Wednesday, May 6, 2026
Google search engine
Homeজাতীয়কক্সবাজারে লবণচাষি ও মিলারদের জলবায়ু অভিযোজন ও পুষ্টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ

কক্সবাজারে লবণচাষি ও মিলারদের জলবায়ু অভিযোজন ও পুষ্টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ

কক্সবাজার:
কক্সবাজারে লবণচাষি ও মিলারদের জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো এবং পুষ্টি উন্নয়নের লক্ষ্যে দুটি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক লবণচাষি ও মিলার অংশ নেন।

চৌফলদণ্ডী মডেল হাই স্কুলে লবণচাষিদের জন্য এবং বিসিক ভবনে লবণ মিলারদের জন্য পৃথকভাবে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। যৌথভাবে প্রশিক্ষণ আয়োজন করে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) ও গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (GAIN)। গেইন এর ‘জিরো হাঙ্গার প্রাইভেট সেক্টর প্লেজ ইনিশিয়েটিভ’ এবং বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহায়তায় ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাট লোকাল লেভেল (কল)’ কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণটি বাস্তবায়িত হয়।

প্রশিক্ষণে জলবায়ু সহনশীল চাষাবাদ, টেকসই উৎপাদন এবং লবণ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতে পুষ্টি–সংবেদনশীল পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে লবণচাষি ও মিলারদের সক্ষমতা বাড়ানো টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা ও জীবিকা সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কক্সবাজারে জলবায়ু সহনশীল লবণ উৎপাদনে অগ্রগতি সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গেইনের ‘ড্রাইভার্স অব ফুড সিস্টেমস ট্রান্সফরমেশন’ বিভাগের পোর্টফোলিও লিড মনিরুজ্জামান বিপুল বলেন, স্থানীয় সক্ষমতা জোরদার করা একটি সহনশীল লবণ খাত গড়ে তোলার জন্য জরুরি। টেকসই উৎপাদন ও জীবিকা নিশ্চিতে গেইন জলবায়ু সহনশীল পদ্ধতি ও পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিসিকের পরিচালক (প্রমোশন ও এক্সটেনশন) মো. আব্দুল মতিন, এক্সটেনশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সারওয়ার হোসেন, কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া এবং গেইন এর প্রকল্প সমন্বয়কারী মেহেদী হাসান বাপ্পীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

প্রশিক্ষণে উপকূলীয় অঞ্চলে অনিয়মিত আবহাওয়া ও লবণাক্ততার ওঠানামার মতো চ্যালেঞ্জ এবং সেগুলোর লবণ উৎপাদনে প্রভাব তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, গুণগত মান বজায় রাখা এবং পুষ্টিমান নিশ্চিত করার বিভিন্ন বাস্তবসম্মত উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষভাবে আয়োডিনযুক্ত লবণের মাধ্যমে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ঘাটতি পূরণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

আয়োজকেরা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি লবণ খাতকে আরও সহনশীল ও পুষ্টি–সংবেদনশীল ব্যবস্থায় রূপান্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রশিক্ষণ দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তা, টেকসই জীবিকা এবং কার্যকর জলবায়ু অভিযোজন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি, এটি বাংলাদেশে ‘কল’ কর্মসূচির আওতায় স্থানীয়ীকরণ প্রক্রিয়াকেও এগিয়ে নেবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments