়ী ক্লাবগুলোতে ওয়ান-টেন জুয়া খেলে বহু মানুষ পথের ফকির হয়ে যেতো।

টাইগারদের সামনে আফগান চ্যালেঞ্জ

বাকিদের অনুশীলন শেষ। তখনও দুইজন টিম বয়কে নিয়ে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ইনডোরে বোলিং অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দীর্ঘ সময় এভাবে তাকে অনুশীলন করতে কালে-ভদ্রে দেখা যায়। ফর্মে ফিরতে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এ বাঁ- হাতি অলরাউন্ডার। বিশ্বকাপে দুরন্ত অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ইতিহাসের পাতা রাঙানো সাকিবকে সর্বশেষ দুই ম্যাচে চেনাই যায়নি।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে যেমন নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন, ত্রিদেশীয় টি ২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও তেমনি সবকিছুতেই হতশ্রী ভাব। জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে ভালো না করতে পারার যন্ত্রণা দ্রুতই লাঘব করতে চান সাকিব। এজন্যই বাড়তি অনুশীলন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের দুয়ার থেকে ফিরেছে বাংলাদেশ আফিফ হোসেনের দারুণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে।

ত্রিদেশীয় টি ২০ সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আজ আফগানিস্তান। জিম্বাবুয়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী তারা। টি ২০ ক্রিকেটে তো আরও ভয়ংকর। তবু প্রথম ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।

খারাপ সময়ে খেলোয়াড়দের পাশে থাকার কথা জানালেন ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি। তার বিশ্বাস, বাংলাদেশ দলের সবাই নিজেদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু হয়ে উঠছে না। মিরপুর ইনডোরে কাল ব্যাটিং কোচ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সব সময়ই কঠিন। একজন সব সময় রান করবে না, সাকিবকেও সব সময় একইভাবে দেখা যাবে না। এই দলটাই গত ছয় মাস ধরে ভালো ক্রিকেট খেলছে। দু’একটা ম্যাচে রান না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ার মতো কিছু হয়নি। এই দলে অনেক মেধাবী ক্রিকেটার রয়েছে। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে, তাদের ওপর আস্থা রাখতে হবে, বিশ্বাস রাখতে হবে।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে কোনো ফরম্যাটেই বাংলাদেশের রেকর্ড ভালো নয়। টি ২০তে তো আরও খারাপ। এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে মুখোমুখি হয়ে আফগানদের বিপক্ষে মাত্র একটি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। গত বছর ভারতের দেরাদুনে তিন ম্যাচের টি ২০ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হন সাকিবরা। চট্টগ্রামে একমাত্র টেস্টেও আফগানিস্তান জিতেছে দাপটের সঙ্গে। এছাড়া বাংলাদেশ যেখানে টি ২০ র‌্যাংকিংয়ে ১০ নম্বরে, আফগানিস্তান সেখানে সাতে। সব কিছুতেই এগিয়ে রশিদ খানরা।

তবে দেশের মাটিতে খেলার কিছু বাড়তি সুবিধা তো আছেই। সঙ্গে ভরসা দিচ্ছেন তরুণ আফিফ হোসেন। ঝড়ো ফিফটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রায় হারা ম্যাচ জিতিয়েছেন তিনি। গত বছর টি ২০ অভিষেকে ব্যর্থ হলেও নতুনভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফিফ পা রেখেছেন শুক্রবার। লোয়ার মিডলঅর্ডারে আফিফের সঙ্গে মোসাদ্দেকের ধারাবাহিকতাও দলকে ইতিবাচক থাকার সাহস জোগাচ্ছে।

প্রথম ম্যাচে মাত্র ৬০ রানের মধ্যেই ছয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। পরীক্ষিত ব্যাটসম্যানরা কেউই উইকেটে থিতু হতে পারেননি। তার আগে বোলিংয়ে সাকিব চার ওভারে ৪৯ রান দিয়েছেন। তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমানও রান আটকাতে পারেননি। আফগানিস্তানের পেস ও স্পিন বোলিংয়ে অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে। তাদের ব্যাটসম্যানরাও এই ফরম্যাটে ধারাবাহিক ও আক্রমণাত্মক।

এছাড়া সাকিবের অধিনায়কত্বের ওপর সবাই আস্থা রাখতে পারছেন না। সব মিলিয়ে যেন দুঃসময়ের মধ্যে বাংলাদেশ। দলের সবারই বিশ্বাস ছিল একটি জয়ই আবার দলকে ধারাবাহিকতায় ফেরাবে। সেই জয়টা এসেছে শুক্রবার। এখন ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এগোতে পারলেই সব ঠিক থাকবে!

নেইমারের নৈপুণ্যে পিএসজির জয়

মৌসুমে প্রথমবার খেলতে নেমেই নায়ক বনে গেলেন নেইমার। যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত এক গোল করে লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়ন পিএসজিকে জয় এনে দিলেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

শনিবার নেইমারের একমাত্র গোলে লিগ ওয়ানে স্ত্রাসবুরকে হারিয়েছে টমাস টুখেলের দল।

ম্যাচের শুরু থেকে আধিপত্য ধরে রাখা পিএসজি প্রথমার্ধে জালের দেখা পায়নি।

অবশেষে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে সতীর্থের ক্রসে দারুণ এক বাই-সাইকেল কিকে জাল খুঁজে নেন নেইমার।

এর খানিক পর আরো একবার বল জালে জড়ান এই তারকা। তবে ভিএআরের সাহায্য নিয়ে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি।

আগামী বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে পিএসজি।

তরুণ আফিফের ব্যাটে লজ্জা এড়িয়ে জয় বাংলাদেশের

বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানরা সব হতাশ করে বিদায় নিয়েছিলেন। সাকিব, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহর মতো ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা যখন দারুণ হতাশার জন্ম দিল বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের হৃদয়ে, তখন সেটাকে নিমিষে দূর করে দিলেন আফিফ হোসেন ধ্রুব।

বয়স মাত্র ২০ ছুঁই ছুঁই। মোসাদ্দেক হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে এই বয়সে দলকে নিশ্চিত হার থেকে রক্ষা করলেন এই তরুণ ক্রিকেটার। বাংলাদেশকে এনে দিলেন ৩ উইকেটের এক লজ্জা এড়ানো জয়।

আফিফ হোসেন ধ্রুবর সঙ্গে ৮২ রানের জুটি গড়েন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও। মাত্র ২৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন আফিফ। যদিও শেষ মুহূর্তে ২৬ বলে ৫২ রান করে আউট হয়ে যান তিনি। কিন্তু তাতে জয় পেতে আর কষ্ট হয়নি বাংলাদেশের। ২৪ বলে ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন সৈকত। ২ বল বাকি থাকতে সাইফউদ্দিন মাদজিভাকে বাউন্ডারি মেরে বাংলাদেশকে জয় এনে দেন।

আফগানিস্তানের কাছে চট্টগ্রাম টেস্টে হারের পরই বাংলাদেশ ক্রিকেটের নখ-দন্ত বেরিয়ে পড়ে। এরপর জিম্বাবুয়ের কাছে বিসিবি একাদশের নামে একঝাঁক জাতীয় দলের ক্রিকেটারের হার চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবুও আশা ছিল, মূল লড়াইয়ে সাকিব আল হাসানরা ঠিকই পারবে হয়তো।

কিন্তু জিম্বাবুয়েকে ১৪৪ রানে বেধে ফেলার পরও যখন মাত্র ৬০ রানেই ৬ উইকেটের পতন ঘটে, তখন তো নিশ্চিত হারের যন্ত্রণাই চেপে বসতে যাচ্ছিল। আরও একটি লজ্জাজনক পরাজয় তখন যেন দরজায় কড়া নাড়ছিল।

কিন্তু আফিফ হোসেন ধ্রুবর ওপর অনেকেরই আস্থা ছিল। মিরপুরের প্রেসবক্সেও সবাই বলাবলি করছিল, এই ছেলেটির মধ্যে প্রতিভা আছে। সেই পারে বাংলাদেশকে এই লজ্জা থেকে বাঁচাতে। সঙ্গে যদি মোসাদ্দেক তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারে!

শেষ পর্যন্ত সেটাই প্রতিফলিত হলো। আফিফ হোসেন ধ্রুব জিম্বাবুয়ে বোলারদেরকে নিজেদের ওপর চেপে বসতে দেননি। বরং দেখিয়ে দিয়েছেন শন উইলিয়ামস, তেন্দাই চাতারা কিংবা কাইল জার্ভিসদের চেয়ে বাংলাদেশ এখন অনেক বেশি এগিয়ে। জিম্বাবুয়ে বোলারদের উইতেটের চারপাশে পিটিয়ে মাত্র ২৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করলেন তিনি। যাতে ছিল ৮টি বাউন্ডারি আর ১টি ছক্কার মার।

মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত জুটি তৈরিতে দারুণ সহযোগিতা করলেন। কোনো বাউন্ডারি নেই তার ৩০ রানের ইনিংসে। রয়েছে ২টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর বেশেই মাঠ ত্যাগ করলেন তিনি।

টস হেরে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ১৮ ওভারে বাংলাদেশের সামনে ১৪৫ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুড়ে দেয় জিম্বাবুয়ে। দুই ওপেনার লিটন দাস আর সৌম্য সরকার মোটামুটি একটা ভালো শুরু দিয়েছিলেন; কিন্তু ৩ ওভারে ২৬ রান যোগ করেই তারা দুজন সাজঘরের পথ ধরেন।

চাতারার করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারের শেষ বলে বোল্ড হন লিটন (১৪ বলে ১৯)। কাইল জার্ভিসের পরের ওভারের প্রথম বলেই তুলে মারতে গিয়ে বোকার মতো আউট সৌম্য সরকার (৭ বলে ৪)।

এর তিন বলের ব্যবধানে মুশফিকুর রহীমকেও (০) উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়েছেন জারভিস। এরপর ১ রান করে চাতার দ্বিতীয় শিকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এ সময় দলের রান মাত্র ২৯। উইকেট নাই ৪টি।

এরপর মাহমুদউল্লাহ আর সাব্বির রহমান কিছুটা আশার আলো জাগান। ২৭ রানের জুটি গড়ার পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ হয়ে যান এলবিডব্লিউ। ১৬ বলে তিনি করেন ১৪ রান। ৪ রান পরই, ১৬০ রানের মাথায় ফিরে যান সাব্বির রহমানও।

১০০ টাকায় দেখা যাবে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ

বাংলাদেশ-আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের খেলাগুলো মাত্র ১০০ টাকায় দেখা যাবে। ত্রিদেশীয় সিরিজের টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ আর সর্বোচ্চ মূল্য ২০০০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে। খেলার আগের দিন মিরপুরের সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামের নির্ধারিত টিকিট কাউন্টারে টিকিট পাওয়া যাবে।

সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচ হবে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। আর শেষ তিন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। ২৪ সেপ্টেম্বর মিরপুর শেরেবাংলা অনুষ্ঠিত হবে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল।

মিরপুরের ম্যাচগুলোর টিকিটের মূল্য নির্ধারণ হলেও চট্টগ্রামের তিন ম্যাচ আর ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের মূল্য এখনও নির্ধারণ করেনি বিসিবি।

১০০ টাকায় দেখা যাবে টি-টোয়েন্টি ম্যাচবিসিবি আন্তর্জাতিক লাউঞ্জ ২০০০ টাকা, গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড ১০০০ টাকা, ভিআইপি স্ট্যান্ড ৫০০ টাকা, শহীদ মুশতাক ও জুয়েল স্ট্যান্ড ৩০০ টাকা, উত্তর ও দক্ষিণ স্ট্যান্ড ১৫০ টাকা, পূর্ব স্ট্যান্ড ১০০ টাকা।

বিয়ে করলেন লিটন দাস, রাতে সংবর্ধনা

বিয়ে করলেন লিটন দাস। রাতে সংবর্ধনা! সতীর্থরা যেখানে শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজ বাঁচাতে মরিয়া, সেখানে জাতীয় দলের ওপেনার লিটন দাস ব্যস্ত জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করায়! বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম করা লিটন শ্রীলংকা সফরে যাননি। জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করায় তোড়জোড় থাকায় এ সফর মিস করেছেন তিনি।


লিটন দাসের বিয়েটা কিছুক্ষণ আগে হয়ে গেছে। রোববার সকালের দিকে রাজধানীর মিরপুরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ে হয়। আজ রাতে সেখানেই তার বিবাহোত্তর বৌভাত অনুষ্ঠান হবে।


বৌভাতে লিটন দাস মিস করবেন তার সতীর্থদের। তার বৌভাত অনুষ্ঠানের সময় তামিম-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ-সৌম্য-সাব্বিরা শ্রীলংকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলবেন।


লিটন যাকে বিয়ে করেছেন তার নাম দেবশ্রী বিশ্বাস সঞ্চিত। তিনি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী।

জীবনসঙ্গী হিসেবে লিটন যাকে বেছে নিয়েছেন, তার সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসা দুজনের কিছু ছবি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে ছবিগুলোতে লাইক দিচ্ছেন।


এর আগে নিউজিল্যান্ড সিরিজ শেষে ধর্মীয় রীতিতে লিটন দাসের আশীর্বাদ সম্পন্ন হয়। সে সময় দিনাজপুর শহরে নিজের বাড়িতে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। আশীর্বাদে দুই পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


এর আগে গত ৭ জুলাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানিয়েছেন, লিটনের বিয়ে। এ কারণে তাকে স্কোয়াডে রাখা হচ্ছে না।

সুত্র: যুগান্তর

ভার্জিনিয়া ’বাংলা গোল্ড কাপ ফুটবল ২০১৯’ টুর্নামেন্টে লেকরিজ স্পোর্টস ক্লাব’ চ্যাম্পিয়ন

১২ জুলাই শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ষ্টেট’র ড্রামফ্রিজ স্পোর্টস কমপ্লেক্সে লেকরিজ স্পোর্টস ক্লাব’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত হল ’বাংলা গোল্ড কাপ ফুটবল ২০১৯’ টুর্নামেন্ট। এতে বৃহত্তর ওয়াশিংটন এরিয়ার দশটি বাংলাদেশি ফুটবল দল দুইটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দিনভর খেলায় অংশগ্রহন করে। দলগুলোর মধ্যে ছিল লেকরিজ স্পোর্টস ক্লাব, বেঙ্গল টাইগার্স, ঝালমরিচ, লাউডেন কাউন্টি, লেইডব্যাক, প্যান্থার, প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টি, রিভেঞ্জার্স, ও ডালাস ইউনাইটেড। 

দিনভর অনুষ্ঠিত এই খেলায় পয়েন্টের ভিত্তিতে ’লেকরিজ স্পোর্টস ক্লাব’ দল এবং ’বেঙ্গল টাইগার’ শীর্ষস্থান দখল করে নেয়। পরে এই দুটি দলের  মধ্যে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত চল্লিশ মিনিটের খেলায় লেকরিজ স্পোর্টস ক্লাব ও বেঙ্গল টাইগার’র মধ্যে ১-১ গোলে ড্র হয়। খেলার ফলাফল নির্ধারনে অতিরিক্ত সময় খেলায় বেঙ্গল টাইগার অপারগতা জানালে বাইলজ অনুযায়ী লেকরিজ স্পোর্টস ক্লাব ’বাংলা গোল্ড কাপ ২০১৯’ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। খেলায় ‘প্লেয়ার অব দা টুর্নামেন্ট’ নির্বাচিত হন শরীফ মোহাম্মদ। 

খেলা শেষে আয়োজক সংঘটন লেকরিজ স্পোর্টস ক্লাব’ ম্যানেজমেন্ট’র ইমতিয়াজ রাসেল, তাজবীর আহমেদ, মাসুম, ইকবাল, মোহাম্মদ রাসেল, ও আসিফ বাবু  খেলায় অংশগ্রহনের জন্য সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। আগামী বছর গ্রিষ্মের ছুটিতে আবারো ’বাংলা গোল্ড কাপ ফুটবল ২০২০’ এর ঘোষনার মধ্য দিয়ে ’বাংলা গোল্ড কাপ ফুটবল ২০১৯’ এর সমাপ্তি ঘটে। 

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে জমজমাট ফাইনাল ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে জমজমাট ফাইনাল বলাই যায় এটাকে, প্রথমবারের মতো টাই, প্রথমবার ম্যাচ গড়িয়েছে সুপার ওভারে।

ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয় এই ফাইনালে সুপার ওভারও টাই হওয়ায় মূলত পুরো খেলায় বাউন্ডারি বেশি থাকায় চ্যাম্পিয়ান হয় ইংল্যান্ড। খবর বিবিসি বাংলার

সুপার ওভারে ইংল্যান্ড আগে ব্যাট করে এবং মাঠে নামেন বেন স্টোকস ও জস বাটলার। আর নিউজিল্যান্ডের হয়ে বল হাতে নেন ট্রেন্ট বোল্ট।

প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড প্রথম বলে ৩ রান নেয়ার পর একটি চারসহ ১৫ রান তোলে।

জবাবে ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে নেন জোফরা আর্চার। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ব্যাট হাতে নেন অফ ফর্মে থাকা মার্টিন গাপটিল ও জিমি নিশাম।

ওয়াইড দিয়ে শুরু করেন আর্চার। আর ওভারের দ্বিতীয় বলে নিশাম মিড উইকেটের ওপর দিয়ে উড়িয়ে ছক্কা হাঁকান।

তৃতীয় বলে আবারো দুই। ৩ বলে যখন দরকার ৫ রান, আবারও ২ রান নিয়ে দরকার হয় ২ বলে ৩।

এরপর ১ বলে দরকার হয় ২ রান, পুরো টুর্নামেন্ট ব্যাট হাতে ব্যর্থ থাকা গাপটিল আসেন স্ট্রাইকে।

শেষ বলে আসে ১ রান অর্থাৎ সুপার ওভারেও ম্যাচ টাই কিন্তু তাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ইংল্যান্ড।

কারণ পুরো ম্যাচে বেশি বাউন্ডারি হাকানোর কারণে ততক্ষণে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের।

ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় বেন স্টোকস।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড ২৪১ রান তোলে পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করে। হেনরি নিকোলস ৫৫ ও লাথাম ৪৭ রান তোলেন। আর ইংল্যান্ডের হয়ে লিয়াম প্লাঙ্কেট প্লাঙ্কেট ও ক্রিস ওকস তিনটি করে উইকেট নেন।

২৪২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড, ৮৬ রানে ৪ উইকেট হারায়।

এরপর জস বাটলার ও বেন স্টোকস মিলে ১১০ রানের জুটি গড়েন। শেষ ২ ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিলো ২৪ রান।

৪৯তম ওভারে ২টি উইকেট পড়ে যায়, রান আসে ৯। শেষ ওভারের শুরুতে দুই বল ডট দেয়ার পর ছক্কা মারেন স্টোকস।

পরের বলে নাটকীয়তা জমে ওঠে দৌঁড়ে দুই নেয়ার সময় ব্যাটে লেগে আরো বাড়তি চার রান ওঠে। অর্থাৎ রান আসে সেই বলে ৬।

তখনো ২ বলে তিন রান দরকার ইংল্যান্ডের কিন্তু তারা দুই রান নিতে সক্ষম হয়।

শেষ বলে দুই রান নেয়ার চেষ্টা করে রানআউট হন উড, কিন্তু দু দলের রান সমান ২৪১ হওয়ায় খেলা সুপার ওভারে গড়ায়।

বাংলাদেশের মানুষের ভারতবিদ্বেষ কি শুধু ক্রিকেটের ক্ষেত্রেই?

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে ভারতের হারের পর বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে বাংলাদেশের সমর্থকদের।

বাংলাদেশ আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়লেও, ভারতের হার অনেক মানুষকেই আনন্দিত করেছে, যা প্রকাশ পেয়েছে তাদের সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট, কমেন্ট ও শেয়ারে। খবর বিবিসি বাংলার

ভারতের সেমিফাইনালে হারের খবরের নিচে রুনেট বড়ুয়া লিখেছেন, অহংকার পতনের মূল। প্রতিপক্ষকে সম্মান করাও খেলার অংশ, যা ভারত কখনো দেয়নি।

তার কমেন্টের শেষাংশে প্রতিপক্ষকে খোঁচা দিয়ে বানানো বিজ্ঞাপণের সমালোচনাও উঠে আসে।

আজিজা আইরিন লিখেছেন, আমি খুব খুশী। নিউজিল্যান্ডকে অভিনন্দন।

আইশা রহমান মন্তব্য করেছেন, ভারতের দর্প ভেঙে চুরমার।

আবু সালেহ লিখেছেন, ভারতের প্রতি এদেশের মানুষের কতটা ঘৃণা সেটা তারা ক্রিকেট খেলায় পরাজিত হলে রাস্তাঘাট আর ফেসবুক দেখলে বোঝা যায়।

এভাবেই ভারতীয় ক্রিকেট টিম এবং ক্রিকেটারদের মুন্ডুপাত করে স্ট্যাটাস, কমেন্টের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এই ভারতবিদ্বেষ কি শুধুই ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে?

অনেকেই মনে করেন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সম্পর্ক অনেকটা অপরিবর্তিত থাকলেও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ভারতবিদ্বেষের ভিত্তি ক্রিকেটের পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনীতিও কিছুটা ভূমিকা রেখেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষক রাজীব নন্দী মনে করেন, ক্রিকেটের হার জিতে আনন্দ ও ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যেভাবে অতিরিক্ত আবেগতাড়িত হয়ে ওঠে, তা স্বাভাবিক।

আমার মনে হয় ২২ গজের খেলার মধ্যে রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ ও অসমাপ্ত প্রসঙ্গগুলো চলে আসা খুবই স্বাভাবিক।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ভারত হারলে ভারতের কাশ্মীরের স্বাধীনতাপন্থী মানুষের মধ্যে এক ধরনের আনন্দ কাজ করে, আবার বাংলাদেশ যখন ইংল্যান্ডকে চট্টগ্রাম টেস্টে হারায় তখন চট্টগ্রামের স্থানীয় পত্রিকায় বড় করে হেডলাইন হয় যে ব্রিটিশ বধ। আবার অনেকে বলেন, পাকিস্তানকে বাংলাদেশ ক্রিকেটে হারালে একাত্তরের বিজয়ের আনন্দ পায়।

এই বিষয়গুলোকে সাধারণ মানুষের ছদ্ম বাস্তবতা তৈরির প্রবণতা থেকে আসে বলে মনে করেন রাজীব নন্দী, যেখানে বাস্তব সমস্যা সমাধান না করে জাতীয়তাবাদী বা দেশাত্মোধক চিন্তাধারা থেকে জন্ম নেওয়া অপ্রয়োজনীয় আবেগকে প্রাধান্য দেয় মানুষ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোবায়েদা নাসরিনের মতে, উপমহাদেশে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে ভারতের আগ্রাসন ও আধিপত্য স্থাপনের চেষ্টার কারণেও মানুষের মধ্যে ভারত বিরোধী মনোভাব তৈরি হয়েছে।

বলা হয়ে থাকে, বিশ্বকাপে আইসিসি চায় ভারত ফাইনাল খেলুক। স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করলে বোঝা যায়, ভারত ফাইনাল খেললে তাদের দর্শক, বড় বড় বিজ্ঞাপন সংস্থা, সম্প্রচার স্বত্বের হিসেবে ব্যবসায়িকভাবেই লাভবান হবে আইসিসি।

রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক হিসেব ছাড়াও মনস্তাত্বিক জায়গা থেকেও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভারত বিরোধিতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলে মনে করেন সমাজবিজ্ঞানীরা।

নাসরিন বলেন, ঐতিহাসিকভাবে দেখতে গেলে, দ্বিজাতিতত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হওয়ার কারণে এখনও উপমহাদেশের দেশগুলোতে ধর্ম খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তাই ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করা বিজেপি যখন ভারতে নির্বাচনে জয়লাভ করে এবং সেখানে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর নির্যাতন হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই মুসলিম প্রধান বাংলাদেশের মানুষের মানসিকতাও প্রভাবিত হয়।

সীমান্তে সংঘাত, আঞ্চলিক রাজনীতি ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ভারতের আধিপত্য ও ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদের ক্রমাগত উত্থানের ফলে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে অবচেতনভাবে ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমা হয়েছে যা খেলার ফলাফলের পর প্রকাশ পায় বলে মনে করেন নন্দী।

সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকার কারণে মানুষের এই জাতীয়তাবাদী চেতনার বহি:প্রকাশটা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক তীব্র হয় বলে মনে করেন রাজীব নন্দী। তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া হলো আগুনে ঘি ঢালার মতো।

বিশ্বকাপ চলাকালীন সময় গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, শিশু নির্যাতনসহ বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে যেগুলো নিয়ে তরুণ সমাজ সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা আলোচনা করেনি, যতটা বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ভারতের হার নিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেছে।

অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে ২৭ বছর পর ফাইনালে ইংল্যান্ড

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে উন্নিত ইংল্যান্ড। সবশেষ ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছিল ইংলিশরা। ২৭ বছর পর আবারও ফাইনালে উঠল ক্রিকেটের জনকরা।

আজ বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে প্রথমে ব্যাট করে ২২৩ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। টার্গেট তাড়া করতে নেমে ১০৭ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের বিশাল জয়ে বিশ্বকাপের ১২তম আসরের ফাইনালে উঠে যায় ইংল্যান্ড।

আগামী রোববার লন্ডনে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২২৪ রানের মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন ইংলিশ ওপেনার জেসন রয়। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অসিদের বিপক্ষে রীতিমতো ব্যাটিং তাণ্ডব চালান ইংলিশ এ ওপেনার।

উদ্বোধনী জুটিতে জনি বেয়ারস্টোকে সঙ্গে নিয়ে ১৭.২ ওভারে ১২৪ রানের পার্টনারশিপ গড়েন রয়। ৪৩ বলে ৩৪ রান করে ফেরেন জনি বেয়ারস্টো।

৫০ বলে ফিফটি করা রয় একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন। কিন্তু প্যাট কামিন্সের বলে উইকেটকিপার অ্যালেক্স কেরির জোড়ালো আবেদনে সাড়া দিয়ে রয়কে আউট করে দিয়ে মাঠ ছাড়া করেন কুমার ধর্মসেনা ও মারাইস ইরাসমাস।

আম্পয়ারের আউটের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি রয়। তিনি মাঠেই প্রতিবাদ জানান। বারবার দুইহাত প্রসারিত করে বলছিলেন, এটা কটবিহাইন্ড নয়! বরং ওয়াইড। আক্ষেপ নিয়ে জেসন রয় যখন মাঠের সীমানা রশির কাছাকাছি পৌঁছান ঠিক তখন রিভিউতে স্পষ্টই দেখা যায়, বলটি ওয়াইডই ছিল।

আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তার ক্যারিয়ারের একটি সম্ভাবনাময় সেঞ্চুরির অপমৃত্যু হয়! মাত্র ৬৫ বলে নয়টি চার ও ৫টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কায় ৮৫ রান করে ফেরেন জেসন রয়।

এরপর তৃতীয় উইকেটে ইয়ন মরগানকে সঙ্গে নিয়ে ৭৯ রানের অনবদ্য জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন জো রুট। দলের জয়ে ৪৬ বলে ৪৯ ও ৩৯ বলে ৪৫ রান করে অপরাজিত থাকেন রুট ও মারগান।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমেই ক্রিস ওকস এবং জফরা আর্চারের গতির মুখে পড়ে যায় অসি ব্যাটসম্যানরা।

জিতলে ফাইনালে, হারলে বিদায়। এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচে স্কোর বোর্ডে ১৪ রান জমা করতেই সাজঘরে ফেরেন অসি তিন সেরা ব্যাটসম্যান অ্যারন ফিঞ্চ, ডেভিড ওয়ার্নার ও পিটার হ্যান্ডসকম্ব।

দলের এমন চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে উইকেটে নেমেই জফরা আর্চারের বাউন্সারের শিকার হন অ্যালেক্স কেরি। ৭.৬ ওভারে দলীয় ১৪/৩ এবং ব্যক্তিগত ৪ রানে জফরা আর্চারের বাউন্সার সরাসরি অ্যালেক্স কেরির হেলমেটে আঘাত হানে। সঙ্গে সঙ্গে তার থুতনি ফেটে রক্ত পড়া শুরু হয়। সাময়িম শ্রুশ্রষা নিয়ে অনবদ্য ব্যাটিং চালিয়ে যান কেরি।

চতুর্থ উইকেটে স্টিভ স্মিথের সঙ্গে ১০৩ রানের জুটি গড়েন কেরি। অনবদ্য ব্যাটিং করে ফিফটির পথেই ছিলেন তিনি। আদিল রশিদের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ তুলে দেন। তার আগে ৭০ বলে চারটি চারের সাহায্যে ৪৬ রান করেন কেরি।

এরপর অস্ট্রেলিয়ার আবারও ব্যাটিং বিপর্যয়। ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম ছিলেন স্মিথ। দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে বাড়তি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এ অধিনায়ক। সেঞ্চুরির পথে থাকা স্মিথ ইনিংস শেষ হওয়ার ১৭ বল আগে দুর্ভাগ্যবশত রান আউট হয়ে ফেরেন।

অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরার আগে ১১৯ বলে ছয়টি চারের সাহায্যে ৮৫ রান করেন স্মিথ। তার বিদায়ের পর মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে মিচেল স্টার্ক ও জেসন বিহানড্রপের উইকেট হারিয়ে ৪৯ ওভারে ২২৩ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া: ৪৯ ওভারে ২২৩/১০ (স্মিথ ৮৫, কেরি ৪৬, মিচেল স্টার্ক ২৯, ম্যাক্সওয়েল ২২, ওয়ার্নার ৯, কামিন্স ৬, লায়ন ৫*, হ্যান্ডসকম্ব ৪, বিহানড্রপ ১, ফিঞ্চ ০, স্টইনিস ০; ক্রিস ওকস ৩/২০, আদিল রশিদ ৩/৫৩)।

ইংল্যান্ড: ৩২.১ ওভারে ২২৬/২ (জেসন রয় ৮৫, রুট ৪৯*, মরগান ৪৫*, জনি বেয়ারস্টো ৩৪)।

ভারতকে বিদায় করে দিয়ে ফাইনালে চলে গেল নিউজিল্যান্ড

বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের ২৪০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বিপাকে পড়েছে টিম ইন্ডিয়া। ৩.১ ওভারের মধ্যে একে একে ফিরে গেছেন ভারতীয় ব্যাটিংয়ের তিন স্তম্ভ রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুল। 

ভারতের এমন বিপর্যয় দেখে অনেকটাই স্তব্ধ হয়ে পড়ে গ্যালারিভর্তি ভারতীয় সমর্থকরা। তবে, ব্যাটসম্যানদের উৎসাহ দিতে এরই মধ্যে তারা আবার চিৎকার শুরু করেছেন। কিন্তু দিনেশ কার্তিক ও রিসভ প্যন্ত আউট হওয়ার পর থেকে গ্যালারি ফাঁকা হওয়া শুরু করে।

শ্চিত পরাজয় বা অনেকে মনে করেছিল লড়াইয়ে ফেরাতো দুরের কথা ১৫০ রানও করতে পারবে না ভারত। তবে শেষ মুহুর্তে এসে জাদেজার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ে ফেরার কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছিল ভারত।

৫৯ বলে ৭৭ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ভারতকে ফের লড়াইয়ে ময়দানে ফিরিয়েছিলেন রবিন্দ্র জাদেজা। তাকে সমান ভাবে সঙ্গ দিয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। জাদেজার ক্যাচ আউট ও ধোনি রান আউটের স্বীকার হওয়ায় লড়াইয়ে করেও তীরে এসে তরী ডুবালো ভারত।

৪৯.৩ বলে ২২১ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত। প্রথম সেমিফাইনালে ১৮ রানের জয় নিয়ে ফাইনালে উঠে গেল নিউজিল্যান্ড। ট্রেন্ট বোল্ট দুটি এবং ম্যাট হেনরি ও মিচেল স্যান্টনার তিনটি করে উইকেট সংগ্রহ করেন

পেরুকে উড়িয়ে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল

এবারের কোপা আমেরিকা শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার ছিল ব্রাজিল। সেভাবে খেলেই টুর্নামেন্টের ফাইনালে নাম লিখিয়েছিল তারা। ফাইনালি লড়াইয়েও ছন্দময় ফুটবল উপহার দিলেন সেলেকাওরা। পেরুকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে কোপা চ্যাম্পিয়ন হলেন তারা।

এ নিয়ে ল্যাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নবমবার শিরোপা ঘরে তুললো ব্রাজিল। নেপথ্য নায়ক গ্যাব্রিয়েল জেসুস। নিজে গোল করে এবং সতীর্থকে দিয়ে করিয়ে ২০০৭ সালের পর দলকে কোপা ট্রফি জেতালেন তিনি। যদিও আনন্দের দিনে বিষাদময় অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। একপর্যায়ে লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

রিও ডি জেনিরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয় ব্রাজিল-পেরু। শুরু থেকেই শৈল্পিক ফুটবল উপহার দেয় সাম্বা দল। ১৫ মিনিটে প্রথম সুযোগেই এগিয়ে যায় তারা। পায়ের কারিকুরিতে দুজনকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিক থেকে ক্রস বাড়ান জেসুস। অরক্ষিত অবস্থায় থাকা এভারটন দারুণ দক্ষতায় তা ধরে বল পাঠান জালে। এই আসর দিয়েই পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে আসা এ ফরোয়ার্ডের এটি তৃতীয় গোল।

পিছিয়ে পড়ে আক্রমণের গতি বাড়ায় পেরু। স্বাগতিক শিবিরে আক্রমণের ঝড় তোলে তারা। মুহুর্মুহু আক্রমণে ব্রাজিলিয়ানদের ব্যতিব্যস্ত রাখেন পেরুভিয়ানরা। এবার সাফল্যও পেয়ে যায় তারা। ৪৪ মিনিটে পাওলো গেররেরোর সফল স্পট কিকে সমতায় ফেরে পেরু। ডি-বক্সে থিয়াগো সিলভার হাতে বল লাগলে সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। পরে ভিএআর প্রযুক্তিতে যাচাই করেও সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত রাখেন তিনি। ২০১৯ কোপা আসরে ব্রাজিলের জালে এটাই প্রথম গোল।

পেরুর সমতায় ফেরার স্বস্তি অবশ্য বেশিক্ষণ থাকেনি। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে আর্থারের পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে তাদের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন জেসুস। আসরে এটি তার দ্বিতীয় গোল।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে চলে খেলা। গোল পরিশোধে ঝটিকা অভিযান চালায় পেরু। হন্য হয়ে গোলের খোঁজে/সন্ধানে থাকে তারা। তবে গোলমুখ খুলতে পারেনি। কিন্তু সেই রেসে ৭০ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় ব্রাজিল। পেরু ডিফেন্ডার কার্লোস সামব্রানোকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জেসুস। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ব্রাজিলিয়ানরা।

অবশ্য প্রতিপক্ষের একজন কম থাকার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি পেরু। স্বার্থ হাসিল করতে ব্যর্থ হয় তারা। উল্টো নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে গোল হজম করে রিকার্দো গারেসার শিষ্যরা। রক্ষণসেনা সামব্রানো ডি-বক্সে এভারটনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে পেনাল্টি দেন রেফারি। সফল স্পট কিকে স্কোরলাইন ৩-১ করেন ফিরমিনোর বদলি নামা রিশার্লিসন।

এর আগে সবশেষ ২০১৩ সালে কোনো শিরোপা জিতেছিল ব্রাজিল। একই ভেন্যুতে ফিফা কনফেডারেশন্স কাপের ফাইনালে স্পেনকে ৩-০ গোলে হারায় তারা। ৫ বছর পর কোনো বড় টুর্নামেন্টের শিরোপায় চুমু আঁকলেন তিতের শিষ্যরা।

ক্রিকেট বিশ্বকাপে পরিসংখ্যানে ভারতের চেয়ে নিউজিল্যান্ড এগিয়ে

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ যাত্রা উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে এখন পর্যন্ত । ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়া ছাড়া ৫ ম্যাচ জয় নিয়ে শুরু করে নিউজিল্যান্ড।

সেখানেই সেমিফাইনালের পথে এক পা দিয়ে রাখে কেইন উইলিয়ামসের দল। কিন্তু শেষ দিকে পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যায় তারা। খবর বিবিসি বাংলার

পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০৫ রানে অল আউট হয়ে যাওয়ায় নেট রান রেটে যে পিছিয়ে পড়ে সেটা আর গুছিয়ে উঠতে পারেনি।

শেষ পর্যন্ত নেট রান রেটের হিসেবেই নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালে ওঠে।

এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম রান করা দলগুলোর একটি নিউজিল্যান্ড। ৩৪৪ ওভার ব্যাট করে ১৬৭৪ রান তুলেছে এই টুর্নামেন্টে।

আবার রান দেয়া ও করার হিসেবে, নিউজিল্যান্ড যে রান তুলেছে তার চেয়ে বেশি রান দিয়ে সেমিফাইনালে ওঠা একমাত্র দলও নিউজিল্যান্ড। ১৬৭৪ রানের বিপরীতে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা দিয়েছে ১৮৬৮ রান।

অপরদিকে ভারত পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ফেভারিটের মতোই খেলেছে। ৯ ম্যাচ খেলে মাত্র একটিতে হেরেছে ভারত, স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

রাউন্ড রবিন লিগ শেষে পয়েন্ট তালিকার এক নম্বরে ভারত। ব্যাটে ভারতের রান এসেছে ২২৬০, বোলাররা রান দিয়েছে ১৯৯৮।

মূলত রোহিত শর্মার ব্যাটেই ভারত টুর্নামেন্টে এমন দাপট দেখিয়েছে। ৮ ম্যাচে ৬৪৭ রান তুলেছেন তিনি, এখন আছেন টুর্নামেন্টের ব্যাটসম্যান তালিকার এক নম্বরে।

ভারতের হয়ে এই বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ভিরাট কোহলি আছেন টুর্নামেন্ট তালিকায় নয় নম্বরে।

প্রথম সেমিফাইনালে যাদের দিকে নজর রাখবেন
টুর্নামেন্টের সেরা রান সংগ্রাহকদের তালিকার দিকে তাকালে উইলিয়ামসনের রান খুব বেশি মনে নাই হতে পারে, তবে তিনি যে রান করেছেন সেটায় নিউজিল্যান্ড দল বিপদ থেকে মুক্তি পেয়েছে বেশ কয়েকবার।

প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০ উইকেটে জয় ছাড়া নিউজিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি আর তেমন বলার মতো রান করতে পারেনি।

এরপরই হাল ধরেন উইলিয়ামসন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭৯, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০৬ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৪৮ রান তোলেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক।

মূলত প্রথম পাঁচ ম্যাচের জয়ই নিউজিল্যান্ডকে সেমিফাইনালে উঠতে সাহায্য করে।

জসপ্রিত বুমরাহ

বোলার, ভারত ক্রিকেট দল। জসপ্রিত বুমরাহ এখন ভারতের পেস বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেন।

এই বিশ্বকাপেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ৮ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে চার নম্বর সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী এখন বুমরাহ।

সেরা পাচঁজন বোলারের মধ্যে সবচেয়ে কম ইকোনমি রেট তার, ৪.৪৮।

ইনিংসের শুরু ও শেষে বুমরাহ’র স্পেলে অনেক সময় ম্যাচের গতিপথ নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।

পরিসংখ্যান
ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড

মুখোমুখি ১০৬ ম্যাচ

ভারত জয়ী ৫৫

নিউজিল্যান্ড জয়ী ৪৫

বিশ্বকাপে মুখোমুখি ৭ ম্যাচ

নিউজিল্যান্ড জয়ী ৪

ভারত জয়ী ৩

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিল

ম্যাচের শুরুর দিকে গোছানো এক আক্রমণে দলকে এগিয়ে দিলেন গাব্রিয়েল জেসুস। আর দ্বিতীয়ার্ধে রবের্তো ফিরমিনোর গোলে রাখলেন মূখ্য ভূমিকা। তরুণ এই ফরোয়ার্ডের নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেছে ব্রাজিল।

বেলো হরিজন্তের মিনেইরো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে সেমি-ফাইনালে ২-০ গোলে জিতেছে স্বাগতিকরা।

কোপা আমেরিকায় আটবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল সবশেষ এর শিরোপাটি জিতেছিল ২০০৭ সালে। পরের দুটি আসরে কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর ২০১৬ সালের আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে গিয়েছিল তারা। ১২ বছর পর আবার তারা উঠল ফাইনালে।

চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে প্রথমার্ধে বল দখলের পাশাপাশি আক্রমণেও অনেকটা আধিপত্য ছিল ব্রাজিলের। গত দুইবারের রানার্সআপ আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলক ভালো খেলে। আগের চার ম্যাচে নিজের ছায়া হয়ে থাকা লিওনেল মেসিও স্বরূপে ফেরার আভাস দিয়েছিলেন, কিন্তু দলকে ম্যাচে ফেরাতে পারেননি।

দ্বাদশ মিনিটে লেয়ান্দ্রো পারেদেসের আচমকা নেওয়া দূরপাল্লার শট ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে বেঁচে যায় ব্রাজিল। সাত মিনিট পর প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পেয়েই এগিয়ে যায় তিতের দল। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে দানি আলভেস দুজনকে কাটিয়ে সামনে ফিরমিনোকে পাস দেন। আর লিভারপুলের এই ফরোয়ার্ডের বাড়ানো বল ছোট ডি-বক্সের মুখে পেয়ে অনায়াসে জালে পাঠান জেসুস।

৩০তম মিনিটে মেসির ফ্রি-কিকে আগুয়েরোর নেওয়া হেডে বল ক্রসবারে ফিরে আসায় সমতা ফেরেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে উঠে ম্যাচ। ৫০তম মিনিটে আগুয়েরোর বাড়ানো বল ডি-বক্সে পেয়েও দুর্বল ভলি করেন লাউতারো মার্তিনেস। ছয় মিনিট পর ভালো জায়গায় বল পেয়ে উড়িয়ে মেরে হতাশ করেন ফিলিপে কৌতিনিয়ো।

৫৭তম মিনিটে পোস্টের বাধায় আবার গোলবঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা। বাঁ দিক থেকে মেসির বাঁ পায়ের জোরালো শট পোস্টে লাগে।

পাল্টা আক্রমণে ৭১তম মিনিটে ফিরমিনোর গোলটিতে বড় অবদান জেসুসের। মাঝমাঠের কাছে বল থেকে দুরন্ত গতিতে ডি-বক্সে ঢুকে ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার বল বাড়ান ডান দিকে। প্রথম স্পর্শেই তা জালে পাঠান ফাঁকায় থাকা লিভারপুলের ফরোয়ার্ড ফিরমিনো।

ম্যাচে ফিরতে মরিয়া আর্জেন্টিনা ৭৭তম মিনিটে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পেয়েছিল। তবে গোলরক্ষক আলিসনকে ফাঁকি দিতে পারেননি বার্সেলোনা তারকা মেসি।

১৪ বারের চ্যাম্পিয়নরা বাকি সময়েও তৈরি করতে পারেনি কোনো সুযোগ। ফলে আরও একবার খালি হাতেই ফিরতে হলো জাতীয় দলের হয়ে প্রথম শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে থাকা মেসিকে। এই প্রতিযোগিতার ১৯৯৩ সালের আসরে সবশেষ বড় কোনো শিরোপা জেতা দলটির শিরোপা খরা কাটানোর অপেক্ষাও বাড়লো আরও।

চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে ব্রাজিলের এটি ৪২তম জয়, আর্জেন্টিনার ৩৮টি। বাকি ২৬ ম্যাচ হয় ড্র।

পোর্তো আলেগ্রেতে বাংলাদেশ সময় বৃহম্পতিবার সকালে আরেক সেমি-ফাইনালে পেরুর মুখোমুখি হবে গত দুবারের চ্যাম্পিয়ন চিলি।

রিও দে জেনেইরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে আগামী রোববার হবে ফাইনাল।

ইংল্যান্ডের জয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সেমিফাইনালের পথ কঠিন হল?

এজবাস্টনে ইংল্যান্ড ফিরে এলো পরিচিত রুপে। শক্তিশালী ওপেনিং জুটি, স্লগ ওভারে বাড়ন্ত রান রেট এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিং- এই তিন মিলে ভারতকে ৩১ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখলো এবারের আসরের স্বাগতিকরা।

ব্যবধান খুব বড় না হলেও, ম্যাচের বেশিরভাগ সময়েই নিয়ন্ত্রণে ছিল ইংল্যান্ড। আর ইংল্যান্ডের এই জয়ে দুশ্চিন্তা বাড়লো বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের। খবর বিবিসি বাংলার

কী হলে কী হবে?
গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের বাকি একটি করে ম্যাচ আর বাংলাদেশের ম্যাচ বাকি দুটি। ইংল্যান্ডের ম্যাচটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আর পাকিস্তানের শেষ ম্যাচটি বাংলাদেশের বিপক্ষে।

বাংলাদেশের বাকি আছে দুটি ম্যাচ, ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে।

যদি ও কিন্তু
ইংল্যান্ড নিউজিল্যান্ডের সাথে জিতলে…..
যদি ইংল্যান্ড নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে যায় সেক্ষেত্রে কোন হিসেব কাজে আসবে না বাংলাদেশের ক্ষেত্রে।

অর্থাৎ তখন ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ জিতে গেলেও বাংলাদেশ সেমিইনালে উঠতে পারবে না।

আর নিউজিল্যান্ড ইংল্যান্ডের সাথে হেরে গেলেও তাদের সেমিফাইনালে পৌঁছানোর সুযোগ থাকবে।

কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে যদি পাকিস্তান জয় পায়, তাহলে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট সমান হবে এবং মুখোমুখি দেখায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তান জয় পাওয়ায় শেষ চারে উঠবে পাকিস্তান।

ইংল্যান্ড যদি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে যায়…..
নিউজিল্যান্ড ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেলে কোন সমীকরণ ছাড়াই সেরা চারে স্থান পাবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের উঠতে হলে ভারত ও পাকিস্তানকে হারাতে হবে।

পাকিস্তান যেহেতু মুখোমুখি দেখায় ইংল্যান্ডকেও হারিয়েছে সেক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পেলেই এই সমীকরণে তারা সেমিফাইনাল খেলবে।

যদি ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়….
ম্যাচটি পরিত্যক্ত হলে, নিউজিল্যান্ড সরাসরি সেমিফাইনালে উঠে যাবে।

বাংলাদেশ যদি দুটি ম্যাচে জয় পায়ও তবুও উঠতে পারবে না, কারণ বাংলাদেশ মুখোমুখি দেখায় ইংল্যান্ড বা নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারেনি।

এই ক্ষেত্রেও পাকিস্তান বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পেলে ইংল্যান্ডের সমান ১১ পয়েন্ট হবে এবং মুখোমুখি দেখায় জয় পাওয়ার কারণে শেষ চারে উঠে যাবে পাকিস্তান।

ঝিনুকমালা খেলাঘরের বুদ্ধিজীবী দিবস উদ্যাপন বুদ্ধিজীবী হত্যার রায় কার্যকর করার দাবি!!

যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদ্যাপন করেছে জেলার শ্রেষ্ঠ জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠন ঝিনুকমালা খেলাঘর আসর। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন বাঙ্গালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কিন্তু সেইসব বুদ্ধিজীবীদের হত্যার সাথে জড়িত আলবদর রাজাকার বিচারের রায় কার্যকর এখনো হয়নি। এখনো হত্যাকারী চৌধুরী মঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খান এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হোক।

ঝিনুকমালা খেলাঘর আসরের সভাপতি সুবিমল পাল পান্নার সভাপত্বিতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট কক্সবাজার জেলার সম্মানিত সভাপতি সত্যপ্রিয় চৌধুরী দৌলন,,জেলা খেলাঘর আসর কক্সবাজার জেলার সম্মানিত সভাপতি আবুল কাশেম বাবু, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ পাল বিশু, ঝিনুকমালা প্রশিক্ষণ একাডেমীর পরিচালক ডাঃ চন্দন কান্তি দাশ, প্রশিক্ষণ একাডেমীর প্রধান সমন্বয়কারী রাজিব দেবদাশ, সংগীত প্রশিক্ষক রীতা দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আবছার উদ্দিন, উক্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, ঝিনুকমালা খেলাঘর আসরের কর্মকর্তাগণ- মোঃ আবু হাসান, সচিব কর্মকার, বৃষ্টি বড়–য়া, দীপা দাশ, নয়ন চক্রবর্তী, এ্যানি দাশ, পপি ভট্টাচার্য্য, মিশু দাশ গুপ্ত, চৌধুরী তূর্না বড়–য়া, জয় চক্রবর্তী, সালাহউদ্দিন, সুজয় পাল, প্রীতম পাল, লিলি দেবদাশ, পূজা দেবদাশ। উক্ত আলোচনা সভার সঞ্চালনায় ছিলেন ঝিনুকমালা খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক দীপক শর্মা দীপু।




টাইগারদের হারিয়ে সিরিজ সমতায় উইন্ডিজ

জিতলেই ট্রফি নিশ্চিত। এমন সমীকরণের ম্যাচে হেরে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বাধীন দলকে ৪ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে (১-১) সমতায় ফিরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগামী শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে স্বাগতিক বাংলাদেশ দলকে প্রথমে ব্যাটিং পাঠায় উইন্ডিজ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে লেগ স্ট্যাম্পে ইয়র্কার ছোড়েন ক্যারিবীয় পেস বোলার ওশানে থমাস।

তার ডেলিভারি দেয়া বলটি ফ্লিক করতে যান লিটন দাস। তবে ব্যাটে-বলে হয়নি। সরাসরি আঘাত হানে লিটনের ডান পায়ের গোড়ালিতে। স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন লিটন। আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে নেয়া হয় হাসপাতালে।

ইনিংসের ১.৪তম ওভরে দলীয় ৬ রানে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি ইমরুল কায়েস। আগের ম্যাচে মাত্র ৪ রান করা জাতীয় দলের এই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান ফেরেন মাত্র ৮ রানে।

এরপর মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে ১১১ রানের জুটি গড়েন তামিম ইকবাল। এই জুটি ক্যারিয়ারের ৪৩তম ফিফটি তুলে নেয়ার পাশাপাশি তিন ফর্ম্যাটের ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তামিম। এদিন ৬৩ বল খেলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৫০ রান করে ফেরেন তামিম।

তামিমের বিদায়ের পর ৮০ বলে পাঁচ চারের সাহায্যে ৬২ রান করা মুশফিক সাজঘরে ফেরেন। এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে ৬১ রান যোগ করেন সাকিব আল হাসান। ৩ উইকেটে ১৯৩ রান করা বাংলাদেশ এরপর ৪৬ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ দল।৫১ বলে তিন চারের সাহায্যে ৩০ রান করে ফেরেন রিয়াদ। আগের ম্যাচে ১৯ রান করা সৌম্য সরকার এদিন ফেরেন ৮ বলে ৬ রান করে।

দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে ইনজুরি নিয়েই ফের ব্যাটিংয়ে নেমে পড়েন ওপেনার লিটন কুমার দাস। তবে সুবিধা করতে পারেননি। ফেরেন মাত্র ৮ রানে। দুর্দান্ত খেলতে থাকা সাকিব খেলা শেষ করে আসতে পারেননি। ইনিংস শেষ হওয়ার ১৮ বল আগে কেমার রোচের বলে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে ৬২ বলে ৬৫ রান করেন সাকিব আল হাসান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে একাই তিন উইকেট নেন থমাস।

টার্গেট তারা করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় উইন্ডিজ। এরপর বাড়তি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন শাই হোপ। দ্বিতীয় উইকেটে ড্যারেন ব্রাভোর সঙ্গে গড়েন ৬৫ রানের জুটি। ব্রাভো ফিরে গেলে তৃতীয় উইকেটে মারলন স্যামুয়েলসকে সঙ্গে নিয়ে ফের ৬২ রান যোগ করেন হোপ।

এরপর পেস আক্রমণে দিশেহারা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। ২ উইকেটে ১৩২ রান করা দলটি এরপর ২৫ রানের ব্যবধানে হারায় ৩ উইকেট। ২৫ রানের ব্যবধানে হারায় ৩ উইকেট। ৩ ব্যাটসম্যানের উইকেট তুলে নেন রুবেল-মাশরাফি ও মোস্তাফিজ।

মারলন স্যামুয়েলসকে ২৬ রানে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। পাঁচে ব্যাটিংয়ে নামা সিমরন হিতমারকে ১৪ রানে ফেরান রুবেল হোসেন। রানের খাতা খোলার সঙ্গে সঙ্গে মাশরাফির গতির শিকার হন ক্যারিবীয় অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল।