নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লাঃ
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাদিয়া সুলতানা ইমু (১০)-কে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে মো. জসিম উদ্দিন নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আব্দুল হান্নান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. জসিম উদ্দিন বরুড়া উপজেলার গজারিয়া গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দুই দিন আগে নাদিয়া তার মায়ের খালা বাড়ি বরুড়ার গজারিয়া গ্রামে বেড়াতে যায়। ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে তাকে তাজু মিয়ার মুদি দোকানে পাঠানো হয়। কিন্তু দোকান থেকে বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা তার খোঁজ শুরু করেন।
পরে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে স্বজনরা বরুড়া উপজেলার রাড়ী গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির উত্তর পাশে আব্দুল লতিফের বাঁশবাগানে নাদিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের মা মঞ্জুমা বেগম (৪০) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বরুড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(২) ধারায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্তের সময় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ মো. জসিম উদ্দিনকে শনাক্ত করে আটক করে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
পরবর্তীতে মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন।
রায়ে মো. জসিম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।


