অনলাইনে আমরা যতো ভাষায় হাসি

আপনি আর কী লিখতে পারেন: হাহাহা অথবা ওই মাই গশ, এতোই হাসির যে আমি হাসি থামাতে পারছি না!!!

এটা ঠিক যে টেক্সট বা মেসেজ পাঠানোর সময় কেউই সময় কিম্বা ড্যাটা নষ্ট করতে চায় না।

একারণেই অনেক মানুষ এমন শব্দ ব্যবহার করে, যা দিয়ে কোন ধ্বনিকে প্রকাশ করা যায়। যেমন ধড়াস, ক্রিং ক্রিং, হৈ হৈ, ঠাস ঠাস অথবা দ্রুম দ্রাম ইত্যাদি।

হাসির শব্দ তো সার্বজনীন- সব ভাষাতে ও সব মানুষের মুখে এই হাসি একই রকমের। তাই কি? আসলে ঠিক তা নয়।

আমাদের সবার হাসির শব্দ হয়তো একই রকমের হতে পারে, কিন্তু সেই হাসি যখন আমরা শব্দে প্রকাশ করি বা বানান করে লিখি তখন সেটা একেক দেশে একেক ভাষায় একেক রকমের হয়।

১. Haha
অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি অনুসারে হাসি প্রকাশের সঠিক বানান হচ্ছে ha ha অথবা Ha ha ha! কিন্তু যখন কোন মেসেজ বা টেক্সট পাঠানো হয় তখন সেটা কতো দ্রুত, কতো সহজে ও কতোটা স্বতস্ফূর্তভাবে পাঠানো হচ্ছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। সেকারণে আমরা সাধারণত hahaলিখে মেসেজ পাঠাই।

অনেকে আবার hehe… ও লিখে থাকেন। কিন্তু এটা এখনো অতোটা জনপ্রিয় হতে পারেনি।

২. Kkkkkk
আপনি যদি পর্তুগীজ কিম্বা কোরীয় ভাষাতে আপনার হাসি প্রকাশ করতে চান তাহলে লেখা হয় kkkkkk

পর্তুগীজ ভাষীরা, বিশেষ করে ব্রাজিলে, হাসির ধ্বনি সাধারণত ইংরেজি বর্ণমালা kদিয়ে প্রকাশ করে।

কিন্তু এই হাসিটাই যদি খুব বেশি জোরে হয় তাহলে কয়েকবার k ব্যবহার করে লেখা হয় kkkkkk – অনেকে আবার লেখেন rsrsrs যা পর্তুগীজ শব্দ রিসোসের (হাসি) সংক্ষিপ্ত রূপ।

পর্তুগীজ ভাষার সাথে কোরীয় ভাষার কিছু কিছু মিল আছে, তবে যদি মুখ টিপে হাসা বা চাপা হাসি প্রকাশ করতে হয় তারা লিখবেন ㅋㅋㅋㅋㅋㅋ.

k অথবা ㅋএই দুটোই মুখের গভীরে জিহ্বার একেবারে গোড়া থেকে উচ্চারণ করা হয়, যা হাসির ফলে যে শব্দ হয় তার কাছাকাছি হতে পারে।

মানুষ যতো ভাষায় কথা বলে তার প্রায় সবকটিতেই খুশির শব্দ এই বর্ণমালার কাছাকাছি ধ্বনির সাহায্যে প্রকাশ করা হয়।

৩. Xaxaxa
গ্রিসে কেউ যদি প্রাণ খুলে অনলাইনে হাসতে চান, তাহলে তিনি hahaha অথবা kkkkkk এই দুটোর কোনটাই না লিখে লিখবেন xaxaxa, কারণ সেখানে এই অক্ষরগুলো দিয়েই হাসিটাকে সঠিকভাবে প্রকাশ করা সম্ভব।

৪. Olololo
রাশিয়াতে কেউ যদি সিরিলিক বর্ণমালা ব্যবহার করে হাসি প্রকাশ করতে চান তাহলে তারাও লিখবেন хахаха.

কেউ কেউ আবার লিখে থাকেন Olololo।

৫. Kiekie
কেউ আবার যদি তার হাসি বান্টু ভাষা লিঙ্গালায় প্রকাশ করতে চায়, তাকে লিখতে হবে kiekie.

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও তার প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে ৮০ লাখ মানুষ এই ভাষাতে কথা বলেন।

তাদের হাসি যদি এমন হয় যে তারা সেটা থামাতেই পারছেন না তাহলে তারা লিখবেন kiekiekie.

৬. Jajaja
অনুষ্ঠানিক স্প্যানিশ ভাষায় যদি হাসি প্রকাশ করতে হয় তাহলে লিখতে হবে Ja, ja, ja” কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই লেখেন jajaja – অথবা jajajajaaaa. এটা নির্ভর করে তার হাসির তীব্রতার ওপর।

তবে একেক রকমের হাসির জন্যে ব্যবহার করা হয় একেক রকমের বর্ণমালা। যেমন দুষ্টু হাসির জন্যে je অথবা jejeje, নিঃশব্দ হাসির জন্য jijiji আর বিস্ময়কর হাসি বোঝাতে jojojo!

৭. mdr
ফরাসী ভাষাতেও হাসির ধ্বনি যখন বানান করে লিখে প্রকাশ করা হয় তখন hahahaলেখা হয়। কিন্তু ফরাসী ভাষীরা তার পরিবর্তে কখনো সখনোmdr ব্যবহার করেন।

কেন? কারণ এটা হচ্ছে mort de rire (হাসতে হাসতে মরে যাচ্ছি) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এছাড়াও এটি খুব দ্রুত টাইপ করা যায়।

৮. lwkmd
নাইজেরিয়াতে কিছু হাস্যকর সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করা হয়। শুধু সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণেই সেটা করা হয় না। এটা অনেক জোরালোও বটে।

lwkmd হচ্ছে laugh wan kill me die -এর সংক্ষিপ্ত রূপ, যার অর্থ বিষয়টি এতোটাই হাসির যে হাসতে হাসতে আপনি মরেই যাচ্ছেন।

৯. 555555
আপনি যদি কখনো কোন থাই বন্ধুর কাছ থেকে মজার মেসেজ পান তাহলে দেখবেন যে সে আপনাকে ইংরেজি 5 নম্বরটি কয়েকবার লিখে পাঠিয়েছে। থাইল্যান্ডে হাসির আওয়াজ হচ্ছে 555555.

এই বর্ণমালা যে থাই ভাষা থেকে এসেছে সেটি ‘ক্রা-দাই’ ফ্যামিলির। এতে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ চীন এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রায় সাড়ে নয় কোটি মানুষ কথা বলে থাকেন।

কিন্তু আপনি যদি চীনে থাকেন, তাহলে সাবধান! সেখানে 5 এই নম্বরটি উচ্চারিত হয় “উ” শব্দের মতো যার সাথে আবার কান্নার আওয়াজের মিল আছে। ফলে সেখানে 555555 এর অর্থ হতে পারে গভীর কান্নাও।

১০. H
ল্যাটিন অক্ষরের পর সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় আরবী বর্ণমালা।

ইসলামের প্রসারের সাথে সাথে এই ভাষাটিও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। আরো অনেক ভাষা লেখা হয় আরবী বর্ণমালা ব্যবহার করে।

এই বর্ণমালার একটি বৈশিষ্ট্য হলো যে এটি শুধু ব্যাঞ্জনবর্ণ ব্যবহার করে থাকে। ফলে তাদের ha তে aথাকে না।

ফলে হাসির ধ্বনি হচ্ছে: hhhhhh অথবা ههههه

১১. Www
জাপানি ভাষায় হাসির জন্যে শব্দ হচ্ছে ওয়ারাই অথবা 笑い

এখন এটা টাইপ করতে সময় লাগে। ফলে অনেকেই লেখেন www অথবা wwwww.

১২. Ha3
মালয়েশিয়াতে তারা এটিকে আরো সংক্ষিপ্ত করেছে, যা যোগ করেছে একেবারে ভিন্ন মাত্রা।

চাপা হাসি বোঝাতে লিখতে পারেন: Ha

আর হাসি যদি জোরে হয় তাহলে লিখবেন Ha3 (যার অর্থ hahaha = ha x 3 = ha3)

১৩. Ahahah

ভাববেন না যে এখানে টাইপ করতে গিয়ে ভুল হয়েছে। আমরা আসলেই লিখতে চেয়েছি ahahah.

ইটালিয়ান ভাষায় hঅক্ষরটি উচ্চারিত হয় না। তবে এটি অন্যান্য স্বরবর্ণের উচ্চারণ বদলে দিতে পারে।

এক্ষেত্রে a অক্ষরের পর h ব্যবহার কোন হাসির ব্যাপার নয়- ইটালিতেha এর অন্য একটি অর্থ আছে। তা থেকে আলাদা করতেই hএর আগে a ব্যবহার করা হয়।

১৪. høhøhø

নরওয়েতে হাসি বোঝানো হয় কীভাবে? বেশিরভাগ মানুষই লিখেন hahaha.

তবে কেউ কেউ তাদের নিজস্ব একটি প্রকাশভঙ্গির পক্ষে। høhøhø… ড্যানিশ ভাষা- hæhæhæ (যাhehehe এর কাছে) থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা এটা ব্যবহার করে থাকতে পারেন।

মিথিলার ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে অনলাইনে তোলপাড় কেন?

বাংলাদেশে বিনোদন জগতের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ইন্টারনেট-ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রায়ই সরগরম হয়ে উঠে।

তারকাদের একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি কিংবা ভিডিও ফেসবুক এবং ইউটিউবে ছড়িয়ে যায়। খবর বিবিসি বাংলার

যেমনটা হয়েছে সুপরিচিত অভিনয়শিল্পী রাফিয়াত রশিদ মিথিলার ক্ষেত্রে। ইফতেখার আহমেদ ফাহমি নামের এক নাট্য পরিচালকের সাথে তার কিছু কথিত ছবি গত কয়েকদিন ধরেই ফেসবুকে ছড়িয়েছে এবং সেগুলো নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে।

বিষয়টি আমলে নিয়ে অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন।

প্রশ্ন হচ্ছে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টেনে আনা কতটা সঙ্গত?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক কাবেরি গায়েন মনে করেন, যে কোন নাগরিকের ব্যক্তিগত বিষয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টেনে আনা শুধু আপত্তিকরই নয়, ফৌজদারি অপরাধও বটে।

অধ্যাপক গায়েন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত জীবনকে টেনে এনে তাদেরকে মব জাস্টিসের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এতে তার জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠছে।

অনেকে যুক্তি তুলে ধরেন যে, তারকাদের জীবনে কী ঘটেছে সেটি নিয়ে মানুষের আগ্রহ আছে।

কাবেরি গায়েন প্রশ্ন তোলেন, তারা তো বিষয়গুলো জনসম্মুখে করছেন না। যে বিষয়গুলো তারা জনসম্মুখে করছেন না, সে বিষয়ে অন্যদের আগ্রহ থাকবে কেন?

আমি কারো ব্যক্তিগত জীবনে হানা দিতে পারি কিনা?

বিনোদন জগতের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে কাঁটা-ছেঁড়া চলছে সে বিষয়ে অনেকে ক্ষোভ এবং হতাশা প্রকাশ করেছেন।

সংগীত শিল্পী সোমনুর মনির কোনাল বলেন, তারকারা তাদের ব্যক্তিগত জীবনে কী করছে সেটি অন্যদের বিবেচ্য হওয়া উচিত নয়।

কোনাল বলেন, পাবলিক ফিগার ও পাবলিক প্রপার্টি – দুটো আলাদা বিষয়। আমি হয়তো পাবলিক ফিগার হতে পারি, কিন্তু আমি পাবলিক প্রপার্টি না।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন মানুষ তার বেডরুমে কী করছে, রান্নাঘরে কী করছে, সেটা অন্যদের বিবেচ্য বিষয় হবে কেন?

আমি যেটা দেখাতে চাইনা সেটা দেখানো ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন।

অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা কিংবা ছবি ছড়িয়ে দেবার পেছনে কিছু নেতিবাচক মানসিকতা কাজ করে।

কাবেরি গায়েনের মতে, এটি হচ্ছে যৌন অবদমনের ফল। যৌন অবদমিত প্রবণতা নগ্নভাবে প্রকাশ হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আমরা লুকিয়ে অন্যের যৌন জীবন দেখার চেষ্টা করছি। একজন তো দেখছেই, অন্যকেও দেখাচ্ছে। এটা বিপদসীমা অতিক্রম করে গেছে।

অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলার কথিত ছবি নিয়ে মূলধারার কিছু সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে অভিনেত্রী মিথিলার কাছে প্রতিক্রিয়াও জানতে চেয়েছে।

এ বিষয়টিতে ঘোরতর আপত্তি তুলেছেন অধ্যাপক কাবেরি গায়েন। তিনি মনে করেন, এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চরিত্র হনন করা হচ্ছে।

তারা বেডরুমে কী করছে সেটা দেখার দায়িত্ব অন্য কাউকে দেয়া হয়নি।

কাবেরি গায়েন বলেন, মূলধারার গণমাধ্যম অনেক সময় ইন্টারনেট-ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে প্রতিযোগিতা করছে।

প্রতিযোগিতার এই যুগে অনেক সময় মূলধারা গণমাধ্যম নিজেদের অনিরাপদ মনে করছে বলে তাঁর ধারণা।

মূলধারার গণমাধ্যম মনে করছে মানুষে ফেসবুকে অনেক বিষয় দেখছে। সেদিকে নজর না দিলে তাদের কাটতি কমে যেতে পারে। এমন আশংকা থেকেই কিছু মূলধারার গণমাধ্যমও তাদের সীমারেখা নির্ণয় করতে পারছে না বলে উল্লেখ করেন কাবেরি গায়েন।

রাহুল রাজ এর ‘পাবিরে খবর’ গানে আবার ফিরছেন আশরাফ উদাস

বাংলাদেশে অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠ শিল্পী আশরাফ উদাস আবার দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন ‘ পাবিরে খবর’ শিরোনামের একটি আধ্যাত্মিক গান নিয়ে। রাহুল রাজ কথায় গানটির কম্পোজ শেষ হয়েছে। কাব্য বিলাস এর ব্যানারে গানটি মুক্তি পেয়েছে।
পাগল মন, আমার লাইন হইয়া যায় অ্যাকা বাঁকা, সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের সাথে প্রায় তিন-শত অ্যালবাম প্রকাশ করে নিজের কণ্ঠে আশরাফ উদাস বাংলার গান প্রিয় মানুষের অন্তরে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। রোম্যান্টিক শিল্পী হিসাবে যে আশরাফ উদাসকে সবাই চেনে এবার তিনি ভিন্নধারা আরো একটি দেহতত্ত¡ গানে কণ্ঠ দিলেন।

এর আগে রাহুল রাজ এর ‘হাড়ের বাক্স, চামড়ার ছাওনি’ ও অপরাধী গানে কন্ঠ দিয়েছেন আশরাফ উদাস। সেই গানের জনপ্রিয়তায় এই জুটির আবার এক সাথে ফিরে আসা। সাংবাদিক, নাট্যকার ও গীতিকার রাহুল রাজের ‘পাবিরে খবর’ শিরোনামের গানের প্রতিটি কথায় হৃদয়স্পর্শী। ‘আবার আমি সাজবোরে বর, তোরা পাবিরে খবর, চোখে আমি সুরমা দিব, গায়েতে আতর’

দেশীয় বাদ্যযন্ত্রে কম্পোজ করা এই গানটি যে কারো মনকে নাড়া দেবে বলে বিশ্বাস করেন সংগীত পরিচালক আপেল মাহামুদ।
গান সম্পর্কে কণ্ঠশিল্পী আশরাফ উদাস বলেন, এর আগে রাহুল রাজ এর ‘হাড়ের বাক্স’ গানে কণ্ঠ দিয়ে দর্শকদের প্রচুর প্রশংসা পেয়েছি। এবারের গানটির আরো ভাল বলে আশারাখছি। গানের কথাগুলো হৃদয়স্পর্শী। যারা গান শুনবেন তাদের মনে গেঁথে থাকবে এটাই আমার বিশ্বাস। আশা রাখছি আবারও ভাল কিছু নিয়ে দর্শক ও শ্রোতাদের সামনে হাজির হতে পারব।

শরতের বন্দনায় মেতেছিলো সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর বন্ধুরা

‘শিউলী ঝরা শরতের মেঘশূন্য নীলাকাশ হেমন্তের কণক ধানের সোনালী সম্ভার প্রকৃতিকে করে প্রাণময়। বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতিতে শরতের রয়েছে উজ্জল উপস্থিতি। শরৎ নিয়ে রচিত হয়েছে অনেক কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ। চর্যাপদের পদকর্তা থেকে শুরু করে আজকের তরুণতম কবির রচনায়ও শরৎ তার নান্দনিক ব্যঞ্জনা নিয়ে উদ্ভাসিত। কবিদের কবিতায়ও শরৎ পেয়েছে প্রাধান্য। তাইতো কবির পংক্তিমালা হয়েছে শরৎ সিক্ত।’
শরৎকে মহিমান্বিত করে উপস্থাপকের কণ্ঠে এভাবেই ভেসে আসছিল শরৎ বন্দনা। গত মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পর্যটন শহর কক্সবাজারের পাবলিক লাইব্রেরীর মিলনায়তনে ‘শরৎ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি, ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে মোহন অঙ্গুগুলি’ শিরোনামে শরৎ সন্ধ্যার আয়োজন করে কক্সবাজার সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠী। অনুষ্ঠান শুরু হয় ‘শরৎ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি’ সমবেত কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের এই গানটি দিয়ে। এরপর ‘তোমার খোলা হাওয়া’ গানটির পর নৃত্য পরিবেশন করেন সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠীর ক্ষুদে শিল্পীরা।
ছিল সংগীত পরিবেশনাও। অনুষ্ঠানের ফাঁকে চলে কথামালা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কবি মানিক বৈরাগী। অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, রবীন্দ্র সাহিত্যে শুধুমাত্র বারো হাজার ফুলের নাম আছে, কিন্তু আমরা কজনে কয়টা ফুলের নাম জানি। তাই আমাদের বেঁচে থাকতে হলে রবীন্দ্রনাথকে জানতে হবে,পড়তে হবে, আর প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হবে। মানিক বৈরাগী বলেন, রবীন্দ্রনাথ তার সাহিত্য কর্মে বাংলার রূপ বৈচিত্র্য অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, প্রকৃতির লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যেপাধ্যায় প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য দেখেই সমৃদ্ধ সাহিত্য রচনা করেছেন। ‘আগামী প্রজন্ম রবীন্দ্র, নজরুল, বিভূতি, জীবনানন্দের কবিতায় বাংলার এই প্রকৃতিকে খোঁজে পাবে না, যদি আমরা সবাই মিলে এই প্রকৃতিকে রক্ষা না করি। আসুন নতুন প্রজন্মের জন্যই আমরা প্রকৃতিকে রক্ষা করি, ধরিত্রীকে বাঁচাই।’ কথামালার ফাঁকে একে এক চলে গান, নৃত্য আর আবৃত্তি। সেই সঙ্গে চলে শরৎ বন্দনা। ‘বলো শাম শাম’ আর ‘খোলা হাওয়া’ গানটির সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা। ‘আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্র ছায়ায়’ আবৃত্তি করেন খোরশেদ আলম। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে ‘শ্রাবণ ঝরে পড়ে’, ‘আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুব তারা’ একটা ছিলো সোনার কন্যা’, ‘এই যে তোমার প্রেম ওগো’, ‘মধু মালতী ডাকে আয়’, শোন গো দক্ষিণা হাওয়াসহ বেশ কটি গান গেয়ে শোনান সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠীর কচি-কাঁচা শিল্পীরা। আর যাদের কণ্ঠে সেই শরৎ বন্দনা বারবার ভেসে আসছিল, অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন কবি মনির মোবারক ও রিমঝিম ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন, সংগঠনটির সভাপতি খোরশেদ আলম। অনুষ্ঠানে অংশ নেন, নাট্যজন খোরশেদ আলম, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, জেলা খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ, শ্রæতি আবৃত্তি অঙ্গনের সভাপতি এড. প্রতিভা দাশ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, কক্সবাজারের সহ সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ শহীদ। উপস্থিত ছিলেন, জেলা কালচারাল অফিসার সুদিপ্তা চক্রবর্তী। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন সায়ন্তী ভট্টাচার্য্য, নিলয় দাশ, অপি ভট্টচার্য্য ও নিলয় চৌধুরী। সময় বয়স রাত প্রায় সোয়া নয়টা। উপস্থাপকের কণ্ঠে তখন সমাপনী সুর বেজে উঠলো ঠিক এভাবেই- ‘গোধূলী লগ্নে লালচে সূর্যের সঙ্গে কাশফুলের এই যে লুটোপুটি খেলা, প্রশান্তির দুয়ারে এ যেনো শরতেরই আশ্বাস-শুভ্রতার রঙে সেজে ওঠে পৃথিবী। প্রত্যাশার পালে লাগুক হাওয়া আর সেই সঙ্গে শরতের স্নিগ্ধতায় মলিন হোক সব কালিমা। সুখ আর সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক দেশ।’ অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন, নৃত্য প্রশিক্ষক সুপর্না দেব, রাকিবুল ইসলাম, তৌফিকুল ইসলাম।

অ্যান্ড্রু কিশোরের ১০ লাখ টাকা নেয়ার নেপথ্য কারণ জানালেন সামিনা চৌধুরী

বাংলাদেশের বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী অ্যান্ড্রু কিশোর অসুস্থ। তিনি হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তিনি এখন সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

চিকিৎসা নিতে যাওয়ার আগে অ্যান্ড্রু কিশোর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা অর্থ সহায়তা নিয়েছেন। অ্যান্ড্রু কিশোরের মতো একজন প্রতিষ্ঠিত ও সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন শিল্পীর অর্থ সহায়তা নেয়ার বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আবার অনেকে অ্যান্ড্রু কিশোরের পক্ষ নিয়ে সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন।

এদের একজন কন্ঠশিল্পী সামিনা চৌধুরী। অ্যান্ড্রু কিশোরের সঙ্গে বহু জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দেয়া এ শিল্পী জানালেন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অ্যান্ড্রু কিশোরের অর্থ সহায়তা নেয়ার নেপথ্যের গল্প।

অ্যান্ড্রু কিশোরের ১০ লাখ টাকা নেয়া নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন সামিনা চৌধুরী। সেখানে তিনি লিখেছেন- অ্যান্ড্রু কিশোর প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুদানের কোনো আবেদন করেননি। প্রধানমন্ত্রী নিজ থেকে তাকে এ অনুদান দিয়েছেন। অ্যান্ড্রু কিশোরকে অনেকটা জোর করেই এ টাকা দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

সামিনা চৌধুরীর স্ট্যাটাসটি যুগান্তর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

‘বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী অ্যান্ড্রু কিশোর (‘দা)-কে ডাকা হয়েছিল একটা প্রোগ্রামের ব্যাপারে আলাপ করার জন্য। অ্যান্ড্রু দা মাসখানেক ধরে হরমোনের সমস্যায় ভুগছেন এটি ওনার ছোটবেলা থেকেই সমস্যা। এ কারণে ওজন একটু কমে গিয়েছে, স্ক্রিন কালার একটু চেঞ্জ হয়েছে…। এটি জিজ্ঞেস করার পর এবং জানার পর প্রধানমন্ত্রী নিজে থেকে দাদাকে ১০ লাখ টাকা পরিমাণ অর্থের একটি চেক দিয়েছেন।

অ্যান্ড্রু দা নিতে না চাইলে প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেন যে, চেকটি তিনি বড়বোন হিসেবে দিতে চাইছেন…। একটা রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী যদি নিজে থেকে কাউকে কিছু দিতে চান, সেটি উপেক্ষা করা তাকে অসম্মান করা বৈকি! আমি যতটুকু জেনেছি, টাকার ব্যাপারটি এটুকুই।

মোমেন বিশ্বাসের কাছ থেকে আমি পুরো ঘটনাটি জানতে পারি। আমরা অনেক কষ্টে একজন করে ক্ষণজণ্মা মৌলিক কণ্ঠশিল্পী পাই। তাকে ভালোবাসা দিয়ে মনে সাহস দিয়ে বাঁচতে ও গান গেয়ে যেতে সাহায্য করা যে আমাদের এবং আমাদেরই দায়িত্ব। ১০ লাখ টাকার জন্য যে অ্যান্ড্রু দার মতো শিল্পী কারও কাছেই টাকা চাইবেন না, এ ব্যাপারে অন্তত আমি নিশ্চিত।

আমি তার স্নেহধন্য ছোট বোন, সবসময় তাদের স্নেহের ছায়ায় আছি, থাকতে চাই আজীবন। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা সবাই এখন প্রিয় শিল্পী অ্যান্ড্রু কিশোরের জন্য প্রার্থনা করি, তিনি যেন সুস্থ হয়ে ফেরেন। যেন খুশি মনে গেয়ে ওঠেন- ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি… এই চোখ দু’টো মাটি খেয়োনা…।’

‘আপনার দাম্পত্য সম্পর্ক যেভাবে শয়তানের চোখ থেকে রক্ষা করবেন’

‘হে আল্লাহ, তাদের দুজনকেই শয়তানের চোখ থেকে রক্ষা করুন।’ ইউটিউবে নিজস্ব ব্লগে প্রকাশিত ভিডিওতে এক মুসলিম তরুণ দম্পতির প্রেম নিবেদনের দৃশ্য এবং এই বিষয়টি নিয়ে অনেকের বিরূপ মন্তব্যের কারণে আমি তাদের জন্য এই দোয়া করেছিলাম।

আমি দেখতে পেয়েছিলাম তাদের ইউটিউব চ্যানেলে তিন লাখেরও অধিক নিবন্ধনকারী রয়েছে। আমি জানি প্রতিদিন তাদের আপলোডকৃত প্রত্যেকটি ভিডিও হাজারেরও বেশি দর্শকের নিকট পৌঁছে। আমি একদিন তাদের আপলোডকৃত একটি ভিডিওতে একজন নারীর করা একটি মন্তব্য দেখতে পেয়েছিলাম, যেটা ছিল এরকম- ‘আমার স্বামী এবং আমি কখনো তোমাদের মত করে একজন আরেকজনের সাথে কৌতুক করিনি। আমাদের বিবাহের পর থেকে, এমনকি তিনি আমার সাথে উন্মুক্তভাবে কখনো কথাও বলেনি।’

স্বাগতম বর্তমানের নতুন ডিজিটাল দুনিয়ায় যেখানে আপনার অনুসরণকারীরা আপনার প্রতিদিনকার কাজ কর্মের খবর পেয়ে যাবে সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে, আর অন্যদিকে আপনার রক্তের সম্পর্কীয় পরিবারের সদস্যরা এ সম্পর্কে কিছুই জানবে না।

এই যুগে বেশির ভাগ ৪০ উর্ধ্ব মানুষরা ইনস্টাগ্রামে সর্বোচ্চ ১০০ শব্দের হৃদয়গ্রাহী একটি লিখার সাথে একটি আলোকচিত্র পোস্ট করে এবং তাদের আত্মীয় স্বজনের ফোন নম্বরে ফোন করে তাদের খোঁজ খবর নেয়।

এটি এমন একটি যুগ যেখানে কিছু কিছু যুবক-যুবতী হয়তো তাদের চাচাতো ভাই বোনদের নামও জানে না, অন্যদিকে অনলাইনে তাদের ৫ জনেরও অধিক ঘনিষ্ঠ বন্ধু থাকে এমনকি তাদের সাথে হয়তোবা সরাসরি কোনদিন দেখাও হয়নি।

এইরকম একটি ডিজিটাল যুগ আমাদের সন্তানদের জন্য অপেক্ষারত যেখানে তাদেরকে ডাকা হচ্ছে ‘যুগ সন্ধিক্ষণের’ শিশু হিসাবে।

আমি নিশ্চিতভাবেই আরেকটি বিষয় জানি আর সেটি হচ্ছে তাদেরকে একটি বিষয় থেকে রক্ষা করতে হবে যা আরবী শব্দে ‘এইন’ এবং বাংলাতে যার অর্থ দাঁড়ায় ‘সুনির্দিষ্ট চোখ’ যাকে অবশ্য নজরও বলা যায়। এটা এ জন্য যে তারা হয়ত এমন অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিছু লাইক, কমেন্টের জন্য সোসাল মিডিয়াতে পোস্ট করবে যা তাদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

‘সুনির্দিষ্ট চোখের অস্তিত্ব’
এ কথা অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই যে এই পৃথিবীতে এমন ধারণাতীত কিছু অসুস্থতা এবং দুঃখ-কষ্ট রয়েছে যাতে অনেক মানুষই আক্রান্ত হন, কিন্তু এ বিষয়ে ডাক্তার বা বিজ্ঞানীদের কাছে কোনো চিকিৎসা নেই, কোনো যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা নেই।

সুনির্দিষ্ট চোখের কারণে সত্যি সত্যিই শারীরিক এবং মানসিক দুঃখকষ্টের উৎপত্তি হতে পারে। যার প্রভাব এমন অবস্থায় পৌঁছে যে গতানুগতিক চিকিৎসা বা মেডিটেশন থেরাপির মাধ্যমে এর থেকে সুস্থতা লাভ করা যায় না।

এই চোখের শিকার হওয়া ব্যক্তি তার জীবনে ‘নীচের দিকে’ নামতে থাকে তার পরিবারের বন্ধুদের সামনে, তার স্বাস্থ্য হানি হতে থাকে, সুখ উবে যায়, তার ধীরে ধীরে একটি বৃক্ষে পরিণত হয়, হতাশা এবং রোগ শোক তাদের উপর ঝেঁকে বসে। তার আশেপাশের লোকজন চিন্তা করতে থাকে ‘তার কি হয়েছে এবং কিভাবে এ থেকে তাকে মুক্তি দেয়া যায়?’ ডাক্তার এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে না। একমাত্র ইসলামী শিক্ষাই এই সমস্যার সমাধান দেয়।

অধিকন্তু একজন মুসলিমের জন্য উত্তম হচ্ছে ‘Prevention is better than cure’ এই পথ অনুসরণ করা এবং এটি আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর দেখানো সুন্নাহ।

ইবনে আব্বাস (রাঃ) তিনি আল্লাহর রাসুলকে (সাঃ) বলতে শুনেছেন- ‘দুষ্ট চোখের প্রভাব রয়েছে এবং এটি সত্য। যদি এমন কিছু থেকে থাকে যা ভাগ্যকে প্রভাবিত করে তবে তা হচ্ছে (দুষ্ট চোখের প্রভাব)।’ সহি মুসলিমঃ ২১৮৮।

উপরোক্ত হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে ওই চোখ কতটা ক্ষতিকর।

আবু ইবনে সাইদ আল খুদরী(রাঃ) বলেন, ‘সুরা আল ফালাক এবং সুরা আল নাস নাজিল হওয়ার আগে রাসুল (সাঃ) সবসময় দুষ্ট জিন এবং শয়তানের চোখ থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। পরবর্তীতে এই সুরাগুলো নাজিল হওয়ার পর তিনি এই সুরাগুলো পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।’

উপরের হাদীস থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, খারাপ চোখ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কুরআনের শেষ দুই সূরা নিয়মিত পড়তে হবে।

আয়েশা (রাঃ) বলেন, ‘নবী(সাঃ) আমাকে আদেশ দেন (বা অন্য যে কাউকে) রুকাইয়া করার জন্য যদি আমি বুঝতে পারি সেখানে কোনো দুষ্ট চোখের (বিপদের আশংকা) প্রভাব রয়েছে।’

রুকাইয়া বুঝায় কুরআনের কোনো অংশ তিলাওয়াত করে ফুঁ দেয়া। পবিত্র কুরআন খুবই কার্যকরভাবে শয়তানের দুষ্টু চোখ থেকে এবং অন্যান্য ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমাদের রক্ষা করে।

উপরোল্লেখিত রাসুল(সাঃ) এর সুন্নতের অনুসরণের মাধ্যমে নিরাপদ থাকার পাশাপাশি একজন মুসলিমের উচিত সবসময় সতর্কতা অবলম্বন করা যখন তারা মানুষদের সাথে কথা বলবে এবং তাদের নিকটবর্তী হবে তারা যেন খোলাখুলিভাবে তাদের প্রতি আল্লাহ তাআলা যে অনুগ্রহ করেছেন তা প্রকাশ না করে দেয়। এটি মুসলিমদের অনলাইন এবং সোসাল মিডিয়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

যখন আল্লাহ আমাদেরকে অনেক কিছু দিয়ে, বিশেষত যাদেরকে গভীর জ্ঞান দেয়া হয়েছে যা অর্জন করা অনেক কঠিন এবং যা অনন্য তখন আমাদের উচিত আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করা এবং অবিবেচনা প্রসূত এসব প্রকাশ না করে দেয়া।

দুইজন মানব মানবীর সুখী দাম্পত্য জীবন আল্লাহ প্রদত্ত রহমতেরই প্রকাশ যাতে তারা ইসলামের পথে থাকতে পারে, যেটি সবময়ে সফল থাকে। এমনকি মাঝে মধ্যে সামান্য মনোমালিন্য হওয়ার পরেও, আর এইরকম সুখী দাম্পত্য জীবন হচ্ছে উপরোল্লেখিত আল্লাহর বিশেষ রহমতের মতোই।

সুতারাং, সত্যের পথে থাকতে হবে, ইসলামী জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এবং এসবের মাধ্যমে ভালো কাজ করার মত দক্ষতা অর্জন করতে হবে, এর মাধ্যমে সত্যের পথে চলা দম্পতি হতে হবে যাতে একটি সুখী দাম্পত্য জীবন, সুন্দর সন্তানসন্ততি এবং জীবনে স্পষ্ট শান্তি আসে। অনুরোধ থাকবে ‘দুজনের সেলফি’ তুলে সোসাল মিডিয়াতে পোস্ট না করার জন্য।

সোসাল মিডিয়ায় কিছু দেখানোর চাইতে প্রার্থনা করুন একটি স্থায়ী দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের জন্য।

সূত্রঃ পাকিস্তানের করাচি ভিত্তিক ফ্রিল্যান্সার, লেখিকা, ব্লগার সাদাফ ফারুকীর কলাম থেকে।

প্রিয়ঙ্কা-নিকের এনগেজমেন্ট পার্টিতে কে কে থাকছে?

ইটস অফিশিয়াল। প্রিয়ঙ্কা চোপড়া এবং নিক জোনাসের রিলেশনশিপ এ বারে অফিশিয়াল তকমা পেল। প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে নিজের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে নিক লিখলেন, ‘ফিউচার মিসেস জোনাস। মাই হার্ট, মাই লভ।’

শোনা যাচ্ছে আজ মুম্বইয়ের একটি পাঁচতারা হোটেলে পার্টি দিচ্ছেন এই জুটি। মোট ২০০টি ঘর নাকি বুক করা হয়েছে অতিথিদের জন্য।

প্রিয়ঙ্কার দীর্ঘদিনের বন্ধু মণীশ থাকবেন তার জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে। প্রিয়ঙ্কার তুতো বোন পরিণীতি শনিবার সকাল থেকেই রয়েছেন প্রিয়ঙ্কার বাড়িতে। আজও তিনি থাকবেন বলেই খবর।

রণবীর সিংহের সঙ্গে প্রিয়ঙ্কার ভাল বন্ধুত্ব। ফলে তিনিও নাকি থাকবেন এই এনগেজমেন্ট পার্টিতে। তবে দীপিকার সঙ্গে এই মুহূর্তে রণবীরের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা রয়েছে। তিনিও থাকবেন কিনা তা জানা যায়নি।

সোফি চৌধুরির সঙ্গে প্রিয়ঙ্কার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। বন্ধুকে উইশ করতে তিনি পার্টিতে যাবেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

কাব্য বিলাসের ‘বিবেক’ চিত্রায়ণ হবে বিটিভিতে

কোলকাতা আর্ন্তজাতিক নাট্য উৎসব শেষে দেশে ফিরেই ভিন্নধারার নাটক ‘বিবেক’ নিয়ে মহড়াতে ব্যস্ত সময়-পার করছে কাব্য বিলাস নাট্য গোষ্ঠী।

 

গ্রাম বাংলার প্রেক্ষাপটে নির্মিত এ নাটকে উঠে আসবে বাউল শিল্পীদের জীবনের নানা চিত্র। রাহুল রাজ এর রচনা ও নির্দেশনায় বিবেক নাটকে উঠে আসবে বাংলার কৃষ্টি ও কলা কি ভাবে ভিনদেশি সাংস্কৃতিতে হারাতে বসেছে। আগামী ২৪ জুলাই বিটিভিতে চিত্রায়ন হবে নাটকটি।

 

রাজধানীর, কাওলার মহড়া কক্ষে, দলের সদস্যরা নিয়মিত নাটকটির মহড়া করছে। কাব্য বিলাসের পক্ষে রাসেল জানান, বরাবরের মত এ-বারো আমরা দর্শকদের সামনে ভিন্ন ধারার নাটক নিয়ে আসছি। বাউল জীবনের সুখ দুখের গল্পে দর্শক পাবে ভিন্ন আমেজ।

 

নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছে, নোঈম ইসলাম, লুবনা, চাঁদনী, সজীব, প্রিয়াঙ্কা, মামুন, রাকিব, আশরাফুল, শাকিল, রুবেল, অন্যন্যাসহ আরো অনেকে।

 

উল্লেখ্য ‘প্রতিভার প্রতিক্ষায় নতুনের জয়গান’ এই শ্লোগানে কাব্য বিলাস নাট্য গোষ্ঠী বিগত ১২ বছর যাবৎ নিয়মিত অপ সাংস্কৃতিক রোধে দেশ ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে সমাজ সচেতন ও ভিন্ন ধারা নাটক মঞ্চায়ন করে যাচ্ছে।

কাব্য বিলাসের ‘কপাল’ মাতাল কোলকাতা

কোলকাতা আর্ন্তজাতিক শিশু নাট্য উৎসব ও নৈহাটি অ্যাস্থেটিকস এর নাট্য উৎসবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণ করা কাব্য বিলাস নাট্য গোষ্ঠী মঞ্চায়ন করে ‘কপাল’। নাটকটি সুধিজনের ব্যাপক প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়েছে। রাহুল রাজের রচনা ও নির্দেশনায় এ নাটকে নদী ভাঙ্গা মানুষের জীবন-চিত্র বাস্তাব ভাবে ফুটে ওঠে। চলতি মাসের ১৭ ও ১৯ জুন কোলকাতা একাডেমী ভবন ও নৈহাটির ঐকতানে সফল ভাবে কাব্য বিলাসের শিল্পীরা দর্শকদের সামনে তুলে ধরে পদ্মার ভাঙ্গনের করুন চিত্র।

 

কোলকাতা আর্ন্তজাতিক শিশু নাট্য উৎসবে বিশ্বের আট দেশের ১৬ টি নাটক মঞ্চায়ন হয়ে ২১ জুন উৎসবের পর্দা নামে। ১৯ জুন নৈহাটিতে মৈত্রী নাট্য উৎসবে এপার বাংলা ওপার বাংলার মিলন মেলায় বাংলাদেশ থেকে কাব্য বিলাস কপাল নাটকের দ্বিতীয় মঞ্চায়ন করে।

 

উৎসব থেকে প্রাপ্ত অর্থ তুলে দেওয়া হয় সতীশ সাউ ও গণপতি নমস্কারের চিকিৎসার্থে। নৈহাটি অ্যাস্থেটিকস এর পক্ষে শমিত ঘোষ জানান, দুই বাংলার মৈত্রী নাট্য উৎসবে ঢাকা থেকে কাব্য বিলাস নাট্য গোষ্ঠী অংশগ্রহণ করে উৎসবকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আগামীতেও এই বন্ধুত্ব আরো দৃঢ় হবে। কাব্য বিলাস ছাড়াও এ উৎসবে ভারতের পক্ষে উজাগর নাট্য গোষ্ঠী এমনও বসন্ত দিনে নাটক নিয়ে অংশগ্রহণ করে।

 

এদিকে কোলকাতায় আর্ন্তজাতিক নাট্য উৎসবে কাব্য বিলাস এর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ড. তাপস দাস বলেন, আগামীতেও কাব্য বিলাস এসো নাটক শিখির আয়োজনে সাড়া দেবে।
কোলকাতা ও নৈহাটিতে কপাল নাটকের মঞ্চায়ন শেষে শিল্পীদের অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন অনেক নাট্য সমালোচক।

 

 

নাটকটি বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছে, নোঈম ইসলাম, আমির হোসেন রায়হান, জেনিষা বিশ্বাস, নূরুল ইসলাম খান মামুন, মো; সোহেল, মো: মূসা, পারিসা বিশ্বাস, জাহিদ হাসান হৃদয়, মনিকা মন্ডল, মনোতষ বিশ্বাস এবং রাহুল রাজ।

 

কোলকাতা ও নৈহাটির উদ্দেশ্যে কাব্য বিলাসের ১১ সদস্যের দল গত ১৬ জুন রাতে বাংলাদেশ ত্যাগ করে এবং নাট্য উৎসব শেষ দলটি ২৪ জুন বাংলাদেশে সফল ভাবে ফিরে এসেছে।
প্রতিভার প্রতিক্ষায় নতুনের জয় গান এই শ্লোগানে ২০০৬ সালে রাজধানীর কাওলায় দলটি আত্মপ্রকাশ করে। এই এক যুগে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে ৭৮টি নাটকের ৪৮৮ টি মঞ্চায়ন করে দেশের অন্যতম শিশু-কিশোর নাট্য দল হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।

আইপিএলে ফিক্সিংয়ে যুক্ত বলিউড তারকা আরবাজ খান!

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) পর্দা নেমেছে মাত্র কদিন হয়েছে। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে বড় আসরটি শেষ হতে না হতেই একটা চমক জাগানিয়া খবর পাওয়া গেছে, এই আসরে ফিক্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলিউড তারকা আরবাজ খান। বিষয়টি তিনি স্বীকারও করেছেন।ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম জি নিউজের খবরে জানা গেছে, শনিবার পুলিশের জেরায় আইপিএলে ফিক্সিংয়ে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন আরবাজ। এখন শোনা যাচ্ছে এই তালিকায় বলিউডের আরো অনেকেই জড়িত রয়েছেন।

 

সম্প্রতি মুম্বই পুলিশ কয়েকজন বুকিকে গ্রেপ্তার করে। যাদের মধ্যে একজন সোনু জালানই পুলিশকে আরবাজের নাম জানিয়েছেন। সে তথ্যের ভিত্তিতে এই বলিউড তারকাকে পুলিশ জেরা করলে তিনি তা স্বীকার করেন।

 

এদিন সোনু ও আরবাজকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে মুস্বাই পুলিশ। সেখানেই সালমান খানের ভাই ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।আরবাজ শুধু আইপিএলেরই নয় বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচেও নাকি ফিক্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আর সেটা স্বীকারও করেছেন তিনি।

গত আইপিএলে ফিক্সিংয়ে আরবাজ বেশ কিছু টাকা হেরে গেছেন বলে জানা গেছে। সে অঙ্কটা বেশ বড়ই, দুই কোটি ৮০ হাজার টাকা।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর, আরবাজের সঙ্গে ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকা সোনুর সঙ্গে আন্তর্জাতিক ডন দাউদ ইব্রাহিমের নাকি যোগাযোগ রয়েছে। দেশটির পুলিশও তেমনটাই দাবি করছে। তারা নাকি ‘জুনিয়র ক্যালকাটা’ ছদ্মনামে নামে ফিক্সিং করে থাকে।

পরির দেশে নাটকের শুটিং শেষ করল কাব্য বিলাস

বাংলাদেশ টেলিভিশনে শুটিং শেষ হল পরির দেশে নাটকের। দেশের অন্যতম শিশু কিশোর নাট্য দল কাব্য বিলাস নাট্য গোষ্ঠীর শিশু শিল্পীদের অভিনয়ে পরির দেশে নাটকে উঠে এসেছে কল্পনার জগৎ। শহর জীবনের বাধা ধরা রুটিংএ বন্ধী সাজু, কল্পনায় রূপ কথার পরির দেশে চলে যায়। সেখান থেকে সে জানতে পারে পরির দেশের থেকেও আমাদের দেশ অনেক সুন্দর। দেশপ্রেম ও মূল্যবোধের বিভিন্ন রূপ যথাযথ ভাবে শিল্পীরা অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয় এ নাটকে। রাহুল রাজ এর রচনা ও নোঈম ইসলামের নির্দেশনায় পরির দেশে নাটকটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার হবে আগামী ৭ জুন।

নাটকটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছে, জেনিষা, অন্তর, হৃদয়, শরিফ, পারিষা, সজীব, রাসেল, প্লাবন সাহা, প্রিয়াঙ্কা, রিফাত, আশিক, সকাল, জাকিরসহ আরো অনেকে।

উল্লেখ্য ‘প্রতিভার প্রতিক্ষায় নতুনের জয়গান’ এই শ্লোগানে কাব্য বিলাস নাট্য গোষ্ঠী বিগত ১২ বছর যাবৎ নিয়মিত অপ সাংস্কৃতিক রোধে দেশ ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে সমাজ সচেতন ও ভিন্ন ধারা নাটক মঞ্চায়ন করে যাচ্ছে।

কাব্য বিলাস নাট্য গোষ্ঠীর এক যুগ পূর্তি ।। নাট্য চর্চায় কাব্য বিলাস পার করল এক যুগ

নানান আয়োজনে পালিত হল কাব্য বিলাস নাট্য গোষ্ঠীর এক যুগ পূর্তি অনুষ্ঠান। বুধবার সকালে জাতীয় শিল্পকলায় কাব্য বিলাসের এক যুগ পূতি অনুষ্ঠানের কেক কাটেন গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতি লিয়াকত আলী লাকী।

 

প্রতিভার প্রতিক্ষায় নতুনের জয় গান এই শ্লোগানে ২০০৬ সালে রাজধানীর কাওলায় দলটি আত্মপ্রকাশ করে। এই এক যুগে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে ৭৮টি নাটকের ৪৮৮ টি মঞ্চায়ন করে দেশের অন্যতম শিশু-কিশোর নাট্য দল হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।

 

দলের পক্ষে প্রতিষ্ঠাতা রাহুল রাজ জানান, শিশুবন্ধু লিয়াকত আলী লাকির অনুপ্রেরণায় কাব্য বিলাস নাট্য গোষ্ঠীর যাত্রা শুরু করে। এই বারো বছর পার করতে যারা আমাদের সহযোগিতা করেছেন তাদের অবদান আমরা কখনো ভুলি নি। কাব্য বিলাস অপ সাংস্কৃতিক রোধে দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমাজ সচেতন ও ভিন্ন ধারা নাটক মঞ্চায়ন করে যাচ্ছে এবং আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
কাব্য বিলাস নাট্য গোষ্ঠীর এক যুগ পূর্তিতে দেশের বিভিন্ন নাট্য সংগঠন থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

 

সাহিত্যের ছোট কাগজ নিশিকাঞ্চন এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত

সাহিত্যের ছোট কাগজ নিশিকাঞ্চন পত্রিকার গ্রীষ্ম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয় গত ০৫ মে। দু’বাংলার কবি, কথাসাহিত্যিক তাসলিমা শাহনুর ও কবি সমরেশ চৌধুরীর মুখোমুখি হওয়াকে কেন্দ্র করে নিশিকাঞ্চন পরিবার ঢাকার উত্তরার সোহানা এপার্টমেন্টে আয়োজন করে “নিশিকাঞ্চন সাহিত্য আড্ডা ও কবিতা পাঠ ২০১৮।

 

বাচিক শিল্পী নজরুল ইসলাম ও কবি পাপিয়া মেঘলার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে আসন অলঙ্কিত করেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় বাচিক শিল্পী- জনাব বদরুল আহসান খাঁন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওপার বাংলার (কলকাতা) জনপ্রিয় কবি ও কথাসাহিত্যিক সমরেশ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাচিক শিল্পী- জনাব শফিউল গণি, বাংলাদেশ লেখক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক- কবি মাহফুজার রহমান মন্ডল এবং কবি ও সংগঠক মুরাই রাশেদ।

 

পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন শেষে প্রধান অতিথির হাতে “নিশিকাঞ্চন সম্মাননা স্বরূপ” তুলে দেন উক্ত পত্রিকার নির্বাহি সম্পাদক- নুর মোহাম্মদ নয়ন ও সহ-সম্পাদক- তাসলিমা শাহনুর প্রমুখ। এ সময় অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন- কবি নাদিরা দিলরুবা, ফাতেমা সুলতানা সুমি, বদরুল আলম, সৈয়দ নজরুল আলম, ডলি রহমান, রফিকুল ইসলাম প্রিন্স, শাহনুর আলম, আরিফুর রহমান’সহ আরও অনেকে। এক মনোমুগ্ধকর মুহূর্তের মধ্যদিয়ে গানে গানে শেষ হয় নিশিকাঞ্চন সাহিত্য আড্ডা।

সোনাগাজীতে সেলিম আল দীনকে নিয়ে শিল্প ও সাংস্কৃতির এক বিশাল মেলা

নাট্য জগতের গণ্ডিকে ভেঙে যিনি আধুনিক ধারায় নিযে আসেন অভিনয় কলার বিশাল এক দিক যেমন, চিত্রকলা, নৃত্যকলা, সঙ্গীত, আখ্যান, উপাখ্যানের মতোই নানা সমন্বয় ও সংমিশ্রণ তিনি হলেন অমর নাট্যকার সেলিম আল দীন। উপমহাদেশের শেকড় সন্ধানী বরেণ্য নাট্যচার্য এমন ব্যক্তি ড. সেলিম আল দীনেকে স্মরণ করেই গত বুধবার ২৮ মার্চ ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ফেনী-সোনাগাজী রাস্তার এক পাশে ২৮দিন ব্যাপি শিল্প-সাংস্কৃতি মেলা ২০১৮ শুরু হয়েছে। বলা যায় যে, ইতিমধ্যে সোনাগাজীতে এমন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন অনেকটাই জমে উঠেছে।

 

ড. সেলিম আল দীনকে নিয়ে এমন শিল্প, সাংস্কৃতির মেলায় সকল শ্রেণীর জনগণের উপছে পড়া ভীড়ে প্রতিনিয়তই যেন অসংখ্য ক্রেতা এবং দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগমে দোকানদার অনেক খুশি। একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার এবং গবেষক, তাঁকে নিয়েই সাজানো এই মেলায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে হরেক রকম পণ্য। আসলেই যে তিন নাট্য জগতের পথিকৃত। তাঁর সৌজন্যে এমন হওয়াটাই স্বাভাবিক।বাংলা নাটকের নব্যধারার প্রবর্তক কিংবা বিশ্বনাট্য মঞ্চের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র বললে তা কখনোই ভুল হবার নয়। সারা বাংলার গর্ব, বাঙালির অনেক গুনি জনের ভালোবাসায় পুষ্পিত এই নাট্য জনকেই বলা হয় বাংলা নাটকের গৌড়জন। অতএব তাঁকে নিয়ে আরও বৃহৎ আয়োজন হওয়া দরকার এই বাংলায়।সোনাগাজীতে ড.সেলিম আল দীনকে নিয়ে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তাঁকে নিয়েই আলোচনা হয়, তিনিই তো আজকের বাংলা নাটক থিয়েটারে বহু যুগের অবহিত সংস্কৃতিটুকুকে তুলে এনে বিনোদনের সংমিশ্রণেই অতিরিক্ত মাত্রা যোগ করেছেন। তাকে অশিকার করার উপায় নেই। এই বাংলার মাটিতেই, এমন বাংলার জলহাওয়ায়, আমাদের প্রাণের ভাষাতেই জন্ম নেওয়া তাঁর নাটক গুলো, আসলেই বাংলা নাটকের সকল উপাদানকে ছুঁয়ে যাওয়া যুগোপযোগী আধুনিকতার এক নতুন মাত্রা। সুতরাং বলাই হয়, রবীন্দ্রোত্তরকালের বাংলা নাটকের তিনিই মহান এবং প্রধান পুরুষ।

 

তাঁর সৃজনশীলতা কিংবা সৃষ্টিশীল অনেক নাটকের কিরণচ্ছটা ভারতবর্ষ ছাড়িয়ে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। আর আমাদের বাংলাদেশের গর্ব, সংস্কৃতির প্রান পুরুষ, প্রয়াত নাট্যকার- – সেলিম আল দীনের স্মৃতি বিজড়িত সোনাগাজীতেই ১ম বার আয়োজন হয়েছে তাঁকে নিয়েই মেলা। আয়োজক কর্তৃপক্ষের অভিমতের আলোকে বলতে হয় আগামীতেও এমন ভাবে তাঁকে স্বরণ করেই উৎযাপন হবে। এই মিলন মেলায় ড. সেলিম আল দীনের অসংখ্য বই রয়েছে।বিশ্বসাহিত্যের ধ্রুপদী তিনি বাংলার সংস্কৃতিকে এক মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদানে সার্থক হয়ে আছেন জনতার মাঝে। তাই তো এই মেলায় অজস্র জনতা তাঁর বই সংগ্রহ করছেন। তিনি তো বাংলা নাটকের শিকড় সন্ধানী নাট্যকার। তিনি শুধু নাটক রচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, নাট্য বিষয়ক বহু গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনা পূর্বক বাঙলা নাটকের সহস্র বৎসরের ইতিহাস এবং তাঁর একটি সুস্পষ্ট আঙ্গিক নির্মাণেও সমর্থ হয়েছিলেন, রচনা করেছেন মধ্যযুগের বাঙলা নাটক। বাঙলা ভাষার একমাত্র নাট্য বিষয়ক কোষ গ্রন্থ, বাঙলা নাট্য কোষ সংগ্রহ, সংকলন, প্রণয়ন ও সম্পাদন করেই বাঙলা নাট্যের কোষগ্রন্থের অভাব পূরণে সক্ষম হয়েছিলেন। নাট্য বিষয়ক গবেষণা পত্রিকা থিয়েটার স্টাডিজ-এর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই গুনীজনের নিরন্তর সৃষ্টিশীলতায় মুখর হয়ে সোনাগাজীর মানুষ সহ দূর দূরান্তের মানুষেরা উপস্থিত হচ্ছেন। বলা যায় এমন মেলার আয়োজকরা অবশ্যই সংস্কৃতিমনা।

 

মেলায় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন শিল্পীদের আগমনের কথা শুনে দুপুরের পর থেকেই স্কুল, কলেজ এবং পাড়া মহল্লা থেকে উৎসুক দর্শক শ্রোতারা মেলায় আসতে শুরু করে। বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষেরও আগমন ঘটে মেলার মাঠে। এখানে চলে বিরতিহীন ভাবে অনেক শিল্পী অভিনেতাদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যেমন, কৌতুক,গান, নৃত্য ও মঞ্চ নাটক সহ সেলিম আল দিনকে আলোচনা। এমন পরিবেশে হাজারো দর্শক শ্রোতার মন মাতাতে দেশ বরেন্য শিল্পিরা নাকি মজাও পাচ্ছেন। সুতরাং বলাই যায় সোনাগাজীতে উৎসবের আমেজ। আছে নাগর দোলা, চলছে সার্কাস, মোটর সাইকেল সহ কার সার্কাস। প্রথমবার এমন এই মেলা আয়োজনে আয়োজিত কমিটিরা অনেক আশাবাদি আগামীতে তাঁরা আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করবেন।

”সুপ্ত আগুন” সিনেমার গান গাইলেন ইমরান

”সুপ্ত আগুন” এটি একটি সিনেমার নাম। সিনেমা জগতের কর্মকান্ডই সংস্কৃতি বিকাশের সর্বশ্রেষ্ঠ এক বিনোদনের প্লাটফর্ম অথবা সমাজ পরিবর্তনের এটি এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বলা যেতে পারে। এ মাধ্যমে কাজ করে খুব দ্রুত ভাবেই গন মানুুষকে চেতনাবান করা সম্ভব, অন্য কোনও মধ্যমে তা অতটা সম্ভব নয়। সিনেমা করতে কি কি লাগে এই প্রশ্নের উত্তরে পরিচালক বলেন, চিত্রনাট্য, পরিচালক, পর্যাপ্ত পুঁজি, কলা কুশলী, লোকেশন, ক্যামেরা, সম্পাদনা এমন বিষয়গুলো তো লাগবেই। আর কি লাগে? তিনি বলেন, ইচ্ছে শক্তি, চূড়া সমান অনেক ইচ্ছে এ ইচ্ছেটাই যেন, দু’চোখে পদ্মদিঘির ঘাট এবং তাকে নির্মাণ কাজে প্রতিফলন ঘটানোই হলো আর্ট। ইচ্ছে যেমন গঙ্গা ফড়িং, ইচ্ছে একটি গল্প, ইচ্ছের মাঝেই থাকে যেন অনেকাংশে কবিতা, ইচ্ছের নানান গান, ইচ্ছের মাঝে হরেক শব্দ, আবার ইচ্ছেটাই হঠাৎ নৈঃশব্দে রূপ নেয়। এমন ভাবে দৃশ্য আর দৃশ্যের ক্লাইমেকসে হয় ইচ্ছের একটি সিনেমা। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে খুব স্বাভাবিকভাবেই যেন অভিনয়ের চরিত্রটি করতে পারা। এমন এ ইচ্ছেটাও করতে হয় বৈকি। তাইলেই চূড়ান্ত ইচ্ছা শক্তির দ্বারা নির্মিত হয় ভালো একটি ছবি অথবা চরম বিনোদন নির্ভর সিনেমা। তাই নির্মাতা বাবু সিদ্দিকী বলেছেন, ‘শিল্প সুন্দর- মন ও জীবনের জন্যেই যুগে যুগে সৃষ্টি হয়ে আসছে অনেক সিনেমা’। তাই এই ‘সুপ্ত আগুন’ সিনেমাতে এমন কিছুর আবহ রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছি।

আসছে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ‘সুপ্ত আগুন’ ফিল্মের নানান কর্মকান্ড নিয়েই শুটিংয়ে পদযাত্রা। এ শুটিং নিয়ে পরিচালক- ”বাবু সিদ্দিকী’,’ নজরুল ইসলাম তোফাকে বলেন, ঢাকার একটি বিলাস বহূল সুইমিং পুলে জনপ্রিয় ইমরানের গাওয়া গান দিয়েই শুটিং কাজ শুরু হবে। এমন এই বিনোদন পূর্ণ সিনেমার পরিচালক আরও জানান, দীর্ঘ দিনের প্রস্তুতি ছিল ভালো কাজ করার জন্য। কিন্তু সেটি বাস্তবেই রূপ নিতে যাচ্ছে। ‘তোমায় দেখে ইচ্ছে করে’ এই গানের শিরোনামেই শুটিং স্পট তৈরি হচ্ছে এবং এ গানের নারী কন্ঠ দিয়েছেন শিল্পী ”নদী”। ”জে কে মজলিশ” ছিলেন এমন এই গানের সুরকার। উদীয়মান তরুন নির্মাতা বাবু সিদ্দিকীর সিনেমায় অভিনয় করবেন সুদক্ষ নায়িকা ‘সানাই’। গীতিকার হিসেবে আহমেদ ইউসুফ সাবের বলেছেন “নদী” অত্যন্ত ভালো গান গেয়েছে। আবার গায়িকা হিসেবেও ‘নদী’ বলেছেন, অনেক ভালো একটি গান, গাইতে পেরে নিজেকেও যেন, ভাগ্যবান মনে হয়। অত্যন্ত আনন্দের সহিত এ সিনেমার নায়িকা সানাই বলেন, চমৎকার অভিনয় করা যাবে সম্পূর্ণ সিনেমাসহ এমন এ গানে। ভালো কিছু উপহার দিতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস।

আবার আহমেদ ইউসুফ সাবেরও বলেছেন, সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে সিনেমা একটি অডিও-ভিজুয়াল আর্ট। সেই আর্টে, গান-সংগীত-গল্প-কবিতা-নাচ-চিত্রকলা-ভাস্কর্য যাই বলি না কেন, আর্টেই সিনেমা মহাজন।সেই সিনেমায়, নায়িকা “সানাই” অনেক যুক্তি যুক্ত বলে মনে করি। ঠিক প্রচলিত জীবন ব্যবস্থার মতো আরও একটি জীবন যাপন তৈরিতে ”সুপ্ত আগুন” সিনেমায় পরিলিক্ষত হবে।

সুপ্ত আগুন সিনেমাটি আধুনিক প্যার্টানে দৃষ্টি নন্দন করেই তুলে ধরার প্রয়াস রয়েছে। এ বিনোদন নির্ভর সিনেমাটি শুটিং লোকেশোন ঢাকার বিভিন্ন মনোরম পরিবেশেই হওয়ার কথা রয়েছে। এ সিনেমার তরুণ পরিচালক বাবু সিদ্দিকী বলেন, সিনেমাটির কাহিনী, সংলাপ, চিত্রনাট্য এবং প্রত্যেকটি গানের গীতিকার ”আহমেদ ইউসুফ সাবের” অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। জীবনের নানা আনন্দ-বেদনার মধ্যে গল্প থাকে মানুষের মনে মাঝে, ঠিক তেমন মিশ্রণের এক পরিতৃৃৃপ্তির কাহিনী ”সুপ্ত আগুন”। দর্শকদের সামনে গানে এবং সিনেমার কাহিনীতে লক্ষ কোটি মানুষের সামনে চরম বিনোদন দিতে পারবে বলে মনে করেন পরিচালক বাবু সিদ্দিকী। এই ‘সুপ্ত আগুন’ সিনেমা সত্যিই আধুনিকায়ন করে গানের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা পোষণ করেন দর্শকরা সিনেমাটি দেখার জন্য সিনেমা হলগুলোতে যাবেন।

নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

গণহত্যা দিবসে কাব্য বিলাস মঞ্চায়ন করল ‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা’

২৫ শে মার্চ কালো রাতে গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে দেশের অন্যতম শিশু-কিশোর নাট্য গোষ্ঠী কাব্য বিলাস মঞ্চায়ন করে দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা। রবিবার রাজধানীর উত্তরায় গিতাঞ্জলি আয়োজিত শহীদদের স্মরণে আলোর পথে অনুষ্ঠানে মঞ্চায়ন হয় নাটকটি।

 

নূর ইসলাম খান মামুন নির্দেশনা ও নোঈম ইসলামের অলঙ্করনে নাটকে উঠে আসে ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ কালো পুরো চিত্র। নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে নাকটি মঞ্চায়ন করে। নির্দেশক নূর ইসলাম খান মামুন জানান, স্বাধীনতার কবিতা নাট্যরূপ দিয়ে বরাবরের মত এবারও কাব্য বিলাস দর্শকদের ভিন্নতা দিতে সক্ষম হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। অলঙ্করক নোঈম ইসলাম জানান, দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা নাটকটিতে আমি চেষ্টা করেছি ভয়াল কালো রাতের দৃশ্য তুলে ধরতে। নাটকটি দেখে নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা ইতিহাস জানতে পারবে।

 

নাটকটিতে অভিনয় করেছে, জেনিষা, পারিষা, অর্ন্তর, সজীব, রাসেল, মামুন, নোঈম, রাবিকসহ আরো অনেকে।

 

উল্লেখ্য ‘প্রতিভার প্রতিক্ষায় নতুনের জয়গান’ এই শ্লোগানে কাব্য বিলাস নাট্য গোষ্ঠী বিগত ১১ বছর যাবৎ নিয়মিত অপ সাংস্কৃতিক রোধে দেশ ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে সমাজ সচেতন ও ভিন্ন ধারা নাটক মঞ্চায়ন করে যাচ্ছে।

‘পরির দেশে’ নাটক নিয়ে ব্যস্ত মন বিলাস

সাজুর দিন কেটে যায়, শহরের চার-দেয়ালের মাঝে। স্কুল, কোচিং এবং বাড়ির স্যারের কাছে পড়তে পড়তে তার শৈশবের দূরন্তপনা হারাতে যেতে বসেছে। গ্রাম থেকে আসা তার চাচাতো ভাই, তাকে বোঝায় পড়াশোনার সাথে খেলাধুলা, ও নিজের দেশকে না জানলে জ্ঞান অর্জন সম্পূর্ণ হয় না। তাকে আকাশের তারাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। পরিদের গল্প শোনায়। সাজু কল্পনায় চলে যায় পরিদের দেশে। কীভাবে নিজেদের দেশকে সুন্দর করা যায়, কীভাবে নিজের লুক্কায়িত প্রতিভা প্রকাশ করে সবার কাছে প্রিয় হয়ে উঠা যায়, এমন নানান কর্মকান্ড উঠে আসছে পরির দেশে নাটকে। রাহুল রাজ এর রচনা ও নোঈম ইসলামের নির্দেশনায় মন বিলাস নাট্য দল রাজধানীর কাওলার মহড়া কক্ষে মন বিলাস নাট্য দল ব্যস্ত সময় পার করছে। অচিরেই বাংলাদেশ টেলিভিশনে চিত্রয়ন হবে নাটকটি।

 

নাটকের নির্দেশক, নোঈম জানান, নাট্যকার রাহুল রাজ এর শিশু তোষ নাটক পরির দেশে নির্দেশনার মধ্য দিয়ে টেলিভিশন নাটকে আমার নির্দেশক হিসেবে অভিষেক হচ্ছে। শিশু অভিনেতাদের নিয়ে এ নাটকটি আমার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শিশুদের কল্পনার জগৎ বাস্তবে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়েছে এ নাটকের মধ্য দিয়ে। আশা রাখছি, সবার অভিনয় গুণে নাটকটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করে দর্শকদের বিনোদন দিতে সক্ষম হবে।

 

পরির দেশে নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছে, পারিষা, রিফাত, সেতু, অন্তর, আশিক, রাসেল, প্লাবন সাহা, জেনিষাসহ আরো অনেকে।

 

উল্লেখ্য ‘সুপ্ত প্রতিভা করি মুক্ত’ এই শ্লোগানে মন বিলাস নাট্য গোষ্ঠী শিশুদের নিয়ে নিয়মিত ভিন্ন ধারার নাটক চর্চা করে যাচ্ছে। মূলত দেশের অন্যতম নাট্য দল কাব্য বিলাস নাট্য গোষ্ঠীর, ছোটদের দল হিসাবে গত ২ বছর যাবৎ নিয়মিত অপ সাংস্কৃতিক রোধে নাটক প্রদর্শন করে যাচ্ছে।

২২ ফেব্রুয়ারি তালাক কার্যকর হচ্ছে শাকিব-অপুর

শেষ পর্যন্ত ভেঙেই যাচ্ছে শাকিব-অপুর দাম্পত্য জীবন। চলতি ফেব্রুয়ারির ২২ তারিখে চিত্রনায়ক শাকিব খান ও চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের ডিভোর্স কার্যকর হতে যাচ্ছে।

শাকিব গত বছরের ২২ নভেম্বর অপু তালাক নোটিশ দিয়েছিলেন। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি অপুকে পাঠানো শাকিবের তালাক নোটিশের ৯০ দিন পূরণ হচ্ছে। আইন অনুযায়ী সেটি কার্যকর হতে সময় লাগে ৯০ দিন। ফলে ২২ তারিখের পর আব্রাম খান জয়ের বাবা-মা আলাদা হয়ে যাচ্ছেন।

২০০৮ সালে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন ঢাকাই ছবির আলোচিত জুটি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। দীর্ঘ ৮ বছর এ খবর ছিল গোপন। সেই খবর প্রকাশ হতে না হতেই ডিভোর্সের পথে এই দম্পতি।

শাকিব খান বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াতে সুপারহিরো ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। সেখানে তার সাথে রয়েছে নবাগতা নায়িকা বুবলী। ছবিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করছেন শবনম বুবলী।

জানা গেছে, ১৭ ফেব্রুয়ারিতে শাকিব খান দেশে ফিরবেন। এরপর ভারত ও স্কটল্যান্ডে ছবির শুটিং এ যাবেন তিনি। এদিকে শাকিবের আশা বাদ দিয়ে অপু বিশ্বাস চলচ্চিত্রে মনোযোগ দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি দু’টি নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

শাকিব খান জানান, তিনি আর অপু বিশ্বাসের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে চান না। অপু বিশ্বাসের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে কোনো আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেন তিনি। বলেন, একটা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য উভয়পক্ষের মধ্যে শ্রদ্ধা থাকতে হবে। আমি মনে করি, তা এখন আর অবশিষ্ট নেই।

ছেলে আব্রামের ব্যাপারে শাকিব খান বলেন, আব্রামের ভালোর জন্য আমার সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করব। ছেলের খরচ বাবদ এখন প্রতি মাসে অপুকে এক লাখ দিচ্ছি। এ টাকা নগদে অথবা চেকে দেয়া হচ্ছে।

তালাক কার্যকর হওয়ার পর অপু বিশ্বাসকে বিয়ের দেনমোহর বাবদ সাত লাখ টাকা পরিশোধ করা হবে বলে জানান শাকিব খান।

এদিকে, অপু বিশ্বাসকে ডিভোর্স নোটিশ পাঠানোর খবর নাড়া দিয়ে গেছে সারাদেশের সিনেমাপ্রেমী ও নানা অঙ্গনের মানুষদের। সমালোচিত হচ্ছেন দুই তারকাই। তবে ধর্ম, জাত ত্যাগ করে শাকিবকে বিয়ে করা অপুর এ ভাগ্য মেনে নিতে পারছেন না তার ভক্তরা। এ দুঃসময়ে অপুকে সাহস ও পরামর্শ দিচ্ছেন তার সহকর্মীরা। তাকে পরামর্শ দিয়ে লিখেছেন প্রখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিনসহ আরো অনেকেই।

‘একজন জাদুকর’ এর চিত্রয়ন হল বিটিভিতে

বলুর কিছুতেই পড়াশোনা করতে মন চায় না। প্রতিবার পরিক্ষায় খারাপ করে সে। একপর্যায় বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় বলু। পথে অনেকের সাথেই তার দেখা হয়। পরিশেষে একজন জাদুকরের সাথে আলাপ হয় তার। সেই জাদুকর জাদুর দিয়ে বলুর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। নিজের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়ে নতুন করে ফিরে আসে সে। এবার পড়াশোনা তার কাছে হয়ে যায় সহজ বিষয়। পরিক্ষাতে সবার থেকে ভাল রেজাল্ট করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। বন্ধুরা জানতে চায় এই পরিবর্তনের রহস্য। কিন্তু বলু আবিষ্কার করে জাদুকর তার মনের মধ্যেই রয়েছে। সে বুঝতে পারে প্রতিটি শিশুর মনের মধ্যেই রয়েছে একজন জাদুকর। নিজের আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে পারলে প্রতিটি শিশুই পৌচ্ছে যেতে পারে সাফল্যের চূড়ায়। শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর এমন গল্পই উঠে এসেছে দেশের অন্যতম শিশু-কিশোর নাট্য দল কাব্য বিলাস এর এই নাটকে। রাহুল রাজ এর রচনা ও নির্দেশনায় একজন জাদুকর নাটকটি সোমবার বাংলাদেশ টেলিভিশনে চিত্রায়ন হয়।

 

এ নাটকের অভিনেতা সাবিব জানান, প্রতিবারের মত ভিন্নধারার গল্প নিয়ে কাব্য বিলাস নাট্য গোষ্ঠীর ৬৫ টি তম প্রযোজনা নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছে। একজন জাদুকর নাটকের অভিনয় শিল্পীরা বিগত দুইমাস যাবৎ রাজধানীর কাওলার নিজস্ব মহড়া কক্ষে নিয়মিত কঠর অনুশীলন করে ভিন্ন ধারান এই নাটকটির চিত্রায়ণ করে।

 

নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে সাবিব ছাড়াও অভিনয় করেছে, মামুন, রাকিব, নোঈম, সজীব, প্রিন্স, নিশি, সুমাইয়া, অন্তর, রিফাত, পলাশ, পারিষা, জেনিষা, আনান বাউল সহ আরো অনেকে।

 

উল্লেখ্য ‘প্রতিভার প্রতিক্ষায় নতুনের জয়গান’ এই শ্লোগানে কাব্য বিলাস নাট্য গোষ্ঠী বিগত ১১ বছর যাবৎ নিয়মিত অপ সাংস্কৃতিক রোধে দেশ ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে সমাজ সচেতন ও ভিন্ন ধারা নাটক মঞ্চায়ন করে যাচ্ছে।

শাকিব-অপুকে পারিবারিক আদালতে তলব

ঢাকায় চলচ্চিত্রের সুপারস্টার দাবিদার শাকিব খান ও তার স্ত্রী চিত্র নায়িকা অপু বিশ্বাসকে তলব করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিনএসিসি) পারিবারিক আদালত। অপুকে দেওয়া শাকিবের তালাক নোটিস নিষ্পত্তির জন্য তাদের ডাকা হয়েছে।

ডিনএসিসি’র নোটিস অনুযায়ী, আগামী ১৫ জানুয়ারি সোমবার সকাল ১০টায় অঞ্চল-৩ এরর মহাখালী কার্যালয়ে তাদের দুজনকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের গোপনে বিয়ের করেন। আব্রাম খান জয় তাদের একমাত্র ছেলে সন্তান। গত বছর ২২ ডিসেম্বর অপুকে বিচ্ছেদের নোটিস পাঠান শাকিব।

বিষয়টি জানার জন্য অপু বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কোনো কথাও বলতে চাচ্ছি না। আপনার কিছু জানার থাকলে শাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। নিয়ম অনুযায়ী ডিনএসিসি শাকিব-অপুর ডিভোর্সের ইস্যুটি মীমাংসা করার জন্য আরও দু’বার চিঠি দেবেন। এতেও যদি তারা নিজেদের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে পুনরায় সংসার করতে চান তা পারবেন।নয়তো বিচ্ছেদ কার্যকর হয়ে যাবে।