শুক্রবার, অক্টোবর 29, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 29, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 29, 2021
spot_img
Homeআন্তর্জাতিকবিপ্লবের পঞ্চম বার্ষিকীতে আরও কঠোর স্বৈরশাসনের জাঁতাকলে মিশর

বিপ্লবের পঞ্চম বার্ষিকীতে আরও কঠোর স্বৈরশাসনের জাঁতাকলে মিশর

মিশরে হোসনি মোবারকের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া গণ-আন্দোলনের পাঁচ বছর পূর্তি হচ্ছে আজ ২৫ জানুয়ারি। বিক্ষোভের জেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন মোবারক। কিন্তু আবার আগের চেহারায় ফিরে গেছে দেশটি।

 

আরও কঠোর স্বৈরশাসনের জাঁতাকলে পড়েছে মিশরবাসী। বিরোধী দলগুলোর ওপর চলছে চরম দমন-নিপীড়ন। ফলে উগ্রবাদের উত্থানও হচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে।

 

২০১১ সালের মোবারকের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন স্মরণে ও বর্তমানের ‘স্বৈরশাসনের’ প্রতিবাদে নিষিদ্ধ ঘোষিত মুসলিম ব্রাদারহুড আজ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করছে, আন্দোলন বানচালে সারা দেশে সরকার ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে।

 

সে সময় ‘রুটি, স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়ের’ দাবিতে লাখ লাখ লোক হোসনি মোবারকের বিরুদ্ধে বিপ্লব শুরু করে। পাঁচ বছর পার হলেও একটি দাবিও পূরণ হয়নি। বরং নিপীড়ন আরও আসন গেড়ে বসেছে দেশটিতে।

 

হোসনি মোবারকের পতনের আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক যুবককে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোবারকবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মোস্তফা মাহের বলেন, যদিও প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি মুখে তরুণদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু প্রকৃত চিত্র ভিন্ন। মোবারকবিরোধী তরুণেরা সবাই এখন গ্রেপ্তার-হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেক সহযোদ্ধা গ্রেপ্তার হওয়ায় তিনিও (মাহের) গ্রেপ্তার এড়াতে রাজধানী কায়রোর বাসায় অবস্থান করতে পারছেন না।

 

মাহের বলেন, ‘যদিও আমি কোনো মামলার আসামি না। তবে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার-হয়রানির ভয় তো আছেই।’

 

১৮ দিনের গণ-আন্দোলনে হোসনি মোবারকের ৩০ বছরের স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। মুক্তি পায় মিশরবাসী। কিন্তু গণতন্ত্রের স্বাদ না পেতেই আবার দেশটিকে জাপটে ধরে স্বৈরশাসন।

 

২০১৩ সালের জুলাইতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান সিসি। সব বিরোধী মতকে দমন করে ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হন তিনি। সিসির বিরোধিতা করায় মুসলিম ব্রাদারহুডের কয়েক শ নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে কারাবরণ করতে হয়েছে। বাদ যায়নি বাম ও ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোও।

 

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, মিশরে মানবাধিকার লঙ্ঘন ভয়াবহ আকার নিয়েছে। দেশটি ‘পুলিশি রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে।

 

প্যারিসভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক রিলেশনসের বিশ্লেষক করিম বিতার বলেন, সিসির শাসন ২০১১ সালের বিপ্লবকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ‘এটা এখন স্পষ্ট যে দেশটিতে প্রতিবিপ্লব আসন গেড়েছে। বিপ্লবের সমাধি রচিত হয়েছে।’

 

দমন-নিপীড়নের ফলে দেশটিতে উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়ছে। ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট জঙ্গি সংগঠন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে মিশরে। গত বৃহস্পতিবার এমনই এক সংগঠনের বোমা হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ সাতজন নিহত হয়।

 

কায়রোভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনের গামাল ইদ বলেন, দেশের ভেতরে সংঘাত-সংঘর্ষ আরও বেড়েছে। এখনকার মানবাধিকার পরিস্থিতি হোসনি মোবারক কিংবা মুসলিম ব্রাদারহুডের শাসনামল থেকেও শোচনীয়।

 

তবে দীর্ঘদিনের আন্দোলন, প্রতি আন্দোলন, হানাহানিতে ক্লান্ত অনেক মিশরবাসী সাফাই গাইছেন সিসির পক্ষেই। আহমেদ মোহাম্মদ নামে একজন বলেন, ‘বিপ্লব নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে ওই বিপ্লব অর্থহীন হয়ে পড়েছে। ২০১১ সালের সেই আন্দোলন আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।’

 

সূত্র: এএফপি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments