যে কোনও কাজে জনগণ যত বেশি সম্পৃক্ত, তত দ্রুত সাফল্য: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

যে কোনও উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণ যত বেশি সম্পৃক্ত হবে তত দ্রুত সাফল্য আসবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, সম্প্রতি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে মানুষ একযোগে সচেতন হয়ে কাজ করেছে। সেজন্য ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এরই ধারবাহিকতায় টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পানির অপচয় রোধ ও টেকসই স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। তবে এরজন্য সবাই একসঙ্গে একমত হয়ে কাজ করতে হবে। তাহলে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।


রোববার দুপুরে ভোরের কাগজ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে ‘ওয়াশ গভর্নেন্স এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে ওয়াটার ইন্টিগ্রিটি নেটওয়ার্কের (ডাব্লিউআইএন) সহায়তায় এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ ও ভোরের কাগজ যৌথভাবে এই বৈঠকের আয়োজন করে।


ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় বৈঠকে বিশেষ অতিথি ছিলেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথের নির্বাহী পরিচালক এস এম এ রশীদ। বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড. আনোয়ার জাহিদ, ভিইআরসির নির্বাহী পরিচালক মো. ইয়াকুব হোসেন, এসআইএমএভিআই-এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর অলোক মজমুদার, ইউএসটির নির্বাহী পরিচালক শাহ মো. আনোয়ার কামাল, ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুর-এর পরিচালক মোহাম্মদ জোবায়ের হাসান, ব্র্যাকের মো. রফিকুল ইসলাম, ওয়াটার এইড বাংলাদেশের পরিচালক (পলিসি এডভোকেসি) ড. আব্দুল্লাহ আল মুয়িদ, টিআইবির এম. জাকির হোসেন খান, ওয়াটার ইন্টিগ্রিটি নেটওয়ার্কের কনসালট্যান্ট সিফাত-ই-রাব্বি প্রমুখ।


প্রধান অতিথির বক্তব্য মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, আগে পানির প্রাপ্যতাকে গুরুত্ব দেয়া হতো। এখন আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি নিরাপদ পানি প্রাপ্যতাকে। অর্থ বরাদ্দের চেয়ে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে অপচয়। অপচয় রোধ এবং এক্ষেত্রে জনগণকে আরো বেশি সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।


বৈঠকে বক্তারা বলেন, টেকসই উন্নয়নে ২০৩০-এর ১৭টি অভীষ্ট লক্ষ্যের মধ্যে অন্যতম হলো ‘অভীষ্ট-৬’ যার উদ্দেশ্য হলো- সবার জন্য নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। বিশ্বজুড়ে পানি এবং স্যানিটেশন নিয়ে চলমান উদ্বেগেরই প্রতিফলন এটি। এ লক্ষ্য অর্জনে শক্তিশালী ওয়াটার গভর্নেন্স একান্ত অপরিহার্য বলে বিবেচিত। তবুও অনেক দেশেই ওয়াস গভর্নেন্স কাঠামো সবল এবং সমন্বিত নয়। শক্তিশালী ওয়াশ গভর্নেন্স রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং প্রশাসনিক নীতিমালা, চর্চা এবং পদ্ধতি নির্ধারণ করে যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।


বক্তারা বলেন, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের অর্জন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত ও সমাদৃত হয়েছে। তবে টেকসই উন্নয়ন ‘অভীষ্ট ছয়’ অর্জনে ক্রমবর্ধনশীল বৈষম্য, প্রাকৃতিক সম্পদ হ্রাস, পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।


এদিকে রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুনিশ্চিত করার জন্য বর্তমান সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার লক্ষ্য ‘উন্নয়ন অগ্রযাত্রা-২০১৯’ অনুষ্ঠিত হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ নাগরিক কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, বিদ্যুৎ খাতের উন্নতি, শিক্ষাখাতের অগ্রগতি, নদী বন্দর সৃষ্টি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানুষের গড় আয় বাড়াসহ নানা খাতে উন্নতি হয়েছে।


অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, ২০২১ সালের উন্নয়নশীল দেশ, ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার অর্থনৈতিক জোন করছে। এখানে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হবে। পায়রা বন্দর, রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ নানা উন্নয়নমুলক কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। আপনারা শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে থেকে তার হাতকে শক্তিশালী করুন। তাহলে ২০৪১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুদ্র ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ আপনাদেরকে উপহার দেবে।


ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ নাগরিক কমিটির সভাপতি খালেদ এম এইচ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, আর্ন্তজাতিক বিদ্যুৎ-জ্বালানী বিশেষজ্ঞ ও পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন খান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী ও ডেনিম গ্রুপের চেয়ারম্যান নাছির খান।

লাভের জন্য আগাম পেঁয়াজ তুলছেন কৃষকেরা

পাবনার সুজানগর পৌর বাজারে সপ্তাহের প্রথম হাটবার ছিল রোববার। সকালে বাজারে অল্প পরিমাণে মানে কয়েক শো মণ নতুন পেঁয়াজ উঠেছে।

এই নতুন পেঁয়াজের কেজিপ্রতি দাম – পুরোনো দেশি পেঁয়াজের চেয়ে একটু কম, তবে কৃষকরা বলছেন, তারা বাড়তি দামের আশায় পরিপক্ক হবার আগেই এটা তুলে ফেলেছেন – সেজন্য এগুলো আকারে ছোট এবং দ্রুত পচে যাবার ঝুঁকি আছে। খবর বিবিসি বাংলার

পেঁয়াজ নিয়ে বাজারের আসা একজন কৃষক জানিয়েছেন, প্রতি মণ পেঁয়াজ পাঁচ হাজার থেকে পাঁচ হাজার দুই শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এই হাটে সর্বশেষ বাজার বসেছিল বুধবার।

সেদিন মন প্রতি পেঁয়াজ সাড়ে নয় হাজার থেকে দশ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

কেন আগেভাগেই পেঁয়াজ তুলে ফেলছেন কৃষকেরা?
সুজানগরের মানিকহাটের কৃষক মোহাম্মদ ওমর আলী প্রামাণিক জানিয়েছেন, এখন বাজারে অতিরিক্ত চাহিদা এবং দাম দেখে তার মত পাবনার বেশির ভাগ কৃষকই নির্ধারিত সময়ের সপ্তাহ দুয়েক আগেই আগাম জাতের পেঁয়াজ তুলে বাজারে নিয়ে এসেছেন।

চৈত্র মাসে বৃষ্টি হবার কারণে সেই সময় আমাদের খুব ক্ষতি হইছিল এ বছর। তখন অনেক পেঁয়াজ পচে গেছিল। সেই সময় আমরা ৫০০ টাকা, ৭০০ টাকা মণ বিক্রি করছি।

এখন দাম বাড়তির দিকে দেখে আমরা আগাম জাতের পেঁয়াজটা তুলে ফেলছি। এটা এখনো পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি, যে কারণে আকারে বেশ ছোট। আরো অন্তত সপ্তাহ দুয়েক মাঠে থাকলে ঠিক হইত এটা।

বাংলাদেশে পাবনার কয়েকটি উপজেলা ও গ্রামে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজের ফলন হয়।

এছাড়া বগুড়া, নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলীয় কয়েকটি জেলা এবং মেহেরপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলাতেই আগাম জাতের এই নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে।

আর দেশব্যাপী কেবল পেঁয়াজই নয়, পেঁয়াজের কলি এবং পাতারও চাহিদা বেশি বলে জানাচ্ছেন কৃষকেরা।

কৃষকেরা বলছেন, এ বছর পরপর দুইটি ফলনের সময়ই বৃষ্টিপাত হওয়ায় ক্ষেতে পানি জমে গোড়া পচে নষ্ট হয় বহু পেঁয়াজ।

ওমর আলী প্রামাণিক বলছেন, সেকারণে এখন যখন বাজারে চাহিদা বেশি, তখন সুজানগরের কৃষকদের বড় অংশটি আগাম জাতের পেঁয়াজ তুলে ফেলেছেন।

মান নিয়ে সন্তুষ্ট নন অনেকে
তবে, আগে তুলে ফেলার কারণে নতুন পেঁয়াজের মান নিয়ে অনেক কৃষকই পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন।

পাবনার সাঁথিয়ার কৃষক নুরনাহার বেগমও এবার পেঁয়াজ পরিপক্ক হবার অন্তত দশদিন আগে তুলে ফেলেছেন।

তিনি বলছিলেন আগামী দশ-বারোদিনের মধ্যে আগাম জাতের পেঁয়াজ পুরোপুরিভাবে বাজারে আসতে শুরু করবে, তখন দাম অনেক কমে যাবে। যে কারণে তারা এখন পেঁয়াজ তুলে ফেলেছেন।

ভাদ্র মাসে যে পেঁয়াজটা লাগানো হইছিল, বৃষ্টির কারণে সেটা নষ্ট হয়ে যাওয়ায়, কার্তিক মাসে নতুন করে সময়ে আমরা মূলকাটা পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি।

কিন্তু সেটাও গত মাসের বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়ে যায়। এখন যদি দুইটা টাকা বাড়তি পাওয়া যায়, তাহলে পেঁয়াজ তুলে না ফেলে উপায় কি?

এই পেঁয়াজটার মান হয়ত পরিপক্ক পেঁয়াজের তুলনার একটু কম হবে। সাইজে বেশ ছোট এবং এটা দ্রুত পচে যাইতে পারে।

এইজন্য ঠিকমত সংরক্ষণ করতে হবে, আর দ্রুত বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে এই পেঁয়াজ।

দাম কমে যাওয়ায় কৃষক ও ব্যাপারীর ক্ষতি
এদিকে, যারা কৃষিপণ্যের ব্যপারী মানে কৃষকদের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনে মজুদ করেন এবং ট্রাকে করে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে পাঠান, তারা বলছেন নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ এখনো কম।

সুজানগর পৌর বাজারের একজন ব্যপারী মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, সবার ফলন একই সময়ে ওঠেনি, যে কারণে বাজারে সরবরাহ কম।

আবার সরকার পেঁয়াজ আমদানি করছে শুনে অনেক কৃষক পেঁয়াজ তোলেনি। একই সঙ্গে নতুন পেঁয়াজ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে গেছে, যেটা কৃষকের এবং আমাদের লোকসান করে দেবে।

তিনি ব্যাখ্যা করছিলেন, তিন দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম মণপ্রতি তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা কমে গেছে।

এখন ধরেন আমি বুধবার সাড়ে নয় হাজার টাকা করে ৫০ মণ কিনছি, এখন আজকে সেই পেঁয়াজের দাম হইছে পাঁচ হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা।

নতুন পেঁয়াজ ওঠার সাথে সাথে দাম কমতে থাকবে, আবার সরকারের ভ্রাম্যমান আদালতের ভয়েও দাম কমবে। তো আমি তো তিন দিনের মধ্যে দুই লক্ষ টাকা ধরা খাইলাম!

সুজানগর পৌর বাজারে প্রায় সাড়ে তিনশত ব্যপারী রয়েছেন।

মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, সুজানগর বাজারে নতুনের তুলনায় পুরোনো দেশি পেঁয়াজের দাম এখনো বেশি।

নতুন পেঁয়াজ পাইকারি প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু পুরোনো দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৭৫ থেকে ২১০ টাকায়।

হোলি আর্টিজান হামলা মামলার রায় ২৭শে নভেম্বর

ঢাকার গুলশানে হোলি আর্টিজান হোটেলে জঙ্গি হামলা মামলার রায় ঘোষণার জন্য ২৭শে নভেম্বর তারিখ ঠিক করেছে ঢাকার একটি আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামী পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এই তারিখ নির্ধারণ করেন।

২০১৬ সালের পহেলা জুলাই রাতে গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় দুইজন পুলিশ সদস্যসহ ২২ জন নিহত হন। অভিযানে পাঁচ জঙ্গিও নিহত হয়।

নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন বিদেশি নাগরিক।

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হামলা হলো ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে।

হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার দু বছর পর ২০১৮ সালের ২৩শে জুলাই আট জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে পুলিশ।

মামলার তদন্তে ঘটনার সাথে মোট একুশ জন জড়িত ছিলো বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ এবং এর মধ্যে ঘটনার দিন ও পরে তেরজনই বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

এ ঘটনায় ২১জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও তাদের মধ্যে ১৩ জন বিভিন্ন অভিযানে নিহত হলে তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়। ২৬শে নভেম্বর অভিযোগপত্র গঠন করে আদালত।

এরপর মামলার শুনানি শুরু হয়। এ পর্যন্ত মামলায় মোট ১১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

সাংবাদিক সরকার কবির উদ্দিনের একমাত্র ছেলের অকাল মৃত্যু

ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের ম্যানেজিং এডিটর ও কিংবদন্তী বেতার, টিভি ব্যক্তিত্ব সরকার কবির ঊদ্দিন ও নিশাত কবিরের একমাত্র ছেলে শেখ ইরফান কবির উদ্দিন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মংগলবার ম্যারিল্যন্ডে ইন্তেকাল করেন ( ইন্না লিল্লাহ্—রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৪০ বছর।


ইসলামিক সোসাইটি অব বাল্টিমোর এর প্রাক্তন ইমাম ইরফান কবির একজন অত্যন্ত বিচক্ষন ও আধুনিক চিন্তাভাবনা সম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ ছিলেন। তাঁর অসাধারন বয়ান যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অংগরাজ্য এমনকি অন্যান্য দেশেও বিশেষ সমাদৃত হয়। ইরফানুল কবিরের অকাল মৃত্যুতে ম্যারিল্যান্ড সহ ডিসি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সরকার কবির পরিবারের জন্য এই শোক ছিলো অত্যন্ত ভয়াবহ , কারন মাত্র ক’মাস আগেই তাঁদের ছেড়ে গেছেন সরকার ফিরোজ উদ্দিন।


শুক্রবার জুমার নামাজের পর ম্যারিল্যান্ডের ওয়েন ব্রাউন ইন্টারফেইথ সেন্টারে শেখ ইরফান কবির উদ্দিনের নামাজে জানাযা অনুস্ঠিত হয় যাতে আত্মীয় পরিজন, বন্ধু বান্ধব সহ ভয়েস অব আমেরিকা পরিবারের অনেকেই যোগ দেন।নামাজে জানাযায় হাজার মানুষের সমাগম হয়। সরকার কবির উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী নিশাত কবির সবার কাছে তাঁদের ছেলের রুহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেছেন। ইরফান কবিরকে ম্যারিল্যন্ডের কলম্বিয়াতে দাফন করা হয়।

এই সরকার দেশকে তলাবিহিন ঝুড়িতে পরিণত করেছে: আযম খান

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম রাজশাহী বিভাগের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যালোচনা সভা গতকাল শনিবার বেলা ৩টায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহবায়ক এ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেন, এই সরকার দেশকে তলাবিহিন ঝুড়িতে পরিণত করেছে। দেশে পেঁয়াজের দাম ত্রিপল সেঞ্চুরীর কাছাকাছি পৌঁছেছে। এছাড়াও চাল, ডালসহ নিত্যা প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ জনগণ মারাত্মক বিপদে পড়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে নেই কোন পদক্ষেপ। কারন এর পিছনে সরকারের প্রভাবশালীরা রয়েছে। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে বিদেশে পাচার করছে। এরমধ্যে সরকারের এমপি মন্ত্রীরাও রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আযম খান আরো বলেন, দেশে এখন কোন প্রকার গণতন্ত্র নাই। এই সরকার গণতন্ত্রকে হত্যা করে দেশে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছে। এর মধ্যে দিয়ে সরকার এই কয়েকদিনে শুধু পেঁয়াজ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে। জনগণ কথা বললেই নেমে আসছে তাদের উপর নির্যাতন। তিনি বলেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মানষকন্যা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা অপরাধে শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারনে জেলে রেখেছে। তিনি কোন প্রকার দূর্নীতি না করেও জেল খাটছেন। জেলের মধ্যে ধীরে ধীর মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেলেও সরকার তাঁকে জমিন দিচ্ছেনা। বেগম জিয়ার মুক্তি ও গণগন্ত্র পূনরুদ্ধারে বেগম জিয়ার কোন বিকল্প নাই। গণতন্ত্র উদ্ধার এবং দেশবাসীকে এই স্বৈরাচার সরকারের কবল থেকে রক্ষা করতে হলে বেগম জিয়াকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করতে হবে। আর আন্দোলন গড়ে তুলতে হলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এরজন্য আইনজীবীদের একাত্বতা হতে হবে।
তিনি বলেন, একাত্বতা হতে হলে নেতৃত্ব তৈরী করতে হবে। আর এই নেতৃত্ব তৈরী করতে হলে কাউন্সিল অপরিহার্য। এরজন্যই দেশ ব্যাপি ৭২াট বারে জাতীয়তাবাদী আইনজীবীদের সদস্য করা হচ্ছে। চলতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে সব বারে সদস্য সংগ্রহ সমাপ্ত ও কাউন্সিল সমাপ্ত করার পরামর্শ দেন প্রধান অতিথি। সেইসাথে কোন প্রকারেই যেন অনুপ্রবেশকারীরা যেন স্থান না পায় তার জন্য সজাগ থাকতে পরামর্শ দেন তিনি। শেষে রাজশাহী বিভাগাগের সকল জেলা আগত আইনজীবীদের ধন্যবাদ জানান তিনি।


নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তা আইনজীবী ফোরাম রাজশাহী ইউনিটের আহবায়ক এ্যাডাভোকেট আলহাজ্ব আবুল কাশেম। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহবায়ক এ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য এ্যাডভোকেট জামিল আকতার এলাহী, এ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও পাবনা আইনজীবী ফোরাম বার সমিতির খন্দকার মাকসুদুর রহমান মাসুদ, কেন্দ্রীয় কমিটি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী ফোরামের সদস্য এ্যাডভোকেট মাহমুদুল আরেফিন স্বপন, কেন্দ্রীয় কমিটির বগুড়ার সদস্য এ.কে.এম সাইফুল ইসলাম, বগুড়ার কাহালু বিএনপি’র আহবায়ক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গোলাম আকতার জাকির। এচাড়াও রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলার সকল বারের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আজ আ’ঘাত হানবে ঘূর্ণিঝড় ‘নাকরি’

এইতো কয়দিন আগেই ঘূর্ণিঝড় বুলবুল সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে বাংলাদেশ, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূল। এখনও সেই আতঙ্কে ভুগছে সাধারণ মানুষ। সেই আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘নাকরি’। দক্ষিণ চীন সাগরে তৈরি ‘নাকরি’ বুলবুলের চেয়েও বেশি শক্তিশালী বলে জানা গেছে।


এর উৎসস্থল ছিল দক্ষিণ চীন সাগর। মাতমো থেকেই ছিটকে গিয়ে তৈরি হয়েছিল বুলবুল। সেই বুলবুলের দাপটে দুই বাংলায় অনেক বেশি ক্ষতি হয়ে গেছে। সেই ঘা না শুকাতেই নাকরির দাপটে কি হবে তাই ভাবাচ্ছে জনগণকে।


জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গোপসাগরে নাকরি শক্তি বাড়িয়ে ভারতে অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তর দিক ও ওড়িশা উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে আ’ঘাত হানবে। পাশাপাশি চেন্নাইসহ উত্তর তামিলনাড়ুর উপরও চোখ রাঙাচ্ছে নাকরি। যদিও এই মুহূর্তে এই ঘূর্ণিঝড়ের ভারতে আছড়ে পড়ার সঠিক সময় অনুমান করা সম্ভব হয়নি। এর প্রভাব পড়বে বাংলাদেশেও।

বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা: পুলিশ যেসব কারণ খুঁজে পেয়েছে

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে কেবল একটি কারণে হত্যা করা হয়নি, বরং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে একাধিক কারণ ছিল বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় সব মিলিয়ে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট তৈরি করেছে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ, যা আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলার এজাহারে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাসহ প্রথমে ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তবে তদন্তের পরে আসামীর সংখ্যা এখন ২৫ জন।

গত ৭ই অক্টোবর ভোররাতে আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বুয়েটের শেরে বাংলা হল থেকে। এর পরপরই ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশের এই প্রধান প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান এবং অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা উশৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত ছিল।

তিনি বলেন, আবরার ফাহাদকে শিবির হিসেবে সন্দেহ করার বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্যতম কারণ ছিল, কিন্তু সেটাই একমাত্র কারণ নয়।

মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তদের সমীহ করে সালাম না দেয়ার বিষয়টিও আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্যতম কারণ।

তারা র‍্যাগিং-এর নামে আতংক তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তরা আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে অন্যদের মাঝেও আতঙ্ক তৈরি করতে চেয়েছিল, যাতে করে অন্য শিক্ষার্থীরাও তাদেরকে সমীহ করে এবং সালাম দেয়।

মনিরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, এটা ঝিকে মেরে বৌকে শেখানোর মতো। এখানে সিনিয়র-জুনিয়র ইস্যুও ছিল।

অভিযুক্তরা বুয়েটে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করার ধারাবাহিকতায় আবরার ফাহাদের উপর হামলা করে বলে উল্লেখ করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, রাত দশটার পর থেকেই আবরার ফাহাদের উপর নির্যাতন শুরু হয় বলে তদন্তে দেখা গেছে। ভোররাত ২:৫০ মিনিটে আবরার ফাহাদকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। আরো আগে যদি আবরার ফাহাদকে হাসপাতালে নেয়া যেত, তাহলে তার এই পরিণতি হতো না বলেও মনে করছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তথ্য প্রযুক্তির বিশ্লেষণ, আসামী ও সাক্ষীদের বক্তব্য এবং আলামত সংগ্রহের মাধ্যমে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করা হয়েছে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, যেভাবে চার্জশীট করেছি, তাতে সাজা নিশ্চিত হবে বলে আশা করছি।

চার্জশীটে বলা হয়েছে, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সাথে ১১ জন সরাসরি সম্পৃক্ত এবং বাকিরা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে বলে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ হয়। এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সমাজের নানা শ্রেণী-পেশার মানুষও সোচ্চার হয়েছে।

সে প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন এবং ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

আইন মেনে গ্রাম আদালতে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে – ইউএনও শারমিন আক্তার

বিশেষ প্রতিবেদক: গ্রাম আদালত বিচার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আইন অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রাম আদালত রয়েছে। এলাকার ছোট-খাট বিরোধ নিস্পত্তির জন্য গ্রাম আদালত কাজ করে। ইউপি চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে এখানে মোট পাঁচ জন বিচারিক প্যানেল সদস্য নিয়ে গ্রাম আদালত গঠিত হয়। আদালত গঠনের পর অবশ্যই আইন ও বিধি মেনে গ্রাম আদালতে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এর ব্যাত্যয় ঘটলে আদালতের ঘোষিত রায় প্রশ্নের মুখে পড়বে। মতলব-উত্তর উপজেলা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত গ্রাম আদালত বিষয়ক রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষণে কথাগুলো বলেন মতলব-উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তর।

উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আরো বলেন, সরকার জাতীয় সংসদ থেকে আইন পাশ করে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করেছেন। গ্রাম আদালতের এজলাসে আমি অথবা উচ্চ পদস্থ অন্য কোন কর্মকর্তা চাইলেই বিচারকের আসনে বসতে পারবেন না। ভেবে দেখুন যে, সরকার আপনাদের কত উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছেন। এ মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে হলে অবশ্যই ইউনিয়নের গ্রাম আদালতকে সক্রিয় করতে হবে। এর মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গতভাবে এলাকার ছোট-খাট বিরোধ নিস্পত্তিতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, গ্রাম আদালত সরকারের একটি মহতি উদ্যোগ। ইহাকে সক্রিয় করতে পারলে উচ্চ আদালতে মামলার চাপ কমে যাবে। কিন্তু গ্রাম আদালত সক্রিয় করার পূর্ব শর্ত ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এজন্য এ ধরণের প্রশিক্ষণ আয়োজন করা খুবই দরকার। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করা যাতে তারা কখনো বিরোধে জড়িত হলে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে আসে এবং বিচার চাইতে পারে। এজন্য উভয় পক্ষেরই সক্ষমতা দরকার।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি’র (ইউএনডিপি) সহযোগীতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত ৬-১৭ নভেম্বর ২০১৯ গ্রাম আদালত বিষয়ক প্রশিক্ষণে মতলব-উত্তর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৮৮ জন ইউপি সদস্য মোট ৪ ব্যাচে বিভক্ত হয়ে অংশগ্রহণ করবেন। বর্তমানে ৩য় ব্যাচের প্রশিক্ষণ চলছে। এতে জহিরাবাদ ও কলাকান্দা ইউনিয়নের মোট ২২ জন ইউপি সদস্য অংশগ্রহণ করছেন। জেলার স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শওকত ওসমানের নেতৃত্বে প্রশিক্ষণে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন চাঁদপুরস্থ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর (ডিএফ) নিকোলাস বিশ্বাস।

উপজেলা পর্যায়ে চলমান প্রশিক্ষণগুলোতে যারা বিশেষ প্রশিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সকারী জজ শুভ্রা চক্রবর্তী, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আহসান হাবীব, জেলা সমাজসেবা উপ-পরিচালক রজত শুভ্র সরকার, জেলা যুব উন্নয়ন উপ-পরিচালক মোঃ সামসুজ্জামান এবং জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোচ্ছাঃ মাসুদা আক্তার সহ সরকারের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও প্রকল্পের সহযোগী সংস্থা তথা ‘ব্লাস্ট’ -এর জেলা ও উপজেলা সমন্বয়কারীগণ প্রশিক্ষণে সহযোগিতা প্রদান করছেন।

প্রশিক্ষণে যে সকল বিষয় উপস্থাপন করা হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তি (এডিআর), গ্রাম আদালত আইন ও বিধিমালা, গ্রাম আদালতের ধাপসমূহ, শুদ্ধাচার, মূল্যবোধ ও গ্রাম আদালত; জেন্ডার ও গ্রাম আদালত। প্রশিক্ষণে গ্রাম আদালতের উপর একটি ভিডিও-শো প্রদর্শন সহ গ্রাম আদালতের মক-ট্রায়াল করা হচ্ছে যেখানে ইউপি সদস্যবৃন্দ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।।

ট্রেন দুর্ঘটনা: মন্ত্রী বলছেন গাফিলতি, বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

ব্রাম্মণবাড়িয়ায় দুটি ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় চালকের গাফলতিকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করে তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, সিগনাল অমান্য করার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা রেল বিভাগে জনবল সংকট এবং সেজন্য ট্রেন চালকদের অতিরিক্ত পরিশ্রম বা বাড়তি চাপকে অন্যতম একটি কারণ হিসেবে দেখছেন।

তারা বলেছেন, মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি হলেও রেল বিভাগ বছরের পর বছর ধরে অবহেলিত রয়েছে।

১২ই নভেম্বর মঙ্গলবার ভোররাতে এই দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৬জন নিহত হয়েছে। আহত অর্ধশতাধিক যাত্রীর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৬জনকে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার ৮ ঘন্টা পর ঢাকার সাথে চট্টগ্রাম এবং সিলেটের ট্রেন চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়েছে বলে কর্মকর্তারা বলেছেন।

প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার কারণ হিসেবে গাফিলতির কথা বলা হলেও ৫টি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

সিগন্যাল অমান্য বিতর্ক
তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের চালক, সহকারী এবং গার্ডকে গাফিলতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনও বলেছেন, তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের চালক, সহকারী এবং গার্ডের গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

রেলমন্ত্রী বলেছেন, সিগন্যাল অমান্য করার কারণে হতে পারে। সিগন্যাল দেয়ার ক্ষেত্রে কোন ত্রুটি ছিল কিনা, সেটা বলতে পারছি না। তবে আমরা প্রথমিকভাবে ড্রাইভারকে দয়ী মনে করছি।

তবে বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করছেন ভিন্নভাবে।

বাংলাদেশের রেলওয়ের সিগন্যাল ব্যবস্থা কতটা আধুনিক হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। ফলে সব বিষয় তদন্তের আগে শুধু চালকের গাফিলতিকে চিহ্নিত করা নিয়ে তাদের প্রশ্ন রয়েছে।

বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শামসুল আলম ট্রেনের চালকসহ রেলওয়েতে লোকবলের ঘাটতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন।

তিনি বলেন, চালক এখানে তন্দ্রায় ছিল কিনা, সেটাও একটা বিষয়। চালক অতিরিক্ত পরিশ্রমে বা বাড়তি চাপে ছিল কিনা, সেটা তদন্ত কমিটির খতিয়ে দেখা উচিত।

অধ্যাপক আলম উল্লেখ করেছেন, রেলওয়েতে এখন অবকাঠামো এবং ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু এই বিভাগ অবহেলিত ছিল। জনবলের ঘাটতি কিন্তু ছিল। সে কারণে চালকদের বাড়তি চাপ বহন করতে হতে পারে। এই বিষয়টি বড় কারণ হতে পারে।

মন্ত্রী বলেছেন, ১৯৮৬ সাল থেকে রেলওয়েতে নিয়োগ একেবারে বন্ধ ছিল। বিএনপি সরকারের সময়ে রেলওয়ে থেকে ১০হাজার কর্মকর্তা কর্মচারীকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক কর্মসূচিতে বিদায় করা হয়েছিল। ফলে ট্রেনের চালকসহ লোকবলের সংকট এখনও রয়েছে।

তিনি আরও বলেছেন, আগের সরকারগুলোর সময় রেলওয়েকে গুরুত্বহীন এবং লোকসানি একটা প্রতিষ্ঠান বানানো হয়েছিল। আমাদের আওয়ামী লীগ সরকার এখন রেল বিভাগকে গতিশীল করতে অনেক প্রকল্প নিয়েছে। সেখানে লোকবল বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।

রেল মন্ত্রী জানিয়েছেন, রেলওয়ে যেহেতু টেকনিক্যাল বিভাগ, সেকারণে রাতারাতি এখানে লোক পাওয়া কঠিন। ফলে ট্রেনের চালক যারা অবসরে যাচ্ছেন, তাদেরকেও চুক্তিতে নিয়োগ করা হচ্ছে।

তিনি মনে করেন, ট্রেনের চালকের সংকট থাকায় তাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। এ বিষয়টিও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখবে বলে তিনি মনে করেন।

এক যাত্রীর কথা
দুটি ট্রেনের এই সংঘর্ষে বা দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫২ বছর বয়সী রেণু বেগম। তিনি শিশু নাতিকে সাথে নিয়ে সিলেট থেকে চট্টগ্রামে ছেলের বাড়ি যাচ্ছিলেন।

রেণু বেগম জানান, দুর্ঘটনার সময় তিনি প্রচণ্ড শব্দ এবং প্রবল ধাক্কা অনুভব করেছিলেন। এরপর তার জ্ঞান ছিল না।

জ্ঞান ফেরার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ব্রাম্মণবাড়িয়া হাসপাতালের বিছানায় তিনি নিজেকে আবিষ্কার করেন। কিন্তু তার ১২ বছর বয়সী নাতি নিহত হয়েছে। তিনি নাতির নিহত হওয়ার খবর পেয়ে হাসপাতালের বিছানায় বার বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন।

তিনি বলেন, ট্রেনে পা ভাঙছে, মাথা ভাঙছে। বাবারে আমার নাতিটা মইরা গেছে।

নিহতদের বেশির ভাগই মহিলা এবং শিশু। তাদের মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আহতদের ব্রাম্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল এবং ঢাকায় সিএমএইচসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

উদয়ন এক্সপ্রেস নামের ট্রেনটি সিলেট থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিল। আর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসছিল তূর্ণা নিশীথা আন্ত:নগর ট্রেন।

মঙ্গলবার ভোররাত তিনটার দিকে ব্রাম্মণবাড়িয়ার কসবায় মন্দবাগ রেলষ্টেশনে ট্রেন দুটির মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

রেলওয়ে মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, সিলেট থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ট্রেনটি যখন প্রধান লাইন থেকে শাখা লাইন বা লুপ লাইনে প্রবেশ করছিল, তখন এর পিছনে আঘাত করেছে চট্রগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী তূর্ণা নিশীথা।

সেজন্য উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের শেষের কয়েকটি বগির যাত্রীদের মধ্যেই হতাহতে ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, যে স্টেশনে দুঘর্টনাটি ঘটেছে, সেখানে ক্রসিং দেয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। উদয়ন ট্রেনটি লুপ লাইনে চলে গিয়েছিল। এর ১৬টা বগির ১২টা বগিই লুপ লাইনে চলে যায়। ৪টা বগি তখনও লুপ লাইনে ঢুকতে পারেনি। এরমধ্যেই তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের ইঞ্জিন আঘাত করে উদয়ন এক্সপ্রেসের পিছনের বগিগুলোতে। তাতেই ঐ বগিগুলো দুমড়ে মুচড়ে গেছে।

চালকের ভুলেই ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা

মন্দবাগ রেলস্টেশনের মাস্টার জাকির হোসেন চৌধুরী জানান, আউটার ও হোম সিগন্যালে লাল বাতি (সর্তক সংকেত) দেওয়া ছিল। কিন্তু তুর্ণার নিশীতার চালক সিগন্যাল অমান্য করে ঢুকে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসক হায়াৎ উদ-দৌলা খানও এ কথা জানিয়েছেন।

ট্রেনের ভেতরে থাকা তুর্ণা নিশীতার যাত্রী কাজি ফজলে রাব্বি বলেন, উদয়ন এক্সপেস অন্য লাইনে ঢোকার আগেই বিপরীত দিক থেকে এসে তুর্ণা নিশীতা ধাক্কা দেয়। এতে তিনটি বগি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ সময় আমরা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। তাড়াতাড়ি করে ট্রেন থেকে নেমে পড়ি।

উদয়ন এক্সপ্রেসের যাত্রী নুরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের ট্রেনটি লাইন ক্রস করছিল। ওই সময় দ্রুত গতিতে এসে তুর্ণা নিশীতা ট্রেনটিকে  ধাক্কা দেয়। আমি সামনের বগিতে থাকায় হতাহত হয়নি। পেছনে ঝ, ঞ, বগিসহ আরেকটি বগির যাত্রীরা বেশি আহত হয়। আমরা সবাই ট্রেন থেকে নেমে আহতদের উদ্ধার করার চেষ্টা করি।

মন্দবাগ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. সালাম বলেন, আমরা গভীর রাতে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই। ঘর থেকে বের হয়ে দেখি কান্নার শব্দ। এখানে সেখানে ছিটকে পড়ে আছে নারী, পুরুষ, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের মরদেহ। এলাকার সবাই বেড়িয়ে আহতদের উদ্ধার করার চেষ্টা করি।

সোমবার (১১ নভেম্বর) রাত ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী ‘তুর্ণা নিশীথা’র সঙ্গে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে যাত্রা করা ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক।

সুত্র: বাংলা নিউজ 24

ব্রাহ্মণবাড়িয়াযর কসবায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

ব্রাহ্মণবাড়িয়াযর কসবায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার সকালে আলাদা আলাদা শোকবার্তা দেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি তার শোকবার্তায় দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের রুহের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। এছাড়া দুর্ঘটনায় আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করার পাশাপাশি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

এদিকে প্রশানমন্ত্রী তার শোকবার্তায় দুর্ঘটনায় নিহতদের রুহের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করে প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ এলকায় এলকায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী তূর্ণা নিশিথা ও সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার ভোররাত পৌণে ৪টার এ ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জন নিহত এবং শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন।

এই শীতে একদিনের ভ্রমণে ঘুরে আসতে পারেন খাগড়াছড়ি

অপরূপ সৌন্দর্য্য ঘেরা পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। যার দূরত্ব ঢাকা থেকে ২৬৬, চট্টগ্রাম থেকে ১১২, কুমিল্লা থেকে ১৭০, চাঁদপুর থেকে ২২৮ কিলোমিটার। খাগড়াছড়ি জেলার আয়তন হচ্ছে ২৬৯৯.৫৫ বর্গ কিলোমিটার। প্রকৃতি অকৃপণভাবে সাজিয়েছে খাগড়াছড়ি কে। স্বতন্ত্র করেছে বিভিন্ন অনন্য বৈশিষ্ট্যে। এখানে রয়েছে আকাশ-পাহাড়ের মিতালী, উপত্যকার বিস্তীর্ণ সমতল ভূ-ভাগ ও উপজাতীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্যতা।


কি ভাবে যাবেনঃ সারা দেশ থেকে খাগড়াছড়ি যাওয়ার বাস পাওয়া যাবে৷ আপনি যেখান থেকেই যাত্রা শুরু করেন, ভোর বেলা খাগড়াছড়ি পৌঁছতে হবে। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যেতে চাইলে স্যামলী, এস আলম, ঈগল, এনা, সৌদিয়া, শান্তি পরিবহন, ইয়ার-৭১, সেন্টমার্টিন, হানিফ ও বিআরটিসি বাসে যেতে পারেন। ঢাকা কলা বাগান, গাবতলী, মতিঝিল, সায়দাবাদ থেকে বাস পাওয়া যায়। ভ্রমণের জন্য ৮-১২ জনের গ্রæপ হলে মাইক্রো বাস ভাড়া করে অথবা ছোট পরিবার হলে ছোট কার ভাড়া করে যেতে পারেন। চট্টগ্রামের কদমতলী, বদ্দারহাটসহ শহরে কয়েকটি স্থান থেকে বাসে খাগড়াছড়ি যাওয়া যায়। তবে অক্সসিজেন মোড় থেকে প্রতি ঘণ্টায় শান্তি পরিবহন পাওয়া যায়। ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর থেকে সরাসরী খাগড়াছড়ি বাস রয়েছে। ছুটির দিন ভ্রমণ করতে চাইলে আগে থেকে টিকেট বুকিং দিয়ে রাখা ভালো। এক দিন ভ্রমনের জন্য অবশ্যই রাতে যাত্রা শুরু করবেন, যাতে করে ভোর বেলা খাগড়াছড়ি পৌঁছানো যায়৷


নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য ঘেরা খাগড়াছড়ির আঁকা-বাঁকা, উচুঁ-নিচু পাহাড়ী রাস্তা ধরে চলার সময়টা আপনার জন্য স্বরণীয় হয়ে থাকবে। চারদিকে ছোট-বড় সারি সারি পাহাড়, গাছ-পালা, জঙ্গল, সবুজের সমারোহ আপনাকে ভুলিয়ে দিবে সব ক্লান্তি। এনে দিবে আনন্দ আর প্রশান্তি।


খাগড়াছড়ি এক দিনে যা দেখবেনঃ প্রথমে শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে রিছং ঝর্ণা, রিছং ঝর্ণা থেকে ফেরার পথে ৩ কিলোমিটার দূরে আলু টিলা, অপরাজিতা বৌদ্ধ বিহার, ৩ কিলোমিটার দূরে রয়েছে জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক, পাহাড়ী কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, সবশেষে আধিবাসী মার্কেট ঘুরে দেখা যাবে। ( যারা এক রাত থাকতে চান, তারা ভ্রমনের তালিকায় যোগ করতে পারেন – তৈদুছড়া, দেবতার পুকুর, মহালছড়ি হ্রদ, শতায়ুবর্ষী বটগাছ, ভগবান টিল, দুই টিলা ও তিন টিলা, মানিকছড়ি মং রাজবাড়ি, রামগড় লেক ও চা বাগান৷


ভোর বেলা বাস থেকে নেমে একটা রেষ্টুরেন্টে গিয়ে ফ্রেস হয়ে নাস্তা সেরে (জন প্রতি ৫০-৬০ টাকা) ৭.৩০ মিঃ মধ্যে বের হয়ে যাবেন৷


খাগড়াছড়ি ভ্রমণ করবেন কিভাবেঃ প্রথমত নিজেদের ভাড়া করা ভ্রমণ গাড়ীতে ঘুরতে পারেন। ভাড়া গাড়ী না থাকলে সিএনজি, জিপ, মোটর সাইকেল ভাড়া নিতে পারেন অথবা, স্থানীয় লোকাল বাসে চড়ে দর্শণীয় স্থান গুলো ঘুরে দেখতে পারেন। যাতায়াত খরচ তেমন বেশি হবে না, কারণ এক দিনের দর্শণীয় স্থান গুলো ১০ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে। তবে আলু টিলা ও হর্টি কালচার পার্ক এর প্রবেশ মূল্য জনপ্র্রতি ২০ টাকা। ভ্রমনের শুরুতে চলেযাবেন রিছং ঝর্ণা৷


“জিপ (চাঁদের গাড়ী) ড্রাইভার মোবাইলঃ ০১৬৩৪৮৪৭৬৫৬, মোটর সাইকেল মোবাইলঃ ০১৮২৮-৯৪২৬৩৪।”


রিছং ঝর্ণাঃ শহর থেকে ১০ কি.মি, মূল পাকা সড়ক থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার ভিতরে এই ঝর্ণা। গাড়ী নিয়ে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত যাওয়া যাবে। বাকীটুকু পায়ে হাটা পাহাড়ী পথ, তবে পাহাড়ের পাদোদেশ থেকে পাহাড়ের গাঁ বেয়ে সরু মেঠো পথে আস্তে আস্তে হাটি হাটি পা পা করে উপরে-নিচে। গাঁ শির শির করা ভয়, সাথে আনন্দ আর পুলক ছড়িয়ে পড়ে মনে প্রাণে। এ যেন এক নতুন অভিজ্ঞতা, যেন নতুন কিছু জয় করার মত আনন্দ।


প্রায় আধা কিলোমিটার আগে থেকেই ঝর্ণার পাশে পাহাড়ের কোলে কোলে ইট-সুরকির ২৩৬টি সিড়ি রয়েছে, দু’পাহাড়ের পাদোদেশে যাওয়ার জন্য। তারপর আবার মাটির সিড়ি রয়েছে প্রায় ৫০টি উপরে দিকে যাওয়ার জন্য, এই দু’সিড়ি বেয়ে যাওয়া যাবে ঝর্ণার সং¯পর্শে। ঝর্ণা পর্যন্ত যেতে যে ক্লান্তি আসবে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে এক নিমিশেই।


অপূর্ব এই ঝর্ণা দিকে আপনি মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকবেন। নয়ন আবিরাম ঝর্ণা আপনাকে এনে দিবে প্রশান্তি। আর শুনবেন ঝর্ণা ঝরার শব্দ। দেখতে পাবেন ঝর্ণার নির্মল স্বচ্ছ পানির হৃদ। চারদিকে সবুজের সমাহার। যেখানে প্রকৃতি কথা বলে কবিতার ভাষায়। (আপনার সাথে আলাদা কাপড় থাকলে ঝর্ণার পানিতে ভিজতে পারেন, তবে সাবধান- ঝর্ণার তলদেশ খুবই পিচ্ছিল ও ভয়ংকর)। রিছং ঝর্ণা ভ্রমণে গেলে প্রাকৃতিক অপরূপ সুন্দর্য্য ও ঝর্ণা ধারার তাল আপনার মনকে ফিরে আসতে বাধা দিবে। তারপরেও ১০.৩০ টার মধ্যে ফিরতে চেষ্টা করবেন।


আলু টিলাঃ রিছং ঝর্ণা থেকে ফিরতি পথে ৩ কিলোমিটার দূরে রয়েছে আলু টিলা। আলু টিলা পাহাড় থেকে পুরো খাগড়াছড়ি শহর দেখা যায়। আলু টিলার প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা আর মশাল ৫ টাকা। চালাক হলে আপনি ২০ টাকায় টিকেট ও মশাল নিতে পারবেন। আলু টিলার মূল আকর্ষণ হলো, আর্শচয্য প্রাকৃতিক অন্ধকার সুরুঙ্গগুহা। গেট থেকে আধা কিলোমিটার নি¤œমুখি রাস্তা হেটে বা গাড়ীতে যেতে পারেন।


তারপর ২৬৬ ধাপ সিড়ি রয়েছে আস্তে আস্তে নিচে নেমে যাবেন গুহার মুখে। ২৮২ ফুট অন্ধকার গুহায় প্রবেশ করতে প্রথমে ভয় পেলেও পরে পুলকিত হবেন। গুহার ভিতর থেকে একটা ঝিরঝির পানির প্রবাহ বয়ে চলছে। বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক অন্ধকার গুহা এটি। এই গুহায় প্রবেশ করলে আপনি সত্যিকার অর্থে জীবনের থ্রিলিং অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। অন্ধকার, ঠান্ডা শিতল, গা শির শির করা ভয়, পায়ে নিচে পাথরে টুকরো। কোথাও কোথায় মাথা নিচু করে পার হওয়া। সবকিছু পিছনে ফেলে আপনি যখন গুহার অপর প্রান্তে পৌঁছবেন, তখন নিজেই আবেগ আপুত হয়ে আশ্চার্য হবেন। কি ভয়ংকর থ্রিলিং অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। আবারো গুহার অপর প্রান্ত দিয়ে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসবেন। মনে রাখবেন, একবার গুহার ভিতরে ডুকলে, পিছনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নাই। কারণ আপনার পিছনে পিছনে অনেক মানুষ ঢুকে পড়েছে। ফিরার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। দুপুর ১২টায় আলুটিলা থেকে বেরিয়ে পড়বেন। মনে রাখবেন, রিছং ঝর্ণা ও আলু টিলার আশেপাশে কোন খাওয়া হোটেল ও টয়লেট নাই। ঘুরা-ঘুরির মাঝে যা খাবেন তাহলো ডাব প্রতি পিস্ ৩০-৫০ টাকা। পাহাড়ী কলা প্রতি পিস্ ১-৩ টাকা, পেপে প্রতি পিস্ ২০-৫০ টাকা, পাহাড়ী আনারস প্রতি পিস্ ১৫-৩০ টাকা, পেয়ারা, বড়ই (কুল), চা ১০টাকা, কফি ২০-৩০ টাকা।


তবে পরবর্তী দশণীয় স্থান হটির্কালচার পার্কে খাওয়ার ব্যবস্থা আছে।
হটির্কালচার পার্কঃ আলুটিলা থেকে ৩ কি.মি. দূরে হটির্কালচার পার্ক। হর্টিকালচার পার্ক এর ভিতরে ঢুকার আগেই দুপুরের খাওয়া খেয়ে নিতে পারেন৷ গেইটের বাহিরে পুডাং থাং রেস্টুরেন্ট রয়েছে। যোগাযোগ- ০১৭৫৬-৮৪৬৬৬৭, মেনু হিসেবে ১২০ থেকে ২৫০ টাকায় জন প্রতি খাওয়া যাবে। এখানকার কাষ্টমারদের জন্য টয়লেটের ব্যবস্থা আছে।


কি আছে এই পার্কের ভিতরেঃ প্রায় ২০০ মিটার ঝুলন্ত ব্রীজ, কিডস জোন, সবুজ বেষ্টনী, পিকনিটক স্পট, কৃত্রিম হৃদ, হলরুম, ওপেন স্টেজে বিভিন্ন অনুষ্ঠানসহ পাহাড়ী শান্ত হ্রদ।
২২ একর পাহাড় জুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে এই হর্টিকালচার হ্যারিটেজ পার্ক। পাহাড়ের চুড়ায় আধুনিক সাজসজ্জায় নির্মিত পার্ক এটি। সেখানে আধিবাসীসহ সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ কারির দেখা পাবেন। ২-৩ঘন্টা সময় কাটাতে পারেন এই পার্কে। সন্ধ্যার কিছু আগে বের হয়ে যাবেন৷


পাহাড়ী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রঃ পার্ক থেকে বের হয়ে সোজা চলে যেতে পারেন পাহাড়ী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে ৷ সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরতে পারে এখানে।


সন্ধ্যার পর যেতে পারেন শহরের আবিধাসী মার্কেটে। পছন্দ হলে কেনা কাটাও করতে পারেন সেখানে।


তার পর পছন্দ মতো রাতের খাবার খেয়ে ( মেনু হিসেবে জন প্রতি ১২০-২৫০ টাকায়) বাসে চড়ে বসবেন বাড়ির উদ্দেশ্যে৷


যারা থাকতে চান, তারা পরের দিন বাকি স্পট গুলো ঘুরে দেখতে পারেন৷
কোথায় থাকবেনঃ খাগড়াছড়িতে পর্যটন মোটেল সহ বিভিন্ন মানের থাকার হোটেল (Hotel) ) আছে ।


পর্যটন মোটেলঃ এটি শহরে ঢুকতেই চেঙ্গী নদী পার হলেই পরবে । মোটেলের সব কক্ষই ২ বিছানার । ভাড়াঃ এসি ২১০০ টাকা, নন এসি ১৩০০ টাকা । এসি স্যুইট রুম ৩,১০০ টাকা। তবে পুরো খাগড়াছড়ি জেলায় বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে ভোল্টেজ ওঠানামা করায় এসি রুমগুলো নন-এসি হিসেবে ভাড়া দেয়া হচ্ছে। যোগাযোগঃ ০৩৭১-৬২০৮৪৮৫ ।


হোটেল ইকোছড়ি ইনঃ ভালো মানের হোটেল, রুম ভাড়া প্রতি রাত ১৫০০ টাকা ২/৩জন থাকা যাবে। বড় রুমের ভাড়া আনুমানিক হারে বাড়বে। গরম পানি এসিসহ সকল সুবিধা পাবেন। উপরে রুম নিলে খাগড়াছড়ি শহরের মনোমুগদ্ধকর পাহাড়ী পরিবেশ দেখা ও উপভোগ করা যাবে। যোগাযোগঃ ০৩৭১৬২৬২৫, মোবাইলঃ ০১৮২৮৮৭৪০১৪.
হোটেল শৈল সুবর্নঃ ০৩৭১-৬১৪৩৬ , ০১১৯০৭৭৬৮১২ ।
হোটেল জেরিনঃ ০৩৭১-৬১০৭১ ।
হোটেল লবিয়তঃ ০৩৭১-৬১২২০ , ০১৫৫৬৫৭৫৭৪৬ , ০১১৯৯২৪৪৭৩০ ।
হোটেল শিল্পীঃ ০৩৭১-৬১৭৯৫ ।
কোথায় খাবেনঃ খাগড়াছড়ি গেলে আদিবাসী খাবারের স্বাদ নিতে চান? শহরের পানখাইয়া পাড়া, মহাজনপাড়া এলাকায় বেশকিছু আদিবাসী খাবারের রেস্টুরেন্ট রয়েছে। যারা পাহাড়ে এসে পাহাড়ি খাবার খেতে চান তাদের জন্য ওই রেস্টুরেন্টগুলো।
যারা থাকার হোটেলে রাতের খাবার খেতে চান তারা আগে থেকেই মেনু সহ অর্ডার করে রাখবেন । কমন রেষ্টুরেন্টে খেতে চাইলে, খাগড়াছড়ি শাপলা চওর রেষ্টুরেন্ট গুলোতে রাতের খাবার খেয়ে তার পর হোটেলে যেতে পারেন।

ট্রেন দুর্ঘটনা দেখতে এসে চাচা-চাচির লাশ পেলেন শাহাদৎ

উৎসুক জনতা হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় আন্তনগর তূর্ণা নিশীতা ও আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের দেখতে এসেছিলেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও এলাকার মো. শাহাদৎ। সেখানে এসে নিজের চাচা মজিবুর রহমান (৫০) ও চাচি কুলসুমার (৪৩) মরদেহ পেলেন তিনি। নিথর দেহে কসবা উপজেলার বায়েক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বারান্দায় শুয়ে আছেন তারা।

শাহাদৎ জানান, মন্দবাগ এলাকায় থেকে ফার্নিচার তৈরির কাজ করেন তিনি। মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন দু্র্ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। এরপর সেখান থেকে বায়েক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসেন মরদেহ দেখতে। এসে বারান্দায় থাকা নিজের চাচা মজিবুর রহমান ও চাচি কুলসুমার মরদেহ দেখে হতবাক হয়ে পড়েন তিনি।

তিনি আরও জানান, মজিবুর রহমান মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ব্যবসা করতেন। উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে করে তিনি ও তার স্ত্রী চাঁদপুরে নিজ বাড়িকে ফিরছিলেন। সকালে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাদের ছেলে ফোন দিয়েছে খবর জানতে। আমি এখনও চাচা-চাচির মৃত্যুর খবর বাড়িতে জানাতে পারিনি।

এর আগে মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ভোররাত পৌনে ৩টার দিকে মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও আন্তনগর তূর্ণা নিশীতা ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ১৫ জন নিহত ও শতাধিক যাত্রী আহত হন।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সদস্যরা নিহতেদের হাতের আঙুলের ছাপ নিয়ে তাদেরর পরিচয় শনাক্ত করছেন। এখন পর্যন্ত পরিচয় পাওয়া নিহতরা হলেন- হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মদনমোরাাদ এলাকার আইয়ূব হোসেনের ছেলে আল-আমিন (৩৫), আনোয়ারপুর এলাকার মো. হাসানের ছেলে আলী মো. ইউসূফ (৩৫), চুনারুঘাট উপজেলার পীরেরগাঁও এলাকার সুজন (২৪), চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজাগাঁও এলাকার মজিবুর রহমান (৫০) ও তার স্ত্রী কুলসুমা (৪২)।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মন্দবাগ এলাকায় দুইটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন।


আজ মঙ্গলবার ভোর রাত সাড়ে ৩ টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী তুর্ণানিশীথা আন্তঃনগর ট্রেনের সাথে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী উদয়ন এক্সপ্রেসের সাথে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।


দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ১২জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন বলে জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান ও পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেরণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বুলবুলের তাণ্ডবে পটুয়াখালী ও খুলনায় নিহত ২

ময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।বর্তমানে ঘূণিঝড়টি সাতক্ষীরা অতিক্রম করছে।বুলবুল-এর তাণ্ডবে পটুয়াখালী ও খুলনায় ঘর এবং গাছচাপা পড়ে নারীসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার ভোর রাতে ঝড়ের সময় এ ঘটনা ঘটে।শনিবার দিবাগত রাত থেকে এ অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব শুরু হয়।

নিহতরা হলেন-পটুয়াখালীর মির্জাগ‌ঞ্জের উত্তর রামপুরা গ্রা‌মের হামেদ ফকির (৬০) ও খুলনার দাকোপ উপজেলার প্রমিলা মণ্ডল (৫২)। 

এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বরগুনার বেশ কয়েকটি গ্রামে গাছপালা ভেঙে পড়েছে এবং কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়ায় ভাঙা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। 

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হওয়ায় মংলা-পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ উপকূলীয় ৯ জেলায় জারি হওয়া ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং চট্রগ্রাম বন্দরে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে সবখানেই ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখানো হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল: প্রবল তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড উপকূল

কয়েকদিন ধরে সাগরে অবস্থান করা ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ প্রবল শক্তি নিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকুলে আঘাত হেনেছে। এতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে খুলনা-সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকা। এছাড়া দেশে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

আজ রোববার (১০ নভেম্বর) ভোররাত থেকে খুলনা সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া। ঝড়ে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কাচা ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, উপকূল অতিক্রমরত প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি আরও সামান্য উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ ভোরে সুন্দরবনের কাছ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে খুলনা ও বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিম অঞ্চলে প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আকারে অবস্থান করছে।

বুলবুলের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, মেদিনিপুর, কলকাতা এবং ওড়িশা রাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় বহু গাছ উপড়ে গেছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি।

অনেক এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। দুই রাজ্যে ঝড়ে অন্তত দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ঘণ্টায় ১১৫ কিলোমিটার থেকে ১২৫ কিলোমিটার বাতাসের গতি নিয়ে বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ৯টায় পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সাগর দ্বীপ উপকূলে আঘাত হানে এই ঘূর্ণিঝড়।

এরপর প্রায় তিন ঘণ্টা ঝড়টি পুরোপুরি স্থলভাগে উঠে সুন্দরবনের ভারতীয় অংশের কাছ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করে।

বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র ছিল ভারতের সুন্দরবন ন্যাশনাল পার্কের’ ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায়।

আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, উপকূল অতিক্রমরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আরও সামান্য উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ ভোরে সুন্দরবনের কাছ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে খুলনা ও বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিম অঞ্চলে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আকারে অবস্থানকরছে।

এটি আরও উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ক্রমশঃ দুর্বল হতে পারে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় এর প্রভাবে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

এদিকে প্রবল শক্তি নিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। শনিবার রাত ৩ টার দিকে বুলবুলের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সুন্দরবন।

বিকেল পর্যন্ত সমতল এখাকা বাগেরহাট, যশোরেও ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছেন আবহাওয়া অফিস।

ভোর থেকে বুলবুলের আঘাতে রাস্তাঘাটে গাছপালা উপড়ে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মাছের ঘের ভেসে গেছে। এখনও উপকূলে ঝড়ো বাতাস বইছে।

উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভবতোষ মণ্ডল বলেন, ঝড়ে সব কিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। রাস্তাঘাটে গাছপালা পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। মানুষের মাটির ঘরবাড়ি একটিও নেই। মানুষের মাছের ঘের ভেসে গেছে। প্রচণ্ড বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া ভোররাত থেকে শুরু হয়ে এখনও চলছে।

শ্যামনগ‌র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, উপকূলীয় দ্বীপ ইউনিয়ন, গাবুরা ও পদ্মপুকুরের ৮০ শতাংশ কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হ‌য়ে‌ছে। এছাড়া বৃ‌ষ্টির পা‌নি‌তে বি‌ভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃ‌ষ্টি হ‌য়ে‌ছে।

তিনি আরও জানান, নদীতে এ সময় ভাটা থাকলেও ঝড়ের তাণ্ডবে নদীর পানি বেড়িবাঁধ পর্যন্ত ছুয়ে যায়। সকাল ৭টায় জোয়ার লাগার পর থেকে জলোচ্চ্ছ্বাসের আশংকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

কামরুজ্জামান জানান, রাস্তায় গাছ পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পুরো এলাকা বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গাবুরা, পদ্মপুকুর, আটুলিয়া, কাশিমারিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের শত শত চিংড়ি ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে।

ইউএনও জানান, বুলবুলের তাণ্ডব এখনও কমেনি, বরং তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রচণ্ড শক্তিতে বাতাস থেমে থেমে আঘাত করছে। ঝড় না থামলে উদ্ধার তৎপরতা চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে বুলবুলের আঘাতে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সকালে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার সময় গাবুরায় আবুল কালাম নামের এক ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ ছাড়া বাড়িঘর পড়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৯ নম্বর মহবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ সহ ঘন্টায় ৮০-১০০ কিমি বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ও মুন ফেজ এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

‘বুলবুলের’ তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড সাতক্ষীরা উপকূল

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলা।

বিধ্বস্ত হ‌য়ে‌ছে সহস্রাধিক ঘরবা‌ড়ি।

রোববার ভোররাত থেকে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া।

ঝড়ে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কাচা ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

রাস্তাঘাটে গাছপালা উপড়ে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মাছের ঘের ভেসে গেছে। এখনও উপকূলে ঝড়ো বাতাস বইছে।

উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভবতোষ মণ্ডল জানান, ঝড়ে সব কিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। রাস্তাঘাটে গাছপালা পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। মানুষের মাটির ঘরবাড়ি একটিও নেই। মানুষের মাছের ঘের ভেসে গেছে। প্রচণ্ড বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া ভোররাত থেকে শুরু হয়ে এখনও চলছে।

শ্যামনগ‌র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, উপকূলীয় দ্বীপ ইউনিয়ন, গাবুরা ও পদ্মপুকুরের ৮০ শতাংশ কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হ‌য়ে‌ছে।

বাংলাদেশে প্রায় ঢুকে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল”

প্রায় বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। স্যাটেলাইট ফটোতে দেখা যাচ্ছে, উপকূলে আছড়ে পড়ার খুব কাছাকাছি অবস্থায় পৌঁছে গেছে ঝড়টি। ফটোতে আরো দেখা যাচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়টি শ্যামনগর, পাথরঘাটা ও কলাপাড়ার দিকে এগুচ্ছে। শনিবার (৯ নভেম্বর) রাত পৌনে আটটায় স্যাটেলাইটে এভাবেই ধরা দিয়েছে বুলবুল।

উপকূল পার হয়ে বুলবুল বয়ে যাবে দেশের মধ্যাঞ্চলের ওপর দিয়ে। একমাত্র রংপুর জেলা ছাড়া সব জেলাতেই বইবে ঝড়ো হাওয়া ও সাথে থাকবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি। আগামী ২৪ ঘণ্টা পুরো বাংলাদেশে এর প্রভাব থাকবে। বুলবুলের প্রভাব পড়বে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যের রাজধানী কলকাতাতেও। বিভিন্ন জায়গায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোন পরিবর্তন এসেছে?

বুয়েটের ক্যাফেটেরিয়ার কাছে দুপুরে কয়েকজন ছাত্রকে দেখা যায় জাস্টিস ফর আবরার লেখা একটি ব্যানারে নানা মন্তব্য লিখছেন।

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মৃত্যুর এক মাস উপলক্ষে এই শিক্ষার্থীরা অঙ্গীকার করছেন এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবেন। খবর বিবিসি বাংলার

গত মাসে আবরাব হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েটে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কীভাবে সাধারণ ছাত্রদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল, তার অনেক অভিযোগ প্রকাশ পেতে শুরু করে।

পরে বুয়েটসহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা এরকম নির্যাতন বন্ধ এবং ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের এধরণের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে।

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বুয়েট প্রশাসন সঙ্গে সঙ্গে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের করলেও এই একমাসে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশে আদৌ কি কোন পরিবর্তন এসেছে?

এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের জোয়ারে মানুষদের মানসিকতায় বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন বুয়েটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোনামি মোস্তাক।

আগে কেউ তার বিরুদ্ধে কোন অন্যায় হলে, কথা বলতে চাইতো না। বুয়েটের হলে যে এ ধরণের নির্যাতন হতো, এটা বুয়েটের অনেক শিক্ষার্থীই জানতো না। এখন তারা সব জানতে পারছে। আর এই এক মাসে বলার যে একটা সাহস হয়েছে এটাই তো অনেক বড় পরিবর্তন। এরপরে আর কোন অন্যায় হলে এখন তারা সেটার বিরুদ্ধে বলতে পারবে।

তবে একই বর্ষের শিক্ষার্থী অন্তরা মাধুরী তিথি এক মাসেও কোন দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখেননি। তার আশঙ্কা আন্দোলন শিথিল হয়ে আসায় প্রশাসনও দায়সারা ভূমিকা নিয়েছে।

সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে সেটার ব্যাপারে দ্রুত সুষ্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।

এখন আমরা জানতে চাই যে কেউ যদি অপরাধ করে তাহলে তাদের শাস্তি কী হবে। একটা সুস্পষ্ট নীতিমালা চাই। আমরা অপেক্ষা করছি চার্জশিট পর্যন্ত। সে পর্যন্ত প্রশাসনকে আমরা জবাবদিহিতার মধ্যে রাখছি।

এতদিনে তো তদন্ত আগানোর কথা। এখন আমরা দেখবো, ওনারা ওই কাজ কতোটা জলদি করতে পারে। যদি ওনারা সময় মতো কিছু করতে না পারেন, তাহলে আমরা বুঝবো যে তাদের সদিচ্ছার অভাব আছে। যদি তাই হয় তাহলে আমাদের পরবর্তীতে কঠোরতর ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ- ডাকসুর সহ-সভাপতি নুরুল হক নুর।

তার অভিযোগ আবরারকে পিটিয়ে মারার ঘটনা ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের ক্ষমতার অপব্যবহারকে স্পষ্ট করলেও প্রশাসন এই বিষয়টিকে নজরে আনছে না।

ছাত্র সংগঠনের দৌরাত্ম্যর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলন হলেও তারা এখনও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভিন্ন মতের শিক্ষার্থীদের দমন পীড়ন করছে বলে তিনি জানান।

বুয়েটের মতো একটা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা একজন ছাত্রকে পিটিয়ে মেরে ফেলল, সারা দেশে নাড়া দিল। আমরা ভেবেছিলাম ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী চরিত্রের একটা পরিবর্তন আসবে। কিন্তু আমরা দেখেছি তার উল্টোটা হয়েছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ টেনে নুর বলেন, এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজশাহীর পলিটেকনিকে একজন শিক্ষককে ছাত্রলীগ কর্মীরা লাঞ্ছিত করলো। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির অপসারণের ব্যাপারে যে আন্দোলন চলছে সেখানেও এই ছাত্রলীগ ওই ছাত্র-শিক্ষকদের ওপর বর্বর হামলা চালিয়েছে। সুতরাং আমার মনে হচ্ছেনা, যে দাবিতে সারা দেশের মানুষ আওয়াজ তুলেছিল, সেই ছাত্রলীগের কার্যক্রমে ন্যূনতম পরিবর্তন এসেছে।।

যে ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ উঠছে তাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে শুধু আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রাশেদা ইরশাদ।

তার মতে, ছাত্র সংগঠনগুলো কেন্দ্রীয় দলের প্রভাবমুক্ত না হওয়ায় একের পর সহিংস ঘটনাগুলো ঘটছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি সেইসঙ্গে বিচার ব্যবস্থায় গতি আনা গেলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব বলে তিনি আশা করেন।

বিচার পাওয়ার জায়গাটা আমাদের অনেক দেরি হয়ে যায়। এখানে ওই প্রক্রিয়ার একটা অনুকরণই আমরা দেখতে পাচ্ছি। এটা রাজনীতিকরণেরই ফল। বিচার ব্যবস্থা সেইসঙ্গে প্রশাসনিক কর্মক্ষমতায় গতি আনতে হবে।

যারা দাপট দেখিয়ে চলছে তাদের সেই ক্ষমতার নিশ্চয়ই কোন উৎস বা সাহায্য আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিযুক্ত ছাত্র সংগঠনের পেছনে যে শক্তি বিরাজমান, সেই শক্তিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বলেই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সাধারণ মানুষ সেটা পারবেনা। তারা শুধু প্রতিবাদ করতে পারবে। বিষয়টা দৃষ্টিগোচর করে নিয়ন্ত্রণ আরোপের দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনায় বুয়েটের শিক্ষার্থীরা রাজপথে আন্দোলন বন্ধ রাখলেও মামলার চার্জশিট না দেয়া পর্যন্ত ক্লাস পরীক্ষা বর্জন রেখেছেন।

সামনের সপ্তাহের শুরুতে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দেয়ার কথা রয়েছে।

আবরার হত্যা: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোন পরিবর্তন এসেছে?আবরার হত্যা: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোন পরিবর্তন এসেছে?এতে আসামী হতে পারেন গ্রেফতার ২১জন সহ ২৪ জন। যাদের বেশিরভাগই ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার হয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় ড্রেক্সেল ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশি ছাত্রীর মৃত্যু

সাড়ে ৩৭ ঘণ্টা লাইফ সাপোর্টে থাকার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের ড্রেক্সেল ইউনিভার্সিটির ছাত্রী মেহেরুন চৌধুরী (১৯)। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া সিটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতন হয়েছিলেন মেহেরুন।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে তাকে পেন প্রেসবাইটেরিয়ান মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করেছিল ফিলাডেলফিয়ার পুলিশ।

ঘটনার সময় মেহেরুনের ভাই ছিল গাড়িতে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রিলিজ দেয়া হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়ার সন্তান লুৎফর চৌধুরী মিঠুর কন্যা মেহেরুন।
পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে মিলবোর্ন বরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট নূরুল হাসান জানান, দুর্ঘটনায় মেহেরুনের বিএমডব্লিউর সামনের অংশ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ মেহেরুনকে হাসপাতালে নেয়। তার মৃত্যুর সংবাদে প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।