করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে

করোনাভাইরাস সংক্রমণ সামাল দিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো কারফিউ জারির মতো সিদ্ধান্তে গেছে। কোয়ারেন্টিনে চলে গেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর। শঙ্কা দেখা দিয়েছে জাপানে আসন্ন অলিম্পিক আয়োজন নিয়ে। করোনাভাইরাসের কারণে গত কয়েক ঘন্টায় বিশ্বে আরও যেসব ঘটনা ঘটেছে।

সৌদিতে কারফিউ:
করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ তিন সপ্তাহের জন্য রাত্রিকালীন কারফিউ ঘোষণা করেছে। কারফিউ ঘোষণা করেছে কুয়েত ও বাহরাইনও।

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান
করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার।

টেলিভিশনে বক্তৃতায় আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনি বলেছেন যে আমেরিকা ইরানের সবচেয়ে বড় শত্রু এবং এই মহামারির পেছনে আমেরিকাকে দায়ী করছেন তিনি।

ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আমি জানি না যে এই অভিযোগ কতটা বাস্তব, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিকে কারা সরল মনে বিশ্বাস করবে যে আপনাদের থেকে ওষুধ নেয়া নিরাপদ? হয়তো আপনাদের ওষুধের মাধ্যমেই ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার।

টেলিভিশনে বক্তৃতায় আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনি বলেছেন যে আমেরিকা ইরানের “সবচেয়ে বড় শত্রু” এবং এই মহামারির পেছনে আমেরিকাকে দায়ী করছেন তিনি।

ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আমি জানি না যে এই অভিযোগ কতটা বাস্তব, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিকে কারা সরল মনে বিশ্বাস করবে যে তোমাদের থেকে ওষুধ নেয়া নিরাপদ? হয়তো আপনাদের ওষুধের মাধ্যমেই ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কোনও প্রমাণ না দিয়েই তিনি অভিযোগ করেন যে ভাইরাসটি “এই ভাইরাসটি ইরানীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এবং এজন্য তারা বিভিন্ন উপায়ে ইরানীদের জিনগত তথ্য সংগ্রহ করেছে।”

ইরানের ওপর পরমাণু নিষেধাজ্ঞা না তুলে সহায়তা দেয়ার প্রস্তাবকে আমেরিকা ভণ্ডামি বলে অভিযোগ তুলেছেন অন্যান্য ইরানী কর্মকর্তারা।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আক্রান্ত রেকর্ড করা হয়েছে এই ইরানে। যা ২১,৬০০ জনেরও বেশি।

সরকারি হিসেবে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৮৫ জনে।

তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে ইরানে সংক্রমণ ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

কোয়ারেন্টিনে গেলেন জার্মানির চ্যান্সেলর
করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ এবং দুইজনের বেশি লোকের সমাবেশকে নিষিদ্ধ করেছে জার্মানি। পুরো পরিস্থিতি দেখভালের দায়িত্বে কাজ করছে পুলিশ।

এর আওতায় বিউটি পার্লার, সেলন, এবং ম্যাসেজ স্টুডিওগুলি বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া অতি জরুরি নয় এমন পণ্যের দোকান ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।।

রেস্তোরাঁগুলোকে কেবল টেকওয়ে বা খাবার নিয়ে যাওয়া পরিষেবার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ রেস্তোরাঁয় আর বসে খাওয়ার সুযোগ নেই।

দেশটির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেন, সংক্রমণের হার কমিয়ে আনার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল আমাদের নিজস্ব আচরণ।

নাগরিকদের নিজের পরিবারের বাইরে বাকি সবার সাথে কমপক্ষে ৫ ফুট দূরত্বে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে মিসেস মার্কেলের অফিস জানিয়ে যে তিনি নিজেকে কোয়ারেন্টিন করে রাখছেন।

এর কারণ ৬৫ বছর বয়সী মার্কেল ভাইরাস আক্রান্ত একজন ডাক্তারের সংস্পর্শে এসেছিলেন।

সামনের কয়েকদিন নিয়মিত তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে এবং তিনি বাড়ি থেকে কাজ করবেন বলে তার মুখপাত্র জানিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ায় নিষেধাজ্ঞা
অস্ট্রেলিয়ায় করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় খুব প্রয়োজনীয় নয় এমন পরিষেবাগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে।

সোমবার মধ্যরাত থেকে দেশটি পানশালা, ক্লাব, জিমনেশিয়াম, সিনেমা হল ও উপাসনালয়গুলো বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে।

তবে রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেগুলোকে কেবল টেকওয়ে সেবা দেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ ক্রেতারা কেবল খাবার কিনে নিয়ে যেতে পারবেন। বসে খাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন জাতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে এসব নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন।

নতুন বিধিনিষেধের কারণে এখন অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে সুপারমার্কেট, পেট্রোল স্টেশন, ফার্মেসী এবং হোম ডেলিভারি পরিষেবা আগের মতোই চলবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে তিনি স্কুলগুলি খোলা রাখতে চান তবে শিশুদের বাবা-মা চাইলে সন্তানদের বাড়িতে রাখতে পারবেন।

সাম্প্রতিক দিনগুলোয় অস্ট্রেলিয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ১৩১৫ জনে পৌঁছায়।

কোভিড -১৯ থেকে অস্ট্রেলিয়া জুড়ে এখনও পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তরের সীমান্ত মঙ্গলবার থেকে বন্ধ করে দেয়া হবে।

নতুন নিয়মের অধীনে, বিদেশ আগতদের ১৪ দিনের জন্য বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে।

এদিকে, তাসমানিয়া, ইতিমধ্যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

নিউজিল্যান্ডে যেসব সেবা বন্ধ
নিউজিল্যান্ড জানিয়েছে যে এই সপ্তাহে অতি প্রয়োজনীয় নয় এমন পরিষেবাগুলো তারা বন্ধ করতে শুরু করবে।

এর আওতায় দেশটির পানশালা, রেস্তোরাঁ, ক্যাফেসহ স্বল্প প্রয়োজনীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান – বন্ধ করা হবে। স্কুলগুলি পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

গণপরিবহন শুধুমাত্র তাদেরকে ব্যবহার করতে দেয়া হবে যারা সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সেবা দিচ্ছেন।

দেশের সব মানুষকে বাড়ির ভেতরে থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কমপক্ষে চার সপ্তাহের জন্যে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার কথা জানানো হয়েছে।

সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপে সিঙ্গাপুর
এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলির মতো যারা সংক্রমণের প্রাথমিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে তার মধ্যে সিঙ্গাপুর অন্যতম। তবে দেশটি এখন সংক্রমণের দ্বিতীয় পর্যায় অতিক্রম করছে।

কারণ বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ বিভিন্ন দেশ থেকে সিঙ্গাপুরে আসতে শুরু করেছে।

গত কয়েক দিন ধরে বিদেশ থেকে আসা স্থানীয় বাসিন্দাদের সংখ্যা স্থানীয় সংক্রমণের সংখ্যা ছাড়িয়ে যেতে শুরু করেছে। স্থানীয় সংক্রমণের সংখ্যা গত রোববার পর্যন্ত ছিল ২০৮ জন, এবং বিদেশ থেকে ফেরা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৭ জনে।

এ অবস্থায় দেশটির সরকার এখন পর্যটক এবং এমনকি কাজের পাসধারী কর্মীদেরও দেশে ফিরে আসতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

টোকিও অলিম্পিক স্থগিত হবে?
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেছেন, অলিম্পিক গেমসের “সম্পূর্ণ ফর্ম” ধরে রাখা সম্ভব না হলে এবারের আসর স্থগিত করা হতে পারে।

তিনি বলেছেন, গেমস স্থগিতের করা ছাড়া হয়তো তার দেশের আর কোন উপায় নেই, তবে এই আসর বাতিল করার কথা তারা ভাবছেন না।

গত সপ্তাহের শুরুতে তিনি যা বলেছিলেন তার সঙ্গে তার এবারের মন্তব্যের মধ্যে এটি নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গেছে।

তখন তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে জাপান সংক্রমণের বিস্তারকে কাটিয়ে উঠবে এবং সমস্যা ছাড়াই অলিম্পিকের আয়োজন করবে।

এই জুলাইয়ে জাপানের রাজধানী টোকিওতে অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কানাডা অলিম্পিকে অংশ নেবে না
কানাডা ঘোষণা করেছে যে ২০২০ সালের অলিম্পিক এবং প্যারালিম্পিক গেমসে তারা তাদের কোন দল পাঠাবে না।

করোনাভাইরাস ঝুঁকির কারণে তারা নিজেদের ক্রীড়াবিদ না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডিয়ান অলিম্পিক কমিটি, আইওসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা টোকিও গেমস এক বছরের জন্য স্থগিত করে।

কানাডা বলছে যে, বিশ্ব একটি স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যে রয়েছে, যা খেলাধুলার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাজ্যে ১৫ লাখ চিঠি
করোনাভাইরাসের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে ইংল্যান্ডের ১৫ লাখ মানুষকে চিঠি পাঠিয়ে বলা হচ্ছে তারা যেন বাড়িতে থাকেন।

তাদেরকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে বা মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে সেখানে তাদের দৃঢ়ভাবে ১২ সপ্তাহের জন্য বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, প্রত্যেক নাগরিককে নিজেদের সুরক্ষার কথা ভেবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী সামাজিক দূরত্ব নির্দেশিকা অনুসরণ করতে বলেছেন।

এদিকে যুক্তরাজ্যের ধর্মীয় জমায়েত বিধিনিষেধ আরও করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮১ জনে। আক্রান্তের সংখ্যা ৫,৬৮৩ জনে পৌঁছেছে।

নিউ ইয়র্কে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা
পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে নিউ ইয়র্ক। সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মূলত চিকিৎসার সরঞ্জাম সরবরাহের যে অভাব রয়েছে সেটা আরও প্রকট হবে বলে নগরীর মেয়র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

রোববার বিল দি ব্লাজিও বলেন, আমরা ভয়াবহ সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে মাত্র ১০ দিন দূরে রয়েছি। যদি আমরা পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর না পাই তবে আরও মানুষ মারা যাবে।

নিউইয়র্ক রাজ্যটি যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। এবং দেশটিতে আক্রান্তের প্রায় অর্ধেকের বাস এই রাজ্যটিতে।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা ৩১,০৫৭ জন। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৯০ জন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, দেশব্যাপী চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে। তবে এই সরবরাহ যথেষ্ট নয় বলে সমালোচনা করেছেন ব্লাজিও।

ফিলিস্তিনে সংক্রমণ:
বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবর দিচ্ছে, গাজা ভূখণ্ডে করোনাভাইরাসের প্রথম দুজন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর পশ্চিম তীরে দু সপ্তাহের জন্য লকডাউন শুরু করেছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ।

সিরিয়ায় সংক্রমণ:
যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়াতে প্রথম করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়েছে, বলছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, আক্রান্ত ব্যক্তিটির ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

কলম্বিয়ার একটি কারাগারে করোনা আতঙ্কে ২৩ জনের মৃত্যু
করোনাভাইরাস নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে বোগোটা শহরে দেশটির সবচেয়ে বড় কারাগারে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কলম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী মার্গারিটা ক্যাবেলো বলেছেন, লা মডেলো কারাগারে দাঙ্গার ঘটনায় ৮৩ জন আহত হয়েছেন।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময়ে কারাগারে বন্দিদের উপচে পড়া ভিড় এবং দুর্বল স্বাস্থ্যসেবার বিরুদ্ধে রোববার সারাদেশের কারাগারে থাকা বন্দিরা প্রতিবাদ করেন।

বিচারমন্ত্রী বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন।

মিসেস ক্যাবেলো জানান, ৩২ জন বন্দী এবং সাত প্রহরী হাসপাতালে রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন প্রহরীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তবে কারাগারের ভেতরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের দাবি অস্বীকার করে তিনি বলেন: ” এখানে পয়ঃনিস্কাশনের কোন সমস্যা নেই। পরিকল্পনারা করে এই দাঙ্গা বাধানো হয়েছে।”

এখানে কারও মধ্যে সংক্রমণ নেই, কোন বন্দী বা হেফাজতকারী বা প্রশাসনিক কর্মচারীর করোনাভাইরাস নেই।

কলোম্বিয়ার বিচার বিভাগের পরিসংখ্যান অনুসারে, দেশটির ১৩২টি কারাগারে ৮১,০০০ বন্দি ধারণক্ষমতা থাকলেও সেখানে থাকেন এক লাখ একুশ হাজারেরও বেশি বন্দী।

এখনও অবধি কলম্বিয়ায় করোনাভাইরাসের ২৩১ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
আর্জেন্টিনায় জাতীয় লকডাউন ঘোষণা

মার্চ মাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত খাবার ও ওষুধ কেনা ছাড়া দেশের সব নাগরিককে বাড়িতে থাকার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে আর্জেন্টিনা।

লাতিন আমেরিকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ইউরোপের অনুপাতে পৌঁছায়নি।

সেখানকার সরকার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কারণে এমনটা সম্ভব হয়েছে বলে বিবিসির ক্যাটি ওয়াটসন বলেছেন।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সবশেষ পরিস্থিতি
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইউরোপীয় দেশ ইতালিতে রোববার নতুন করে ৬৫১ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে মৃতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,৪৭৬ জনে।

নতুন করে মৃত্যুর সংখ্যা শনিবারের চাইতে কম হলেও এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

দেশটিতে করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দেশটির মানুষ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে নিজেদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও, শতাংশের হিসেবে তা অনেকটাই নেমে এসেছে।

যেমন গত দুই সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩৫৭৮ জন থেকে বেড়ে ৫৯১৩৮ জন হয়েছে। এই বৃদ্ধির হার প্রাদুর্ভাব শুরুর সময়ের তুলনায় সর্বনিম্ন।

এর আগে রাষ্ট্রপতি সের্জিও মাত্তারেলা বলেছেন যে, তিনি আশা করেন ইতালি থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশ শিক্ষা নিতে পারে।

এদিকে, স্পেনে একদিনে ৩৯৪ জনের করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে, যা দেশটিতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে খারাপ চিত্র।

এতে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭২০ জনে।

দেশটির সরকার জরুরী অবস্থা ১ই এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে চাইছেন।

তবে এই প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে অনুমোদিত না হলে বাস্তবায়ন করা যাবে না। গত ১৪ই মার্চ থেকে স্পেনের মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়েছিল।

রোববার দেশটির সরকার ঘোষণা করেছে যে তারা আগামী ৩০ দিনের জন্য বিমান ও সমুদ্র বন্দরে বেশিরভাগ বিদেশি নাগরিকের প্রবেশ নিষিদ্ধ করবে।

এদিকে ফ্রান্সে নতুন করে ১১২ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭৪ জনে।

নেদারল্যান্ডস এবং গ্রিসেও মৃত্যুর সংখ্যা ও মামলার সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে।

আফ্রিকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০০০ ছাড়িয়েছে

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এই ছুটির দিনে ১০০০ জন ছাড়িয়ে গেছে।

মহাদেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ঘোষণা করেছে যে, আফ্রিকায় বর্তমানে ১১৯৮ জনের কোভিড -১৯ এ আক্রান্তের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দুবাই থেকে নিজ দেশ উগান্ডায় ফিরে আসা এক যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গতকাল করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। দেশটিতে এটাই প্রথম কারও আক্রান্ত হওয়ার খবর।

এর আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনি রোববার মধ্যরাত থেকে সমস্ত ফ্লাইট নিষিদ্ধসহ জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডায়, সরকার ঘোষণা করেছে যে তারা তাদের লকডাউনের মেয়াদ আরও ১৪ দিন বাড়িয়ে দিতে পারে। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার থেকে তারা এই লকডাউন আরোপ করেছিল।

রুয়ান্ডায় এ পর্যন্ত কোভিড-১৯ এ ১৭ জনের আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, এটি পূর্ব আফ্রিকায় সর্বোচ্চ।

ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোতে কোভিড -১৯ এ প্রথম কারও মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

পেশায় চিকিৎসক ওই ব্যক্তি ফ্রান্স থেকে ফিরেছিলেন। পরে তার মধ্যে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে।

তবে দেশটিতে ভাইরাস সংক্রমণের পরে ১০৮ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন বলে ঘোষণা এসেছে।

রোববার মরক্কোর লোকজনকে ঘরে থাকতে নির্দেশ দেওয়ার জন্য রাস্তায় সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে দেশটির সরকার। কাজ করছে পুলিশও।

শুক্রবার থেকে দেশটিতে জনস্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থা কার্যকর আছে।

করোনাভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতি
বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০০০ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

ইতালি: ৫,৪৭৬

হুবেই প্রদেশ, চীন: ৩,১৫৩

স্পেন: ১,৭৭২

ইরান: ১,৬৮৫

ফ্রান্স: ৬৭৪

বিশ্বব্যাপী তিন লাখ ত্রিশ হাজারেরও বেশি করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছেন।

চীন: ৮১,৪২৬

ইতালি: ৫৯,১৩৮

যুক্তরাষ্ট্র: ৩৩,২৭৬

স্পেন: ২৮,৭৬৮

জার্মানি: ২৪,৮৭৩

সূত্র: জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়

সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়; স্বাধীনতা বিরোধীরা ও বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সাথে যে শক্তিগুলো জড়িত ছিল তারা সবসময় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত ও নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে চেষ্টা করেছে। স্বাধীনতা বিরোধীরা যত চেষ্টাই করুক না কেন— সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করে যাবে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ঢাকা সিটি নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, জয়ের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ শতভাগ আশাবাদী। কারণ, আওয়ামী লীগ যে ২ জন মেয়রপ্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে তারা সর্বাধিক উত্তম প্রার্থী। ঢাকাকে উন্নত নগরীতে রূপান্তর করার জন্য যোগ্যতার মাপকাঠিতে আতিকুল ইসলাম ও শেখ তাপস শীর্ষে অবস্থান করছেন। ঢাকা উত্তর সিটি আগে আবর্জনার নগরী ছিল, কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তে আনিসুল হক ও তার পরবর্তীতে আতিকুল ইসলামের চেষ্টায় আবর্জনা অনেকটা দূরীভূত হয়েছে। শেখ তাপস একজন সফল সাংসদ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে মানুষের ব্যাপক প্রশংসা ও সমর্থন অর্জন করেছে। তাই জয়ের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ শতভাগ আশাবাদী।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরও বলেন, লেভেল প্লেয়িংফিল্ড একটি আপেক্ষিক শব্দ। বিএনপি লেভেল প্লেয়িংফিল্ডের কথা বলে, কিন্তু তারা তো তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বিতর্কিত করার জন্য বিচারপতিদের বয়স বাড়িয়ে দিয়েছিল। বিএনপির এক সময়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কে. এম হাসানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বানানোর জন্য চেষ্টা করেছে এবং বেগম জিয়ার নির্দেশ অনুযায়ী তৎকালীন সময়ে উপদেষ্টামণ্ডলী গঠিত হয়েছিল যার বিরুদ্ধে গোটা জাতি অবস্থান নিয়েছিল। এছাড়া বিএনপির প্রার্থীরা মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাচ্ছে, মাঠে ময়দানে কাজ করছে। যদি লেভেল প্লেয়িংফিল্ড না থাকতো তাহলে তারা এই কাজগুলো কিভাবে করছে। তাই লেভেল প্লেয়িংফিল্ডের কথা তাদের মুখে মানায় না।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিএনপির জন্ম হয়েছে অগণতান্ত্রিকভাবে। বিএনপির সেনা শাসক জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে তার সুবিধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পেয়েছেন। জিয়াউর রহমান তৎকালীন সময়ে যে দলটা করেছেন তখনই সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, দেশদ্রোহী লোকদের নিয়ে করেছিল। বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল হিসেবে পরিচিত। তাদের সন্ত্রাসীরা যদি ঢাকা সিটি নির্বাচনে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করে, তাহলে সেই চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেওয়ার সক্ষমতা শেখ হাসিনার রয়েছে। 

এরপর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী জাতির পিতার স্মৃতি বিজড়িত মধুমতি নদীর পাশে নির্মিত ঘাট পরিদর্শন করেন।

এসময় এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী সুশংকর চন্দ্র আচার্য, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান, গোপালগঞ্জ পৌর মেয়র লিয়াকত আলী লিকু, গোপালগঞ্জ এলজিইডি,র প্রধান প্রকৌশলী এ কে ফজলুল হক, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস,  ইউএনও নাকিব হাসান তরফদার, উপজেলা প্রকৌশলী হাসান ইবনে মিজান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসবে নারীর নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত হলো?

বাংলাদেশে ঠিক কুড়ি বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বাঁধন নামের একজন নারী প্রকাশ্যে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন।

যা সে সময় সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে। খবর বিবিসি বাংলার

মূলত: তার পরের বছর থেকেই বাংলাদেশে থার্টি ফার্স্ট উদযাপনে নানা রকম কড়াকড়ি আরোপ শুরু হয়। যা ক্রমে বাড়তে বাড়তে এ বছর বাড়ির ছাদেও কোনো উৎসব আয়োজনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পুলিশ।

পুলিশের নির্দেশনায় কী রয়েছে?
৩০শে ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশ এক সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির শেষদিন অর্থাৎ থার্টি ফার্স্ট নাইট এবং নতুন বছরের প্রথম প্রহরে কোন ওপেন এয়ার কনসার্ট, ডিজে পার্টি কিংবা প্রকাশ্য স্থানে কোনো জমায়েত, সমাবেশ বা উৎসব করা যাবেনা।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকায় উন্মুক্ত স্থান অর্থাৎ রাস্তা বা ফ্লাইওভার, এমনকি বাড়ির ছাদেও কোনো উৎসব আয়োজন করা যাবে না।

নগরবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে ডিএমপি বলছে প্রকাশ্যে উৎসব বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ কোনো আয়োজনই করা যাবেনা।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, বাড়ির ছাদ বা খোলা জায়গায় আমরা কোন অনুষ্ঠান অ্যালাও করবো না। আতশবাজি ও পটকা না ফোটাতে আমরা অনুরোধ করবো। এছাড়া গুলশান, বনানী এবং বারিধারা এলাকায় ৩১শে ডিসেম্বর রাত আটটার পর বহিরাগত কোন ব্যক্তি বা যানবাহন অ্যালাও করবো না।

এছাড়া আজ সন্ধ্যা ছয়টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বহিরাগত কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের কী প্রতিক্রিয়া?
উৎসব উদযাপনে এ ধরণের কড়াকড়ি নিয়ে আপত্তি রয়েছে তরুণ প্রজন্মের বেশির ভাগ মানুষের।

ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন সীমা তামান্না।

তিনি বলেন, থার্টি ফার্স্টে সবাই একটু আনন্দ করতে চায়, বন্ধুদের সঙ্গে মজা করতে চায়। সেখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা ঠিক আছে, কিন্তু একেবারে বাড়ির ছাদে অনুষ্ঠান করা যাবে না এটা ঠিক নয়।

বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজিয়া পারভীনও পুলিশের কড়াকড়িকে যথার্থ মনে করেন না।

যেভাবে কড়াকড়ি দেয়া হয়েছে আটটার মধ্যে বাড়ি ফিরতে হবে, ছাদে কিছু করা যাবে না বা কোন কনসার্ট বা এরকম কিছু করা যাবে না, এটা টু-মাচ। নিরাপত্তার অভাব থাকলে নিরাপত্তা দেন।

আরেকজন শিক্ষার্থী শান্তা সানজিদা বলেন, যেসব দুর্ঘটনার কথা বলে সেসব দুর্ঘটনা তো বন্ধ হচ্ছে না, তাহলে কি বন্ধ হচ্ছে? বন্ধ হচ্ছে শুধু আমাদের বাড়ির বাইরে যাওয়া!

উন্নয়ন সংস্থার কর্মী নাফিসা তুলি বলেন, আমার ভালো লাগতো শহরের কোথায় কি অনুষ্ঠান হচ্ছে, তা বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে যদি দেখতে পারতাম, তাহলে।

কিন্তু তা তো হবেই না, বরং বাড়ির ছাদেও কোন আয়োজন করা যাবে না। কিন্তু সেখানে তো কেবল বন্ধুরা নয়, পরিবারের মানুষেরাও থাকে।

উৎসবে নারীর নিরাপত্তায় কতটা অগ্রগতি
১৯৯৯ সালের থার্টি ফার্স্টে বাঁধন ঘটনার পর বাংলাদেশে একে একে বেশ কয়েকটি বোমা হামলার ঘটনা ঘটে।

২০০১ সালে পহেলা বৈশাখে রমনা বটমূলে বোমা হামলা এবং ২০০২ সালে সাতক্ষীরায় একটি সিনেমা হলে ও লায়ন্স সার্কাসের প্যানেলে বোমা হামলা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

এরপর ২০১৪ সালে লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত অনুষ্ঠান শেষে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে।

পরের বছর ২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পহেলা বৈশাখের দিনে একজন নারীর শ্লীলতাহানির শিকার হন।

এসব ঘটনা উৎসবে নিরাপত্তা, বিশেষ করে সামাজিক উৎসবে নারীর নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত দুই দশকে উৎসবে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সামিনা লুৎফা বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হয় উৎসবগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর বদলে পুলিশ ক্রমশ মানুষকে বাড়িতে বন্দি করে ফেলছে।

গত দুই দশকে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার বা সমাজ। কোন সরকারকে একক ভাবে দায়ী করা যাবে না সেজন্য, ২০ বছরে আমরা কয়েকটি সরকার দেখেছি, কেউই এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি।

নারীর নিরাপত্তার জন্য শিক্ষা এবং সংস্কৃতিতে যে গুরুত্ব দেয়ার দরকার ছিল – সেটা কখনো করা হয়নি।”

পুলিশ যে নিরাপত্তার অভাবের কথা বলছে, সেটা সামাজিক সাংস্কৃতিক ভাবে মোকাবেলা করতে হয়, যেটা আমরা পারিনি।

বাঁধন নিপীড়নের ঘটনায় ২০০০ সালে একটি মামলা করা হয়েছিল, কিন্তু ১১ বছর মামলা চলার পর তিনজন আসামীর সবাই খালাস পেয়ে যায়।

অন্যদিকে, টিএসসির বাংলা নববর্ষে যৌন হয়রানির ঘটনায় দায়ের মামলায়ও এখনো পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি নেই।

হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেল বাংলাদেশ পালকী

মেরিল্যান্ড’র বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক কবির পাটোয়ারী  ও পারভিন পাটোয়ারীর একমাত্র কন্যা জাহানারা মেহেরিন পাটোয়ারী পালকী চিকিৎসা বিজ্ঞানে উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্যে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন|

বর্তমানে পালকী মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যায়ন করছেন ।
আগামী জানুয়ারীর ২৭  তারিখ থেকে পালকী হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করবে। মেয়ে পালকীর জন্য দোয়া চেয়েছেন পালকীর পিতা কবির পাটোয়ারী  ও মা পারভিন পাটোয়ারী ।

ঢাবির সভাপতি-সম্পাদককে গ্রেফতার না করলে আন্দোলনের হুমকি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা ।

গত রোববার (২২ ডিসেম্বর) ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রকে ডাকসু ভবনে নির্মমভাবে পেটানোর ঘটনায় গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন তারা।

আজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন এ কথা জানান। এর আগে গতকাল রাজু ভাস্কর্যের সমাবেশ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি ‍তুলে ধরেন রাশেদ খাঁনেরা । দাবিতে বলা হয় ,

১. হামলার দায়ভার নিয়ে ঢাবি প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে। ২. গায়েব হওয়া সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে হবে ৩. হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বহিষ্কার করতে হবে। ৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিচার করতে হবে  ৫. যদি নিরপেক্ষ বিচার করা না হয় তাহলে সারা দেশের ছাত্রদের নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামতে আমরা বাধ্য হবো ।

ঢাকা উত্তরে আতিকুল, দক্ষিণে তাপস ও হাজী সেলিমের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের হয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম।

অপরদিকে, ঢাকা দক্ষিণে (ডিএসসিসি) মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দুই সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস ও হাজী মোহাম্মদ সেলিম।

বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়।

দুপুর ৩টার দিকে মেয়র আতিকুলের পক্ষে তার ব্যক্তিগত সহকারী সাইফুদ্দিন ইমন এবং ছোট ভাই আবু মাহমুদ খান মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। আর দুপুর ৩টার দিকে ঢাকা-১০ আসনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপসের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তার মামা মাসুদ সেরনিয়াবাত। এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোরশেদ কামালসহ ডিএসসিসির অন্তত ১০ কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ডিএসসিসিতে নির্বাচনে মেয়র পদে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নাজমুল হক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

আজ থেকে শুরু হওয়া মনোনয়নপত্র বিক্রি চলবে শুক্রবার পর্যন্ত। ২৫ হাজার টাকায় মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

আগামী ৩০ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পুরো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। ওইদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

মায়ের বুকের দুধে মিল্ক ব্যাংক: ধর্মীয় বিতর্কের সমাধান কি?

জন্মের পরে শিশুর নানা সংকট মোকাবেলায় মায়ের বুকের দুধ সংরক্ষণে প্রথমবারের মতো হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ইরান, ইরাক, কুয়েত কিংবা পাকিস্তানের মতো মুসলিম দেশগুলোতে এই ধরণের ব্যাংক আগে থেকে থাকলেও বাংলাদেশে এবারই প্রথম এর উদ্যোগ নিয়েছে মাতুয়াইলের শিশু এবং মাতৃস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট। খেবর বিবিসি বাংলার

হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক-এর সমন্বয়ক ডা: মুজিবুর রহমান জানান, ধর্মীয় সব বিষয় মাথায় রেখে এবং ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করেই এটা করা হয়েছে বিপন্ন শিশুদের কথা চিন্তা করে। কারণ অনেক সময় এমন মা-হারা অনেক বিপন্ন শিশু আমরা পাই মায়ের দুধ পেলেই তাদের বাঁচানো সহজ হয়।

আবার অনেক সন্তানহারা মা আছেন যারা নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই বিপন্ন শিশুদের জন্য নিজের বুকের দুধ দিয়ে মানসিক শান্তি পেতে চান। এমন বহু নারীর অনুরোধও তাদের মিল্ক ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করেছে বলে জানান মিস্টার রহমান।

কিন্তু এর মধ্যেই কিছু সংগঠন ও ব্যক্তি হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক’কে ইসলাম বিরোধী আখ্যায়িত করে মিল্ক ব্যাংক থেকে দুধ পান করা বা এ ধরণের মিল্ক ব্যাংক স্থাপন করা হারাম বলে দাবি করেছে।

তাফসীর পরিষদ নামে একটি সংগঠনের দাবি হিউম্যান মিল্ক ব্যাংকের মাধ্যমে বহু অজানা দুধ ভাই-বোন হবে, যাদের মধ্যে বিয়ের সম্পর্ক হবে হারাম। এদের মধ্যে নিজেদের অগোচরে বহু হারাম বিয়ে হওয়ার আশংকা থাকবে।

তবে মিল্ক ব্যাংকের উদ্যোক্তারা বলছেন ধর্মীয় বিধান মাথায় রেখেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই বলেও মনে করেন তারা।

উদ্যোক্তারা বলছেন বিভিন্ন কারণে মা হারা বা অন্য কোনো কারণে মায়ের দুধ না পেলে বা মা-হারা কিংবা অন্য কোনো কারণে বিপন্ন শিশুকে মিল্ক ব্যাংক থেকে দুধ নিয়ে খাওয়ানো যাবে। এই মিল্ক ব্যাংক যাতে দাতা ও গ্রহীতা দুজনরেই বিস্তারিত তথ্য থাকবে যাতে করে উভয় পক্ষই বিষয়টি জানতে পারে।

দুধ ভাই-বোনের বিয়ের শঙ্কা, জবাবে উদ্যোক্তারা যা বলছেন
ডা: মুজিবুর রহমান বলছেন, এমন কোনো আশংকাই থাকবে না, কারণ মিল্ক ব্যাংক থেকে দুধ দাতা ও গ্রহীতা পরস্পর সম্পর্কে বিস্তারিত জানবেন এবং তাদের নিজস্ব পরিচয়পত্রও থাকবে।

এমনকি তাদের তথ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রতি বছর প্রকাশও করা হবে যাতে করে দাতা ও গ্রহীতার সব প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যায়।

মিজানুর রহমান বলেন, ধর্মীয় বিষয়গুলো দেখার জন্য তারা ইরান ও কুয়েতে কিভাবে মিল্ক ব্যাংক পরিচালিত হয়, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করেছেন।

প্রতিটি মায়ের দুধ আলাদা বিশেষ পাত্রে নেয়া হবে এবং আলাদা লেবেলিং থাকবে যা কখনো নষ্ট হবে না। যিনি দুধ দেবেন তার অনুমতি নেয়া হবে। তিনি নিজেও নিজের দুধ প্রয়োজনে নিতে পারবেন বা অন্য কেউ নিলে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে আইডি কার্ড থাকবে। দাতা ও গ্রহীতা এ বিষয়ে একে অন্যের বিস্তারিত জানতে পারবে।

এছাড়া বিয়ের মতো সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি কোনো প্রভাব ফেলবে না, কারণ এই ব্যাংক সাধারণভাবে সবার জন্য নয়, বরং এটি বিশেষ ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুর জন্য যেখানে জীবন বাঁচানোর চেষ্টাই প্রধান কর্তব্য, বলছিলেন মিস্টার রহমান।

হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক-এর এই সমন্বয়ক বলেন, এটা কিন্তু সাধারণ ব্যবহারের জন্য নয়, যেসব শিশুর আর কোনো বিকল্প নেই তাদের জন্য।

তিনি বলেন, এমন কিছু রোগ আছে মায়ের দুধ ছাড়া ভালো হয় না। সেসব ক্ষেত্রে এ দুধ ব্যবহার করবে। অনেকে নিজের দুধ জমা রেখে নিজের সন্তানকে খাওয়াতে পারবেন। মায়ের বুকের দুধ শিশুর জন্য জরুরি—এ মহৎ উদ্দেশ্যে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে বিস্তারিত ডাটা সংরক্ষণ করে মায়ের দুধ সংগ্রহ ও দেয়া হবে এই মিল্ক ব্যাংক থেকে।

এছাড়া মিল্ক ব্যাংকের দুধটা দেয়াও হবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, বলছিলেন মিজানুর রহমান।
কবে নাগাদ যাত্রা শুরু হবে?

মিজানুর রহমান জানান, হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক-এর যাত্রার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে এবং সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, পহেলা ডিসেম্বর থেকে এটি শুরু করতে চাইলেও কিছু নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণে শুরু হয়নি। কারণ আমরা সবাই বিষয়টি বুঝিয়ে ইতিবাচকভাবে অগ্রসর হতে চাই।

বিয়ের বিষয়ে বিভিন্ন মাজহাবে বিভিন্নভাবে বলা আছে। কিন্তু আমরা তাদের বোঝাতে চাই যে এর সাথে ধর্মের কোনো বিরোধই হবে না। কারণ এটি সম্পূর্ণ বিপন্ন শিশুর জীবন বাঁচানোর জন্য।

তিনি জানান, ইরানে ২০১৬ সালে এই ব্যাংক শুরু হয়েছে এবং এ বছর আরও কয়েকটি ব্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। কুয়েত, মালয়েশিয়া, আরব আমিরাত ও পাকিস্তানেও আছে।

মুসলিমদের জন্য কোনটা করা যাবে আর কোনটা করা যাবে না এ নিয়ে কয়েক মাস আমরা কাজ করেছি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আলেমদের সামনে ব্রিফিং করেছি। আমরা নিশ্চিত করেছি যে এটি নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। তারপরেও আমরা আরও আলোচনা করে সবার সহযোগিতা নিয়ে মানবকল্যানে এই ব্যাংকের কাজ শুরু করতে চাই।

স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করে ইতিহাসের পাতায় বাংলাদেশের নাম লিখব : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল এফসিএ এমপি বলেছেন, ডিসেম্বর ঐতিহাসিক মাস। স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করে ইতিহাসের পাতায় বাংলাদেশের নাম লিখব। ২০৪১ সালে এ দেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিয়ে যাবো। আগামী জানুয়ারী মাস থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্ম বার্ষিকী পালন শুরু হবে। যারা মানুষকে ভালবাসা দিয়ে জয় করতে পারে রাজনীতি হবে তাদেরকে নিয়ে। মাদক সেবনকারীদের কোন পদপদবীতে আনা যাবেনা। গণতান্ত্রীক ভাবে উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের কমিটি করা হবে।

যুবলীগের গ্রাম কমিটি, ওয়ার্ড কমিটি ও ইউনিয়ন কমিটি কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে করা হবে। আমি এখানে একজন মন্ত্রী বা আ’লীগের সদস্য হিসাবে নয়, আমি আপনাদের পরিবারের একজন সদস্য হিসাবে কাজ করতে চাই। আমি অন্যায় ভাবে কোন অর্থ উপার্জন করি না, সৎ পথে উপার্জন করেছি আবার সৎ পথেই খরচ করেছি। মানুষের সাথে সম্পর্কের মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নিতে হবে। এক এলাকার নেতারা অন্য এলাকায় গিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটাবেন না। দলের বিরুদ্ধে কথা বলা লোকদের হাতে নেতৃত্ব দেয়া হবে না। গরীবের কষ্ট আমি বুঝি। আমি কাউকে ছোট করার জন্য রাজনীতি করিনা। আমি দারিদ্রতাকে জয় করে আজকের এই অবস্থানে এসেছি। আপনারাও চেষ্টা করলে পারবেন। বাংলাদেশ অনেক সম্ভাবনার দেশ।


গতকাল শনিবার কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত যুবলীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


উপজেলা যুবলীগ সভাপতি পৌর মেয়র আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ও ভাইস চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ভ‚ঁইয়া। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান সামছু উদ্দিন কালু, সহসভাপতি এইচ এম মহিন উদ্দিন মিয়াজী, মাজহারুল ইসলাম মহসিন, যুগ্ম সম্পাদক মশিউর রহমান সুমন, জহির উল্লাহ সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল বাশার জয়, সাইফুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক সুমন, সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মামুন প্রমুখ। পরে মন্ত্রী নাঙ্গলকোট হাছান মেমোরিয়াল সরকারী কলেজ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে লিভার সিরোসিস, ক্যান্সার, কিডনি, স্ট্রোকে প্যারালাইস, থ্যালাসেমিয়া ও জন্মগত হৃদ রোগীদের আর্র্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২৫ জন রোগীর মাঝে প্রতিজনকে ৫০ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন ।

তাছাড়া মন্ত্রী একই স্থানে উপজেলা আ’লীগের আয়োজনে শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবসে বক্তব্য রাখেন। উপজেলা আ’লীগ সভাপতি রফিকুল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান সামছু উদ্দিন কালু, উপজেলা আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু ইউসুফ প্রমুখ।

অব্যবহৃত জায়গায় শিল্পনগরী স্থাপন করাসহ উদ্যোক্তাদের হয়রানি বন্ধ জরুরী – এসএমই নীতি ২০১৯ কর্মশালায় শিল্পপ্রতিমন্ত্রী

প্রবৃদ্ধি অর্জনে পরিকল্পিত শিল্পনগরী গড়ে তুলতে অব্যবহৃত জায়গায় শিল্পনগরী স্থাপন করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি।


সেইসাথে উদ্যোক্তারা যাতে হয়রানির স্বীকার না হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে শিল্প মন্ত্রণালয়, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রিজম প্রকল্প এবং বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভলপমেন্ট বিল্ডের যৌথ আয়োজনে “এসএমই নীতি ২০১৯“ শীর্ষক দিনব্যাপী একটি কর্মশালার প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন্তব্য করেন তিনি।


অনুষ্ঠানে শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে। এ জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরী ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।


এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শিল্প কাঠামোতে এসএমই খাতের অবদান বাড়ছে। আর তাই ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় শিল্পনীতির আওতায় এসএমই নীতিমালা ২০১৯’র খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।


কামাল আহমেদ মজুমদার জানান এসএমই সেক্টরে ৭৮ লাখ অতি ক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং জিডিপিতে এই খাতের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ। এ খাত শ্রমঘন এবং উৎপাদন সময় স্বল্প হওয়ায় জাতীয় আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দ্রæত অবদান রাখতে সক্ষম।


অন্যদিকে টেকসই উন্নয়নে বিশেষ করে চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নির্মূল, নারী-পুরুষের সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে এ খাত ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। বর্তমান সরকারও এসএমই খাতের উন্নয়নকে শিল্পায়নের চালিকা শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে এ খাতকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আর তাই জাতীয় শিল্পনীতির পাশাপাশি এসএমই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।


এসময় শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার জানান, নতুন এসএমই নীতিমালায় মূলত ৬টি বিষয়কে সামনে রাখা হয়েছে। অনেকগুলো নতুন বিষয় এই নীতিমালার আওতায় আনা হয়েছে। যেমন এসএমই খাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি করা, অর্থায়নের ব্যবস্থা করা, এসএমই ক্রেডিট গ্যারান্টি ফান্ড চালু করা এবং এটি চালু হলে মর্টগেজের ব্যবস্থা থাকবে না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।


এছাড়া, সহজ শর্তে ও অল্প সুদে ঋণ প্রদান, নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (স্টার্টআপ) করার ক্ষেত্রে সহায়তা ও অনলাইনে ডিজিটাল প্রক্রিয়া চালুর মাধ্যমে স্টার্টআপ প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাব রয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ই কমার্স, অনলাইন সাপোর্ট, আউট সোর্সিং এবং আইটি ভিত্তিক অ্যাপলিকেশেনের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার একটি ফোকাস এই নীতিমালায় আছে যা এসএমই উদ্যোক্তাদেও জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করেন কামাল আহমেদ মজুমদার।


শিল্প প্রতিমন্ত্রী জানান, এই নীতিমালায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৬ ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তা হল, নারী উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, সহজ শর্তে ঋণ , তহবিল গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্বুদ্ধকরণ এবং কাজের জন্য বাজার সংযোগের সুযোগ বৃদ্ধি করা।


এছাড়া, এসএমই তথ্য ভান্ডার প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই নীতিমালার আলোকে উদ্যোক্তারা সহায়তা পেলে তা অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা উপকৃত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এসময় শিল্প প্রতিমন্ত্রী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রতি বলেন, ঋণ পেতে উদ্যোক্তারা যাতে হয়রানির স্বীকার না সে দিকে লক্ষ রাখা জরুরী। প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাই শুধু নীতিমালা করেই পরিস্থিতির বদলাবে না, সব সহযোগী সংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।


শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুল হালিম বলেন, ২০২৪ সালের মধ্যে জিডিপিতে এসএমইর অবদান ৩২ শতাংশ করতে হবে। যা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে অসম্ভব নয়।


অনুষ্ঠানে বিসিকের চেয়ারম্যান মোশতাক হাসান জানান, ২০ হাজার একর জমিতে পঞ্চাশের বেশী শিল্প পার্ক স্থাপন করবে বিসিক। একইসাথে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করাসহ শিল্প প্লট বরাদ্দ এবং সহজ শর্ত ও
সহনীয় সুদে ঋণ প্রদানও করা হবে বলেও জানান তিনি।


কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সালাহউদ্দিন মাহমুদ, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম, প্রিজম প্রকল্পের টিম লিডার আলী সাবেত এবং বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম।

প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি) বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে। এনআইএলজিতে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণসমূহের ইম্প্যাক্ট এসেসমেন্ট করতে হবে এবং প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনআইএলজির পরিচালনা বোর্ডের ৫২ তম সভায় সভাপতির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

সভায় জানানো হয়, রাজস্ব সঠিকভাবে নিরুপণ ও আদায়ের লক্ষ্যে সকল পৌরসভার কর আদায়কারী ও নিরুপণকারীগণের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সুশাসন সংহতকরণের লক্ষ্যে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল, তথ্য প্রাপ্তির অধিকার, অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা এবং সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি ইত্যাদি এবং ক্রসকাটিং বিষয়-সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, নারী ও শিশু অধিকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ, এসডিজি প্রভৃতি বিষয় এনআইএলজির নিয়মিত প্রশিক্ষণ কারিকুলামে সংযোজন করা হয়েছে।

এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ, এনআইএলজি’র মহাপরিচালক ও পরিচালনা বোর্ডের সদস্য-সচিব তপন কুমার কর্মকারসহ পরিচালনা বোর্ডের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি) ১৯৬৯ সালের ১ জুলাই ‘লোকাল গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউট’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয় ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব লোকাল গভর্নমেন্ট। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে এনআইএলজি একমাত্র প্রশিক্ষণ ও গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট আইন, ১৯৯২ অনুয়ায়ী পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয় সরকারের সব স্তরে আধুনিকায়নের কাজ চলছে

স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের সেবার মানোন্নয়নের ওপর সরকার জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘শুধু বড় বড় সিটি করপোরেশন নয়, বরং স্থানীয় সরকারের সব স্তরেই আধুনিকায়ন করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ জনগণ সম্ভাব্য সব সেবাই যেন ইউনিয়ন বা উপজেলা থেকে পান, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

সোমবার (১০ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের কাউন্সিল হলে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমার গ্রাম-আমার শহর’ কর্মসূচি সামনে রেখে প্রতিটি গ্রামকে কমিউনিটিভিত্তিক তৈরি করা হবে। যেখানে পরিকল্পিতভাবে আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকবে। সেই আলোকেই কাজ চলছে।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিগত ১০ বছরে আমাদের আয় এবং ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে কয়েকগুণ। স্বাভাবিকভাবেই তার সঙ্গে আনুপাতিক হারে বেড়েছে বর্জ্য উৎপাদন। এত অধিক বর্জ্য সনাতন পদ্ধতিতে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমাদের অবশ্যই আধুনিক ও স্মার্ট হতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)-এর মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশনারি লিডারশিপ নিয়ে এগিয়ে চলেছি আমরা। শুধু বর্তমানে ভালো থাকা নয়, তিনি আগামী ১০০ বছরের জন্য পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। আর আমরা ডিএনসিসি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করে আধুনিক ঢাকা গড়ার জন্য নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছি। আমরা খুব শিগগিরই ‘নগর অ্যাপস’ নামে একটি ওয়ানস্টপ অ্যাপ চালু করতে যাচ্ছি। এই অ্যাপের মাধ্যমে বাসাবাড়ির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শহরের বিভিন্ন স্থানে পাবলিক টয়লেট স্থাপন, গণপরিবহনসহ নানা সুবিধা পাওয়া যাবে।’

এ সময় মেয়র স্মার্ট সিটি বাস্তবায়নে বিভিন্ন ইনোভেটিভ ও জনবান্ধব আইডিয়া নিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রকৌশলী অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রকৌশলী ড. সেলিয়া শাহনাজ প্রমুখ।

বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটির সদস্য মনোনীত

কুমিল্লার কৃতি সন্তান, দেশের সর্বাধিক প্রচারিত বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক ও জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল নিউজ টুয়েন্টিফোর এর সিইও নঈম নিজামকে জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটির সম্মানিত সদস্য মনোনীত হয়েছেন।


দেশের গণমাধ্যমের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এ কমিটিতে অন্তভ‚ক্ত হন। মাদকবিরোধী গণসচেতনতা বৃদ্ধি ও অপব্যবহার রোধকল্পে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ৬৩ অনুযায়ী এ কমিটি গঠন করা হয়। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।


কমিটির চেয়ারম্যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং সদস্য সচিব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমেদ। কমিটিতে ২১ জনকে সম্মানিত সদস্য মনোনীত করা হয়। তাদের মধ্যে অন্যতম একজন নঈম নিজাম।


গণমাধ্যমের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনি জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটির সম্মানিত সদস্য মনোনীত হওয়ায় মিডিয়া অঙ্গন সহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ তাঁকে অভিনন্দন জানান।

বঙ্গবন্ধুর বজ্র কণ্ঠের ভাষণই ছিল সিরাজ মিয়ার যুদ্ধে যাওয়ার অদম্য প্রেরণা

সিরাজ মিয়া। ১৯৪৯ সালে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার কালিয়া চৌঁ গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। আবদুর রহমান ও সূর্যবান নেছা দম্পতির ৫ মেয়ে ও ২ ছেলের সংসারে তিনি ৫ম সন্তান। মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা সিরাজ মিয়া শৈশবে কোনো কিছুর অভাব অনুভব করেনি। স্বাচ্ছন্দ্যময় ছিল তার শৈশবের প্রতিটি প্রহর। তবে কৈশোরে পদার্পণ করার পরপরই তাদের পরিবারের ভাগ্যাকাশে দেখা দেয় বেদনার কালো মেঘ। মাত্র ১০ বছর বয়সেই তিনি মাকে হারান। ৭ সন্তানের নিরাপদ বেড়ে ওঠা নিশ্চিৎ করতে পুনরায় বিয়ে করেন পিতা আব্দুর রহমান। নতুন মাত্রা যোগ হয় সিরাজ মিয়ার জীবনের গল্পে। সৎ মায়ের সংসারে তিনি এবং তার ৬ ভাই-বোন প্রত্যাশিত আদর-স্নেহ থেকে বঞ্চিত হন। ৫ম শ্রেণীর পর আর পড়াশুনার সৌভাগ্য হয়নি তৎকালীন আজগরা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র সিরাজ মিয়ার। যার ফলে হৃদয়ে লালিত হাজারো স্বপ্নকে মাটিচাপা দিয়ে তিনি কর্মজীবনে পা বাড়ান।


একদিন ভোরবেলায় সবার দৃষ্টির অগোচরে বাড়ী থেকে বের হয়ে পড়েন সিরাজ মিয়া। রওয়ানা হন অজানা গন্তব্যে। ট্রেনে করে পৌঁছে যান সুদূর দিনাজপুরে। অনভিজ্ঞতা স্বত্তেও জীবন ও জীবিকার তাগিদে মনোনিবেশ করেন অন্যের কৃষিকাজে। আর এভাবেই কেটে যায় তার জীবনের ১যুুগ। এদিকে পরিবারের সাথে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পিতা আব্দুর রহমান এতদিনে তার ১ম সংসারের ছোট ছেলে সিরাজকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে একসময় ভাই-বোনেরাও ভাবতে শুরু করে দেয় তাদের ভাই সিরাজ হয়তো আর কোনদিনই বাড়ি ফিরবেনা।


কর্মস্থলে থাকাকালীন (৭ই মার্চ-৭১) সিরাজ মিয়া স্বাধীন বাংলা বেতারে শুনতে পেলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই কালজয়ী ভাষণ। ভাষণের শেষাংশে ‘যার যা আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো’ কথাটি চুম্বকের মত আকৃষ্ট করে ২২ বছর বয়সী যুবক সিরাজ মিয়াকে। তখনই মনস্থির করলেন তিনিও যুদ্ধে যাবেন। বঙ্গবন্ধুর বজ্র কণ্ঠের সেই ঐতিহাসিক ভাষণই ছিল সিরাজ মিয়ার যুদ্ধে যাওয়ার অদম্য প্রেরণা। এর কিছুদিন পর (২৬ শে মার্চ) পুনরায় তিনি স্বাধীন বাংলা বেতারে শুনতে পেলেন স্বাধীনতার ঘোষনা দেওয়ায় রাতের শেষ প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হয়েছেন। যার ফলে ২২ বছর বয়সী যুবক সিরাজ মিয়ার যুদ্ধে যাওয়ার অদম্য স্পৃহা আরো বেড়ে গেল। আর তখন থেকেই তিনিও অপেক্ষার প্রহর গুনতে লাগলেন যুদ্ধে যাওয়ার।


অতঃপর আবির্ভূত হলো সেই কাঙ্খিত দিন। সিরাজ মিয়া তার সমবয়সী যুবকদের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখতে পেলেন। সবাই যে যার মত যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঘর-বাড়ি ছেড়ে দূরাঞ্চলে ছুটে আসা সিরাজ মিয়া আগে থেকেই যুদ্ধে যেতে প্রস্তুত ছিলেন। তাই আর কালক্ষেপু না করে তিনিও তার এক ঝাঁক সমবয়সী যুবক বন্ধুর সাথে মিলিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের ৬নং সেক্টর রংপুর-দিনাজপুরের সেক্টর কমান্ডার খাদেমুল বাশার ও সাবসেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন মতিউর রহমানের নেতৃত্বে পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলার ভজনপুরে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এই সেক্টরের সরাসরি পরিধি ছিল (পশ্চিমে) পশ্চিমবঙ্গের দিনাজপুরের বালুরঘাট ও (পূর্বে) আসামের মানিকের চর পর্যন্ত। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ চলাকালীন সময়ের অনেক বীভিষিকাময় স্মৃতিই আজও অক্ষত আছে সিরাজ মিয়ার মানসপটে।


একান্ত সাক্ষাৎকারে একাত্তরের বীরমুক্তিযোদ্ধা সিরাজ মিয়া বলেন, ‘পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে গিয়ে আমরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে প্রথমে তারা আমাদেরকে তাদের দলে নিতে চায়নি। কিন্তু পরে আশপাশের এলাকার পথঘাট সম্পর্কে আমাদের সম্যক পরিচিতির কথা জানতে পেরে তারা আমাদেরকে পরীক্ষামূলক ভাবে দলে নিতে সম্মত হয়।


একসময় আমরা তাদের কাছে বিশ^স্ত হয়ে উঠি। আর ততদিনে আমাদের যাবতীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণও শেষ হয়। সে সময় একটি বন্দুক এবং একটি বেলচা আমাদের সবার সঙ্গেই বাধ্যতামূলক ভাবে রাখতে হতো। আমরা যখন রাতে ঘুমাতে যেতাম, তখন গর্ত করে তার মধ্যে দুই-তিনজন একসঙ্গেই ঘুমাতাম। আর বাকীরা তাদেরকে পাহারা দিতাম। আবার মাঝে মাঝে ছদ্মবেশ ধারণ করে পাকিস্তানি সেনাক্যাম্পে গিয়ে তাদের খবরাখবর জোগাড় করে মুক্তি বাহিনীর কমান্ডারদের কাছেও পৌঁছে দিতাম। আমাদের এ অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু হয় ৭১-এর ১৬ এপ্রিল শুক্রবার। পরদিন শনিবার সকালে পাক-বাহিনী সড়কপথ দখল করে নেয়। আমরা তখন তেঁতুলিয়ার মাগুরমারী এলাকায় আশ্রয় নিই। অপরদিকে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা সম্মিলিত ভাবে চাওয়াই নদীর ব্রিজ ডিনামাইড দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়ায় পাক-সেনারা তেতুলিয়ায় প্রবেশ করতে না পেরে অমরখানায় অবস্থান নেয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় এই তেতুলিয়াই মুক্তাঞ্চল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। আর আমাদের রিক্রুটিং, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রজোগান সহ মুক্তিযুদ্ধের সার্বিক কর্মকান্ড এখান থেকেই পরিচালিত হতো। পাক-বাহিনী যখন পঞ্চগড় সদর, তালমা, গলেহা, মির্জাপুর, আটোয়ারী সদর, বোদা, ময়দানদীঘি, নয়াদীঘি, সাকোয়া, জগদল, অমরখানাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে ক্যাম্প স্থাপন করে। আমরা তখন তেতুলিয়া, চাউলহাটি, কোটগাছ, থুকরাবাড়ি, ভজনপুর, মাগুরমারী, ময়নাগুড়ি, দেবনগর ও ব্রাহ্মণপাড়ায় অবস্থান নিই। ২৯ নভেম্বর সোমবার পঞ্চগড় হানাদারমুক্ত হয়। আমরা পাক-হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে পঞ্চগড়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়ে দিই। তবে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন পর্যন্ত আমরা মুক্তিযোদ্ধারা কেউই অস্ত্র ছাড়িনি।’


যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ২২ বছরের যুবক সিরাজ মিয়ার সম্যক পারদর্শিতায় মুগ্ধ হন কমান্ডাররা। যার ফলে শিক্ষাগত যোগ্যতা কম হওয়া স্বত্তেও যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই তারা তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে নিয়োগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের ১ বছর পর বাড়িতে আসেন সিরাজ মিয়া। এক যুগ পর আদরের ছেলেকে ফিরে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হন পিতা আবদুর রহমান। এর ঠিক কয়েকবছর পরই ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন করেন পাশ^বর্তী চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ছোটখিল গ্রামের আবদুল গফুরের মেয়ে আলেয়া বেগমের সাথে। দাম্পত্য জীবনে তিনি ২ ছেলে ও ৪ মেয়ের জনক। তার বড় ছেলে মোজাম্মেল হক আলম বর্তমানে সাংবাদিকতা পেশায় সম্পৃক্ত এবং ছোট ছেলে একরামুল হক সবুজ একজন স্বনির্ভর ব্যবসায়ী। সাধ্যানুযায়ী পড়াশুনা করিয়ে বড় দু’মেয়েকে সম্ভ্রান্ত পরিবারে বিয়ে দিয়েছেন। আর এখনো সেঝো এবং ছোট মেয়ের পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন।


১৫ বছর যথাযথ ভাবে সৈনিকের দায়িত্ব পালন করার পর তিনি ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি পরিবার-পরিজনের সাথে স্বাচ্ছন্দ্যে কাটাচ্ছেন তার সংগ্রামী জীবনের ‘বার্ধক্য’ অধ্যায়।


বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ মিয়া বলেন, ‘সরকার আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনেক কাজ করছে। আমাদেরকে যথাযথ ভাবে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও রেশন না দিলে, হয়তো আমরা নিজেদেরকে এবং নিজেদের সন্তানদেরকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারতাম না।’

সিটি নির্বাচন হবে যথাসময়ে : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য অনেক আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন যখন মনে করে তখনই নির্বাচন করতে পারে। তবে কোনও সংশয় নয়, যথা সময়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাংবাদিকেদের এক প্রশ্নের জবাবে এ অভিমত ব্যক্ত করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।


রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলায়তনে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) আয়োজিত ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস: ডিলিং উইথ কনস্ট্রাকশন পারমিট: পারসপেকটিভ বাংলাদেশ’ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


কাউন্সিলররা পূর্ণ মেয়াদে থাকতে চায় সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি আইনে থাকে কাউন্সিলররা পূর্ণ মেয়াদ থাকতে পারবে, তাহলে থাকবে। আর আইনে না থাকলে পারবে না।


এর আগে সেমিনারে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, গ্রামের মানুষ শহরের দিকে স্থানান্তর হচ্ছে। কেন স্থানান্তর হচ্ছে এর কারণ হলো- মানুষ সুযোগ-সুবিধা পেতে চায়, সেজন্য মানুষ শহরের দিকে ডায়ভার্ট হচ্ছে। তবে এখন গ্রামকে নিয়ে মাস্টার প্ল্যান করা হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি জমির ব্যবহার, বাসা-বাড়ি নির্মাণ, বাজার তৈরি, কলকারখানা নির্মাণসহ সব কিছুর একটা পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। অচিরেই শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছে যাবে।


তিনি আরও বলেন, প্রথমে কিছু এলাকা নিয়ে চিন্তা করছি। এরমধ্যে লাকসাম-মনোহরগঞ্জ ও বগুড়ার কিছু এলাকা রয়েছে। ইতোমধ্যে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার চকপাথালিয়া গ্রামে আইল উঠিয়ে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদ করলে প্রতি একরে ২৪ হাজার টাকা লাভ হবে। আর আগের পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে প্রতি একরে ৪ হাজার টাকা লাভ হবে।


ভূটানের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভূটানের সংসদ সদস্যরাও ৩-৪ হাজার লোকের প্রতিনিধিত্ব করেন। আর আমাদের একজন ইউপি মেম্বারও ৩-৪ হাজার লোকের প্রতিনিধিত্ব করে। অথচ তারা শিক্ষিত না। সবাই তাদেরকে চোর, বাটপার বলে। একটা বিষয় হলো- শিক্ষিতরা মেম্বার-চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে না। সেজন্য আমাদের এ সংকট। শিক্ষিতরা যদি নির্বাচনে আসতো তাহলে আরো আগেই প্রতিটি ইউনিয়ন, গ্রামকে পরিকল্পনামতো সাজানো যেতো।


আইবিএফবি এর সভাপতি হুমায়ুন রশিদ এর সভাপতিত্বে সেমিনারে কী নোট উপস্থাপন করেন, সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজ এর সচিব স্থপতি সালমা এ সফি। আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস) এর সাবেক সভাপতি হাবিবুল্লাহ এন কারিম, সেন্টার ফর হাউজ বিল্ডিং রিসার্স মোহাম্মদ আবু সাদেক।


মোহাম্মদ আবু সাদেক বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ভবন রোধ না করলে টেকসই উন্নয়ণ (এসডিজি) বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ দেশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ভূমির ছাড়পত্র দিয়ে থাকে। কিন্তু পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এটা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় করে থাকে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস থাকবে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রনে। এসব আইনকে সমাধান করা দরকার।

শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিসিক কর্মকর্তাদের ৫ দিনব্যাপী ক্রয় বিধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

রাজধানীতে শেষ হল শিল্প মন্ত্রণালয় ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রিজম প্রকল্পের আয়োজনে ৫ দিনব্যাপী “Public Procurement Procedures and Rules – ক্রয় এবং বিধি” শীর্ষক ৫ দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা। রাজধানীর পুরানো পল্টনের ইকোনমিক রিপোটার্স ফোরাম ইআরএফ মিলনায়তনে এ প্রশিক্ষণে শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বিসিকের ২৩ জন প্রকল্প পরিচালক ও কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। শনিবার বিকেলে প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


মূলত সরকারী ক্রয় কার্যক্রমের সাথে যুক্ত সংশ্লিল্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করার জন্য এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে ক্রয় বিধি, অর্থায়নসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয় শেখানো হয় যাতে কর্মকর্তারা দক্ষতা এবং সচ্ছতার সাথে ক্রয় প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেন।


সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের প্রশিক্ষক জাকির হোসেন ৫ দিনের এ প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুল হালিম, বিসিকের চেয়ারম্যান মোঃ মোশ্তাক হাসান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান ডাঃ মোঃ আখতারুজ্জামান, প্রিজম প্রকল্পের টিম লিডার আলী সাবেতসহ শিল্প মন্ত্রণালয়, বিসিক এবং প্রিজম প্রকল্পের কর্মকর্তারা।


অন্যদিকে এসএমই ফাউন্ডেশন ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রিজম প্রকল্পের আয়োজনে শনিবার সকালে খুলনায় শুরু হয় এসএমই পণ্যের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং শীর্ষক ৩ দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কোর্স। নগরীর শের-ই-বাংলা রোডের কম্পিউটার কাউন্সিলে এ প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে।


এ প্রশিক্ষণে ২০ জন উদ্যোক্তাকে বিনামূল্যে ই- মার্কেটিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিং প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। যেসব উদ্যোক্তার ফেসবুক, অনলাইন এবং ওয়েবে এসএমই পণ্যের পেইজ আছে, তাদের জন্য এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। ৯ ডিসেম্বর প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেয়া হবে।

আজ লাকসামে ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

আজ শুক্রবার লাকসামে প্রায় ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে দু’টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি। জনগুরুত্বপূর্ণ দুই উন্নয়নকে ঘিরে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে।


জানা যায়, আজ ৬ ডিসেম্বর শুক্রবার ২৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে লাকসামে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ ‘বঙ্গবন্ধু পৌর অডিটরিয়াম’ এবং ১২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘লাকসাম মডেল মসজিদ’ উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি। এসব কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা ব্যানার, পেস্টুন লাগিয়েছেন।

উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলায় তেল সরবরাহ বন্ধ

১৫ দফা দাবিতে বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ও ট্যাংক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন আজ সোমবার অচল হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় বাঘাবাড়ির বিপিসির তেল ডিপো।

সকাল থেকে পেট্রলপাম্প ও ট্যাংক-লরি মালিকরা কোনো প্রকার জ্বালানি তেল উত্তোলন এবং উত্তরবঙ্গের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় সরবরাহ করেনি। ফলে বিপিসির বাঘাবাড়ি ওয়েল ডিপোটি কর্মহীন হয়ে অচল হয়ে পড়েছে।

এর আগে রোববার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি কর্মসূচি শুরু করে বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ও ট্যাংক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

রাজশাহী পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অজেল উদ্দিন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে তেলের কমিশন বৃদ্ধি, মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, ট্যাংক-লরি শ্রমিকদের বীমাপ্রথা চালু, পরিবেশ অধিদফতরের লাইসেন্স বাতিল, বিএসটিআইয়ের বার্ষিক ট্যাক্স বাতিল, ট্যাংক-লরি চালকদের পুলিশি হয়রানি বন্ধসহ ১৫ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, আমাদের এ ন্যায্য দাবি দীর্ঘদিনেও পূরণ না হওয়ায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকাল থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন, সরবরাহ ও বিপণন বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছি। সরকার আমাদের এ দাবি বাস্তবায়ন করলেই আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কাজে ফিরে যাব।

বাঘাবাড়ি ট্যাংক-লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোজাম্মেল হক জানান, উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলা থেকে সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার যানবাহন চলাচল করে থাকে। এসব পরিবহনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ লিটার পেট্রলের প্রয়োজন হয়।

এ পরিমাণ জ্বালানি তেলের সিংহভাগ বিপিসির বাঘাবাড়ি ওয়েল ডিপো থেকে সরবরাহ করা হয়। আর এ তেল সরবরাহের কাজে নিয়োজিত রয়েছে প্রায় ৮০০ ট্যাংক-লরি ও দুই শতাধিক পেট্রলপাম্প।

এ ছাড়া পার্বতীপুর, বালাসিঘাট ও চিলমারী থেকে চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ তেল সরবরাহ করা হয়। আমাদের দাবি আদায়ে উত্তরের সব ডিপো থেকে সব ধরনের জ্বালানি তেল উত্তোলন ও সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া সব ট্যাংক-লরি ও পেট্রলপাম্পে জ্বালানি তেল বিপণন বন্ধ রয়েছে। এ দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এ গুলো বন্ধ থাকবে।

এ বিষয়ে বাঘাবাড়ি ওয়েল ডিপোর ইনচার্জ ও যমুনা ওয়েল কোংয়ের ব্যবস্থাপক জাহিদ সরোয়ার বলেন, বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ও ট্যাংক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ১৫ দফা দাবিতে কর্মবিরতি কর্মসূচির প্রথম দিনে বাঘাবাড়িসহ উত্তরের সব ডিপো খোলা রয়েছে। কিন্তু কোনো ডিলার বা পাম্প মালিক এ দিন তেল উত্তোলন করতে আসেনি। ফলে ডিপোতে কোনো কাজ হয়নি।

তবে সব পেট্রলপাম্প মালিক ও ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের কোথাও এদিন এর কোনো প্রভাব পড়েনি। এ কর্মবিরতি দীর্ঘ হলে এক সপ্তাহ পর এর প্রভাব পড়তে পারে।

এ বিষয়ে পরিবহন মালিক আবদুস সবুর ও বাদল খন্দকার জানান, এ দিন তাদের ট্যাংকিতে ফুল তেল থাকায় তারা ভালোভাবেই গাড়ি চালাতে পেরেছেন। আগামী দিনেও পেট্রলপাম্প বন্ধ থাকলে তারা আর গাড়ি চালাতে পারবেন না।

এদিকে খুচরা বিক্রেতা আব্দুল আলিম জানান, সরবরাহ না থাকায় খুচরাবাজারে পেট্রলের দাম লিটারে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ বিষয়ে মোটর বাইকচালক আবদুল কুদ্দস, রাজিব আহমেদ জাকির হোসেন জানান, পেট্রলপাম্প বন্ধের কারণে খুচরা বিক্রেতারা লিটারপ্রতি ৫ টাকা বেশি দরে বিক্রি করছে। কোথাও কোথাও সরবরাহ না থাকার অজুহাতে পেট্রলের কৃত্রিম সংকটও দেখা দিয়েছে।

ওসি মোয়াজ্জেমের ৮ বছরের কারাদণ্ড

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের (আইসিটি) মামলায় ৮ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে ১৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জরিমানার এই টাকা নুসরাতের পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস-শামস জগলুল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। এটি বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া কোনো মামলার প্রথম রায়।

দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস-শামছ জগলুল হোসেন এজলাসে আসন গ্রহণ করেন। দুপুর ২টা ১৭ মিনিটে ওসি মোয়াজ্জেমকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। এরপর রায় পড়া শুরু করেন আদালত।

মামলার বাদি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওসি মোয়াজ্জেমকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে নেয়া হয়। ২০ নভেম্বর মামলাটিতে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণার দিন ঠিক করা হয়েছিল।

১৫ এপ্রিল সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। ওইদিন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন।

১৭ জুন ওসি মোয়াজ্জেম জামিন আবেদন করলে নাকচ করেন সাইবার ট্রাইব্যুনাল। পরে তিনি ২ জুলাই হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। সেখানেও তার জামিন নাকচ হয়।

১৬ জুন শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার হন মোয়াজ্জেম হোসেন। ২০ জুন সাইবার ট্রাইব্যুনালে ওসি মোয়াজ্জেমের পক্ষে কারাগারে ডিভিশন পাওয়ার বিষয়ে আবেদন করা হলে বিচারক গত ২৪ জুন তাকে প্রথম শ্রেণির বন্দির (ডিভিশন) সব সুবিধা দেয়ার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, ফেনীর সোনাগাজী থানায় মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে ‘অসম্মানজনক’ কথা বলায় এবং তার জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ এনে ১৫ এপ্রিল সাইবার ট্রাইব্যুনালে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮-এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা অভিযোগটি পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে তদন্ত করে ৩০ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

২৭ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানা আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। একই দিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে একই ট্রাইব্যুনালের বিচারক সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে ১৭ জুন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিসংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন।

পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বাদীসহ ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও নিয়মবহির্ভূতভাবে ভিকটিম নুসরাত জাহান রাফির বক্তব্যের ভিডিও ধারণ ও প্রচার করে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮-এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় অপরাধ করেছেন।’

প্রসঙ্গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন ভুক্তভোগী নুসরাতের মা। পরে সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করা হয়।

যৌন হয়রানির অভিযোগ করতে যাওয়ার পর সোনাগাজী থানার ওসির কক্ষে ফের হয়রানির শিকার হতে হয় নুসরাতকে। নিয়ম না মেনে জেরা করতে করতেই নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি। মৌখিক অভিযোগ নেয়ার সময় দুজন পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না।

এর পর ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা চলাকালে নুসরাতকে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ডেকে ছাদে নিয়ে গায়ে আগুন দেয় নরপশুরা। ওই দিন নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন নুসরাতের মৃত্যু হয়।

২৪ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলায় ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাসহ ১৬ আসামির সবার ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আসামিদের বেশিরভাগই এখন কারাগারে।

নুসরাতের ভিডিও ছড়ানোয় ওসি মোয়াজ্জেমের ৮ বছরের কারাদণ্ড

ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের আট বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় পৃথক দুই ধারায় আট বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬ ধারায় পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং ২৯ ধারায় তিন বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।

ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সকাল পৌনে ১০টার দিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার সময় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানি করেন ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। এ বিষয়ে রাফিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। জিজ্ঞাসাবাদকালে ধারণ করা ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

গত ২১ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২৮ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

গত ১২ নভেম্বর মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলাটিতে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর ১৪ নভেম্বর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন ওসি মোয়াজ্জেম।

গত ১৫ এপ্রিল মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ মেয়েটিকে তার কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন বলে অভিযোগ উঠলে তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন অধ্যক্ষ এবং ছাত্রীকে থানায় নিয়ে যান। ওই সময় ওসি নিয়মবহির্ভূতভাবে জেরা করতে করতেই অনুমতি ছাড়াই রাফির বক্তব্য ভিডিও করেন। পরবর্তীকালে ওই ভিডিও ডিজিটাল ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি অত্যন্ত অপমানজনক এবং আপত্তিকর ভাষায় রাফিকে একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছেন। এমনকি ভিডিওর একপর্যায়ে দেখা যায়, রাফিকে বুকে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেছে কি না, সে কথা ওসি জিজ্ঞেস করেন, যা অত্যন্ত মানহানিকর।

তিনি অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ও মামলা তুলে নেয়ার জন্য গত ৬ এপ্রিল মুখোশ পরা চার-পাঁচজন ছাত্রী রাফিকে চাপ প্রয়োগ করলে রাফি মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তার গায়ে আগুন দিয়ে মুখোশ পরা ছাত্রীরা পালিয়ে যায়। পাঁচ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে রাফি মারা যান।

ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নিয়মবহির্ভূতভাবে অনুমতি ছাড়াই নুসরাত জাহান রাফির ভিডিও ধারণ করে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার করে এবং অপমানজনক ও আপত্তিকর ভাষা প্রয়োগ করে মানহানি করেছেন, যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। রীমা সুলতানা মামলাটি তদন্ত করে ২৩ মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরোয়ানা জারির ২০ দিন পর ১৬ জুন মোয়াজ্জেম হোসেনকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, নুসরাত হত্যা মামলায় গত ২৪ অক্টোবর ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ফেনীর আদালত।

উর্ধ্বতনদের রক্ষা করতেই কি ট্রেন দুর্ঘটনার তদন্ত

বর্তমান সময়ে ট্রেনকে বাংলাদেশে একটি নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবহন হিসেবে ধরা হলেও এর ঝুঁকির দিকগুলোও কম নয়।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক দুটি ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি দুর্ঘটনা ছিল দুটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ। ওই সংঘর্ষে ১৬ জন মারা যায়। আরেকটি সংঘর্ষে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বেশ কয়েকটি বগিতে আগুন ধরে যায়। খবর বিবিসি বাংলার

এই দুটি ঘটনা কীভাবে হল তা খতিয়ে দেখতে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বাংলাদেশে সব ট্রেন দুর্ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করা হয় এর কারণ খতিয়ে দেখার জন্য। কিন্তু এর মধ্যে কতগুলোর প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখে?

একটি তদন্ত রিপোর্ট
ট্রেন দুর্ঘটনার পর একাধিক তদন্ত কমিটি করার কথা শোনা যায়, যেমনটি দেখা গেছে সাম্প্রতিক দুটি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে।

কিন্তু তদন্তের পর কী হল সেটা অনেকের কাছে অজানা থাকে।

এসব তদন্তের প্রতিবেদন এবং এর প্রেক্ষিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হল সেটা অনেকটাই গোপন থাকে।

রেলওয়ে বিভাগের করা একটি প্রতিবেদন রয়েছে যেখানে ঢাকা বিভাগে ২০১৩ এবং ২০১৪ সালের ১৬টি দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন এসেছে।

যেখানে ঘটনার তারিখ, স্টেশন, ট্রেন নম্বর, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ,দায়ী কর্মচারী/বিভাগ ও শাস্তির বিবরণ দেয়া হয়েছে।

১৬টি দুর্ঘটনার শাস্তির বিবরণে লেখা রয়েছে:
৮ জনকে তিরস্কার করা হয়েছে
৩ জনকে সতর্ক
৪ জনের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে সেটা প্রক্রিয়াধীন
৩টি ঘটনায় কেউ দায়ী নয়

১৮ জনের বিরুদ্ধে সর্বনিম্ন ৪৫০টাকা বেতন কাটা থেকে সর্বোচ্চ ২ বছরের বেতন কেটে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এই প্রতিবেদনে যাদের শাস্তির তালিকায় আনা হয়েছে তারা ট্রেনচালক, সিগনাল-ম্যান, গার্ড এই ধরণের কর্মচারীদের নাম রয়েছে।

রেল-বিভাগের এই ধরনের তদন্ত প্রতিবেদন সাধারণত জনসমক্ষে আসে না।

তবে রেলওয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটিগুলো এমনভাবে গঠন করা হয় যাতে করে এই কমিটিতে যারা থাকে তারা তদন্তে একেবারে নিচের পর্যায়ের ব্যক্তিদের দোষী সাব্যস্ত করতে পারে।

এর ফলে উপরের পর্যায়ে যেসব কর্মকর্তা রয়েছেন,যারা নিয়োগ বা প্রশিক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন তারা সবসময় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যান।

কী ব্যবস্থা নেয়া হয়:
রেলওয়ের মহাপরিচালক মোঃ শামছুজ্জামানের কাছে জানতে চেয়েছিলাম তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে আপনারা কী ব্যবস্থা নেন?

উত্তর: তদন্তের আগেই আমরা বুঝতে পারি কাদের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। সেসব কর্মচারীকে আমরা প্রত্যাহার করি বা সাময়িক বরখাস্ত করি। কারণ আমরা মনে করি সেই মুহূর্তে তাদের যদি আমরা সার্ভিসে রাখি তাহলে আরো দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তদন্তের পর যদি দেখি তারা দোষী না, তাদের আমরা পুনর্বহাল করি। আর যারা দোষী সাব্যস্ত হয় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেয়।

প্রশ্ন: কী ধরণের শাস্তি দেয়া হয়?
উত্তর:ঘটনার সাথে তার সংশ্লিষ্টতা এবং দায়-দায়িত্ব বিবেচনায় আমরা পেনাল্টি ইমপোজ করি। আমরা বদলি করা, পদাবনত করা, চাকরীচ্যুতও করি।

প্রশ্ন: কিন্তু একটা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তিরস্কার বা সতর্ক করা হয়েছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বলতে আপনারা কি করেন?
উত্তর: ২০১৬তে আমরা দুইজনকে চাকরীচ্যুত করেছি। তারা এখনো চাকরি পায়নি। ২০১৭তে আমরা চাকরীচ্যুত করেছি দোষী কয়েকজনকে।

ক্ষতিপূরণ:
২০১৮ সালে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের রাসেল আহমেদ ঢাকা থেকে সিলেটগামী কালনি ট্রেনে দুর্ঘটনায় পড়েন।

সেই দুর্ঘটনায় মি. আহমেদ পায়ে আঘাত পান। চিকিৎসার এক পর্যায়ে তার পা কেটে ফেলে দিতে হয়।

রাসেল আহমেদের ভাই রুহেল আহমেদ বলছিলেন, একজন কর্মক্ষম মানুষ যখন বেকার হয়ে পড়ে তখন তার এবং পুরো পরিবারের জন্য বিষয়টা দুর্বিষহ হয়ে পরে।

তিনি বলেন আমরা ক্ষতিপূরণ পাইনি। আমরা জানি না ক্ষতিপূরণ কীভাবে পেতে হয়। তবে আমরাও চাইনি। কারণ ক্ষতিপূরণ নেয়ার চেয়ে রেলের যারা এই দুর্ঘটনার সাথে দায়ী তাদের শাস্তি হোক এটাই আমরা চাই। আমরা মনে করি এটা করলে আরো দশটা মানুষের জীবন বাঁচবে।

বাংলাদেশের রেলের যে আইন রয়েছে সেটা বহু পুরনো ১৮৯০ সালের।

সেখানে দুর্ঘটনায় হতহতদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ হাজার টাকা দেয়ার নিয়মের কথা বলা হয়েছে।

বিষয়টা নিয়ে কথা বলেছিলেন রেলের মহাপরিচালকের সাথে।

শামছুজ্জামান বলেছেন এই নিয়মটা পরিবর্তন করে ক্ষতিপূরণ হিসেবে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন তারা। সেটা এখন সংসদের এখতিয়ারে রয়েছে।

দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান:
বাংলাদেশ রেল বিভাগ বলছে ২০১৪সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ এর জুন পর্যন্ত গত ৫ বছর দুর্ঘটনা হয়েছে ৮৬৮টা।

এই দুর্ঘটনাগুলোতে ১১১ জন নিহত এবং আহত হয়েছে ২৯৮জন। তবে সম্প্রতি দুটো দুর্ঘটনা ধরলে এই সংখ্যা আসে ৮৭০টা।

এই দুর্ঘটনাগুলোতে ১২৭ জন নিহত এবং আহত হয়েছে তিনশর অধিক।

২০১০ সালের ৮ই ডিসেম্বর। বিকাল চারটার সময় মহানগর গোধুলী এবং চট্টলা এক্সপ্রেসের সংঘর্ষ হয় নরসিংদীতে।

দুর্ঘটনায় ১৪জন নিহত এবং শতাধিক আহত হন।

সেই দুর্ঘটনার কারণ, এবং কারা দায়ী সেটা অনুসন্ধানে কাজ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিডেন্ট এন্ড রিসার্চ ইন্সটিউটের একদল গবেষক শিক্ষক।

তাদের একজন কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ সেই তদন্ত প্রতিবেদনের বিস্তারিত একটা কপি দেখিয়ে বলছিলেন, সেই ঘটনার প্রতিবেদন তারা রেল বিভাগে জমা দিয়েছিলেন।

কিন্তু যেসব, কারণ, সুপারিশ এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা তারা বলেছিলেন তার কোনটাই বাস্তবায়ন করা হয়নি।

তিনি বলেন, ২০১০ সালে আমরা দুর্ঘটনা এড়ানোর যে কারণগুলো উল্লেখ করেছিলাম তার কোনটাই নেয়া হয়নি। একটা বড় বিষয় ছিল ডেড ম্যান প্যাডেল, যেটা চালককে পা দিয়ে চাপ দিয়ে ধরে রাখতে হয়। কিন্তু আমরা দেখেছি বেশিরভাগ ট্রেনে এটা অকার্যকর। ২০১০ এ এটা ফেল করার কারণে দুর্ঘটনা হয়। একই কারণে আমরা দেখলাম ২০১৯ সালে ১২ নভেম্বর দুর্ঘটনা হল।

এ বছরের জুনের ২৪ তারিখে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া এলাকায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়।

সেই ট্রেনের যাত্রী ছিলেন সিলেটের ওসমানী মেডিকেলের নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী ফাহমিদা ইয়াসমিন ইভা।

তিনি ঐ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হন। ইভার বাবা আব্দুল বারি বিবিসি কে বলেন, রেলমন্ত্রী সেই সময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দেন, সাথে ঘর করে দেয়া এবং ইভার ছোট বোনের একটা চাকরি দেয়ার আশ্বাস দেন।

আব্দুল বারি বলছিলেন এক লাখ টাকা তারা পেয়েছেন কিন্তু সন্তান হারানো বেদনা তো টাকা বা বাড়ি দিয়ে হয় না।

তাঁর কাছে এই ক্ষতির কোন ক্ষতিপূরণ নেই। তবে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তিও হয় না বলে তিনি বিশ্বাস করেন।