বিতর্কিত রাজাপাকসে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট হলেন কিভাবে?

শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী গোটাবায়া রাজাপাকসে বিজয়ী হয়েছেন। যিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মহিন্দা রাজাপাকসের ভাই। তিনি ৫২ শতাংশের বেশি ভোট পান।

তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাজিথ প্রেমাদাসা পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন এবং সোমবারই হয়তো গোটাবায়া রাজাপাকসে শপথ নিতে যাচ্ছেন।

রাজাপাকসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকার সময় তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের যেভাবে দমন করেছিলেন তা নিয়ে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু একজন বিতর্কিত রাজনীতিবিদ হয়েও কেন বিজয়ী হলেন তিনি?

এ প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গেলে দেখা যাবে, এই নির্বাচনকে ঘিরে শ্রীলংকার জনগণের মধ্যে বিভক্তি ছিল স্পষ্ট ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজাপাকসে সিংহলী সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় বেশি ভোট পেয়েছেন, অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেমাদাসার জনপ্রিয়তা ছিল সংখ্যালঘু তামিল ও মুসলিমদের মধ্যে। কিন্তু নির্বাচনের আংশিক ফল বেরুনোর পরই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে গোটাবায়া রাজাপাকসেই বিজয়ী হতে যাচ্ছেন।

গোটাবায়া রাজাপাকসে শ্রীলংকার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সিংহলীদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। তার ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসে প্রায় দশ বছর শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন, এবং শ্রীলংকায় তামিলদের সঙ্গে গৃহযুদ্ধ অবসানের কৃতিত্ব দেয়া হয় তাদের।

সে সময় গোটাবায়া রাজাপাকসে ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের যেরকম কঠোর এবং নিষ্ঠুরভাবে তিনি দমন করেছিলেন, সেজন্যে তিনি বেশ বিতর্কিত।

রাজপাকসে ভাইয়েরা প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকার সময় কয়েকদশকব্যাপি চলা তামিল টাইগার বিদ্রোহ দমন করা হয় যে যুদ্ধে সব মিলিয়ে এক লক্ষ লোক নিহত হয়েছিল। তা ছাড়াও ২০০৫ থেকে ২০১৫-র মধ্যে সরকার-সমালোচক সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন, তামিলসহ হাজার হাজার মানুষের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে।

তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লংঘনেরও অভিযোগ ওঠে কিন্তু গোটাবায়া রাজাপাকসে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।

এবারের নির্বাচনী প্রচারাভিযানেও রাজাপাকসে নিরাপত্তার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তার বিজয়ে শ্রীলংকার সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলিরা বেশ উৎফুল্ল।

সাংবাদিকদেরকে একজন ভোটার বলেন, তিনি সবসময়ই চেয়েছিলেন রাজাপাকসেই যেন প্রেসিডেন্ট হন। আরেকজন বলেন, মিস্টার রাজাপাকসে শ্রীলংকার নিরাপত্তার ব্যাপারে যেসব অঙ্গীকার করেছেন, তার সঙ্গে তিনি একমত বলেই তিনি তাকে সমর্থন দিয়েছেন।

গত এপ্রিলে শ্রীলংকায় এক ভয়ংকর সন্ত্রাসবাদী হামলার পর এটি ছিল শ্রীলংকায় প্রথম নির্বাচন।

ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সম্পর্কিত জঙ্গিরা শ্রীলংকার গির্জা এবং অভিজাত হোটেলগুলোকে টার্গেট করে এই হামলা চালিয়েছিল, যাতে নিহত হয় আড়াইশোর বেশি মানুষ।

শ্রীলংকার মুসলিমরা অভিযোগ করেন যে গত সাত মাস ধরে দেশটিতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে একটা ঘৃণা ছড়ানোর অভিযান চলছে, এবং এর পেছনে ছিল কট্টরপন্থী বৌদ্ধ গোষ্ঠীগুলো।

জিল ম্যাকগিভারিং বলছেন, শ্রীলংকার মুসলিমরা আড়ালে স্বীকার করেন যে তারা রাজাপাকসের উত্থানের ভয়ে ভীত ছিলেন, কারণ তার বিরুদ্ধে মুসলিমবিরোধী উগ্রপন্থীদের সুরক্ষা দেবার অভিযোগ আছে। মুসলিমরা এমনও আশংকা করেছিলেন যে রাজাপাকসে জিতলে সহিংসতা ও বর্ণবাদ বেড়ে যাবে।

অবশ্য নির্বাচনের ফল বেরুনোর পর রাজাপাকসে এক টুইটে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শ্রীলংকার সব মানুষ এই নতুন যাত্রার সাথী।

রাজাপাকসে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নেন, সেটা দেখার অপেক্ষায় থাকবেন অনেকে।

অন্যদিকে সাজিথ প্রেমাদাসা ভালো করেছেন তামিল সংখ্যাগরিষ্ঠ উত্তরাঞ্চলে। তিনি জোরালো সমর্থন পেয়েছিলেন তামিল এবং মুসলিমদের কাছ থেকে। কিন্তু শ্রীলংকার বর্তমান সরকারের সঙ্গে প্রেমাদাসার সম্পর্ক তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছিল।

শ্রীলংকা গত কিছুদিন ধরে যে অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, সেখান থেকে দেশটিকে স্থিতিশীল করতে রাজাপাকসে ভূমিকা রাখবেন বলে তার সমর্থকরা আশা করছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করবেন।

চীনের কাছে শ্রীলংকা যে রকম ঋণগ্রস্ত, সেটি নিয়ে দুদেশের সম্পর্কে বেশ টানাপোড়েন চলছে। শ্রীলংকার রাজনীতিতে এটি বেশ স্পর্শকাতর বিষয়।

সে কারণে বিশ্লেষকদের মতে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কাজটি সহজ হবে না, বিশেষ করে যখন তাকে ভারতের সঙ্গেও একটি ভারসাম্যপূর্ণ বজায় রাখতে হবে।

স্টেট সিনেট নির্বাচনে অংশগ্রহনের ঘোষনা বাংলাদেশী জস উদ্দীন’র

জর্জিয়ার আটলান্টায় বসবাসরত বাংলাদেশী জস উদ্দীন যুক্তরাষ্ট্রের মুলধারায় নির্বাচনের ঘোষনা দিলেন। জর্জিয়ার ষ্টেট সিনেট ডিষ্ট্রিক ৪৮ থেকে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহন করার ঘোষনা দেন।


বাংলাদেশী ব্যবসায় জস উদ্দীন আশির দশকের শেষ সময় ধরে আটলান্টায় বসবাস করছেন এবং মুলধারার রাজনীতির সাথে জড়িত আছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশী আমেরিকান এসোসিয়েন অব জর্জিয়ার প্রসিডেন্ট এর দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি ফেডারেশন অব বাংলাদেশী এসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা ফোবানার প্রাক্তন চেয়ারম্যান। ব্যক্তিগত জীবনে জস উদ্দীন ও স্ত্রী ফারজানা উদ্দীন দুই কণ্যা সন্তানের গর্বীত পিতা মাতা।


জস উদ্দীনের নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোন তথ্যের জন্য মিডিয়া কন্টাক্ট অষ্টিন ওয়েগনার ৮২৮-২৭৩-৭৩৪৫ এর সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আজ আ’ঘাত হানবে ঘূর্ণিঝড় ‘নাকরি’

এইতো কয়দিন আগেই ঘূর্ণিঝড় বুলবুল সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে বাংলাদেশ, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূল। এখনও সেই আতঙ্কে ভুগছে সাধারণ মানুষ। সেই আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘নাকরি’। দক্ষিণ চীন সাগরে তৈরি ‘নাকরি’ বুলবুলের চেয়েও বেশি শক্তিশালী বলে জানা গেছে।


এর উৎসস্থল ছিল দক্ষিণ চীন সাগর। মাতমো থেকেই ছিটকে গিয়ে তৈরি হয়েছিল বুলবুল। সেই বুলবুলের দাপটে দুই বাংলায় অনেক বেশি ক্ষতি হয়ে গেছে। সেই ঘা না শুকাতেই নাকরির দাপটে কি হবে তাই ভাবাচ্ছে জনগণকে।


জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গোপসাগরে নাকরি শক্তি বাড়িয়ে ভারতে অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তর দিক ও ওড়িশা উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে আ’ঘাত হানবে। পাশাপাশি চেন্নাইসহ উত্তর তামিলনাড়ুর উপরও চোখ রাঙাচ্ছে নাকরি। যদিও এই মুহূর্তে এই ঘূর্ণিঝড়ের ভারতে আছড়ে পড়ার সঠিক সময় অনুমান করা সম্ভব হয়নি। এর প্রভাব পড়বে বাংলাদেশেও।

দুই কোটি টাকায় পাওয়া যাবে সৌদির আবাসন ভিসা

বিনিয়োগ বাড়াতে প্রায় দুই কোটি টাকায় (৮ লাখ রিয়াল) প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি দিচ্ছে সৌদি আরব। ইতিমধ্যেই এর সুযোগ লুফে নিয়েছেন ৭৩ বিদেশি।

সৌদি আরাবিয়া প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি সেন্টারের (এসএপিআরসি) এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সৌদি আরবের নতুন এ প্রকল্পের আওতায় বিদেশীদের জন্য দুই ধরণের আবাসন সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, দেশটিতে স্থায়ী আবাসন সুবিধা পেতে এককালীন হিসেবে ৮ লাখ রিয়াল (এক কোটি ৮০ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮২ টাকা) পরিশোধ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, আবাসিক সুবিধা প্রতি বছর নবায়নের সুযোগও রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি বছর খরচ পড়বে ১ লাখ রিয়াল (২২ লাখ ৬১ হাজার ৩৩৬ টাকা)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত সব সুবিধা না পেলেও দেশটিতে কাজ ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবেন প্রিমিয়াম রেসিডেন্টরা। কোনও ধরনের বিধিনিষেধ ছাড়াই তারা কোম্পানি বা কর্মস্থল বদলাতে পারবেন।

এসএপিআরসির বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম দফায় প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি পাওয়া ৭৩ জন ১৯টি দেশের নাগরিক। তাদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যেই সৌদিতে বসবাস করছেন। তারা বিনিয়োগকারী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও অর্থনীতিবিদসহ নানা পেশায় নিয়োজিত।

গত ২৩ জুন এক রাজকীয় ডিক্রি জারির মাধ্যমে প্রিমিয়াম রেসিডেন্সির জন্য অনলাইন আবেদন শুরু হয়। গত কয়েক মাসে এ সুবিধা গ্রহণের জন্য প্রায় কয়েক হাজার মানুষ অনলাইনে আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছে এসএপিআরসি।

বিদেশীদের আবাসন সুবিধা দেয়া দফতরটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বন্দর আল আয়েদ বলেন, সৌদি রাজতন্ত্র প্রত্যেককেই স্বাগত জানায়। প্রাসঙ্গিক শর্তাদি পূরণে সক্ষম এমন প্রত্যেকের প্রিমিয়াম রেসিডেন্সির জন্য আবেদনের সুযোগ রয়েছে।

১০০ দিন পর কতোটা স্বাভাবিক হয়েছে কাশ্মীর

ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে নেওয়ার দিন থেকেই সেখানে যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল, মঙ্গলবার তার একশো দিন পূর্ণ হলো।

এই তিনমাসের কিছুটা বেশি সময়ে নিষেধাজ্ঞা অনেকটা শিথিল করা হলেও সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় নি বলেই সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন।

শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা এই ১০০ দিন ধরেই আটক হয়ে আছেন। জারি রয়েছে ১৪৪ ধারাও। ৩৬ লক্ষ প্রিপেইড মোবাইল এখনও চালু হয় নি – নেই ইন্টারনেটও। তবে চালু হয়েছে ল্যান্ডলাইন ফোন আর পোস্ট পেইড মোবাইল ফোন।

ইন্টারনেট চালুর দাবিতে মঙ্গলবারই শ্রীনগরে বিক্ষোভ করেছেন সেখানকার সাংবাদিকরা।

অগাস্টের ৫ তারিখের সঙ্গে ১০০ দিন পরের কাশ্মীরের সব থেকে বড় তফাৎটা হল তখন যে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যটা ছিল, সেটাই এখন আর নেই। আনুষ্ঠানিক মানচিত্রও বদলে গেছে এই ১০০ দিনে।

এখন লাদাখ অঞ্চলকে আলাদা করে দিয়ে জম্মু কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই প্রশাসন সবটাই দিল্লি থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়।

শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা নেত্রী – এমন কি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরাও আটক হয়ে আছেন। একই সঙ্গে বহু কাশ্মীরীও সেখানকার জেলে এবং উত্তর প্রদেশের জেলে আটক রয়েছেন।

আবার কাশ্মীরের যে প্রধান আয়ের উৎস, সেই পর্যটন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আছে। পর্যটনের ওপরে নির্ভরশীল হাজার হাজার মানুষের কোনও রোজগার নেই।

তবে প্রথম দিকে যেরকম কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল রাস্তায় চলাচলের ওপরে, সেসব শিথিল করা হয়েছে। এখন শুধুমাত্র ১৪৪ ধারায় চারজনের বেশী একসঙ্গে চলাফেরার ওপরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

দোকানপাট, বাজারঘাট সকালে ঘণ্টা তিনেকের জন্য খোলা হয়।

কাশ্মীর থেকে বিবিসির সাংবাদিক রিয়াজ মাসরূর জানিয়েছেন, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ওই তিনঘণ্টার মধ্যেই কিনতে হয়।

মঙ্গলবার থেকেই ট্রেন চালু হয়েছে শ্রীনগর আর বারামুলার মধ্যে।

স্কুল খোলা আছে, তবে শুধু শিক্ষক শিক্ষিকারাই যান। ক্লাস টেন এবং টুয়েলভের যেহেতু বোর্ড পরীক্ষা আছে — তাদের পরীক্ষাগুলো হচ্ছে, অন্য ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের বাড়িতে অভিভাবকদের সামনে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।

এই নতুন রুটিনে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু মাঝে মাঝেই বিক্ষোভের মাধ্যমে এটা টের পাওয়া যায় যে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ এখনও কমেনি।

রাম মন্দির ও কাশ্মীরের পর মোদীর টার্গেট এখন কি

ভারতের লোকসভার আসন্ন অধিবেশনে তোলা হচ্ছে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। একই সাথে মুসলিম পারিবারিক আইন রদ করে অভিন্ন দেওয়ানি আইনের দাবি জোরদার করছেন বিজেপি নেতারা।

ভারতে নরেন্দ্র মোদীর দ্বিতীয় দফার ক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ দুটো দিন ছিল ৫ই অগাস্ট এবং ৯ই নভেম্বর। খবর বিবিসি বাংলার

৫ই অগাস্টে সরকার আচমকা এক আদেশে সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদ করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে দেয়।

তার তিনমাস পর সুপ্রিম কোর্ট বাবরি মসজিদের চত্বরের মালিকানা বিতর্কের মামলায় হিন্দুদের পক্ষে রায় দেয়।

ফলে বাবরি মসজিদের জায়গায় একটি রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথ সুগম হয়ে যায় বিজেপির জন্য।

ভারতের রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন কাশ্মীর এবং অযোধ্যার পর মোদী সরকারের সামনে বড় রাজনৈতিক এজেন্ডা এখন কী।

ভারতের সিনিয়র সাংবাদিক এবং বিজেপির রাজনীতির একজন বিশ্লেষক প্রদীপ সিংকে উদ্ধৃত করে দিল্লিতে বিবিসি হিন্দির নভিন নেগি বলছেন, বিজেপির রাজনৈতিক এজেন্ডার তালিকায় প্রথম তিনটি ছিল – অযোধ্যায় রাম মন্দির, সংবিধানের ৩৭০ ধারা এবং মুসলিম পারিবারিক আইন রদ করে অভিন্ন দেওয়ানি আইন।

প্রদীপ সিং বলছেন, দুটো লক্ষ্য হাসিল হয়েছে, এখন তাদের টার্গেট ইউনিফর্ম সিভিল কোড অর্থাৎ অভিন্ন দেওয়ানি আইন।

সাংবাদিক শুভজ্যোতি ঘোষও বলছেন, অভিন্ন দেওয়ানি আইনেরও আগে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন বিল নিয়ে এগুতে চাইছে বিজেপি।

সোমবার থেকে লোকসভার যে শীতকালীন অধিবেশন শুরু হচ্ছে তার কার্য-তালিকায় নাগরিকত্ব সংশোধন বিল রাখা হয়েছে।

এই আইনে প্রস্তাব করা হয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের ধর্মীয় সংখ্যালঘু (হিন্দু, বৌদ্ধ, পার্সি বা খ্রিস্টান) যারা ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের আগে ভারতে এসেছেন, তারা চাইলে নাগরিকত্ব পাবেন।

কিন্তু কোনো মুসলমান সেই সুযোগ পাবেন না।

প্রস্তাবিত এই আইন নিয়ে ভারতে তীব্র বিতর্ক রয়েছে। বিরোধীরা বলছেন, শুধু ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের সিদ্ধান্ত হলে তা ভারতের সংবিধানের বরখেলাপ হবে। তাদের কথা, এমন আইন করতে হলে সংবিধান বদলাতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রদীপ সিং বলছেন, নাগরিকত্ব এবং এনআরসি নিয়ে বিজেপি এরই মধ্যে অনেকদূর এগিয়েছে এবং এ দুটিকে তারা খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে।

সেই সাথে মোদী সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হচ্ছে ভারতে অভিন্ন একটি দেওয়ানি আইন প্রতিষ্ঠা।

অভিন্ন দেওয়ানি আইন কি
ভারতের দেওয়ানি আইনে বিয়ে, পরিবার, সম্পত্তির ভাগাভাগি – এরকম কিছু বিষয়ে ধর্মীয় রীতিনীতি এবং বিধিনিষেধকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে মুসলিমদের পারিবারিক আইন নিয়ে কট্টর হিন্দু দলগুলোর সবসময় আপত্তি ছিল।

বিজেপি বহুদিন ধরেই বলে আসছে, তারা ভারতে ইউনিফর্ম সিভিল কোড অর্থাৎ অভিন্ন দেওয়ানি আইন করতে চায় যেখানে বিশেষ কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা কোনো বিধি থাকবে না।

বিজেপি নেতারা বিভিন্ন ফোরামে এই অভিন্ন দেওয়ানি আইনের দাবি জোরদার করতে শুরু করেছেন।

বিজেপির জেনারেল সেক্রেটারি রাম মাধব থেকে শুরু করে প্রভাবশালী বিজেপি নেতা নাশিক কান্ত দুবে লোক সভার প্রথম অধিবেশনেই খোলাখুলি দাবি করেছেন, অভিন্ন দেওয়ানি আইন করতে হবে।

শুভজ্যোতি ঘোষ বলছেন, এ বছরেই তিন-তালাক নিষিদ্ধ করার পর মুসলিম পারিবারিক আইনকে এমনিতেই অনেকটাই খাটো করে দিয়েছে বিজেপি সরকার।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রদীপ সিং মনে করেন, নাগরিকত্ব আইন বাস্তবায়নের চেয়ে অভিন্ন দেওয়ানি আইন প্রতিষ্ঠা বিজেপির জন্য অধিকতর কষ্টকর হতে পারে।

তিনি বলছেন শুধু মুসলিমরাই নয়, বিয়ে এবং সম্পত্তি নিয়ে ভারতের অন্যান্য অনেক ধর্মীয় এবং সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর ভিন্ন ভিন্ন প্রচলিত বিধি রয়েছে। সেগুলো বাতিল করলে অনেকেই ক্ষিপ্ত হয়ে পড়বেন।

হিন্দু রাষ্ট্রের পথে হাঁটছেন মোদী?
কাশ্মীর, অযোধ্যা, নাগরিকত্ব আইন বা অভিন্ন দেওয়ানি আইন – এগুলোর সবগুলোর পেছনেই যে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির ছায়া রয়েছে তা নিয়ে কারোরই তেমন কোনো সন্দেহ নেই।

শুভজ্যোতি ঘোষ বলছেন, বিজেপির আদর্শিক অভিভাবক আরএসএস (রাষ্ট্রীয় স্বয়ং-সেবক সংঘ) সবসময়ই খোলাখুলি বলে এসেছে ১৯৪৭ এ ভারত ভাগের পর পাকিস্তান মুসলিম রাষ্ট্র হলেও, ভারতকে জোর করে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বানানো হয়েছে।

ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র বানানোর লক্ষ্য আরএসএসের ডিএনএ-তেই রয়েছে। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ, অযোধ্যায় রাম মন্দির- এগুলো তারই একেকটি ধাপ। নতুন নাগরিকত্ব আইন এবং অভিন্ন দেওয়ানি আইনও সেই ধাপেরই অংশ।

১০০ দিন পর কতোটা স্বাভাবিক হয়েছে কাশ্মীর

ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে নেওয়ার দিন থেকেই সেখানে যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল, মঙ্গলবার তার একশো দিন পূর্ণ হলো।

এই তিনমাসের কিছুটা বেশি সময়ে নিষেধাজ্ঞা অনেকটা শিথিল করা হলেও সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় নি বলেই সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন।

শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা এই ১০০ দিন ধরেই আটক হয়ে আছেন। জারি রয়েছে ১৪৪ ধারাও। ৩৬ লক্ষ প্রিপেইড মোবাইল এখনও চালু হয় নি – নেই ইন্টারনেটও। তবে চালু হয়েছে ল্যান্ডলাইন ফোন আর পোস্ট পেইড মোবাইল ফোন।

ইন্টারনেট চালুর দাবিতে মঙ্গলবারই শ্রীনগরে বিক্ষোভ করেছেন সেখানকার সাংবাদিকরা।

অগাস্টের ৫ তারিখের সঙ্গে ১০০ দিন পরের কাশ্মীরের সব থেকে বড় তফাৎটা হল তখন যে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যটা ছিল, সেটাই এখন আর নেই। আনুষ্ঠানিক মানচিত্রও বদলে গেছে এই ১০০ দিনে।

এখন লাদাখ অঞ্চলকে আলাদা করে দিয়ে জম্মু কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই প্রশাসন সবটাই দিল্লি থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়।

শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা নেত্রী – এমন কি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরাও আটক হয়ে আছেন। একই সঙ্গে বহু কাশ্মীরীও সেখানকার জেলে এবং উত্তর প্রদেশের জেলে আটক রয়েছেন।

আবার কাশ্মীরের যে প্রধান আয়ের উৎস, সেই পর্যটন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আছে। পর্যটনের ওপরে নির্ভরশীল হাজার হাজার মানুষের কোনও রোজগার নেই।

তবে প্রথম দিকে যেরকম কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল রাস্তায় চলাচলের ওপরে, সেসব শিথিল করা হয়েছে। এখন শুধুমাত্র ১৪৪ ধারায় চারজনের বেশী একসঙ্গে চলাফেরার ওপরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

দোকানপাট, বাজারঘাট সকালে ঘণ্টা তিনেকের জন্য খোলা হয়।

কাশ্মীর থেকে বিবিসির সাংবাদিক রিয়াজ মাসরূর জানিয়েছেন, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ওই তিনঘণ্টার মধ্যেই কিনতে হয়।

মঙ্গলবার থেকেই ট্রেন চালু হয়েছে শ্রীনগর আর বারামুলার মধ্যে।

স্কুল খোলা আছে, তবে শুধু শিক্ষক শিক্ষিকারাই যান। ক্লাস টেন এবং টুয়েলভের যেহেতু বোর্ড পরীক্ষা আছে — তাদের পরীক্ষাগুলো হচ্ছে, অন্য ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের বাড়িতে অভিভাবকদের সামনে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।

এই নতুন রুটিনে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু মাঝে মাঝেই বিক্ষোভের মাধ্যমে এটা টের পাওয়া যায় যে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ এখনও কমেনি।

আন্দোলন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্টকে সরালেন বিরোধীরা

বিতর্কিত এক নির্বাচনের পরে বিরোধীদের টানা আন্দোলনের মাঝে পদত্যাগ করলেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস। গত মাসে তার বিতর্কিত পুনর্নির্বাচনের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন তিনি।

এর আগে ২০শে অক্টোবরের নির্বাচনে সুস্পষ্ট কারচুপির প্রমাণ পাওয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা রবিবার নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করার আহ্বান জানায়। খবর বিবিসি বাংলার

বলিভিয়ার নির্বাচন কর্তৃপক্ষ ঢেলে সাজানোর পর ইভো মোরালেস পর্যবেক্ষকদের এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত হয়েছেন এবং নতুন নির্বাচন আয়োজন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে বলিভিয়ার রাজনীতিবিদ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পুলিশ এবং দেশটির সেনাবাহিনী ইভো মোরালেসকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছে। এ সপ্তাহের শুরুতে তার সমর্থকদের অনেকের ওপর হামলা হয়েছে এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে।

টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে ইভো মোরালেস বিক্ষোভকারীদের হামলা-ভাংচুর বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে নিজের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন। সহিংসতা না ঘটাতে আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট।

এর আগে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আলভারো গার্সিয়া লিনেরা এবং সিনেট প্রেসিডেন্ট আদ্রিয়ানা সালভাতিয়েরাও পদত্যাগ করেছেন।

এদিকে দেশের শীর্ষ তিনটি পদ থেকে তারা পদত্যাগ করায় বিক্ষোভকারীরা পথে নেমে আসে এবং আনন্দ মিছিল করে।

নির্বাচনে কারচুপির বিষয়ে অভিযোগ ওঠার পর থেকে গত কয়েক সপ্তাহে বলিভিয়ায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

নির্বাচনের রাতে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়া ২৪ ঘন্টার জন্য ভোট গণনা বন্ধ রাখার পর প্রথম উত্তেজনা তৈরি হয়।

চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায় ইভো মোরালেস এককভাবে বিজয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট পেয়েছেন।

ঐদিনের পর হওয়া সহিংসতায় অন্তত তিনজন প্রাণ হারান।

পরবর্তীতে বিক্ষোভকারীদের সাথে যোগ দেন কয়েকজন পুলিশ সদস্যও।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা সংস্থা অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস রবিবার জানায় যে তারা ব্যাপক পরিমাণে তথ্য কারচুপির প্রমাণ পেয়েছে এবং নির্বাচনের ফলাফল সত্যায়ন করবে না।

এরপর ইভো মোরালেসের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। সারাদিনে তার রাজনৈতিক মিত্রদের অনেকেই পদত্যাগ করেছেন, যাদের মধ্যে কেউ কেউ পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল উইলিয়ামস কালিমানও ‘শান্তি বজায় রাখতে এবং স্থিতিশীলতা অক্ষুন্ন রাখতে’ প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনো সশস্ত্র বাহিনী হামলা করলে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে বলেও জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

গত মাসের নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থান পাওয়া বিরোধী নেতা কার্লোস মেসা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিরোধ গড়ায় বিক্ষোভকারীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এক টুইটবার্তায় এই ঘটনাকে স্বৈরাচারের পতন এবং ঐতিহাসিক শিক্ষা বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে ইভো মোরালেসের প্রতি সমর্থন জানানো কিউবা ও ভেনেজুয়েলার নেতারা এই ঘটনাকে সেনা অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

২০০৬ সাল থেকে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইভো মোরালেস বলিভিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি নৃতাত্বিক গোষ্ঠীর সদস্য।

কতবার প্রেসিডেন্ট হওয়া যাবে, এবিষয়ে সাংবিধানিক আদালতের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর অক্টোবরের নির্বাচনে তিনি টানা চতুর্থবারের মত অংশগ্রহণ করেন।

কতবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা যাবে তার নির্দিষ্ট সংখ্যা যেন থাকে, সেটির পক্ষে ২০১৬ সালের এক গণভোটে ভোট দিয়েছিলেন অধিকাংশ বলিভিয়ান।

তবে ইভো মোরালেসের দল এই বিষয়টিকে সাংবিধানিক আদালতে নিয়ে গেলে প্রেসিডেন্ট হওয়ার মেয়াদ সীমার বিষয়টি বাতিল করে আদালত।

সুন্নীবোর্ডেরৈ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে মসজিদের জন্য জমি নেবে কিনা

 নিয়ম মোতাবেক আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের একটি মিটিং ডেকে সেই মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে মসজিদের জন্য আদালতের রায়ের আলোকে পাঁচ একর জমি নেওয়া হবে কিনা।

শনিবার ভারতের আদালত পাঁচশ বছরের পুরনো বাবরি মসজিদের জমি হিন্দুদের মন্দির নির্মাণে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরে বোর্ডের পক্ষ থেকে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে।

সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান জাফর ফারুকির তথ্যানুসারে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সুন্নি বোর্ডের একটি বৈঠক ডাকা হবে।

আগামী ২৬ নভেম্বর সম্ভবত এই বৈঠক ডাকা হতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুসারে মুসলমানরা পাঁচ একর জমি নেবে কেনা, এতে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া মুসলমানদের ধর্মীয় পবিত্র স্থানগুলোকে সুরক্ষার বিষয়েও কথা হবে বৈঠকে।

অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড শনিবার জানিয়েছে, তারা বাবরি মসজিদ মামলার রিভিউ আবেদনের কথা ভাবছে। যদিও মুসলমানদের ওই সংস্থাটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা আর বেশি দূর না আগানোর দিকে আভাস দিয়েছেন।

মুসলমানদের পক্ষের আইনজীবী জাফরইয়াব জিলানি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বেশ কিছু তথ্যে আমি অসন্তুষ্ট। রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলেও বেশ কিছু বিষয়ে আমাদের দ্বিমত রয়েছে।

জিলানি বলেন, তারা রায় পর্যালোচনা করবেন এবং সম্ভবত রিভিউ চাইবেন।

জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দ জানিয়েছে, তারা রিভিউ আবেদনের পক্ষে না। বিষয়টির এখানেই ইতি দেখতে চান তারা।

বাবরি মসজিদের জমি হিন্দুদের দিয়ে রায় হিন্দু-মুসলিম সংঘাত উসকে দেবে

ভারতের বহুল আলোচিত ঐতিহ্যবাহী বাবরি মসজিদ মামলায় ভারতের আদালতের রায়ে হিন্দুদের পক্ষ সমর্থন পেয়েছেন। সেই সাথে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বড় জয় হিসেবে উল্লেখ করেছে বিশ্ব গণমাধ্যম।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, ব্রিটেনের গার্ডিয়ান, রয়টার্স, ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি ও কাতারের আল-জাজিরার মতো অধিকাংশ গণমাধ্যম রায়টি নিয়ে একই সুরে কথা বলেছে।

এ রায়ে ভারতে হিন্দু-মুসলমান সংঘাত আরও বলবে বরে অধিকাংশ গণমাধ্যম বলছে। এমকি খোদ ভারতের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক আনান্দবাজার পত্রিকায় মন্তব্য কলামে সাবেক প্রধান বিজারপতি এই মামলার রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের পর শনিবার ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে প্রায় পাঁচশ বছর আগে স্থাপিত বাবরি মসজিদের জমি মন্দির নির্মাণে হিন্দুদের দিতে বলা হয়েছে। আর মুসলমানদের জন্য আলাদা পাঁচ একরের জমি বরাদ্দ দিতে ভারতীয় সরকারকে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।

বিশ্বের অধিকাংশ সংবাদপত্র এ রায়ের খবর প্রথম পাতায়ই দিয়েছে। তারা বলছে, মোদীর এ জয় তার হাতকে আরও শক্তিশালী করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দ্য নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় কয়েক শতাব্দীর বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট হিন্দুদের পক্ষে রায় দিয়েছে।

আর্টিকেলটির লেখক এ রায়কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্য বড় ধরনের জয় উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, মোদি ও তার অনুসারীরা ভারতকে নতুন করে ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তি থেকে সরিয়ে হিন্দুত্বের পথে এগিয়ে নেয়ার যে চেষ্টা করছেন, তার পক্ষে এটি বড় জয়।

ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, মুসলমানদের অভিযোগ থাকার পরেও জমিটি হিন্দুদের পুরস্কার দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্য এটি অনেক বড় জয়।

হিন্দু জাতীয়বাদীরা এবং ক্ষমতাশীল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দীর্ঘদিন ধরেই অযোধ্যায় রামের মন্দির তৈরির চেষ্টা করে আসছে উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

তাদের প্রতিবেদনে ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র ‍হিসাবে উল্লেখ করেছে এবং এটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দেশ নয় বলে মন্তব্য করেছে।

ব্রিটেনের বিখ্যাত দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকাও লিখেছে, অযোধ্যার বিতর্কিত জমি নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্য বিশাল জয়।

মোদি ভারতের নির্বাচনে জয়লাভের মাত্র ছয়মাস পরই সুপ্রিম কোর্টের এ রায় তাকে আরেকটি বড় জয় এনে দিয়েছে উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি।

গার্ডিয়ান লিখেছে, মোদি ও তার বিজেপি সরকারের হিন্দু জাতীয়তাবাদী কর্মসূচির মূল মনোযোগের বিষয়টিই ছিল অযোধ্যায় রাম মন্দির ফের নির্মাণ করা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতে রায় হওয়ার সময়কার পরিস্থিতি বর্ণনায় তাদের সংবাদদাতারা বলেছেন, রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতকক্ষের বাইরে জয় শ্রীরাম ধ্বনি শুনতে পেয়েছেন।

হিন্দুরা এ রায়কে খুবই ভারসাম্যপূর্ণ বলেছে এবং মুসলিমরা সন্তুষ্ট হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

রায় নিয়ে হিন্দু-মুসলিম এ বিভক্তির ইঙ্গিত দিয়ে আগামী দিনগুলোতে ভারত যেন সম্প্রীতির পথেই থাকে এমন আশা প্রকাশ করেছে বিবিসি।

সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে হিন্দুদেরকেই বিতর্কিত জায়গায় মন্দির নির্মাণ করতে দেয়া হয়েছে।

‘যে জায়গা হিন্দু-মুসলিম উভয়ই দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে এসেছে এবং ১৯৯২ সালে যেখানে থাকা মসজিদ উগ্র হিন্দুরা গুঁড়িয়ে দিয়েছে- সেখানেই আদালত রামমন্দির নির্মাণ করতে দিল।’

মুসলিমদেরকে এর বদলে অন্য জায়গায় বিকল্প ৫ একর জমি দিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

পাকিস্তানের দৈনিকগুলোতে অযোধ্যার বিতর্কিত জমির রায় নিয়ে প্রতিবেদনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জয় এর চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক।

পাকিস্তানের দ্য ডন পত্রিকা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, সুপ্রিম কোর্টের রায় হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তানের ইংরেজি ভাষার পত্রিকা দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন অযোধ্যার রায় হিন্দুদের পক্ষে গেছে বলে মন্তব্য করেছে।

এ রায়কে হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী মোদীর জয় বলেই উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি।

বাবরী মসজিদের জায়গায় মন্দির বানানোর রায় আদালত

ভারতের অযোধ্যাতে যে বিতর্কিত ধর্মীয় স্থানটি নিয়ে বহু বছর ধরে সংঘাত, সেখানে একটি হিন্দু মন্দির বানানোর পক্ষেই রায় দিয়েছে সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট।

এর পাশাপাশি মুসলিমদের মসজিদ বানানোর জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে অযোধ্যাতেই অন্য কোনও বিকল্প স্থান। খবর বিবিসি বাংলার

বলা হয়েছে, মসজিদ বানানোর জন্য অযোধ্যারই কোনও উল্লেখযোগ্য স্থানে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে পাঁচ একর জমি দিতে হবে।

এই মন্দির ও মসজিদ বানানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি ট্রাস্ট গঠনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অযোধ্যার যে ২.৭৭ একর জমিকে বিরোধের মূল কেন্দ্র বলে গণ্য করা হয়, তার মালিকানা দেওয়া হয়েছে রামলালা বিরাজমান বা হিন্দুদের ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের শিশুরূপের বিগ্রহকে। যার অর্থ সেখানে রামমন্দিরই তৈরি হবে।

ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-র নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি সাংবিধানিক বেঞ্চ এদিন সর্বসম্মতিক্রমে এই রায় দেয়।

এর আগে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতে বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিজেপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতেই উগ্র কট্টরপন্থী বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা অযোধ্যার ওই বিতর্কিত জমির ওপর অবস্থিত বাবরি মসজিদের স্থাপনাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

বাবরি মসজিদ ভাঙার পর ভারতের নানা প্রান্তে যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছিল তাতে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

আজ রায় ঘোষণার সময় বিচারপতিরা ভারতের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের (আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া) একটি রিপোর্টও উল্লেখ করেছেন, যাতে বলা হয়েছিল বাবরি মসজিদের নিচে একটি স্থাপনা ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে – তবে সেই কাঠামোটি ঠিক কীসের তা স্পষ্ট নয়।

ভারতে ঐতিহাসিকরা মোটামুটি একমত যে, মুঘল আমলে বাবরের একজন সেনাপতি মীর বাঁকি ১৫২৮ সাল নাগাদ অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

তবে এ দেশের হিন্দু সমাজের একটা বড় অংশ বিশ্বাস করেন, তাদের আরাধ্য দেবতা শ্রীরামচন্দ্রের জন্মস্থানের ওপরই ওই মসজিদ নির্মিত হয়েছিল।

ভারতের ধর্মীয়-রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপে বহু দশক ধরে সবচেয়ে বিতর্কিত ও রক্তক্ষয়ী ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত হয়ে এসেছে এই বাবরি মসজিদ-রাম জন্মভূমি বিরোধ।

শীর্ষ আদালতের মাধ্যমে সেই বিরোধের নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ শনিবার এই রায় ঘোষণা করে।

এদিন রায় ঘোষণার পর অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্য জাফরিয়াব জিলানি জানিয়েছেন, এই রায়ের মধ্যে অনেক স্ববিরোধিতা ও তথ্যগত ভুল আছে বলে তারা মনে করছেন।

আমরা এখন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে স্থির করব আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে। সবাই একমত হলে আমরা রিভিউ পিটিশন দাখিল করব।

এদিকে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন এই রায়কে ঐতিহাসিক বলে বর্ণনা করে একে স্বাগত জানিয়েছে।

রায় ঘোষণার পর এদিন সুপ্রিম কোর্টে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়ে হিন্দু সংগঠনগুলোর সমর্থকদের জয়ধ্বনি দিতেও দেখা গেছে।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও শীর্ষস্থানীয় বিজেপি নেতা রাজনাথ সিং এদিনের রায়কে ল্যান্ডমার্ক জাজমেন্ট বলে বর্ণনা করেছেন। দেশবাসীকে তিনি শান্তি ও সুস্থিতি বজায় রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চে এর আগে টানা চল্লিশ দিন ধরে এই মামলার শুনানি হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি ছাড়া বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা ছিলেন এস এ বোডবে, ওয়াই ভি চন্দ্রচূড়, অশোক ভূষণ ও এস আবদুল নাজির।

অযোধ্যার বিতর্কিত ধর্মীয় স্থানটি যে উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে, সেখানে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত বারো হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

অযোধ্যায় কারফিউ জারি রয়েছে গত প্রায় দুসপ্তাহ ধরে।

এদিন রায় ঘোষণার আগে গতকাল প্রধান বিচারপতি গগৈ গতকাল শুক্রবারই রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উত্তরপ্রদেশের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছিলেন।

উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটক ও রাজস্থান-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আজ স্কুল-কলেজ সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রাখা হয়েছে।

শনিবার হওয়ার কারণে বেশির ভাগ সরকারি অফিসেও ছুটি।

রায় ঘোষণার আগের রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করে বলেছিলেন, অযোধ্যার রায় কারও জয় বা কারও পরাজয় সূচিত করবে না।

দেশের সামনে এই মুহুর্তে অগ্রাধিকার হল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, এ কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি।

তবে এদিন রায় ঘোষণার ঠিক পর পরই তিনি পাঞ্জাবে ভারতের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান যৌথ উদ্যোগে নির্মিত কর্তারপুর করিডরের উদ্বোধন করেন।

কিন্তু সেখানে তার ভাষণে তিনি অযোধ্যা রায়ের প্রসঙ্গ একেবারেই তোলেননি।

জো বাইডেনের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীরা

২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করছে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীরা। ৭৬ বছর বয়সী যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এ ভাইস প্রেসিডেন্ট বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরজ্যে ডেমোক্রেটদের ’লিবার্টি এন্ড জাষ্টিস’ সেলিব্রেশন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন। অনুষ্ঠানের পুরোটা সময় জো বাইডেন পুরো সজাগ ও উদ্যমী ছিলেন।  


অনুষ্ঠানে এশিয়ান আমেরিকান কানসাস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি প্যাসিফিক আইল্যান্ডের ককাস চেয়ারম্যান (এএপিআইএস) রেহান রেজার নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশীরা অংশগ্রহন করেন এবং রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার স্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করেন। সাক্ষাতে নেতৃবৃন্দ বাংলদেশী কমিউনিটির পক্ষে জো বাইডেনের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা জানান।


অনুষ্ঠানে জো বাইডেন বাংলাদেশীদের সমর্থনের কথা জেনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আগামী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট পার্টির বিজয় ছিনিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান।


এছাড়া অনুষ্ঠানে জো বাইডেন তার বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোকে এখন অতিরিক্ত স্বাস্থ্যসেবা বিল দিতে হয়। এতে কেবল ধনী ব্যক্তি এবং কর্পোরেশন এ পরিকল্পনা থেকে লাভবান হচ্ছে। স্যান্ডার্সের এ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হবে বলে জানান বাইডেন। এর পরিবর্তে তিনি ওবামার সাশ্রয়ী সেবা প্রকল্প ‘অ্যাফর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ বিকাশের দিকে মনোনিবেশ করা উচিত বলে জানান।
জো বাইডেন আরো বলেন, ‘ওয়ারেন বলেছেন যে তিনি বার্নির পক্ষে আছেন। আমি বারাকের পক্ষে আছি। আমি মনে করি ওবামাকেয়ার কাজ করেছে। এ নীতি বাস্তবায়নে তিন লাখ কোটি ডলারের বেশি খরচ হবে না।’


উল্লেখ্য, জোসেফ রবিনেট “জো” বাইডেনের জন্ম ২০শে নভেম্বর ১৯৪২। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেলোয়ার অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত সিনিয়র সিনেটর। তিনি ২০০৮ সালের মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পক্ষ থেকে ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাথে ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ২০০৫ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।


জো বাইডেন ১৯৬৯ সালে অ্যাটর্নি হন, ১৯৭০ সালে কান্ট্রি কাউন্সিলে নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালে প্রথমবারের মত সিনেটে নির্বাচিত হন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে পঞ্চম কনিষ্ঠতম সিনেটর। ১৯৭৮, ১৯৮৪, ১৯৯০, ১৯৯৬, ২০০২ এবং ২০০৮ সালগুলোতেও সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হন। জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত প্রথম কোন রোমান ক্যাথলিক বিশ্বাসী।

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পরেও লেবাননে বিক্ষোভ চলছে!

কয়েক সপ্তাহ ধরে লেবাননে চলছে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ। গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এতো বড় বিক্ষোভ হয়নি সেখানে। ইতোমধ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি পদত্যাগ করেছেন।

কিন্তু তাতেও শান্ত হননি বিক্ষোভকারীরা। তারা দেশের রুগ্ন অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব এবং দুর্নীতির অবসান চান। খবর বিবিসি বাংলার

বিক্ষোভকারীরা দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন চায়। ধর্মের ভিত্তিতে ক্ষমতার ভাগাভাগির যে ব্যবস্থা দেশটিতে এখন রয়েছে, সেটির পরিবর্তন চায় তারা।

দাবানল এবং হোয়্যাটসঅ্যাপ ট্যাক্স
লেবাননের জন্য অক্টোবর মাস বেশ ঘটনাবহুল ছিল। সরকারও একের পর এক সমস্যা নিয়ে নাকাল হচ্ছিল।

শুরুতে লেবাননের আমদানিকারকরা অভিযোগ করেন, দেশটির বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে মার্কিন ডলারের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।

ফলে লেবানিজ পাউন্ড ডলারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠছে না।

গম এবং জ্বালানি আমদানিকারকরা যখন দাবি তোলেন যে তাদের ডলারে অর্থ শোধ করতে হবে, তখন দেশটির পেট্রল স্টেশন এবং বেকারি শিল্প ধর্মঘটে চলে যায়।

১৪ই অক্টোবর দেশটির পশ্চিমে পাহাড়ি এলাকায় শুরু হয় ভয়ানক দাবানল, এবং দেখা যায় আগুন নেভানোর জন্য লেবাননের যথেষ্ট অর্থ ও সরঞ্জামাদি নেই।

সে সময় পার্শ্ববর্তী সাইপ্রাস, গ্রীস এবং জর্ডান আগুন নেভাতে এগিয়ে আসে।

দেশটির সামাজিক মাধ্যমে তখন সরকারের ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, দেশের দাঙ্গা পুলিশের গাড়ি কিংবা জল কামান কখনো বিকল হয় না, তাহলে অগ্নি-নির্বাপণ হেলিকপ্টার কেন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিকল হয়ে গেলো?

এর কয়েকদিন পরেই সরকার তামাক, পেট্রল এবং হোয়্যাটসঅ্যাপ-এর মতো মেসেজিং সার্ভিসের মাধ্যমে ভয়েস কলের ওপর কর বাড়িয়ে দেয়।

সরকার প্রস্তাব করেছে, হোয়্যাটসঅ্যাপস ব্যবহার করতে মাসে ছয় মার্কিন ডলার দিতে হবে।

এই ঘোষণার পরই বৈরুতে বিক্ষোভ শুরু হয়।

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সরকার কর প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে বছরের পর বছর ধরে চলা অসন্তোষ নতুন করে উঠে আসে।

পরদিন প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির পদত্যাগের দাবিতে লেবাননের হাজার-হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে যোগ দেয়।

মূলত তখন থেকেই লক্ষ-লক্ষ মানুষ বিক্ষোভে সামিল হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট এবং ব্যাংকসমূহ বন্ধ রয়েছে।

এই জনরোষের কারণ কী?
লেবানন তার ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এখন।

দেশটির ঋণের ভার ক্রমে বাড়ছে, তবু আন্তর্জাতিক দাতা গোষ্ঠীদের কাছ থেকে বিভিন্ন প্যাকেজ নিয়ে সরকার নানান অর্থনৈতিক সংস্কার করার চেষ্টা করছে।

কিন্তু সাধারণ মানুষেরা বলছেন, সরকারের অব্যবস্থাপনা এবং দেশের অর্থনৈতিক নীতি-নির্ধারণীর বলি হিসেবে তারা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

জিডিপি ও বৈদেশিক ঋণের অনুপাতের হিসাবে লেবানন এই মূহুর্তে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ ঋণগ্রস্ত দেশ।

দেশটির সরকারি হিসাবে দেখা যায়, তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব ৩৭ শতাংশ, সার্বিক বেকারত্বের হার ২৫ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, দেশটির এক তৃতীয়াংশ জনগণ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করে।

সেই সঙ্গে সম্প্রতি দেশটিতে মুদ্রার আরেক দফা অবমূল্যায়ন হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়। এছাড়া সাধারণ সেবা পেতেও ভোগান্তির শেষ নেই। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ ঘাটতি, বিশুদ্ধ পানির অভাব, ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবার অভাব এবং ইন্টারনেটের ধীরগতি নিয়ে অসন্তোষ দীর্ঘদিনের।

১৯৭৫ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত চলা গৃহযুদ্ধের পর থেকে আজ পর্যন্ত দেশটির অবকাঠামো পুনর্গঠন শেষ হয়নি।

এর মধ্যে পার্শ্ববর্তী সিরিয়া থেকে দশ লাখের বেশি শরণার্থী এসেছে দেশটিতে। এই সব কিছু মিলিয়ে দেশটিতে একটু-একটু করে অসন্তোষ তৈরি।

সরকার কেন সমস্যাসমাধান করতে পারছে না?

বিশ্লেষকেরা মনে করেন এর পেছনে বড় কারণ ধর্মীয় বিভেদ।

লেবাননে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮টি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে—চারটি মুসলিম, ১২টি খ্রিস্টান, দ্রুজ সম্প্রদায় এবং ইহুদি ধর্মমত।

১৯৪৩ সালের এক জাতীয় ঐকমত্য অনুযায়ী রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি পদ সংখ্যাগুরু ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্য থেকে নির্বাচিত হবে।

রাষ্ট্রপতি সবসময় হবেন একজন ম্যারোনাইট খিস্ট্রান অর্থাৎ বিশেষ গোষ্ঠীর সিরিয় খ্রিস্টান। পার্লামেন্টের স্পীকার হবেন একজন শিয়া মুসলিম এবং প্রধানমন্ত্রী হবেন একজন সুন্নি মুসলমান।

পার্লামেন্টের ১২৮টি আসনও সমানভাবে খ্রিস্টান এবং মুসলমানদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়।

১৯৮৯ সালে গৃহযুদ্ধ অবসানের পরেও এই ব্যবস্থা বহাল আছে।

দেশটির এই ধর্মীয় বৈচিত্র্যের কারণে প্রায়শই অন্য দেশের টার্গেট হয়ে ওঠে লেবানন।

যেমন লেবাননের শিয়া গোষ্ঠী হেযবোল্লাকে ইরান পৃষ্ঠপোষকতা দেয়, যে গোষ্ঠীটি মূলত সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে সরাসরি জড়িত। হেযবোল্লা লেবাননের ক্ষমতা কাঠামোতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করতে গিয়ে, প্রায়শই সুশাসনের ব্যপারে ছাড় দিতে হয় রাজনৈতিক নেতাদের।

সুশাসন ছাড়া দারিদ্র দূরীকরণ, দুর্নীতি রোধ এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।

বিক্ষোভ কি নতুন?
লেবাননে বিক্ষোভ নতুন নয়। কিন্তু শেষবার এরকম বড় বিক্ষোভ হয়েছিল ২০০৫ সালে বোমা হামলায় সাদ হারিরির বাবা সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি নিহত হবার পর।

কিন্তু এবারের আন্দোলন কিছুটা ব্যতিক্রমী।

এবারের আন্দোলন একেবারে তৃণমূল থেকে উঠে এসেছে, এবং তাদের নির্দিষ্ট কোন নেতা নেই।

কেবল সরকারের কাছ থেকে জবাবদিহিতার দাবি তুলছেন না তারা, নিজ নিজ ধর্মীয় ধর্মীয় গোষ্ঠীকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভারতের করিমগঞ্জের নাম বদলে শ্রীভূমি করতে চায় বিজেপি

আসামের বরাক উপত্যকার অন্তর্গত করিমগঞ্জের নাম বদল করে শ্রীভূমি রাখার দাবি নিয়ে সেখানে দানা বাঁধছে নতুন বিতর্ক।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একশো বছর আগে সিলেট সফরের সময়ে করিমগঞ্জেও গিয়েছিলেন। সেই ঘটনার শতবার্ষিকী উৎযাপনের সময়ে দাবি উঠেছে, তিনি সিলেটকে শ্রীভূমি বলে বর্ণনা করেছিলেন, তাই করিমগঞ্জের নতুন নাম হোক শ্রীভূমি। খবর বিবিসি বাংলার

দাবিটা যেহেতু জোরালোভাবে জানিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির একজন বিধায়ক তাই বিশ্লেষকদের অনেকেই এতে রাজনীতি দেখছেন।

তারা বলছেন যেভাবে নানা শহরের ইসলামিক নাম যেভাবে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে বদলানো হয়েছে, সেই একই ভাবনা এখানেও কাজ করছে।

১৯১৯ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পা রেখেছিলেন করিমগঞ্জ শহরে। সেখানে একটি সভা করে তারপরে গিয়েছিলেন সিলেটে।

গবেষকরা মনে করেন শ্রীহট্ট বা সিলেট সফরকালেই কাউকে সম্ভবত অটোগ্রাফ দিতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ওই অঞ্চলকে বর্ণনা করে লিখেছিলেন, মমতাবিহীন কালস্রোতে, বাঙলার রাষ্ট্রসীমা হোতে, নির্বাসিতা তুমি, সুন্দরী শ্রীভূমি।

অবিভক্ত সিলেট জেলার মধ্যে শুধু করিমগঞ্জই দেশভাগের পরে ভারতে যুক্ত হয় — তাই করিমগঞ্জের নাম পাল্টিয়ে রবীন্দ্রনাথের বর্ণনা অনুযায়ী শ্রীভূমি করার দাবি উঠেছে।

মঙ্গলবার একটি সভায় ওই দাবিকে জোরালোভাবে তুলে ধরেন হোজাইয়ের বিজেপি বিধায়ক শিলাদিত্য দেব।

তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম কেন নাম বদলের দাবি তিনি তুললেন।

বিজেপি বিধায়ক শিলাদিত্য দেব বলেন, বরাক উপত্যকার বেশিরভাগ মানুষই সিলেটি। তাই সিলেটের সঙ্গে তাদের একটা আবেগ জড়িয়ে আছে। কিন্তু যখন পুরো সিলেট আর ভারতের থাকল না, শুধু করিমগঞ্জ অঞ্চলটা এদেশে এল, তখন থেকেই বরাকের মানুষের একটা সেন্টিমেন্ট জড়িয়ে রয়েছে সিলেটকে নিয়ে।

তিনি আরো বলেন, আমি ওই অনুষ্ঠানে যখন করিমগঞ্জে গিয়েছিলাম, অনেকেই আমাকে জানিয়েছিলেন যে রবীন্দ্রনাথের করিমগঞ্জ পদার্পনের শতবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর সব থেকে ভাল উপায় হবে যদি তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী করিমগঞ্জের নাম যদি শ্রীভূমি রাখা যায়। সেজন্যই তাদের দাবিটিকে আমি পূর্ণ সমর্থন জানানোর কথা বলেছি।

এই দাবি নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দরবার করবেন বলেও তিনি জানান।

করিমগঞ্জে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পদার্পণের শতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির যে সভা থেকে তিনি এই দাবি তুলেছিলেন, সেখানে হাজির ছিলেন আরেক বিজেপি নেতা মিশনরঞ্জন দাস।

তিনিও বলেন, যে দাবিটির সঙ্গে তিনি সহমত এবং তারাও এই দাবী জানাবেন সরকারের কাছে।

তবে বিশ্লেষকদের একাংশ আর বরাক উপত্যকার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলি বলছে করিমগঞ্জের নাম বদলের প্রসঙ্গটি রাজনৈতিক দাবি।

বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের সাধারণ সম্পাদক গৌতম দত্ত বলেন, আসামের বাঙালীরা এখন একটা মহাসঙ্কটের মুখোমুখি। এন আর সির মাধ্যমে ১৯ লক্ষ মানুষ, যাদের মধ্যে সিংহভাগ বাঙালী, তারা রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। এই সময়ে একটা প্রান্তিক শহরের নাম বদলের প্রস্তাব দেওয়াটা একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক। আসল সমস্যা থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতেই করিমগঞ্জের নাম বদলের প্রস্তাব তোলা হয়েছে। আমরা সংগঠনগতভাবে এর বিরোধিতা করছি।

তিনি বলেন, ডিটেনশান ক্যাম্পগুলোতে কয়েকশো হিন্দু বাঙালী বন্দী রয়েছেন, যারা মারা যাচ্ছেন বন্দীশিবিরে, তাদেরও অনেকে হিন্দু বাঙালী। শিলাদিত্য দেবদের দল বা তিনি নিজে কী করছেন সেই বিষয়ে তারা তো হিন্দুদের কথা বলেন সবসময়ে?

বিশ্লেষক ও দৈনিক যুগশঙ্খ পত্রিকার সম্পাদক অরিজিৎ আদিত্য মনে করছেন যে এর আগেও যেভাবে নানা শহরের ইসলামিক নাম বদল করেছে বিজেপি, এটাও সেরকমই একটা প্রচেষ্টা।

শিলাদিত্যবাবুদের মনে রাখা উচিত যে এই নাম পাল্টানোর যে রাজনীতি তার দল শুরু করেছেন, তার সঙ্গে স্থানীয় আবেগ জড়িয়ে থাকে। এই ক্ষেত্রে কিন্তু আমাদের কারও কাছে কোনও ইঙ্গিত নেই যে করিমগঞ্জের নাম বদলের প্রস্তাব স্থানীয় মানুষদের মধ্যে থেকে এসেছে। তাহলে কেন নাম বদল? একটাই কারণ – করিমগঞ্জ নামটার মধ্যে করিম শব্দটা আছে আর তার সঙ্গে ইসলামের যোগসূত্র। ২০২১ এর নির্বাচনের আগে তারা একটা হাওয়া তৈরি করতে চাইছেন বলে মনে হচ্ছে।

করিমগঞ্জের নাম বদলের দাবীকে সমালোচনা করেছে কংগ্রেস দলও। কিন্তু নাম বদল নিয়ে তিনি রাজনীতি করছেন বলে যে সমালোচনা হচ্ছে শিলাদিত্য দেবের, সেই বিষয়ে তিনি বলেন, এটা নিয়ে যে রাজনীতি দেখছেন, তারা দেখতে পারেন। কিন্তু আমি কোনও রাজনীতি করি নি। আমি একটা দলের বিধায়ক ঠিকই, কিন্তু আমার বাবারও সিলেটে জন্ম। তাই আবেগ আমারও আছে। আর রবীন্দ্রনাথের দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী একটা সুন্দর জেলার সুন্দর নাম হবে – এটাই চেয়েছি।

হোজাইয়ের এই বিজেপি বিধায়কের ভাষণ বা বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। আসামে এন আর সি প্রক্রিয়া চলাকালীন কথিত বাংলাদেশী অবৈধ মুসলমানদের নিয়ে তার মন্তব্যকে ঘিরে বারে বারেই বিতর্ক হয়েছে।

তার ফেসবুকে পেইজ থেকে করা নানা পোস্ট থেকে যে কটূক্তি আর ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়ানো হয়েছিল, তা অতি সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম অনলাইন অ্যাক্টিভিজমের ওয়েবসাইট আওয়াজ।

সড়ক দুর্ঘটনায় ড্রেক্সেল ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশি ছাত্রীর মৃত্যু

সাড়ে ৩৭ ঘণ্টা লাইফ সাপোর্টে থাকার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের ড্রেক্সেল ইউনিভার্সিটির ছাত্রী মেহেরুন চৌধুরী (১৯)। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া সিটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতন হয়েছিলেন মেহেরুন।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে তাকে পেন প্রেসবাইটেরিয়ান মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করেছিল ফিলাডেলফিয়ার পুলিশ।

ঘটনার সময় মেহেরুনের ভাই ছিল গাড়িতে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রিলিজ দেয়া হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়ার সন্তান লুৎফর চৌধুরী মিঠুর কন্যা মেহেরুন।
পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে মিলবোর্ন বরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট নূরুল হাসান জানান, দুর্ঘটনায় মেহেরুনের বিএমডব্লিউর সামনের অংশ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ মেহেরুনকে হাসপাতালে নেয়। তার মৃত্যুর সংবাদে প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বুরকিনা ফাসোতে কানাডিয়ান খনির গাড়িবহরে হামলায় নিহত ৩৭

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর পূর্বাঞ্চলে কানাডিয়ান খনির এক গাড়িবহরে সন্ত্রাসী হামলায় ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত প্রায় ৬০ জন।

বুধবার (৬ নভেম্বর) জিয়েনাজিয়েনা প্রদেশে মন্ট্রিলভিত্তিক খনিপ্রতিষ্ঠান ‘সেমাফো’র মালিকানাধীন স্বর্ণখনি ‘বুয়োঙ্গো’র গাড়িবহরে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে এ তথ্য জানা যায়।

খবরে বলা হয়, বুধবার নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় ৫টি বাসে করে সেমাফোর কর্মী, কন্ট্রাক্টর ও সাপ্লায়াররা বুয়োঙ্গো স্বর্ণখনির দিকে যাচ্ছিল। এরই এক পর্যায়ে খনি থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাড়িবহরের কাছে প্রথমে একটি শক্তিশালী আইইডি বোমা বিস্ফোরিত হয়। এরপর অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা বহর লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করতে থাকে। হামলাকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপরেও গুলি চালায়।

এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে সেমাফো জানায়, আমাদের প্রতিষ্ঠান হতাহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানায়। বুরকিনা ফাসোর নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা।

কানাডা সরকারের কূটনীতিক বিভাগ ‘গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা’র মুখপাত্র অ্যাঞ্জেলা সাভার্দ জানান, সেমাফোর গাড়িবহর ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় কানাডা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

বাংলাদেশ ইজ নট এ মিডল ইনকাম কান্ট্রি: ওয়াশিংটনে ’রেইজ দ্যা মাইক’ এর প্রচারনা

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির বিভিন্ন বাসষ্ট্যান্ডে ’বাংলাদেশ ইজ নট এ মিডল ইনকাম কান্ট্রি’ সম্বলিত বিজ্ঞাপন প্রচার করছে এইডস হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশন (এএইচএফ) পরিচালিত এডভোক্যাসি গ্রুপ রেইজ দ্যা মাইক (মিডল ইনকাম কান্ট্রি)। প্রচারিত এই বিজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশের পার ক্যাপিটা ইনকাম প্রায় ৪.৮০ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের পার ক্যাপিটা ইনকাম প্রায় ১৭২ ডলার। বিশ^ব্যাংকের লগো সম্বলিত এইডস হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশন (এএইচএফ) পরিচালিত এডভোক্যাসি গ্রুপ রেইজ দ্যা মাইক (মিডল ইনকাম কান্ট্রি) এর এই পোষ্টার এখন ওয়াশিংটন ডিসির বিভিন্ন স্থানে দেখা যাচ্ছে। 
এইডস হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশন (এএইচএফ) পরিচালিত এডভোক্যাসি গ্রুপ রেইজ দ্যা মাইক (মিডল ইনকাম কান্ট্রি) এর মতে বিশ্বব্যাংকের গৃহীত বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে ব্যাংকের ওয়াশিংটনস্থ হেডকোয়ার্টার এর সামনে বিক্ষোভও করেছে। তাদের মতে,  বিশ্বব্যাংকের গৃহীত বিভিন্ন নীতির ফলে খুব শীঘ্রই মধ্য-আয়ের দেশগুলিতে অনেক সেবামুলক নাগরিক সমাজ সংগঠনকে বন্ধ করতে বাধ্য করতে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থাগুলি বিশ^ব্যাংকের এই নীতির ফলে স্বল্প-উন্নত দেশগুলি থেকে তাদের সহযোগিতা ও সমর্থন সরিয়ে নিতে পারে। একই সঙ্গে এইচআইভি এবং যক্ষ্মার মতো প্রাণঘাতী রোগীরা নিম্ন-আয়ের দেশগুলির রোগীদের তুলনায় ওষুধের জন্য ১০ গুণ বেশি মুল্য দিতে বাধ্য হবে। যদিও নি¤œ আয়ের দেশ ও মধ্যম আয়ের দেশের মধ্যে দৈনিক আয়ের পার্থক্য ১ ডলারের কিছু বেশি হবে। 
এইডস হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশন (এএইচএফ) পরিচালিত এডভোক্যাসি গ্রুপ রেইজ দ্যা মাইক (মিডল ইনকাম কান্ট্রি) এর মতে বিশ্বব্যাংকের গৃহীত বিভিন্ন নীতি দারিদ্র্য বিমোচনের বিপরীত প্রভাব রয়েছে। মাইক (মিডল ইনকাম কান্ট্রি) এখন বিশ্বের ৭৫% দরিদ্র এবং এইচআইভি সহ বিশে^র দুই-তৃতীয়াংশ লোক এর ঘর হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।
এইডস হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশন (এএইচএফ) পরিচালিত এডভোক্যাসি গ্রুপ রেইজ দ্যা মাইক (মিডল ইনকাম কান্ট্রি) এর এই প্রচারনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশে দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করলে দূতাবাসের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, তারা এই ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তবে দূতাবাস এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করবে। 

ইন্টারনেটে এক শিক্ষকের আইএস বিরোধী লড়াই

ইসলামিক স্টেট ২০১৪ সালে যখন ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় মসুল শহর দখল করে নেয় তখন তারা ইন্টারনেটে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে শুরু করে।

এই প্রচারণায় তাদের মূল কথাই ছিল, আইএসের অধীনে জীবন কতোটা সুন্দর সেটা তুলে ধরা। এরকম কিছু ভিডিও তৈরি করে তারা ইন্টারনেটে পোস্ট করে সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। খবর বিবিসি বাংলার

আইএস এতোটাই চরম ও সন্ত্রাসী একটি গ্রুপ যে আল কায়দাও তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে।

এই গোষ্ঠীটির জিহাদি জঙ্গিরা হঠাৎ করেই অত্যন্ত দ্রুত গতিতে তাদের কালো পতাকা উড়িয়ে গাড়ির দীর্ঘ বহর নিয়ে ঢুকে পড়ে মসুল শহরে।

প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠুর এই জঙ্গিদের ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহরটি দখল করে নিতে সময় লাগে এক সপ্তাহেরও কম। তার পরেই তারা সেখানে কঠোর সব ধর্মীয় আইন চালু করতে শুরু করে।

স্থানীয় লোকজন, যারা সেখানে বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ বিগ্রহ দেখে আসছিলেন তাদের কাছে এধরনের সন্ত্রাসের অভিজ্ঞতা এর আগে কখনো ছিলো না।

ওমর মোহাম্মদ বলেন, আইএসের মতো খারাপ আর কিছু ছিলো না। প্রত্যেকটা দিন আমরা একটা ভয়ের মধ্যে বেঁচে থাকতাম। একটা পক্ষ নিতে হতো। সিদ্ধান্ত নিতে হতো আপনি তাদের পক্ষে না বিপক্ষে। আমি তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেই।

আইএস যখন শহরটি দখল করে নেয় তখন তিনি মসুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস পড়াতেন।

আইএসের জঙ্গিরা বিশ্ববিদ্যালয়টিকে দখল করে নিয়ে সেখানে তাদের সামরিক ঘাঁটি তৈরি করে। রসায়ন বিভাগে যেসব ল্যাবরেটরি ছিল সেগুলোকে তারা বোমা তৈরির কারখানায় পরিণত করে।

তাদের মধ্যযুগীয় উগ্র বিশ্বাস ছাড়া আর সব ধরনের শিক্ষার ওপর তারা আরোপ করে নিষেধাজ্ঞা।

এই লোকগুলো শুধু অস্ত্রশস্ত্র নিয়েই এই শহরে আসেনি। সাথে করে তারা কিছু ইতিহাসও নিয়ে এসেছিলো এই শহরের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার জন্য। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করা।

একজন ঐতিহাসিক হিসেবে ওমর মোহাম্মদ তখন মনে করলেন, এই বিকৃত ইতিহাসের বিরুদ্ধে তার রুখে দাঁড়ানো উচিত।

আইএসের শীর্ষ নেতা আবু বকর আল-বাগদাদি জুলাই মাসের চার তারিখে এই মসুল শহরের আল নূরী মসজিদে দাঁড়িয়ে গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন এক রাষ্ট্র বা খেলাফত প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করেন। তার এই ভাষণ সারা বিশ্বে সম্প্রচার করা হয়েছিল।

ওমর মোহাম্মদ বলছেন, তখন আমি খুব বিরক্ত হই। কে এই লোক যে আমাদের শহরে এসে নিজেকে খলিফা বলে দাবি করলেন! কে তিনি?

আইএস তখন ইন্টারনেটে তাদের সমস্ত উগ্র বিশ্বাসের পক্ষে প্রচারণা চালাতে শুরু করে। কিন্তু ইতিহাসের শিক্ষক ওমর মোহাম্মদ এসব দেখে এর বিরুদ্ধে পাল্টা প্রচারণা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

তিনি একটি ওয়েবসাইট চালু করলেন। এর নাম দিলেন মসুল আই বা মসুলের চোখ। শহরের যেসব জায়গা তখনও আইসিসের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়নি, সেসব এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো সারা বিশ্বকে জানানোই ছিল এই ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য।

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই তিনি বাইরে চলে যেতেন তথ্য সংগ্রহের জন্যে। মুদি দোকানদার থেকে শুরু করে আইএস জঙ্গি সবার সাথেই কথা বলতেন তিনি। তারপর তিনি ঘরে ফিরে যেতেন। বাইরে নিজের চোখে যা দেখেছেন, নিজের কানে যা শুনেছেন এসব অভিজ্ঞতার কথা তিনি ওই ওয়েবসাইটে লিখতে শুরু করলেন।

হাতে লিখতেন তিনি। তারপর স্ক্যান করে সেগুলোর ডিজিটাল কপি তৈরি করতেন। পোস্ট করতেন অনলাইনে।

একেবারে শুরু থেকেই আমি সিদ্ধান্ত নেই যে আমি শুধু প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরবো। যা দেখেছি, যা শুনেছি একজন ইতিহাসবিদ হিসেবে আমি সেসব তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। একজন ইতিহাসবিদ যেভাবে এসব কাজ করেন আমিও সেভাবে করার চেষ্টা করেছি।

কিন্তু এসব করার পেছনে একটা বড় বিপদ ছিল। সাধারণ লোকজন ও আইসিসের জঙ্গিদের সাথে কথা বলে তিনি যেসব পোস্ট করতেন তাতে জিহাদিরা তাকে একজন গুপ্তচর হিসেবে সন্দেহ করতে পারতো।

তিনি বলেন, আমি ঠিক করেই নিয়েছিলাম যে কখনো প্রশ্ন করবো না। কৌশলটা ছিল এরকম যে আলাপ করার মতো করে কথাবার্তা শুরু করবো। তখন তাকে কিছু জিজ্ঞাসা না করলেও সে অনেক কথা বলে ফেলতো।

তার এই কৌশলের একটি উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এই খাবারটা তেমন ভালো না। তখন আমরা বলাবলি করতাম ওহ, এই খাবারটা আমরা আগে বিক্রি করতাম। কিন্তু এখন বিক্রি করতে পারি না। কারণ কারো হাতে বেশি অর্থ নেই। স্বাভাবিক একটি দিনের মতোই আমরা কথা বলতাম, এই কথাবার্তা থেকেই তিনি আমাকে অনেক তথ্য দিয়ে দিতেন। কিন্তু তিনি সেটা বুঝতে পারতেন না।

তিনি বলে দিতেন যে আইএসের জঙ্গিরা তার কাছ থেকে কর তুলে নিয়ে গেছে। কোন একজনকে আইএস গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে কারণ তিনি তাদেরকে কর দেননি। এ ধরনের তথ্য।

প্রতিদিনই তিনি লিখতেন। লেখার পর সেগুলো তিনি লুকিয়ে রাখতেন বিভিন্ন জায়গায়। প্রায় রাতেই তিনি এক জায়গা ছেড়ে আরেক জায়গায় চলে যেতেন। এই কাজটা তিনি করতেন মধ্য রাতে। তার আশঙ্কা ছিল আইএস জঙ্গিরা তাকে খুঁজে বের করে তাকে ধরে নিয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, ল্যাপটপের সবকিছুই তিনি মুছে দিতেন। কিন্তু যা কিছু লেখা হতো তার সবই তিনি লিখতেন তার নিজের হাতে।

কিন্তু হাতে লিখতেন কেন?

উত্তরে তিনি বলেন, যাতে লোকজন বুঝতে পারেন যে কোন একজন মানুষ এটা লিখেছে।

এর পর আইএস তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা আরো বিস্তৃত করে। ইরাক থেকে সিরিয়ায়। এসব জায়গায় তারা চালু করে কঠোর সব আইন কানুন। কী ধরনের পোশাক পরা যাবে ও যাবে না এসব উল্লেখ করে ড্রেস কোডও চালু করে তারা। সিগারেট খাওয়া, মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর আরোপ করা হয় নিষেধাজ্ঞা। এজন্যে চাবুক মারা ও হাত কেটে ফেলার মতো শাস্তির বিধানও চালু করে তারা।

প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয় বহু মানুষ। এসব বর্বর ও নিষ্ঠুর শাস্তির উদ্দেশ্যই ছিলো অন্যদেরকে ভীত সন্ত্রস্ত করা। এরকম বহু খবর ওমর মোহাম্মদ নিজেও মসুল আই ওয়েবসাইটে তুলে ধরেছেন। সেগুলোর বিষয়ে এতো বছর পরেও তিনি কথা বলতে স্বস্তি বোধ করেন না।

তিনি বলেন, প্রকাশ্যে এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে উদ্দেশ্য ছিলো একটাই- ভীতি ছড়ানো। এবিষয়ে আইসিসের দক্ষতা শিল্পের পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। আমি দুঃখিত যে আমাকে শিল্প শব্দটি ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিভাবে একজনকে হত্যা করতে হবে তার ওপর তারা খুব জোর দিতো। যেন তারা হলিউডের একটি সিনেমার জন্যে শুটিং করছে। হরর মুভি।

ওমর মোহাম্মদ জানান, সমকামীদের তারা উঁচু ভবন থেকে নিচে ছুঁড়ে ফেলে দিত। নারীদের লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়ে মেরে তাদেরকে শাস্তি দিতো। শিশুদেরকে তারা বেত্রাঘাত করতো, হাত কেটে ফেলতো, বৃদ্ধ লোকেরা নামাজ পড়ার জন্যে মসজিদে যেতে পারতো না বলে তাদেরকে চাবকানো হতো। শিরশ্ছেদ করতো। এমনকি একজন ভাইকে দিয়ে আরেকজন ভাইকে গুলি করিয়ে হত্যা করতো। এসব তো কল্পনারও বাইরে ছিলো।

কিন্তু হত্যা করার সময় তারা হাসতো, তারা খুশি ছিলো, এসব তারা উপভোগ করতো, লোকজনকে সন্ত্রস্ত করে তারা আনন্দ উপভোগ করতো।

মসুল আই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসব খবর পৌঁছে যেতে বাকি বিশ্বের কাছে- কতো জনকে হত্যা করা হয়েছে, আইএসের কৌশল, খাদ্য সঙ্কট – এসব খবরাখবর দিয়ে ওমর মোহাম্মদ তার নিজের জীবনেরই ঝুঁকি নিয়েছিলেন। কারণ আইএসের একেবারে নাকের ডগাতেই এসব করে যাচ্ছিলেন তিনি।

একটা সামান্য ভুল থেকেই ওমর মোহাম্মদের মৃত্যু হতে পারতো। সেকারণে কেউ জানতো না যে, মসুল আই এর পেছনে ছিলেন তিনি। তিনিই চালাতেন এই ওয়েবসাইট। এমনকি তার মা-ও এটা জানতেন না।

একবার আমি আমার রুমে ছিলাম। তাদের ও আমার মাঝখানে ছিলো শুধু পাতলা একটি দেয়াল। আমি যখন ওয়েবসাইটে তাদের বিরুদ্ধে যায় এরকম খবরাখবর দিচ্ছিলাম তখন পাশের ঘরেই ছিলো আইএসের একজন সিনিয়র যোদ্ধা। পাশের বাড়িতেও ছিল আইসিস যোদ্ধারা। সামনের বাড়িটাও ছিলো আইসিসের একটি গুদাম ঘর। রাস্তার পেছনেও আইসিসের আরো একটা গুদাম ঘর ছিল। রাস্তায় ছিল বিমানবিধ্বংসী অস্ত্র। আর এসবের মাঝখানে ছিলাম আমি। আর আমি কিনা আইসিসের বিরুদ্ধে রিপোর্ট লিখে যাচ্ছি!

ওমর মোহাম্মদ মনে করেন, তাদের এতো কাছে থেকে এসব করা হচ্ছিল বলেই তিনি বেঁচে গেছেন। কারণ আইসিসের যোদ্ধারা চিন্তাও করতে পারেনি যে তাদের এতো কাছে থেকে কেউ এরকম কিছু করার সাহস পাবে।

মসুল আই ব্লগে যা কিছু প্রকাশিত হতো তার ওপর দৃষ্টি পড়তো আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের। তারপর সেসব মিডিয়াতেও এসব খবর প্রকাশিত হতো। এভাবেই মসুলে আইসিসের বর্বরতার চিত্র সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তো।

মসুল আই সম্পর্কে একসময় জেনে যায় আইসিসও। তার পরই তারা ওই ওয়েবসাইটে হত্যার হুমকি দিয়ে বার্তা পাঠাতে শুরু করে।

কিন্তু ওমর মোহাম্মদ মনে করেন, সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে মসুল শহরের লোকজন মসুল আই সম্পর্কে জানতো। ফলে তারা বিশ্বাস করতো যে শহরের ভেতর থেকেই আইসিসের বিরুদ্ধে একটা প্রতিরোধ গড়ে উঠছে।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এই লড়াই ছিলো ইতিহাসের একজন শিক্ষকের একার লড়াই।

এটা ছিলো খুবই হতাশার। কারণ আমি কাউকে বলতে পারছিলাম না। আমার আশেপাশে যারা আছে তাদেরকেও না। এমন যদি একজন থাকতো যার সাথে আমি কথা বলতে পারতাম! অন্তত একজনকে যদি আমার অনুভূতির কথা বলতে পারতাম। যদি বলতে পারতাম আমি ক্লান্ত।

কারো সাথে যদি আলাপ করতে পারতাম যে এসব কাজ কেমন করে আরো একটু ভালোভাবে করা যায়, আমি কোন ভুল করছি না সেটা জিজ্ঞেস করারও কেউ ছিলো না। কিন্তু আমি তো একাই সবকিছু করছিলাম।

তিনি বলেন, আইসিসকে প্রতিরোধের যে সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন সেটা খুব একটা সহজ ছিলো না।

আমি তো ঘরেই বসে থাকতে পারতাম। বসে বসে অপেক্ষা করতে পারতাম যে কেউ একজন এই শহরকে মুক্ত করবে। কিন্তু আমি মনে করেছি এই কাজটা করা আমারই দায়িত্ব। আর এজন্যে আমার হাতে ছিল শুধু কাগজ আর কলম।

পরে মসুল শহর ছেড়ে অন্যত্র চলে যান ওমর মোহাম্মদ। মসুল আই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মসুল লাইব্রেরির জন্যে বই সংগ্রহ করা হয়।

আইএস এই পাঠাগারটি ধ্বংস করে ফেলেছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নাঙ্গলকোটের যুবক নিহত

দক্ষিণ আফ্রিকায় মোটর সাইকেল ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে কুমিল­ার নাঙ্গলকোট উপজেলার জোড্ডা পূর্ব ইউনিয়নের পানকরা গ্রামের শরিফ আহমেদ( ৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন প্রবাসী ব্যবসায়ী একই গ্রামের রুপাই ভুইয়া।


জানা যায়, গত রবিবার ৩ নভেম্বর রাতে কর্মস্থল থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাসায় ফেরার সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি প্রাইভেটকার পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেলে থাকা শরীফসহ আরো এক আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ ঘটনার পর সে দেশের পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে মর্গে রেখেছেন। শরীফের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারে শোকের মাতম চলছে।

কাশ্মিরের জনাকীর্ণ বাজারে গ্রেনেড হামলা

বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর উত্তপ্ত কাশ্মিরে আাবারও গ্রেনেড হামলা হয়েছে। হামলায় এক বেসামরিক ব্যক্তির প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।

আজ (৪ নভেম্বর) সোমবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে শ্রীনগরের এক সব্জি বাজারে এই হামলা চালানো হয়।

দিল্লির দাবি, পাকিস্তানি মদদপুষ্ট জঙ্গিরাই কাশ্মিরে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তারা এই দাবি প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছে। এ বছর আগস্টে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে অঞ্চলটিকে দুই টুকরো করে দেয় দিল্লি।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩১ অক্টোবর জম্মু-কাশ্মির ও লাদাখ পৃথক দুই অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এরপর থেকে কাশ্মিরে উত্তেজনা বেড়েছে। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বিগত ১০ দিনের মধ্যে কাশ্মিরে তৃতীয় বারের মতো গ্রেনেড হামলা চালানো হলো।

পিটিআই ও এনডিটিভির খবরে দাবি করা হয়েছে, সোমবার শ্রীনগরে মৌলানা আজাদ বাজারে জঙ্গিরা গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে । শহরের কেন্দ্রস্থল হরি সিং হাই স্ট্রিটে ঘটা ওই বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এরআগে ২৮ অক্টোবর কাশ্মিরের সোপোরের বাস স্টেশনে গ্রেনেড হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হন। ওই হামলার জন্য সন্ত্রাসীদের দায়ী করে ভারতীয় পুলিশ। ওই হামলার দুই দিন আগে শ্রীনগরে দেশটির আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ সদস্যদের ওপরও গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলায় ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানি মদদপুষ্ট জঙ্গিদের দায়ী করা হয়।