রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
spot_img
Homeজাতীয়দুই বছরেই বেহাল দশা ভারত থেকে আনা বিআরটিসি বাসের

দুই বছরেই বেহাল দশা ভারত থেকে আনা বিআরটিসি বাসের

প্রায় ১০০ কোটি ব্যয়ে ভারত থেকে আনা এসি এবং আর্টিকুলেটেড বাসের অধিকাংশই দুই বছরে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। রাজধানীবাসীকে নিরাপদ পরিবহন সেবা দিতে ১০০ কোটি টাকায় ১৩৮টি এসি এবং আর্টিকুলেটেড বাস কেনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।

 

তবে ১২ বছরের বেশি সময়ের আয়ুষ্কালের এসব বাসের অধিকাংশই দুই বছরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ এবং মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থে এ ধরনের নিম্নমানের বাস কেন কেনা হলো তার অধিক তদন্ত চেয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

 

ডাবল ডেকার, সিঙ্গেল ডেকার এসি এবং আর্টিকুলেটেড বাস ক্রয় শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বিআরটিসি। প্রকল্পটির আওতায় অশোক লেল্যান্ড লিমিটেডের কাছ থেকে ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৮ এসি বাস এবং ৪৯ কোটি টাকায় ৫০টি আর্টিকুলেটেড বাস কেনা হয়। কয়েক দফায় ২০১২ থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাসগুলো বিআরটিসির বহরে যুক্ত হয়। সম্প্রতি প্রকল্পটির আওতায় কেনা বাসগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে আইএমইডি।

 

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্টিকুলেটেড বাসগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ এয়ার ব্লোস, যা বাসের দুই অংশকে সংযুক্ত করেছে। সেসব জায়গায় ফেটে গেছে। এ ফাটা জায়গা দিয়ে বাইরে থেকে রাস্তার ধুলাবালি বাসের ভেতরে প্রবেশ করে যা যাত্রী সাধারণের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া বাসের অভ্যন্তরে আসনগুলো ভালো নয়। ছাদের অবস্থাও খারাপ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আয়ুস্কাল ১২ বছর বললেও দুই বছরের মাথায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে বাসগুলো।

 

বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পের আওতায় কেনা ৫০টি আর্টিকুলেটেড বাসের মধ্যে ১৪টি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো বিভিন্ন ডিপোতে পড়ে আছে। অবশিষ্ট বাসের অবস্থাও ভালো নয়। এসি বাসেরও একই অবস্থা। তবে প্রকল্পের আওতায় ২৯০টি ডাবল ডেকার কেনা হয়েছে। সেগুলোর অবস্থা তুলনামূলক ভালো।

 

আইএমইডির পরিদর্শনে সিঙ্গেল ডেকার এসি বাসগুলোর দুর্দশার চিত্রও উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, এসি বাসের আচ্ছাদন দুর্বল রেক্সিন জাতীয় কভার দ্বারা নির্মিত, বিধায় সিঁড়ির জায়গা এবং আসন সংলগ্ন দেয়ালে ব্যাপক ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া বাইরের বডি এবং ভেতরের আচ্ছাদনের মাঝে তাপ নিরোধক কোন শিট না থাকায় বাইরের তাপ বাসের ভেতরে প্রবেশ করে। এ কারণে এসি বাস হলেও কোনো কাজে আসে না।

 

বিআরটিসির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান দৈনিক সমকালকে বলেন, বাসগুলো অনেক সস্তায় কেনা হয়েছে। যে দামে কেনা হয়েছে তা দিয়ে ভালো মানের বাস কেনা কঠিন। তবে আরও বাজার যাচাই-বাছাই করে বাসগুলো কিনলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এজন্য ভবিষ্যৎ কেনাকাটায় গুণগত মানের দিকটাতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

 

তিনি বলেন, আমদানি করা বাসগুলো রাজধানীতে চলাচলের অনুকূল পরিবেশ নেই। প্রতিটি ট্রিপে বাসের গায়ে স্পট পড়ছে। এসি কিংবা আর্টিকুলেটেড বাসের জন্য আলাদা সড়ক থাকলে এত দ্রুত লক্কড়ঝক্কড় হতো না। উন্নত দেশে একই মানের বাস আরও পাঁচ বছর বেশি চলবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments