এই সরকারের পতন আর বেশী দূরে নয়: মিনু

বাংলাদেশ কোন উপনিবেশিক শক্তির নিকট কোন দিন মাথা নত করেনি। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারত লোক দেখানো সহযোগিতা করে বাংলাদেশ থেকে অনেক কিছু নিয়ে গেছে। এখনো নিচ্ছে। আবার সে সময়ে বাংলাদেশকে তাদের অঙ্গ রাজ্যে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করেছিল। সে সময়ে না পারলেও এখন ভারত বাংলাদেশকে অঙ্গ রাজ্য হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে। এর কারন বর্তমান অবৈধ সরকার তাদের নিকট জিম্মি হয়েছে পড়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, রাজশাহী বিশ্ব বিদ্যালয়ের আয়োজনে ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য জননেতা মিজানুর রহমান মিনু প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথাগুলো বলেন।


তিনি বলেন, বর্তমান বিনা ভোটের সরকার ভারতের ‘র’ এবং দেশের কিছু আইন শৃংখলা বাহিনীর উপর ভর করে টিকে আছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী যেমন বাংলাদেশের জনগণের উপর হায়নার মত ঝাপিয়ে পড়েছিল। তারা নিরহ মানুষকে হত্যা করেছিল। দেশের সম্পদ লুট করে নিয়ে গিয়েছিল। তেমনি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের তৈরী রক্ষীবাহিনী দেশের মানুষের উপর পাকিস্তানীদের থেকেও বেশী নির্যাতন করেছে। তাদের হাত থেকে নারী, শিশু কেউ রক্ষা পায়নি।

এই বিশৃংখলা অবস্থা থেকে দেশকে বাঁচাতে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতেই এই জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব সংগঠিত হয়েছিল। সে সময়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে কারাগার থেকে জনগণ বের করে নিয়ে এসেছিল। বেড়িয়ে এসে তিনি দেশের হাল ধরেন। দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। কৃষিসহ সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধন করেন। তাঁর হাত ধরেই দেশের উন্নয়ন শুরু হয় বলে উল্লেখ করেন মিনু।


তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যার মধ্যে দিয়ে দেশের উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তাঁর স্ত্রী তিনবারের সফল প্রদানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় আন্দোলন করে স্বৈরাচার এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে পূণরায় দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বি ত করেন। অথচ এই অবৈধ সরকার ক্ষমতায় এসে এখন বাংলাদেশকে একটি তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। নিত্য প্রয়োজীয় দ্রব্যের আকাশচুম্বী মুল্য বৃদ্ধি কারনে জনগণের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। পেঁয়াজ নিয়ে সরকার যা ইচ্ছা তাই শুরু করেছে। আবার গতকাল থেকে শুরু হয়েছে লবন নিয়ে।

শেখ হাসিার বাবার আমলে লবনের মূল্য যেমন চল্লিশ টাকা কেজি হয়েছিল। তেমনি গতকাল থেকে ৩০টাকা কেজির লবন হঠাৎ করেই ৮০-১০০টাকা কেজি হয়ে গেছে। এই সরকারের কোন কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ নাই। এই অবস্থায় জনগণ সরকারের প্রতি ক্ষীপ্ত হয়ে গেছে। এখন সময়ের ব্যাপার সরকার পতনের। বেগম জিয়ার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেই শুরু হবে সরকার পতনের আন্দোলন। এই আন্দোলনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতির আন্দোলনের মতই রাজপথে নামার জন্য নেতাকর্মীসহ দেশের জনগণকে আহবান জানান মিনু।

রাজশাহী বিশ্বব্যিধালয়ে ডীন ভবনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. হাবীবুর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন কুষ্টিয়া বিশ্বুবিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এম রফিকুল ইসলাম।


প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য জননেতা মিজানুর রহমান মিনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক রাসিক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, জাতীয় নির্বাহী কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।


এছাড়াও শিক্ষক ফোরামের সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. মামুনুর রশিদ, রাবি’র সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. ফাইসুল ইসলাম, বাংলাদেশ শিক্ষক ফোরামের সাবেক সভাপতি প্রফেসর এম নজরুল ইসলাম, সাদা দলের আহবায়ক প্রফেসর ড. মোহাঃ এনামুল হক, কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. ফজলুল হক, সিন্ডিকেট মেম্বর প্রফেসর ড. আব্দুল আলীম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. সামসুজ্জোহা, ভেটেনারী সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর ড. সৈয়দ সরওয়ার জহাহান লিটন ও প্রাণ রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. মাসুদল হাসান মুক্তাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, রাবি ছাত্রদল নেতাকর্মী ও অন্যান্য শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তর থেকে অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে রাজনৈতিক ব্যক্তি ছাড়া সরকারি কর্মচারীসহ অন্য যে সব ব্যক্তি জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ৩০ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ যাতে কেউ করতে না পারে সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে। সরকারি কর্মচারীসহ অপরাধী যেই হোক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে অনুসন্ধানপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া কারা কারা অভিজাত গাড়ি ক্রয় করেছে, সে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সব দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ক্যাসিনো ও দুর্নীতির সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ যাতে কেউ করতে না পারে সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের পাশাপাশি কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলে দেশের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি সুশাসনভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আন্দোলন-নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটসহ একটি বিশেষ মহল রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে একটি বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা ঠিক রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টির পেছনে জিয়াউর রহমানের একটি হাত রয়েছে। কিন্তু আমরা সব সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে বিশ্বাসী।

এ ব্যাপারে তার সরকারের কঠোর নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের পরিষ্কার অবস্থান হচ্ছে, যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে বা একটি জিনিস স্পষ্ট বলতে চাই- বাংলাদেশের মাটিতে আমরা কোনো দেশের বা প্রতিবেশী কোনো দেশের কেউ কোনো রকমের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায় বা কোনো রকম সন্ত্রাসী তাদের কোনো অবস্থান বাংলাদেশের মাটিতে হবে না, এটা থাকবে না। এ ব্যাপারটা আমরা নিশ্চিত করেছি। এগুলো তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কিন্তু বাংলাদেশের মাটি আমরা কাউকে ব্যবহার করতে দেব না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে থেকে অন্য দেশে কোনো রকম সমস্যার সৃষ্টি করুক বা কোনো রকমের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাক বা কোন রকম গোলমাল করুক সেটা আমরা কখনও আমাদের দেশে স্থান দেয়নি, দেব না। বাংলাদেশের সব সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারোর সঙ্গে বৈরিতা নয়- এই নীতিতে আমরা বিশ্বাস করি।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন ও ভারতের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে শহীদুজ্জামান সরকারের আরেক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এ দুটি দেশের সঙ্গেই আমরা আলোচনা করেছি, রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছে, তারাও চেষ্টা করছে। শুধু ভারত বা চীনই নয়, মিয়ানমারের সঙ্গে যেসব দেশের স্থলসীমানা রয়েছে (ভারত-চীন-থাইল্যান্ড-লাওস) সেসব দেশের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। রোহিঙ্গা ইস্যুটি দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত, এ ব্যাপারে সবাই একমত পোষণ করেছেন।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার রাজি হয়েছে এবং একটি চুক্তিও করেছে। কিন্তু একটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা দেশটিতে ফেরত যেতে চাচ্ছে না। এটি এখন মিয়ানমার সরকারের ওপরই নির্ভর করছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া তাদের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) ফেরত যাওয়ার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ থাকবে সেই বিশ্বাসটি আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে সৃষ্টি করা তাদেরই (মিয়ানমার) দায়িত্ব।

মুজিবুল হকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতি বিরোধী অভিযান অর্থাৎ দুর্নীতির অনুসন্ধান, তদন্ত এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তাছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পদের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন দফতরে পত্র প্রেরণ করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এরূপ অভিযান অব্যাহত রাখতে দুর্নীতি দমন কমিশন সর্বদাই বদ্ধপরিকর। তাছাড়া, বাংলাদেশের কোন কোন ব্যক্তি সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনো খেলেছে, সে সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন সিঙ্গাপুর সরকারকে অনুরোধ করেছে। সব দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।

মীর মোস্তাক আহমেদ রবির প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দল মত নির্বিশেষে সকল ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দুর্নীতিসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সারাদেশে এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থসম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি এ সময় কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে আরও বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া সমাজ থেকে সব ধরনের অপরাধ নির্মূল করার জন্য আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং, বিট পুলিশিং ও নানা ধরনের সভা-সেমিনারের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সর্বপ্রকার হয়রানির অবসানে আমরা বদ্ধপরিকর। সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তর কমিয়ে এনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে বিধি-বিধান যথাসময়ে প্রতিপালন এবং জনগণের সেবক হিসেবে প্রশাসনকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা এবং আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে দুর্নীতির পরিধি ক্রমান্বয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনারও পরিকল্পনা আমাদের সরকারের রয়েছে।

আনোয়ারুল আবেদীন খানের আরেক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যা যা করার তা করে যাচ্ছি, করে যাব। গত ১০-১১ বছর আগে দেশের কী অবস্থা ছিল একটু বিবেচনা করুন। আগে মানুষ এক বেলা খেতে পর্যন্ত খেতে পারত না। কিন্তু গত এক দশকে দেশের চেহারাই পাল্টে গেছে। সরকারের উন্নয়নের সুফল তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষ ভোগ করছে। দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য আমার নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছি। দেশের মানুষের কল্যাণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রয়োজনে বাবার মতো আমার জীবনকে উৎসর্গ করব।

বিএনপির মুখে গণতন্ত্রের কথা বলা মানায়না

বিএনপির মুখে গণতন্ত্রের কথা বলা মানায়না। বিএনপির গণতন্ত্র আমরা দেখেছি। তাদের গণতন্ত্র একুশে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা, মানুষ খুন, হত্যা, রাহাজানি আর নির্যাতন। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে দেশ উন্নত হয়েছে। দেশে শান্তি ফিরে এসেছে।


বাংলাদেশ আজ সম্ভাবনাময়ী দেশ। সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে বলেছিল দেশে খাদ্য ঘাটতি থাকা ভাল। খাদ্য ঘাটতি থাকলে বিদেশ থেকে ভিক্ষা পাওয়া যাবে। সেদিন শেখ হাসিনা প্রতিবাদ করেছিল। তাই আজ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে দেশে খাদ্য ঘাটতি পূরণ করেছে। দেশে মাথাপিছু আয় বেড়েছে। খাদ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে।


বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার দূর্নীত আজ আদালত কর্তৃক প্রমাণিত। এখানে কারো কোন হস্তক্ষেপ ছিলোনা। লাকসাম উপজেলায় পরিষদের উদ্যোগে গতকাল শনিবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মাননীয় প্রধাণমন্ত্রীর যার জমি আছে ঘর নেই নিজ জমিতে গৃহ নির্মান প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তরের শুভ উদ্বোধন, এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে সাইকেল বিতরনসহ সুবিধাভোগীদের মাঝে বিভিন্ন উপকরণ সামগ্রী বিতরন অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি এ কথাগুলো বলেন।


লাকসাম উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহব্বত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম সাইফুল আলম, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি তাবারক উল্লাহ কায়েস, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট রফিকুল ইসলাম হিরা, ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহম্মদ, নিজামউদ্দিন শামীম, ওমর ফারুক, হারুন অর রশিদ, রুহুল আমিন, আবদুর রশিদ সওদাগর।


প্রধান অতিথি আরো বলেন, জনপ্রতিনিধিদের জন সম্পৃক্ততা যতই বাড়বে মানুষ তত বেশী সেবা পাবে। তাই জনপ্রতিনিধিদের সৎ ও ন্যায় থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলে আমাদের সুসাশন প্রতিষ্ঠিত হবে।

রাজশাহীতে বিপ্লব ও সংহতি দিবস জেলা বিএনপি’র আলোচনা সভা

৭ নভেম্বরকে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজশাহী জেলা বিএনপি আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের নগরীর নিজ কার্যালয়ে আলোচনা সভা করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপি’র আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদ। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহিন শওকত। বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল, সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার। সভা পরিচালনা করেন জেলা বিএনপি’র সদস্য গোলাম মোস্তাফা মামুন।


এসময়ে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সদস্য এ্যাডভোকেট তোফাজ্জাল হোসেন তপু, নুরুজ্জামান খান মানিক, দেলওয়ার হোসেন, সৈয়দ মহসিন, জাহান পান্না, রোকনুজ্জামান আলম, অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, তাজমুল তান টুটুল, আমিনুল হক, রফিকুল ইসলাম রফিক, আবু হেনা কামরুজ্জামান, রায়হানুল আলম, তোফায়েল হোসেন রাজু, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, তানোর পৌর মেয়র মিজানুর রহমান মিজান ও আশরাফুল ইসলাম।


এছাড়াও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম সমাপ্ত, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নুসরাত এলাহী রিজভী, সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউজ্জামান পরাগ, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম কুসুম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল সরকার ডিকো ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমিনসহ জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিপ্লব ও সংহতি দিবস সম্পর্কে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আলোকপাত করেন। সেইসাথে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের শরীক হওয়ার আহবান জানান। এছাড়াও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ তাঁর পরিবার, সদ্য প্রয়াত বিএনপি ভাইস প্রেসিডেন্ট সাবেক মেয়র ও মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকাসহ প্রয়াত সকল মুসলিম এর আত্মার মাগফেরাত কামনা ও মুসলিম উম্মাহার শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়।

মহানগর ছাত্রদলের রক্তদান কর্মসূচী

বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদল গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী পালন করে। এই কর্মসূচীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান জনি। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও রাসিক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।

এছাড়াও মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রবি, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম জনি, মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী জ্যাকি, নাহিন আহম্মেদ, রাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ রাহি ও ছাত্র নেতা সাহানসহ ছাত্রদলের অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

জেলা মহিলা দলের নেতৃদের মহানগর যুবদলের অভিনন্দন
রাজশাহী জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নব গঠিত সভাপতি সামসাদ বেগম মিতালী ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদা বেগম লিলিসহ অন্যান্য নেতৃদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন।



যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন জিয়ার নামও স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে : বুলবুল

১৯৭৫ সালের পর থেকে ৭ নভেম্বরকে ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে বিএনপি। দিনটি উপলক্ষে মহানগর বিএনপি নানা কর্মসূচী পালন করে। এরমধ্যে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় নগরীর মালোপাড়াস্থ বিএনপি কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, কবুতর উন্মুক্তকরণ ও শহীদদের এবং মৃত মুসলিম ব্যক্তিদের আত্মার মাগফেরাত ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।


এছাড়াও বাদ আসর একই বিষয়ে মালোপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


সংহতি দিবসের উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও রাসিক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম থাকবে। জিয়ার নাম কেউ মুছে ফেলতে পারবেনা। বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষনায় দেশ যেমন স্বাধীন হয়েছিল, তেমনি ১৯৭৫ সালে বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মাধ্যমে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।


তিনি আরো বলেন, দেশে এখন কোন গণতন্ত্র নাই। আইনের শাসন নেই, দেশব্যাপি শুধু খুন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ধর্ষন, লুটপাট ও দূর্নীতিতে ভরে গেছে। সেইসাথে পার্শবর্তী দেশের তাবেদারী করার জন্য বর্তমান সরকার দেশের সার্বোভৌমত্ব বিকিয়ে দিচ্ছেন। দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বতর্মান প্রধানমন্ত্রী ভারতের স্বার্থ রক্ষা করছে বলে বক্তৃতায় উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে দেশকে স্বাধীন করার জন্য সদ্য প্রয়াত বিএনপি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট, সাবেক মেয়র ও মন্ত্রী নিজের জীবন বাজি রেখে গেরিলা যুদ্ধ করেছিলেন।


শুধু তাই নয় তিনি কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যুতে এখন পর্যন্ত বর্তমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রী ও দেশের মাহমান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ শোকবার্তা দেননি। এগুলো শুধু রাজনৈতিক হীনমন্যতার কারনেই তাঁরা করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। বুলবুল বলেন, একইভাবে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে রেখেছে এই সরকার। জামিনযোগ্য বিষয় হলেও সরকার বেগম জিয়াকে জামিন দিচ্ছেনা। এখন রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই বেগম জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করা হবে। এই আন্দোলনে সকলকে শরীক হওয়ার আহবান জানান তিনি।


মহানগর বিএনপি’র আয়োজনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনের সভাপতিত্বে এসময়ে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সদস্য সৈয়দ মহসিন, মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আসলাম সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউল হক রানা, শাহ্ মখ্দুম থানা বিএনপি’র সভাপতি মনিরুজ্জামান শরীফ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, বোয়ালিয়া থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম মিলু, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি বজলুর রহমান কচি, ১নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজা ও শ্রমিক দলের সভাপতি ইশারুদ্দিন ইশা উপস্থিত ছিলেন।


এছাড়াও মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, জেলা যুবদলের সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানী সুমন, মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সুলতান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী ভুট্টো, মহানগর সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবেদুর রেজা রিপন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি এ্যাডভোকেট সামসাদ বেগম মিতালী, মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপিকা সখিনা খাতুন, নুরুন্নাহার ও রোজি, মহানগর তাঁতী দলের সভাপতি আরিফুল শেখ বনি, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য ইলিয়াস বীন কাশেম, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান জনি, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রবি, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম জনি, মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী জ্যাকি, নাহিন আহম্মেদ ও রাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ রাহিসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী।

নয়াপল্টনে লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর ঢল

অবিভক্ত ঢাকার সর্বশেষ মেয়র, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ নেওয়া হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর ঢল নেমেছে নয়াপল্টনে। 

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে শহীদ মিনার থেকে তার মরদেহ সেখানে নেওয়া হয়। বাদ জোহর নয়াপল্টনে তার আরেকটি নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভবনে। সেখানে দুপুর ৩টায় তার আরেকটি নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। 

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ২৬ মিনিটে অ্যামিরেটস এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ। বেলা ১১টায় সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ নেওয়া হয় জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে। সেখানে তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা ১২টায় খোকার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেওয়া হয়। 

বাদ জোহর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় জানাজা। বিকাল ৩টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চতুর্থ দফা জানাজা শেষে খোকার মরদেহ নেওয়া হবে গোপীবাগে তার নিজ বাসভবনে। বাদ আসর স্থানীয় ধূপখোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে পঞ্চম দফা নামাজে জানাজা। পরে তার লাশ জুরাইন কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশে দাফন করা হবে।

দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৪ নভেম্বর নিউইয়র্ক সময় রাত ২টা ৫০ মিনিটে ও বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে ইন্তেকাল করেন সাদেক হোসেন খোকা। সেখানে নিউইয়র্কের জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় সাদেক হোসেন খোকার প্রথম নামাজে জানাজা। পরে নিউইয়র্ক সময় মঙ্গলবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে) দেশের পথে রওনা দেয় সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ।

জাফরুল্লাহ, নঈম নিজাম ও পীর হাবিবের বিরুদ্ধে মামলা

‘মুসলমানরা কীভাবে গরু খাওয়া শিখলো’-শিরোনামে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় কলাম প্রকাশ করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

৭ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর আদালতে এ মামলা করা হয়। মামলাটি করেন বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সাধারণ সম্পাদক (বিএমজেপি) গৌতম কুমার এদবর।

মামলার আসামিরা হলেন-গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম ও নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান।

বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন শুভ্রত বিশ্বাস শুভ্র ও সুমন কুমার। তারা বলেন, হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা.জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২৯৫ (ক)/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রতিদিন এ ‘মুসলমানরা কীভাবে গরু খাওয়া শিখলো’-শিরোনামে কলাম প্রকাশিত হয়। কলামটি লিখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা.জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামিরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাংলাদেশের আড়াই কোটি সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিশ্বের একশ কোটির ঊর্ধ্বে সনাতন ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে এমন কলাম প্রকাশ করেছেন।

শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৯, ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এ প্রকাশিত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ‘মুসলমানরা গরু খাওয়া শিখল কীভাবে?’ কলামটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো-
মুসলমানরা গরু খাওয়া শিখল কীভাবে?
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

ভারতে গোমাংস বিতর্ক নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করে বই প্রকাশ করতে গিয়ে ভয়ানক বিপদে পড়েছেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ ঝা। অসহিষ্ণু ধর্মান্ধ রক্ষণশীল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সমর্থকরা অধ্যাপক নারায়ণ ঝাকে বার বার মৃত্যুর হুমকি দিয়েছেন, ঈশ্বর-নিন্দার কারণ দর্শিয়ে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে কোর্টের মাধ্যমে তার গবেষণার প্রকাশ বন্ধ করিয়েছেন। পরে অধ্যাপক দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ ঝা The Myth of the Holy Cow নামে তার গবেষণার সারবস্তু লন্ডন থেকে প্রকাশ করেন। সম্প্রতি ভারতে গোরক্ষার নামে যেভাবে মুসলমান হত্যা চলছে তা আধুনিক জগতে চরম নিন্দনীয় ও অকল্পনীয়। গোধূলিলগ্নে চারণভূমি থেকে গরু নিয়ে ফেরার সময় গোহত্যার অভিপ্রায়ের অজুহাতে মুসলিম রাখাল বালক হত্যা, বাড়িতে গোমাংস রাখার অভিযোগে পুরো মুসলমান পরিবারকে পুড়িয়ে মারার কর্মকান্ডে সারা পৃথিবী বিস্মিত, স্তম্ভিত ও চিন্তিত।

প্রাচীন ভারতে গোহত্যা ছিল ব্রাহ্মণ-সেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ : প্রাচীনকাল থেকে ভারতে গোহত্যা ও গোমাংস আহারের ব্যাপক প্রচলন ছিল উচ্চ ও নিম্নবর্ণের হিন্দুর বাড়িতে, সব ধর্মীয় অনুষ্ঠানে, ব্রাহ্মণ-তুষ্টিতে এবং বিভিন্ন রাজকীয় ও ধর্মীয় গোমেধে। খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ থেকে ৬০০ খ্রিস্টাব্দের সব ভারতীয় ধর্মীয় গ্রন্থ ও লোকসাহিত্যে উৎসব করে ভারতে গোমাংস আহারের প্রমাণ পাওয়া যায় জন্মানুষ্ঠান, মহাব্রত, শ্রাদ্ধ ও ব্রাহ্মণ-সেবায়। কামসংহিতায় উল্লেখ আছে, তান্ত্রিক ব্রাহ্মণদের শারদীয় সেবা করতে হতো ১৭টি অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী খর্বকায় ষাঁড় এবং তিন বছরের কম বয়সী গোশাবক হত্যা করে। অবশ্য নিম্নবর্ণের দরিদ্র হিন্দুদের কালেভদ্রে গোমাংস আহারের সৌভাগ্য হতো। চন্ডাল ও অচ্ছুতদের গোহত্যা করে গোমাংস আহারের অধিকার ছিল না। তারা মৃত গরুর মাংস খেত এবং গরুর চামড়া দিয়ে জুতা ও অন্যান্য দ্রব্য তৈরি করত, তারা গরুর হাড়ের ব্যবহারও করত। এ প্রথা ভারতের নিম্নবর্ণের অচ্ছুত হিন্দুদের মধ্যে আজও বহাল আছে। পুষান দেবতার পছন্দ কালো গাই, রুদ্রের প্রিয় লাল গরুতে। বৈদিক দেবদেবীরা বিভিন্ন গৃহপালিত প্রাণীতে অনুরক্ত ছিলেন কেউ বা মহিষ, কেউ বা ছাগল, কেউ ভেড়ায়। ইন্দ্রের পছন্দ গোলাকার শিংযুক্ত ষাঁড় ও সাদা হাতিতে, অগ্নিদেবতার আকর্ষণ ছিল অশ্ব ও গোমাংসে। ঋগে¦দে কী করে তলোয়ার বা কুড়াল দিয়ে গরু হত্যা করতে হবে এবং পরে রান্না করে খেতে হবে তার বর্ণনা আছে। বৈদিক ও বৈদিক-পরবর্তী যুগে ভারতীয়রা গোমাংস কেবল আহার করত তাই নয়, তাদের বিশ্বাস ছিল পিতা-মাতার শবদেহ দাহনের সময় একই সঙ্গে হৃষ্টপুষ্ট ষাঁড় পোড়ালে মৃত ব্যক্তি ষাঁড়ে আরোহণ করে স্বর্গে প্রবেশ করতে পারবেন। এরূপ ঘটনার উল্লেখ আছে অথর্বেদের বর্ণনায়। ভারতে আগত আর্যরা ছিল যাযাবর ও কৃষিতে অনভ্যস্ত। খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ সাল থেকে কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, তুরস্ক ও পূর্ব ইউরোপের পোল্যান্ড, রুমানিয়া, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, নরওয়ে প্রভৃতি দেশ থেকে আর্যরা ভাগ্যের অন্বেষণে স্থলপথে কয়েক হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে ভারতে পৌঁছে। অবশ্য দ্রাবিড়রা ভারতে বসতি গড়েছিল আর্যদের আগমনের কয়েক হাজার বছর আগে ৮০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। যাযাবর জীবনের পরিসমাপ্তিতে আর্যরা পরিচিত হয় সহজলভ্য খাদ্য হিসেবে গোমাংসের সঙ্গে। বৃহৎ জনবসতির কারণে ভারতে বনজপ্রাণীর সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পেয়েছিল, তবে গৃহপালিত ষাঁড়, মহিষ, গরু ও ছাগলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল দ্রুতগতিতে। ব্রিটিশ প্রশাসক উইলিয়াম ক্রুক ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত তার ব্যাপক গবেষণাগ্রন্থ The Veneration of the cow in India- তে দেখিয়েছেন যে, আর্যরা কেবল গোমাংসভোগী ছিলেন তাই নয়, তাদের গোমাংসে বিশেষ আকর্ষণ ছিল।

মহাভারত ও রামায়ণ-চরিত্রদের গোমাংসপ্রীতি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। দ্রৌপদী দেবতাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, পঞ্চপা-বের বনবাসের অবসান হলে যুধিষ্ঠির সহস্র ষাঁড় ও গরু বলিদান করে দেবতাদের তুষ্ট করবেন। পঞ্চপা-ব তাদের বনবাসকালে সহজলভ্য গৃহপালিত গরুর মাংস সংগ্রহ করতেন এবং গোমাংস আহারে তাদের শক্তি সঞ্চিত হতো। গোবর ও গোমূত্রের ব্যবহারও ছিল তাদের জীবনযাত্রায়। মহাভারতে আরও উল্লেখ আছে, রাজা রতিরত্নদেব প্রতিদিন সহস্র গরু জবাই করে ব্রাহ্মণদের মধ্যে বিলি করে পুণ্য অর্জন করতেন।
বাল্মীকির রামায়ণে এ-জাতীয় আরও ঘটনার বিবরণ আছে। জনশ্রুতি যে, ব্যাপকসংখ্যক গরু বলিদানের ফলে রাজা দশরথের সন্তান রামের জন্ম হয়। রামপত্নী সীতা যমুনা নদী অতিক্রমকালে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, রাম তার পিতৃ আদেশ সফলভাবে পালন করতে পারলে তারা যমুনা নদীতে দেবীকে সহস্র গাই-গরু ও সহস্র ভাঁড় মদ উৎসর্গ করবেন। অবশ্য সীতা নিজে গোমাংসের চেয়ে হরিণের মাংস বেশি পছন্দ করতেন।

চরক-সংহিতা ও সুশ্রুত-সংহিতায় ওষুধ হিসেবে গোমাংস আহার এবং গোমূত্র সেবনের উপকারিতার বিবরণ আছে। গরুর লেজ ও হাড়ের ঝোলের বিধান আছে বিভিন্ন প্রদাহের চিকিৎসা হিসেবে। চরক সর্দি, সাধারণ জ্বর, পেটের গ-গোল নিরাময়ে গোমাংস পথ্য হিসেবে বিধান দিয়েছেন। সুশ্রুতের মতে, শ্বাসকষ্ট, শ্লেষ্মাজনিত সমস্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জ্বরে গোমাংস ওষুধের কাজ করে। সুশ্রুত গরুর মাংসকে ভগবানের পবিত্র দানরূপে চিহ্নিত করেছেন। গর্ভবতীকে গোমাংস খাওয়ালে গর্ভস্থ শিশু বলবান হয়।

সপ্তম শতাব্দীতে চিকিৎসক ভগবত গোমূত্র ও গোকণা (Bile) বিবিধ রোগ নিরাময়ের জন্য বিধিপত্র (প্রেসক্রিপশন) দিতেন। গরুর পঞ্চ উপাদানে প্রস্তুত পঞ্চগর্ভের আধুনিক সংস্করণ পঞ্চমর্ত্য যা পূজা-পার্বণে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। পাসর, বৈষ্য ও শংকরের মতে, গরুর মুখ ছাড়া সব অংশ আহারযোগ্য ও পাপমোচনে ব্যবহারযোগ্য। শল্যবিদ সুশ্রুত ১ হাজার ২০টি রোগের বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন সুশ্রুত-সংহিতায়। সুশ্রুতকে প্লাস্টিক সার্জারির জনক বলা হয়। তিনি শতাধিক মেডিকেল যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করেছিলেন। প্রাচীন ভারতে গোমাংস ভক্ষণের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে পি ভি কেইন সম্পাদিত বৈদিক যুগের পাঁচ খ- ধর্মশাস্ত্রের ইতিহাসে। ভারতের জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাও গোমাংসে তৃপ্তি পেতেন, গৌতম বুদ্ধও একসময় গোমাংস আহার করতেন। জৈনধর্মের প্রবর্তক মহাবীরও গোমাংস ভক্ষণ করতেন। পরে তারা উভয়ে গোহত্যা নিষিদ্ধ করেছেন ধর্মীয় কারণের জন্য নয়, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে ব্রাহ্মণদের পার্থক্য সৃষ্টি ও রাষ্ট্রীয় শাসন সুবিধার জন্য।

গোহত্যা প্রাচীন যুগে মহাপাপ বলে স্বীকৃত হয়নি। বৈদিক যুগে মনুসংহিতায় গোহত্যা সাধারণ পাপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে ব্রাহ্মণের গরু অব্রাহ্মণ বধ করলে কঠিন শাস্তির বিধান হয়- গোশালায় রাতযাপন করে কেবল গরুর পাঁচ উপাদান (পঞ্চগর্ভ) ভক্ষণ করে। গোহত্যাকারীকে ২৫ দিবারাত্রি অনাহারে থাকতে হতো। ঋগে¦দ ও উপনিষদের সাতটি মহাপাপ হলো- ১. ব্রাহ্মণকে অপমান ২. ব্রাহ্মণ হত্যা ৩. চৌর্যবৃত্তি ৪. প্রতারণা ৫. মদ্যপান (সুরাপান) ৬. গুরুস্ত্রীর সঙ্গে যৌনাচার ও ৭. ব্যভিচার। আরবরা ভারতে পৌঁছে গোমাংস আহারে পরিচিত হয়। ভাগ্যের অন্বেষণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ইসলাম ধর্মাবলম্বী রাজা ও দলপতিরা ভারত বিজয় করেছেন বিভিন্ন শতাব্দীতে। এদের কেউ এসেছেন ইরান থেকে, কেউ আফগানিস্তান থেকে, কেউ তুরস্ক থেকে, কেউ মধ্যপ্রাচ্য, কেউ বা রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। তাদের দীর্ঘ পথযাত্রায় খাদ্যের জোগান এসেছে বনজপ্রাণী, হরিণ, ঘোড়া, উট, দুম্বা, গন্ডার ও মহিষ থেকে। রোদে শুকিয়ে এসব প্রাণীর মাংস দীর্ঘদিন রেখে খাওয়া যায়। গোমাংস কখনো এদের যাত্রাপথের সামগ্রী হিসেবে বিবেচিত হতো না। ধাই মাতার সঙ্গে আরবদের দীর্ঘ বন্ধন ছিল। তাই দুধদানকারী প্রাণী হত্যায় তাদের মানসিক অস্বস্তিবোধ ছিল। চারণভূমির স্বল্পতার কারণে গৃহপালিত গরুর সঙ্গে তাদের পরিচয় ছিল সীমিত। মরুভূমির দেশ আরবে চারণভূমির অভাব সর্বজনজ্ঞাত।

আরবরা ভারতে প্রথম পর্দাপণ করে ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দে, স্থলপথে নয়, সমুদ্রপথে। আরব সেনাপতি সোহেল বিন আবদি ও হাকাম আল তাকবি ভারত সমুদ্রে রাজিলের যুদ্ধে ভারতীয়দের পর্যুদস্ত করে সিন্ধুতে পৌঁছেন। পূর্বানুমতি না নেওয়ায় ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ না করে তাদের আরবে ফিরে যেতে হয় খলিফা ওমরের নির্দেশে। সমুদ্রাভিযানে আরব সেনানীদের খাদ্য ছিল খেজুর এবং ঘোড়া, উট ও দুম্বার শুকানো মাংস। আরবরা দুগ্ধবতী প্রাণী মাংস ভক্ষণে কখনো উৎসাহবোধ করেনি। খলিফা ওসমানের আমলে ৬৫২ খ্রিস্টাব্দে আরবরা মাকরান ও উমাইয়া খলিফা মোয়াবিয়ার আমলে ৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে পাঞ্জাব জয় করেন। মুহাম্মদ বিন কাশিম সিন্ধুতে আরবদের বসতি স্থাপন করেন ৭১০ খ্রিস্টাব্দে। ইতিহাসবিদ আলবেরুনি ভারত সফর করেছিলেন ১০৩০ খ্রিস্টাব্দে। পরবর্তীকালে উজবেকিস্তান থেকে আগত তৈমুর লং, গজনির সুলতান মাহমুদ, শাহাবুদ্দিন মুহাম্মদ ঘোরি, বখতিয়ার খিলজি প্রমুখ ভারত বিজয় করে শাসন করেছেন প্রায় ৪০০ বছর। ১৫২৬ সালে জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ভারত বিজয় করে মোগল সাম্রাজ্যের পত্তন ঘটান।

ভারতে পৌঁছে ভাগ্যান্বেষণকারী বিজয়ী মুসলমানরা কৃষিকাজে ব্যাপকসংখ্যক গরুর ব্যবহার এবং একই সঙ্গে ভারতীয়দের গরু বধ করে গোমাংস আহার ও ধর্মীয় কাজে ব্যাপক গোমাংস বিতরণ দেখে বিস্মিত হন। তারা লক্ষ্য করেন, গরুর দুধের বিবিধ ব্যবহার- সরাসরি দুগ্ধপান, দই, মাখন, ছানা ও ঘি উৎপাদনে। ভারতীয়দের গোবরভক্তিতে মুসলমানরা আশ্চর্যান্বিত হয়েছেন। গোবর ব্যবহৃত হতো মন্দিরের বেদি পরিষ্কার করার কাজে এবং গোবর খাইয়ে ভক্তের পাপমোচনে। নিম্নবর্ণের হিন্দুরা গোবর শুকিয়ে ব্যবহার করত জ্বালানি হিসেবে। গরুর লেজের ঝোল ও গোমূত্রের ওষুধ হিসেবে ব্যবহারে মুসলমানরা হতবাক হয়ে পড়ে। ভারতে বনজপ্রাণীর স্বল্পতার কারণে অন্য দেশ থেকে আগত মুসলমানরা ক্রমে গোমাংস আহারে অনুরক্ত হয়ে পড়েন এবং একেক দেশের মুসলমানরা একেক রকমের মসলা, চর্বি ও তেলসংযোগে গোমাংস রান্নায় বৈচিত্র্য আনেন। তুর্কি, মোগল, পারসিদের গোমাংস রান্নার প্রক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন ধরনের রসনা তৃপ্তির স্বাদ বিস্তার লাভ করেছে ভারতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। অল্পবয়সী গোশাবক মাংসে ব্রাহ্মণদের আসক্তির কারণে গাই-গরুর সংখ্যা কমতে থাকলে কৃষিতে সমস্যা দেখা দেয় এবং দুধেরও অভাব সৃষ্টি হয়। গরুর দুধের স্বল্পতায় শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা স্বাস্থ্য সংকটে পড়ে। চাষাবাদের ক্ষতি রোধ করার লক্ষ্যে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর ও আওরঙ্গজেব গোহত্যা সীমিত করেন, গোবধের আগে কাজীর অনুমতি নেওয়ার বিধানও চালু করেন। এতে বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীরা খুশি হলেও ব্রাহ্মণরা অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হন। তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনে বিঘ্নসৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলে প্রচারণা চালিয়ে ব্রাহ্মণরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্মরণযোগ্য যে, সম্রাট আকবরই প্রথম সতীদাহ প্রথা বন্ধের চেষ্টা করেছিলেন।

মুসলমানরা ভারতে গোহত্যা আরম্ভ করেননি, গোমাংস আহারের প্রচলনও করেননি। বরং মুসলমান শাসকরা গোহত্যা সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন কৃষিকাজের উন্নয়ন ও শিশুস্বাস্থ্য রক্ষার নিমিত্ত। ভারতে গোবধের সামাজিক আচার থেকে গোরক্ষার রাজনীতি প্রাচীন ভারতে গোহত্যা মহাপাপ দূরে থাকুক সাধারণ পাপ হিসেবে বিবেচনা হতো না। তবে ব্রাহ্মণের গরু চুরি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো, সামান্য শাস্তির বিধান ছিল। সম্রাট অশোকের আমলে (খ্রিস্টপূর্ব ২৬৮ থেকে ২৩২) মূলত বৌদ্ধধর্মের সুবিধার্থে ও হিন্দুধর্মের সঙ্গে দৃশ্যমান পার্থক্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সম্রাট অশোকসৃষ্ট ৮৪ হাজার স্তূপের মধ্যে মুষ্টিমেয় কয়েকটি স্তূপে গোবধ রোধের প্রস্তাব লিপিবদ্ধ রয়েছে।

মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের কাছে একাধিকবার পরাজিত মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি শিবাজী ভোঁসলে (১৬৩০-১৬৮০) বিজয়পুর গুহায় আত্মগোপন করেন। পরাজয়ের গ্লানিতে তার সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তিনি শঠতা ও ছলনার আশ্রয় নিয়ে নিজেকে ভগবানের পুনর্জীবনপ্রাপ্ত অবতার ঘোষণা দিয়ে হিন্দুদের উজ্জীবিত করেন এবং গোহত্যা নিষিদ্ধ করেন। এতে হিন্দুদের পাশাপাশি বৌদ্ধ ও জৈনরা খুশি হয় এবং তারা ভারত রক্ষার সংগ্রামে যুক্ত হয় অবতার ভগবান শিবাজীর নেতৃত্বে। রায়ঘর দুর্গে অবস্থানরত ছত্রপতি শিবাজী ভোঁসলের মৃত্যু হয় ৩ এপ্রিল, ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে রক্ত আমাশয়ে এবং পতন হয় মারাঠা রাজ্যের। তবে গোরক্ষা আন্দোলন নিঃশেষ হয় না। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিবাজি উৎসবে লিখলেন-

‘ধ্বজা করি উড়াইব বৈরাগীর উত্তরী বসন-দরিদ্রের বল,

এক ধর্মরাজ্য হবে এ ভারতে এ মহাবচন করিব সম্বল।

মারাঠির সঙ্গে আজি হে বাঙ্গালি, এক কণ্ঠে বলো জয়তু শিবাজি।’

১৮৭০ সাল থেকে পাঞ্জাবে গোরক্ষা রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়, দয়ানন্দ সারাভাস্তি ১৮৮২ সালে প্রথম গোরক্ষা সভা অনুষ্ঠান করেন যা ক্রমে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গায় পরিণত হয়। উত্তর-পশ্চিম ভারতের হাই কোর্ট ১৮৮৮ সালে গরু পবিত্র প্রাণী নয় বলে রায় দেওয়ার পরও আজমগড়ে ব্যাপক দাঙ্গা হয় ১৮৯৩ সালে এবং শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। অযোধ্যায় হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার পুনরাবৃত্তি ঘটে ১৯১২-১৩, ১৯১৭ সালে এবং সাম্প্রতিকালেও একাধিকবার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে গোমাংস ভক্ষণ করলেও স্বামী বিবেকানন্দ (১৮৬০-১৯০২) পরবর্তীতে ভারতে ফিরে গোরক্ষার প্রবক্তা হন।

গোরক্ষার স্রোতের বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে একমাত্র রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২-১৮৩৩) গোমাংস ভক্ষণের অধিকার নিশ্চিতকরণের জন্য ক্রমাগত ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন। আধুনিক যুগে রক্ষণশীলতা পরিহার করে নির্বিবাদে গোবরের জ্বালানি ও ঔষধি হিসেবে ব্যবহার এবং গোমাংস ভক্ষণের অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ হচ্ছে- Hindu Authorities in favor of slaying the cows and eating its flesh. রাজা রামমোহন রায় হিন্দুধর্মের বিভাজনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। ১৯১৫ সালে মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফিরে ভারতীয় রাজনীতিতে তার প্রবেশ সহজ করার লক্ষ্যে বেছে নেন গোরক্ষা আন্দোলন এবং প্রকাশ করলেন পবিত্র গাভীতথ্য। মহাত্মা গান্ধীর পবিত্র গাভীতথ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার খোরাক সৃষ্টি করে এবং গোরক্ষা আন্দোলন জোরদার হয়। গান্ধী লিখলেন, ‘মা এবং দুগ্ধদানকারী গাভী উভয় অতীব প্রয়োজনীয়। তবে গাভীর অবদান বেশি। সন্তান জন্মের প্রথম কয়েক বছর স্তন্যদান করেন এবং প্রত্যাশা করেন যে পরবর্তীতে সন্তানরা মাকে দেখাশোনা করবে, অসুস্থ হলে তার সেবাযত্ন করবে। গাভী কস্মিনকালে রোগাক্রান্ত হয়। মা মারা গেলে ব্যাপক অর্থব্যয় করে কবরস্থ বা শবদাহ করতে হয়। অপর পক্ষে মৃত গাভীর চামড়া থেকে শুরু করে প্রতিটি অঙ্গ আমাদের অর্থের জোগান দেয়।’ গান্ধীর বক্তব্যে ভর করে রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘ (আরএসএস), বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দল গোরক্ষা আবেদন তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করে। এ-জাতীয় প্রচারণার কারণে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলো গোহত্যা নিষিদ্ধ করে গোরক্ষার ধারা ভারতীয় সংবিধানে যুক্ত করার দাবিতে ১৯৬৬ সালে ভারতীয় পার্লামেন্টের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ করে। বজরং দল গোহত্যা নিষিদ্ধ করার জন্য ৩০ লাখ কর্মী সমাবেশ করে ২০০২ সালে। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী কেশুভাই প্যাটেল গোরক্ষার জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। গান্ধীবাদী আচার্য বিনোবা ভাবে ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে দীর্ঘমেয়াদি অনশন পালন করে প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইকে বাধ্য করেন গোহত্যা নিষিদ্ধ করে গোরক্ষা আইন প্রণয়নে।

নৃতত্ত্ববিদ অধ্যাপক মারবিন হ্যারিসের মতে, গান্ধীর গাভীতথ্য ছিল ব্রিটিশ ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগ্রামের বড় অস্ত্র। ‘গরু ঘিরে’ (Rallying round the Cow) রাজনীতির বিশদ বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা ভারতীয় ইতিহাসবিদ রণজিৎ গুহ। ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর হিন্দুদের গোমাংস আহারের রাজনীতির বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছেন The Untouchables : Who were they and why they Become Untouchables বইতে ১৯৪৮ সালে।

চলে গেলেন এমপি মঈন উদ্দীন খান বাদল

চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মঈন উদ্দীন খান বাদল ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজিউন।

আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে ভারতের বেঙ্গালুরুর নারায়ণ হৃদরোগ রিসার্চ ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি তিন ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তার ভাই মনির উদ্দীন খান।

তিনি জানান, গত ১৮ অক্টোবর থেকে ভারতে প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেবী শেঠির তত্ত্বাবধানে ছিলেন তিনি। চিকিৎসাধীন হার্টফেল করায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মরহুমের মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে আনা হবে বলে জানান মনির উদ্দীন।

এদিকে মঈন উদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দুই বছর আগে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন মইন উদ্দীন খান বাদল। হার্টেরও সমস্যা ছিল। দুই সপ্তাহ আগে নিয়মিত চেকআপের জন্য তাকে ভারতে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেয়া মঈন উদ্দীন খান বাদল বোয়ালখালী উপজেলা জাসদের সভাপতি ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসনে তিন বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের-(জাসদ) একাংশের কার্যকরী সভাপতি ছিলেন মইন উদ্দীন খান বাদল।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসন থেকে তিনি তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদে অনলবর্ষী বক্তা হিসেবে খ্যাতি রয়েছে তার।

ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা বাদল একাত্তরের রণাঙ্গনে জীবনবাজি রেখে লড়েছেন দেশমাতৃকার জন্য। বাঙালিদের ওপর আক্রমণের জন্য পাকিস্তান থেকে আনা অস্ত্র চট্টগ্রাম বন্দরে সোয়াত জাহাজ থেকে খালাসের সময় প্রতিরোধের অন্যতম নেতৃত্বদাতা ছিলেন এ বীর মুক্তিযোদ্ধা।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বাদল সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন। জাসদ, বাসদ হয়ে পুনরায় জাসদে আসেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল গঠনেও বাদলের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। সংসদেও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিল তার। প্রতিটি সংসদ অধিবেশনেই থাকতো তার সপ্রতিভ ক্ষুরধার বক্তব্য।

আন্দোলনকারীদের মাঝে জাবি ভিসি কেন জামাত-শিবির খুঁজছেন?

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন চলছে। এর এক পর্যায়ে মঙ্গলবার আন্দোলনকারীদের উপর হামলা হয় এবং এর পরপর বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আন্দোলনকারীরা অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এদিকে আন্দোলনকারীদের পেছনে জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশের ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্র শিবিরের মদদ আছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। খবর বিবিসি বাংলার

উপাচার্য ফারজানা ইসলাম প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের ব্যানারে আওয়ামী লীগ কিংবা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্যানেল থেকে উপাচার্য প্যানেলে নির্বাচিত হয়েছিলেন ২০১৪ সালে।

শিক্ষকদের ওই সংগঠনেরই যুগ্ম সম্পাদক ড: তারেক রেজা আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে সুপরিচিত।

ওই একই সংগঠনের নাজমুল হাসান তালুকদার ও আব্দুল জব্বার হাওলাদার দীর্ঘকাল ধরেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের মূল অংশ হিসেবে পরিচিত।

কিন্তু চলমান উপাচার্য অপসারণ আন্দোলনে তারাও রয়েছেন সামনের সারিতেই। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করলেও এখনো ক্যাম্পাস ও হল ছাড়েনি বহু শিক্ষার্থী।

আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কাজকর্ম বন্ধ করে দিয়েছে আন্দোলনরতরা।

যদিও উপাচার্য ফারজানা ইসলাম নিজে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফিরোজ উল হাসান বলেছেন এবারের আন্দোলনে জামায়াত শিবিরের তৎপরতা দেখতে পেয়েছেন তারা।

প্রক্টর বলেন, জামাত শিবির বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীল করছে। আরও অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ওইদিন ক্যাম্পাসে ব্রিফিং এ ভিসি দাবি করেন তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীদের পেছনে আছে জামায়াত শিবির।

যদিও ভিসির এক সময়ের ঘনিষ্ঠ ও ক্যাম্পাসে সাবেক ভিসি শরীফ এনামুল কবিরপন্থী ড: তারেক রেজা বুধবারই ভিসির পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পাসে সংহতি সমাবেশে অবস্থানকালেই ফোনে কথা বলেন বিবিসি বাংলার সাথে।

তিনি বলেন, ভিসি কাদের জামায়াত শিবির বলছেন? কয়েক দশক ধরে ছাত্র থাকাকালে ও পরবর্তীকালে শিক্ষক হয়ে যারা সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন ও দিচ্ছেন তারাই এখন দুর্নীতির কারণে ভিসির পদত্যাগ চাইছেন।

তিনি বলেন আনু মুহাম্মদ, মীর্জা তাসলিম সুলতানা, রায়হান রাইন, সাইদ ফেরদৌস ছাত্র জীবন থেকে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন।

আমরা অনেকেই জীবনভর বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িকতার জন্য লড়াই করছি। এখন শুধু পদ আঁকড়ে রাখার জন্য উনি (ভিসি) সবাইকে জামায়াত শিবির বলা শুরু করেছেন।

চলমান ভিসিবিরোধী আন্দোলনের শুরু থেকেই সক্রিয় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সুমাইয়া আরেফিন শিশির বলেন, যৌক্তিক আন্দোলন দেখলেই আওয়ামী লীগের একটি অংশ এই গীত গাইতে শুরু করে। যাকে তাকে জামায়াত শিবির বলে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করতে চায় তারা।

তিনি বলেন, বারো বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। বর্তমান ভিসি দায়িত্বে আছেন ২০১৪ সাল থেকে।

জামাত শিবির নির্মূল তারা এতোদিনেও করতে না পারলে সেই ব্যর্থতার জন্যই তাদের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া উচিত। কোনো আন্দোলন দানা বাঁধলেই একটি চক্র জামাত শিবির সুর তোলে। এটি দুর্নীতিবাজদের চক্র।

তিনি বলেন, লক্ষ্য করে দেখুন শিক্ষকরা কারা নেতৃত্বে। তাদের ও জাহাঙ্গীরনগরের ইতিহাস দেখুন। বরাবর সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলনে সোচ্চার তারা। এখন দুর্নীতিকে জায়েজ করতে এদেরকেও জামাত শিবির বলা শুরু করেছেন ভিসি ও তার সহযোগীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শারমিন সুলতানা লাকী বলছেন এটা এখন সারাদেশেই একটা স্টাইল হয়ে গেছে যে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই তাকে জামাত শিবির আখ্যা দিয়ে নিজেকে বাঁচানো বা কাউকে অন্যায়ভাবে বিপদে ফেলতেও এটা করছে ক্ষমতাসীনরা।

ভিসি আমাদের শিক্ষকদের জামাত শিবির বলা শুরু করেছেন কারণ ১৪শ কোটি টাকার মোহে তারা অন্ধ হয়ে গেছেন। ক্যাম্পাসের প্রতিটি বিন্দু আমাদের পরিচিত, আবার আমরাও ক্যাম্পাসে তেমন। ক্যাম্পাসের গাছ-প্রকৃতি নষ্ট করলে আমাদের রক্তক্ষরণ হয়। এই ন্যায্য আন্দোলনকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার নকশা থেকেই জামাত শিবির প্রচার শুরু করেছে, কিন্তু তাতে লাভ হবেনা।

অধ্যাপক শারমিন সুলতানার সাথে একমত শিক্ষার্থী রিদিতা তাহসিন অদিতি। তারা দুজনেই ভিসিবিরোধী সমাবেশে অংশ নিচ্ছিলেন।

তিনি বলছেন, তার বন্ধু যিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের, তার ওপরেও জামাত শিবির আখ্যা দিয়ে হামলা করা হয়েছে।

মুক্ত মনের কিছু চিন্তা করলেই আপনাকে জামাত শিবির আখ্যা দেয়াটা এখন একটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে এবং এটা করছে শাসক দলের সাথে জড়িতরা। এবারের আন্দোলন যৌক্তিক বলেই প্রশাসন এই অনৈতিক প্রচারণা শুরু করেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।

যদিও ভিসির দাবি তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরতদের পেছনে জামাত শিবিরই, তবে এর স্বপক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য তিনি উপস্থাপন করেননি।

সোমবারের ব্রিফিং এ তিনি বলেছেন আন্দোলনের পেছনে জামাতের উপস্থিতির প্রমাণ তার কাছে আছে ও তিনি তদন্ত করে বিচার করবেন।

তবে ভিসিপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত কয়েকজনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি।

প্রসঙ্গত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে প্রায় তিন মাস আন্দোলন করছে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

সোমবার থেকে তারা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলো। কিন্তু মঙ্গলবার ছাত্রলীগ ও ভিসিপন্থী কয়েকজন শিক্ষক তাদের ওপর হামলা করে তাদের সরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ আসে।

যদিও ভিসি ছাত্রলীগের প্রশংসা করে বলেছেন তারা সঠিক দায়িত্ব পালন করেছে, হামলা করেনি।

এ সময় তিনি আন্দোলনের পেছনে জামাত শিবির আছে বলে দাবি করেন।

নামসর্বস্ব সংগঠনগুলো কি আওয়ামী লীগের গলার কাঁটা?

ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র মোতাবেক দলটির সহযোগী সংগঠনের সংখ্যা মোট সাতটি। আর দুটি সংগঠনকে দলীয় ব্যানারে রাখলেও গঠনতন্ত্রে এদের জায়গা নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো এসব সংগঠনের বাইরে অসংখ্য সংগঠন আওয়ামী বা লীগ শব্দ যুক্ত করে নানা সংগঠন তৈরি করেছে গত এক দশকে।

আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন গুলো হলো আওয়ামী মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুব লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, তাঁতী লীগ ও যুব মহিলা লীগ। খবর বিবিসি বাংলার

এর বাইরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও জাতীয় শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক নেত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। কিন্তু আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র বলছে, এ দুটি সংগঠন তাদের স্ব স্ব সংগঠনের গঠনতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত হবে।

দল বিভিন্ন পর্যায়ের কিছু নেতা মূলত পেছন থেকে এসব সংগঠন তৈরি করেন নিজেদের প্রচারের স্বার্থে।

২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে এমন কয়েকটি সংগঠনের কার্যকলাপ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার জের ধরে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এক সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে দলটির ছয় সহযোগী সংগঠন ছাড়া কেউ নামের সাথে লীগ শব্দটি যোগ করতে পারবেনা।

সর্বশেষ গত মাসের প্রথম সপ্তাহে তাঁতী লীগের এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নাম বা ছবি ব্যবহার করে কেনো রাজনৈতিক দোকান খেলা যাবেনা।

এর কারণ হলো আওয়ামী লীগ থেকে বারবার শক্ত ব্যবস্থার কথা বলা হলেও আওয়ামী, বঙ্গবন্ধু, জননেত্রী, কিংবা লীগ শব্দ ব্যবহার করে সংগঠনের সংখ্যা খুব বেশি কমানো যায়নি।

এ ধরণেরই একটি সংগঠন জননেত্রী পরিষদ। মাঝে মধ্যেই নানা ইস্যুতে আলোচনা সভা করতে দেখা যায় তাদের এবং এসব অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির নেতারা যোগও দেন।

কিন্তু শেখ হাসিনার নামের আগে ব্যবহৃত শব্দ দিয়ে সংগঠন খোলার জন্য আওয়ামী লীগ থেকে অনুমোদন নেয়া হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাব মেলেনি সংগঠনটির নেতা মনির খানের কাছ থেকে।

এ সংগঠনের কার্যক্রম চলমান কি-না জিজ্ঞেস করলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, থাকবেনা কেন?

কিন্তু আওয়ামী লীগের কোনো অনুমতি তাদের আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি পরে কল দিবেন বলে ফোন কেটে দেন।

তবে আওয়ামী উদ্যোক্তা লীগের প্রধান সমন্বয়কারী জসীমউদ্দিন রুমান বলছেন তারা এই সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন।

তিনি বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের দফতর বরাবর চিঠি দিয়ে কোনো সাড়া পাইনি। তাছাড়া সংগঠনটি খোলার পর সিনিয়ররা বকাবকি করেছেন। তাই বন্ধ করে দিয়েছি।

তিনি বলেন আরও অনেক সংগঠনের দেখাদেখি তারা উদ্যোক্তা লীগ খুলেছিলেন কিন্তু পরে বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

জসীমউদ্দিন রুমান আরো বলেন, অনেকেই অনেক ধরণের সংগঠন করেছে। তাই আমরাও ভেবেছিলাম আর কি। সিনিয়ররা বকা দিলো। এখন যদি জিজ্ঞেস করেন, সেই সিনিয়র কারা? সেটা আমি বলতে পারবোনা।

তবে ২/৩ বছর আগেও আওয়ামী লীগের নাম যুক্ত করে নাম রাখা কয়েকটি সংগঠন বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।

এমন কয়েকটি হলো আওয়ামী অভিভাবক লীগ, আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, শিশু কিশোর লীগ।

দলীয় স্বীকৃতি না থাকলেও নাম সর্বস্ব এসব সংগঠনের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক তদবিরের অভিযোগ উঠে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলছেন, জাতির পিতা বা পরিবারের সদস্যদের নামে সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান করার সুনির্দিষ্ট বিধান আছে। এর বাইরে কেউ কিছু করলে সেটি বেআইনি হবে।

জাতির পিতা বা জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা এমন কোন জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের জন্য বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক । তাদের অনুমোদন ছাড়া নাম ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। কেউ এমন কিছু করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা আছে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও।

বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, এছাড়া আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নামগুলো দেয়া আছে।

তবে এর বাইরেও বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের মতো কিছু সংগঠন ৭৫ এরপর বৈরি পরিবেশে তখনকার রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রচার করেছে। গঠনতন্ত্রে না থাকলেও আমরা তাদের রাজনৈতিকভাবে স্বীকৃতি দেই।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী অবশ্য স্বীকার করেন যে এসবের বাইরেও গত দশ বছরে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার সুযোগে বেশ কিছু ভুঁইফোড় ও প্যাডসর্বস্ব সংগঠন গজে উঠেছে।

এদের নানা সময়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলা হয়েছে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ যেনো অন্যায় কিছু না করতে পারে।

কিন্তু এতো হুঁশিয়ারি ও সতর্কতা সত্ত্বেও নিত্য নতুন গড়ে উঠছে নানা সংগঠন।

বিভিন্ন উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন জায়গা নিয়মিতই যাদের ব্যানার পোস্টার দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে:

মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, জাতীয় শিশু কিশোর লীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী তৃণমূল লীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী সোনার বাংলা লীগ, আওয়ামী হকার্স লীগ, আওয়ামী বাস্তুহারা কল্যাণ সমিতি, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, আওয়ামী সমবায় লীগ, আওয়ামী শিশু লীগ, আওয়ামী প্রচার লীগ, আওয়ামী তৃণমূল লীগ, আওয়ামী ছিন্নমূল হকার্স লীগ, মোটর চালক লীগ, আওয়ামী তরুণ লীগ, আওয়ামী রিকশা মালিক শ্রমিক ঐক্য লীগ, আওয়ামী পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী নৌকার মাঝি লীগ, আওয়ামী ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী লীগ, আওয়ামী যুব সাংস্কৃতিক জোট, আওয়ামী পর্যটন লীগ, বঙ্গবন্ধু বাস্তুহারা লীগ, বঙ্গবন্ধু আদর্শ পরিষদ, বাংলাদেশ আওয়ামী অনলাইন লীগ, বিশ্ব আওয়ামী অনলাইন লীগ, বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ, জননেত্রী পরিষদ, দেশরত্ন পরিষদ, নৌকার সমর্থক গোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, আওয়ামী হকার্স ফেডারেশন, আওয়ামী তৃণমূল লীগ, আওয়ামী যুব হকার্স লীগ, বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা বাস্তবায়ন পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ, আওয়ামী নৌকার মাঝি শ্রমিক লীগ, ডিজিটাল আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, মুক্তিযোদ্ধা তরুণ লীগ, বঙ্গবন্ধু গ্রাম ডাক্তার পরিষদ, জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় লীগ, আমরা মুজিব হবো, জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় সংসদ, আওয়ামী ছিন্নমূল হকার্স লীগ, আওয়ামী তরুণ লীগ, ডিজিটাল আওয়ামী ওলামা লীগ, আওয়ামী রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য লীগ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী লীগ, আওয়ামী পর্যটন লীগ, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা পরিষদ, তৃণমূল লীগ, চেতনায় মুজিব, দেশীয় চিকিৎসক লীগ, ছিন্নমূল মৎস্যজীবী লীগ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লীগ, নৌকার নতুন প্রজন্ম, ডিজিটাল ছাত্রলীগ, ২১ আগস্টের ঘাতক নির্মূল কমিটি, সজীব ওয়াজেদ জয় পরিষদ, বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরিষদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্মচারী লীগ, দেশীয় চিকিৎসক লীগ, নৌকার মাঝি শ্রমিক লীগ, ঘাট শ্রমিক লীগ, আমরা নৌকা প্রজন্ম, নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী, নৌকার নতুন প্রজন্ম, ডিজিটাল ছাত্রলীগ, ডিজিটাল বাংলাদেশের মতো বাহারি নামের নানা সংগঠন।

সম্প্রতি নানা অভিযোগে অনেকটা নজিরবিহীনভাবেই ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতাকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

ক্যাসিনো অভিযানের পর গ্রেফতার হয়েছেন যুবলীগের মধ্যম পর্যায়ের কয়েকজন নেতা এবং দায়িত্ব থেকে বাদ দেয়া হয়েছে সংগঠনটির চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে।

এমন পরিস্থিতিতে নামসর্বস্ব সংগঠনগুলোকে নিয়ে কোনো উদ্বেগ আছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলছেন এসব ভুঁইফোড় সংগঠন একটা ব্যাধির মতো অবস্থা তৈরি করেছে।

উদ্বেগের কিছু নেই। তবে ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করলে ফায়দা লোটা যায় এমন অনৈতিক চিন্তা থেকেই এসব সংগঠন তৈরি হয়। আমরা আবারো সিদ্ধান্ত নিয়েছি এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার।

তিনি বলেন এর আগে দুবার আওয়ামী লীগের তরফ থেকে পুলিশকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছিলো আটটি সংগঠনের বাইরে আওয়ামী লীগের আরও কোনো সহযোগী সংগঠন নেই এবং তখন পুলিশ কিছু ব্যবস্থাও নিয়েছিলো।

এখন আবার এগুলো মাথাচাড়া দিচ্ছে। কিন্তু যথাযথ ব্যবস্থাই আমরা নেবো এদের বিরুদ্ধে।

সাদেক হোসেন খোকা: মুক্তিযোদ্ধা থেকে জননেতা

রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা থেকে অবিভক্ত ঢাকার সফল মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। টানা এক দশকেরও বেশি সময় ঢাকার নগরপিতা ছিলেন তিনি। ঢাকার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সফল মেয়র বলা হয়ে থাকে তাকে।

শুধু মেয়রই নন, মন্ত্রিত্বও করেছেন খোকা। দুই দুবার মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন তিনি। সেখানেও সফল বিএনপির এ অন্যতম নেতা।

সাদেক হোসেন খোকার উত্থানটা অনেকটাই ইতিহাস। রাজনীতির বাঁকে বাঁকে পথ চলেছেন। একসময়কার দাপুটে বাম রাজনীতিক খোকা একপর্যায়ে তরী ভেড়ান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে। বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি ছিলেন দীর্ঘদিন। আমৃত্যু তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছিলেন।

খোকা মানুষকে নিয়েই রাজনীতি করেছেন। জনপ্রতিনিধিত্ব করেছেন দীর্ঘ সময়। এমপি-মন্ত্রী-মেয়র পদে থেকে ঢাকার মানুষের হৃদয় জয় করেছেন খোকা।

সাদেক হোসেন খোকা একজন দক্ষ সংগঠকও ছিলেন। রাজপথের আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্র সেনানী। সরকারবিরোধী আন্দোলনে বারবার মার খেয়েছেন। গুলি খেয়েছেন একাধিকবার। তার রক্তে রাজপথ হয়েছে রঞ্জিত। মৃত্যুঞ্জয়ী খোকা শেষ পর্যন্ত হার মেনেছেন ক্যান্সারের কাছে।

আজ বাংলাদেশ সময় বেলা ১টা ৫০ মিনিটে নিউইয়র্কে মারা গেছেন খোকা। বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাদেক হোসেন খোকা দীর্ঘদিন ধরে কিডনির ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

শায়রুল কবির খান বলেন, সাদেক হোসেন খোকা নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে স্লোসেন ক্যাটারিং ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সাদেক হোসেন খোকার লাশ দেশে আনা হবে কিনা, এটি জানতে চাইলে শায়রুল কবির বলেন, এ ব্যাপারে দলীয় নেতৃবৃন্দ আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

সাদেক হোসেন খোকা ১৯৫২ সালের ১২ মে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার সময় বাম রাজনীতিতে সক্রিয় হন খোকা। পরে বামপন্থী রাজনীতি ছেড়ে আশির দশকে বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন।

১৯৯০ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙা কেন্দ্র করে পুরান ঢাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার চেষ্টা হলেও তা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর পাহারা দিয়ে সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করেন। এতে খোকা পুরান ঢাকাবাসীর আস্থা অর্জন করেন।

১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন (সূত্রাপুর-কোতোয়ালি) থেকে বিএনপির মনোনয়নে জয়ী হন খোকা। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দেন খোকা। এর পর তাকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ঢাকার আটটি আসনের মধ্যে সাতটিতে বিএনপি প্রার্থী পরাজিত হলেও একমাত্র খোকা নির্বাচিত হন।

২০০১ সালের নির্বাচনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মৎস্য ও পশুসম্পদমন্ত্রী হন। পরে তাকে ঢাকার মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়া হয়। তিনি বিপুল ভোটে অবিভক্ত ঢাকার মেয়র নির্বাচিত হন। ২৯ নভেম্বর ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে ঢাকা মহানগরের মেয়র ছিলেন তিনি।

রাজনীতিবিদ খোকা প্রথমে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য বিরোধী দল কঠোর আন্দোলন শুরু করলে ঢাকায় বিএনপি কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় খোকাকে ১৯৯৬ সালে মহানগর বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়। ওই সময় পুরান ঢাকায় বিএনপির রাজনীতিতে নিজস্ব বলয় তৈরির পাশাপাশি প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে দলকে শক্তিশালী করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল খোকার।

২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। পাশাপাশি খোকাকে সভাপতি ও আবদুস সালামকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়।

ওয়ান-ইলেভেনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে দলে যে সংস্কারের দাবি উঠেছিল, তার প্রতি সাদেক হোসেন খোকার সমর্থন ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে খোকা সেই অভিযোগ অস্বীকার করতেন।

বিএনপির সবশেষ কমিটিতে খোকাকে ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়।

২০১৪ সালের ১৪ মে সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। এর পর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ সময়কালে দেশে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতি মামলা হয়। এর কয়েকটিতে তাকে সাজাও দেয়া হয়েছে।

সাদেক হোসেন খোকা ১৯৫২ সালের ১২ মে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

১৯৯১ সালে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং তিনি তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০২ সালে তিনি ঢাকার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তিনি ছিলেন অবিভক্ত ঢাকার শেষ নির্বাচিত মেয়র।

২০০৮ সালে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একটি মামলা করে দুদক।

এরপর ২০১২ সালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন সাদেক হোসেন খোকা।

পরের বছর ২০১৫ সালে দুর্নীতির মামলায় তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেয় ঢাকার একটি আদালত।

সর্বশেষ সাদেক হোসেন খোকার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলেও সরকার তা নবায়ন করেনি।

কিডনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১৪ সালের মে মাসে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান সাদেক হোসেন খোকা।

তারপর থেকে সাড়ে পাঁচ বছর ধরে ছিলেন নিউইয়র্ক সিটির ইস্ট এলমহার্স্ট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায়। সার্বক্ষণিক তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ইসমত হোসেন।

আজ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকা।

বীর মুক্তিযোদ্ধার আকুতি পুরো জাতিকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে : কাদের

বিএনপি নেতা ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম।

সোমবার (০৪ নভেম্বর) কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম-সম্পাদক প্রিন্সিপাল ইকবাল সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাতায় শোক জানান তিনি।

শোকবার্তায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ ভূমিকার জন্য সাদেক হোসেন খোকা বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক জনগণের কাছে সব সময়ই স্মরণীয় ও বরণীয়। জীবনসায়াহ্নে তার মতো একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মাতৃভূমিতে অবস্থানের আকুতি পুরো জাতিকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

বিএনপি নেতা ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম।

সোমবার (০৪ নভেম্বর) কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম-সম্পাদক প্রিন্সিপাল ইকবাল সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাতায় শোক জানান তিনি।

শোকবার্তায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ ভূমিকার জন্য সাদেক হোসেন খোকা বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক জনগণের কাছে সব সময়ই স্মরণীয় ও বরণীয়। জীবনসায়াহ্নে তার মতো একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মাতৃভূমিতে অবস্থানের আকুতি পুরো জাতিকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

তিনি সাদেক হোসেন খোকার মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া শোক প্রকাশ করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বীরপ্রতীকও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় সোমবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে (নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় রাত ২টা ৫০ মিনিটে) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

কবার্তায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ ভূমিকার জন্য সাদেক হোসেন খোকা বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক জনগণের কাছে সব সময়ই স্মরণীয় ও বরণীয়। জীবনসায়াহ্নে তার মতো একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মাতৃভূমিতে অবস্থানের আকুতি পুরো জাতিকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

তিনি সাদেক হোসেন খোকার মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া শোক প্রকাশ করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বীরপ্রতীকও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় সোমবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে (নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় রাত ২টা ৫০ মিনিটে) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

মহানগর বিএনপি’র সালেহ্ উদ্দীন বেবীর কবর জিয়ারত

রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সালেহ্ উদ্দীন বেবীর কবর জিয়ারত করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ। গতকাল বিকেলে নগরী মহিষবাথান গোরস্থানে কবর জিয়ারতের সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য জননেতা মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।


এছাড়াও রাজপাড়া থানা বিএনপি’র সভাপতি শওকত আলী, ৬নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি গোলাম নবী গোলাপ, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি বজলুর রহমান কচি, মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, সাধারণ সম্পাাদক মাহফুজুর রহমান রিটন ও জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম জনিসহ মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ সালেহ্ উদ্দীন বেবীর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন।
উল্লেখ্য সালেহ্ উদ্দীন বেবী একাধারে কথাশিল্পি, গীতিকার, নাট্যকার, লেখক, কলামিষ্ট ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন। গতকাল ছিল তাঁর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী।

আ.লীগের হাইব্রিড নেতার তালিকায় ৫ হাজার নেতার নাম

কেন্দ্রীয় নেতাদের হাতে ৫ হাজার অনুপ্রবেশকারীর তালিকা ধরিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর অনেকেই আওয়ামী লীগের জেলা-মহানগর, উপজেলা-থানা, ইউনিয়ন কমিটির পদ-পদবিতে আছেন।

আবার কেউ দলের কেন্দ্রীয় নেতা, স্থানীয় এমপি-মন্ত্রী ও প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় ‘মোটাতাজা’ হচ্ছেন। এ তালিকা দেখে খোদ দলের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্যের চোখ ছানাবড়া।

শুরু হয়েছে দলের ভিতরে-বাইরে তোলপাড়। শুক্রবার শুরু হবে এদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন। সম্পাদকমন্ডলীর সভায় এ তালিকা ধরে ব্যবস্থা নিতে জেলায় জেলায় চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

সূত্র জানান, বিভিন্ন দল থেকে হাইব্রিডরা আওয়ামী লীগে ভিড়তে শুরু করে ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পরপরই। প্রথম দিকে এ হার খুব কম ছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর অনুপ্রবেশ আশঙ্কাজনকহারে বাড়তে থাকে।

২০১৩, ’১৪ ও ’১৫ সালের আগুনসন্ত্রাস, পেট্রোলবোমায় মানুষ হ’ত্যাসহ আন্দোলনের নামে স’হিংসতার সঙ্গে জ’ড়িত বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে অনেকেই জেলা-উপজেলা, ইউনিয়নের পদ-পদবি পেয়ে যান।

২০১৬ এমনকি ২০১৭ সালেও বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মী কেন্দ্রীয় নেতা, এমপি-মন্ত্রীদের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। নানা অঘটনের সঙ্গে জ’ড়িত থাকার পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ বি’রোধও বাড়াতে থাকেন তারা।

বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের পে’টানো, হা’মলা-মামলা করে ঘরছাড়া করার ঘটনাও ঘটে। এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রবেশকারী স’ন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের বি’রুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিএনপি-জামায়াত থেকে কাউকে দলে নিতে নি’ষেধও করেন। এর পরও থেমে থাকেনি বিএনপি-জামায়াতের একশ্রেণির নেতা-কর্মীর আওয়ামী লীগে যোগদান।

সে কারণে এবার দলীয় প্রধান নিজ উদ্যোগেই তালিকা তৈরি করেছেন অনুপ্রবেশকারীদের। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের।

সূত্রমতে, গত ৫ এপ্রিল আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীর তালিকা করার নির্দেশ দেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দেন নব্য লীগারদের খুঁজে বের করতে। এর এক মাস পর আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনিসহ কয়েকজন নারী নেত্রীকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর মূলত বিএনপি ও জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী, চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী, অ’পরাধী এবং সমাজবিরোধী কর্মকান্ডে র সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

কয়েক মাস ধরে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে ৫ হাজার অনুপ্রবেশকারীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। নব্য লীগার বা অনুপ্রবেশকারীদের বি’রুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ৫ হাজার জনের তালিকা গত বুধবার দলের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপের হাতে দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ তালিকা ফটোকপি করে বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের হাতে তুলে দিতে নির্দেশ দেন দলীয় সভানেত্রী। বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সম্পাদকম লীর বৈঠকে প্রথমে তালিকাটি উপস্থাপন করেন দলের দফতর সম্পাদক।

সন্ধ্যায় ফটোকপি করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েক নেতার হাতে তালিকা তুলে দেন তিনি। অনুপ্রবেশকারীদের যোগদানকারী, আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে অনেক কেন্দ্রীয় নেতা, বর্তমান ও সাবেক বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, এমপি, স্থানীয় শীর্ষ নেতার নাম রয়েছে।

এ তালিকা দেখে চোখ ছানাবড়া হয়েছে খোদ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের। সম্পাদকম লীর বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীর একটি তালিকা নেত্রী (শেখ হাসিনা) বিভিন্ন সংস্থাকে দিয়ে তৈরি করিয়েছেন।

সে তালিকা তিনি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন। ব্যবস্থা নিতে আমরা জেলায় জেলায় তালিকা পাঠিয়ে দিচ্ছি। এখন থেকেই যদি কেউ পদ-পদবিতে থাকেন তাদের বের করে দেওয়া হবে। আগামীতে তারা কোনো সম্মেলনে অংশ নিতে পারবেন না।’

সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের একটি তালিকা দিয়েছেন। সে তালিকা অনুযায়ী আমরা কাজ শুরু করব।

যাদের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ আছে তারা দলীয় পদ-পদবিতে থাকতে পারবেন না। আগামীতেও কেউ আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠনের পদে আসতে পারবেন না।’ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দায়িত্বে থাকা যুগ্মসাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ও দলীয় সভানেত্রীর নিজস্ব টিমের মাধ্যমে দলে অনুপ্রবেশকারীর তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

সে তালিকা আমাদের হাতে। এখন আর কথা নয়, অ্যাকশন শুরু করব।’ কতজনের তালিকা- জানতে চাইলে নানক বলেন, ‘৫ হাজার জনের মতো হবে।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে সম্পাদকম লীর একাধিক সদস্য জানান, ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের পর অনেক এমপি, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা নিজস্ব বলয় ভারী করতে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির নেতাদের দলে টেনেছেন।

আবার অনেকেই নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য বহাল তবিয়তে রাখতে আদর্শ বদল করেছেন। অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে কারা আছেন তাদের নামও তালিকায় দেওয়া হয়েছে।

রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমরা অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অলরেডি ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছি। কয়েকদিন আগে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় একটি ওয়ার্ডের সভাপতির ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে ব’হিষ্কার করা হয়েছে।’

বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘আসছে ২০-২১ ডিসেম্বর সম্মেলনের আগেই অনুপ্রবেশকারীদের বি’রুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তাদের দলের পদ-পদবিতে রাখা হবে না। একই সঙ্গে তারা আগামীতে কেন্দ্রীয় সম্মেলনসহ সহযোগী সংগঠন ও স্থানীয় জেলা-উপজেলা কোনো সম্মেলনেই অংশ নিতে পারবেন না।’

রাজশাহী বিভাগীয় জাতীয়তাবদী দলের পরিকল্পনা সভা

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আয়োজনে এবং ইউএসএআইডি ও ইউকে এর আয়োজনে আজ বুধবার রাজশাহী বিভাগীয় জাতীয়তাবাদী দলের বিভাগীয় পরিকল্পনা অনুষ্ঠিত হয়।


নগরীর সাহেব বাজারস্থ একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজতি সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য জননেতা মিজানুর রহমান মিনু।


বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রয়ি কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও রাসিক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সহিদুন্নাহার কাজী হেনা ও নওগাঁর সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রায়হানা আখতার রনি।


এছাড়াও রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউল হক রানা, নওগাঁ জেলা বিএনপি’র আহবায়ক হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম ধলু, জয়পুরহাট জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজার আফসানা বেবী ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার অনিন্দ রহমানসহ বিভিন্ন জেলা ও মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় দলীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেইসাথে একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।


প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল তাদের দলের কথাগুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরছে। এতে করে তাদের দাবী -দাওয়া ও চাহিদাগুলো যেমন সরকার বুঝতে পারছে তেমনি দলের হাইকমাÐও অনুভব করতে পারছে। গণতন্ত্র পুণরুদ্ধার এবং বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দদের রাজপথে আন্দোলনের আহবান জানান মিনু।

দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব সমন্বিত প্রচেষ্টায় : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ একটি দেশ। জনসংখ্যার আধিক্য ও ঘনবসতি দেশটিকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগে এদেশে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবে নিয়মতান্ত্রিক ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব।


তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের মধ্যে যথাযথ সমন্বয়ের জন্য দরকার পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও মহড়া। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রয়োজনের সময় দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারবে।


বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ‘এল ব্লক’ এর উন্মুক্ত স্থানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ভূমিকম্প) অনুশীলনে মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও মহড়া Disaster Respose Exercise and Exchange (DREE)-এ প্রধান অতিথির ভাষণে মন্ত্রী একথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: মো: এনামুর রহমান।


দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং US Army  Pacific (USARPAC) এর যৌথ উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণ ও মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ২৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এ মহড়া চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ।


দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার লক্ষ্যে প্রণিত পরিকল্পনার মাঠপর্যায়ে অনুশীলন ও নিরক্ষণের নিমিত্তে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর  ১৪ স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ বছর Field Training Exercise (FTX) অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুশীলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি/বেসরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা, এনজিও, স্বেচ্ছাসেবক, আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ সর্বমোট ৫৫টি সংস্থার ৬৮০ জন সদস্য অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়াও ৩৬টি দেশের প্রায় ১০০ জন অসামরিক/সামরিক প্রতিনিধি পরিদর্শক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।   DREE 2019  উপলক্ষ্যে আয়োজিত FTX এর প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা ছিলেন ১৪ স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ার বিগ্রেড এর কামান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ, কে, এম, রেজাউল মজিদ।

পাপিয়ার হুঙ্কারে জামিন হলো এমপি হারুনের

শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি সুবিধা নিয়ে পরে তা বিক্রি করে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে দুদকের করা মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদ।

সে মামলায় গত ২১ অক্টোবর এমপি হারুনকে পাঁচ বছরের দণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান আদালত।

এরপর সেদিনই এমপি হারুনের স্ত্রী ও বিএনপির সাবেক এমপি আসিফা আশরাফি পাপিয়া হুঙ্কার দেন, ১০ দিনের মধ্যে দুর্নীতির মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তার স্বামী এমপি হারুনের জামিন হয়ে যাবে।

অতঃপর পাপিয়ার সেই হুঙ্কারই সত্য হলো। ১০দিনের আগেই জামিন পেয়েছেন এমপি হারুন।

দূর্নীতির মামলায় দণ্ডিত বিএনপির নেতা হারুণ অর রশীদকে আদালত ৬ মাসের জামিন দিয়েছেন। জামিন দেয়ার পাশাপাশি তার জরিমানাও স্থগিত করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের বেঞ্চ এই রায় দেন।

এর আগে সোমবার সকালে এমপি হারুন তার দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন ও জামিন চান।

গত ২১ অক্টোবর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এমপি হারুনকে ৫ বছরের দণ্ড দেন। পাশাপাশি তাকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ওইদিনই তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

এই মামলায় পলাতক আসামি চ্যানেল নাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এনায়েতুর রহমান বাপ্পিকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এ ছাড়া অপর পলাতক আসামি গাড়ি ব্যবসায়ী স্কাই অটোসের মালিক ইশতিয়াক সাদেককে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

আদালত সূত্র জানায়, সংসদ সদস্য থাকাবস্থায় (এমপি কোটায়) ২০০৫ সালের ১৯ এপ্রিল শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করেন হারুন অর রশীদ। এর এক সপ্তাহ পরেই গাড়িটি তিনি স্কাই অটোসের মালিক ইশতিয়াক সাদেকের মাধ্যমে ক্রেতা মো. এনায়েতুর রহমানের কাছে বিক্রি করেন। গাড়িটির ইনভয়েস মূল্য ১১ লাখ ৬৪ হাজার ১১০ টাকা।

এ ঘটনায় হারুন অর রশীদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা হয় ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ। মামলার বাদী হলেন পুলিশের উপপরিদর্শক ইউনুস আলী। মামলাটি তদন্ত করে হারুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ওই বছরের ১৮ জুলাই আদালতে চার্জশিট দেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোনায়েম হোসেন। আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে হারুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট বিচার শুরু করেন আদালত।

হারুন অর রশীদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এমপি। তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব। একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

হারুন অর রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সংসদে জোরালো বক্তব্য রেখে আসছিলেন। গত ১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে দেখে এসে তার মুক্তির দাবি জানান। পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গেও বৈঠক করেন এমপি হারুন। খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তির বিষয়ে সরকারকে নমনীয় হতে ওবায়দুল কাদেরকে অনুরোধ করেন তিনি। পরে এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

বোর্ড সভায় না যাওয়া দক্ষিণ সিটির ২১ কাউন্সিলরকে শোকজ

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিজের এলাকার নানা অসুবিধার বিষয় উত্থাপন করে তার প্রতিকার চাওয়া এবং সামগ্রিক সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপুর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে অনুষ্ঠিত হয় বোর্ড সভা। আর এই বোর্ড সভাতে যোগ দিতে অনীহা সিটি কর্পোরশনের কাউন্সিলরদের।

আর এই পরিস্থিতিতে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন কাজে গতি আনার জন্য বোর্ডসভাকে আরো কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকারের এই শীর্ষ প্রতিষ্ঠানটি। উদ্যোগ নিয়েছে কাউন্সিলরদের বোর্ডসভায় আনার। না আসলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে।

আর সেই উদ্যোগে এবার পরপর তিনটিসহ বেশক’টি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থাকা ১৯ কাউন্সিলরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

৭ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন-২০০৯ এর ধারা-১৩ এর উপধারা-১ (মেয়র ও কাউন্সিলর অপসারণ) এ বলা হয়েছে, মেয়র এবং কাউন্সিলর নিজ পদ হতে অপসারণ যোগ্য হবেন, যদি তিনি- যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন।

সেই হিসেবে বোর্ডে অনুপস্থিতির যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখাতে না পারলে ডিএসসিসি মেয়র স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করলে, সংশ্লিষ্টরা বরখাস্ত হতে পারেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, কাউন্সিলরদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন থেকে জানালে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুনগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শোকজ পাওয়া কাউন্সিলরদের মধ্যে রয়েছেন, ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মাকসুদ হোসেন মহসিন (৯টি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত), ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. গোলাম হোসেন (৬টি), ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আশ্রাফুজ্জামান (১০টি), ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আবদুল বাসিত খান (৫ সভা), ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল গোলাম আশরাফ তালুকদার (১২টি), ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তফা জামান পপি (১২টি), ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন (৯ সভা), ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জসীম উদ্দিন আহমেদ (৮টি), ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তারিকুল ইসলাম সজীব (১১ সভা), ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আনোয়ার পারভেজ বাদল (৮টি), ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হাসান পিল্লু (১৪ সভা), ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম রাসেল (৮টি), ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. বিল্লাল শাহ (১১টি), ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আউয়াল হোসেন (৪টি), ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জু (১৫ সভা), ৪০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মকবুল ইসলাম খান টিপু (৬ সভা), ৪১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেন আলো (৬ সভা), ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আরিফ হোসেন (৯টি), ৫২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ নাছিম মিয়া (৫টি) এবং সংরক্ষিত ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাশিদা পারভীন মণি (১২টি) ও সংরক্ষিত ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শিউলী হোসেন (৯টি সভায় অনুপস্থিত)।

যুবদলের ইতিহাস ১৬ কোটি মানুষের উন্নয়নের ইতিহাস : মিনু

বাংলাদেশ জাতীয়বাদী যুবদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রোববার নগরীর মালোপাড়াস্থ বিএনপি কার্যালয়ের সামনে রাজশাহী মহানগর ও জেলা যুবদলের যৌথ আয়োজনে যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা অন্যতম উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য জননেতা মিজানুর রহমান মিনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল,বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনবার্সন বিষয়ক সহ-সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপি’র আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সহিদুন্নাহার কাজী হেনা, জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার, বোয়ালিয়া থানা বিএনপি’র সভাপতি সাইদুল রহমান পিন্টু, মতিহার থানা বিএনপি’র সভাপতি আনসার আলী, মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি ইশারুদ্দিন এশা ও জেলা যুবদলের সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানী সুমন। সমাবেশ পরিচালনা করেন মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন ও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম সমাপ্ত।


অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিব সম্পাদক আসলাম সরকার, জেলা বএিনপি’র সদস্য সৈয়দ মহসিন আলী, মিজানুর রহমান মিজান, রায়হানুল হক রায়হান, জাহান পান্না, মতিহার থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হক ডিকেন, মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন বাবু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাকির হোসেন রিমন, সাধারণ সম্পাদক আবেদুর রেজা রিপন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউজ্জমান পরাগ, মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি মাইনুল হক হারু, মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বাবল,ু জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সুলতান আহম্মেদ, মোজাফ্ফর হোসেন মুকুল, মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান টিটো ও জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী ভুট্টো, জেরা মহিলা দলের সভাপতি রোকসানা বেগম টুকটুকি, মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম আহবায়ক গুলশান আরা মমতা, সামসুন্নাহার, জরিনা।


এছাড়াও মহানগর ছাত্র দলের সভাপতি আসাদুজ্জামান জনি, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রবি ও জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম জনি, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী জ্যাকি, নাহিন আহম্মেদ, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম কুসুমসহ মহানগর, থানা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের যুবদল, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিনু বলেন, যুবলীগ দেশকে ধ্বংস করার জন্য কাজ করে, আর যুবদল দেশকে উন্নয়ন করার কথা ভাবে। দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা ও যুবদলের সমাজকে ধ্বংসের হাত রক্ষা কতে ১৯৭৮ সালে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যুবদল গঠন করেন। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দুর্নীতিবাজ এই আওয়ামী লীগ সরকার খুন, গুম লুট, রাহাজানি করে দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে।


বর্তমানে এই সরকারের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী দেশের টাকা লুট করে, শেয়ার বাজার ধ্বংস করে দেশকে ভারতে হাতে তুলে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। এছাড়াও দেশকে যুবলীগের কুলাঙ্গারগণ জুয়াড় আসরে পরিণত করেছে। ক্যাসিনোর ব্যবসা করে হাজার হাজার কোটি টাকা অবৈধ পথে আয় করে বিদেশে পাচার করেছে। এরসাথে সরকারের রাঘব বোয়ালরা যুক্ত থাকলেও তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছেনা। তিনি আরো বলেন, বর্তমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর সন্তান ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা দেশের অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের হত্যা করছে। কয়েকদিন পূর্বে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরাব ফাহাদকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এছাড়াও মহানবী (সাঃ) কে কুটক্তির প্রতিবাদ করায় পুলিশ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হত্যা করেছে। এই খুনি সরকারের কবল থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার কোন বিকল্প নাই।


সেইজন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে রেখেছে। তারেক রহমানকে সাজানো মামলায় সাজা প্রদান করে দেশের বাহিরে রেখেছে। বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য রাজশাহী থেকে সরকার পতনের কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সেই আন্দোলনে সকল বাধা উপেক্ষা করে বিএনপি, যুবদল, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সকল জনগণকে রাজপথে নামার আহবান জানান মিনু।


সভাপতির বক্তব্যে সুইট উপস্থিত বিএনপি, যুবদল দল ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দদের ধন্যবাদ জানান। সেইসাথে আগামীতে সরকার পতনের আন্দোলনে সকলকে শরীক হওয়ার আহবান জানিয়ে সমাবেশ সমাপ্ত করেন।

আধিপত্যবাদী অপশক্তির আগ্রাসন রুখবে যুবদল : লাকসামে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় বক্তারা

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত মুক্তি এবং সরকারের দমন, নিপীড়ন, দুর্নীতিসহ  আধিপত্যবাদী অপশক্তির আগ্রাসন রুখবে জাতীয়তাবাদী যুবদল। যুবদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় লাকসাম উপজেলা ও পৌরসভা যুবদলের আলোচনা সভায় উপরোক্ত মন্তব্য করেন স্থানীয় যুবদল নেতারা।

লাকসাম পৌরসভা যুবদলের সভাপতি জিল্লুর রহমান ফারুকের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক বিশ্বতম সাহা বিশু ও পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম আবুলের সঞ্চালনায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, লাকসাম পৌরসভা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, মনিরুজ্জামান মনির, প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভা বিএনপির সাধারন সম্পাদক তাজুল ইসলাম খোকন, বিশেষ বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি নেতা মনির আহমেদ।

যুবদল নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আবদুল মান্নান, ফখরুজ্জামান পাটওয়ারী, কামাল হোসেন, নুরুল মোমেন লিটন, শরীফ হোসেন, মজনু চৌধুরী, ফারুক হোসেন,  স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাহবুবুল হক মনু, ছাত্রদল নেতা আলী হায়দার মামুন প্রমুখ। পরে যুবদল নেতাদের নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ।