Thursday, April 2, 2026
Google search engine
Homeজাতীয়লাকসামের মাঠে মাঠে হাসছে নতুন ধান, বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকরা

লাকসামের মাঠে মাঠে হাসছে নতুন ধান, বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকরা

কাউছার হোসেন, লাকসাম (কুমিল্লা)

​কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে এখন সবুজের সমারোহ। ঋতুর পরিবর্তনে ধান গাছগুলোতে ধানের ছড়া বা থোড় বের হতে শুরু করেছে। বাতাসের দোলায় দুলছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। লাকসামের কান্দিরপাড়, গোবিন্দপুর, মুদাফফরগঞ্জ ও নরপাটিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে এখন গোছলের (বোরো/আমন) ধানের চমৎকার আবাদ চোখে পড়ার মতো।

​মাঠে ধানের এই সতেজ রূপ দেখে কৃষকদের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে তৃপ্তির হাসি। স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর আবহাওয়ার পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় ধান গাছের বৃদ্ধি ও গঠন বেশ সন্তোষজনক।

মাঠে কর্মরত কয়েকজন কৃষক অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে জানান, চলতি মৌসুমে ধানের যে ফলন দেখা যাচ্ছে, তাতে তারা ভীষণ খুশি। জনৈক কৃষক বলেন:”সবই উপরওয়ালার ইচ্ছা। এ বছর এখন পর্যন্ত আমাদের এই এলাকায় বড় কোনো তুফান বা শিলাবৃষ্টি না হওয়ায় ধানের প্রত্যেকটি ফুলের ছড়া বেশ পুষ্ট ও ভরপুর দেখা যাচ্ছে। যদি শেষ পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে, তবে আমরা আশাবাদী প্রতি গন্ডায় (স্থানীয় পরিমাপ) ৫ থেকে ৬ মণ করে ধান ঘরে তুলতে পারব।”


উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে সারি সারি ধান গাছগুলো এখন নতুন সাজে সজ্জিত। বিশেষ করে কান্দিরপাড় ও মুদাফফরগঞ্জ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ধানের গাছগুলোর সতেজতা আর নতুন ছড়া বের হওয়ার দৃশ্য যে কারোরই নজর কেড়ে নেয়। কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রোগবালাইয়ের উপদ্রব কম থাকায় এবং সঠিক সময়ে সেচ ও সারের জোগান নিশ্চিত হওয়ায় এবার ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

​তবে কৃষকদের মনে এখন একটাই প্রার্থনা—বাকি কটা দিন যেন আবহাওয়া এমন শান্ত থাকে। শিলাবৃষ্টি বা হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় যেন তাদের এই কষ্টের ফসল নষ্ট না করে দেয়। মাঠের এই চোখ জুড়ানো দৃশ্য এখন পুরো লাকসামের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধান পাকার ধুম পড়বে এবং কৃষকরা উৎসবমুখর পরিবেশে সোনালী ফসল ঘরে তুলবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments