প্রতিনিধি,):
তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে রণক্ষেত্রে পরিণত হলো বরিশাল ও মাদারীপুর জেলাধীন তিন উপজেলার সীমান্ত এলাকা। গৌরনদী, কালকিনি ও ডাসার এ তিন উপজেলার অধিবাসীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণে ওইরাতে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে স্থানীয় দোকানদার ও পথচারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে গৌরনদীর ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ডের ১৪টি দোকান।
সংঘর্ষের সময় দুই জেলার সীমান্তবর্তী ভূরঘাটা ব্রিজের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ব্যস্ততম ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক। এতে টানা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ব্যস্ততম ওই মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কের উভয়দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত বরিশাল জেলার গৌরনদী এবং মাদারীপুর জেলার কালকিনি ও ডাসার উপজেলার সীমান্তবর্তী ভূরঘাটা বাজার এলাকায় চলে এই তাণ্ডব।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে কালকিনি উপজেলার মজিদবাড়ি বাসষ্ট্যান্ড থেকে বরিশাল যাওয়ার উদ্যেশ্যে লোকাল বাসে উঠে ডাসার উপজেলার স্থানীয় যুবক ইমরাত ঘরামী। বাসের ভাড়া নিয়ে ইমরাতের সাথে লোকাল বাসের ষ্টাফদের সাথে বাকবিতান্ডা হয়। এর জেরধরে ওইদিন বিকেলে ইমরাতসহ তার ৮ থেকে ১০ জন সহযোগী গৌরনদী এলাকার লোকাল বাস কাউন্টার বন্ধ করে দেয়। এ সময় বাসের ষ্টাফ ও স্থানীয়রা তাদের মারধর করে। এর জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় পুনরায় ইমরাতসহ তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গৌরনদী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মহড়া দেয়। এ সময় গৌরনদীর স্থানীয়রা ধাওয়া করে।
এ খবর দুই জেলার সীমান্তবর্তী তিন উপজেলা বরিশালের গৌরনদী ও মাদারীপুরের কালকিনি এবং ডাসার উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া উত্তেজনা দ্রুতই এক ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত জনতা এ সময় ভূরঘাটা ব্রিজের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। একপর্যায়ে কালকিনি ও ডাসার এলাকার লোকজন ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ডের অন্তত ১৪টি দোকানে হামলা চালিয়ে তছনছ করে এবং ব্যপক লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গুলো হলো, কালাম ফকির, ইব্রাহীম সরদার, রাহাত ফকির, নুর আমিন, শামসুল হক হাওলাদার, সিদ্দিক সরদার, আফজাল ফকির, তন্ময় পাল, সজীব বেপারী, কাওছার তালুকদার, মহসীন বেপারী, ছোবহানসহ ১৪টি।
মুদি দোকান্দার শামসুল হক হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, ‘কালকিনি ও ডাসারের কয়েকশত লোক ককটেল বিস্ফোরন করে পুলিশের উপস্থিতিতে হামলা চালিয়ে আমার দোকান সহ ১৪টি দোকান ভাঙচুর চালিয়ে দোকানের মধ্যে থাকা মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। আমি বাঁধা দিলে আমাকে রক্তাক্ত জখম করে। আমার আয়ের একমাত্র অবলম্বন হামলাকারীরা লুট করে নিয়ে যায়। আমি এর বিচার চাই।
হামলায় আহতরা হলেন, জুয়েল হাওলাদার (৩৫), স্বজল বেপারী (৩২), সবুর বয়াতি (৩৫), দিদার ফকির (৩০), ফিরোজ কাজী (৪৫), ইনাম তালুকদার (৩০), আদর কাজী (২২), সামসুল হাওলাদার (৪৫), সুমন বয়াতি (৩০), শোশারফ সরদার (৪০), ইশ্রাফিল (৫০)সহ অন্তত ২০ জন। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে স্থানীয় হাসাপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা তাদের ওপর হওয়া হামলার বিচার ও লুটে নেওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গৌরনদী, কালকিনি ও ডাসার থানা পুলিশ এবং তিন উপজেলার নির্বাহী প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পুলিশ সদস্য ও প্রশাসনের সমন্বিত তৎপরতায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ তারিক হাসান রাসেল জানান, বর্তমানে তিন উপজেলার সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত রয়েছে। পুনরায় যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট থানা তিনটির ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা ব্যবস্থা নেয়া হবে।


