নিজস্ব প্রতিবেদক, লাকসাম:
কুমিল্লার লাকসামে চেম্বার বন্ধ এবং ‘ভুয়া চিকিৎসক’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইন্টিগ্রেটেড ফিজিশিয়ান মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি ওই সংবাদকে ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) লাকসামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি তাঁর পেশাগত পরিচয়, চিকিৎসাসেবার কার্যক্রম এবং চেম্বার বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিনি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে দেশে ও বিদেশে বিকল্প ধারার চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। বিশেষ করে দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার দাবি করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকে মানুষের সেবা করে আসছেন।
‘ভুয়া চিকিৎসক’ হিসেবে তাঁকে উল্লেখ করার বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ভুয়া চিকিৎসক বলতে সাধারণত এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যার চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনগত স্বীকৃতি নেই। তাঁর দাবি, তিনি নিজেকে ইন্টিগ্রেটেড ফিজিশিয়ান হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন এবং তাঁর পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি ও সরকারি প্রজ্ঞাপনের ভিত্তি রয়েছে।
দেলোয়ার হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকল্প ধারার চিকিৎসকদের পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। এ বিষয়ে রিট পিটিশন নম্বর ৫৩৫/২০১৯ দায়ের করা হয়। তাঁর দাবি, ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ নভেম্বর ২০২০ হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় এবং পরবর্তী সময়ে ৫ জানুয়ারি ২০২২ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আইন শাখার প্রজ্ঞাপনের আলোকে তিনি তাঁর কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি ও সরকারি প্রজ্ঞাপন তাঁর কাছে রয়েছে। এরপরও তাঁর পেশাগত পরিচয় ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা তাঁর মতে বিভ্রান্তিকর এবং তাঁর সামাজিক ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার শামিল।
চেম্বার বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, সম্প্রতি লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নির্দেশনায় স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মিল্টন কয়েকজন সাংবাদিকের প্ররোচনায় আইনবহির্ভূতভাবে তাঁর চেম্বার বন্ধ করে দেন। এ ঘটনায় তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে আইনি নোটিশ দিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান।
তাঁর দাবি, আইনি নোটিশ দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং চেম্বারে তালা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, একটি মহল তাঁকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে তাঁর দীর্ঘদিনের পেশাগত কার্যক্রম ও চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, আদালতের রায়, সরকারি প্রজ্ঞাপন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। একপক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।
দেলোয়ার হোসেন প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারিত তথ্য প্রত্যাহার বা সংশোধনের উদ্যোগ না নেওয়া হলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পথে যাবেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত আদালতের রায়, সরকারি প্রজ্ঞাপন এবং চেম্বার বন্ধের বিষয়ে তাঁর দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবু হানিফ, মাওলানা বেল্লাল হোসেন, কামাল হোসেন পাটোয়ারী ও আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।


