স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাসুম বেপারীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মারধরের পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে সাংগঠনিকভাবে পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। রোববার (৯ মার্চ) বেলা ১২টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন- চরমোনাই শালুকা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ জামাল শিকদার (৪৬)। অভিযুক্ত মাসুম বেপারীর বিরুদ্ধে আগামী ২/১ দিনের মধ্যেই সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বরিশাল চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাসুম বেপারী ‘বুখাইনগর তাসমি ইলেকট্রনিকস এন্টারপ্রাইজ’ (বুখাইনগর বাজার) মার্সেল শো রুম থেকে গত ১৫-০৮-২০২০ তারিখে একটি ফ্রিজ ক্রয় করেন। ২০২৫ সালে ফ্রিজটি ত্রুটি দেখা দিলে ফ্রিজটি মার্সেল শো রুমের সামনে রেখে যায়। ফ্রিজটি আমার ভাই কোম্পানির সার্ভিস সেন্টারে পাঠিয়ে দেন। ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে ৬ হাজার টাকা এবং যাতায়াত খরচ ১৫শ টাকা খরচ হয়। মাসুম বেপারী ৩ হাজার টাকা আমার ভাইকে দিলে তিনি ফ্রিজটি তার বাসায় পাঠিয়ে দেয়। এর ৩/৪ দিন পর আবার ফ্রিজটি রেখে যায়।
ওয়ারেন্টির দায় ডিস্ট্রিবিউটরের নয়, এটা কোম্পানির বিষয়, তা বলার পরও আমার ভাইয়ের কাছে নতুন ফ্রিজ দাবি করে আসছে মাসুম বেপারী। ঘটনার দিন (২৮-০২-২০২৬) ইফতারি ও নামাজের পর আমার ভাই ২য় তলা থেকে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে নীচে নেমে আসার সাথে সাথে মাসুম বেপারীর দুই ছেলে আরাফাত ও সরাফাত সহ ২০/২৫জন লোক নিয়ে আমার ভাইয়ের উপর ঝাপিয়ে পরে এবং তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। ঘটনাস্থলে ভাই বেহুঁশ হয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় হামলাকারীরা আমার ভাইয়ের শো রুম থেকে নতুন একটি ফ্রিজ এবং দোকানে থাকা ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় আমার ভাই মোঃ শাহ আলম সিকদার বাদি হয়ে গত চলিত বছরের ৪ মার্চ বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা (নং-১২) দায়ের করি। পুলিশ আসামিদের খুঁজতে থাকে। চলিত মাসের ৬ তারিখ রাত ১টার দিকে আমার ভাই ও ভাইয়ের ছেলে পুলিশের সাথে ওদের বাড়িতে যায়। পুলিশ আসামিদের না পেয়ে চলে যায়। আমার ভাই কামাল সিকদার এবং আমার ছেলে নকিব সিকদার ও আয়নাল তিনজন বাসায় ফেরার পথে তাদের উপর হামলা করে। প্রতিপক্ষ হামলা চালিয়ে কামাল সিকদারকে রামদা দিয়ে মাথায় মারাত্মক জখম করে। স্থানীয়রা আহত কামালকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা প্রেরণ করেন। আমার ছেলে নকিব সিকদারকে জোরপূর্বক অপহরণ করে মাসুম বেপারির ও তার ছেলেরা তাদের বাড়ি নিয়ে বেদম মারধর করে। স্থানীয়রা আহত নকিবকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মাসুম বেপারীর মুঠোফোন (০১৭৮৫৮৯২৮৭৭) নম্বর বন্ধ রেখেছে।
বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিন বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়ে দিয়েছেন- দলের মধ্য চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী সহ অপরাধমূলক কার্যক্রমে যারাই জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। আর অভিযুক্ত মাসুম বেপারীর বিরুদ্ধে আগামী ২/১ দিনের মধ্যেই সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়া হবে।


