মহামারীতে ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৭৯০

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৭৯০ জন রোগী।

এ নিয়ে করোনায় মোট ১৮৬ জনের মৃত্যু হল। আর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১ হাজার ৭১৯ জনে।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।

নাসিমা জানান, নতুন করে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী, দুজন ঢাকার এবং একজন ঢাকার বাইরের, দুজন ষাটোর্ধ্ব এবং একজন চল্লিশোর্ধ্ব।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ হাজার ৭৭১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ছয় হাজার ২৪১টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হল ৯৯ হাজার ৬৪৬টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও ৭৯০ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটি গতকালের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।

এর আগে মঙ্গলবার করোনায় একজনের মৃত্যু হয়।সোমবার থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে নতুন করে আক্রান্ত হন ৭৮৬ জন।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩৭ লাখ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই লাখ ৫৮ হাজার। তবে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়।১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যু হয় দেশে।

করোনা ভাইরাসে মেরিল্যান্ডের তালেব আহমদ চৌধুরীর ইন্তেকাল

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির নিকটস্থ মেরিল্যান্ড রাজ্যে প্রাণ গেল আরো এক বাংলাদেশির। মেরিল্যান্ডে বসবাসকারী তালেব আহমেদ চৌধুরী (৪৫) বেশ কয়েকদিন ধরেই প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার থেকে মেরিল্যান্ড সিলভার স্প্রিং এর হলিক্রস হসপিটালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। 


আজ ১৯ এপ্রিল রোববার বিকালে করোনা ভাইরাসের কাছে হেরে গিয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। সিলেট প্রবাসী তালেব আহমেদ চৌধুরী বড়উধা সাচান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক এবং হোমিওপ্যাথি ডাক্তার ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী এক সন্তান সহ বহু গুনগ্রাহী ও আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন। 


তালেব আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যু সহ বৃহত্তর ওয়াশিংটনে ৪ বাংলাদেশী করোনা ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া বহু বাংলাদেশী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা যায়। বিশেষ করে ভার্জিনিয়ার উডব্রিজ, লরটন, স্প্রিংফিলড, আর্লিংটন, ফেয়ার ফ্যাক্স সহ বিভিন্ন শহরে বসবাসরত বাংলাদেশিরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা যায়।

২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত ২৯ মৃত্যু ৪ জনের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা একশ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়ালো ১১৭ জনে। আর ২৪ ঘণ্টা মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর মহাখালীর বিসিপিএস ভবনের সম্মেলন কক্ষে (আইপিএস ভবনের পাশে) সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা/প্রতিনিধিদের সঙ্গে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত বিষয়ে জরুরি একটি সভায় এমন তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এর আগে রোববার (৫ এপ্রিল) দেশের ১৪টি ল্যাবে ৩৬৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৮ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ১৩ জন শনাক্ত হয়েছে আইইডিসিআরে, বাকি ৫ জন ঢাকার বাইরের ল্যাবে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ছিল। এছাড়া যে একজন মারা গেছেন তিনি নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা (পুরুষ-৫৭) ছিলেন।

বিশ্বজুড়ে এ পর্যন্ত ১২ লাখ ৭৩ হাজার ৭১২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৬৯ হাজার ৪৫৮ জন।

দিনদিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় মানুষের মধ্যে আতংক বাড়িয়ে চলেছে। তবে বেশিরভাগ মানুষই এখনো অসচেতনভাবে চলাফেরা করছে।

করোনার তথ্য পেতে ওয়েবসাইট চালু করলো সরকার

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বাংলাদেশেও হানা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮৮ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন নয় জন। 

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দেশজুড়ে চলছে অঘোষিত লকডাউন। এদিকে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিষয়ে তথ্য সহজলভ্য করার জন্য করোনা ইনফো নামে নতুন ওয়েবসাইট চালু করেছে সরকার। 

এ ওয়েবসাইটের লিংক: www.corona.gov.bd। রবিবার তথ্য অধিদপ্তরের এক তথ্য বিবরণীতে এ বিষয়ে জানানো হয়।

তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, দেশে করোনা সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সাম্প্রতিক তথ্য দ্রুত পেতে এই ওয়েবসাইট কার্যকর ভূমিকা রাখবে। 

এছাড়াও জ্বর, সর্দি, কাশি হলে যে কোনো ব্যক্তি আগের মতোই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৩৩৩ বা ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করে সেবা নিতে পারবেন।

প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকের মৃত্যু বৃদ্ধির বড় কারণ কী?

প্রবাসী শ্রমিকের লাশ দেশে ফেরার সংখ্যা বাড়ছে বাংলাদেশে। সরকারি হিসাবে গত এক দশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করতে যাওয়া ২৭ হাজার ৬৬২জন শ্রমিকের লাশ দেশে ফেরত এসেছে।

২০১৯ সালেও তিন হাজার ৬৫৮ জনের মৃতদেহ ফিরেছে দেশে, অর্থাৎ গত বছর গড়ে প্রতিদিন ১০ জনের বেশি প্রবাসী শ্রমিকের লাশ দেশে ফিরে এসেছে। খবর বিবিসি বাংলার

বেশির ভাগের মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং স্বাভাবিক মৃত্যু বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত্যুর বড় কারণ কী?
বাংলাদেশ থেকে প্রবাসে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে শ্রমিকের মৃত্যুর হারও প্রতি বছর বেড়েছে।

১৯৯৩ সালে মাত্র ৫৩ জন শ্রমিকের লাশ ফেরত এসেছিল প্রবাস থেকে, যে সংখ্যা ২০১৯ এ এসে হয়েছে তিন হাজার ৬৫৮ জন।

সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংস্থা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বলছে, এই হিসাব কেবল যেসব লাশ ফেরত আসে সেই সংখ্যা ধরে।

এর বাইরে অনেক লাশ সংশ্লিষ্ট দেশে দাফন করা হয়, যার হিসাব সব সময় হালনাগাদ থাকে না।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপ-পরিচালক জাহিদ আনোয়ার জানিয়েছেন, যেসব প্রবাসীর লাশ ফেরত আসে দেশে, তাদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে লাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে আসা ডেথ রিপোর্টে যা উল্লেখ থাকে, সেটিই জানা যায়। সেই হিসাবে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক,স্বাভাবিক মৃত্যু, এবং আত্মহত্যার কথা বেশি উল্লেখ থাকে। এর বাইরে কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিদগ্ধ হওয়া এবং অসুস্থতার কারণও উল্লেখ থাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে।

২০১৯ সালে দেশে ফেরা লাশের এক তৃতীয়াংশের বেশি এসেছে সৌদি আরব থেকে। নারী শ্রমিকসহ মোট ১১৯৮ জনের লাশ ফেরতে এসেছে দেশটি থেকে।

সৌদি আরবে এই মূহুর্তে ২০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজ করেন। বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় অংশটি কাজ করেন সৌদি আরবে।

কেন হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক বেশি হয় শ্রমিকদের?
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া অধিকাংশ শ্রমিকের বয়স ২০ থেকে ৩৫ এর মধ্যে।

অল্প বয়েসী কর্মক্ষম মানুষ কাজে যাবার পরে কেন শ্রমিকদের দ্রুত এবং আকস্মিক মৃত্যু ঘটছে?

অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে এমন একটা প্রতিষ্ঠান, রামরুর পরিচালক মেরিনা সুলতানা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক মারা যায়।

সেখানে মূলত হৃদরোগ এবং কিডনি সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েন শ্রমিকেরা। কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, প্রথম প্রথম অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তাপমাত্রা সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যে তীব্র গরম, তাতে প্রচণ্ড পানি শূন্যতা তৈরি হয়। সে অবস্থায় পানি বেশি পানের পাশাপাশি আরো কী করতে হবে সেটা বুঝতে না পেরে অসুস্থ হয়ে যান অনেকে। সে অবস্থায় কাজ করতে থাকলে হয় সে আরো অসুস্থ হয়ে পড়বে, নতুবা কাজে মন দিতে পারবে না। উভয় ক্ষেত্রেই শারীরিক ক্ষতির সঙ্গে মানসিক চাপ বাড়বে।

আর অভিবাসন ব্যয় অনেক বেশি হবার কারণে শ্রমিকেরা ওখানে গিয়ে একটা মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন। হয়তো ঋণ নিয়ে বিদেশে গেছেন, কিন্তু কাজটি হয়ত খুবই অল্প বেতনের। তখন দ্বিতীয় একটি কাজ বা পার্টটাইম খোঁজে তারা। ফলে অনেকেই ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করে পর্যাপ্ত ঘুমানোরও সুযোগ পান না, এতে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

মেরিনা সুলতানা বলছেন, সেই সঙ্গে বৈধভাবে কাজের নিশ্চয়তা, দেশ থেকে যাবার সময় যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা তুলে আনার তাগিদ এবং আত্মীয়-পরিজনহীন থাকার পরিবেশ, এসব কিছু মিলিয়ে তাদের স্ট্রেস বা মানসিক অনেক বেশি থাকে।

এছাড়া বাংলাদেশের শ্রমিকেরা বেশিরভাগ দেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অদক্ষ বা স্বল্প দক্ষতা নিয়ে যাবার কারণে নিম্ন মজুরীর কাজ করতে বাধ্য হয়। যে কারণে সেই রোজগারের মধ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকেনা বা তারা নিজেরাও সে খরচ করতে চায় না। যে কারণে দেখা যায়, হঠাৎ স্ট্রোক হলো বা হার্ট অ্যাটাক হলো।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, মালয়েশিয়াতে ২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি শ্রমিক মারা গেছেন।

এ ক্ষেত্রে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা গেছে, বেশির ভাগ শ্রমিক হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়ে মারা গেছেন।

বাংলাদেশে যাচাই হয় না মৃত্যুর কারণ
সিলেটের হবিগঞ্জের মারুফ সরকার সৌদি আরব গিয়েছিলেন ২০১৪ সালে। চার বছর পর মারুফের মৃত্যুর খবর তার একজন রুমমেট ফোনে হবিগঞ্জে তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন।

এক মাস পরে তার লাশ ফেরে দেশে। মারুফের বোন সালমা আক্তার জানিয়েছেন, লাশের সাথে আসা রিপোর্টে লেখা ছিল স্বাভাবিক মৃত্যু, কিন্তু দাফন করার সময় পরিবারের সদস্যরা মারুফের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন।

স্থানীয়ভাবে এ নিয়ে আলোচনা হবার পর যাদের মাধ্যমে মারুফ বিদেশে গেছেন, তারা পরামর্শ দেয় বিষয়টি নিয়ে ‘ঝামেলা’ না করে মেনে নিতে।

আমার আরেক ভাইরে কম টাকায় সৌদি নিয়া দিব বলছে, এই জন্য আমরা আর আগাই নাই। আমরা খালি বলছিলাম লাশটা একবার পরীক্ষা করে দেখতে, কিন্তু কেউ শুনে নাই, মাটি দিয়া দিছে ভাইরে।

বাংলাদেশে অভিবাসন খাত নিয়ে যারা কাজ করেন তারা বলছেন, প্রবাসী শ্রমিকদের মৃত্যু তদন্তে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, লাশের গায়ে ডেথ সার্টিফিকেটে যা লেখা থাকে, তাই সবাই জানে এবং মেনে নেয়। কিন্তু বাংলাদেশেও যদি সেটি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হবার ব্যবস্থা থাকত তাহলে স্বজনদের মনে কোন সন্দেহ থাকতো না।

শরিফুল হাসান বলছিলেন, শ্রমিকদের কাজের নিরাপদ পরিবেশ, তাদের স্বাস্থ্য এবং মৃত্যুর কারণ দেশে যাচাই না করলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে না।

ঢাকার বাইরে চলছে না বাস

নতুন সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে চালক ও শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘটের টানা তিন দিন পর আজ কিছু কিছু জেলায় বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, মাদারীপুর, হিলিসহ কয়েক জেলায় আজ সকাল থেকেই বাস চলাচল করতে দেখা গেছে।

তবে খুলনা, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, কুড়িগ্রাম, টাঙ্গাইলসহ অনেক জেলায় আজ চতুর্থ দিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এসব জেলায় দূরপাল্লার কোনও বাস ছেড়ে যায়নি। অভ্যন্তরীণ রুটেও বাস চলাচল ছিল কম।

এদিকে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পর বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে পণ্য পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে বুধবার ঢাকা থেকে কম পরিসরে বাস ছেড়ে গেলেও আজ চলাচল ছিল স্বাভাবিক। আজ সকাল থেকে ঢাকা থেকে দূরপাল্লার বাস ছেড়ে গেছে।

সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস-মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, সায়েদাবাদ থেকে সিলেটসহ পূর্বাঞ্চলের সব পরিবহন ছেড়ে গেছে। কোথাও কোনও সমস্যা নেই। আমি সকাল থেকে সায়েদাবাদ টার্মিনালে রয়েছি। শ্রমিক মালিক সবাই পরিবহন নিয়ে সড়কে নেমেছেন।

শরীয়তপুর
শরীয়তপুরের অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে ঢিলেঢালাভাবে বাস চললেও দূরপাল্লার কোনও বাস ছেড়ে যায়নি। এর ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। তবে আগামীকাল থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

খুলনা
নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে খুলনায় চতুর্থ দিনের মতো ধর্মঘট পালন করছে বাসচালক ও শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকালে খুলনা থেকে কোনও দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। এছাড়া অভ্যন্তরীণ বেশিরভাগ রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। এতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা।

খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহকারী সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান মিঠু বলেন, খুলনায় এখনও বাস চলাচল শুরু হয়নি। বুধবার রাতে মালিক ও শ্রমিক নেতারা ঢাকায় গেছেন। মন্ত্রণালয়ে ট্রাক মালিক শ্রমিকদের সঙ্গে সভা হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় বৈঠক হবে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত হবে।

টাঙ্গাইল
নতুন পরিবহন আইনের কিছু বিধান সংস্কারের দাবিতে টাঙ্গাইলে ধর্মঘট করছে বাসচালক ও শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইল থেকে কোনও দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।

টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন বলেন, এখনও বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আজ ঢাকায় শ্রমিক ফেডারশনের বৈঠক রয়েছে। বাস চলাচলের বিষয়ে ওই বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত হবে।

কুড়িগ্রাম
সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে আজও কুড়িগ্রাম থেকে সব রুটে বাস, মিনিবাস চলাচল বন্ধ রেখেছে পরিবহন শ্রমিকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, বাস চলাচল না করায় যাত্রীরা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে বেলা ১২টার দিকে বাস স্ট্যান্ডের কাছে পার্কিং করা অটোরিকশা চালকদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদর তাড়িয়ে দেয় বাস শ্রমিকরা।

হামলার ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি মাহফুজার রহমান বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠাচ্ছি।

জামালপুর
নতুন সড়ক আইন সংশোধনের প্রতিবাদে জামালপুরে বাসচালক ও শ্রমিকদের ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও জামালপুর-টাঙ্গাইল সড়কের ধনবাড়ী এলাকায় শ্রমিকরা এখনও তাদের অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা জামালপুর-টাঙ্গাইল রুটে চলাচলকারী সব ধরনের যান চলাচলে বাধা দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া চুয়াডাঙ্গা, নওগাঁ, ঝিনাইদহে চতুর্থ দিনের মতো বাসচালক ও শ্রমিকদের ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে।

তবে কিছু ব্যাতিক্রম লক্ষ্য করা গেছে

ময়মনসিংহ
দুই দিন বন্ধ থাকার পর আজ ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা রুটে বাস চলাচল শুরু করেছে। আজ সকাল থেকেই মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও পাটগ্রদামব্রিজ সংলগগ্ন আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকাসহ সারা দেশের উদ্দেশে দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যতে দেখা গেছে।

জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক প্রশাসন মাহবুবুর রহমান জানান, আজ সকাল থেকেই বাস চলাচল শুরু করেছে।
এদিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে সাধারণ যাত্রীদের।

মাদারীপুর
তিন দিন বন্ধ থাকার পর মাদারীপুরে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আজ সকাল থেকে মাদারীপুর থেকে দূরপাল্লার বাস ছেড়ে গেছে। অভ্যন্তরীণ রুটেও বাস চলাচল ছিল স্বাভাবিক। এতে সাধারণ যাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।

দিনাজপুর
দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে পণ্য পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের ফলে ট্রাক চলাচল শুরু হওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে। এদিকে টানা পাঁচ দিন পর হিলি বগুড়া পথে বাস চলাচল শুরু হয়েছে।

দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন হাকিমপুর স্ট্যান্ড কমিটির সদস্য ও চেইন মাস্টার রুঞ্জু হোসেন বলেন, পণ্য পরিবহন শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহারের পরে সড়কের অবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে।

লবণ কিনতে ক্রেতারা মরিয়া হলো যে কারণে

বর্তমানে ৬ মাসের চাহিদার পরিমাণে লবণ মজুদ রয়েছে গুদামে। এনিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে সরকার।

কিন্তু তারপরেও মঙ্গলবার লবণ কিনতে ব্যাপক ভিড় হয়েছে বাজারে। সারা দেশ থেকেই আতংকে মানুষজনের লবণ কেনার খবর পাওয়া গেছে। লবণের দাম বাড়ানোর জন্য কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার

কেন আতংক
ঢাকার একটি বাজারে মুদি দোকানের মালিক বেল্লাল হোসেন বলেন, তিনি এক সপ্তাহে যে লবণ বিক্রি করতেন তা একদিনেই বিক্রি হয়ে গেছে।

সবাই অতিরিক্ত নিছে। যে এক কেজি নিতো সে পাঁচ কেজি নিছে। যে পরিমাণ লবণ আমি এক সপ্তাহে বিক্রি করতাম আমি তা একদিনে বিক্রি করছি।

সরকার বলছে, লবণ উৎপাদনকারী মূল এলাকা কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত লবণের মজুদ রয়েছে।

বাংলাদেশ নিজেই লবণ উৎপাদন করে এবং তা পরিমাণে যথেষ্টই। লবণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আমদানির উপর নির্ভরশীল নয়।

দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলোও যথেষ্ট মজুদ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

কিন্তু তারপরও কেন বাজারে ছুটে গেলেন ক্রেতারা?

লবণ কিনতে বাজারে এসেছিলেন রাজিয়া আক্তার। তিনি বলেন, এই যে টিভিতে দেখতেছি। তারপর আত্মীয়-স্বজনরা ফোন করে বলছে লবণ কিনে রাখতে। এই যে এখানে আসার আগেও আমার জা ফোন দিয়ে বলছে লবণ কিনে রাখেন। লবণ পাওয়া যাবে না।

দেখা যাচ্ছে লবণের ক্ষেত্রে অন্যদের কথা শুনেই সবাই বাজারে গেছেন বলে মনে হচ্ছে। সরকারও বলছে গুজব ছড়ানো হয়েছে।

ঢাকার বনানী এলাকার গৃহকর্মী ফরিদা আক্তার বলছেন, পেঁয়াজ ছাড়া খাবার খাওয়া গেলেও লবণ ছাড়া কিভাবে খাবেন?

অনেক কিছু ছাড়া ভাত-তরকারি খাওয়া যায়। কিন্তু লবণ ছাড়াতো খাওয়া যাবে না। পেঁয়াজের দাম এত বেশি! এখন যদি লবণের দামও বাড়ে অথবা বাজারে না পাওয়া যায়?

পেয়াজ ও লবণ
মাত্র দুই দিন আগেও বাজারের সবচাইতে আলোচিত বিষয় ছিল পেঁয়াজ। কয়েক সপ্তাহ জুড়ে বাজারে এর অতিরিক্ত দাম নিয়ে ক্রেতারা হিমশিম খেয়েছেন।

সেপ্টেম্বরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই সংকটের শুরু।

এখন পেঁয়াজের সরবরাহ আসতে শুরু করেছে এবং দামও কমতে শুরু করেছে। কিন্তু এর প্রভাব বাজারে এখনো রয়ে গেছে।

ভোক্তা অধিকার বিষয়ক সংগঠন কনজিউমার এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভুঁইয়া বলছেন, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি সঠিকভাবে সামাল দিতে পারেনি সরকার।

তিনি বলছেন, সরকার পিঁয়াজের দাম নিয়ে যা বলেছে তা ধরে রাখতে পারেনি। বিষয়টা ক্রেতাদের মাথায় কাজ করেছে। সেজন্য মানুষ এইভাবে লবণ কিনেছে।

দেখেন বাজারে সবজির দাম বেশি। বলতে গেলে অনেকের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তারপর চালের দাম, পিঁয়াজের দাম, রসুনের দাম ও মশলার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। এইসব কারণে বাজারে একটা অস্থিরতা চলছে। সেটারই প্রভাব মানুষের মনে পড়েছে।

গুজব যেভাবে কাজ করে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির শিক্ষক সায়মা হক বিদিশা বলছেন, গুজবের প্রভাব আরও বেশি কাজ করে যখন বাজার ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থাহীনতার তৈরি হয়।

তিনি বলছেন, সাধারণ মানুষ দেখছে যে বাজার ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করছে না। বাজার ব্যবস্থার উপর তাদের আস্থাহীনতার কারণে দেখা যায় যখন কেউ কোন অসৎ উদ্দেশ্যে গুজব ছড়িয়ে দেয় মানুষ সেটি গ্রহণ করে। কারণ তারা আগেই দেখেছে যে পেঁয়াজের ক্ষেত্রে এরকম হয়েছে।

এর ফল স্বরূপ যেটা হচ্ছে আমার এক কেজি কেনার কথা কিন্তু আমি যদি তিন কেজি কিনি আর বেশিরভাগ মানুষই যদি আমার মতো আচরণ করে তাহলে দেখা যাবে বাজারে যদি সংকট নাও থাকে একটা কৃত্রিম সংকট আমরা নিজেরাও তৈরি করে ফেলি।

উপকূলে ভারতের রাডার দিয়ে কার ওপর নজরদারি করা হবে?

বাংলাদেশের উপকূলে ভারতের যে রেডার সিস্টেম বসাতে দুইদেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে, তার ধরণ এবং ব্যবহার কী হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে দুই দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন সমুদ্রপথে আসা বিভিন্ন ধরণের হুমকি মোকাবেলায় এই রেডার ব্যবস্থা দুইদেশের জন্যই কার্যকরী হবে।

অন্যদিকে, ঢাকা এবং দিল্লির মধ্যে এই সহযোগিতা চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

ভারত অতীতে মরিশাস, সেশেলস এবং মালদ্বীপে এ ধরণের রেডার ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। মিয়ানমারে একই ধরণের ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য আলোচনা চলছে।।

সমুদ্রপথে চীনের সামরিক গতিবিধি নজরে রাখার জন্য ভারত এই নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে বলে অনেকে মনে করেন। তবে অন্যরা এই ব্যাখ্যাকে ভয় বিক্রির চেষ্টা বলে আখ্যায়িত করেছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়।

কার নিয়ন্ত্রণে রেডার?

সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে যৌথভাবে একটি কোস্টাল সার্ভেইল্যান্স বা উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে।

তবে এই রেডার উপকূলের কোথায় স্থাপন করা হবে কিংবা এই ব্যবস্থা পরিচালনার দায়িত্বে কারা থাকবে সে বিষয় এখনো অস্পষ্ট।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, রেডার ব্যবস্থা স্থাপনের পর তার পরিচালনার দায়িত্বে কারা থাকবে সে বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রেডার পরিচালনায় শুধুমাত্র বাংলাদেশের লোকবল ব্যবহারের প্রস্তাব রয়েছে। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে যৌথ লোকবল ব্যবহারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা এখনো চলছে। কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে ভারতের নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এবং দিল্লির সোসাইটি ফর পলিসি স্টাডিজের পরিচালক কমোডোর উদয় ভাস্কর বলেন, এ ধরণের প্রকল্পে রেডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে লোকবল সাধারণত যৌথভাবেই সরবরাহ করা হয়।

এক্ষেত্রে মরিশাস ও মালদ্বীপে রেডার ব্যবস্থা স্থাপনের উদাহরণ তুলে ধরেন মি. ভাস্কর।

ভাস্কর বলেন, ভারত মহাসাগর অঞ্চলের দেশগুলোকে উন্নত নজরদারিতে সক্ষমতা বাড়াতে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে প্রযুক্তি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। যার অংশ হিসেবে মরিশাস, সেশেলস, মালদ্বীপে রেডার ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

ভারতীয় প্রযুক্তি

রেডার ব্যবস্থা স্থাপন করতে যে সব প্রযুক্তিগত সহায়তা দরকার হয় তার পুরোটাই ভারত থেকে সরবরাহ করা হবে।

উদয় ভাস্কর বলেন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তির অংশ হিসেবে এই মুহূর্তে ভারত রেডার এবং অন্যান্য হার্ডওয়্যার বা যন্ত্রপাতি যা দরকার হবে তার সবকিছুই সরবরাহ করবে। আর এসব ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে।

রেডার ব্যবস্থা স্থাপনের পর একটি প্রসারণ কেন্দ্র বা ডিফিউশন সেন্টার তৈরি করা হবে। যেখানে সব দেশ তাদের সামুদ্রিক নজরদারি সম্পর্কে (ইনপুট ডোমেইন অ্যায়ারনেস) তথ্য দেবে।

এ ধরণের একটি কেন্দ্র দিল্লির কাছে গুরুগাম নামে জায়গায় রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভারতের নজরদারির সুযোগ

উদয় ভাস্কর বলেন, রেডার ব্যবস্থা বঙ্গোপসাগরে কী ধরণের কার্যক্রম হচ্ছে তার উপর নজরদারি করতে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতকেও সুযোগ দেবে।

বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে নজরদারি বাংলাদেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সেসব এলাকায় নজরদারি সম্ভব হবে।

এ সম্পর্কে উদয় ভাস্কর বলেন, অপরাধমূলক যেকোন ধরণের কর্মকাণ্ড এই নজরদারির আওতায় আসবে এবং এ সম্পর্কে তথ্য বিনিময় করা হবে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হতে পারে সাগরে অবৈধ মাছ ধরার বিষয়ে তথ্য বিনিময়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ, ভারত এবং মিয়ানমারের জেলেদের কাছে মাছ ধরার উন্নত প্রযুক্তি সম্বলিত ট্রলার বা নৌযান না থাকার কারণে গভীর সমুদ্রে যেতে পারে না তারা। আর এই সুযোগ নেয় বিদেশি জেলেরা, যা কাঙ্ক্ষিত নয়। এগুলো স্থানীয় জেলেদের নিরাপত্তার জন্য বাধা বটে। এগুলো নজরদারি করা হবে।

হুমকির মুখে উপকূল?

বাংলাদেশের উপকূলে অবৈধভাবে মাছ ধরার নৌযান অনুপ্রবেশ ছাড়া আর কোন বড় ধরণের হুমকি সাধারণত এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এছাড়া সাগরে পাইরেসি বা জলদস্যুদের একটা হুমকির কথা বলা হলেও তা এ অঞ্চলে খুব কম বলে জানান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের চেয়ারম্যান মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে রয়েছে পাইরেসি বা দস্যুতা, বিশেষ করে বন্দর এলাকায় চুরি ও ডাকাতি বড় সমস্যা।

তিনি বলেন, এছাড়া বেআইনিভাবে মাছ শিকার, প্রাকৃতিক সম্পদ চুরি, বিদেশি ট্রলারের অনুপ্রবেশ ও অবৈধ মাছ শিকার, বিভিন্ন ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায়ই দেখা যায়।

এসব বিষয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তবে দূরবর্তী হুমকি, যেমন: বিদেশি আগ্রাসী শক্তি। তবে আজকাল এ ধরণের হুমকির চিন্তা কেউ করে না যে এ ধরণের আশঙ্কা রয়েছে। তবে দুদেশের সীমান্ত যে এলাকা রয়েছে সেখানে কিছুটা হুমকি থাকতে পারে।

এছাড়া রয়েছে, অবৈধ পণ্যের পাচার, মাদক, অস্ত্র এবং মানব পাচারও হয়ে থাকে মাঝে মাঝে সাগর পথে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাইরের দেশের কিছু মাছ ধরার নৌযান বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের উপকূলে অনুপ্রবেশ করে যা নৌবাহিনী আটক করে। থাইল্যান্ড থেকে এসব নৌযান বেশি আসে। তবে মিয়ানমারের নৌযানও মাঝে মাঝে আসে।

এছাড়া আর বড় ধরণের কোন হুমকি এখনো রিপোর্টেড হয়নি এবং আসবে বলেও মনে হয় না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ভয় বিক্রির চেষ্টা

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেআইনিভাবে চলাচলকারী জাহাজ ও নৌযানের উপর নজরদারি করা সম্ভব হবে এই ব্যবস্থায়।

বিভিন্ন দেশের জাহাজ যারা আইনসম্মতভাবে চলাচল করে কিন্তু তাদের সাথে যোগাযোগ না থাকলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। এই ব্যবস্থায় এ ধরণের পরিস্থিতি এড়িয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করা সম্ভব হবে।

মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, তবে কেউ যদি মনে করে যে, বাইরে থেকে কোন যুদ্ধজাহাজ আসলো কিনা, এ ধরণের ঘটনা খুব একটা ঘটে না। আর ঘটলেও তারা বলে কয়ে আসে, লুকিয়ে-চুরিয়ে আসা খুব একটা ঘটে না।

আহমেদ বলেন, ভারত-বাংলাদেশ মিলে অন্য দেশের এ ধরণের জাহাজ আসা ঠেকিয়ে দেবে এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। কারণ এটা আসলে খুবই দূরবর্তী একটা চিন্তা।

চীনের উপর নজরদারি বিষয়ে মি. আহমেদ বলেন, চীন এ অঞ্চলে তেমন আসে না। কিছু মানুষ ভয় বিক্রির চেষ্টা করছে এ ধরণের মন্তব্য করে।

তিনি বলছেন, এ অঞ্চলে ভারতের এবং মিয়ানমারের যুদ্ধ জাহাজ আসা-যাওয়ার ঘটনাই বেশি। অন্য কেউ এলেও জানিয়ে আসে, অতিথি বা বন্ধুত্বপূর্ণ সফরে আসে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য সেগুলো হতে পারে। তবে হলেও খুব কার্যকরী হবে বলে আমি মনে করি না।

লক্ষ্য চীন?

তবে আরেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. সাখাওয়াত হোসেন ভিন্ন মত দিয়েছেন।

তিনি বলেন, কৌশলগত দিক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এধরণের রেডার শুধু বাংলাদেশ নয় বরং মরিশাস ও সেশেলস-সহ আরো কয়েকটি দেশে বসিয়েছে।

আন্দামানে ভারত একটি নেভাল এয়ারবেজ করেছে। এই দ্বীপপুঞ্জটি চীনের জাহাজগুলো মিয়ানমারে আসার পথের খুব কাছাকাছিতে অবস্থিত। আর তাই আসলে চীনের গতিবিধি নজরদারিতে আনার জন্য ভারত সেই সেশেলস থেকে এটা করে আসছে।

মালবাহী জাহাজের চলাচল ছাড়া অন্যান্য জাহাজের গতিবিধির উপরও নজরদারি করা হবে বলে তিনি মনে করেন।

তার মতে, ভারত-চীন-যুক্তরাষ্ট্র উঠতি শক্তি হিসেবে যে একটি কৌশলগত প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে তার একটি উপাদান হতে পারে এটি।

জেনারেল হোসেন বলেন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান মিলে বঙ্গোপসাগরে একটি আন্ডার-ওয়াটার সারভেইল্যান্স সিস্টেম বা পানির নিচে নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে। এই নজরদারি ব্যবস্থা যুক্ত হবে কোস্টাল সার্ভেইল্যান্স সিস্টেমের সাথে।

তাই সহজেই বলা যায় যে এর মূল উপলক্ষ চীন।

ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কে প্রভাব

এই পদক্ষেপ চীনের সাথে বাংলাদেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে শঙ্কার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, ডোকলাম ও অরুণাচলে ভারত-চীন যে সামরিক প্রতিযোগিতা চলছে তার অংশ হিসেবে সে অঞ্চলে এক ধরণের সামরিক কোর তৈরি করেছে ভারত। বঙ্গোপসাগরেও একই ধরণের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এই জায়গাতে গিয়ে আমরা চীন-ভারতের কৌশলগত টানাপোড়েনের মধ্যে পরে যাচ্ছি।

তিন দিকে পরমাণু শক্তিধর তিন রাষ্ট্র ভারত-পাকিস্তান-চীন দ্বারা বেষ্টিত হয়ে এ ধরণের টানাপোড়েনের জড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশের চিন্তার অবকাশ আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ ঘটনাকে চীন অবশ্যই নেতিবাচক ভাবে নেবে। চীন যেহেতু দেরিতে প্রতিক্রিয়া দেয়, অর্থাৎ তারা অ্যাকশনে রিয়্যাকশন করে, তাই তারা কী প্রতিক্রিয়া দেবে তা বলা মুশকিল হলেও এই পদক্ষেপে চীন খুব খুশি হবে বলে আমি মনে করি না।

ভারতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এই রেডার সিস্টেম কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে উদয় ভাস্কর বলেন, প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা শুধু ভারত নয় বরং বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

একই প্রসঙ্গে ভারতের আরেক সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল দীপঙ্কর ব্যানার্জি বলেন, এটা ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কিছুটা হয়তোও শক্তিশালী করলো বা এখন যা বন্দোবস্ত আছে তার সাথে কিছুটা হয়তো যুক্ত হলো।

তবে এটি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষাকে জোরদার করার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জেনারেল ব্যানার্জি বলছেন, আসল নজরদারির বিষয়টি রেডার নয় বরং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে করা হয়।

তথ্য বিনিময়

সরকারের সামরিক বাহিনীর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একে অপরের সাথে বিভিন্ন ধরণের তথ্য আদান-প্রদান করে থাকে এ অঞ্চলের দেশগুলো। এ ক্ষেত্রে কোন ধরণের সন্ত্রাসী হামলার হুমকি থাকলে সে সম্পর্কিত তথ্য গুলোও বিনিময় করা হয়।

রেডার ব্যবস্থা স্থাপনের পর কোন ধরণের সন্ত্রাসী হামলার হুমকি সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া গেলে সেগুলোও বিনিময় করা হবে বলেও জানান তিনি।

তবে রেডার ব্যবস্থা স্থাপনের পর যেসব তথ্য বিনিময় করা হবে তার মধ্যে হোয়াইট শিপিং বা বৈধভাবে পণ্য পরিবহনের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বিষয়েই সবচেয়ে বেশি তথ্য থাকবে।

তবে সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে যে, সমুদ্রপথে কোন ধরণের সন্ত্রাসী হামলার প্রচেষ্টা সম্পর্কেও আগে ভাগেই জানা যাবে এই নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে।

উদাহরণ হিসেবে যেখানে বলা হয় যে, মুম্বাই হামলার মতো কোন ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তৈরি হলে সে সম্পর্কেও আগে থেকেই খবর পাওয়া যাবে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে।

হত্যাকারীদের ফাসির দাবিতে উত্তাল বুয়েট ক্যাম্পাস

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বুধবারও প্রতিষ্ঠানটিতে ছাত্র বিক্ষোভ অব্যাহত আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা বিক্ষোভ করছে।

ছাত্রলীগের মারধরে নিহত আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আবরারের খুনিদের ‘ফাঁসি চাই’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে বুয়েট ক্যাম্পাস।

আগের দিনের মতই বুধবার সকাল থেকে বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়। সেখানে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে তুলে ধরা হয়েছে নতুন ১০ দফা দাবি। শিক্ষার্থীদের দেয়া ১০ দফা দাবির মধ্যে প্রধান হচ্ছে আবরার হত্যায় জড়িত সবার ফাঁসির দাবি। সেই সঙ্গে দুপুর ২ টার মধ্যে ভিসির জবাবদিহি।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে তিনজন এসব দাবি সাংবাদিকদের সামনে পড়ে শোনান। তাদের একজন প্রতিনিধি বলেন, বেঁধে দেয়া সময়ে দাবি পূরণ না করা হলে ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষাসহ সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দাবি মানা না হবে, ততক্ষণ তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণার পর স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে বুয়েট ক্যাম্পাস।

আবরার হত্যার বিচার দাবিতে মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলে ফাসিঁ চেয়ে স্লোগান দেন তারা। পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের কালো হাত গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো স্লোগান দিতে দিতে পুরো ক্যাম্পাস ঘুরছেন। কেউ কেউ ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের পদত্যাগ দাবিতেও স্লোগান দেন।

প্রসঙ্গত ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।

তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।

এ ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় ১৪ জন জড়িত বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কৃষ্ণপদ রায়।

এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা চকবাজার থানায় সোমবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেন। বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় বুয়েট শাখার সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১০ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

টেন্ডার ছাড়াই বিদেশে আইটি অডিটের কাজ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রযুক্তিগত দুর্বলতা চিহ্নিত করতে আইটি অডিট করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট এবং পেনিট্রেশন টেস্টিং (ভিএপিটি) শীর্ষক এ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে লিথুনিয়া ভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এনআরডি সাইবার সিকিউরিটি’।

যদিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ কোনোরকম টেন্ডারিং প্রক্রিয়া ছাড়াই বিদেশি কোম্পানিকে সরাসরি বরাদ্দ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ইতিমধ্যে এনআরডি সাইবার সিকিউরিটিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরূপণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি মাস থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি সিস্টেমে নিরাপত্তা দুর্বলতা আছে কিনা সেটি খোঁজার কাজ শুরু করবে এনআরডি সাইবার সিকিউরিটি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো রকম টেন্ডারিং প্রক্রিয়া ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো দেশের শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আইটি অডিটের কাজটি বিদেশি কোম্পানিকে বরাদ্দ দেওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এদিকে আইটি অডিটের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ ইনফরমেশন সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট এনআরডি সাইবার সিকিউরিটিকে কাজ দেওয়ার দায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা হচ্ছে আইটি অডিটের বিষয়টি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী করতে হবে। আমরা কেবল তাদের পরামর্শ বাস্তবায়ন করছি।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকে স্মরণকালের সবচেয়ে আলোচিত হ্যাকিং ঘটনার পর একই বছরের ১৮ জুলাই সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ বৈঠক করেন। এতে সরকারের শীর্ষ কয়েকজন প্রতিনিধির পাশাপাশি গভর্নরসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে আইটি অডিট করানোর নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, আইটি অডিটের বিষয়টি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী করতে হবে। এক্ষেত্রে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সক্ষম হলে নিজস্ব জনবলের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি অডিট সম্পন্ন করবে।

সেটি সম্ভব না হলে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজটি করাতে হবে। দেশে যোগ্য কাউকে পাওয়া না গেলে দেশি এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে আইটি অডিটের কাজ করবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের ইনফরমেশন সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগ আইটি অডিটের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন সিস্টেম ব্যবস্থাপক (বর্তমানে নির্বাহী পরিচালক, প্রোগ্রামিং) দেব দুলাল রায় স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি অডিট করাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় সহায়তা চাওয়া হয়। চিঠিতে যেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা চাওয়া হয় তার মধ্যে রয়েছে, সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষা পেতে আর্থিক লেনদেন সংশ্লিষ্ট নতুন সফটওয়্যার ভার্সনের চেক ক্লিয়ারিং সিস্টেম ও ইএফটি সিস্টেম নতুন নেটওয়ার্ক স্থাপনা ব্যবহার করে নতুন নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরূপণ ও তা নিরাময় করা।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোতে বাইরে থেকে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন কর্তৃক সাইবার আক্রমণ, ম্যালওয়্যার অনুপ্রবেশ, ডিডস আক্রমণসহ অন্যান্য আক্রমণ নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধে সহযোগিতা প্রদান এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তাদের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা। চিঠিটি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ ব্যাংককে আইসিটি বিভাগের ডাটা সেন্টারের পরিচালক এবং সিএ অপারেশন ও নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক তারেক এম বরকতউল্লাহ স্বাক্ষরিত ফিরতি চিঠিতে বলা হয়, বিসিসির সাইবার নিরাপত্তা টিমের স্পর্শকাতর গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমের ভিএপিটি করার সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা নেই।

এক্ষেত্রে কাজটি এনআরডি সাইবার সিকিউরিটি ও এনআরডি বাংলাদেশ লিমিটেডকে বরাদ্দের পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর কয়েক দফায় উভয় পক্ষের চিঠি চালাচালি শেষে বিসিসির পরামর্শে এনআরডি সাইবার সিকিউরিটিকে আইটি অডিটের জন্য চূড়ান্ত করা হয়।

আইটি অডিটের জন্য এনআরডি ২৫ হাজার ডলার (২১ লাখ টাকা) দাবি করে। তবে নিজেরা দরকষাকষি করে ১৮ হাজার ১৪৫ ডলারে চূড়ান্ত করে এনআরডিকে কার্যাদেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এনআরডি সাইবার সিকিউরিটি ২০১৬ সালে বাংলাদেশের জয়েন্ট স্টকে এনআরডি বাংলাদেশ লিমিটেড নামে নিবন্ধিত হয়; যার প্রায় শতভাগ মালিকানায় রয়েছে নরওয়ে। এছাড়া আইসিটি বিভাগের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রকল্প ‘বিজিডি ই-গভ সার্ট’ প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত রয়েছে এনআরডি সাইবার সিকিউরিটি।

অভিযোগ রয়েছে, বিজিডি ই-গভ সার্টের দায়িত্বরত কর্মকর্তা তারেক এম বরকতউল্লাহর আগ্রহে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি অডিটের কাজটি এনআরডি পেয়েছে। নরওয়ে ও লিথুনিয়ার সাইবার নীতিমালা সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার নাম করে গত বছরের ১৬ থেকে ২৪ আগস্ট দেশ দুটি ভ্রমণ করেন সরকারের তিন প্রতিনিধির একটি দল; যাতে তারেক এম বরকতউল্লাহও ছিলেন।

এই সফরের পুরো খরচ বহন করে এনআরডি এএস; যেটি নরওয়ের স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত এনআরডি সাইবার সিকিউরিটির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। আর এই সফরের বদৌলতে আইটি অডিটের কাজটি এনআরডিকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।

সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কত টাকায় অডিটটি করানো হচ্ছে এর চেয়ে বড় কথা হচ্ছে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা এবং যোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান সেটি করছে কিনা। কেননা এই অডিটের মধ্যে ফাঁক থাকলে বিলিয়ন ডলারও হ্যাকারদের কব্জায় চলে যেতে পারে। দেশীয় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এখন ব্যাংকের আইটি অডিটের কাজ করছে।

টেন্ডার ছাড়াই সরাসরি এনআরডি সাইবার সিকিউরিটিকে কাজ দেওয়ার কথা স্বীকার করে তারেক এম বরকতউল্লাহ বলেন, দেশে কোনো যোগ্য প্রতিষ্ঠান নেই। এখানে আইটি অডিটে শুধু এনআরডি কাজ করবে না, আমরাও (বিসিসি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকও সম্পৃক্ত থাকবে। ফলে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলার কি প্রভাব পড়বে বাংলাদেশে

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় খাতের প্রতিষ্ঠান আরামকো পরিচালিত দুটি তেল শোধনাগারে হামলার পর আরামকো জানিয়েছে এশিয়ার অনন্ত ছয়টি রিফাইনারি তেল কোম্পানি অক্টোবরের জন্য যে পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বরাদ্দ করা আছে তার পুরোটাই সরবরাহ করা হবে।

যদিও একটি কোম্পানিকে বলা হয়েছে তেলের মান সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। খবর বিবিসি বাংলার

সৌদি আরব থেকে এশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশও আছে।

গত শনিবার এই হামলার পর সৌদি আরব বলছে তাদের সংরক্ষণাগারে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে, সেটা দিয়ে তারা তাদের ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পারবে।

হামলার পর সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এই প্রথমবারের মত এশিয়ার শীর্ষ ক্রেতাদের কাছে ইঙ্গিত দেয়া হল যে তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল থাকবে।

এই দেশগুলোতে সৌদি আরব তার মোট রপ্তানির ৭০%-ই দিয়ে থাকে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্স কে বলেছেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) অক্টোবরের জন্য বরাদ্দকৃত জ্বালানী তেলের সম্পূর্ণটাই পাবে।

এই কর্মকর্তা বলেছেন গতকাল আমাদের পরবর্তী চালান নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং তারা আমাদের নিশ্চিত করেছে তেল পৌঁছাতে কোন দেরি হবে না।

সেপ্টেম্বরের ২৮ তারিখে এক লাখ টন আরব লাইট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পাঠানোর কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন সৌদি আরবের আরামকো থেকে বার্ষিক ৭ লাখ টন আরব লাইট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে।

এদিকে, অন্য একটা কোম্পানিকে বলা হয়েছে কার্গোতে দেরি হতে পারে তবে অক্টোবরে জন্য তেলের পরিমাণ এবং মান একই রকম থাকবে।

ভারতের তিনটি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়ম কর্পোরেশন লি. এবং ম্যানগালোর রিফাইনারি এন্ড পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড – এই তিনটি কোম্পানি রয়টার্সকে জানিয়েছে সৌদি আরব থেকে অক্টোবরের জন্য তাদের চাহিদা অনুযায়ী পুরোটাই পাবে।

কিন্তু আরামকো ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশন কে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা আরব মিক্স অয়েল-এর পরিবর্তে কিছু পরিমাণ আরব হেভি অয়েল। যদিও রয়টার্স তাদের সংবাদসূত্র উল্লেখ করেনি, কারণ গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার এখতিয়ার ঐ ব্যক্তির নেই।

এটা ইঙ্গিত করে সৌদি আরব এখন লাইট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পরিবর্তে হেভি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল প্রস্তাব করছে।

কারণ আরব মিক্স তেল হলো লাইট এবং হেভির মিশ্রণ। যদিও ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন থেকে তাৎক্ষণিক কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শনিবারের হামলায় আবকাইক তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই শোধনাগারটিতে ঘাওয়ার, শাইবাহ এবং খুরাইস তেলক্ষেত্র থেকে পরিশোধন করে এবং আরব লাইট বা আরব এক্সট্রা লাইট উৎপাদন করে।

চীন এবং তাইওয়ানের দুটি কোম্পানি জানিয়েছে, আরামকো তাদের বলেছে, তেলের চালানের সময়ের কোন পরিবর্তন হবে না।

এশিয়ার বাজারে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত এবং থাইল্যান্ড সৌদি আরবের লাইট এবং আরব এক্সট্রা লাইট তেলের প্রধান ক্রেতা।

সোল ভিত্তিক একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়াতে তেল সরবরাহের কোন বিঘ্ন হবে এমন কোন ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা হলেন বাংলাদেশি তরুণী আফিয়া

বাংলাদেশে নারীরা দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যুক্ত হয়ে গৌরবময় অবদান রেখে চলেছেন। এবার মার্কিন সেনাবাহিনীতে অফিসার পদে যোগ দিয়েছেন এক বাংলাদেশের তরুণী আফিয়া জাহান পম্পি (২০)।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনের চার্চ ম্যাকডোনাল্ডে পরিবারের সঙ্গে থাকেন আফিয়া। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার জমালপুর গ্রামে। আফিয়ার বাবা মিরসরাই অ্যাসোসিয়েশন এনএর সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ও মায়ের নাম নুরুচ্ছাবাহ পূর্ণিমা।

আফিয়ার মা-বাবা সাংবাদিকদের জানান, তাদের সংসারে তিনকন্যা সন্তান রয়েছে। আফিয়া ছাড়া অপর দুই মেয়ের নাম সাদিয়া ও পৃথা। ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে আফিয়া যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানেই পড়াশোনার পাশাপাশি সংস্কৃতিও চর্চা রয়েছে আফিয়ার। বর্তমানে ফার্মিং ডেল স্টেট কলেজের ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের শেষ বর্ষের ছাত্রী আফিয়া।

মন্ত্রিত্ব গেলে আবার সাংবাদিকতায় আসব: ওবায়দুল কাদের

মন্ত্রিত্ব হারালে সাংবাদিকতায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা (সাংবাদিক) আজকের এমন একটি সুন্দর অনুষ্ঠানকে পত্রিকার শিরোনাম রাজনৈতিক করার জন্য ভিন্ন দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা প্রাসঙ্গিক না কেন?

এসময় সেতুমন্ত্রী বলেন, আপনারা সাংবাদিকতা করেন, আমিও আপনাদের অগ্রজ। মন্ত্রিত্ব গেলে আমি আবার সাংবাদিকতায় ফিরে আসব।

ছাত্রদলের সম্মেলন বন্ধ নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রদলের সম্মেলন বন্ধ হয়েছে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তাদের বিরুদ্ধে তারা মামলা করে সম্মেলন বন্ধ করেছে। এখানেও শেখ হাসিনার দোষ। যত দোষ নন্দ ঘোষ। এখানে আওয়ামী লীগের দোষ কি?

উল্লেখ্য, পঁচাত্তর পরবর্তীতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ওবায়দুল কাদের। এরপর আশির দশকে শেখ ফজলুল হক মনি প্রতিষ্ঠিত দৈনিক বাংলার বাণীতে কাজ করতেন তিনি।

দেশপ্রেম ও সৎকর্মের মধ্য দিয়ে গণমানুষের হৃদয়ে অধিষ্ঠিত হয়েছেন এম আব্দুর রহিম

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের উজ্জ্বল নক্ষত্র এম আব্দুর রহিম তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম ও সৎকর্মের মধ্যে দিয়ে গণমানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা পরবর্তীকালে তাঁর অবদানের কথা দেশের মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

এসময় তিনি নতুন প্রজন্মকে এম আব্দুর রহিমের আদর্শ অনুসরণের আহবান জানান।

তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে দিনাজপুরে ঐতিহাসিক গোর এ শহীদ ময়দানে এম আব্দুর রহিম সমাজ কল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত জননেতা এম আব্দুর রহিমের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় এ কথা বলেন।

স্পীকার বলেন, যুগে যুগে পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষের আবির্ভাব ঘটে যাঁরা নিজের চেয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণের কথা অধিক গুরুত্বের সাথে চিন্তা করেন। মরহুম এম আব্দুর রহিম ছিলেন তেমনই একজন। তিনি দেশের জন্য ও এ অঞ্চলের গণমানুষের অধিকার আদায়ে আজীবন সোচ্চার ছিলেন।

তিনি বলেন, এম আব্দুর রহিম ছিলেন শিক্ষানুরাগী আদর্শবান ব্যক্তিত্ব। সমাজ সেবায় তিনি রেখেছেন উজ্জ্বলতার স্বাক্ষর। তিনি ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সংবিধান প্রণেতা—এ আদর্শবান নেতা নতুন প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে—এগিয়ে যাবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে ‌আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ অনন্য উচ্চতায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়নের সকল সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ়–দারিদ্রের হার ৪০ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে কমে এসেছে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হবে বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে এম আব্দুর রহিম সমাজকল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি এডভোকেট আজিজল ইসলাম জুগলু এর সভাপতিত্বে মরহুম এম আব্দুর রহিমের জেষ্ঠ্য পুত্র বিচারপতি এনায়েতুর রহিম, বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক নঈম নিজাম, একাত্তর টিভি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে এম আব্দুর রহিম এর কনিষ্ঠ পুত্র বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম, পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম, এম আব্দুর রহিম সমাজকল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি এডভোকেট আজিজল ইসলাম জুগলু, কার্যকরী সভাপতি সফিকুল হক ছুটু, সাধারণ সম্পাদক চিত্ত ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।

পরে এম আব্দুর রহিমের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন স্পীকার। এর আগে দুপুরে স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী দিনাজপুরে পৌঁছে জননেতা এম আব্দুর রহিমের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং এম আব্দুর রহিমের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনজাতে অংশ নেন।

বাংলাদেশের তরুণরা চাকরিতে যেসব দক্ষতায় পিছিয়ে

বাংলাদেশের স্কুল-কলেজগুলো থেকে তরুণ-তরুণীরা যে শিক্ষা পাচ্ছে, তাতে তারা কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে আসে।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক, বিআইজিডি এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে এ জরিপটি চালায়। খবর বিবিসি বাংলার

সারা বাংলাদেশে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী চার হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণীর ওপর এ জরিপ পরিচালনা করা হয়।

সেখানে দেখা যায় যে, এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে কম্পিউটার ও ইংরেজি ভাষায় আত্মবিশ্বাসী মাত্র ১৬ শতাংশ। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের মাত্র এক-পঞ্চমাংশ মনে করেন যে, তাদের শিক্ষা চাকরি পাবার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

জরিপের গবেষকদের একজন নিম্মি নুসরাত হামিদ বলেন, বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশই তরুণ-তরুণী, যারা আগামীতে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে।

তাই এই তরুণদের চাওয়ার পাওয়া বা সমস্যার বিষয়গুলো জানতে এবং কোন ধরণের ক্ষেত্রগুলোয় কাজ করলে তাদের সুবিধা হবে- সেই বিষয়গুলো তুলে ধরতে গবেষণাটি বেশ সময়োপযোগী।

তিনি বলেন, আজকালকার তরুণরা কোন দিকটায় ভাল, তারা কোন বিষয়গুলো নিয়ে বেশি ভাবে সেই ব্যাপারে তাদের মতামত জানাটা জরুরি।

গবেষণা পরিচালনা করতে গিয়ে দেখা গেছে, শুধুমাত্র চাকরি নয়, কেউ যদি উদ্যোক্তা হতে চান, তাহলে তারা ব্যবসা করার পুঁজি কোথা থেকে পাবে, এমনকি নিজেদের চাহিদাগুলোর ব্যাপারে বেশিরভাগ তরুণ সচেতন না বলে জানান তিনি।

এক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মিজ হামিদ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের যুব সমাজ স্কুল কলেজে যে শিক্ষা পাচ্ছে, সেটা তাদেরকে কর্মজীবনের জন্য পরিপূর্ণ রূপে তৈরি করতে পারছে না।

কেননা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরণের দক্ষতার শিক্ষার অভাব রয়েছে। আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তারা যেই দক্ষতা অর্জন করছে সেই দক্ষতা অনুযায়ী পর্যাপ্ত চাকরি নেই।

আবার যেই চাকরিগুলো রয়েছে, সেগুলোয় ভাল করার জন্য যে দক্ষতা প্রয়োজন। সেই দক্ষতা আমাদের যুব সমাজের নেই।

যেমন কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষতা, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা অথবা কারিগরি যেকোন ধরণের প্রশিক্ষণ।

গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র ১৪% তরুণ-তরুণী কারিগরি প্রশিক্ষণ পেয়েছে। আবার এই দক্ষতার মাপকাঠিতে দক্ষ তরুণের হার ২৪%- অর্থাৎ তারা তাদের কম্পিউটারে দক্ষতার ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী।

অথচ নারীদের কম্পিউটারে দক্ষতার হার মাত্র ১০%।

অন্যদিকে ইংরেজিতে দক্ষতায় এগিয়ে ২১% তরুণ। যেখানে নারীদের এই ভাষাগত দক্ষতার হার মাত্র ১৪%। অর্থ্যাৎ দক্ষতার দিক থেকে নারীরা এখনও অনেকটাই পিছিয়ে আছে।

এই ব্যবধান শহরের চাইতে গ্রামে আরও বেশি চোখে পড়ে। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, স্কুলে শিক্ষার মান তেমন উন্নত হয়।

আবার যেসব স্কুলে মানসম্মত পড়ালেখা হয়, সেখানে ভর্তি হওয়ার মতো সুযোগ বা সামর্থ্য নেই অনেকের।

গবেষণায় উঠে এসেছে, যেসব তরুণ-তরুণীরা এখনও লেখাপড়া করছেন, তাদের মূল লক্ষ্য থাকে পড়াশোনা শেষে দেশের বাইরে যাওয়া। কারণ দেশে থেকে কিছু করার ব্যাপারে তারা একদমই আশাবাদী না।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষিত তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া পাড়ি জমাতে চান সবচেয়ে বেশি।

আবার যারা ইংরেজি ভাষা এবং কম্পিউটারে বেশ দক্ষ, তারা যেতে চায় অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশে।

এই দেশ ছাড়ার মূলে রয়েছে এই দেশের তরুণ সমাজের জন্য এখনও বড় ধরণের কোন রোল মডেল নেই। অন্তত ৫৪% শিক্ষার্থী তাই মনে করে।

এক্ষেত্রে সরকারের নেটওয়ার্কিং বাড়িয়ে এই শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রের যুক্ত করতে আরও দক্ষ করে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করেন মিজ হামিদ।

সরকারি চাকরি তো সবাই করে। কিন্তু সরকারি চাকরির বাইরেও এই তরুণদের আরও অনেক সম্ভাবনাময় সুযোগ রয়েছে সেগুলো তাদের খুঁজে দিতে হবে।

তরুণ-তরুণীদের হতাশার অন্যতম কারণ, তারা মনে করে যে তাদের কথাগুলো শোনার মত কেউ নেই। অথচ এই তরুণরাই আমাদের পথ দেখাবে।

বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্বে ১৩তম, দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয়: টিআই

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)-এর দুর্নীতির ধারণা সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশে দুর্নীতি বেড়েছে। শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৩তম। গেলো বছরে যা ছিল ১৭তম। অর্থাৎ এই সূচকে এক বছরে বাংলাদেশের ৪ ধাপ অবনতি হয়েছে। যাকে বিব্রতকর অবনতি বলছে টিআই। আর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এই অবস্থান দ্বিতীয়।

আজ মঙ্গলবার জার্মানির বার্লিন থেকে বিশ্বজুড়ে এই সূচক প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। বাংলাদেশের বিষয়ে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সেখানে দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৮-তে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্কোর ১০০ এর মধ্যে ২৬। যেটা ২০১৭ সালের তুলনায় দুই পয়েন্ট কম। অর্থাৎ আমাদের ২ পয়েন্ট অবনতি হয়েছে শতকরা হারে। বাংলাদেশের র‌্যাংকিংয়ের বিবেচনায় এই পরিস্থিতি আরও বিব্রতকর। ওপর থেকে ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪৯তম।

যেটা গতবারের তুলনায় ৬ ধাপ নিচে। গতবার ছিল ১৪৩তম স্থানে। ১৮০টি দেশের ওপর টিআই এই জরিপ চালিয়েছে। জরিপে ০ থেকে ১০০ নম্বরের স্কেলে দেশগুলোকে নম্বর দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে কম নম্বর (১০ স্কোর) পেয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হয়েছে সোমালিয়া। তারপরেই রয়েছে (১৩ স্কোর) সিরিয়া ও দক্ষিণ সুদান। তৃতীয় অবস্থানে (১৪ স্কোর) রয়েছে ইয়েমেন ও উত্তর কোরিয়া। এই দেশগুলোর বেশির ভাগই চরমপন্থা ও যুদ্ধবিধ্বস্ত।

আর সবচেয়ে বেশি (৮৮ স্কোর) পেয়ে সবেচয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ বিবেচিত হয়েছে ডেনমার্ক। কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে এর পরেই রয়েছে (৮৭ স্কোর) নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় অবস্থানে (৮৫ স্কোর) রয়েছে ফিনল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সুইডেন ও সু্ইজারল্যান্ড। বাংলাদেশের সঙ্গে একইরকমভাবে ২৬ স্কোর পেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে ১৩ নম্বর অবস্থানে রয়েছে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও উগান্ডা।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা খাতে উন্নয়ন 

আত্মতুষ্টি মানুষের সকল কর্মকাণ্ডের এক প্রেরণার উৎস। কোনো কাজ করে যদি মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায় তাহলেই মানুষ ঐ কাজের দিকে ধাবিত হবে। মানুষ সমাজিক ভাবে এ জগৎ সংসারে আগমন করে বিশেষভাবে কোনো না কোনো দ্বায় দ্বায়িত্ব নিয়েই। অর্থাৎ, বলতেই হয় এক ধরনের আদর্শ জীবন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। এ আদর্শের বিচিত্র কর্মকান্ডে সুন্দর জীবনকে যদি মুখরিত করে তোলা যায়, তবে জীবন যাপনের স্বার্থকতা প্রমাণিত হয় বৈকি। পরের জন্য নিজেকেই বিলিয়ে দিতে হবে আদর্শকে প্রতিষ্ঠার জন্য, তবেই হয়তো বা মানুষকে আনন্দ দান করা সম্ভব। এর মাঝে রয়েছে মানসিক প্রশান্তি। আর মহৎ কার্যাবলিই মানুষকে দিতে পারে সুখের সন্ধান। সুতরাং সুখের সন্ধানেই প্রবেশের ১ম দিক হচ্ছে শরীর ও মন। শরীর ও মনের সংমিশ্রণেই গড়া এই মানুষ। স্বাস্থ্য ভালো থাকলেই মানুষ সকল কাজে উৎসাহ পায়, তেমনি মনের প্রশান্তির জন্যেও দরকার আত্মতুষ্টি। আত্মতুষ্টি দেয় কর্মপ্রেরণা। তাই সন্তুষ্টির সাথে যেকোনো কাজ করলে তার ফলাফল সুদূরপ্রসারী হয়ে থাকে। জনতার জনপ্রিয় জননেত্রী ‘শেখ হাসিনা’ আজকের বাংলাদেশকে আত্ম বিশ্বাস কিংবা আত্মতুষ্টির সহিত পরিচালনা করে ফলাফল দাঁড় করাতে পেরেছে একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে।

 

তিনি সুস্বাস্থ্যের ও সাফল্যের মানুষ, তাই তো দেশের মানুষের জন্যে সু-চিকিৎসার বৃহৎ ভাবনা। আবারও যদি ক্ষমতায় আসে, বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করেই মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করবে বলেই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কখনো ছিল না, তা নির্মাণ করার পরিকল্পনা নিই। দেশের মানুষ সুলভে সুচিকিৎসা পাবে, তাদের সন্তান সেখানে পড়া শোনা করে খুব ভালো ডাক্তার হবে। জাতির পিতা প্রতিটি উপজেলায় দশ বেডের হাসপাতাল করেছিল, মানুষ সেখানেই স্বাস্থ্যসেবা যুগোপযোগী মানের পাশাপাশি ডাক্তার তৈরি বা মেডিকেল ‘ছাত্র/ছাত্রীরা’ চিকিৎসা পদ্ধতির বিভিন্ন ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেই যেন তাদের মননশীলতাকে বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এমন ধরনের হাসপাতাল গুলো নির্মিত ছিল। কিন্তু আজকে আর নেই ”জাতির পিতা”, তাঁর স্বপ্ন ‘শেখ হাসিনা’র’ চিন্তা চেতনায় রেখেছে এবং তা বাস্তবেই রূপ নিচ্ছে। তাই তো জননেত্রী শেখ হাসিনা, জাতির পিতার সেই স্বপ্ন পুরনে ইতিমধ্যেই রাজশাহী এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় শুরু করেছে। তা ছাড়া, আরও একটি সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুাব পাশও হয় পার্লামেন্টে । আরও বাঁকি “পাঁচটি” বিভাগীও শহরে ‘মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’ হাতে নিয়েছে। “আওয়ামী লীগ সরকার” আবারও ক্ষমতায় এলে সেই গুলোর কাজ শুরু করবে। এখানে স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশিও ছাত্র ছাত্রীদের সুশিক্ষার প্লাটফর্ম সৃষ্টি হবে। নওগা, নীলফামারি, মাগুরায় “মেডিকেল কলেজ” করাও হচ্ছে। চাঁদপুরেও একটি “মেডিকেল কলেজ” করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জানা যায় যে, এই খানে কর্মরত নার্সদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী তাদেরও সরকারী ২য় শ্রেণীর মর্যাদা দেয়া হয়েছে। সুশিক্ষা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে ‘বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’ হবে, তাকেই ‘আধুনিক’ সেবা’র সঙ্গেই উন্নত শিক্ষার এক সেন্টার অব এক্সসিলেন্স তৈরি হবে। সুতরাং এ দেশে সু-চিকিৎসার সহিত শিক্ষা, মেধা বৃত্তি’র সহিত সু-চিকিৎসার প্রতিষ্ঠান নির্মাণের পাশা পাশিও যেন সেখানে ডাক্তারদের গবেষণায় সমগ্র বিশ্ব থেকে বহু সহায়তা পাচ্ছে।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু’কে হত্যার পরে দেশে চিকিৎসা খাতে উন্নয়ন কিংবা গবেষণায় কোনো ধরনের অভূতপূর্ব বরাদ্দ ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ১ম থেকে বরাদ্দ দেয়ার প্রক্রিয়া চালু করে। সুতরাং উল্লেখ করার মতোই বহু উদহারণ রয়েছে। চিকিৎসার গুণ গত মানোন্নয়নের লক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হলো, শিশুদের টিকা দান কর্ম সূচির সাফল্য। এক্ষেত্রেই বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম আদর্শ দেশ হিসেবে পরিনত হয়েছে। এই দেশের টিকা দান কর্ম সূচিতে মুলত ৬ টি রোগের টিকা প্রদান করছে। যেমন হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া, হাম ও পোলিও মতো রোগের চিকিৎসাতে। এ চিকিৎসাতে জাতিসংঘ কর্তৃক পুরস্কৃত হয়েছে বাংলাদেশ। এমন দেশকে এখন পোলিও মুক্ত রাষ্ট্র ঘোষণা করাও হয়।

 

আওয়ামী লীগ সরকারের অর্জন অনেক। এ অর্জন গুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশেষজ্ঞদের আলোচনা থেকে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় শেষ করার মতো এমন এই স্বাস্থ্য এবং চিকিৎাসা’র খাত নয়। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সমস্যা অনেক ব্যাপক। তার সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী। বিদ্যমান স্বাস্থ্যখাত মোকাবিলা করেই জনস্বাস্থ্যে’র উন্নয়ন সাধনে স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কাজ করেছে এবং তারা ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যখাতে যথেষ্ট উন্নয়নে খ্যাতিও অর্জন করেছে। এমন অগ্রগতি ও অর্জনের মধ্যে ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকার, হাম, কুষ্ঠ, যক্ষ্মা, হুপিং কাশি, পোলিও, মাইলাইটিস রোগ এর বিস্তার এখন অনেক নিয়ন্ত্রণে।

 

আওয়ামী লীগ সরকার ২০০১ সালে বাংলাদেশকে পোলিও মুক্ত করেছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও যা সত্য তা হলো, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মৌলবাদীদের বাধা দেয়ার কারণেই এ দেশ আবার পিছিয়ে যায়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অর্জনেও বাধা হয়েছিল। এখন ‘দুর্ভিক্ষ’ কিংবা ‘মঙ্গা’ এইদেশে নেই। সে কারণে মানুষ আজ অনেক সুস্থতার মধ্যেই অবস্থান করছে। মানুষের সচ্ছলতাও বেড়েছে। তাই মানুষের গড়পড়তা ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণও যেন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মানুষের ”কর্মক্ষমতা” বেড়েছে। পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের উন্নতির ফলে গড় আয়ু বেড়ে ৭১.২ বছর হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের এমনই বহু সাফল্য “জাতি সংঘ ঘোষিত” সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারিত সময়ের দু’বছর আগে বাংলাদেশ তা অর্জন করে ফেলেছে। সুতরাং, এ আওয়ামী লীগের বলিষ্ঠ জনপ্রিয় নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী “এমডিজি এ্যাওয়ার্ড ২০১০”, আবার তিনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ‘তথ্য প্রযুক্তি’র’ সফল প্রয়োগের জন্যে পায় ‘সাউথ-সাউথ এ্যাওয়ার্ড ২০১১’ সহ বেশকিছু আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পুরস্কার।

মহান স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে তোলা জাতিসত্তা তথা জাতীয় ঐক্য ও মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন, এ দেশের মানুষের চেতনায় যে কোনো কিছু অর্জনের ক্ষেত্রেই একধরনের অদম্য সাহস সঞ্চারও করেছে। সুতরাং, জানা যায়, এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশে এখনো এই অদম্য সাহসের আলোকে টিকা দান কর্মসূচিতেই বাংলাদেশের মতো সফলতা পায়নি। এই সরকারের উল্লেখযোগ্য বিষয় তা হলো বাংলাদেশে এখন আর পোলিও রোগ নেই। অতএব বলা দরকার তাহলো, গ্রামীণ জনজীবনে “চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য” সচেতনতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ সরকার ভ্রাম্যমান মেলাকে কার্যকর করে। এ ধরনের মেলার আয়োজনে থাকে বিষয়ভিক্তিক বহু চলচ্চিত্র, যাত্রা, কৌতুক, কথকতা কিংবা ক্রীড়া সহ বিভিন্ন বিষয়ের মাধ্যমেই স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেশ। এধরনের অনুষ্ঠান উপস্থাপনের মাধ্যমে স্কুল, কলেজ ও বিশ্বববিদ্যালয় এর ছাত্রছাত্রীরা গ্রামহিতকর স্বাস্থ্য রক্ষার কাজেও স্বেচ্ছাকর্মীর ভূমিকা রাখতে পারে, এমন অভিমতেই জননেত্রী শেখ হাসিনা’র বিশ্বস এবং আস্থা রয়েছে।প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের হাসপাতাল গুলো থেকে ভিডিও কনফারেন্স করেই অভিজ্ঞ ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়ার ব্যবস্থা করেছে। স্বাস্থ্য বাতায়নের এ প্রকল্পে মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই যেন স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির সুবিধা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে গ্রামের রোগীরাও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতামত পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। সুতরাং এই বাংলাদেশের রোগীরা এখন উন্নত সু-চিকিৎসার জন্যে বিদেশে কম যাচ্ছে এবং ‘জটিল ও দুরারোগ্য’ রোগের চিকিৎসা দেশেই গ্রহণ করতে শুরু করেছে এবং তারা সু-চিকিৎসাতে সফলতাও পাচ্ছে। অনেক অটিস্টিক শিশুদেরকেই তিনি অবহেলার জায়গা থেকে আদর এবং বিশেষ মনোযোগের জায়গায় এনেই ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার মানবিক ব্রত নিয়েছে। এভাবে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে সম্মানিত হচ্ছে।

 

ইতিহাসেই বলে আওয়ামীলীগের সম্মেলনের একটি কর্মসূচী ঠিক করে বলেন, এমন দল ক্ষমতায় গেলে একটি চমৎকার অর্থনীতি চালু হবে। যেখানে সকল মানুষ, বিশেষত গরিব অসুস্থ মানুষের খাদ্য নিশ্চিত, শিক্ষা, বাসস্থান এবং চিকিৎসা সহ বাঁচার পরিবেশ পাবে। তারা সে কথাটি রেখেছে। আজ তারা সফল, স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দিয়েছে। সুতরাং বলতেই হয় যে, “আওয়ামী লীগ সরকার” কথা দিয়েই কথা রাখতে পেরেছে। স্বাস্থ্যখাতকে যুগোপযোগী করতে প্রণয়ন করেছে জাতীয় স্বাস্থ্য নীতিমালা-২০১১। জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সুগভীর আলোচনাতে উঠে আসে যে গ্রামীণ জনসাধারণের বাড়ী বাড়ী স্বাস্থ্য সেবা পৌছে দেয়ার জন্য স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতি ছয় হাজার জনগণের জন্য ১ একজন করে ২,০৮,৮১ জন স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে তদারকীর করতে ১৩৯৮ জন স্বাস্থ্য পরিদর্শকের সহিত আরও ৪,২০২ জন সহকারী স্বাস্থ্যপরিদর্শক নিয়োগ করেছে। তারা বাড়ী বাড়ী ঘুরে জন্ম কিংবা মৃত্যু নিবন্ধন, ঝুঁকি পূর্ণ রোগী সনাক্ত করণ, সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ, মা ও নবজাতকের সেবা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষার পাশাপাশি এ দেশের ‘দরিদ্র’ জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য সচেতন করেছে।৪ দশকের অধিক সময় ধরেই মরণব্যাধি গুটিবসন্ত, ম্যালেরিয়ার মহামারি ডাইরিয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৭৯ সালে দেশে মা ও শিশুর মরণ ব্যাধি সহ অসংখ্য রোগ বানাই থেকে রক্ষার জন্যেই যেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায়

 

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচী (ইপিআই) চালু করা হয়েছে। তাই এমন কর্মটি ‘স্বাস্থ্য’ সহকারীর উপরেই বাস্তবায়নের গুরুদায়িত্ব প্রদান করেছে। বর্তমানের এক জরিপে “ইপিআই” কর্মসূচীর সাফল্য আসে ৮২ শতাংশ। সম্প্রতি এশিয়ায় মধ্যে মোট ১২ টি দেশেই জরিপ চালিয়ে ইপিআই কর্মসূচীতে এ দেশই প্রথম স্থান লাভ করে। এমন ধরণের চিকিৎসার উন্নয়নেই এক সময় বাংলাদেশের পরিচয় দিতে দেশের সকল জনগণ গর্ববোধ করবে। বাংলাদেশের এ স্বাস্থ্য খাত অবিশ্বাস্য ধরনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন, তা অবিশ্বাস্য হলেও ইতিবাচক। শুধুই ইতিবাচক নয়, ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন দেশগুলোর জন্যে বৈশ্বিক মডেল। সুতরাং প্রাসঙ্গিকভাবেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বৈপ্লবিক উন্নতি গুলো এখন সমগ্র পৃথিবীর স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী, স্বাস্থ্যবিষয়ক নীতি নির্ধারক ও স্বাস্থ্য বিষয়ক দাতা সংস্থার কাছেই যেন রীতিমতো একটি মীরাকেল। ‘হাভার্ড’, ‘ক্যামব্রিজ’, ‘অক্সফোর্ড’, ‘লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন এন্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন’, ‘জন হফকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়’, ও ‘ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুর’ সহ বর্তমান পৃথিবীর সকল নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের জাদুকরী উন্নয়নের মডেল গুলো পড়ানো হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য, ‘লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন এন্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন’, ‘জন হফকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়’, ‘আইসিডিডিআরবি’, ‘হাভার্ড স্কুল অফ পাবলিক হেলথ’ এবং ‘ব্র্যাক’ এর সঙ্গেই বাংলাদেশেরও অনেক বড় বড় আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিষদ তা পরিচালনা করেছে এবং করছে। শহরের নিম্ন আয়ের মানুষ বা মধ্য বিত্তদের জন্য নতুন হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া উন্নত বিশ্বের মতো নতুন বিশেষায়িত হাসপাতালের ধারাবাহিকতায় নতুন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেও এবং আগামীতে আরও হবে।

 

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এ – ২৫ শয্যার একটিমাত্র বার্ন ইউনিট ছিল এখন সেখানে আলাদা ভবনে উন্নতি করে একে সম্প্রসারিত এক ‘আধুনিক বার্ন ইউনিট’ করা হয়েছে। এখন আলাদা এক ধরন ইনস্টিটিউট করেই বরাদ্দ করা এমন বড় জায়গাতে বিশাল আকারের- “বার্ন হাসপাতাল” নির্মাণ হয়েছে।এছাড়াও প্রতিটি সরকারী ও বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কিংবা জেলা হাসপাতালেও এই ধরনের সহায়কতামূলক “বার্ন ইউনিট” খোলা হচ্ছে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ কিংবা গোত্র নির্বিশেষে বাংলাদেশের সব মানুষের শারীরিক, মানসিক, দুর্ঘটনায় অসুস্থতা নিয়েই এই আওয়ামীলীগ স্বাস্থ্যখাতে কাজ করেছে।

আজকের তরুণ প্রজন্মকে সামনে রেখে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ গ্রহণ করেছে। তাই চিকিৎসা ক্ষেত্রকেই শুধু সু-বিস্তৃত নয়, আবার সমগ্র বাংলাদেশকে শুধু ‘চিকিৎসক’ দ্বারা পরিচালিত নয়, বহু ধরনের হাসপাতাল নির্মাণ করেও নয়, উন্নয়নের লক্ষ্যে গুণগত মানসম্পন্ন বিভিন্ন প্রকারের দেশী বা বিদেশী ওষুধের দিকে নজরও দিয়েছে। এই জন্যেই তিনি ওষুধ নিয়ন্ত্রণের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। ক্ষতিকর এবং অপ্রয়োজনীয় ওষুধকে নিয়ন্ত্রণ করা সহ বেশিদামী ওষুধের আমদানি বন্ধ এবং নিষিদ্ধও করেছে। তাছাড়াও এ ওষুধের যৌক্তিক ও নিরাপদে ব্যবহার নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। ক্ষতিকর ওষুধ বাতিল করে সেইসঙ্গে তিনি ওষুধের উৎপাদন বা মান নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ওষুধ প্রশাসন পরিদফতর গঠন করেছে। বহুজাতিক অথবা দরকার নেই এমন ধরণের অপ্রয়োজনীয় ওষুধ গুলোর কোম্পানি যেন বাতিল হয় তার যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। এই দেশের জনসাধারণ কম দামে ওষুধ খেতে পারে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। এই ভাবেই তিনি পূর্ণাঙ্গ না হলেও ওষুধ নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা তৈরি করেছে, যাকে এই বাংলাদেশের প্রথম ওষুধনীতি বলা যেতে পারে।

 

বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের হতদরিদ্র মানুষদেরই স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে গড়ে তোলেছে মোট- ১২ হাজার ৭৭৯ টি কমিউনিটি ক্লিনিক। তাছাড়া ৩১২টি উপজেলা হাসপাতাল’কেও উন্নীত করেই ৫০ শয্যায় নিয়ে এসেছে। মেডিকেল কলেজ, জেলা হাসপতাল এ ২,০০০ শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। জননেত্রী ‘শেখ হাসিনা’ একটি পরিসংখ্যান উল্লেখ করেই যা বলেন, তাহলো:- এমন বাংলাদেশের পরিবার পরিকল্পনা বা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিশ্বের নিকট অনেক গুরুত্ব পূর্ণ উদাহরণ। যদি ১৯৮০ সালের দিকে এ বাংলাদেশের সন্তান জন্মদানের সক্ষমতায় দৃষ্টিপাত করা হয় তবে প্রতিটি নারী গড়ে সাতজন সন্তান জন্মদান করেছে। আর ২০১৫ সালের এক গবেষণার তথ্যানুযায়ী সেই সংখ্যা কমিয়ে এনে দুই জনে দাঁড় করেছে। সুতরাং, বাংলাদেশে জন্ম নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা অতুলনীয়। মাতৃ ও শিশুর মৃত্যুহার, জন্মহার হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। তাই তো, পারিবারিক সেবাকে মৌলিক হিসেবে দেখেছে এবং সময়ের চাহিদা মনে করেছে। এই সেবাটি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে এসে তিনি নির্মাণ করেছে নতুন নতুন বারটির মতো মেডিকেল কলেজ, আর সেখানেই নিয়োগ দিয়েছে ৪৭ হাজারেরও বেশি জনশক্তি। “মন্ত্রণালয়” কিংবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র এ প্রকল্পটি আরো অনেক বেশি করেই উন্নয়নে অগ্রসর হবে। আগামীতে যদি “নৌকা প্রতীক” বা ‘আওয়ামী লীগ’ ক্ষমতায় আসে।স্বাধীনতার পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন দেশটির হাল ধরলেন তখন সারাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল বেহাল। তিনিই গরিব মানুষের জন্যে স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যেই এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে জাতীয়করণ করে। সুতরাং আজকে তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী ‘শেখ হাসিনা’ বিভিন্ন শ্রেণীর গরিবদের জনবান্ধব মনে করেই, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য এবং আদর্শকে মানুষ মুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে কাজের ফলেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত তৃতীয় বিশ্বের রোল মডেলে রূপান্তরিত হয়েছে। এই দেশের ‘স্বাস্থ্য’ খাতে অনেক ইতিবাচক ফল পাওয়া গিয়েছে। সম্প্রসারিত সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের সফলতায় বাংলাদেশ বিশ্বের উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। কালা জ্বরে মৃত্যুর হার এখন শূন্যতেই রয়েছে। তাছাড়া ‘যক্ষ্মা’ রোগের চিকিৎসায় সফলতার হার এখন ৯৪%। এইচআইভি’র বিস্তারও থামানো গেছে। ২০১১ সালে বার্ড ফ্লু প্রতিহত করাও হয়েছিল বলে জানা যায়। ইনফ্লুয়েঞ্জা, হেপাটাইটিস-বি, মামস্ সহ রুবেলার টিকা এখন “সরকারী টিকা” কর্মসূচীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পুষ্টিহীনতা দূরীকরণে ভিটামিন এ ক্যাপসুল বিতরণের প্রকল্পেও সফলতা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

 

নিরাপদ খাদ্য আইন গঠিত হয়েছে, যাতে এইদেশের মানুষ শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকতে পারে। তাই খাদ্যে ভেজাল মেশানোর যে অপতৎপরতা তাকে নিয়ন্ত্রণে যুগোপযোগী করে ‘বিশুদ্ধ খাদ্য আইন ২০১৩’ জারি হয়েছে। তাছাড়াও ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৫ জারি কিংবা ফরমালিনের আমদানি কঠোর ভাবেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। ফলে বাজারের সবজি, ফল, মাছ ও দুধে ফরমালিন মেশানোর প্রবণতা কমেছে। ভোক্তা অধিকার রক্ষা অধিদফতর স্থাপন করেছে। অতএব বঙ্গবন্ধুকন্যা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য সেক্টরে এই উল্লিখিত কাজ গুলো ভবিষ্যত তরুণদের নিকটেই উদাহরণ স্বরূপ এক ইতিহাস হয়ে রবে।

ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর রাজশাহীর সাথে সারা দেশের বাস চলাচল শুরু

রাজশাহীর সাথে সারা দেশের বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। নাটোরে বাস শ্রমিককে মারধরের জেরে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করায় দিনভর দুর্ভোগের পর বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে বাস চলাচল শুরু হয়।

রাজশাহী ও নাটোর জেলার পরিবহন নেতারা এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মনজুর রহমান পিটার জানান, নাটোরে শ্রমিকদের সঙ্গে যে সমস্যা ছিল তা সমাধান হয়েছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। এরপর রাত থেকে বাস চলাচল শুরু হয়। ফলে উত্তরের বিভাগীয় শহর রাজশাহীর সঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আবারও স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।

এদিকে নাটোর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সাগর বলেন, এক চালককে মারপিটের ঘটনায় বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে ওই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করার আশ্বাসে রাত ৯টায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এরপর নাটোর থেকে সারাদেশের যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার পর রাজশাহী থেকে ঢাকা রুটে হঠাৎ করেই বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। এরপর রাজশাহী থেকে কোনও বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। ধর্মঘটের কারণে রাজশাহী-ঢাকা রুটের সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।

রাজধানীসহ সারাদশে ভূমিকম্প অনুভুত

রাজধানীতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভুত হয়েছে। বুধবার বেলা ১০টা ৫৪ মিনিটে কম্পন অনুভূত হয়। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোন ক্ষয়-ক্ষতির খবর পাওয়া যায় নি।

 

তবে ভূমিকম্প অনুভুত হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানের মানুষ ঘরে ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেছে।

 

ভুমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভারতের আসামে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৪। হরিয়ানার সঙ্গে এ বার কেঁপে উঠল জম্মু ও কাশ্মীরও। গত চার দিনে এই নিয়ে তিন বার। উৎসস্থল সেই হরিয়ানার ঝাঝড়।

এরআগে গত ৯ এবং ১০ সেপ্টেম্বর মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল দিল্লি এবং হরিয়ানা। এ দিন ভোর সওয়া পাঁচটা নাগাদ কম্পন অনুভূত হয় ভূস্বর্গে। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪.৬। এর আধ ঘণ্টা পরেই কেঁপে ওঠে হরিয়ানার ঝাঝড়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.১।

 

গত দু’দিনও ভূমিকম্পের উৎস স্থল ছিল হরিয়ানার ঝাঝড়। কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। তবে ঘণ্টা দেড়েক বন্ধ থাকে ট্রেন চলাচল। সকাল সাড়ে আটটার পর থেকে আবার তা স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

ভারতের নিষেধাজ্ঞায় লাভবান হয়েছে বাংলাদেশ

ভারতে গরু রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে অনুসরণের পর তাতে বাংলাদেশই লাভবান হয়েছে। এমনটাই মনে করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।

 

তিনি বলেছেন, কয়েক বছর আগে ভারতের ওই সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশে গরুর উৎপাদন বেড়েছে। আর তাতে আমদানি নির্ভরতা কমে গেছে। যার ফলে বাংলাদেশই লাভবান হচ্ছে।

 

মন্ত্রী হাটে দেশি গরুর বিপুল সরবরাহ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি দেশি গরুর সারিতে ঢুকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

 

এবং বিভিন্ন জাতের দেশি গরু সম্পর্কে অবহিত হন। নারায়ণ চন্দ বলেন, ‘ভারত যখন এদেশে তাদের গরুর সরবরাহ বন্ধ করেছিল, তা আমাদের জন্য শাপে বর হয়েছে। আমরা এখন প্রাণিসম্পদে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এবার প্রায় দেড় কোটি কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে এবং তা পর্যাপ্ত। কোরবানিতে পশুর সঙ্কট হবে না’।

 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে, গত বছর কোরবানি উপলক্ষে সারা দেশে এক কোটি পাঁচ লাখ গবাদিপশু বিক্রি হয়, সেখানে এবার দেশে কোরবানিযোগ্য পশু আছে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশজুড়ে সারা বছরে প্রায় দুই কোটি ৩১ লাখ ১৩ হাজার গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া জবাই হয়।

 

এর প্রায় ৫০ ভাগ জবাই হয় কোরবানির ঈদের সময়। কোরবানির জন্য ‘প্রয়োজনের চেয়ে বেশি’ গরু থাকায় এবার ভারত থেকে গরু আনা বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন খামারিরা।

 

মন্ত্রী বলেন, ‘বৈধ পথে আসা সামান্য কিছু ভারতীয় গরু ব্যতীত হাটে বিপুল সংখ্যক দেশি গরুই প্রমাণ করে যে, দেশি গরু দিয়েই আমাদের কোরবানির কাজ সম্পন্ন হবে’।