লাকসাম প্রতিনিধি, কুমিল্লা
কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের জলাঅঞ্চল খ্যাত মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে মিজি ব্রিকসে পরিবেশ অধিদপ্তর, কুমিল্লা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
অভিযান পরিচালনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রসিকিউসন অনুযায়ী, নিষিদ্ধ এলাকায় মিজি ব্রিকস ইটভাটাটি স্থাপন করা হয়েছে। প্রসিকিউসন দাখিল করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, কুমিল্লার ইন্সপেক্টর জোবায়ের হোসেন।ওই ইঁটভাটায় ইট প্রস্তত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর ধারা ৮(৩) লঙ্ঘনের অপরাধে ১৫(২) ধারা অনুযায়ী ২,০০,০০০/= (দুই লক্ষ) টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। ইটভাটার কিলন ভেঙে দেয়া হয়েছে। অর্থদন্ড তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়েছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সহযোগিতা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, কুমিল্লার সহকারী পরিচালক ও তার টিম, মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজালা পারভিন রুহি ও থানার পুলিশ সদস্যবৃন্দ।
জানা যায়, স্থাণীয় এলাকাবাসীর বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তর প্রধান কার্যালয়ের একাধিক আদেশ নামায় দেখা যায়, ওই ব্রিকফিল্ডটি অবৈধ এবং সরকারি কোন নিয়মনীতি না মানার কারণে এ মোবাইলকোর্টটি পরিচালনা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান এ অভিযানটি স্থানীয় ও জেলা প্রশাসন আমাদের মত সাধারণ জনগণের চোখে কালোচশমা পরিয়ে চলে গেছে। আমরা বিভিন্ন প্রত্রিকাতে পড়েছি, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাগন অভিযানের সময় উপস্থিত থেকে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করে এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা চুল্লীতে পানি দিয়ে আগুন নির্বাপন করে। চুল্লী ভেঙে দেয় এবং কাঁচা ইট ধ্বংস করা হয়। অথচ রহস্যজনক কারণে এখানে কিছুই হয়নি।
এ অভিযানে ব্রিকফিল্ডটির ২ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড করা এবং সাইনবোর্ড ঝুলানো হলেও কিছুক্ষণপর আবার চালু হওয়ায় এলাকার জনমনে দারুন ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া আমরা প্রশাসনের কাছেএকাধিক গনসাক্ষর সহ দরখাস্ত করে কি প্রতিকার পেলাম। প্রশাসন যাওয়ার পর পরেই ভাটার কর্যক্রম চালু। যাদের টাকা আছে তাদের সব আছে। হয়তো কৃষি জমি আর বাঁচাতে পারবোনা।
মাটি খেকোরা তা নিয়ে যাবে দিন দিন জলা অঞ্চলের কৃষি জমিগুলো খালে পরিণত হবে। সামান্য বৃষ্টিতে ফসলের জমিন ডুবে যাবে সরকার আমাদেরকে ত্রাণ দিবে। এ হবে আমাদের ভাগ্য।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রশাসন যাওযার পিছনেই ভাটার কার্যকম চালু করেছে। অবৈধ ভাটা কর্তৃপক্ষ।
প্রশাসন বেকু দিয়ে ফিল্ডের চুল্লী না ভেঙে আংশিক গাটওয়াল/কিলন ভেঙে মালিক পক্ষকে অবৈধভাবে পুনরায় চালু করার জন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
এলাকা সচেতন মানুষেরা ক্ষোভ করে বলেন আমাদের ধুলিমাখা জীবন আমাদের বাচ্চাদের ভবিষ্য কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালি থেকে রেহাই পাবেনা। কৃষি জমিও আর বাঁচাতে পারবোনা। আমরা না পারবো তাদের সাথে লড়তে আমাদের নেই অর্থের জোর। তারা টাকা দিয়ে সব মেনেজ করতে পারবে। আমরা গরীব, কৃষি কাজ করে খাই। আমাদের লোকবল ও অর্থ বল নেই।
বিশেষ করে ইটঁভাটার আশেপাশে রয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মক্তব, মসজিদ ও যোগাযোগের একমাত্র পাকাসড়ক।
ইটঁভাটার কালোধোয়ায় এলাকার পরিবেশ বিপর্যস্ত। এ ব্যাপারে জেলা-উপজেলা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন মুখ না খুললেও ওই ইঁভাটার মালিক জিয়াউদ্দিন জিয়া মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমরা সরকারি সকল নিয়মনীতি পালন করে এ ইঁটভাটা চালাচ্ছি।


