করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে

করোনাভাইরাস সংক্রমণ সামাল দিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো কারফিউ জারির মতো সিদ্ধান্তে গেছে। কোয়ারেন্টিনে চলে গেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর। শঙ্কা দেখা দিয়েছে জাপানে আসন্ন অলিম্পিক আয়োজন নিয়ে। করোনাভাইরাসের কারণে গত কয়েক ঘন্টায় বিশ্বে আরও যেসব ঘটনা ঘটেছে।

সৌদিতে কারফিউ:
করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ তিন সপ্তাহের জন্য রাত্রিকালীন কারফিউ ঘোষণা করেছে। কারফিউ ঘোষণা করেছে কুয়েত ও বাহরাইনও।

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান
করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার।

টেলিভিশনে বক্তৃতায় আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনি বলেছেন যে আমেরিকা ইরানের সবচেয়ে বড় শত্রু এবং এই মহামারির পেছনে আমেরিকাকে দায়ী করছেন তিনি।

ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আমি জানি না যে এই অভিযোগ কতটা বাস্তব, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিকে কারা সরল মনে বিশ্বাস করবে যে আপনাদের থেকে ওষুধ নেয়া নিরাপদ? হয়তো আপনাদের ওষুধের মাধ্যমেই ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার।

টেলিভিশনে বক্তৃতায় আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনি বলেছেন যে আমেরিকা ইরানের “সবচেয়ে বড় শত্রু” এবং এই মহামারির পেছনে আমেরিকাকে দায়ী করছেন তিনি।

ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আমি জানি না যে এই অভিযোগ কতটা বাস্তব, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিকে কারা সরল মনে বিশ্বাস করবে যে তোমাদের থেকে ওষুধ নেয়া নিরাপদ? হয়তো আপনাদের ওষুধের মাধ্যমেই ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কোনও প্রমাণ না দিয়েই তিনি অভিযোগ করেন যে ভাইরাসটি “এই ভাইরাসটি ইরানীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এবং এজন্য তারা বিভিন্ন উপায়ে ইরানীদের জিনগত তথ্য সংগ্রহ করেছে।”

ইরানের ওপর পরমাণু নিষেধাজ্ঞা না তুলে সহায়তা দেয়ার প্রস্তাবকে আমেরিকা ভণ্ডামি বলে অভিযোগ তুলেছেন অন্যান্য ইরানী কর্মকর্তারা।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আক্রান্ত রেকর্ড করা হয়েছে এই ইরানে। যা ২১,৬০০ জনেরও বেশি।

সরকারি হিসেবে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৮৫ জনে।

তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে ইরানে সংক্রমণ ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

কোয়ারেন্টিনে গেলেন জার্মানির চ্যান্সেলর
করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ এবং দুইজনের বেশি লোকের সমাবেশকে নিষিদ্ধ করেছে জার্মানি। পুরো পরিস্থিতি দেখভালের দায়িত্বে কাজ করছে পুলিশ।

এর আওতায় বিউটি পার্লার, সেলন, এবং ম্যাসেজ স্টুডিওগুলি বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া অতি জরুরি নয় এমন পণ্যের দোকান ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।।

রেস্তোরাঁগুলোকে কেবল টেকওয়ে বা খাবার নিয়ে যাওয়া পরিষেবার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ রেস্তোরাঁয় আর বসে খাওয়ার সুযোগ নেই।

দেশটির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেন, সংক্রমণের হার কমিয়ে আনার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল আমাদের নিজস্ব আচরণ।

নাগরিকদের নিজের পরিবারের বাইরে বাকি সবার সাথে কমপক্ষে ৫ ফুট দূরত্বে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে মিসেস মার্কেলের অফিস জানিয়ে যে তিনি নিজেকে কোয়ারেন্টিন করে রাখছেন।

এর কারণ ৬৫ বছর বয়সী মার্কেল ভাইরাস আক্রান্ত একজন ডাক্তারের সংস্পর্শে এসেছিলেন।

সামনের কয়েকদিন নিয়মিত তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে এবং তিনি বাড়ি থেকে কাজ করবেন বলে তার মুখপাত্র জানিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ায় নিষেধাজ্ঞা
অস্ট্রেলিয়ায় করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় খুব প্রয়োজনীয় নয় এমন পরিষেবাগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে।

সোমবার মধ্যরাত থেকে দেশটি পানশালা, ক্লাব, জিমনেশিয়াম, সিনেমা হল ও উপাসনালয়গুলো বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে।

তবে রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেগুলোকে কেবল টেকওয়ে সেবা দেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ ক্রেতারা কেবল খাবার কিনে নিয়ে যেতে পারবেন। বসে খাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন জাতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে এসব নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন।

নতুন বিধিনিষেধের কারণে এখন অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে সুপারমার্কেট, পেট্রোল স্টেশন, ফার্মেসী এবং হোম ডেলিভারি পরিষেবা আগের মতোই চলবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে তিনি স্কুলগুলি খোলা রাখতে চান তবে শিশুদের বাবা-মা চাইলে সন্তানদের বাড়িতে রাখতে পারবেন।

সাম্প্রতিক দিনগুলোয় অস্ট্রেলিয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ১৩১৫ জনে পৌঁছায়।

কোভিড -১৯ থেকে অস্ট্রেলিয়া জুড়ে এখনও পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তরের সীমান্ত মঙ্গলবার থেকে বন্ধ করে দেয়া হবে।

নতুন নিয়মের অধীনে, বিদেশ আগতদের ১৪ দিনের জন্য বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে।

এদিকে, তাসমানিয়া, ইতিমধ্যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

নিউজিল্যান্ডে যেসব সেবা বন্ধ
নিউজিল্যান্ড জানিয়েছে যে এই সপ্তাহে অতি প্রয়োজনীয় নয় এমন পরিষেবাগুলো তারা বন্ধ করতে শুরু করবে।

এর আওতায় দেশটির পানশালা, রেস্তোরাঁ, ক্যাফেসহ স্বল্প প্রয়োজনীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান – বন্ধ করা হবে। স্কুলগুলি পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

গণপরিবহন শুধুমাত্র তাদেরকে ব্যবহার করতে দেয়া হবে যারা সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সেবা দিচ্ছেন।

দেশের সব মানুষকে বাড়ির ভেতরে থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কমপক্ষে চার সপ্তাহের জন্যে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার কথা জানানো হয়েছে।

সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপে সিঙ্গাপুর
এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলির মতো যারা সংক্রমণের প্রাথমিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে তার মধ্যে সিঙ্গাপুর অন্যতম। তবে দেশটি এখন সংক্রমণের দ্বিতীয় পর্যায় অতিক্রম করছে।

কারণ বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ বিভিন্ন দেশ থেকে সিঙ্গাপুরে আসতে শুরু করেছে।

গত কয়েক দিন ধরে বিদেশ থেকে আসা স্থানীয় বাসিন্দাদের সংখ্যা স্থানীয় সংক্রমণের সংখ্যা ছাড়িয়ে যেতে শুরু করেছে। স্থানীয় সংক্রমণের সংখ্যা গত রোববার পর্যন্ত ছিল ২০৮ জন, এবং বিদেশ থেকে ফেরা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৭ জনে।

এ অবস্থায় দেশটির সরকার এখন পর্যটক এবং এমনকি কাজের পাসধারী কর্মীদেরও দেশে ফিরে আসতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

টোকিও অলিম্পিক স্থগিত হবে?
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেছেন, অলিম্পিক গেমসের “সম্পূর্ণ ফর্ম” ধরে রাখা সম্ভব না হলে এবারের আসর স্থগিত করা হতে পারে।

তিনি বলেছেন, গেমস স্থগিতের করা ছাড়া হয়তো তার দেশের আর কোন উপায় নেই, তবে এই আসর বাতিল করার কথা তারা ভাবছেন না।

গত সপ্তাহের শুরুতে তিনি যা বলেছিলেন তার সঙ্গে তার এবারের মন্তব্যের মধ্যে এটি নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গেছে।

তখন তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে জাপান সংক্রমণের বিস্তারকে কাটিয়ে উঠবে এবং সমস্যা ছাড়াই অলিম্পিকের আয়োজন করবে।

এই জুলাইয়ে জাপানের রাজধানী টোকিওতে অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কানাডা অলিম্পিকে অংশ নেবে না
কানাডা ঘোষণা করেছে যে ২০২০ সালের অলিম্পিক এবং প্যারালিম্পিক গেমসে তারা তাদের কোন দল পাঠাবে না।

করোনাভাইরাস ঝুঁকির কারণে তারা নিজেদের ক্রীড়াবিদ না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডিয়ান অলিম্পিক কমিটি, আইওসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা টোকিও গেমস এক বছরের জন্য স্থগিত করে।

কানাডা বলছে যে, বিশ্ব একটি স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যে রয়েছে, যা খেলাধুলার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাজ্যে ১৫ লাখ চিঠি
করোনাভাইরাসের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে ইংল্যান্ডের ১৫ লাখ মানুষকে চিঠি পাঠিয়ে বলা হচ্ছে তারা যেন বাড়িতে থাকেন।

তাদেরকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে বা মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে সেখানে তাদের দৃঢ়ভাবে ১২ সপ্তাহের জন্য বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, প্রত্যেক নাগরিককে নিজেদের সুরক্ষার কথা ভেবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী সামাজিক দূরত্ব নির্দেশিকা অনুসরণ করতে বলেছেন।

এদিকে যুক্তরাজ্যের ধর্মীয় জমায়েত বিধিনিষেধ আরও করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮১ জনে। আক্রান্তের সংখ্যা ৫,৬৮৩ জনে পৌঁছেছে।

নিউ ইয়র্কে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা
পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে নিউ ইয়র্ক। সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মূলত চিকিৎসার সরঞ্জাম সরবরাহের যে অভাব রয়েছে সেটা আরও প্রকট হবে বলে নগরীর মেয়র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

রোববার বিল দি ব্লাজিও বলেন, আমরা ভয়াবহ সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে মাত্র ১০ দিন দূরে রয়েছি। যদি আমরা পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর না পাই তবে আরও মানুষ মারা যাবে।

নিউইয়র্ক রাজ্যটি যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। এবং দেশটিতে আক্রান্তের প্রায় অর্ধেকের বাস এই রাজ্যটিতে।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা ৩১,০৫৭ জন। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৯০ জন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, দেশব্যাপী চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে। তবে এই সরবরাহ যথেষ্ট নয় বলে সমালোচনা করেছেন ব্লাজিও।

ফিলিস্তিনে সংক্রমণ:
বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবর দিচ্ছে, গাজা ভূখণ্ডে করোনাভাইরাসের প্রথম দুজন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর পশ্চিম তীরে দু সপ্তাহের জন্য লকডাউন শুরু করেছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ।

সিরিয়ায় সংক্রমণ:
যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়াতে প্রথম করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়েছে, বলছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, আক্রান্ত ব্যক্তিটির ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

কলম্বিয়ার একটি কারাগারে করোনা আতঙ্কে ২৩ জনের মৃত্যু
করোনাভাইরাস নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে বোগোটা শহরে দেশটির সবচেয়ে বড় কারাগারে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কলম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী মার্গারিটা ক্যাবেলো বলেছেন, লা মডেলো কারাগারে দাঙ্গার ঘটনায় ৮৩ জন আহত হয়েছেন।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময়ে কারাগারে বন্দিদের উপচে পড়া ভিড় এবং দুর্বল স্বাস্থ্যসেবার বিরুদ্ধে রোববার সারাদেশের কারাগারে থাকা বন্দিরা প্রতিবাদ করেন।

বিচারমন্ত্রী বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন।

মিসেস ক্যাবেলো জানান, ৩২ জন বন্দী এবং সাত প্রহরী হাসপাতালে রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন প্রহরীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তবে কারাগারের ভেতরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের দাবি অস্বীকার করে তিনি বলেন: ” এখানে পয়ঃনিস্কাশনের কোন সমস্যা নেই। পরিকল্পনারা করে এই দাঙ্গা বাধানো হয়েছে।”

এখানে কারও মধ্যে সংক্রমণ নেই, কোন বন্দী বা হেফাজতকারী বা প্রশাসনিক কর্মচারীর করোনাভাইরাস নেই।

কলোম্বিয়ার বিচার বিভাগের পরিসংখ্যান অনুসারে, দেশটির ১৩২টি কারাগারে ৮১,০০০ বন্দি ধারণক্ষমতা থাকলেও সেখানে থাকেন এক লাখ একুশ হাজারেরও বেশি বন্দী।

এখনও অবধি কলম্বিয়ায় করোনাভাইরাসের ২৩১ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
আর্জেন্টিনায় জাতীয় লকডাউন ঘোষণা

মার্চ মাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত খাবার ও ওষুধ কেনা ছাড়া দেশের সব নাগরিককে বাড়িতে থাকার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে আর্জেন্টিনা।

লাতিন আমেরিকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ইউরোপের অনুপাতে পৌঁছায়নি।

সেখানকার সরকার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কারণে এমনটা সম্ভব হয়েছে বলে বিবিসির ক্যাটি ওয়াটসন বলেছেন।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সবশেষ পরিস্থিতি
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইউরোপীয় দেশ ইতালিতে রোববার নতুন করে ৬৫১ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে মৃতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,৪৭৬ জনে।

নতুন করে মৃত্যুর সংখ্যা শনিবারের চাইতে কম হলেও এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

দেশটিতে করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দেশটির মানুষ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে নিজেদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও, শতাংশের হিসেবে তা অনেকটাই নেমে এসেছে।

যেমন গত দুই সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩৫৭৮ জন থেকে বেড়ে ৫৯১৩৮ জন হয়েছে। এই বৃদ্ধির হার প্রাদুর্ভাব শুরুর সময়ের তুলনায় সর্বনিম্ন।

এর আগে রাষ্ট্রপতি সের্জিও মাত্তারেলা বলেছেন যে, তিনি আশা করেন ইতালি থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশ শিক্ষা নিতে পারে।

এদিকে, স্পেনে একদিনে ৩৯৪ জনের করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে, যা দেশটিতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে খারাপ চিত্র।

এতে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭২০ জনে।

দেশটির সরকার জরুরী অবস্থা ১ই এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে চাইছেন।

তবে এই প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে অনুমোদিত না হলে বাস্তবায়ন করা যাবে না। গত ১৪ই মার্চ থেকে স্পেনের মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়েছিল।

রোববার দেশটির সরকার ঘোষণা করেছে যে তারা আগামী ৩০ দিনের জন্য বিমান ও সমুদ্র বন্দরে বেশিরভাগ বিদেশি নাগরিকের প্রবেশ নিষিদ্ধ করবে।

এদিকে ফ্রান্সে নতুন করে ১১২ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭৪ জনে।

নেদারল্যান্ডস এবং গ্রিসেও মৃত্যুর সংখ্যা ও মামলার সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে।

আফ্রিকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০০০ ছাড়িয়েছে

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এই ছুটির দিনে ১০০০ জন ছাড়িয়ে গেছে।

মহাদেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ঘোষণা করেছে যে, আফ্রিকায় বর্তমানে ১১৯৮ জনের কোভিড -১৯ এ আক্রান্তের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দুবাই থেকে নিজ দেশ উগান্ডায় ফিরে আসা এক যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গতকাল করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। দেশটিতে এটাই প্রথম কারও আক্রান্ত হওয়ার খবর।

এর আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনি রোববার মধ্যরাত থেকে সমস্ত ফ্লাইট নিষিদ্ধসহ জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডায়, সরকার ঘোষণা করেছে যে তারা তাদের লকডাউনের মেয়াদ আরও ১৪ দিন বাড়িয়ে দিতে পারে। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার থেকে তারা এই লকডাউন আরোপ করেছিল।

রুয়ান্ডায় এ পর্যন্ত কোভিড-১৯ এ ১৭ জনের আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, এটি পূর্ব আফ্রিকায় সর্বোচ্চ।

ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোতে কোভিড -১৯ এ প্রথম কারও মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

পেশায় চিকিৎসক ওই ব্যক্তি ফ্রান্স থেকে ফিরেছিলেন। পরে তার মধ্যে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে।

তবে দেশটিতে ভাইরাস সংক্রমণের পরে ১০৮ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন বলে ঘোষণা এসেছে।

রোববার মরক্কোর লোকজনকে ঘরে থাকতে নির্দেশ দেওয়ার জন্য রাস্তায় সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে দেশটির সরকার। কাজ করছে পুলিশও।

শুক্রবার থেকে দেশটিতে জনস্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থা কার্যকর আছে।

করোনাভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতি
বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০০০ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

ইতালি: ৫,৪৭৬

হুবেই প্রদেশ, চীন: ৩,১৫৩

স্পেন: ১,৭৭২

ইরান: ১,৬৮৫

ফ্রান্স: ৬৭৪

বিশ্বব্যাপী তিন লাখ ত্রিশ হাজারেরও বেশি করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছেন।

চীন: ৮১,৪২৬

ইতালি: ৫৯,১৩৮

যুক্তরাষ্ট্র: ৩৩,২৭৬

স্পেন: ২৮,৭৬৮

জার্মানি: ২৪,৮৭৩

সূত্র: জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়

হাফ মিলিয়ন ডলার খরচ করে পছন্দের নারীকে বিয়ে করলেন বাংলাদেশী লেসবিয়ান ইয়াশরিকা!

প্রায় অর্ধ মিলিয়ন ডলার খরচ করে নিজের পছন্দের নারী আমেরিকান লেসবিয়ান এলিকা রুথ কুকলির (৩১) কে বিয়ে করে ঘরণী হলেন বাংলাদেশী লেসবিয়ান নারী ইয়াশরিকা জাহরা হক (৩৪)। সম্ভবতঃ ইয়াশরিকাই প্রথম বাংলাদেশী লেসবিয়ান নারী যিনি উত্তর আমেরিকায় ভালোবেসে আমেরিকান আরেক লেসবিয়ান নারীকে বিয়ে তার স্ত্রী হয়েছেন। পেতেছেন ভালোবাসার সংসার।


ইয়াশরিকা এবং কাকলির এই বিয়ে নিয়ে ঘটে করে “দে বন্ডেড ওভার ক্যারামেল পাই” হেডলাইন দিয়ে রিপোর্ট করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। গত ৭ জুন ২০১৯ বাংলাদেশী কায়দায় বাংলাদেশী লেসবিয়ান ইয়াশরিকা তার পছন্দের নারী লেসবিয়ান এলিকা রুথ কুকলিকে বিয়ে করে তাঁকে স্বামী হিসাবে গ্রহণ করে নিয়েছেন।


যুক্তরাষ্ট্রের রেপিড সিটি সাউথ ডাকোটার বাংলাদেশী বাসীন্দা ইয়াসমীন হক এবং ইয়ামীন হকের কন্যা ইয়াশরিকা ওয়াশিংটনের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা করেছেন। ২০১৫ সালে একটি এলজিবিটি মার্চে মার্কিন যুবতী এলিকা রুথ কুকলির (৩১) সঙ্গে প্রথমবারের মত দেখা হয় জাহরা হকের। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে পরিণয়। আর সেই ভাল লাগা থেকেই ২০১৯ এর ৬ জুন তারা বিবাহবন্ধনে আবন্ধ হন। তাদের এই বিয়ে আমেরিকায় হলেও বিয়ের সমস্ত আয়োজনেই ছিলো বাঙালিয়ানার ছোঁয়া।


নিজেদের প্রেমের কথা জানাতে গিয়ে ইয়াশরিকা বলেন, কুকলিকে প্রথম দেখার পর আমার যে কেমন লেগেছিল তা বলতে পারব না। তখন সে একা ছিল। আমিও তার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলাম। পরেরবার দেখা হবার পর আমাদের কথা হয়।


কয়েকমাস পর তাদের আবার দেখা হয় এক বন্ধুর পার্টিতে। কুকলি বলেন, আমি ততদিনে বুঝতে পেরেছিলাম যে আমাকে ইয়াশরিকা পছন্দ করে। সেদিন আমরা সারারাত একসঙ্গে গল্প করেছিলাম। কুকলি আরো বলেন, সে খুবই মায়াবী আর যত্মশীল একটি মেয়ে। যা-ই হোক না কেন সে আমার পাশেই থাকবে। ইয়াশরিকা বলেন, তখনও অবিবাহিত থাকার বিষয়টি ধরে রাখার চেষ্টা করচিলাম, “কিন্তু মনে হয়েছিল চুম্বককে একসাথে টেনে তোলা হচ্ছে, এবং আমি কেবল পালানোর চেষ্টা করছিলাম। কারণ আমি মনে করি না কারও সাথে থাকা আমার পক্ষে সঠিক ছিল। বিয়ের পর এখন আমার মনে হয় যে এতদিনে দুটো চুম্বক জোড়া লাগল। আমি খুবই খুশি।


ইয়াশরিকা জাহরা হক ওয়াশিংটনের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা করেছেন। তারপর ইলিনয়েসের নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নিয়েছেন। তিনি বর্তমানে একটি ল’ ফার্মে এসোসিয়েট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাদের বিয়ের সম্পূর্ণ আয়োজনটি ব্রুকলিনের ২৪০ কেন্ট এভিনিউতে হলেও আয়োজনটি ষোলো-আনাই ছিলো বাঙ্গালীত্বে ভরা। ঐতিহ্য অনুযায়ী ইয়াশরিকা হকের পরনে ছিল লাল টুকটুকে বেনারসি। দু’হাতের কনুই থেকে হাতের তালু পর্যন্ত মেহেদির আলপনা।


এলিকা রুথের পরনে ছিল অফ হোয়াইট কালার শেরওয়ানি, লাল পাজামা। লাল বেনারশীর সাজে ইয়াশরিকার দু’হাতে মেহেদির নকশা। গলায় মুক্তার মালা। কপালে স্বর্ণের টিকলী সম্পূর্ণ বাংলাদেশী ট্রাডিশনাল ভাবেই বিয়ে বসে অডিওলজিস্ট এলিকা কাকলিকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশী ইয়াশরিকা!

মুসলিম নিধন-যজ্ঞ চালিয়েছে উত্তর প্রদেশের পুলিশ

ভারতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা মিলে তাদের একটি যৌথ প্রতিবেদনে উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের পুলিশের বিরুদ্ধে গরিব মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যা করার অভিযোগ এনেছে।

দেশের প্রায় ৩০টি শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই ছাত্রছাত্রীরা গত সপ্তাহে উত্তরপ্রদেশের ১৫টি শহর ও জনপদে ঘুরে ঘুরে এই রিপোর্ট প্রস্তুত করেছে। খবর বিবিসি বাংলার

ওই রাজ্যে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে ইতিমধ্যেই অন্তত ২৩জন মারা গেছেন।

বুধবার দিল্লিতে ওই রিপোর্ট প্রকাশ করার সময় ওই ছাত্রছাত্রীরা বলেন, পুলিশের গুলিচালনার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা করা হয়েছে প্রান্তিক মুসলিম জনগোষ্ঠীকে – অনেক ক্ষেত্রে নাবালকদেরও।

এখনও সেখানে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে, মানুষ ভয়ে সিঁটিয়ে আছেন বলেও তারা জানিয়েছেন।

বস্তুত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ভারতে যে তীব্র প্রতিবাদ চলছে, তা সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী চেহারা নিয়েছে উত্তরপ্রদেশেই।

ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গত ১৯ ডিসেম্বর বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বদলা নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন।

তার পর দিন থেকেই তার রাজ্যের পুলিশ বেছে বেছে মুসলিমদের ওপর হামলা চালাতে শুরু করে বলে ওই রাজ্যে সরেজমিনে তদন্তে যাওয়া ছাত্রছাত্রীরা দাবি করছেন।

মীরাট-মুজফফরপুর-আলিগড়ে যে দলটি গিয়েছিল, তাতে ছিলেন দিল্লি ইউনিভার্সিটির ছাত্রী থৃতি দাস।

থৃতি বলেন, আমরা চারটে দলে ভাগ হয়ে মোট পনেরোটা জায়গায় ঘুরেছি, আর সবাই কিন্তু এই হামলাগুলোর মধ্যে একটা কমন প্যাটার্ন লক্ষ্য করেছি।

প্রায় প্রতিটা হামলাই হয়েছে ২০শে ডিসেম্বর, অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কারের ঠিক পরদিন – আর সবগুলোই বেলা তিনটে থেকে চারটের মধ্যে।

সে সময় মানুষ সদ্য দুপুরের নামাজ সেরে মসজিদ থেকে বেরিয়েছেন। তারা কেউ কেউ হয়তো সংগঠিত কোনও পদযাত্রায় সামিল হচ্ছিলেন, অথবা শান্তিপূর্ণ মিছিল করে এগোচ্ছিলেন।

তখনই পুলিশ তাদের বাধা দিয়ে চুপচাপ বসতে বলে। এরপরই শুরু হয়ে যায় বিনা প্ররোচনায় লাঠিচার্জ।

যদিও পুলিশ দাবি করেছে তারা ফায়ারিং করেনি, আমাদের হাতে আসা ভিডিওতে তাদের গুলি চালাতেও দেখা গেছে।

আমি তো বলব উত্তরপ্রদেশের পুলিশ নির্দিষ্টভাবে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নিশানা করে গুলি চালিয়েছে!

তিনি বলেন, যেখানে ভিক্টিমরা সবাই গরিব মহল্লার বাসিন্দা, বস্তিবাসী এবং দিন-এনে-দিন-খাওয়া মানুষজন!

বিজনৌর-কানপুরে গিয়েছিলেন আর একটি দলের সদস্য আকাশ মিশ্রা, যিনি দিল্লিতে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব মাস কমিউনিকেশনের ছাত্র।

আকাশ বলেন, পুলিশ যেখানেই গুলি চালিয়েছে কোথাও কোমরের নিচে চালায়নি – সব জায়গায় নিশানা করেছে সোজা পেটে, মাথায় বা বুকে।

সব জায়গাতেই তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল স্থানীয় বিজেপি বা সঙ্ঘ পরিবারের লোকজন।

আর তারা এমনভাবে মুসলিমদের ভয় দেখিয়েছে যে গুলিতে আহতরাও কেউ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যেতে চাইছেন না, যদি আবার তাদের লাখ-দুইলাখ টাকার জরিমানার নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হয়!

বহু ক্ষেত্রে নিহতের পরিবারকে আজও পুলিশ পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট দেয়নি।

অনেক জায়গাতেই মরদেহ পুলিশের দেখিয়ে দেওয়া জায়গায় মাত্র এক ঘন্টার মধ্যে দাফন করে দিতে হয়েছে।

আর এই জুলুম ও নির্যাতন এখনও চলছে অব্যাহতভাবে – মুসলিম মহল্লায় পুলিশ রাতবিরেতেও হানা দিচ্ছে।

অনুসন্ধানী দলের সদস্য, দিল্লির ছাত্রী অনন্যা ভরদ্বাজ বলছিলেন, “মানুষ এতটাই ভয় পেয়েছে যে আহতদের পরিবার আমাদেরও দরজা খুলে দিতে চাইছিল না।”

অনেকেই তারা ভয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।

অনন্যা বলেন, পুলিশ এখনও মুসলিমদের বাড়িতে ঢুকে পড়ছে ছাদ টপকে, দরজায় বাড়ি মেরে – এমন কী মধ্যরাতের পরেও। মানুষকে তারা ঘুমোতে পর্যন্ত দিচ্ছে না।

এই রিপোর্ট প্রকাশের অনুষ্ঠানে ছিলেন ভারতের নামী সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট পামেলা ফিলিপোস।

তিনি বলেন, দেশের মূল ধারার গণমাধ্যমগুলো যখন এবিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব, তখন এই ছাত্রছাত্রীরাই জাতির বিবেকের কাজটি করল।

তারা দেখিয়ে দিল, উত্তরপ্রদেশ কীভাবে ভারতের কিলিং ফিল্ডস বা বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে – যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা করা হচ্ছে দরিদ্র মুসলিম জনগোষ্ঠীকে, যাদের প্রতিবাদ করার কোনও শক্তিই নেই!

মহাবিশ্বের জন্ম রহস্য খুঁজছে চীনের টেলিস্কোপ

চীনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি পাহাড়ের ওপর বসানো হয়েছে টেলিস্কোপটি, বিশাল ধাতব শরীর নিয়ে যা আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

এটা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ এবং শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপ। গত বারোই জানুয়ারি থেকে এটা পুরোপুরি কার্যক্রম হয়ে উঠেছে। খবর বিবিসি বাংলার

টেলিস্কোপটির আনুষ্ঠানিক নাম হচ্ছে ফাইভ-হান্ড্রেড-মিটার অ্যাপারচার স্ফেরিক্যাল টেলিস্কোপ-যা তার সংক্ষিপ্ত নাম ফাস্ট নামে বেশি পরিচিত।

চীন এই টেলিস্কোপকে ডাকছে স্কাই আই বা আকাশ চোখ নামে।

এটা বৃহত্তর এবং বেশি শক্তিশালী
ফাস্ট টেলিস্কোপটি মহাবিশ্বের গভীরতর এবং অন্ধকারতম কোণে কোণে অনুসন্ধান করে জানার চেষ্টা করবে কীভাবে এই বিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে এবং অন্য কোথাও জীবনের অস্তিত্ব আছে কিনা।

নাম দেখেই বোঝা যায়, এই দূরবীনটির ব্যাস হচ্ছে আধা কিলোমিটারব্যাপী বিস্তৃত। এর আগের বড় দূরবীনটি ছিল পুয়ের্তো রিকোর আরিসিবো পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের, যার ব্যাস হচ্ছে ৩০৫ মিটার।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফাস্ট দূরবীনের নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার আগে আরিসিবো রেডিও টেলিস্কোপটি ছিল ক্যাটেগরির দিক থেকে পৃথিবীর বৃহত্তম দূরবীন।

ফাস্ট শুধুমাত্র সবচেয়ে বড় যন্ত্রই নয়, বর্তমানে চালু থাকা যেকোনো রেডিও টেলিস্কোপের চেয়ে এটা ২.৫ গুণ বেশি স্পর্শকাতর।

১৯৯০ এর দশকে এই দূরবীন নিয়ে আলাপ আলোচনা শুরু হয়, কিন্তু সেটার পরিণতি পেতে সময় লাগে প্রায় দুই দশক।

২০১৬ সালে প্রথমবার এটির কার্যক্ষমতার পরীক্ষা করা হয়।

ফাস্ট টেলিস্কোপের মিশন কী?
ফাস্ট টেলিস্কোপের নির্মাতারা আশা করছেন যে, এই রেডিও টেলিস্কোপটি যেসব সিগনাল ধরতে পারবে, তা থেকে মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য এবং বিবর্তনের তথ্য উদঘাটন করা যাবে।

এর প্রধান কাজ হলো মহাকর্ষীয় তরঙ্গ অনুসন্ধান করা। সেই সঙ্গে এটা মহাজগতের অন্ধকার উপাদানগুলোর সমীক্ষা করবে এবং মহাবিশ্বের অন্য কোথাও সভ্যতা আছে কিনা, সেটার অনুসন্ধান করবে।

দূরবীনের যে বৈশিষ্ট্যটি বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বেশি উদ্দীপ্ত করছে, তা হলো মহাবিশ্বের তরঙ্গ বিস্ফোরণের (এফআরবিস) তথ্য দ্রুত সনাক্ত করার ক্ষমতা। এ ধরণের তীব্র শক্তির বিস্ফোরণ কেবলমাত্র মিলি সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে।

এ ধরণের ধরণের বিস্ফোরণের কারণ এখনো জ্যোতির্বিদদের কাছে একটি রহস্য। সুতরাং এক্ষেত্রে পাওয়া নতুন যেকোনো তথ্য উপাত্ত বিজ্ঞানীরা আগ্রহের সঙ্গে গ্রহণ করবেন।

কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী ভিক্টোরিয়া কাসপি বলেন, এফআরবিস সনাক্ত এবং গবেষণা করার ক্ষেত্রে এই টেলিস্কোপটি একটি চমৎকার যন্ত্র হিসাবে কাজ করবে। নির্গমন প্রক্রিয়া এবং হয়তো এর উৎস সম্পর্কেও এটি আমাদের তথ্য দিতে পারে।

আরিসিবো রেডিও টেলিস্কোপ যতটা রেডিও তরঙ্গ সংগ্রহ করতে পারে, ফাস্ট এর দ্বিগুণ ক্ষমতায় সংগ্রহ করতে পারবে।

ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটসের জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক অধ্যাপক মিন ইয়ুন বলেন, মহাজাগতিক সংকেত অনুসন্ধান করার ক্ষেত্রে ফাস্ট আমাদের ক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দেবে, যেক্ষেত্রে আমাদের ক্ষমতা এখনো দুর্বল।

প্রথম পরীক্ষাকালীন সময়ে, ১০২টি নতুন পালসার সনাক্ত করেছে ফাস্ট। পালসার হচ্ছে একধরণের ঘূর্ণনরত নক্ষত্র, যা নিয়মিত বিরতিতে বিকিরণ নির্গত করে।

ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলম্বিয়ার জ্যোতির্বিজ্ঞানী বিল ম্যাককাটচেয়ন বলেন, এই অর্জন হচ্ছে নজর কাড়ার মতো। নতুন করে সনাক্ত করার এই পদ্ধতি নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয় একটা ব্যাপার হবে।

মহাকাশে গ্যাসীয় পদার্থ, যেমন হাইড্রোজেন, অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে ফাস্ট টেলিস্কোপের দক্ষতা অনুপ্রাণিত করে তুলছে বিজ্ঞানীদের। এর ফলে তারা ছায়াপথের গতিশীলতার পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

স্কাই আই তৈরি করতে কতো খরচ হয়েছে?
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম একটি প্রাকৃতিক গোলাকার উপত্যকা, ডাওয়াডাং ডিপ্রেশনে বসানো ফাস্টের পেছনে খরচ হয়েছে ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এই দূরবীনে ৪৪০০ অ্যালুমিনিয়াম প্যানেল রয়েছে, যা আকাশের বিভিন্ন দিকে কেন্দ্রবিন্দু করতে পারে।

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মার্থা হাইনেস বলেন, এই ক্ষমতাই আগের টেলিস্কোপগুলোর তুলনায় ফাস্টকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে। আরিসিবোর প্যানেলগুলো এতটা কার্যকরভাবে কাজ করানো যায় না।

তিনি বলেন, ফাস্টের অপটিক্যাল সিস্টেম আপনাকে আকাশের অনেক বেশি বিস্তৃত এলাকা জুড়ে কাজ করার সুযোগ করে দেয়। তার মধ্যে এমন কিছু এলাকা রয়েছে, যা এখন আরেসিবোর আওতার মধ্যে পড়ে না।

অন্য টেলিস্কোপের তুলনায় চীনের স্কাই আই অনেক বেশি এলাকা কাভার করতে পারে, যার মানে হলো এটা অনেক বেশি মহাজাগতিক বস্তু সনাক্ত করতে পারে, বেশি মহাজাগতিক ঘটনা দেখতে পারে এবং সম্ভাব্য জীবনের সন্ধান আরো ভালোভাবে করতে পারে।

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
মার্থা হাইনেসের বক্তব্য অনুসারে, ফাস্ট টেলিস্কোপ যেসব তথ্য সংগ্রহ করবে, সেগুলো দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করা হবে পরবর্তী সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।

মানব সৃষ্ট রেডিও তরঙ্গ আলাদা করা বা প্রশমনের কাজও করতে হবে এই টেলিস্কোপকে।

সবশেষে, মিজ হাইনেস বলছেন, ফাস্ট টিমের নতুন ধরণের যন্ত্রপাতি এবং সফটওয়্যার তৈরি করতে হবে, যা এই যন্ত্রটির সংগ্রহ করা তথ্যাদির সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে পারবে।

ম্যাককাটচেয়ন বলছেন, সামনে অনেক বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, কিন্তু ফাস্টের কাছে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের অনেক প্রত্যাশাও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে মদ নিষিদ্ধের আইন কেন ব্যর্থ?

১৯৩৩ সালে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রে মদপানের অভ্যাসটি এখনো বেশ বিতর্কিত হিসাবে দেখা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে মদ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল আজ থেকে ঠিক একশো বছর আগে। খবর বিবিসি বাংলার

১৯২০ হতে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধানের ১৮ তম সংশোধনীর মাধ্যমে মদ তৈরি, বিপনন, আমদানি এবং পরিবহন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এই সময়কাল প্রহিবিশন যুগ বলে বর্ণনা করা হয়।

কিন্তু যে উদ্দেশ্যে সরকার এই কাজ করেছিল, কার্যত তার উল্টো ফল হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর অ্যালকোহলের উৎপাদন, বিপনন, বিক্রি পুরোটাই চলে যায় অপরাধী চক্রের হাতে, আর সরকার বঞ্চিত হয় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে।

যার ফলে ১৯৩৩ সালে মাত্র ১৩ বছরের মাথায় এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে মদ নিষিদ্ধ করার সেই উদ্যোগ এভাবেই বিফল হয়। ওই ঘটনার পর আজ পর্যন্ত কোনো প্রধান রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী মদ নিষিদ্ধ করার দাবি আর তোলেনি। আর এরকম একটা ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে মানুষের সমর্থনও একেবারেই নেই।

কিন্তু তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের মদপানের ব্যাপারটি এখনো বেশ বিতর্কিত।

বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে মদপানের জন্য সর্বনিম্ন বয়সসীমা যথেষ্ট উপরে। ২১ বছরের কমবয়সীরা আইনত মদ পান করতে পারে না, তাদের কাছে অ্যালকোহল বিক্রি নিষিদ্ধ।

ইউরোপ বা অন্য অনেক দেশের তুলনায় মদপানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মনোভাবও বেশি রক্ষণশীল। গ্যালপ পোল সম্প্রতি এক জরিপ চালিয়ে দেখেছে এখনো দেশটির প্রতি পাঁচ জনের একজন মনে করে মদ পান নৈতিকভাবে খারাপ।

তবে প্রহিবিশন যুগের ব্যর্থ চেষ্টা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে এখনো কিছু গোষ্ঠী সক্রিয়ভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে মদ পান নিষিদ্ধ করার জন্য।

প্রহিবিশন পার্টি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল। অনেকের ধারণা, এই দলের মৃত্যু ঘটেছে অনেক আগে। কিন্তু আসলে তা নয়, এটি এখনো সক্রিয়।

জিম হেজেস হচ্ছেন এই দলের কোষাধ্যক্ষ।
তিনি বলেন, আমরা এই ধারণা এবং এই ইতিহাসকে জীবন্ত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে খুব শিগগিরই যে তাদের এই আন্দোলনের পক্ষে বড়সড় জনসমর্থন পাওয়া সম্ভব হবে, সেটা স্বীকার করছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র মদ্যপান নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল উনিশ শতকের গোড়ার দিকে। আন্দোলনকারীরা মূলত মদ্যপানকে অনৈতিক এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করতেন।

মেথডিস্ট চার্চের অনুসারীরা এবং আরও কিছু সংগঠন মদ পান নিষিদ্ধ করার আইনের পক্ষে জনমত গঠনে সহায়তা করে।

মদ নিষিদ্ধ করার আন্দোলনে নারী সমাজ:
ডক্টর জুলিয়া গারনেরি কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির মার্কিন ইতিহাসের সিনিয়র লেকচারার।

তিনি বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এই মদ্যপান বিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্রে নারী সমাজের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে উইমেন্স ক্রিশ্চিয়ান টেম্পারেন্স ইউনিয়ন বা ডাব্লিউসিটিইউ বলে সংগঠনটির।

ওরা মনে করত যে লোকজন কাজ করে যে বেতন পায়, সেটা পরিবারের পর্যন্ত আসে না, তার আগেই ওরা পানশালায় মদ খেয়ে সেই টাকা উড়িয়ে দেয়।

মদ খেয়ে বাড়ি আসা স্বামীর হাতে স্ত্রী এবং সন্তানদের নির্যাতিত হওয়ার ঘটনাও ছিল সেসময়ের এক বড় সমস্যা।

যুক্তরাষ্ট্রে মদ নিষিদ্ধ করা আর নারীদের ভোটাধিকারের আন্দোলন চলছিল একই সঙ্গে। প্রহিবিশন আইন পাশ হওয়ার কিছুদিন পরই ১৯ তম সংশোধনীও পাশ হয় যাতে মেয়েদের ভোটাধিকারের সুরক্ষা দেয়া হয়। যে নারীরা সেসময় ভোটাধিকারের পক্ষে আন্দোলন করছিলেন, তারা একই সঙ্গে মদ পান নিষিদ্ধ করারও পক্ষে ছিলেন। কারণ তারা মনে করতেন, নারীদের নির্যাতিত হওয়ার পেছনে পুরুষদের মদের নেশাও ছিল একটি কারণ।

ডক্টর গারনেরির মতে, এই দুটি আইনের মধ্যে অনেক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ডাব্লিউসিটিইউর মতো সংগঠন মনে করতো, পরিবারের সুখ-শান্তি এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য মদ নিষিদ্ধ করার দরকার আছে।

উনিশ শতকের শেষে এবং বিশ শতকের গোড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল সংখ্যায় অভিবাসী আসছিল। এদের মধ্যে ছিল প্রচুর ক্যাথলিক এবং ইহুদি ধর্মাবলম্বী যারা এসেছিল মূলত দক্ষিণ এবং পূর্ব ইউরোপ থেকে। এই অভিবাসীদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ ছিল। ইউরোপ থেকে আসা এই নতুন অভিবাসীদের মধ্যে মদ পানের অভ্যাস ছিল। এরা যেভাবে বিয়ার পান করতো, তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মাবলম্বীদের কাছে ছিল খুবই অস্বাভাবিক ঠেকতো। ক্যাথলিক এবং ইহুদীদের ধর্মীয় রীতি-নীতির মধ্যেই মদ্যপানের ব্যাপার আছে। যদিও সেসব রীতি-নীতি পালনে বাধা দেয়া হতো না, তারপরও মদ পান নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে আসলে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণেরও একটা চেষ্টা ছিল।

মদ্যপান নিষিদ্ধ করার ব্যাপারটি কেন ব্যর্থ হয়েছিল

প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ যখন শুরু হলো তখন এই মদ্যপান নিষিদ্ধ করার আন্দোলনটি আরো শক্তিশালী হয়। যারা আন্দোলন করছিলেন তারা যুক্তি দিয়েছিলেন যে উৎপাদিত শস্য মদ তৈরি করার চাইতে বরং যুদ্ধের কাজে লাগানোটাই বেশি দরকার। অন্যদিকে যেসব ভাটিখানায় বিয়ার তৈরি করা হতো, সেগুলোর মালিক ছিল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জার্মান অভিবাসী বা তাদের বংশধররা। কাজেই অ্যালকোল তৈরি বা পান করা, সেটাকে আমেরিকা-বিরোধী বলে চিত্রিত করা খুব সহজ ছিল।

কিন্তু মদপান নিষিদ্ধ করার এই উদ্যোগ একেবারেই ব্যর্থ হয়েছিল।

কারণ শুরু থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষ, বিশেষ করে যারা সচ্ছল এবং সুবিধাভোগী, তারা এই আইন একেবারেই মানতো না। এমনকি প্রেসিডেন্ট ওয়ারেন হার্ডিং নিজেও নাকি হোয়াইট হাউজে প্রকাশ্যে মদ পরিবেশন করতেন।

শেষ পর্যন্ত দেখা গেল মদ নিষিদ্ধ করার ব্যাপারটি বেশ অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে যে রকম বেআইনিভাবে মদ কেনাবেচা হচ্ছিল তাতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে শুরু করল।

১৯৩০ সালে ওয়াল স্ট্রীটের শেয়ার বাজারে ধস নামলো, শুরু হলো মহামন্দা। ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হয়েই প্রতিশ্রুতি দিলেন যে তিনি নির্বাচিত হলে মদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবেন। ১৯৩২ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার এক বছর পরই তিনি তুলে নিলেন এই নিষেধাজ্ঞা।

তবে সেই বিফল চেষ্টার শত বছর পরও যুক্তরাষ্ট্রে কিছু মানুষ এখনো স্বপ্ন দেখেন, কোন একদিন মদ আবার নিষিদ্ধ হবে।

মদ্যপান নিষিদ্ধ করার পক্ষে সবচেয়ে সক্রিয় যে দলটি, সেই প্রহিবিশন পার্টির ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন জিম হেজেস। তিনি ৫ হাজার ৬শ ভোট পান। এর আগে ২০১২ সালের নির্বাচনে পাওয়া ৫১৮ ভোটের চেয়ে অনেক বেশি, বলছেন তিনি।

তবে মিস্টার হেজেস স্বীকার করছেন যে যুক্তরাষ্ট্রে যদি আবার মদ্যপান নিষিদ্ধ করতে হয় জনমতে একটা পরিবর্তন আসতে হবে।

তিনি বলেন, যদি আমরা মানুষের সমর্থন ছাড়া উপর থেকে এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেই, এটা আসলে কার্যকর করা যাবে না।

চীনের রহস্যজনক ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে হাজারো মানুষ

চীনে নতুন করে সনাক্ত হওয়া এই ভাইরাসের আগে আরো ছয় ধরণের করোনাভাইরাস সনাক্ত করা হয়েছে যা মানুষকে আক্রান্ত করেছে।

চীনে রহস্যজনক ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা দেশটির সরকারি ভাবে প্রকাশিত সংখ্যার তুলনায় আরো অনেক বেশি বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। খবর বিবিসি বাংলার

নতুন এই ভাইরাসে ৫০ জন আক্রান্ত হওয়ার কথা নিশ্চিতভাবে জানা গেছে বলে জানানো হয়, কিন্তু যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন এই সংখ্যা এক হাজার ৭শ জনেরও বেশি।

গত ডিসেম্বরে ইউহান শহরে সনাক্ত হওয়ার পর থেকে এখনো পর্যন্ত দুই জন শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় মারা গেছে।

রোগ প্রাদুর্ভাব বিষয়ক বিজ্ঞানী অধ্যাপক নিল ফার্গুসন বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায়ও এ সপ্তাহে আমি অনেক বেশি উদ্বিগ্ন।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গ্লোবাল ইনফেকশাস ডিজিজ অ্যানালাইসিস এর এমআরসি সেন্টার এই গবেষণাটি করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাজ্য সরকার এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো সংগঠনের পরামর্শক হিসেবে কাজ করে থাকে।

সিঙ্গাপুর এবং হংকং ইউহান থেকে আগত বিমান যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করেছে। শুক্রবার থেকে নিজেদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর যথা সান ফ্রান্সিসকো, লস এঞ্জেলেস এবং নিউইয়র্কে একই ধরণের পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও।

আক্রান্তের সংখ্যা কিভাবে হিসাব করা হয়েছে?
এই সমস্যাটি কতটা ভয়াবহ হবে তা নির্ভর করে অন্যান্য দেশে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার কতটি ঘটনা পাওয়া যায় তার উপর।

যদিও এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চীনের ইউহান শহরকে কেন্দ্র করেই রয়েছে, তবে থাইল্যান্ডে দুই জন এবং জাপানে একজন আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

অধ্যাপক ফার্গুসন বলেন, এ জন্যই আমি ভয় পাচ্ছি। ইউহান শহর থেকে রোগটি অন্যান্য দেশের তিন জন ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, তার মানে হচ্ছে আক্রান্তের এই সংখ্যা বাস্তবে আরো অনেক বেশি হতে পারে যা হয়তো এখনো নজরে আসেনি।

এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন সংখ্যা পাওয়া অসম্ভব কিন্তু আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ-যা ভাইরাসের উপর নির্ভর করে, স্থানীয় জনসংখ্যা এবং ফ্লাইটের তথ্য থেকে এ সম্পর্কিত একটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

ইউহান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি এক কোটি ৯০ লাখ মানুষ ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু এই বিমানবন্দর ব্যবহার করে প্রতিদিন মাত্র ৩ হাজার ৪০০ মানুষ আন্তর্জাতিক সফর করে থাকে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত হিসাব, বিজ্ঞান বিষয়ক একটি জার্নালে প্রকাশের আগে যেটি অনলাইনে পোস্ট করা হয়েছে তাতে দেখা যায় যে, ১৭০০ মানুষ এই রোগে এখনো পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে।

এটার অর্থ কী?
অধ্যাপক ফার্গুসন বলেন, এখনই হুঁশিয়ারি দেয়াটা একটু অগ্রিমই হয়ে যায়” কিন্তু তিনি গত সপ্তাহের তুলনায় এখন আরো বেশি উদ্বিগ্ন।

চীনের কর্তৃপক্ষ বলছে, এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার কোন ঘটনা এখনো দেখা যায়নি। বরং ভাইরাসটি আগে শুধু পশু-পাখিকে আক্রান্ত করলেও এটি এখন আরো শক্তিশালী হয়েছে এবং এটি মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে। এই ভাইরাসটি ইউহানের একটি সিফুড এবং বন্যপ্রাণীর বাজারের আক্রান্ত পশু থেকে এসেছে বলেও জানানো হয়।

অধ্যাপক ফার্গুসন বলেন, মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাটিকে আগের চেয়ে আরো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।

করোনাভাইরাস সম্পর্কে আমরা যা জানি তা বিশ্লেষণ করে আমার যে ধারণা সেটি হচ্ছে যে, শুধুমাত্র পশুর সংস্পর্শ এতো বেশি সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার একমাত্র কারণ হতে পারে না।

কোন একটি ভাইরাস কিভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তা জানাটাই এটির হুমকি পরিমাপের অন্যতম উপায়।

ভাইরাসটি আসলে কী?
আক্রান্ত রোগীদের কাছ থেকে ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করে তা গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

চীনের কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এই সংক্রমণ যে ভাইরাসের কারণে হচ্ছে সেটি আসলে এক ধরণের করোনাভাইরাস।

অনেক ধরণের করোনাভাইরাস রয়েছে, কিন্তু শুধু ছয় ধরণের ভাইরাস মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। নতুন ভাইরাস-সহ এটি হবে সপ্তম।

একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা দেয় সাধারণ সর্দি, কিন্তু মারাত্মক ধরণের সংক্রমণ বা সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা সংক্ষেপে সার্স হচ্ছে এক ধরণের করোনাভাইরাস। যাতে ২০০২ সালে ৮০৯৮ জন আক্রান্ত হয়েছিল এবং এদের মধ্যে ৭৭৪ জন মারা গিয়েছিল।

ভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্য (জেনেটিক কোড) বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, মানুষকে আক্রান্ত করা অন্য করোনাভাইরাসের তুলনায় সার্সের সাথে এটির বেশি মিল রয়েছে।

এই ভাইরাসের কারণে রোগীরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং এদের মধ্যে দুই জন মারা যায়।

অন্য বিশেষজ্ঞরা কী বলছে?
ওয়েলকাম মেডিকেল রিসার্চ চ্যারিটির পরিচালক ডা. জেরেমি ফারার বলেন, এই মহামারি থেকে আরো অনেক কিছু আসতে পারে।

অনিশ্চয়তা এবং তথ্যের ফাঁক রয়েই যায়, তবে এটা পরিষ্কার যে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের একটা নূন্যতম মাত্রা তো রয়েছেই।

চীন এবং অন্যান্য দেশ থেকে আমরা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাচ্ছি এবং এই সংক্রমণের ধরণ অনুযায়ী, আরো অনেক দেশে এ ধরণের আরো অনেক সংক্রমণের ঘটনা রয়েছে।

নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোনাথন বল বলেন, যে বিষয়টা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে, গবেষণাগারে ব্যাপক হারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এ ভাইরাসে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা বলাটা খুব কঠিন।

কিন্তু আমাদের হাতে আরো তথ্য আসার আগ পর্যন্ত এই সংখ্যাটাকে আমাদের গুরুত্বের সাথে নিতে হবে, ৪১টি ক্ষেত্রে পশু থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ার তথ্য রয়েছে, তবে সনাক্ত হয়নি এমন আরো অনেক সংক্রমণ রয়েছে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আসলে কী চান?

গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর নেতা হচ্ছেন ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর বয়স ৬৭।

রাশিয়ায় অনেক তরুণ ভোটার আছেন, যারা তাদের জীবনে ভ্লাদিমির পুতিন ছাড়া আর কাউকে দেশটির নেতা হিসেবে দেখেননি। পুতিনের সঙ্গে তার স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। খবর বিবিসি বাংলার

রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট পুতিনের পৌরুষদীপ্ত ছবি দিয়ে করা একটি ক্যালেণ্ডার দেশটিতে বেশ জনপ্রিয়

পুতিন কী করেছেন?
পুতিন কী করেননি? তিনি দেশের বাইরে যুদ্ধ চালিয়েছেন, দেশের ভেতরে পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার করেছেন। প্রতিবেশী ইউক্রেনের একটি অংশ দখল করে নিয়ে তিনি রাশিয়ার সীমানা বাড়িয়েছেন। রাশিয়ার সবচেয়ে বেশি বিক্রির ক্যালেণ্ডারে শোভা পেয়েছে তার ছবি।

অন্যদিকে অতি সম্প্রতি তিনি দেশটির সংবিধানে ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব করেছেন যাতে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আনা যায়। তারপর এক নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেছেন।

কেন এসব তিনি?
কাগজে কলমে পুতিন দাবি করছেন এর মাধ্যমে রাশিয়াকে আরও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করা যাবে।

তিনি সরকারের হাতে আরও ক্ষমতা দিতে চান। যেমন মন্ত্রী নিয়োগ বা এধরণের ক্ষমতা। অন্যদিকে তিনি প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করতে চান।

কিন্তু বাস্তবে আসলে পুতিন এখন চতুর্থ মেয়াদের জন্য ক্ষমতায় আসীন। রাশিয়ার বর্তমান সংবিধান অনুসারে তিনি আর নতুন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারেন না। কারণ সংবিধান অনুযায়ী পর পর দুবারই কেবল ক্ষমতায় থাকা যায়। কিন্তু পুতিন টানা দুবার প্রেসিডেন্ট থেকে এরপর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে গিয়ে আবার টানা দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্টের পদে আছেন। এরপরও পুতিন যে রাশিয়ার ক্ষমতার মঞ্চ থেকে সরে যাবেন তা মনে হচ্ছে না। রাশিয়ার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, পুতিন রাশিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতায় তার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য পরবর্তী পরিকল্পনার ছক কাটছেন।

কীভাবে তিনি সেটা করবেন?
কাযাখাস্তানের নুর সুলতান নাযারবায়েভের কাছ থেকেই আজীবন ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশল পুতিন ধার করেছেন বলে সমালোচকরা বলেন।

বিশ্বের অনেক দেশের নেতাই নির্লজ্জভাবে তাদের ক্ষমতার মেয়াদ নিজেরাই বাড়িয়ে নিয়েছেন। এজন্যে হয় তারা সংবিধানের এক সংক্রান্ত বিধিনিষেধ বাতিল করে দিয়েছেন অথবা কোন সাংবিধানিক ফাঁক-ফোকরের সুযোগ নিয়েছেন।

পুতিন ইতোমধ্যে এই কাজ একবার করেছেন। এবার মনে হচ্ছে পুতিন নতুন কোন কৌশল আঁটছেন। রাশিয়ায় স্টেট কাউন্সিল নামে একটি পরিষদ আছে, যার প্রধান তিনি নিজে। এখন পর্যন্ত এর ক্ষমতা এবং উদ্দেশ্য খুবই সীমিত। কিন্তু এখন এই স্টেট কাউন্সিলকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্র ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার এরকম কৌশলের নজির আছে। কাযাখাস্তানের নুরসুলতান নাযারবায়েভ প্রেসিডেন্টের পদ থেকে অবসর নিয়ে আজীবনের জন্য লিডার অব দ্য নেশন বা জাতির নেতার পদে অধিষ্ঠিত হন।

এই রোমাঞ্চকর রাজনৈতিক নাটকের পরবর্তী পর্বটি তাহলে কখন?

ভ্লাদিমির পুতিন ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের পদে থাকতে পারবেন। কিন্তু তার পর কে আসলে দায়িত্ব নেবেন, সেটা নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা আছে।

পুতিন তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যাকে বেছে নিয়েছেন, সেই মিখাইল মিশুস্টিনকে অনেকে হিসেবের বাইরে রাখছেন। রাশিয়ায় একটা কথা চালু আছে। সেখানে নাকি রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষপদটি টেকোমাথা আর কেশাবৃত মানুষের মধ্যে আবর্তিত হয়, অর্থাৎ একবার কোন টেকোমাথা ক্ষমতায় তো পরের বার কোন কেশাবৃত নেতার পালা।

শুনতে যতই খারাপ লাগুক, রাশিয়ার বর্তমানে প্রেসিডেন্ট পুতিনের মাথায় কিন্তু টাক। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্টিনও টেকো, কাজেই তিনি পুতিনের উত্তরসুরী হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হচ্ছে।

মিসাইল হামলার পর ইরান ক্ষান্ত দিয়েছে

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে মিসাইল হামলা চালানোর পর ইরান মনে হচ্ছে ক্ষান্ত দিয়েছে।

হোয়াইট হাউজ থেকে দেয়া টেলিভিশন বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, বুধবার ভোররাতের হামলায় কোনো কোন আমেরিকান বা ইরাকীর প্রানহানী হয়নি। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে খুবই সামান্য। খবর বিবিসি বাংলার

হামলার বদলা নেওয়ার কোনো হুমকি দেননি ট্রাম্প।

বদলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান যদি পারমানবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা বাদ দেয় এবং, তার ভাষায়, সন্ত্রাসের পথ ত্যাগ করে, তাহলে শান্তি স্থাপনেও তিনি প্রস্তুত।

যদিও এর আগে কাসেম সোলেইমানি হত্যাকাণ্ডের পর মি. ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যদি কোন রকম হামলা চালায় তাহলে ৫২টি ইরানী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাবে আমেরিকা।

ইরান যে নতুন কোনো হামলা চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করেছে তাকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তারা যে ক্ষান্ত দিয়েছে সেটা সবার জন্যই মঙ্গল।

গত কদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যে ধরণের সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি তিনি দিচ্ছিলেন আজ তার কিছুই ট্রাম্পের কন্ঠে শোনা যায়নি।

তবে সাংবাদিকদের সামনে তার সংক্ষিপ্ত বিবৃতির শুরুতেই মি. ট্রাম্প বলেন তিনি যতদিন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট থাকবেন ইরানকে পারমানবিক অস্ত্র অর্জন করতে তিনি দেবেন না।

তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে তিনি নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দেবেন যা ততদিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে যতদিন ইরান তার আচরণ না বদলাবে। তবে এ ব্যাপারে তিনি ভেঙ্গে কিছু বলেননি।

তিনি বলেন, ১৯৭৯ সাল থেকে ইরানের বহু আপত্তিকর কর্মকান্ড সহ্য করা হচ্ছে, অনেক হয়েছে আর নয়।

তবে একইসাথে তিনি বলেন, ইরান একটি মহান দেশ হতে পারে, সে যোগ্যতা তাদের রয়েছে…আমাদের সবার এখন উচিৎ ইরানের সাথে নতুন একটি চুক্তির চেষ্টা করা যাতে করে বিশ্ব নিরাপত্তা বাড়ে।

ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের যে দাবি ইরাকের পার্লামেন্ট করেছে, সে ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি ট্রাম্প।

তবে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেলের কোনো প্রয়োজন আমেরিকার নেই। একইসাথে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অধিকতর ভূমিকা নেওয়ার জন্য নেটো জোটকে বলবেন।

কাসেম সোলায়মানিকে হত্যার পক্ষে আবারো যুক্তি তুলে ধরেন তিনি। নিহত ইরানি জেনারেলকে সন্ত্রাসী হিসাবে আখ্যা দিয়ে মি ট্রাম্প বলেন, তার হাত হাজার হাজার ইরানি এবং আমেরিকানের রক্তে রঞ্জিত ছিল।

আমেরিকার মুখে চপেটাঘাত
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি বলেন, ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার মাধ্যমে তারা আমেরিকার মুখে চপেটাঘাত করেছেন। গতরাতে আমরা তাদের মুখে চড় মেরেছি।

১৯৭৮ সালের কোম বিক্ষোভের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আয়াতোল্লাহ খামেনি এ কথা বলেন।

এ সময় সমবেত জনতা আমেরিকার ধ্বংস চাই বলে শ্লোগান দেয়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরো বলেন, যখন সংঘাতের প্রসঙ্গ আসে তখন এ ধরণের সামরিক হামলা যথেষ্ট নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, (মধ্যপ্রাচ্যে) আমেরিকার উপস্থিতি শেষ করে দেয়া।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিও বলেন, আমেরিকাকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিতাড়িত করতে পারলেই কাসেম সোলেইমানির হত্যার প্রতিশোধ নেওযা হবে।

ইরানের সাথে শর্ত ছাড়াই আলোচনায় বসবে আমেরিকা

ইরানের সাথে চলামান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বলছে তারা ইরানের সাথে কোন শর্ত ছাড়াই আলোচনা করতে প্রস্তুত আছে।

জাতিসংঘে দেয়া এক চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্র কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার যুক্তি তুলে বলেছে নিজেদের রক্ষা করার জন্যই এ কাজ করা হয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার

সোলেইমানি হত্যার জবাবে গত মঙ্গলবার ইরাকে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে একের পর এক মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। যদিও এতে আমেরিকান সৈন্যদের কোন ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

ইরানও জাতিসংঘে বলেছে যে নিজেদের রক্ষার জন্যই এ মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে।

চিঠিতে কী বলা হয়েছে?
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেয়া এক চিঠিতে জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেলি ক্র্যাফট বলেছেন, ইরানের দ্বারা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা যাতে হুমকির মুখে না পড়ে এবং উত্তেজনা যাতে বৃদ্ধি না পায় সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করতে তৈরি আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের চিঠিতে বলা হয়, সোলেইমানি হত্যাকাণ্ড সঠিক পদক্ষেপ ছিল।

জাতিসংঘ সনদের ৫১ ধারায় বলা হয়েছে, কোন রাষ্ট্র যদি নিজেদের রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নেয় তাহলে সেটি দ্রুত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে অবহিত করতে হবে।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সৈন্য এবং স্বার্থ রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেবে।

অন্যদিকে জাতিসংঘ সনদের ৫১ ধারা উল্লেখ করে ইরানও চিঠির মাধ্যমে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে।

জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত মাজিদ তখত রাভানচি এক চিঠিতে জানিয়েছেন, ইরান কোন যুদ্ধ কিংবা উত্তেজনা বাড়াতে চায়না।

মার্কিন ঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট এবং যথাযথ সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরান আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত।

ইরানের রাষ্ট্রদূত চিঠিতে জানিয়েছেন, এই অভিযান ছিল সুনির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে সামরিক ছাড়া কোন বেসামরিক মানুষ এবং তাদের সম্পদের কোন ক্ষতি হয়নি।

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত চিঠি নিয়ে বিভ্রান্তি

ইরাকের পার্লামেন্টের দাবির প্রেক্ষিত দেশটির ক্যাম্প থেকে মার্কিন সৈন্যদের সরে যাওয়ার খবর প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার।

যদিও এর মধ্যে মার্কিন একজন জেনারেলের একটি চিঠি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিলো, কারণ ওই চিঠিতে বলা হয়েছিলো যে মার্কিন সৈন্যরা ইরাক ছাড়ছে। খবর বিবিসি বাংলার

ওই চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ইরাকি এমপিরা মার্কিনীদের ইরাক ছাড়ার আহবান জানানোর পর সামনের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রকে তার সৈন্যদের অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে।

এই বিভ্রান্তি তৈরি হয় ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পর আমেরিকান সৈন্যদের উদ্দেশ্য করে দেয়া হুমকির মধ্যেই।

শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে তাকে হত্যা করা হয়, যা ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

ইরানীরা এই হত্যাকাণ্ডের কঠিন প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করেছে।

চিঠিতে কী ছিলো?
মনে হচ্ছে চিঠিটি পাঠিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উইলিয়াম এইচ সিলি। তিনি ইরাকে মার্কিন ফোর্সের প্রধান।

চিঠিটি তিনি পাঠিয়েছেন ইরাকে জয়েন্ট ফোর্সের ডেপুটি ডিরেক্টর আব্দুল আমিরের কাছে।

এতে বলা হয়, স্যার, ইরাকের সার্বভৌমত্ব এবং পার্লামেন্ট ও ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে কম্বাইন্ড জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স সামনের দিনগুলোতে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাহিনীর অবস্থান নতুন করে সাজানো হবে।

চিঠিতে বলা হয় ইরাকের বাইরে নিরাপদে যাওয়ার জন্য এয়ার ট্রাফিক বাড়ানো সহ কিছু পদক্ষেপ ডার্কনেস আওয়ারে করা হবে।

এছাড়া বাগদাদে গ্রিন জোনে নতুন কোয়ালিশন ফোর্স আনা হচ্ছে বলে যে ধারনা তৈরি হয়েছে তাও দুর করা হয় এই চিঠিতে।

কিভাবে ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে ?
এসপার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরাক ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। চিঠির বিষয়ে আমি জানিনা। এটি কোথা থেকে এলো আমরা তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি।

কিন্তু ইরাক ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

পরে চেয়ারম্যান অফ দা জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ মার্ক মিলে বলেন চিঠিটি ছিলো একটি ভুল।

দিল্লীতে ছাত্র-শিক্ষকদের ওপরে মুখোশধারীদের হামলা

জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রোববার সন্ধ্যার দিকে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়েছে ৫০ জনেরও বেশী মুখোশধারী দুষ্কৃতি।

এসময় তারা ছাত্র ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ঐশী ঘোষের মাথা ফাটিয়ে দেয়। হামলায় আহত হন আরও অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক। খবর বিবিসি বাংলার

তাদেরকে গুরুতর আহত অবস্থায় অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স বা এইমস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এরইমধ্যে মিসেস ঘোষের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে তাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, দেখুন আমার ওপরে কীভাবে হামলা হয়েছে। ওদের সকলের মুখ ঢাকা ছিল। দেখুন কত রক্ত পড়ছে। সাংঘাতিকভাবে মেরেছে আমাকে।

বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পুলিশ ফ্ল্যাগ মার্চ করছে।

ছাত্রছাত্রীরা বেশ কয়েকমাস ধরে হোস্টেল ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলন চালাচ্ছেন। প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে সিংহভাগ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা এবং রেজিস্ট্রেশন বয়কট করেছেন।

অন্যদিকে হিন্দু পুনরুত্থানবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয়া স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি সমর্থক কিছু ছাত্র বলছেন তাদের ক্লাস করতে বা পরীক্ষা বয়কট করতে আন্দোলনকারীরা কেন বাধ্য করছে?

হামলাকারীরা সবাই এই এবিভিপি-র সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে হামলাকারীদের আনা হয়েছে বলে অভিযোগ ছাত্র ইউনিয়নের।

শুধু ছাত্রছাত্রীদের নয়, তাদের হামলায় শিক্ষকরাও আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওদিকে এবিভিপি-র পাল্টা অভিযোগ বামপন্থী ছাত্রছাত্রীরাই তাদের ওপরে প্রথমে হামলা চালায়। একটি সংবাদ বিবৃতিতে তারা বলেছে এসএফআই [সিপিআইএম দলের ছাত্র সংগঠন], এইএসএ [নকশালপন্থী সিপিআইএমএল লিবারেশনের ছাত্র সংগঠন] এই হামলার জন্য দায়ী।

বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের সামনে ব্যাপক সংখ্যায় দুই পক্ষের ছাত্রছাত্রীরা জড়ো হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশ পড়া বেশ কিছু নারী-পুরুষ লাঠি হাতে এগিয়ে আসছেন।

এক ছাত্রী চিৎকার করে তাদের প্রশ্ন করছেন, এটা কী হচ্ছে! তোমরা কারা? মেয়েদের হোস্টেলে কেন ঢুকছ! আমাদের ভয় দেখাতে এসেছ?

ওই ভিডিওতেই শোনা যাচ্ছে কিছু ছাত্রী স্লোগান দিচ্ছেন, এবিভিপি গো ব্যাক।

এই ভিডিওটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে মুখোশধারী হামলাকারীদের গালিগালাজ করতে শোনা যায়।

একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মুখোমুখি দুই পক্ষ, অন্যদিকে ছাত্ররা দিল্লি পুলিশের হেডকোয়ার্টারের সামনেও জড়ো হয়েছে বড় সংখ্যায়।

দুটি জমায়েতেই ব্যাপক সংখ্যায় অন্যান্য কলেজ – বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন।

ছাত্রছাত্রীরা এই প্রশ্নও তুলছেন, যখন মুখোশধারী হামলাকারীরা ক্যাম্পাসে তাণ্ডব চালাচ্ছিল, তখন পুলিশ সেখানে হাজির ছিল। কিন্তু তারা নীরব দর্শক হয়ে ছিল বলেও অভিযোগ।

দিল্লি পুলিশের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে হামলার পরে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদেরও প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। এসবের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের।

তিনি টুইট করেছেন, জেএনইউ-এর ঘটনার ছবি দেখছি। স্পষ্ট ভাষায় এই হিংসার নিন্দা করছি। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে।

জয়শঙ্কর এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর আর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে পিএইচডি করেছেন।

রাহুল গান্ধী লিখেছেন, শাসনক্ষমতায় থাকা ফ্যাসিবাদীরা ছাত্রদের সাহস দেখে ঘাবড়ে গেছে। আজকের হামলা তারাই প্রতিফলন।

সিপিআইএম-এর সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, যিনি নিজেও ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন একসময়ে, তিনি বর্তমান ছাত্র ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট ঐশী ঘোষের মাথা থেকে রক্ত ঝরার ভিডিওটি রি-টুইট করে লিখেছেন, এই ভিডিও দেখেই বোঝা যাচ্ছে আরএসএস, বিজেপি দেশের কী অবস্থা করতে চাইছে। কিন্তু আমরা ওদের এটা করতে দেব না।

ছাত্রদের ওপরে হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম।

ছত্তিসগড়ের রাজধানী রায়পুরে ছাত্রদের ওপরে হামলার বিরুদ্ধে মিছিল হয়েছে। আগামীকাল সকাল থেকে ভারতের অনেক জায়গাতেই প্রতিবাদ মিছিল হবে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বাগদাদের গ্রীন জোনসহ বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা

বৃহস্পতিবার মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ইরানের শীর্ষস্থানীয় জেনারেল কাসেম সোলেইমানির জানাজার বিশাল মিছিলের কয়েক ঘণ্টা পরে বাগদাদ অঞ্চল কেঁপে ওঠে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণে।

সুরক্ষিত গ্রিন জোনে মার্কিন দূতাবাসের কাছাকাছি এমন একটি বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া যায়। খবর বিবিসি বাংলার

ইরাকের রাজধানীর উত্তরাংশের বালাদ বিমান বন্দরের কাছে বেশ কয়েকজনকে গুলি করা হয়, যেখানে মার্কিন বাহিনীর বাস। তবে, ইরাকি নিরাপত্তা সূত্র বলছে হামলায় কেউ হতাহত হয়নি।

ইরানের নেতারা কাসেম সোলেইমানির হত্যার প্রতিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ইরানে দাফনের জন্যে নিয়ে যাবার আগে শনিবার কাসেম সোলেইমানির শবযাত্রা নিয়ে ইরাকের শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোর মধ্য দিয়ে বিশাল মিছিল করা হয়।

মার্কিন হামলায় সোলেইমানির সাথে নিহত কাতাইব হেজবুল্লাহ গ্রুপের কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহানদিসের জন্যেও শোক প্রকাশ করেন ইরাকিরা।

ইরানের সমর্থনপুষ্ট এই দলটি ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে চূড়ান্ত সতর্ক করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে আল-মায়াদিন টেলিভিশন।

ইরানের প্রতিশোধের হুমকির জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে আরো ৩০০০ অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসীদের ইরাক ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

নতুন হামলার ধরন কেমন?
ইরাকের নিরাপত্তা সূত্র জানাচ্ছে, অন্তত একটি রকেট কিংবা মর্টারের গোলা গ্রিন জোনের সেলিব্রেশন স্কয়ারে আছড়ে পড়েছে এবং অপর একটি শহরের জাদরিয়া অঞ্চলে বিস্ফোরিত হয়েছে।

আর, সংবাদ সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে যে, বালাদ বিমান ঘাঁটিতে দুটি রকেট আঘাত করার পর তার কোথা থেকে ছোড়া হয়েছে জানার জন্যে নজরদারি সক্ষম ড্রোন প্রেরণ করা হয়।

কোনো গোষ্ঠীই এই হামলার দায় অবশ্য স্বীকার করেনি। তবে ইরান পন্থী মিলিশিয়া গ্রুপগুলোকে এই মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্যে সন্দেহ করা হচ্ছে।

ইরাকে কিভাবে শোক পালন করা হচ্ছে?
বাগদাদে শোক মিছিলে অংশ নেয়া মানুষজন কফিনের পেছনে হেঁটে আল মুথানা বিমানবন্দর থেকে গ্রিন জোনের প্রবেশ ফটক পর্যন্ত আসে। তারা ইরাকি এবং মিলিশিয়া বাহিনীর পতাকা বহন করে এবং শ্লোগান দেয়, আমেরিকার মৃত্যু চাই।

শহরের অনেকগুলো রাস্তা জুড়ে মিছিল চলে। তাদের অনেকের হাতে ছিল সোলেইমানি এবং ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি।

পরে মিছিলটি পবিত্র শহর কারবালা ও নাজাফের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

তার মৃত্যুতে কয়েকদিন ধরে শোক পালন করতে যাচ্ছে ইরান ও ইরাকের সমর্থকরা।

তবে এর বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকে গণতন্ত্রপন্থীদের বিরুদ্ধে সোলেইমানির সহিংসতার অভিযোগ এনে কিছু ইরাকিকে বাগদাদের রাস্তায় উল্লাস করতেও দেখা গেছে।

ইরাকে মার্কিন দূতাবাস অবরোধের হুমকি

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসটিকে ঘিরে ইরান-পন্থী বিক্ষোভকারীরা একটি দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তারা দূতাবাসের চারপাশে তাঁবু খাটিয়েছেন এবং বলছেন, ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা অবরোধ উঠিয়ে নেবেন না। খবর বিবিসি বাংলার

মঙ্গলবার এসব বিক্ষোভকারী মিছিল করে বাগদাদের ‘গ্রিন জোন’ এ মার্কিন দূতাবাসের দিকে যায় এবং দূতাবাসের ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। তারা দূতাবাসের একটি অংশে ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।

কয়েকদিন আগে একটি আধাসামরিক বাহিনীর কয়েকজন সদস্য মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হওয়ার জের ধরে হাজার হাজার মানুষ বাগদাদের পথে নামেন।

আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ কয়েকজন সিনিয়র মিলিশিয়া ও প্যারামিলিটারি নেতা শোভাযাত্রাকারীদের সাথে পায়ে হেঁটে গ্রিন জোনের দিকে যান।

ঐ এলাকায়ই ইরাকের অধিকাংশ সরকারি অফিস ও বিদেশি দূতাবাস অবস্থিত।

ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও তাদের ওই জোনে প্রবেশ করে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বাইরে রাস্তায় সমবেত হওয়ার সুযোগ দেয়।

ইরান-সমর্থিত কাতাইব হেজবোল্লাহর ওপর মার্কিন হামলা চলে গত রোববার। এতে অন্তত ২৫ ব্যক্তি নিহত হন।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, মার্কিন লক্ষ্যবস্তুর ওপর রকেট হামলার পাল্টা জবাব দিতেই তারা ঐ বিমান হামলা চালিয়েছেন।

এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামিনি শিয়া আধাসামরিক বাহিনী কাতাইব হেজবোল্লাহর ওপর মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন দূতাবাসে হামলার পেছনে ইরান রয়েছে, একথা বলার পর মি. খামিনি তার নিন্দা করেন।

ট্রাম্প টুইটারে এক পোস্টে লেখেন, যে কোন প্রাণহানি ও দূতাবাসের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে “চরম মূল্য দিতে হবে।

তিনি বলেন, এটা কোন সতর্কবাণী না, এটা একটা হুমকি।

ওদিকে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের কাছে বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা দূতাবাসের ওপর ঢিল ছোঁড়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস এবং স্টান গ্রেনেড ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে।

মার্কিন সরকার ঘোষণা করেছে যে অবনতিশীল পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সেখানে অতিরিক্ত সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হবে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার জানিয়েছেন, আরও ৭৫০ জন মার্কিন সৈন্য সেখানে পাঠানো হচ্ছে।

এই মুহূর্তে ইরাকের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫,০০০ সৈন্য মোতায়েন আছে।

আমি আমার জীবনের ৪০ বছর ফিরে পেতে চাই

বার্নির একটি বাড়ি, পরিবার এবং শিক্ষক হিসাবে কাজ ছিল। তারপর তিনি জানতে পারেন তিনি অটিজমে আক্রান্ত।

বার্নি অ্যাংলিস তার জীবনের বেশিরভাগ সময় সুস্থ সবল থাকার জন্য লড়াই করে গেছেন। খবর বিবিসি বাংলার

অবশেষে ৪৯ বছর বয়সে এসে তিনি একটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান যা তার অনেক প্রশ্নের জট খুলতে সাহায্য করেছে।

তার মনে পড়ে, তিনি ছোট থাকতে তার পরিবার তাকে নতুন স্কুলে যেতে দেয়নি। তারা ভেবেছিল সেখানে আমাকে টিটকারি দিতে দিতে মেরে ফেলা হবে।

যদিও তিনি কথাবার্তায় ভাল ছিলেন তার হাতে গোনা কয়েক জন বন্ধু ছিল – তবে তিনি মনে করেন তার সহানুভূতি এবং সামাজিক দক্ষতার অভাব ছিল।

তার একটি বাড়ি, নিজের পরিবার এবং শিক্ষক হিসাবে একটি চাকরি থাকার পরও নানা, বিপর্যয়মূলক চিন্তাভাবনা দেখা দিতে শুরু করে।

তিনি ক্রমশ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং নিজেকে অপর্যাপ্ত মনে হতে থাকে।

যা তার শারীরিক স্বাস্থ্যেরও অবনতি ঘটায় – বিশেষ করে হাঁপানি সংক্রমণের সমস্যা নিয়মিত হয়ে দাঁড়ায়।

অবশেষে, স্ত্রীর অনুরোধে বার্নি একটি ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট বা মনরোগবিদের কাছে যান – এবং পরীক্ষায় তার এস্পারগার ধরা পড়ে।

এতে করে, এতদিন ধরে তার সামাজিক দক্ষতার অভাব, ভোঁতা চিন্তাভাবনা এবং সবসময় অতিরিক্ত গুছিয়ে চলার প্রবণতাটি হঠাৎ বোধগম্য হয়।

এই পরীক্ষাটি আমার সমস্ত ব্যর্থতার কারণগুলোকে ব্যাখ্যা করে।

সাংবাদিক রবার্ট গ্রিনাল বলেন, সারা জীবন, আমি ভাবতাম যে আমি কখনই কেন অন্যদের সেভাবে বুঝতে পারিনি এবং তারাই বা কেন আমাকে বুঝতে পারে না।

আপনি একজন রহস্যময় ব্যক্তি বা আপনি অন্য গ্রহে আছেন এমন বিদ্রূপাত্মক কথা তাকে প্রায়শই শুনতে হতো।

দীর্ঘ সময় ধরে তিনি মনে করতেন যে একমাত্র সন্তান হওয়ায় বা বোর্ডিং স্কুলে পাঠানোয় এবং বিচ্ছিন্ন শৈশব কাটানোর কারণেই হয়তো তিনি এমন।

তিনি মানচিত্র দেখতে এবং রেলপথ সম্পর্কে পড়তে পছন্দ করতেন। খেলার প্রতি আগ্রহী ছিলেন না তিনি।

তাই মাঠে তার আনাড়িপনা বা আত্মবিশ্বাসের অভাবকে নিয়ে টিটকারি করতো তার বয়সী অন্য ছেলেরা।

প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও, সামাজিক কথোপকথন, এমনকি বিভিন্ন পার্টিতে ছোটখাটো কথাবার্তাও তার কাছে দুঃস্বপ্নের মতো মনে হতো।

তিনি অবাক হতেন এই ভেবে যে তিনি কেন মানুষের আবেগ পড়তে এবং সহানুভূতি দেখাতে পারেন না।

তার মনে টুকরো টুকরো হয়ে থাকা এই প্রশ্নগুলোর কোন উত্তর পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে অটিজম সম্পর্কে একটি টিভি অনুষ্ঠান দেখার পর, সেই টুকরোগুলো জোড়া লাগতে থাকে।

অটিস্টিক লোকদের সম্পর্কে আমার এক ধরণের গৎবাঁধা ধারণা ছিল। আমি ভাবতাম তারা পুরোপুরি অক্ষম এবং মানুষের সাথে তাদের যোগাযোগ করার কোন ক্ষমতা নেই। কিন্তু তারা আবার কম্পিউটার চালাতে ভীষণ দক্ষ।

তবে ওই প্রামাণ্যচিত্রে দেখা যায় যে, পুরোপুরি স্বাভাবিক মনে হওয়া ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটিজম ধরা পড়েছে। তাদের সাথে নিজের নানা দিকের মিল পাওয়ার পর তিনি যেন বিষয়গুলো নতুনভাবে বুঝতে শুরু করেন।

রবার্ট তার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটিজম নির্ণয়ের বিষয়টি জানতে পেরে অত্যন্ত স্বস্তি অনুভব করেন।

অবশেষে আমার কাছে এমন একটি নাম আছে যা আমাকে এতদিন ধরে ভিনগ্রহের প্রাণীর মতো অনুভব করিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আমি সবার থেকে আলাদা হওয়ার খারাপ লাগা থেকে মুক্তি পেলাম।

বার্নি এবং রবার্ট সেইসব প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মাত্র দুই জন যারা অন্যদের থেকে কেন আলাদা, সেটা না জেনেই জীবনের বেশিরভাগ সময় পার করে দিয়েছেন।

১৯৮০ সালে অটিজমকে প্রথমে একটি মানসিক ব্যাধি হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। আর আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের হয়তো স্বাস্থ্য পরীক্ষাই হতো না, অথবা ভুলভাবে পরীক্ষা করা হতো।

ন্যাশনাল অটিস্টিক সোসাইটির নীতি ও জনসংযোগ বিষয়ক ব্যবস্থাপক অ্যানা বেইলি-বিয়ারফিল্ড বলেন, যুক্তরাজ্যে প্রায় সাত লাখ মানুষকে অটিস্টিক বলে মনে করা হয় এবং সবসময় এর চাইতে বেশি মানুষের মধ্যে সেটা পরীক্ষায় ধরা পড়ে।

আরও অনেক সময় এই রোগ নির্ণয় করা হয়।

অটিজম প্রায়শই কেবল বাচ্চাদের হয় বলে দেখা যায় তবে এখন অনেক প্রাপ্ত বয়স্ক অটিস্টিক টিভিতে আসছেন এবং তারা এমন অনেক মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

তিনি বলেন, ৪০ বা ৫০ বছর ধরে না জানার প্রভাব খুব দুঃখজনক হতে পারে। এতে ওই মানুষগুলো উদ্বিগ্ন এবং সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন বোধ করে।

জাতীয় নির্দেশিকা বলছে যে মানুষ যদি এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পেতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে যায় তাহলে সেটা নির্ণয়ের জন্য ১৩ সপ্তাহের বেশি অপেক্ষা করানো উচিত হবে না।

তবে ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার জরিপে দেখা যায় যে, মানুষকে এরচেয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

আমি জীবন নিয়ে এগিয়ে যেতে পারিনি
রবার্টের ক্ষেত্রে সময় লেগেছিল প্রায় ১৮ মাস, তাও সেটা সম্ভব হয়েছে অনেক ফোন কল এবং অনেক বার হতাশ হওয়ার পর।

অবশেষে তিনি একটি প্রাইভেট পরীক্ষার জন্য যান, যার জন্য তার খরচ পড়েছিল প্রায় ১৯০০ ডলার।

আমি কেবল এই অপেক্ষা শেষ করতে চেয়েছিলাম। আমি মনে হয়েছে যে, এভাবে ঝুলে থাকলে আমি আমার জীবন নিয়ে এগিয়ে যেতে পারব না।

তার সেই দিনটির কথা এখনও স্পষ্টভাবে মনে পড়ে – তাকে ছয় ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছিল।

প্রশ্নকর্তাদের অনেকেই আমাকে অনেক আগের ভুলে যাওয়া শৈশবের স্মৃতি মনে করতে বলেছিলেন – যেমন, আমি কোন ধরণের জিনিষ স্পর্শ করতে পছন্দ করতাম? আমি কি হাস্যকরভাবে সিঁড়ি বেয়ে নীচে নেমে যেতাম?

ফলাফলে দেখা যায় যে আমার অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার নির্ণয় হয়েছে।

তিনি বলেন, এর চেয়ে সুনির্দিষ্ট ফলাফল আর কিছু হতে পারে না। -তবে এই অটিজমের সংজ্ঞা নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি রয়েছে, তাই অনেক বিশেষজ্ঞ এখনও এই শব্দটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে চান।

তবে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার নির্ণয়ের এই বিষয়টি মানুষের বাকি জীবনে ভীষণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, অ্যাংলিয়া রাসকিনের গবেষণা থেকে এমনটা জানা গেছে।

বার্নি বলেন, যে এই পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর তিনি যেন নিজের ভেতর আরেকটি মানুষকে খুঁজে পান।

ডঃ স্টিভেন স্ট্যাগ, ৫০ বছরের বেশি বয়সী অন্তত নয় জন ব্যক্তির সাক্ষাতকার নিয়েছেন।

তিনি বলেন, এই পরীক্ষা তাদেরকে দীর্ঘদিনের সংগ্রাম থেকে মুক্তি দিয়েছে এবং নিজের আত্ম-পরিচয়কে নতুন করে গঠন করতে সাহায্য করেছে।

তিনি বলেন, একজন মানুষের জন্য এটি এক ধরণের ইউরেকা মুহূর্তের মতো, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে ওইরকম অদ্ভুত হওয়ার পেছনে আমার কোন দোষ নেই। আবার অনেকে, এতদিন কী ভুল হয়েছিল বা কেন ভুল হয়ে এসেছে তা জেনে স্বস্তি পেয়েছেন।

তবে প্রায়শই তাদের প্রচুর অনুশোচনা কাজ করে।

হেলথ সাইকোলজি এবং বিহেভিওরাল মেডিসিন অধ্যয়নের জন্য বার্নির সাক্ষাতকার নেয়া হয়, এতে বার্নি যে বিষয়টা উপলব্ধি করেন তা হল, তার কাছের অনেক মানুষ, এমন সমস্যা ভোগ করছে।

যখন আমি পেছনের কথা মনে করি, আমি বিশ্বাস করতে পারি না যে আমি একজন শিক্ষক ছিলাম – আমার আত্মবিশ্বাস অনেক কম ছিল, লোকজনের সাথে সেভাবে যোগাযোগ করতে পারতাম না। এবং তিনি তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি বাবা হিসেবেও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ছিলেন, তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছিল এবং সম্পর্কে চিড় ধরতে শুরু করে।

তবে তার এস্পারগার নির্ণয়, জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার মতো ছিল।

তিনি বলেন, ওই স্বাস্থ্য পরীক্ষাটি আমার নিজের ভেতরে একটি ভিন্ন সংস্করণ খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

এক সময় আমাকে বন্ধুত্ব করার জন্য লড়াই করতে হতো, আর এখন আমার শত শত বন্ধু রয়েছে – এখন আমি নিজের ব্যাপারে সব জানি, এবং তা বলতে পারি।

এখন তার লক্ষ্য হল অটিজম নিয়ে কাজ করেন এমন বিশেষজ্ঞ লেখক, গবেষক, প্রশিক্ষক এবং শিক্ষকদের জন্য উৎসবের আয়োজন করা।

এর আগেও তিনি তার কলেজের সাবেক শিক্ষকদের নিয়ে উৎসব আয়োজন করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।

বার্নি এখন নিজের সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এখন তিনি নিজের অনুভূতির কথা বলতে পারেন।

উদাহরণস্বরূপ, বার্নি কাঁচা মাছের আবরণ বা টেক্সচার পছন্দ করতেন এবং সবসময় তার মায়ের জন্য এই মাছগুলো কাটতে চাইতেন।

আমি আমার পুরো সময় ওই অনুভূতির কথা মনে করে কাটাতাম।

মাছের মধ্যেও একটা দানা দানা ভাব রয়েছে, সেটা মুরগিতেও আছে। সেটা আপনি কতোটা অনুভব করবেন তা নির্ভর করবে আপনি সেটা কিভাবে কাটছেন তার ওপরে। এই অনুভূতিটি অন্যরকম। আমার খুব ভাল লাগতো।

বার্নি তার শার্টগুলি ধরে ধরে প্রশান্তি খুঁজে পেতেন। তিনি যে শার্টটি পরতেন সেটার সেলাই বরাবর হাত বোলাতেন।

এরকম অন্তত ২৫টি ছোট ছোট ভাল লাগার বিষয় তার আছে। এই ভাল লাগার বিষয়গুলো এখন তিনি জানেন যা তার অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

রবার্ট এখন, তার এই অটিজম এবং এর প্রভাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন – তবে যখন এক বন্ধু তাকে বলেন যে, এমন বৈচিত্র্যময় স্নায়ু বা নিউরোডাইভার্স বন্ধু পেয়ে তিনি খুব গর্বিত তখন রবার্ট খুব খুশি হন।

অটিজম মূলত তিনটি বিষয়ে প্রভাব ফেলে, যেমন কোন ব্যক্তি কীভাবে অন্য ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করে, একে অপরের সাথে কীভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং কীভাবে তারা বিশ্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করে।

অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অন্যদের থেকে বিশ্বকে ভিন্নভাবে দেখেন, শোনেন এবং অনুভব করেন।

তাদের পক্ষে নিচে উল্লেখিত বিষয়গুলো বোঝা কঠিন হতে পারে:

১. মুখের অভিব্যক্তি বা কণ্ঠের অভিব্যক্তি বুঝতে সমস্যা হয়।

২. বন্ধুত্ব করা কঠিন মনে হয়।

৩. শব্দ, স্পর্শ এবং আলোর প্রতি সামান্য বা অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে থাকে।

৪. সবসময় রুটিন মেনে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাজ করতে পছন্দ করেন।

৫. তাদের দেখতে অনেক সংবেদনশীল বলে মনে হয়।

৬. অদ্ভুত আচরণ করতে দেখা যায়।

একজন মানুষের অবস্থা অন্যের থেকে একেবারেই আলাদা হতে পারে এজন্য প্রত্যেকের আলাদা ধরণের মনোযোগ প্রয়োজন।

কারও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে এবং শেখার অক্ষমতা আছে।

জাতীয় অটিস্টিক সোসাইটি এবং ব্রিটেনের এনএইচএস প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অটিজম নির্ণয় সম্পর্কে এসব তথ্য দিয়েছে।

ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে বিমান হামলা করেছিলো, তারই জের ধরে বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস কম্পাউণ্ডে হামলা করেছে বিক্ষুব্ধ লোকজন।

এ সময় তারা কম্পাউন্ডের কাছে প্রহরা চৌকিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর বিবিসি বাংলার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলায় উস্কানি দেয়ার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন।

রোববার ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মিলিশিয়াদের লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র যে হামলা চালায়, তাতে অন্তত ২৫ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছিলো।

তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা কিরকুকে ইরাকের একটি সামরিক ঘাঁটিতে রকেট হামলার জবাব দিয়েছে, যে হামলায় একজন মার্কিন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় যারা নিহত হয়েছেন, মঙ্গলবার তাদেরই শেষকৃত্য হচ্ছিলো বাগদাদে। আর সেখান থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে হামলার ঘটনা ঘটে।

আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ কয়েকজন সিনিয়র মিলিশিয়া ও প্যারামিলিটারি নেতা হাজার হাজার শোকাহত মানুষের সঙ্গে হেঁটে ইরাকের গ্রিন জোনের দিকে যান। ওই এলাকায়ই ইরাকের অধিকাংশ সরকারি অফিস ও বিদেশী দূতাবাস অবস্থিত।

খবরে বলা হচ্ছে, ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও তাদের ওই জোনে প্রবেশ করে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বাইরে রাস্তায় সমবেত হওয়ার সুযোগ দেয়।

ওই সমাবেশ থেকে কাতাইব হেজবুল্লাহ ও অন্য মিলিশিয়াদের পতাকা বহন করে আমেরিকা বিরোধী শ্লোগান দেয়া হয়।

এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা দূতাবাসের প্রধান গেট লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকেন এবং এক পর্যায়ে সিকিউরিটি ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলেন।

এ সময় গার্ড চৌকিতে আগুন দেয়া হয় এবং গুলির শব্দও শোনা যায়। এক পর্যায়ে কম্পাউন্ডের দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হয়।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্র সৈন্যদের টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ার আগে তারা কম্পাউন্ডের বেশ খানিকটা ভেতরেও ঢুকে পড়েন।

পরে ঘটনাস্থলে ইরাকি সৈন্য ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী আব্দুল মাহদি বিক্ষোভকারীদের অবিলম্বে দূতাবাস চত্বর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

তবে আল-সুমাইরা ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, কাতাইব হেজবুল্লাহ গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বন্ধ এবং দেশটির রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার টুইটে লিখেছেন, ইরান আমেরিকান ঠিকাদারকে খুন করেছে। বহু মানুষকে আহত করেছে। আমরা শক্ত জবাব দিবো।

এখন ইরান দূতাবাসে হামলার ঘটনা সংগঠিত করেছে। তাদেরকে এজন্য জবাবদিহি করতে হবে। একই সাথে আশা করি ইরাক দূতাবাস সুরক্ষায় তার ফোর্স ব্যবহার করবে।

সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসির সময়ে কেঁদেছিলেন আমেরিকান সৈন্যরা

২০০৪ সালের জুন মাসে সাদ্দাম হোসেনকে ইরাকি অন্তবর্তী সরকারের কাছে তুলে দেয়া হয় বিচারের জন্য। এর আগের বছর ডিসেম্বর মাসে মার্কিন বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে।

জীবনের শেষ দিনগুলোতে তাকে পাহারা দিয়েছিলেন ১২ জন মার্কিন সৈন্য। খবর বিবিসি বাংলার

গ্রেফতার হওয়ার আগে তাঁরা যে সাদ্দাম হোসেনের বন্ধু ছিলেন, সেটা মোটেই নয়।

কিন্তু ওই ১২ জন আমেরিকান সৈন্য সাদ্দামের শেষ সময়ের বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন। আক্ষরিক অর্থেই শেষ মুহূর্ত অবধি তাঁরাই ছিলেন সাদ্দামের সঙ্গে।

মার্কিন ৫৫১ নম্বর মিলিটারি পুলিশ কোম্পানির ওই ১২ জন সেনাসদস্যকে সুপার টুয়েলভ বলে ডাকা হতো।

তাঁদেরই একজন, উইল বার্ডেনওয়ার্পার একটি বই লিখেছেন, দা প্রিজনার ইন হিজ প্যালেস, হিজ অ্যামেরিকান গার্ডস, অ্যান্ড হোয়াট হিস্ট্রি লেফট আনসেইড নামে। বাংলা করলে বইটির নাম হতে পারে নিজের প্রাসাদেই এক বন্দী, তাঁর আমেরিকান প্রহরী – ইতিহাস যে কথা বলেনি।

বইটি জুড়ে রয়েছে সাদ্দাম হোসেনকে তাঁর শেষ সময় পর্যন্ত সুরক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতা।

বার্ডেনওয়ার্পার স্বীকার করেছেন যে তাঁরা যখন সাদ্দাম হোসেনকে জল্লাদদের হাতে তুলে দিলেন ফাঁসির জন্য, তখন তাঁদের ১২ জনেরই চোখে পানি এসে গিয়েছিল।

দাদুর মতো দেখতে লাগত সাদ্দামকে
বার্ডেনওয়ার্পার তাঁরই এক সেনা-সঙ্গী রজারসনকে উদ্ধৃত করে লিখেছেন, আমরা কখনও সাদ্দামকে মানসিক বিকারগ্রস্ত হত্যাকারী হিসাবে দেখিনি। তাঁর দিকে তাকালে নিজের দাদুর মতো লাগত অনেক সময়ে।

ইরাকের জেলে জীবনের শেষ সময়টুকু কাটানোর সময়ে সাদ্দাম হোসেন আমেরিকান গায়িকা মেরি জে ব্লাইজার গান শুনতেন নিয়মিত।

নিজের এক্সারসাইজ বাইকে চড়তে পছন্দ করতেন সাদ্দাম। ওটার নাম দিয়েছিলেন পনি। মিষ্টি খেতে খুব ভালবাসতেন। মাঝেমধ্যেই মাফিন খেতে চাইতেন।

বার্ডেনওয়ার্পার লিখেছেন, নিজের জীবনের শেষ দিনগুলোতে সাদ্দাম তাঁদের সঙ্গে খুব ভাল ব্যবহার করতেন। ওই ব্যবহার দেখে বোঝাই যেত না যে সাদ্দাম হোসেন কোনও এক সময়ে একজন অত্যন্ত নিষ্ঠুর শাসক ছিলেন।

কাস্ত্রো তাঁকে সিগার খেতে শিখিয়েছিলেন
সাদ্দামের কোহিবা সিগার খাওয়ার খুব নেশা ছিল। মনে করা হয় কিউবার সিগারের মধ্যে এই কোহিবা সবার চেয়ে সেরা সিগারগুলোর অন্যতম।

ভেজা ওয়াইপে জড়িয়ে একটা বাক্সের মধ্যে রাখা থাকত সিগারগুলো।

সাদ্দাম নিজেই বলেছিলেন যে বহু বছর আগে ফিদেল কাস্ত্রো তাকে সিগার খাওয়া শিখিয়েছিলেন।

সিগার ছাড়াও বাগান করা আরেকটা শখ ছিল সাদ্দাম হোসেনের।

জেলের ভেতরে অযত্নে ফুটে থাকা জংলী ঝোপঝাড়গুলোকেও তিনি একটা সুন্দর ফুলের মতো মনে করতেন।

খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে খুবই সংবেদনশীল ছিলেন সাদ্দাম
সকালের নাস্তাটা তিনি কয়েকটা ভাগে খেতেন – প্রথমে অমলেট, তারপর মাফিন আর শেষে তাজা ফল।

ভুল করেও যদি তাঁর অমলেটটা টুকরো হয়ে যেত, সেটা তিনি খেতে অস্বীকার করতেন।

বার্ডেনওয়ার্পার স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে লিখেন, একবার সাদ্দাম তার ছেলে উদয় কতটা নিষ্ঠুর ছিল, সেটা বোঝাতে গিয়ে বীভৎস একটা ঘটনার কথা বলেন। ওই ব্যাপারটায় সাদ্দাম প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিলেন।

উদয় কোনও একটা পার্টিতে গিয়ে গুলি চালিয়ে দিয়েছিল – তাতে বেশ কয়েকজন মারা গিয়েছিলেন। গুলিতে আহত হয়েছিলেন আরও কয়েকজন।

সাদ্দাম ব্যাপারটা জানতে পেরে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে উদয়ের সবকটা গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিতে। ওই ঘটনাটা বলতে গিয়ে সেনা প্রহরীদের সাদ্দাম ভীষণ রেগে গিয়ে শুনিয়েছিলেন যে উদয়ের দামী রোলস রয়েস, ফেরারি, পোর্শা গাড়িগুলোতে তিনি আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন।

ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ
সাদ্দাম হোসেনের নিরাপত্তার জন্য নিযুক্ত আমেরিকান সেনারাই তাঁকে একদিন জানিয়েছিলেন যে তাঁর ভাই মারা গেছেন। যে সেনাসদস্য খবরটা দিয়েছিলেন, সাদ্দাম তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, আজ থেকে তুমিই আমার ভাই।

আরেকজন প্রহরীকে বলেছিলেন, যদি আমার সম্পত্তি ব্যবহার করার অনুমতি পাই, তাহলে তোমার ছেলের কলেজে পড়তে যা খরচ লাগবে, সব আমি দিতে রাজী।

এক রাতে বছর কুড়ি বয়সের সেনা প্রহরী ডসন বাজে মাপে কাটা একটা স্যুট পড়ে ঘুরছিল। জানা গেল যে ডসনকে ওই স্যুটটা সাদ্দাম উপহার হিসাবে দিয়েছেন।

বার্ডেনওয়ার্পারের কথায়, বেশ কয়েকদিন আমরা সবাই ডসনকে নিয়ে হাসাহাসি করছিলাম ওই স্যুটটার জন্য। ওটা পড়ে ও এমন ভাবে হাঁটাচলা করত, যেন মনে হতো কোনও ফ্যাশন শো’য়ে ক্যাটওয়াক করছে ডসন।

সাদ্দাম আর তাঁর প্রহরীদের মধ্যে বন্ধুত্ব বেশ ঘন হয়ে উঠছিল, যদিও তাদের ওপরে কড়া নির্দেশ ছিল যে সাদ্দামের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টাও যেন কেউ না করে।

সাদ্দাম হোসেনকে মামলা চলা চলার সময় দুটো জেলে রাখা হয়েছিল।

এক জেল ছিল আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের কয়েদখানা, আর অন্যটা উত্তর বাগদাদের সাদ্দামেরই একটা প্রাসাদে।

ওই প্রাসাদটা ছিল একটা দ্বীপে। একটা সেতু পেরিয়ে ওই দ্বীপে যেতে হতো।

বার্ডেনওয়ার্পার লিখেন, আমরা অবশ্য সাদ্দামকে এমন কিছু দিইনি, যেটা তিনি পাওয়ার অধিকারী ছিলেন না। কিন্তু ওঁর অহংবোধে কখনও আঘাত করতাম না আমরা।

ক্রিস টাস্করের মতো কয়েকজন প্রহরী ওই প্রাসাদেরই একটা স্টোর রুমে সাদ্দামের দপ্তর তৈরি করে দিয়েছিল।

সাদ্দামের দরবার
সাদ্দাম হোসেনকে একটা চমক দেওয়ার ইচ্ছা ছিল সবার।

পুরনো, ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র থেকে একটা ছোট টেবিল আর চামড়ার ঢাকনা দেওয়া একটা চেয়ার নিয়ে আসা হয়েছিল। টেবিলের ওপরে ইরাকের একটা ছোট পতাকাও রাখা হয়েছিল।

বার্ডেনওয়ার্পার লিখেন, আমরা চেষ্টা করেছিলাম জেলের ভেতরেই সাদ্দামের জন্য শাসনকাজ পরিচালনার মতো একটা অফিস তৈরি করতে। যখন সাদ্দাম ওই ঘরটায় প্রথমবার গিয়েছিলেন, একজন সেনা সদস্য হঠাৎই খেয়াল করে যে টেবিলের ওপরে ধুলো জমে আছে। সে ধুলো ঝাড়তে শুরু করেছিল।

ওই আচরণটা সাদ্দামের নজর এড়ায়নি। চেয়ারে বসতে বসতে তিনি মুচকি হেসেছিলেন।

তারপর থেকে তিনি রোজ ওই চেয়ারে এসে বসতেন। তাঁর নিরাপত্তার জন্য নিযুক্ত সেনাপ্রহরীরা সবাই সামনের চেয়ারগুলোতে বসতেন। যেন সাদ্দাম নিজের দরবারে বসেছেন।

নিরাপত্তা রক্ষীরা চেষ্টা করত সাদ্দামকে খুশী রাখতে। তার বদলে সাদ্দামও সকলের সঙ্গে হাসি-মস্করা করতেন।

কয়েকজন রক্ষী পরে বার্ডেনওয়ার্পারকে বলেছিলেন যে তারা বিশ্বাস করতেন যদি তাদের কোনও ঝামেলায় পড়তে হয়, তাহলে সাদ্দাম তাদের বাঁচানোর জন্য নিজের জীবনও বাজি রেখে দিতে পারেন।

যখনই সময়-সুযোগ পেতেন, তখনই সাদ্দাম হোসেন পাহারার দায়িত্বে থাকা রক্ষীদের পরিবারের খোঁজখবর নিতেন।

বার্ডেনওয়ার্পারের বইটাতে সবথেকে আশ্চর্যজনক যে বিষয়টার উল্লেখ রয়েছে, সেটা হল সাদ্দামের মৃত্যুর পরে তাঁর প্রহরীরা রীতিমতো শোক পালন করেছিলেন, যদিও তিনি আমেরিকার কট্টর শত্রু ছিলেন।

প্রহরীদেরই একজন, অ্যাডাম রজারসন উইল বার্ডেনওয়ার্পারকে বলেন, সাদ্দামের ফাঁসি হয়ে যাওয়ার পরে আমার মনে হচ্ছে আমরা ওর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। নিজেদেরই এখন তার হত্যাকারী বলে মনে হচ্ছে। এমন একজনকে মেরে ফেললাম আমরা, তিনি যেন আমাদের খুব আপনজন ছিলেন।

সাদ্দামের ফাঁসির পরে যখন তাঁর মরদেহ বাইরে নিয়ে আসা হয়েছিল, তখন সেখানে জমা হওয়া লোকজন মৃতদেহের ওপরে থুতু ছিটিয়েছিল।

ওই ঘটনা দেখে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল আমেরিকান সেনারা

বার্ডেনওয়ার্পার লিখছেন, ওই নোংরামি দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন তারা সকলে, বিশেষ করে যে ১২ জন তাঁর শেষ সময়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।

তাদেরই মধ্যে একজন ওখানে জমা হওয়া লোকজনের কাছে হাত জোড় করে তাদের থামাতে চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু দলের বাকিরা তাকে টেনে সরিয়ে নেয়।

ওই ১২ জনের অন্যতম, স্টিভ হাচিনসন সাদ্দামের ফাঁসির পরেই আমেরিকার সেনাবাহিনী থেকে ইস্তফা দেন।

হাচিনসন এখন জর্জিয়ায় বন্দুক চালনা আর ট্যাকটিক্যাল ট্রেনিং দেওয়ার কাজ করেন। তাঁর মনে এখনও ক্ষোভ রয়েছে, কারণ সেদিন যেসব ইরাকী সাদ্দামের মৃতদেহকে অপমান করছিল, তাদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে না পড়ার আদেশ দেওয়া হয়েছিল তাঁদের।

সাদ্দাম হোসেন কিন্তু শেষ দিন পর্যন্ত আশা করতেন যে তাঁর ফাঁসি হবে না।

একজন রক্ষী, অ্যাডাম রোজারসন বার্ডেনওয়ার্পারকে বলেছিলেন, কোনও নারীর সঙ্গে প্রেম করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সাদ্দাম। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে আবারও বিয়ে করার ইচ্ছাও হয়েছিল তাঁর।

২০০৬ সালের ৩০শে ডিসেম্বর তিনটে নাগাদ ঘুম থেকে ডেকে তোলা হয়েছিল।

তাঁকে জানানো হয়েছিল যে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফাঁসি দেওয়া হবে। এই কথাটা শোনার পরে সাদ্দামের ভেতরের সব বিশ্বাস ভেঙ্গে পড়েছিল। তিনি চুপচাপ গোসল করে ফাঁসির জন্য তৈরি হয়ে নিয়েছিলেন।

সেই সময়েও তাঁর একটা ভাবনা ছিল। জানতে চেয়েছিলেন, সুপার টুয়েলভের সদস্যরাও কি ঘুমোচ্ছে?

ফাঁসির কয়েক মিনিট আগে স্টিভ হাচিনসনকে কারাকক্ষের বাইরে ডেকে পাঠান সাদ্দাম হোসেন। লোহার শিকগুলোর মধ্যে দিয়ে হাতটা বের করে নিজের রেমন্ড ওয়েইল হাতঘড়িটা দিয়ে দেন স্টিভকে।

হাচিনসন আপত্তি করেছিলেন। তবে সাদ্দাম কিছুটা জোর করেই ঘড়িটা স্টিভের হাতে পরিয়ে দেন।

জর্জিয়ায় হাচিনসনের বাড়ির একটা সিন্দুকে রাখা ঘড়িটা এখনও টিক টিক করে চলেছে।

সিনেমা’র থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ মু’সলিম’দের পাশে দাঁড়ানো: সোনাক্ষি

সদ্য মু’ক্তি পেয়েছে বহু প্রতীক্ষিত সিনেমা দাবাং ৩। সালমন খানের পাশাপাশি মুখ্য ভূমিকায় অ’ভিনয় করেছেন সোনাক্ষি সিনহা। সিনেমা দর্শক হৃদয়ে ঝ’ড় তুলল কিনা তা ভু’লে এখন দেশের সবচেয়ে চর্চিত বিষয়ে সংশো’ধিত নাগরিকত্ব বিল নিয়ে মেতে রয়েছেন বলি অ’ভিনেত্রী সোনাক্ষি।

নাগরিকত্ব বি’রোধী আ’ইন প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ‘দেশের মানুষের সঙ্গে আমি রয়েছি। অ’ধিকার ছি’নিয়ে নেওয়া যায় না, রাস্তায় বি’ক্ষোবকারীদের অনুভূতি আমি অনুভব করছি। নিজেদের আওয়াজ তুলে বি’রোধিতা করা মানুষদের জন্য আমি গর্ববোধ করি। তাঁদের সঙ্গে আমি আছি।’

তিনি এও জানান, ‘দেশজুড়ে কী’ চলছে সেসব আম’রা জানি। মানুষ জানে কোনটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমি সত্যিই খুশি যে আমাদের সিনেমাতেও দর্শকরা বেশ সাড়া দিয়েছেন। এই মুহূর্ত সিএএ বি’রোধিতায় গোটা দেশ একত্রিত হয়েছে এবং এটা সিনেমা’র থেকেও সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

মু’ক্তির পরই বক্সঅফিস কাঁ’পিয়ে দিয়েছে সলমনের দাবাং ৩। প্রথম দিনে এই সিনেমা’র ঝুলিতে প্রবেশ করেছে ২৪.৩ কোটি টাকা। তবে মু’ক্তির পরই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লিক হয়ে যাওয়া ব্যবসায় অনেকটাই লোকসান হচ্ছে বলে অ’ভিযোগ উঠেছে।

এলাকার উন্নয়নে বেতনের দিবেন যে ব্রিটিশ এমপি

ব্রিটিশ সংসদের সর্বকনিষ্ঠ ২৩ বছর বয়সী নাদিয়া হুইটমোর তার বেতনের একটি বড় অংশ স্থানীয় সম্প্রদায়কে দান করার ঘোষণা দেয়ার পর আলোচনা তৈরি করেছেন সাধারণ মানুষের মধ্যে।

হুইটমোর জানান, ইংলিশ মিডল্যান্ডসের নটিংহ্যাম ইস্ট আসনে জয়ী হওয়ার আগে তিনি একটি অস্থায়ী চাকরি খুঁজছিলেন। খবর বিবিসি বাংলার

ছয় বছর আগে প্রথমবার রাজনীতিতে যোগ দেন নাদিয়া হুইটমোর। ব্রিটিশ সংসদের সর্বকনিষ্ঠ এই সদস্য এবারের নির্বাচনের আগে বলতে গেলে মানুষের কাছে অপরিচিতই ছিলেন।

তিনি ঘোষনা দিয়েছেন যে কর প্রদানের পর তার বাৎসরিক বেতনের অর্ধকেরও কম পরিমাণ অর্থ তিনি গ্রহণ করবেন এবং বাকি অর্থ দান করবেন।

বছরে ৮০ হাজার পাউন্ড বেতন পাওয়া এই সংসদ ৪৫ হাজার পাউন্ডই দান করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

একজন সাধারণ শ্রমিক গড়ে যেই বেতন পায়, আমি ততটুকুই নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাকি অর্থ আমি আমার এলাকার উন্নয়নে ব্যয় করবো।

ঐ অর্থের মথ্যে দান, তহবিল গঠন, তৃণমূল পর্যায়ের প্রকল্প তৈরির মত কাজগুলোকে অর্থায়ন করবো।

হুইটমোর বলেছেন দমকল কর্মী, শিক্ষক ও সেবিকাদের যতক্ষণ না পর্যন্ত একদফা বেতনবৃদ্ধি হচ্ছে, তিনিও বর্ধিত বেতন গ্রহণ করবেন না।

শুধু সমাজসেবাই উদ্দেশ্য নয়
হুইটমোর মন্তব্য করেছেন, তার এই সিদ্ধান্ত শুধুই দান করা বা মানুষের সেবা করা উদ্দেশ্য থেকে নয়। অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে পাবলিক সেক্টরের যেসব কর্মীরা চাকরি থেকে ছাটাই হয়েছেন তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্য থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সাংসদদের এত বেতন প্রাপ্য না – এই মানসিকতা থেকে আমার বেতনের অংশ দান করছি না আমি। আমি বিশ্বাস করি আমাদের শিক্ষক, সেবিকা ও দমকল কর্মীদেরও আরো বেতন পাওয়া উচিত।

যেদিন তাদের প্রাপ্য বেতন বৃদ্ধি হবে, সেদিন আমিও আমার পুরো বেতন নেবো। আমি আশা করি আমার সিদ্ধান্ত আয়ের বৈষম্যের বিতর্কটিকে উস্কে দেবে।

নাদিয়া হুইটমোর একসময় বিদ্বেষের শিকার হওয়া ভুক্তভোগীদের সহায়তা প্রদানের কাজ করতেন। আইন বিষয়ে তার একটি ডিগ্রি রয়েছে এবং নটিংহাম ইস্ট আসনের জন্য এবারের নির্বাচনে লেবার পার্টির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন তিনি।

গত কিছুদিনের ঘটনার আকস্মিকতা তাকে বিস্মিত করেছে।

কয়েকমাস আগেও যখন বড়দিনের জন্য ন্যুনতম বেতনের অস্থায়ী কাজ খুঁজছিলাম, তখন চিন্তাও করতে পারিনি যে ঐ কাজ আমার প্রয়োজন হবে না, কারণ আমি সাংসদ হয়ে যাবো।

পরিবর্তনের প্রত্যাশা
একজন অভিভাবক পরিচালিত পরিবারে বড় হয়েছেন হুইটমোর। কৈশোরেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন রাজনীতিতে যোগ দেয়ার। সেসময় অর্থনৈতিক মন্দার জের ধরে সরকার বেশকিছু খাতে অর্থ বরাদ্দ দেয়া কমিয়ে দেয় – যার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

নাদিয়া হুইটমোর বলেন, আমি নিজের চোখে দেখেছি আমার প্রতিবেশী ও বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই তাদের প্রতিদিনকার খাবারও ঠিকমতো জোগাড় করতে পারছে না

নিউ ইয়র্ক থেকে এই নটিংহাম পর্যন্ত পুরো পশ্চিমা বিশ্বেই প্রগতিশীল কিছু রাজনীতিবিদ আলোচনার কেন্দ্রে আসছেন। আমাদের মত রাজনীতিবিদরা কর্মজীবী শ্রেণী থেকে এসেছে। আমরা জানি অত্যাচারিত হতে এবং বিদ্বেষের শিকার হতে কেমন লাগে।

নির্বাচনে তার জয় নিশ্চিত হওয়ার পর অনেক ভোটার সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তবে তার বেতনের বড় অংশ দান করে দেয়ার সিদ্ধান্তকে সবাই সহজভাবে নিতে পারেনি।

লেবার পার্টির সাবেক সাংসদ মেলানি অন টুইট করে নাদিয়া হুইটমোরকে ব্যঙ্গ করেছেন। তিনি লিখেছেন, লোক দেখানো সৌজন্যের রীতি এখনো বিদ্যমান। গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্বের জন্য ঠিকভাবে বেতন পেলেও যেন কর্মজীবী শ্রেণীর সহ্য হয় না।

কিন্তু হুইটমার বলেন, সাংসদদের কাজ ছোট করে দেখানোর কোনো প্রশ্নই আসে না। কিন্তু এই একই অঙ্কের অর্থে একজন দমকল কর্মী, সেবিকা বা শিক্ষক স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন চালাতে পারেন। তাহলে সাংসদ কেন পারবেন না?

আমি এখন পর্যন্ত মানুষের কাছে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি।

ভারতে বিক্ষোভের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির পুলিশ।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন শহরে শত শত বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। খবর বিবিসি বাংলার

রাজধানী দিল্লি, উত্তর প্রদেশ রাজ্য, ব্যাঙ্গালোর শহর ও কর্ণাটক রাজ্যের কিছু অংশে এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

পুলিশের আদেশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করার কারণে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

নতুন নাগরিকত্ব আইনে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের অমুসলিম অভিবাসীদের নাগরিকত্বের সুযোগ দেয়া হয়েছে।

সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নামে পরিচিত এই আইন ভারতের মানুষের মধ্যে ব্যাপক বিভাজন সৃষ্টি করেছে।

হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকার বলছে, এটি ধর্মীয় সহিংসতা থেকে পার্শ্ববর্তী দেশের হিন্দুদের রক্ষা করবে। তবে সমালোচকদের মতে এটি ভারতের ২০ কোটির বেশি মুসলিমদের কোনঠাসা করার হিন্দু জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা।

নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে কয়েকদিনের বিক্ষোভের পর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গায় পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সহিংস সংঘাত হয়েছে।

উত্তর প্রদেশের পুলিশ প্রধান ও.পি. সিং সাধারণ মানুষকে বিক্ষোভ কার্যক্রম থেকে দূরে থাকতে বলেছেন।

পুলিশের নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়, এক জায়গায় চারজনের বেশি মানুষ একত্রিত হতে পারবে না।

পুলিশের দাবি, সহিংসতা এড়াতে এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তারা।

চেন্নাইতে পুলিশ র‍্যালি, পদযাত্রা বা অন্য কোনো ধরণের বিক্ষোভ কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়া বন্ধ করেছে।

কিন্তু নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর প্রদেশ, ব্যাঙ্গালোর, মুম্বাই ও দিল্লিতে পূর্ব পরিকল্পনামাফিক বিক্ষোভ চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাগরিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী, অ্যাক্টিভিস্ট ও সাধারণ নাগরিকরা টুইটার ও ইন্সটাগ্রামের মত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মানুষকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করার আহ্বান জানাচ্ছেন।

দিল্লির সাথে জয়পুরকে সংযুক্ত করা মহাসড়কে পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়েছে এবং রাজধানীতে প্রবেশ করা সব গাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

এর ফলে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়েছে এবং অনেকেই তাদের বিমানযাত্রার নির্ধারিত ফ্লাইট ধরতে পারছে না।

দিল্লির বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

আটককৃতদের মধ্যে একজন খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ ও সরকারের সমালোচক রামাচান্দ গুহও রয়েছেন।

তিনি বলেছেন তিনি ভারতের মোহনদাস গান্ধীর একটি ছবি নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছিলেন।

নাগরিকত্ব আইনে কী আছে?
মুসলিম প্রধান পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা ছয়টি সংখ্যালঘু ধর্মের – হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান – নাগরিকরা যদি তাদের ধর্মের প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার রাস্তা খোলা রাখা হয়েছে এই আইনে।

নতুন আইন অনুযায়ী ৬ বছর যাবত ভারতে বসবাস করলে বা কাজের সূত্রে থাকলে তারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আগে এই সময় ছিল অন্তত ১১ বছর।

২০২৪ সালের মধ্যে ‘প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত ও ভারত থেকে বিতাড়িত’ করার উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী নাগরিকদের তালিকা তৈরির ঘোষণা দেয়ার পর এই আইন নিয়ে শঙ্কা আরো বেড়েছে।

নাগরিকপঞ্জি বা ন্যাশনাল সিটিজেন রেজিস্টার (এনআরসি) এরই মধ্যে উত্তর-পূর্বের রাজ্য আসামে প্রকাশ করা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ১৯ লাখ মানুষ জাতীয় পরিচয়হীন হয়ে পড়েছে।

কেন বিক্ষোভ?
ভারতের অনেক মুসলিমই আশঙ্কা করছেন যে তারা এই আইনের ফলে জাতীয় পরিচয়হীন হয়ে পড়তে পারেন, কারণ তাদেরকে বিশদভাবে প্রমাণ করতে হবে যে তাদের পূর্বপুরুষরা ভারতের অধিবাসী ছিলেন।

সমালোচকরা বলছেন এই আইন বৈষম্যমূলক এবং ভারতের সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানের পরিপন্থী।

তারা বলছেন নাগরিকত্ব নির্ধারণে ধর্ম বিশ্বাসকে শর্ত হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার এক র‍্যালিতে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন তার রাজনৈতিক বিরোধীরা গুজব ও মিথ্যা ছড়াচ্ছে, সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে ও জোর প্রয়োগ করে মানুষের মধ্যে মিথ্যা ও বিভ্রম তৈরি করছে।

দিল্লিতে সারারাত বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে দিল্লিতে সারারাত ধরে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা

রবিবার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে হওয়া মিছিল নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও অ্যাক্টিভিস্টরা সারারাত বিক্ষোভ করেছে।

দিল্লির একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশ প্রবেশ করে শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মারধর করার প্রতিবাদে মূলত এই বিক্ষোভ হচ্ছে ।

দিল্লির শিক্ষার্থীদের সমর্থনে ভারতের আরো কয়েকটি জায়গায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভের সময় রবিবার ভারতের রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে বিক্ষোভকারীদের।

পার্শ্ববর্তী তিনটি মুসলিম প্রধান দেশের অমুসলিম অভিবাসীরা ধর্মীয় সহিংসতার শিকার হলে তাদের ভারতের নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়টি রয়েছে নতুন এই আইনে।

বিক্ষোভকারীরা রাস্তা বন্ধ করে এবং বাস পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ করে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে।

আইনটি পাস হওয়ার পর থেকে উত্তর ও পূর্ব ভারতের অনেক এলাকায় বিক্ষোভ করছে মানুষ।

গত পাঁচ দিনের অস্থিরতায় সেসব জায়গায় মারা গেছে ছয় জন।

নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের জের ধরে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের গৌহাটিসহ ১০টি সংবেদনশীল এলাকায় কারফিউ জারি রয়েছে।

আসামে মানুষ যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারে সেজন্য কারফিউ শিথিল করা হয় শনিবার। সেখানে সোমবার পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

গত দুই দিনে বিক্ষোভকারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে আসামে এ পর্যন্ত ২৭ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ জন গৌহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা তাদের নাগরিকদের উত্তর-পূর্ব ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করেছে।

দিল্লিতে কী হয়েছে?
স্বনামধন্য জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয় তাদের।

সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে হলো তা এখনো পরিষ্কারভাবে জানা যায়নি। বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে পুলিশের দিকে পাথর ছুঁড়ে মারা হলে তারা টিয়ার গ্যাস মেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

অন্তত তিনটি বাস ও বেশকিছু মোটর সাইকেল জালিয়ে দেয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা পুলিশের কাছ থেকে দূরে সরে যান।

স্থানীয় পুলিশের কয়েকজন জানিয়েছেন যে সেসব এলাকার কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী সহিংসতার সূত্রপাত ঘটায়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মারধর করে।

পুলিশের দাবি, বিক্ষোভ থামাতে যা করা প্রয়োজন ছিল তারা তাই করেছে।

দক্ষিণ দিল্লির ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের স্কুলগুলো সোমবার বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কেন বিতর্কিত এই আইন?
বিতর্কিত নতুন আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে যেসব অমুসলিম অভিবাসী অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে, তারা সেখানকার নাগরিক হওয়ার সুযোগ পাবে।

হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকারের যুক্তি, সেসব মুসলিম প্রধান দেশে যারা ধর্মীয় সহিংসতার শিকার হচ্ছে তাদের জায়গা দেয়ার উদ্দেশ্যে এই আইন।

সমালোচকরা মনে করেন, মুসলিমদের কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যেই এই আইন। এছাড়া ভারতের সংবিধানে উদ্ধৃত ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিকেও খর্ব করে এই আইন।

এ সপ্তাহের শুরুতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা নতুন আইনের বিষয়ে তাদের উদ্বেগ তুলে ধরে এবং আইনটিকে বৈষম্যমূলক বলে সমালোচনা করে।

অসমীয়া সংগঠনগুলো বলছে, এই আইন বাস্তবায়নের ফলে বহিরাগতরা তাদের জমি ও চাকরির দখল নিয়ে নেবে এবং তাদের সংস্কৃতিকেও প্রভাবিত করবে।

পাশাপাশি নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে কথিত অবৈধ বাংলাদেশিদের আসামের নাগরিকত্ব পাওয়ার বিরোধিতা করছেন তারা।

পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বাংলাভাষী মুসলমানরা যে প্রতিবাদ করছে সেখানেও ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেয়ার বিরোধিতা রয়েছে।

তবে তাদের মধ্যে একটা আতঙ্ক রয়েছে যে, তাদের একটা অংশকে এই আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রহীন করে দেয়া হতে পারে।

তারা বলছেন যে, এনআরসির মাধ্যমে যে ১৯ লাখ নাম বাদ দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে অমুসলিমরা হয়তো এই আইনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাবেন তবে মুসলমানরা কিন্তু বাদই রয়ে যাবেন। তাদেরই হয়তো রাষ্ট্রহীন করে দেয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।

ভারতের কর্তৃপক্ষ অবশ্য কোনো ধরণের ধর্মীয় পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে মুসলিমরা এই আইনের আওতায় পড়বে না কারণ তারা কোনো দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নয় বিধায় তাদের ভারতের সুরক্ষার প্রয়োজন নেই।