লাকসাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা:
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দৌলতগঞ্জ গাজিমুড়া কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতির পদ নিয়ে চলমান আইনি বিরোধে নতুন মোড় এসেছে। এ-সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত স্থিতাবস্থার (স্ট্যাটাস কো) আদেশ দিয়েছেন। গত ১২ অক্টোবর শুনানি শেষে দেওয়া এ আদেশের পর মাদ্রাসাটির সভাপতির দায়িত্ব পালন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজনের দায়িত্বের ধারাবাহিকতা এবং ফজলুল করিমকে সভাপতি নিয়োগের আদেশের কার্যকারিতা নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজনের পরিবর্তে ফজলুল করিমকে দৌলতগঞ্জ গাজিমুড়া কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই নিয়োগের আদেশকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওই আদেশ স্থগিত করেন।
হাইকোর্টের আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতের শরণাপন্ন হয়। পরে ১২ অক্টোবর শুনানি শেষে বিচারপতি রেজাউল হক স্থিতাবস্থার আদেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে আদেশের সুনির্দিষ্ট ভাষ্য, পরিধি ও কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে সভাপতির দায়িত্ব পালনের বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
আদালতে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি
মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজনের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন।
আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশের মধ্য দিয়ে গভর্নিং বডির সভাপতির পদ নিয়ে বিরোধটি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে এ আদেশের ফলে সভাপতি পদে কার দায়িত্ব কীভাবে বহাল থাকবে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনার সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু গুরুত্বপূর্ণ।
সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ?
সংশ্লিষ্টদের অভিমত, সভাপতির পদ নিয়ে চলমান বিরোধে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে আদালতের আদেশ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। স্থিতাবস্থার আদেশের প্রকৃতি ও পরিধি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজনের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও আদালতের নির্দেশনার আলোকে বিবেচিত হবে।
আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট আদেশের প্রত্যয়িত অনুলিপি ও পরবর্তী আদালতের নির্দেশনা পর্যালোচনা করা জরুরি। ফলে সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে উদ্ভূত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি আইনি ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
শিক্ষা কার্যক্রমের স্বার্থে স্থিতিশীলতা জরুরি
দৌলতগঞ্জ গাজিমুড়া কামিল মাদ্রাসা লাকসাম অঞ্চলের একটি পরিচিত ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রমে যেন কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান, পরীক্ষা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ বজায় রাখতে আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সভাপতির পদ নিয়ে চলমান বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।
এখন আদালতের আদেশের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে মাদ্রাসাটির গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্বসংক্রান্ত বিরোধের পরবর্তী অগ্রগতি।


