Sunday, April 26, 2026
Google search engine
Homeজাতীয়বরিশালে শ্রমিক সোহেল হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলার পর সংবাদ সম্মেলন

বরিশালে শ্রমিক সোহেল হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলার পর সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
বরিশাল নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সোহেল খান (৩৩) কে ‘পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে’ পুলিশের সহযোগিতায় আত্মহত্যার ঘটনা সাজিয়েছে মরহুমের শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মৃত্যু সোহেলের মা মোসা. আকলিমা (৫০)। শনিবার (২৫ এপ্রিল ‘২৬) বেলা ১২টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

মৃত সোহেলের পরিবারের দাবি, নগরীর রুপাতলী লালা দিঘির পাড় এলাকার মৃধা বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদ খাঁ ও তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম সহ ছেলে-মেয়ে বিপ্লব খাঁ (২৫), খুশি বেগম (৪০), রফিকুল ইসলাম মিলন (৩৫) ও বিলকিস বেগম (৩০) সহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন মিলে সোহেলকে সুপরিকল্পিতভাবে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে কিংবা অন্য কোনো উপায় হত্যা করে পরবর্তীতে তারা আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ন্যায্য বিচার চেয়েছেন। ”

ঘটনাস্থলে সোহেলের লাশ উদ্ধার করেন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের এসআই সেলিম। তিনি বলেন, তিনি গিয়ে দেখতে পান সোহেলের মরদেহ সামনের রুমে খাটের উপরে শোয়ানো ছিল। গলায় দাগের চিহ্ন ছিল। তোয়ালে ও রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ সোহেলের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর সেই অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সোহেলের বাবা মো. ইদ্রিস খান বলেন, চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যা রাতে আমার বড়ো ছেলে সোহেল আমার ভাড়ার বসতঘরে এসে ভাই-বোনদের নানা কথা বলে রাত ৯টার সময় খাবার খেয়ে তার স্ত্রী ও সন্তানের কাছে চলে যায়। রাত ৩টা ১০ মিনিটের সময় আমার (আকলিমা) স্বামীর ব্যবহৃত ০১৫৮১১৪২৩২৪ নম্বর মোবাইলে ০১৩৩৭৯০০৬৫১ নম্বর থেকে কল আসে। পরবর্তীতে কয়েক মিনিট পর অর্থাৎ রাত ৩টা ১৪ মিনিটের সময় এই ০১৩৩৭৯০০৬৫১ থেকে কল আসলে, রিসিভ করে আমার স্বামী শুনতে পায়- আপনি কি সোহেল-এর বাবা? আপনারা তাড়াতাড়ি সোহেল-এর বাসায় আসেন। সোহেল মারা গিয়েছে।

ভোর রাত ৪টার সময় সোহেলে ঐ ভাড়ার বাসায় পৌঁছে দেখতে পাই, বাসার সামনে রুমে খাটের উপর সোহেল-এর লাশ শোয়ানো। আমি ও আমার অন্যান্য ছেলেরা ঘটনাস্থলে এসে সোহেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতে চিহ্ন দেখতে পায়। তখন ঘটনাস্থলে খুশির বাবা-মা ও ভাই-বোনেরা উপস্থিত ছিলেন।

সোহেলের ভাই ইমন খান (২৭) বলেন, খুশি বেগমকে বিয়ের পর থেকেই তার ভাই অশান্তিতে ছিল। জীবিত থাকা অবস্থায় আমার ভাই আমাকে একাধিকবার বলেছিল, আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমাকে বাঁচতে দেবে না। আর রহস্যজনকভাবে সোহেলের মৃত্যুর পর সোহেলের স্ত্রী খুশি প্রশ্নবিদ্ধ ও সন্দেহজনক কথাবার্তা বলে যাচ্ছে। প্রথমে বলছে- সোহেল ফ্যানের সাথে গালা দড়ি দিয়েছে, আবার বলে রডের সাথে, আবার বলে তোয়ালে ও রশি দিয়ে আত্মহত্যা করছে।

সোহেলের শ্বশুর মো. আবু সাইদ খাঁ বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলেই বোঝা যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা। আমার জানামতে- সোহেল আত্মহত্যা করেছে।

মায়ের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মৃত্যু সোহেলের ভাই মো. ইমন খান (২৭)। তিনি বলেন, সংসারে ৪ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে বড়ো সোহেল খান। রুপাতলী লালা দিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা খুশি বেগম (৪০) ও সোহেল বরিশাল সোনারগাঁও টেক্সটাইলে চাকুরি করতো। প্রায় ১৮ বছর পূর্বে খুশি তার পূর্বের স্বামীকে তালাক দিয়ে, সেই সংসারের ১টি কন্যা সন্তান সহ সোহেলের সাথে ২য় বিবাহে আবদ্ধ হন। পরিবারের মতামতের বাহিরে গিয়ে তার নিজেদের সিদ্ধান্ত ইসলামি অনুযায়ী এ বিয়ে করেছিলেন। পরে তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। বিয়ের পর থেকেই তারা রুপাতলী লাল দিঘির পাড়, মৃধা বাড়ি, সড়ক সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী সহ ২ কন্যাকে নিয়ে বসবাস করে আসছিল।

সোহেলের মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছানোর পূর্বে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসে, আবার চলে যায়। আবার আমি/আমরা যাবার কিছুক্ষণ পর সেই পুলিশ আবার আসে। পরবর্তীতে গত ১৮/০৪/২০২৬ সকাল ৬টায় সোহেলের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে নিয়ে যায়।

সোহেলের লাশের পোস্টমর্টেম শেষে গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠী জেলার রাজাপুর থানার ৬ নং মঠবাড়ি ইউনিয়নে ডহরশংকর গ্রামের বাড়ি পারিবারিক কবরস্থানে লাশের দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। কিন্তু ১৮/০৪/২০২৬ তারিখ শনিবার আসরবাদ জানাজা নামাজের পর লাশ দাফনের সময় উপস্থিত ছিলেন না- সদ্য মৃত হওয়া সোহেলের শ্বশুর- ‘আবু সাঈদ খাঁ ও তার দুই ছেলে বিপ্লব খাঁ (২৫), রফিকুল ইসলাম মিলন (৩৫)’। একইভাবে সোহেলের মৃত্যুর পর ঘটনাস্থল ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যায়- মৃত সোহেলের শ্যালক বিপ্লব ও শ্বশুর আবু সাঈদ।

উপর্যুক্ত বিরুদ্ধে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার মামলা না নেয়ায় গত চলতি মাসের ২৩ এপ্রিল বরিশাল বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে আমি আকলিমা বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছি। দায়েরকৃত মামলার আসামি হলেন- আবু সাঈদ খাঁ ও তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম সহ ছেলে-মেয়ে বিপ্লব খাঁ (২৫), খুশি বেগম (৪০), রফিকুল ইসলাম মিলন (৩৫) ও বিলকিস বেগম (৩০),সহ অজ্ঞাত ৫/৭ জন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments