বরিশাল প্রতিনিধি:
বরিশাল সদরের চরকাউয়ায় স্বনির্ভর খালের খনন কাজ পরিদর্শন করেন, বরিশাল ৫ আসনের সংসদ সদস্য, মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি,বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার সহ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ । এ সময় খনন কাজের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নিয়ে বরিশাল বিভাগে,খাল খনন কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও বরিশাল বিভাগের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। সোমবার বেলা ১১টায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের এই উপদেষ্টা, সংসদ সদস্যকে সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসক, বরিশাল, পুলিশ কমিশনার সহ, পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের জানান, “খাল বাংলাদেশের প্রাণ -এই খাল খননের মাধ্যমে, বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহার, যেমন পূর্ণ হবে, তেমনি খালপাড়ে বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে, বিএনপির অঙ্গীকার পূর্ণ হবে। এই মুহূর্তে, উন্নয়নের মাধ্যমে, জনগণের, আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নই হবে দলের প্রধান কাজ।
বিএনপির চেয়ারপার্সনের এই উপদেষ্টা জানান, আমরা আশা করি অচিরেই বরিশালে এই খাল খনন কর্মসূচি পরিদর্শনে আসবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের মাটিতে, কার্বনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। এছাড়া, বরিশালের সুনীল অর্থনীতি, বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার, পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও তার রয়েছে বিশেষ চিন্তা ভাবনা, বিশেষ করে বর্জ্য থেকে সার উৎপাদন করে জমির উর্বরা শক্তি বাড়িয়ে তোলার বিষয়টি পরিকল্পনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে এই খালটি মডেল খাল হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে -এটি খননের মাধ্যমে -এই অঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য সেক্টরে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে”
সংসদ সদস্য মুজিবর রহমান বলেন, “ফারাক্কার প্রভাবে আমাদের খাল গুলো পানি পাচ্ছে না -এর আগে খাল খনন হলেও খালে প্রবাহ নেই, সেগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে -এবার খাল খননের মাধ্যমে, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি হবে।
বিএডিসি নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ওয়াহিদ মুরাদ জানান, ছয় কিলোমিটার এই খালের খনন কাজ, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শেষ হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে, সদর উপজেলার চরকাউয়া, ও কর্ণ কাটি ইউনিয়নের প্রায় ৬ হাজার একর কৃষিজমি জলা বদ্ধতা থেকে মুক্তি পেয়ে,সেচ সুবিধার আওতায় আসবে।
তিনি জানান, গত তিন বছরে, বরিশাল, ঝালকাঠী, ভোলা ও পিরোজপুরে সাড়ে ৩৫০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। শুধুমাত্র বরিশাল জেলায়, ৯০ কিলোমিটার লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। এসব খনন কাজ শেষ হলে খাদ্য উৎপাদন অন্তত এক তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পাবে।
পুলিশ কমিশনার, মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, খাল খননের মাধ্যমে, কৃষি উৎপাদন, যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে, পর্যটন সম্ভাবনা। জেলা প্রশাসক, মো:খায়রুল আলম সুমন জানান, এই খাল খনন মডেল খাল হিসাবে ইতোমধ্যে বিবেচিত হয়েছে। এই খাল খননে কোনোরকম অবৈধ দখল, সহ্য করা হবে না। অচিরেই সব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে। অন্যান্যেদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো:মনিরুজ্জামান ফারুক, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিন, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম আব্বাস, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ। ইতঃপূর্বে খনন কাজ পরিদর্শন করেছেন আইএমইডির পরিচালক আবু সাঈদ মো. ফজলে এলাহী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মাকসুদা ইয়াসমিন, বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. খাইরুল আলম সুমন সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
উল্লেখ্য, প্রথমে ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় ” ইউপি চেয়ারম্যানের আক্রশে ২ হাজার একর ফসলি জমি অনাবাদি, কৃষক পরিবারে হাহাকার” একই বছরের ২৪ আগস্ট ” একতটি কালভার্টের কারণে ৫ একর ফসলি জমি অনাবাদি” শিরোনামে পৃথক দুইটি সংবাদ প্রকাশের পর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া সহ অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ হয়। ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর খালের খনন কাজ ও কালভার্ট নির্মাণের ইদ্ভোধন করেন বর্তমান বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. খাইরুল আলম সুমন।


