মশিউর রহমান সেলিম, জেলা দক্ষিণ প্রতিনিধি, কুমিল্লা
কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের বৃহত্তর লাকসাম উপজেলার হাটবাজারে নানান ধরনের গ্রীষ্মকালিন শাক-সবজি আসতে শুরু করলেও দাম বেশি। ফলে শাকসবজি বিক্রিতে ভালো দাম পেয়ে স্থানীয় কৃষকরা খুশি হলেও ভোক্তারা অখুশি।
অপরদিকে বাংলা নববর্ষের শুরুতে প্রাকৃতিক দূর্যোগ শুরু ফলে গ্রীষ্মকালীন সবজি সরবরাহ কম হওয়ায় এবং কতিপয় সিন্ডিকেট ব্যবসার ফলে পাইকারী ও খুচরা বাজারে দাম লাগামহীন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বানিজ্যিক ভাবে টমেটো,বেগুন, করলা, ঝিঙ্গা ও সীমসহ বিভিন্ন শাক সবজির বাজার মূল্য লাগামহীন পাগলা ঘোড়ার মত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের বাজার তদারকি না থাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ওইসব অবৈধ সেন্ডিকেট কাঁচামাল আড়তদার ব্যবসায়ীরা। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগের অজুহাতে শাকসবজির মূল্য লাগামহীন ঘোড়ার মত বাড়ছে। বিশেষ করে আমদানিতে বাজার ব্যবস্থায় দুর্বলতা, সরবরাহ অনিয়মের জটিলতায় বাড়ছে মূল্যের ব্যবধান। ফলে মানুষের জীবনে অনশ্চিয়তা। মানুষের আয় না বাড়লেও বাজার মনিটরিং না থাকায় বাজার মূল্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। চলমান প্রাকৃতিক দূর্যোগে এলাকার কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হলেও শাকসবজির চড়া দামে দিশেহারা তারা। পাইকারী দামে লুকোচুরি চললেও খুচরা বাজারে তার প্রতিফলন নেই।
বৃহত্তর লাকসাম উপজেলা গুলোর স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, চলমান প্রাকৃতিক দূর্যোগ চলাকালেও স্থানীয় কৃষকরা এতে লাভবান হওয়ায় প্রতিবছর এ সময়ে গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজি চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। নোংরা রাজনীতি, অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ক্ষরা, জলবায়ুর পরিবর্তন ও গরম -তাপদাহ নানান ভাইরাস সহ আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের বাজারে কয়েক দফা বেড়ে শাক-সবজির দাম এখন ক্রেতাদের নাগালের বাহিরে।
এছাড়া পাইকারী ও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি শাক-সবজির দাম প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। এ দিকে কাঁচামালের বড় মোকাম লাকসাম দৌলতগঞ্জ বাজার। এখানে রয়েছে প্রায় ২৫/৩০টি কাঁচামালের আড়ৎ। প্রতিদিন বিভিন্ন যানবাহনে বিভিন্ন মোকাম থেকে আসা কাঁচামালগুলো আড়তে আসা মাত্রই স্থানীয় খুচরা দোকানসহ বিভিন্ন হাটবাজারে চলে যায়। এ সুযোগ নিয়ে স্থানীয় কাঁচামাল সিন্ডিকেট চক্র বিভিন্ন অজুহাতে পন্যের দাম বাড়িয়ে নিজেদের ফায়দা লুটে নিচ্ছে এবং খুচরা বাজার কেন্দ্রীক ক্রেতারা বাজার দরের রষানলে পড়ে প্রতারিত হচ্ছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, চলমান সময়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও সকল সেক্টরে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে প্রতিদিন রাতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কাঁচামাল বোঝাই ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহন খরচসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় বাড়ছে। ফলে প্রচুর সরবরাহ থাকা স্বত্ত্বেও গ্রীষ্মকালীন সবজির বাজার অনেকটাই চড়া। যেমন গত কয়েকদিন পাইকারী বাজারে প্রতিটি সবজি প্রায় পূর্বে তুলনায় দিগুন দামে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া পরিবহন খরচসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরে খুচরা বাজারে কেজিতে আরও ৫/৭ টাকা লাভে বিক্রি করতে হয়। অপরদিকে ভেজাল বীজ, সার ও কীটনাশক ঔষধের বাজার জমে উঠায় অনেক ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করে কৃষকরা প্রতারিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বাজার মনিটরিং না করার কারনে ওইসব অসাধু কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে উপজেলাগুলোর হাটবাজার। এছাড়া শীতকালীন শাকসবজির বাজার দরের পাশাপাশি চাল, ভৌজ্য তৈল, চিনি, আটা, ময়দা, দুধ ও গরম মসল্লাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের বাজার দর লাগামহীন ঘোড়ার মতো লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
উপজেলাগুলোর স্থানীয় বাজারের একাধিক শাকসবজি খুচরা বিক্রেতা জানায়, চলমান এ সময়ে প্রতি কেজি মূলার শাক ৩০ টাকার স্থলে ৮০ টাকা, পালং শাক ৩০ টাকার স্থলে ৮০ টাকা, লাল শাক ৪০ টাকার স্থলে ১০০ টাকা সহ অন্যান্য গ্রীষ্মকালীন সবজি ৮০/১০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। চলতি বছর গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজি চাষে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বার বার হানা, বিশেষ করে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে কৃষকরা শাকসবজি উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়েছে। এছাড়া সরকারীভাবে কারিগরী সহায়তা,বীজতলা থেকে জমিতে চারারোপন এবং উন্নত বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরনে সহায়তা দিতে উপজেলাগুলোর কৃষি বিভাগের ভূমিকা নিয়ে নানাহ বির্তক উঠলেও সম্প্রতি তারা প্রায় ৬ হাজার কৃষককে সার-বীজ প্রণোদনা দিয়েছেন। তার ্উপর জেলা দক্ষিনাঞ্চলের সবকটি উপজেলার হাটবাজার জুড়ে কৃষি উপকরণে নিম্নমান ও ভেজাল সামগ্রী উচ্চমূল্যে বিক্রিতে ক্রেতারা প্রতারিত হয়ে আসছে এবং উপজেলাগুলোর কৃষি দপ্তরের বিভিন্ন কর্মকান্ড নিয়ে কর্মকর্তা- কর্মচারীদের রহস্যজনক ভূমিকায় এলাকার জনমনে নানাহ প্রশ্ন উঠেছে।
নাম জানাতে অনিচ্ছুক জেলা দক্ষিনাঞ্চলের উপজেলাগুলোর স্থানীয় কৃষি বিভাগের জনৈক কর্মকর্তা জানায়, এ অঞ্চলে চলমান বছরে শাক-সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। স্থানীয় কৃষকরা প্রাকৃতিক দূর্যোগের শিকার হলেও ফুল ও ফল ভাল থাকায় এবং বাজারে কাঁচামালের দাম ভাল পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা অত্যন্ত খুশি তবে ক্রেতা সাধারণ অনেকটাই অখুশি থাকা স্বাভাবিক।


