নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দেশের প্রথম নারী পাবলিক প্রসিকিউটর (সাবেক পিপি) এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে সংবর্ধিত করেছেন কক্সবাজার-০৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকশ নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন।
সংবর্ধিত সংসদ সদস্য এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দলের দুঃসময়ে আপনাদের (নেতা-কর্মী) সাথে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করেছি। আন্দোলন চলাকালে কখনো ঘরে বসে থাকিনি। আপনারা মিছিল মিটিংয়ে থেকেছেন, আমি মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছি। আমার সেই শ্রমের দাম দিয়েছেন আমাদের প্রিয় নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, আমার একটি ফোনে চকরিয়ায় মিছিল বের আমার ছয়টা ভাই প্রাণ দিয়েছেন। আমাদের প্রিয় নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ দলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তাঁকে গুম করা হয়েছে। ৬১ দিন একটি কবরের মতো জায়গায় তাঁকে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে তাঁকে শিলংয়ে ফেলে দিয়ে আসা হয়েছে।
তাঁর ভাষায়, যে ছব্বিশের আন্দোলন করে আমরা আজকে ক্ষমতায় এসেছি। কিন্তু ষড়যন্ত্র থেমে নেই। এখনও ষড়যন্ত্র ঠিকই আমাদের পেছনে লেগে আছে। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
এমপি স্বপ্না বলেন, আমাদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ থাকতে পারবে না। আমাদের মধ্যে কোন বৈষম্য থাকতে পারবে না। আমি আপনাদের একজন বড় বোন হিসেবে আপনাদের মেয়ে হিসেবে আপনাদের কাছে এইটুকুই আহবান রাখতে চাই।
তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামানকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যিনি আমাকে সম্মানিত করার জন্য নিজের অর্থায়নে আজকে আপনাদের সবাইকে এখানে দাওয়াত করে এনেছেন।
সংবর্ধনার আয়োজন ও অনুষ্ঠানের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান বলেন, কক্সবাজারের নাম বললেই সবাই বলে এটা শুধু বিএনপির দূর্গ নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু। কেন বলে জানেন? কারণ, এখানে একজন সালাহউদ্দিন আহমদ আমাদের নেতৃত্বে আছেন।
তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদ গোটা দেশ জাতির বড় দায়িত্ব কাঁধে পেয়েছেন। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন যাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেন, অনেক বেশি নির্ভরতার প্রতীক।
সহিদুজ্জামানের মতে, সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে কক্সবাজার জেলার চারজন সংসদ সদস্য পেয়েছি। তাঁর নেতৃত্ব আমাদের এই অঞ্চলের বিএনপিকে অনেক বেশি সুন্দর অবস্থানে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। তারই ফলশ্রুতিতে আমরা আজকে এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্নাকে এমপি হিসেবে পেয়েছি। গর্বে আমাদের বুকটা ভরে গেছে।
তিনি এমপি শামীম আরা স্বপ্নাসহ জেলার অন্য এমপিদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু দাবি ও প্রস্তাবণা উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, যে সম্মানিত তাকে অবশ্যই আমাদের সম্মান দিতে হবে। রাজনীতিতে এই শিষ্টাচারটা রাখি না, আমরা কেন আরেকজনকে সম্মান দিতে চাই না। আমরা কেন একজন সিনিয়র কাউকে দেখলে চেয়ার ছেড়ে দিতে চাই না। এটা আমাদের বোধগম্য নয়। যে সম্মানিত তাঁকে অবশ্যই সম্মান দিতে হবে। এটাই উচিৎ।
কক্সবাজার শহরের একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলন কক্ষে বুধবার রাতে আড়ম্বরপূর্ণ এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান অনুষ্ঠানের শুরুতে সংবর্ধিত প্রধান অতিথি এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না এমপিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
বিএনপি নেতা এম. মোকতার আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনায় অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরী, জেলা শ্রমিক দল সভাপতি রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আখতারুল আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউল্লাহ বোখারী, কক্সবাজার প্রেসক্লাব সভাপতি মাহবুবর রহমান, জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও কক্সবাজার সিটি কলেজ অধ্যক্ষ আকতার চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস্তাফিজুর রহমান, মহেশখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক চৌধুরী, হামিদ উদ্দিন ইউসুফ গুন্নু, রামু উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ সিকদার, জেলা যুবদল সভাপতি সৈয়দ আহমেদ উজ্জল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জেলা সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট তাওহীদুল আনোয়ার, বিএনপি নেতা শওকত আলম, জেলা মৎস্যজীবী দল সভাপতি মোস্তফা কামাল, জেলা কৃষক দল সভাপতি গিয়াস উদ্দিন আফসেল, এডভোকেট মোহাম্মদ ইউনুস, মহিল দল নেত্রী নাসিমা আকতার বকুল, যুবদল নেতা আমীর আলী, জেলা তাতী দল সভাপতি ডা. নাছির উদ্দিন চৌধুরী, মহিলা দল নেত্রী ফরিদা ইয়াছমিন, আমিনুল হক চেয়ারম্যান, শাহীনুল ইসলাম, মোর্শেদুল আলম, জেলা ছাত্রদল সভাপতি ফাহিমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. সাঈদ আনোয়ার প্রমূখ।
সংবর্ধনা শেষে অংশগ্রহণকারিদের জন্য রাতের খাবারের আয়োজন করা হয়।


