নিজস্ব প্রতিবেদক:
নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, তাঁর স্ত্রী নাসরিন ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আইল অব ম্যান-এ থাকা সম্পত্তি অবরুদ্ধ করেছে সেখানকার কর্তৃপক্ষ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাঠানো পারস্পরিক আইনগত সহায়তা অনুরোধের (এমএলএআর) পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত ১৬১ পৃষ্ঠার রেকর্ডপত্র ইতোমধ্যে দুদকের হাতে এসেছে।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম মজুমদার, তাঁর স্ত্রী নাসরিন ইসলামসহ অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং ওয়ান প্রপার্টি লিমিটেডের বিষয়ে আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষের কাছে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চেয়ে অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল। ওই অনুরোধের আওতায় বাংলাদেশ থেকে চাওয়া কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে আইল অব ম্যানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অভিযোগসংশ্লিষ্টদের সম্পত্তি অবরুদ্ধ করার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
আইল অব ম্যান থেকে পাঠানো রেকর্ডপত্রের মূল কপি দুদকের কাছে পৌঁছেছে। এসব নথির মোট ১৬১ পৃষ্ঠা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তদন্তের অংশ হিসেবে এখন এসব রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করবে দুদক। দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো এমএলএআর পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে যে ধরনের আইনগত সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল, তার অনুরোধকৃত কার্যক্রমের বিষয়ে সেখানকার কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
তবে সম্পত্তি অবরুদ্ধ করার বিষয়টি স্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করার সমান নয়। আইল অব ম্যানের আদালতের দেওয়া সম্পত্তি আটকের আদেশের শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশে চলমান তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জানাতে হবে সংশ্লিষ্ট আদালতকে। নথি অনুযায়ী, আগামী ২০ মে ২০২৭ সালের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কিত প্রতিবেদন আইল অব ম্যানের আদালতে জমা দিতে হবে। এ জন্য ১ মে ২০২৭ সালের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাতে দুদককে অনুরোধ করেছে আইল অব ম্যানের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য বা প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা না হলে সংশ্লিষ্ট আদালত সম্পত্তি আটকের আদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, নাসা গ্রুপ এবং এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবেই আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য ও আইনগত সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল।
তদন্তের আওতায় নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তাঁর স্ত্রী নাসরিন ইসলাম ছাড়াও তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে বলে দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমএলএআরের মাধ্যমে বিদেশে থাকা সম্পদ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা চেয়েছিল দুদক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষ তাদের এখতিয়ার অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের নথিতে আরও বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-৩ শাখা থেকে গত ৩০ জুন পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আইল অব ম্যান থেকে পাওয়া রেকর্ডপত্র পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
এখন ১৬১ পৃষ্ঠার এসব নথি যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করে চলমান তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত হিসেবে ব্যবহার করা হবে। তদন্তে এসব নথির তথ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তা পর্যালোচনা শেষে স্পষ্ট হবে।
আইল অব ম্যানের আদালতের আদেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের চলমান তদন্তের অগ্রগতি জানানো গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দুদকের তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং আইল অব ম্যান থেকে পাওয়া নথিপত্র পর্যালোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে বিদেশে সম্পত্তি অবরুদ্ধ করা হয়েছে—এটিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি চলমান তদন্তের একটি আইনগত পদক্ষেপ। অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়-দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।


