আব্দুর রহমান সাঈফ, কুমিল্লা : কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় ধানক্ষেত থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে সন্দেহভাজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক দুজনের মধ্যে রয়েছেন সুমনের খালাশাশুড়ি ও বোনজামাই। ঘটনার পর থেকে সুমন আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ জানায়, সুমনের বাড়ি কুমিল্লার জয়নগর এলাকায়। তিনি বেশির ভাগ সময় রাতে পদুয়ার বাজার ও আশপাশের এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। তাঁর নিজস্ব বাড়ি নেই। তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। কিছুদিন আগে ঘর বিক্রি করে সেখান থেকে চলে যান বলে জানা গেছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। অটোরিকশাটি জব্দ করে সেটির সূত্র ধরে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আবদুল আলীম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত। পরিবারের সদস্যরা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে সে কক্সবাজারে গিয়েছিল বলে জানা যায়। ফেরার পথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নামে সে।
মৃত্যুর আগে বাবার মুঠোফোনে নিজের অবস্থানের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল তাজমিন। এ ঘটনায় তার বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, ঘটনার পর থেকে অটোরিকশাচালক সুমন আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই এবং তিনি মুঠোফোনও ব্যবহার করেন না। ফলে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে সময় লাগছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন সুমনকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


