একনেকে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

১১ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে।


আজ মঙ্গলবার একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।


সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, অনুমোদিত প্রকল্পে সরকার অর্থায়ন করবে ৮ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। বৈদেশিক অনুদান ২৬৭ কোটি টাকা, আর ঋণ ২ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা।

বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর অন্যতম জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা।

বৈঠকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো- বাংলাদেশে চারটি মেরিন একাডেমি স্থাপন প্রকল্প (৩য় সংসোধিত)। কিশোরগঞ্জ-পাকুন্দিয়া-টোক জেলা মহাসড়কে উন্নীতিকরণ প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২৯ কোটি টাকা। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে তিনটি সেতু নির্মাণ প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮৮ কোটি টাকা। স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭১২ কোটি টাকা।

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে পরমাণু শক্তি কমিশনের রেগুলেটরি ইনফ্রাস্ট্রাকচার উন্নয়ন প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। রংপুর জেলায় সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে। পল্লী কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি প্রকল্প-৩। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায় চরআত্রা এলাকা রক্ষা প্রকল্প। এতে ব্যয় হবে ৫৫৭ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩২ কোটি টাকা।

লাকসামে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ১৭৫তম শাখার উদ্বোধন

কুমিল্লার লাকসামে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিঃ এর ১৭৫তম শাখার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার লাকসাম দৌলতগঞ্জ বাজারের ব্যাংক রোডে ব্যাংকের পরিচালক আলহাজ্ব বদিউর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে শাখাটি উদ্বোধন করেন।


আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ফরমান আর চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা সেন্ট্রাল হসপিটালের পরিচালক এ.কে আজাদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, এআইবিএল কুমিল্লা জোনের জোনাল হেড ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এ.কে.এম আমজাদ হোসেন।


ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব পিআর জালাল আহমেদেও পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিঃ মোঃ হাবিবুল্লাহ, লাকসাম উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এড. রফিকুল ইসলাম হিরা, জেনিথ ফার্মাসিউটিক্যালস এর পরিচালক ড. বেলাল আহমেদ, ব্যাবসায়ি শরিফুল ইসলাম চৌধুরী, হুমায়ন কবির, মোঃ আবুল হাসেম ডিলার, আবদুল আজিজ, আবদুল্লাহ আল-মাহমুদ খসরু প্রমুখ।


অনুষ্ঠান শেষে লাকসাম শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ মহিউদ্দিন খান উপস্থিত সবার প্রতি কৃতঞ্জতা জ্ঞাপন ও ধন্যবাদ জানান।

দেড় হাজার কোটি টাকা দিয়ে কী করা হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগরে

ঢাকা: ঢাকার কাছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে চাঁদাবাজির অভিযোগে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সহযোগি ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার পর প্রকল্পটি নিয়ে অনেকেই আলোচনা করছেন।

২০১৮ সালের ২৩শে অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেকে পাস করা হয় ওই উন্নয়ন প্রকল্পটি। যাতে বরাদ্দ দেয়া হয় ১৪শ ৪৫ কোটি টাকা।

বলা হয়, অনুমোদনের পর পরবর্তী সাড়ে তিন বছরে বাস্তবায়ন করা হবে এই প্রকল্পটি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি উন্নত মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার জন্যই এমন প্রকল্প হাতে নেয়ার কথা জানানো হয়। এরইমধ্যে প্রকল্পটির অধীনে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল নির্মাণের কাজ চলছে।

এই প্রকল্পটি যখন পাশ হয়, তখন একে ‘অস্বচ্ছ’ দাবি করে আন্দোলন-প্রতিবাদও করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির একদল শিক্ষক।

গত বছর একই সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ১ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় একনেক।

এদিকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের ৪৫টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার বার্ষিক বাজেট ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। যার মধ্যে উন্নয়ন বাজেট ধরা হয়েছে ২ হাজার ৯৯৯কোটি টাকা।

কিভাবে হলো এতো বড় প্রকল্প?
একাডেমিক, আবাসিক এবং অন্যান্য সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য উপযুক্ত শিক্ষাদান ও শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প নেয়া হয় বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া শিক্ষা ও গবেষণা উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত শিক্ষার মান উন্নয়নের কথা বলা হয় এই এ প্রকল্পে।

এ বিষয়ে আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক বশির আহমেদ জানান, ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ৩১৫ কোটি টাকার একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব পাঠানো হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।

স্থপতি মাজহারুল ইসলাম ১৯৬৮ সালে যে মাস্টার প্ল্যান দিয়েছিলেন সেটাকে ভিত্তি করেই ওই পরিকল্পনাটি দেয়া হয়।

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায় যে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

গত বছর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রকল্পটির অধীনে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত বহুতল বিশিষ্ট ৪১টি সুপরিসর স্থাপনা নির্মিত হবে।

তবে অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, মোট স্থাপনার সংখ্যা ৪১টি নয় বরং প্রকল্প অনুযায়ী ২৩টি স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।

তিনি বলেন, আবাসিক হল, লাইব্রেরী, লেকচার থিয়েটার, গেস্ট হাউস, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোয়ার্টারসহ মোট ২৩টি স্থাপনা এই প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া অডিটোরিয়াম, মুক্ত মঞ্চ এবং শিক্ষার্থীদের ১২টি হলের সংস্কার কাজ হওয়ারও কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত যেসব স্থাপনার কথা বলা হয়েছে তা হলো..

•প্রতিটিতে ১ হাজার আসন বিশিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য ৬টি আবাসিক হল

•দুটি খেলার মাঠ

•৪ হাজার শিক্ষার্থীর ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন লেকচার থিয়েটার এবং পরীক্ষার হল ভবন

•৪ তলা বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া কমপ্লেক্স

•৬ তলা বিশিষ্ট গ্রন্থাগার

•একাডেমিক ভবন সম্প্রসারণ

•১০ তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন

•১০ তলা বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক মানের গেস্ট হাউজ কাম পোস্ট গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ হাউজ

•শিক্ষক, কর্মকর্তা, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য ১১তলা বিশিষ্ট আবাসিক টাওয়ার

•বৈদ্যুতিক লাইন সম্প্রসারণ এবং ট্রান্সফরমার স্থাপন

•পথচারীদের জন্য নান্দনিকতাপূর্ণ নিরাপদ রাস্তা

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই নির্মাণ কাজগুলো সম্পন্ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোগত আমূল পরিবর্তন হবে।

যার ফল স্বরূপ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পরিণত হবে ‘মডেল’ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

সবচেয়ে অস্বচ্ছ প্রকল্প
প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরুর পর থেকেই এই উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ কর্মবিরতি, পদযাত্রা ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা অভিযোগ করেন, এই প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কী কী উন্নয়ন করা হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোন তথ্য দেয়া হয়নি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও দাবির মুখে প্রকল্প সম্পের্ক যা কিছু জানানো হয়েছে তাও প্রকল্পের সম্পূর্ণ চিত্র নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, শোনা যাচ্ছে নানান কথা যে, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য বাসস্থান হবে। কিন্তু এর মধ্যে আর কি কি আছে সেগুলো স্পষ্ট করা হয়নি আমাদের কাছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এর উন্নয়নে এখনো পর্যন্ত এতো বড় প্রকল্প হাতে নেয়া হয়নি।

এই প্রকল্পটিকে সবচেয়ে বড় অস্বচ্ছ প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তাঁর দাবি, এর আগে যেসব প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিলো সেগুলো নিয়েও কিছু অস্বচ্ছতা ছিলো। কিন্তু বর্তমান প্রকল্পটির মতো এতো বেশি অস্বচ্ছ আর কোন প্রকল্পই ছিলো না।

তবে প্রকল্প নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক বশির আহমেদ।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি এই প্রকল্পে কাজ করেছে। তারা এই প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তারপর এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়ে সবশেষ একনেক কমিটির মাধ্যমে পাস হয়েছে। তাই এই প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

রোবট প্রযুক্তি: বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প কি টিকে থাকতে পারবে?

উজ্জ্বল আলোর নীচে লাইন ধরে বসানো সারি সারি সেলাই মেশিন। কাজ করছেন শত শত নারী শ্রমিক। বাংলাদেশের যে কোন গার্মেন্টস কারখানার চিরচেনা দৃশ্য।

এখনো হয়তো ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ বা চট্টগ্রামের বড় বড় কারখানায় এমন দৃশ্য দেখা যাবে। কিন্তু দশ বছর পরের দৃশ্য কল্পনা করা যাক। কেমন হবে তখন বাংলাদেশের একটি পোশাক কারখানা? খবর বিবিসি বাংলার

নিউইয়র্কের শিমি টেকনোলজি নামের একটি প্রযুক্তি কোম্পানীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সারাহ ক্রেসলির কাছে ভবিষ্যতের ছবিটা পরিস্কার।

দশ বছর পরের পোশাক কারখানায় খুব অল্প শ্রমিকই আসলে কাজ করবে। রোবটিক যন্ত্রপাতির পাশাপাশি তখনো আমরা হয়তো কিছু কর্মীকে কাজ করতে দেখবো। কারখানা জুড়ে তখন বেশি থাকবে নানা ধরণের স্বয়ংক্রিয় রোবটিক যন্ত্রপাতি। থাকবে অনেক কম্পিউটার। কারখানার বড় অংশ জুড়ে থাকবে ডিজাইন রুম। বেশিরভাগ কর্মী কাজ করবে এই ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে।

সারাহ ক্রেসলি এর আগে কাজ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল বা গাড়ি নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে। যেভাবে অটোমেশন গাড়ি নির্মাণ শিল্পকে পাল্টে দিয়েছে, এবার পোশাক শিল্পে তারই পুনরাবৃত্তি দেখা যাবে বলে মনে করেন তিনি।

যে শিল্পে বাংলাদেশে কাজ করে প্রায় চল্লিশ লাখ মানুষ, গত কয়েক দশক ধরে যে খাতে তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বেশি কাজ, তার অবস্থা তাহলে কী দাঁড়াবে?

সারাহ ক্রেসলি জানান, এদের ৬০ হতে ৮৮ শতাংশ তাদের কাজ হারাবে অটোমেশনের কারণে। অর্থাৎ লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বেকার হবে। এটা আমার হিসেব নয়, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার হিসেব।

তার মতে, বাংলাদেশের সামনে বিপদ অনেক রকমের। প্রথমটা হচ্ছে এই অটোমেশন, যেটা ইতোমধ্যে ঘটতে শুরু করেছে। দ্বিতীয় হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে বদলে যাওয়া ফ্যাশন ট্রেন্ড, যেটা বিরাট প্রভাব ফেলছে পোশাকের ব্রান্ডগুলোর ওপর। আর সবশেষে আছে অটোমেশনের চূড়ান্ত ধাপে পোশাক শিল্পের রিশোরিং বা নিয়ারশোরিং। অর্থাৎ যেখান থেকে এই পোশাক শিল্প বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে এসেছে, এই শিল্পের সেখানেই ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি।

ভবিষ্যৎ কী
যে দেশের অর্থনীতির প্রধান ইঞ্জিন হয়ে উঠেছে এই পোশাক শিল্প,তার ভবিষ্যৎ তাহলে কী? ব্যাপারটা নিয়ে কি আসলেই নড়ে-চড়ে বসার সময় এসেছে?

বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতের সবচেয়ে সফল উদ্যোক্তাদের একজন ফজলুল হক। বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি। পোশাক শিল্প খাতে অটোমেশনের যে ঝুঁকির কথা বলা হচ্ছে, সেটিকে তিনি বিপদ হিসেবে দেখতে রাজী নন। তবে অটোমেশন যে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে, সেটা স্বীকার করলেন তিনি।

একটা মাঝারি আকারের কারখানার কাটিং সেকশনে দেড়শো-দুশো লোক লাগতো। সেখানে এখন অটোমেটিক কাটিং মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে শ্রমিক লাগে দশ থেকে বারো জন। অর্থাৎ দশ ভাগের এক ভাগ লোক লাগে। এরকম অটোমেশন কিন্তু চলছেই। আগামী দশ বছরে এই শিল্পে যে বিরাট পরিবর্তন ঘটবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

তবে ফজলুল হক বলছেন, বাংলাদেশে অটোমেশনের কারণে যত লোক কাজ হারাচ্ছেন, তাদের আবার এই শিল্পেই কোন না কোনভাবে কর্মসংস্থান হয়ে যাচ্ছে। কারণ বাংলাদেশে এখনো এই শিল্পের আকার বাড়ছে।

এর সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করলেন গার্মেন্টস শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার। ট্রেড ইউনিয়ন করতে প্রতিদিন নানা ধরণের কারখানায় তার যাতায়াত। অটোমেশন যে শ্রমিকদের কাজ কেড়ে নিচ্ছে, সেটা তিনি নিজ চোখেই দেখতে পান প্রতিদিন।

রোবট আসছে!
বাংলাদেশে এখন যত বড় ফ্যাক্টরি আছে, বিশেষ করে এ এবং বি ক্যাটাগরির যত ফ্যাক্টরি, সেখানে অনেক নতুন মেশিন আনা হয়েছে। এসব মেশিনে এমন বহু কাজ হচ্ছে, যেগুলো আগে শ্রমিকদের করতে হতো।

তিনি বলেন, সূতা কাটা, আয়রন করা, কাটিং, ড্রয়িং, লে-আউট, লোডিং-আনলোডিং – কোন কাজই এখন মেশিন করছে না। বিভিন্ন ধরণের মেশিন চলে আসছে, যেখানে আর আগের মতো শ্রমিকের দরকার হচ্ছে না।

বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতে এই পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে তিন-চার বছর আগে থেকে। এই খাতের একজন শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তা ফজলুল হক জানালেন, তিনি নিজের কারখানাতেও এরকম প্রযুক্তি চালু করেছেন।

কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশের প্রতিটি কারখানায় বেশিরভাগ মেশিনে দুজন করে লোক লাগতো। একজন মেশিনটি চালাতেন, আরেকজন উল্টোদিকে বসে সাহায্য করতেন। গত তিন চার বছরে পর্যায়ক্রমে হেল্পারের পদ খালি হয়ে গেছে। মেশিন ঐ জায়গা দখল করে নিয়েছে।

একটি মাঝারি মাপের কারখানার কাটিং বিভাগে আগে প্রায় দেড়শো-দুশো কর্মীর দরকার হতো। সেখানে এখন অটোমেটিক কাটার মেশিন ব্যবহৃত হচ্ছে যেখানে মাত্র দশ-বারোজন লোক দিয়েই কাজ চালানো যায়। অর্থাৎ দশ ভাগের একভাগ লোক দিয়েই এখন কাজ চালানো যায়।

ফজলুল হক বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি কারখানাই এখন কম-বেশি এরকম অটোমেশনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে কী ধরণের মেশিন বা যন্ত্রপাতি আমদানি করা হচ্ছে, তা নিয়ে একটি সমীক্ষা চালিয়েছে ঢাকার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ। প্রতিষ্ঠানটির ফেলো অর্থনীতিবিদ ড: মুস্তাফিজুর রহমান বলছেন, একটা পরিবর্তন যে শুরু হয়েছে, সেটা স্পষ্ট।

তিনি বলেন, আগে যে ধরণের মেশিন আমদানি করা হতো, তার চেয়ে অনেক ভিন্ন ধরণের মেশিন এখন আনা হচ্ছে। অনেকে রোবটও আনছেন। ভবিষ্যতে এই প্রবণতা আরও বাড়বে।

ডঃ মুস্তাফিজুর রহমানের মতে, এর একটা কারণ বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসলে তখন আর বিনা শুল্কের সুবিধা আর পাবে না। তখন তাদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে উৎপাদনের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। তখন কারখানা মালিকরা প্রযুক্তির দিকেই ঝুঁকবেন।

গার্মেন্টস নেত্রী নাজমা আক্তার বলছেন, মালিকরা নতুন প্রযুক্তির ব্যাপারে এত আগ্রহী হওয়ার কারণ, এটি তাদের আরও বেশি মুনাফার সুযোগ করে দিচ্ছে।

গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে যখন আমরা কথা বলি, তারা বলে চারটা লোক যে কাজ করে, একটা মেশিনেই এখন সেই কাজ হয়। একজন শ্রমিককে ন্যূনতম আট হাজার টাকা মজুরি দিতে হয়। চারজন শ্রমিকের পেছনে যায় প্রায় ৩২ হাজার টাকা। কিন্তু এখন নাকি আট হাজার টাকাতেই একটি মেশিন পাওয়া যায়। কাজেই মালিকরা সেই পথেই যাচ্ছেন।

নাজমা আক্তারের মতে, অটোমেশনের প্রথম শিকার হচ্ছেন কারখানার নারী শ্রমিকরা। অনেক কারখানাতেই যেখানে এক হাজার শ্রমিক ছিল। এখন সেখানে হয়তো বড়জোর তিনশো শ্রমিক আছে। বেশিরভাগ জায়গায় নারী শ্রমিকরাই কাজ হারাচ্ছেন।

গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে পোশাক শিল্পে। এখন সেটি স্তিমিত হয়ে আসছে। কোন কোন ক্ষেত্রে ছাঁটাই শুরু হয়েছে বলে দেখেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ড: মুস্তাফিজুর রহমান।

এর সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা নারী কর্মীদের ওপরই পড়ছে। প্রথাগতভাবে এই শিল্পে নারী কর্মীরাই বেশি কাজ করেন। একসময় পোশাক শিল্পে আশি বা নব্বু্ই শতাংশই ছিলেন মহিলা কর্মী। এখন সর্বশেষ জরিপে দেখা যাচ্ছে সেটা কমে ষাট শতাংশের কাছাকাছি চলে এসেছে। এটা আরও কমবে। কারণ অনেক উদ্যোক্তা মনে করেন মহিলার প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন না। সেজন্যে নতুন মেশিনে কাজ করার জন্য ছেলেদেরই অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

অফশোরিং বনাম নিয়ার শোরিং
বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশ ঘটতে শুরু করেছিল আশির দশকের মাঝামাঝি। শিল্পোন্নত দেশগুলো থেকে এধরণের শিল্প যখন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সরিয়ে নেয়া হচ্ছিল তখন তার নাম দেয়া হয়েছিল অফশোরিং।

কিন্তু আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনসি কনসালটেন্সি তাদের এক রিপোর্টে বলছে, অটোমেশনের ফলে এসব শিল্প এখন অনশোরিং, অর্থাৎ আগের জায়গায় নিয়ে যাওয়া, কিংবা নিয়ারশোরিং, অর্থাৎ কাছাকাছি কোন দেশে নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে পোশাক শিল্প উদ্যোক্তা ফজলুল হক মনে করেন, এরকম আশংকা তিনি দেখছেন না।

যেটা বলা হচ্ছে রোবট এসে সব দখল করে নেবে এবং এর ফলে এই শিল্প আর বাংলাদেশে থাকবে না, ইউরোপ-আমেরিকাতেই ফিরে যাবে। কিন্তু এই কথার মধ্যে আমি একটা ফাঁক দেখছি। মানুষের জায়গায় রোবট বসালে তার খরচ কী দাঁড়াবে এবং সেই বিনিয়োগ সবাই করতে পারবে কীনা বা এই রোবটের অপারেশনাল খরচ কী হবে- এগুলোর কোন পরিস্কার জবাব কিন্তু এখনো আমি কোন স্টাডিতে দেখিনি।

অর্থনীতিবিদ মুস্তাফিজুর রহমানও মনে করেন, এই শিল্পকে বাংলাদেশে ধরে রাখার সুযোগ এখনো আছে।

তিনি বলেন, আমি আবার এধরণের আশংকাকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চাই না কয়েকটি কারণে। এই শিল্প বাংলাদেশে থাকবে কি থাকবে না, সেটা শেষ বিচারে উৎপাদনশীলতা এবং খরচ কী পড়বে, তা দিয়েই নির্ধারিত হবে। এটা এখনো শ্রমঘন শিল্প। এরকম শিল্প নিয়ারশোরিং করতে গেলে সেটা একটা বিরাট বড় চ্যালেজ্ঞ। কারণ এত বিপুল পরিমাণে তৈরি পোশাক সরবরাহ করা কিন্তু সহজ নয়, সেই সক্ষমতা গড়ে তোলা অনেক সময়ের ব্যাপার।

আরেকটি বিষয়ের প্রতি তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। বিশ্ব বাজারে পোশাক সরবরাহকারী হিসেবে চীন আছে শীর্ষস্থানে। তারা মোট চাহিদার তিরিশ শতাংশ সরবরাহ করে। আর এরপর দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ সরবরাহ করে মাত্র ছয় শতাংশ।

আমি মনে করি বাংলাদেশের ব্যবসা বাড়ানোর অনেক সুযোগ এখনো রয়ে গেছে। ঠিক কৌশল নিতে পারলে বাংলাদেশের সুযোগের সীমা কিন্তু এখনো অনেক দূর বিস্তৃত করা সম্ভব।

কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ
কিন্তু এই যে বিরাট প্রযুক্তিগত পরিবর্তন গার্মেন্টস শিল্পকে আমূল বদলে দিচ্ছে, সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ? শিমি টেকনোলজিসের সারাহ ক্রিসলি বলছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি গ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশের সামনে কোন বিকল্প নেই।

তার আশংকা, যদি এর পেছনে সত্যিকারের কোন বিনিয়োগ করা না হয়, বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে। তখন এসব প্রতিষ্ঠান অন্যান্য পোষাক রফতানিকারক দেশে চলে যাবে।

কিন্তু আমি আসলে চাই না এটা ঘটুক। আমি দেখেছি, বাংলাদেশ গত পাঁচ বছরে কত ধরণের কাজ করেছে। আমি গত ছয় বছর ধরে বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করছি। কারখানাগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তারা কত কাজ করেছে, সেটা আমি দেখেছি। আমি চাই বাংলাদেশ পোশাক সরবরাহকারী দেশের শীর্ষে থাকুক। কিন্তু সেজন্যে এই বিষয়টাকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে এবং আমি আশা করি তারা সেই সিদ্ধান্ত নেবে।

সারাহ ক্রেসলির প্রতিষ্ঠান মূলত গার্মেন্টস শিল্পকে অটোমেশনের যুগের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। গত প্রায় ছয় বছর ধরে এ কাজেই তিনি বাংলাদেশে যাতায়ত করছেন। সেখানে তার প্রতিষ্ঠান পাঁচটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বাংলাদেশে সর্বশেষ সফর থেকে নিউইয়র্কে ফেরার পর তার সঙ্গে কথা হচ্ছিল টেলিফোনে।

আমরা নিজেদেরকে একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের অবস্থানে রেখে কল্পনা করে এই কর্মসূচী তৈরি করেছি। বাংলাদেশের বেশিরভাগ গার্মেন্টস শ্রমিকের খুব কমই আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ আছে। আমরা আমাদের লার্নিং টুলগুলো তৈরি করেছি একটা গেমের মতো করে। আমরা একটা ভিডিও গেমের মতো ইন্টারফেস তৈরি করেছি, তার সঙ্গে যোগ করেছি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বাংলা শেখানো হবে। ফলে কারখানার কর্মীরা বাংলায় কথা বলে তাদের নির্দেশ দিতে পারবে। এবং হাতের স্পর্শ দিয়েও এসব মেশিন চালানো যাবে।

শিমি টেকনোলজিসের পাইলট প্রকল্পে গার্মেন্টসের নারী কর্মীরা ডিজিটাল প্যাটার্ন মেকিং এর বেসিকস শিখছে। শিখছে আরও নানা কিছু। এর মাধ্যমে গার্মেন্টস কর্মীরা ডিজিটাল যুগের জন্য তৈরি হয়ে যাবে বলে আশা করেন তিনি।

প্রযুক্তি ভিত্তিক যে নতুন শিল্পবিপ্লবের ঢেউ এসে লেগেছে বাংলাদেশে, তার ধাক্কায় গার্মেন্টস শিল্প যে আমূল বদলে যেতে চলেছে, তা নিয়ে এই খাতের কারও মনেই কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু রোবটিক প্রযুক্তি যে লাখ লাখ কর্মীর কাজ নিয়ে নেবে, তার কর্মসংস্থান কোথায় হবে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।

সরকারের অর্থের সংকট নাই: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আমাদের টাকার কোনো অভাব নেই। আমি আপনাদের বলছি টাকা থাকার একটা বেঞ্চ মার্ক আছে। সেই বেঞ্চ মার্কের উপরে আমাদের এখন ৯২ হাজার কোটি টাকা বেশি রয়েছে। এটা তো লুকোচুরি করার কোনো ব্যাপার না।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশ্বব্যাংকের আঞ্চলিক পরিচালক জুবিদা খেরুস এ্যালাউয়্যা-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের অর্থের সংকট নাই। এটা একটা নিউজ পেপারে বলছে, এর বিপরীতে এরা কিছু বলবে না। আজকে আবার দেখলাম এরা এডিবি’র পজেটিভ রিপোর্ট দিয়ে দিয়েছে, এটা দেখে আবার অবাক হয়ে গেলাম। তারা পজিটিভলি লিখেছে। আমি বলছি, আমাদের কোনো রকম টাকার অভাব নেই।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যদি আপনারা কোথাও কোনো ব্যাংকে গিয়ে টাকা না পান, যদি এলসি স্যাটেলমেন্ট করতে না পারেন, যদি পেমেন্ট না করতে পারেন তবে আমাকে এসে বলবেন। তাহলে এগুলো আমরা কিভাবে বিশ্বাস করবো।

প্রশ্ন রেখে তিনি আরো বলেন, সরকার কোথায় টাকা খুঁজছে? সরকার টাকা খুঁজলে কোথা থেকে পাবে? সরকারের টাকা না থাকলে দেয়ার কোনো ব্যবস্থা আছে। আপনারা কেউ সরকারকে টাকা দেবেন?

অর্থমন্ত্রী বলেন, টাকা তোলার রাস্তাটা কি? সেভিংস ইনস্ট্রুমেন্ট বিক্রি করতে হবে, না হলে আমেরিকা যা করে কোয়ান্টিটি বেইজিংয়ের নাম করে টাকা ছাঁপাতে হবে।

এদিকে বাংলাদেশের বন্ড বাজার ও শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি তারা ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নেও কাজ করবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা অর্থনৈতিকভাবে যেখানে আছি, সেখান থেকে আরও উন্নতি করতে অনেক শক্তি ব্যয় করতে হবে। এ জন্য আমাদের ক্যাপাসিটি আরো বৃদ্ধি করতে হবে। বিশ্বব্যাংক এক্ষেত্রে আরো বেশি বেশি করে সাহায্য করতে প্রস্তুত রয়েছে। বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে করপোরেট সেক্টরের প্রভিডেন্ড ফান্ডগুলোও নিয়ে আসা হবে। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও একমত পোষণ করেছেন। বর্তমানে আমাদের অর্থনীতিতে আর্থিক খাতের উপাদান কম। উপাদান কম থাকলে অর্থনীতি ছোট হয়ে যায়। অর্থনীতিকে বেগমান করতে হলে আমাদের অনেক টুলস (উপাদান) দরকার, আর এ কাজগুলোই করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের আঞ্চলিক পরিচালক জুবিদা খেরুজ এলাউয়া বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে এগুচ্ছে তা প্রশংসাযোগ্য। বাংলাদেশের ডেট টু জিডিপিও ভাল। এটা একটি সরকারের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নির্দেশ করে। ভাল ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত দরকার। বিশ্বব্যাংক কিছু টেকনিক্যাল এসিস্টান্স, রেগুরেটারি রিফর্ম এবং পলিসির উন্নয়নে সহায়তা করবে। বন্ড মাকের্ট ও পূঁজিবাজারের উন্নয়নে পুরো কাজটাই সমন্বিতভাবে করা হবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার সবসময় পুঁজিবাজারের সঙ্গে রয়েছে। পুঁজিবাজারে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। আমাদের কাজ হচ্ছে তাদের সাপোর্ট দেয়া, সেটা আমরা দিয়েছি। আগামীতে ভালো ভালো সরকারি কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে দেয়া হবে।

রেমিট্যান্স পাঠানো যায় না প্রবাসীদের ব্যাংকে!

প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ২০১০ সালে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে সরকার। কিন্তু আজ পর্যন্ত ব্যাংকটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বড় কোনো ব্যাংকে ‘নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট’ খুলতে পারেনি। তাই এ ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারছে না প্রবসীরা। অথচ ব্যাংকটি কৌশলগত উদ্দেশ্যসমূহের প্রথমেই রয়েছে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদান। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশ্বব্যাপী রেমিট্যান্স আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আহরণ করে। রেমিট্যান্স আহরণের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত, দ্বিতীয় চীন ও তৃতীয় অবস্থানে মেক্সিকো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি দেশ থেকে ৯৬৮ কোটি ২০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাঠান প্রবাসীরা, যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড। একই সঙ্গে মোট রেমিট্যান্সের ৫৯ শতাংশই আসে আরবের এসব দেশ থেকে।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহ্তাব জাবিন জাগো নিউজকে বলেন, মানি লন্ডারিং আইন হওয়ার ফলে ২০১৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ভালো ব্যাংকের সাথে ‘নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট’ (বিদেশে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের জন্য ব্যাংকগুলোর অ্যাকাউন্ট) করতে গেলে অনেক কমপ্লায়েন্সের ব্যাপার রয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকটি অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে না, তা-ই ব্যাংকটির সঙ্গে ‘নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট’ খুলতে আগ্রহী হয় না আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো। কারণ বিদেশের ব্যাংকগুলো ব্যবসায়িক বিষয়টাকে গুরুত্ব দেয় বেশি।

তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যাংকের সঙ্গে ‘নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট’ খুললে ওই ব্যাংককে একটা মোটা অংকের অর্থ দিতে হয়। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক না হওয়ায় এ ব্যয়ভার বহন করা এ মুহূর্তে কঠিন। সব মিলিয়ে এখনও ‘নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট’ করাটা হয়ে ওঠেনি।

মাহ্তাব জাবিন বলেন, আমরা ইতোমধ্যে কয়েকটি আন্তর্জাতিক ব্যাংকের সঙ্গে ‘নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট’ খোলার জন্য প্রাথমিকভাবে আলোচনা করেছি, তবে সেটা করা সম্ভাব হয়নি। আমরা আশা করছি, আমাদের ব্যাংকের কলেবর আরও বড় হবে। তখন আমরা রেমিট্যান্স আনাসহ অন্যান্য কাজ করতে পারব।

‘বিষয়টি বাস্তবায়নে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। যেহেতু এটা প্রবাসীদের জন্য ডেডিকেটেড ব্যাংক, সেহেতু এ ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি রেমিট্যান্স আনার প্রক্রিয়া থাকা উচিত’- মন্তব্য করেন তিনি।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকটির অভিলক্ষ্য হচ্ছে- প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যয় সাশ্রয়ী পন্থায় নিরাপদে ও দ্রুততার সঙ্গে বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রেরণে সহায়তা প্রদান এবং বিদেশগামী ও প্রবাস ফেরত কর্মীদের সহজ শর্তে স্বল্প সময়ে ‘অভিবাসন ঋণ’ ও ‘পুনর্বাসন ঋণ’ প্রদান।

ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৪০০ বিদেশগামী কর্মীকে অভিবাসন ঋণ দিয়েছে। ব্যাংকটি মাত্র তিনদিনে অভিবাসন ঋণ মঞ্জুর করে। এছাড়া বিদেশ ফেরত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মীকে পুনর্বাসন ঋণ প্রদানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানে সহায়তা করেছে।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক দেশের অভ্যন্তরে ৬৩টি শাখার মাধ্যমে এর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব জেলায় ব্যাংকের শাখা খোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক পাঁচ হাজার ৫৯২ জনকে ৭১ কোটি ২৮ লাখ ৪০ হাজার টাক ঋণ দেয়। একই অর্থবছর ৮২ শতাংশ ঋণ আদায় হয়। আদায়ের পরিমাণ ৬৮ কোটি ২১ লাখ ৭৮ হাজার ১০৬ টাকা।

বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকায় টাইগার আইটি

৩১ জুলাই- শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) স্মার্টকার্ড মুদ্রণসংক্রান্ত প্রকল্পে দুর্নীতির হদিস পেয়েছে বিশ্বব্যাংক। তারা দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটিকে সাড়ে নয় বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমানকে সাড়ে ছয় বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করেছে।

এই একই বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ২০১৫ সালেও তদন্ত করেছিল। তবে তখন তারা দুর্নীতির কোনো আলামত খুঁজে পায়নি।

বিশ্বব্যাংকের অভিযোগে বলা হয়েছে, টাইগার আইটি ও এর চেয়ারম্যান বিশ্বব্যাংকের অনুদান ও ঋণনির্ভর কেনাকাটার নীতিমালা অনুযায়ী বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন দরপত্রে অশুভ আঁতাত করে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠান যাতে দরপত্রে অংশ নিতে না পারে, সে জন্য প্রভাব বিস্তার করেছিল। বিশ্বব্যাংক যখন অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করে যাচ্ছিল, তখন তারা অবৈধ পন্থায় তদন্তকাজকে প্রভাবিত করারও চেষ্টা করেছিল। এর আগে বিশ্বব্যাংক গত বছরের নভেম্বরে টাইগার আইটির একসময়ের আন্তর্জাতিক সহযোগী ফরাসি প্রতিষ্ঠান ওবারথুরকেও কালো তালিকাভুক্ত করে।

গত ২৪ এপ্রিল বিশ্বব্যাংক বিষয়টি প্রকাশ করে। নিষিদ্ধ করাসংক্রান্ত বিশ্বব্যাংকের বোর্ড বিভিন্ন পক্ষের শুনানি গ্রহণ করে এ সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে এ নিয়ে শুনানি হয়।

ইসি ২০১১ সালের ১৪ নভেম্বর ভোটারদের স্মার্টকার্ড দেওয়ার জন্য আইডিয়া (আইডেনটিফিকেশন সিস্টেম ফর ইনহ্যান্সিং অ্যাক্সেস টু সার্ভিসেস) প্রকল্প গ্রহণ করে। এর জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া হয় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, স্মার্টকার্ড তৈরির জন্য আবেদনকারী একাধিক যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ না দিয়ে ইসি আন্তর্জাতিকভাবে দুর্নামগ্রস্ত ওবারথুরকে কাজ দেয়। এ জন্য ইসি সচিবালয় দরপত্রের শর্ত এমনভাবে তৈরি করে, যাতে ওবারথুর ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান আবেদন করতে না পারে। ওবারথুরের স্থানীয় সহযোগী টাইগার আইটির পরামর্শে ইসি এই কাজ করে। পরে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়ে যায়। ওবারথুর স্মার্টকার্ড তৈরির কাজ পেলেও বাস্তবে তাদের হয়ে স্থানীয়ভাবে কাজ করেছে টাইগার আইটি।

দরপত্রের বিষয়ে সংক্ষুব্ধ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক বিষয়টি তদন্তের জন্য ২০১৫ সালের জুনে ঢাকাতে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাঠায়। কিন্তু তখন তারা তদন্ত করে কোনো দুর্নীতি খুঁজে পায়নি।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে বিশ্বব্যাংকের দুই তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তদন্তের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। জবাবে তাঁরা কোনো তথ্য জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

ইসির সঙ্গে চুক্তির আগে থেকে ওবারথুর আর্থিক দেনায় জর্জরিত ছিল। স্মার্টকার্ড তৈরির কাজ হাতে নেওয়ার পরপরই প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক দায় থেকে রেহাই পেতে মরফো নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক হয়ে যায়। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের নাম আইডিইএমআইএ।

ওবারথুরের সঙ্গে ইসির চুক্তি হয় ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারি। ইসির শর্ত অনুযায়ী তারা নয় কোটি ভোটারের জন্য স্মার্টকার্ড তৈরি করবে, কার্ড পারসোনালাইজেশন করবে (ভোটারের তথ্য সংরক্ষণ) এবং তা উপজেলা ও থানা পর্যায়ে বিতরণ করবে। ইসির সঙ্গে ওবারথুরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০১৬ সালের জুনে। কিন্তু একাধিকবার সময় বাড়ানোর পরও তারা যথাসময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। যে কারণে ২০১৮ সালে ইসি ওবারথুরের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে।

জানা যায়, মালিকানা বদল হওয়ায় ওবারথুর সময়মতো খালি কার্ড সরবরাহ করতে পারেনি। নতুন নাম নেওয়া প্রতিষ্ঠান কার্ডের দাম বাড়িয়ে দেয়। এ নিয়ে টাইগার আইটির সঙ্গে তাদের বিরোধ দেখা দেয়। দুই প্রতিষ্ঠানের বিরোধসংক্রান্ত মামলা বর্তমানে ঢাকার আদালতে বিচারাধীন।

টাইগার আইটিকে নিষিদ্ধ করাসংক্রান্ত বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক বলেছে, স্মার্টকার্ডের দরপত্রে টাইগার আইটি প্রভাব বিস্তার করেছিল। তাদের যোগসাজশেই দরপত্রের শর্তাবলি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে না পারে। ইসির দরপত্রের শর্তাবলি কেমন হবে, তা দরপত্র প্রকাশের আগেই একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ করেছিল টাইগার আইটি।

এ বিষয়ে জানতে টাইগার আইটির পরিচালক তপনেন্দ্র নারায়ণের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।  

সূত্র: প্রথম আলো

লাকসামে এলিট পেইন্টের শাখা উদ্বোধন ও মতবিনিময়

লাকসামে এলিট পেইন্টের শাখা উদ্বোধন ও পরিবেশকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৯ জুলাই সোমবার দুপুরে লাকসামে এলিট পেইন্টের শাখা এম. আলী ট্রেডার্সের উদ্বোধন ও আগমন ফুড পার্কে পরিবেশকদের সাথে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।


এতে এম. আলী ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী মহব্বত আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এলিট পেইন্টের পরিচালক মোঃ সাজির আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এলিট পেইন্টের কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন, এ.কে.এম মহিবুল্লাহ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এড. ইউনুছ ভূঁইয়া, পৌর মেয়র অধ্যাপক আবুল খায়ের, নির্বাহী অফিসার এ.কে.এম সাইফুল আলম, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক এড. রফিকুল ইসলাম হিরা, কাউন্সিলর আবদুল আলিম দিদার, মোহাম্মদ উল্লাহ, মোঃ শাহ আলম, খলিলুর রহমান, গোলাম কিবরিয়া সুমন, শাহজাহান মজুমদার, যুবলীগ নেতা মোঃ মনিরুল ইসলাম রতন, মোঃ দলিলুর রহমান মানিক, মোশারফ হোসেন মজুঃ, এলিট পেইন্টের ম্যানেজার মোঃ জামশেদুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ, মোঃ রুহুল আমিন, ওমর ফারুক, শাহীদুল ইসলাম শাহীন, ব্যবসায়ী আব্দুল কাদেও প্রমুখ।

সভায় বক্তারা স্ব-স্ব অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে এলিট পেইন্ট ব্যবহারের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

লাকসামে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট উদ্বোধন

আজ রোববার লাকসাম পৌর শহরের রাজঘাট বাজারে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ১৯২তম এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিঃ’র কুমিল্লা জোনাল হেড ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট একেএম আমজাদ হোসেন।

 

রাজঘাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোহর আলী তোতার সভাপতিত্বে ও ইকবাল বাহারের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, এ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এজেন্ট ব্যাংকিং ডিভিশন, প্রধান কার্যাল) মোঃ ময়নাল হোসেন, ফার্স্ট এ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও নাঙ্গলকোট শাখা ব্যবস্থাপক মুহাঃ মহী উদ্দিন খান, এজেন্ট জামিলা ইয়াছমিন।

 

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ কুমিল্লা জেলা সভাপতি মীর মোহাম্মদ আবু বাকার, মাকছুদুর রহমান, প্রধান শিক্ষক মেছবাহ উদ্দিন আহসান, মনির হোসেন, ফারুক আজম, হাফেজ হারুন অর রশিদ, কাজী মাহিউদ্দিন, মাসুদুর রহমান, ডাঃ আজাদ আহমেদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ব্যবসায়ীবৃন্দ।

নির্বাচনের কারণে ১ জানুয়ারির পরিবর্তে ৯ জানুয়ারি বাণিজ্য মেলা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে ৩০ ডিসেম্বর। আর এই নির্বাচনী উত্তাপে কয়েকদিনে জন্য পিছিয়ে দেয়া হয়েছে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৯। ১ জানুয়ারির পরিবর্তে ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে এ মেলা। যা চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তবে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মেলার সব প্রস্তুতি শেষ হবে বলে জানিয়েছেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) মহাপরিচালক রমজান আলী

তিনি বলেন, নির্বাচনের কারণে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ১ জানুয়ারির পরিবর্তে ৯ জানুয়ারি উদ্বোধন করা হবে। এ মাসের মধ্যে স্টল বরাদ্দ শেষ হবে। এ পর্যন্ত ৪৩টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। গেলবারের থেকে এবার বিদেশিদের আগ্রহ অনেক বেশি। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ হবে।

ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের স্টল ও প্যাভিলিয়ন মিলিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচশ প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। এবার নতুন করে ৪ থেকে ৫টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে।

মেলায় এ পর্যন্ত ৫২১টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মেলায় ডিজিটাল এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার, ইকোপার্কসহ নতুন অনেক কিছুই থাকছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা খোলা থাকবে।

রাজধানীর গুলশান সিলভার টাওয়ারে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৯ ইউনিট

রাজধানীর গুলশানে সিলভার টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কন্ট্রোলরুমের দায়িত্বরত কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে ৯ টি ইউনিট কাজ করছে। আরো ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিস্তারিত আসছে…

মনোহরগঞ্জে যমুনা ব্যাংকের ১২৪তম শাখা’র উদ্বোধন

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে যুমনা ব্যাংকের ১২৪তম শাখা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ তাজুল ইসলাম বলেছেন, যমুনা ব্যাংকের মাধ্যমে আমরা দেশে শিক্ষিত, মেধা সম্পন্ন হাজার হাজার যুবকদের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। আভ্যন্তরিন অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন করা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে যমুনা ব্যাংক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

তিনি আরো বলেন যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশন দেশের অসহায়, দরিদ্র মানুষদের কল্যানে নানাহবিধ প্রকল্প নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। মনোহরগঞ্জের সার্বিক কল্যানে যমুনা ব্যাংকের এ শাখা যথেষ্ঠ ভুমিকা রাখবে।

 

আজ রবিবার মনোহরগঞ্জ বাজারে যুমনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল আলম এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুমনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এ.কে.এম মোর্শারফ হুসাইন, যুমনা ব্যাংক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা ইলিয়াছ উদ্দিন আহম্মেদ, হেড অব এইচ আর মামুন মাহমুদ, ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা বদিউল আলম মজুমদার, মোঃ সাইফুদ্দিন, লাকসাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড. ইউনুছ ভূঁইয়া, লাকসাম পৌর মেয়র অধ্যাপক আবুল খায়ের, মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিম বানু শান্তি, জেলা পরিষদ সদস্য এড. তানজিনা আক্তার, মনোহরগঞ্জ আ’লীগের সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, লাকসাম উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহব্বত আলী, এড. রফিকুল ইসলাম হিরা, মনিরুল ইসলাম রতন, কাউন্সিলর আবদুল আলিম দিদার, ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন শামিম, যমুনা ব্যাংক বিজরা শাখা ব্যাবস্থাপক আলহাজ্ব আবদুল আলীম ও মনোহরগঞ্জ শাখা ব্যাবস্থাপক মাহবুল আলম, অধ্যক্ষ আবু জামাল খাঁন, মাষ্টার সোলায়মান, উপজেলা যুবলীগ যুগ্ন আহবায়ক দেওয়ান জসিম উদ্দীন, উপজেলা ছাত্রলীগ সিনিয়র সহ সভাপতি আমির হোসেন ও সাধারন সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন সহ লাকসাম মনোহরগঞ্জ উপজেলার সরকারী বেসরকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জেলার বিভিন্ন ব্রাঞ্চ এর ব্যাবস্থাপক, ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রী, আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় ব্যাবসায়ী সহ প্রবাসী ও বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

 

এছাড়া অনুষ্ঠান শেষে মনোহরগঞ্জ উপজেলার পোমগাঁও, শান্তির বাজার ও হাসনাবাদ বাজারে যমুনা ব্যাংকের এটিএম বুথ এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং স্পীড সেন্টার বর্নাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন করা হয়।

সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি বাংলাদেশ ব্যাংকের

ফের সাইবার হামলার আশঙ্কা করছে দেশের ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলো। এমন আশঙ্কায় দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে সতর্ক থাকতে নির্দেশ জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্দেশনায় দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা বাড়াতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত সতর্কবার্তা জারি করে।

 

দেশের সব বাণিজিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো সতর্ক বার্তায় বলা হয়, সমপ্রতি বিভিন্ন পত্রপত্রিকা এবং গণমাধ্যমে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাইবার অপরাধীরা পেমেন্ট সিস্টেমস হ্যাক করে দেশের ভেতরে এবং দেশের বাইরে থেকে এ অর্থ হাতিয়ে নেয়। উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশও এ ধরনের সাইবার সিকিউরিটি এবং হ্যাকিং সংক্রান্ত নিরাপত্তা হুমকিতে রয়েছে। এমতাবস্থায়, সম্ভাব্য সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংকের তথ্য প্রযুক্তি ব্যবস্থার নিরাপত্তা বাড়াতে হবে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে নিবিড় তদারকি নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবারো বড় ধরনের সাইবার হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়।

 

চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রয়োজনীয় সাইবার সিকিউরিটি টিম না থাকায় তথ্য চুরির ঘটনা বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে দেরি হচ্ছে বলা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমানকে লেখা এক চিঠিতে এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। গত ৯ আগস্ট তিনি এ চিঠিটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠিয়েছেন।

মোস্তাফা জব্বারের লেখা চিঠিতে বলা হয়, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) সাইবার নিরাপত্তা টিম গঠন করেছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে সাইবার সেন্সর স্থাপন করা হয়েছে। ওই সেন্সর হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পরিলক্ষিত হয় যে, ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটারে সাইবার অপরাধীরা ম্যালওয়্যার স্থাপন করেছে, যা ব্যবহারকারীর অগোচরে ব্যবহারকারীর পরিচয় ও পাসওয়ার্ড কাজাখস্তান, রোমানিয়া, জাপান ও চীনে চিহ্নিত সাইবার অপরাধীদের কাছে সংবেদনশীল তথ্য অনবরত প্রদান করছে। চিঠিতে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।

চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে এ বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে চিঠিতে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে ২ কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলঙ্কা ও ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চলে যায় ফিলিপাইনে। এরই মধ্যে মাত্র এক কোটি ৪৫ লাখ ডলার ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে ঘটনার প্রায় আড়াই বছর পার হয়ে গেলেও বাকি টাকা এখনো উদ্ধার হয়নি।

২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদ উত্থাপন

২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদ উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে তিনি এই বাজেট উত্থাপন করেন। এর আগে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের জন্য চার লাখ চৌষট্রি হাজার পাঁচশত তেয়াত্তর কোটি টাকার বাজেট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন।

 

বৃহস্পতিবার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগে জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ বৈঠকে মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়। জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার এ বিশেষ বৈঠক শুরু হয়। এ বৈঠক শেষে দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হয় বাজেট অধিবেশন।

এটি হবে বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ বাজেট এবং অর্থমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ১২তম বাজেট। আগামী অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের মাধ্যমে একাধারে দশবার বাজেট দিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছেন।

আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার প্রায় চার লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে মোট রাজস্ব আয় তিন লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা হতে পারে। আগামী অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে এক লাখ ২৫ হাজার ২৯০ কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এবারের বাজেটে জনগণের ওপর কোনো বাড়তি করারোপ করা হবে না বলে এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, প্রতিবারের মতো এবারও ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থাৎ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে বাজেট উপস্থাপন করা হবে। ওই দিন বাজেট বক্তৃতা, বাজেটের সংক্ষিপ্তসার, বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি, সম্পূরক আর্থিক বিবৃতি, মধ্য মেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি, বিকশিত শিশু : সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, শিশু বাজেট ২০১৮-১৯, ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে অগ্রযাত্রা : হালচিত্র ২০১৮, জলবায়ু সুরক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বাজেট প্রতিবেদন ২০১৮-১৯, জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদন, সংযুক্ত তহবিল-প্রাপ্তি, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮, মঞ্জুরি ও বরাদ্দের দাবিসমূহ (পরিচালন ও উন্নয়ন), বিস্তারিত বাজেট (উন্নয়ন), মধ্য মেয়াদি বাজেট কাঠামো এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট সংক্ষিপ্তসার ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ জাতীয় সংসদ থেকে সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রণীত ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যাবলি-২০১৭-১৮ জাতীয় সংসদে পেশ করা হবে।

মন্ত্রণালয় থেকে জানায়, বাজেটকে আরো অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট www.mof.gov.bd-এ বাজেটের সব তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল যেকোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পাঠ ও ডাউনলোড করা যাবে এবং দেশ বা বিদেশ থেকে ওই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফিডব্যাক ফরম পূরণ করে বাজেট সম্পর্কে মতামত ও সুপারিশ প্রেরণ করা যাবে। প্রাপ্ত কল মতামত ও সুপারিশ বিবেচনা করা হবে। জাতীয় সংসদে বাজেট অনুমোদনের সময়ে ও পরে তা কার্যকর করা হবে।

মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ব্যাপকভিত্তিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি ওয়েবসাইট লিংক www.bangladesh.gov.bd, www.nrb-bd.org, www.plancomm.gov.bd, www.imed.gov.bd, www.bdpressinform.portal.gov.bd, www.pmo.gov.bd এবং বেসরকারি ওয়েবসাইট লিংক www.bdnews24.com ঠিকানায় বাজেট সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে।

বাজেট উপস্থাপনের পরের দিন, অর্থাৎ ৮ জুন বিকেল আড়াইটায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিশ্বব্যাংককে ‘আল্টিমেটাম’ দিলেন লোটাস কামাল

বিশ্বব্যাংককে ‘আল্টিমেটাম’ দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল)। প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি এই ‘আল্টিমেটাম’ দিয়ে বলেন, ‘বিশ্বব্যাংককে মে মাস পর্যন্ত সময় দিচ্ছি।  তারা এ সময়ের মধ্যে যেসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ও সংশয় প্রকাশ করেছে, তা নিয়ে আলোচনা করবে। এরপর নিজেদের রিপোর্ট আবার রিভিউ করবে।’

 

বুধবার (১১ এপ্রিল) শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশ্বব্যাংককে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘জিডিপি নিয়ে আমরা যে ফিগার দিয়েছি এটাই সঠিক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সহায়তায় আমরা এ ফিগার দিয়েছি।’

 

তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক ছাড়া আর কেউ আমাদের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। বিশ্বব্যাংক সব সময় এ কাজটি করে। বছরের প্রথম দিকে প্রবৃদ্ধি নিয়ে তারা দ্বিমত পোষণ করে কিন্তু বছর শেষে আবার সেটা মেনে নেয়। এটা কেন?’

 

মন্ত্রীর ভাষায়, ‘আপনাদের (বিশ্বব্যাংক) বলব, বিবিএসের কাছে যান। বিবিএস হচ্ছে ফাইনাল অথরিটি, তাদের মানতে হবে। আপনাদের কোনো বিষয়ে সংসয় থাকলে বিবিএসে যান, আলোচনা করেন।’

প্রসঙ্গত, গত সোমবার এক প্রতিবেদনে বছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৬৫ হবে বলে জানায় বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে সরকার ঘোষিত প্রবৃদ্ধি ৭.৬৫ কীভাবে হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে তারা।

সরকারের এ তথ্যের অনেক কিছু আবারও বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে বলে মনে করে সংস্থাটি। বিশ্বব্যাংকের এমন ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতেই মিট দ্য প্রেসের আয়োজন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি এবারও বলছি, বছর শেষে প্রবৃদ্ধি আরও বেশি হবে। আমি মনে করি তাদের নিকট সব তথ্য নেই। আমি আবারও বলছি, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৬৫ থাকবে না, এর বেশি হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংককে বলব, আপনারা বিবিএসের সঙ্গে বসুন, তারপর তথ্য দেন। আমি বিশ্বস করি আমাদের তথ্যের ফিগার সঠিক। তাদেরও (বিশ্বব্যাংক) উচিত এগুলো বিশ্বাস করা।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে ঘোষণা দিয়েছি ৭ দশমিক ৬৫ প্রবৃদ্ধি হবে। এ নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এডিবি নানা কথা বলছে। আরও অনেকে বলছেন, বলবেন।’

‘যেখানে সরকারের ব্যত্যয় থাকে সেই বিষয়ে বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠী ও অর্থনীতিবিদরা যে প্রস্তাব দেয় সরকার তা গ্রহণ করে।’

মিট দ্য প্রেসে আরও উপস্থিত ছিলেন বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব মফিজুল ইসলাম, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব জিয়াউল ইসলাম, বিবিএস সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) জুয়েনা আজিজ প্রমুখ।

ব্যাংক ও আর্থিক খাতে লুটপাট ও নৈরাজ্য সীমাহীন গতি বাড়বে – ক্যাব চট্টগ্রাম

ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(বিএবি)র অনৈতিক চাপে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে বাধ্যতামুলক নগদ জমার হার(সিআরআর) ১ শতাংশ কমানো, সরকারী অর্থ বেসরকারী ব্যাংকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত রাখার সিদ্ধান্ত আদায়, অর্থ মন্ত্রী, অর্থ সচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভণরকে হোটেলে গিয়ে চাপের মুখে দাবি আদায়কে নজিরবিহীন, চরম নৈরাজ্যকর ও দুর্নীতি, অনিয়ম এবং লুটপাটকে রাস্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের সামিল বলে মন্তব্য করে অবিলম্বে এদু’টি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম নগর ও বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ। ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএবি) কর্তৃক অনৈতিকভাবে জোর করে সুবিধা আদায়ের ঘটনার প্রতিবাদে এক বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত দাবি জানান।

 

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি সংস্থাগুলি এতদিন তাদের তহবিলের ৭৫ শতাংশ রাস্ট্রামালিকানাধীন ব্যাংকে জমা রেখে আসছিলো, বাকি ২৫ শতাংশ বেসরকারী ব্যাংকে জমা রাখার বিধান ছিলো। আর দীর্ঘ সময়ের এ চর্চা পরিবর্তন করে ৫০ শতাংশ বেসরকারী ব্যাংকে রাখার বিধান জারি করা হলো। আর সিআরআর কমানোর কারনে এখাতে ১০ হাজার কোটি টাকা বেসরকারী ব্যাংকগুলির হাতে জমা হবে। যেখানে বেশ কয়েকটি ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ সময় মতো ফেরত দিতে পারছে না, অনেকে দেউলিয়া হয়ে যাবার উপক্রম, ব্যাংক মালিকরা ব্যাংকের শেয়ার কিনে পরবতীতে নামে বেনামে ঋন নিয়ে জনগনের আমানত খেয়ে বসে আছে, সেখানে এধরনের সিদ্ধান্ত ব্যাংক ও আর্থিক খাতে চরম, অনিয়ম, দুর্নীতিকে আরো উস্কে দেয়ার সামিল।

 

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন বেসরকারী ব্যাংগুলির তারল্য সংকটের কথা বলে সিআরআর কমানো হলেও ব্যাংকে যে পরিমান তারল্য থাকার কথা তার চেয়ে বর্তমানে বেশী আছে। প্রমানিত হচ্ছে বেসরকারী খাতের ঋন ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ ছড়িয়ে গেছে। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকগুলির আমানত কমে যাবার কারন হলো আমানতকারীদের অর্থ সময় মত ফেরত দানে অপরাগতা ও আমানতকারীদের আস্থার সংকট। কিন্তু সিআরআর কমানোর কারনে ঋনের পরিমান বাড়বে এবং ঋন খেলাপীর হার প্রকট হারে বাড়বে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন ফার্মাস ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, সোনালী, জনতা ব্যাংকসহ সকল ব্যাংকের ঋন বিতরণে চরম অনিয়ম, পুকুর চুরি, দুর্নীতির চুড়ান্ত পর্যায়ে গেলেও দেশের কেন্দ্রিয় ব্যাংক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালনে পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় নয় চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় প্রদান করে দেশের পুরো ব্যাংক ও আর্থিক খাতকে গুটিকয়েক অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে ইজারা প্রদান করায় আর্থিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এ সমস্ত অনিয়মের হোতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের পরিবর্তে অনেককে পুরস্কৃত করার কারনে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে অনিয়ম ক্রমাগত বাড়ছে। ব্যাংকিং খাতে ভোগান্তি ও অনিয়ম নিয়ে নানা অভিযোগ হলেও রেগুলেটরী কর্তৃপক্ষ হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক এর নজরদারি নাই এবং বাংলাদেশ ব্যাংক অনেকটাই বেসরকারি ব্যাংকগুলির স্বার্থ সংরক্ষনের দায়িত্বে নিয়োজিত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। যা দেশের পুরো বিনিয়োগকে চরম ভাবে বাঁধার সম্মুখীন করেছে। অন্যদিকে চাল-ডালের ব্যবসায়ীদের মতো বিনা কারনে ঋনের সুদ বাড়িয়ে দেশীয় বিনিয়োগকে স্থবির করেছে। বিনিয়োগ, নিরাপত্তাসহ নানা অযুহাতে বিদেশে মুদ্রা পাচার ভয়াবহ হারে বেড়ে যাচ্ছে।

বিৃবতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডারদের সঞ্চিত অর্থের পরিমান ব্যংকের মোট তহবিলের ১০ শতাংশের বেশী নয়। আর ৯০ শতাংশ যাদের সঞ্চয় তারা ব্যাংক পরিচালনায় কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না। সাধারন আমানতকারীর আমানত চরম ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানতকারীদের পক্ষ থেকে পরিচালনা পর্ষদে নির্বাচিত হবার সুযোগ সৃষ্ঠি করা না হলে আমানতকারীদের অর্থ বেহাত হবার সম্ভাবনা অধিক।

অন্যদিকে দেশের বর্তমান ব্যাংকিং আইনকে পারিবারিকিকরণ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশে বাঁধা প্রদান, বিজ্ঞাপনকে গণমাধ্যমের জন্য অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার, ব্যাংক পরিচালনায় আমানতকারীদের অংশগ্রহন নিশ্চিত না হলে সিংহভাগ আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে না। যা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে সুশাসন এবং আস্থা অর্জনের বড় প্রতিবন্ধক।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান প্রমুখ।

কুমিল্লায় স্বাক্ষর জাল করে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তার ৪ বছরের কারাদণ্ড

কুমিল্লায় আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া নামে গ্রামীণ ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। স্বাক্ষর জাল করে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুর্র্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় কুমিল্লার স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ ইসমাইল বুধবার এ রায় দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার মেহের (উত্তর) গ্রামীণ ব্যাংক শাখার সিনিয়র অফিসার আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া ওই ব্যাংকের আমানতকারী পারভীন আক্তারের স্বাক্ষর জাল করে তার অগোচরে হিসাব হতে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ করেন।

 

এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ৮ই মে দুদক সমন্বিত কার্যালয় কুমিল্লার উপ-সহকারী পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে শাহরাস্তি মডেল থানায় মামলা করেন।

দুদক কুমিল্লা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, এ মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গ্রামীণ ব্যাংক শাহরাস্তি উপজেলার মেহের (উত্তর) শাখার সিনিয়র অফিসার আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আদালত দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় ২ বছর ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে ২ বছরসহ ৪ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন এবং আত্মসাৎকৃত ২ লাখ ৯০ হাজার টাকার দ্বিগুণ ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

তন্নতন্ন করে খুঁজেও জামায়াতকে ইসলামী ব্যাংক অর্থায়নের তথ্য পাওয়া যায়নি : আরাস্তু খান

জামায়াত-শিবিরকে অর্থায়নে ইসলামী ব্যাংক জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৭ সাল থেকে তন্নতন্ন করে খুঁজেও জামায়াত-শিবিরকে ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নের কোনো তথ্য বা প্রমাণ পায়নি। এমনকি জঙ্গি কার্যক্রমের সাথে জড়িতদেরকেও ইসলামী ব্যাংক অর্থায়নের কোনো তথ্য আমরা পাইনি।’

মঙ্গলবার ময়মনসিংহের ফুলপুরে ইসলামী ব্যাংকের ৩৩১ তম শাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে ‘ইসলামী ব্যাংক থেকে জামায়াত-শিবিরকে অর্থায়ন করা হয় কী’- জনৈক গ্রাহকের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ব্যাংকের চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের মতো সততা সরকারের মধ্যেও নেই। এত সৎ লোকের প্রতিষ্ঠান আমি আর দেখিনি।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের ব্যবসার অপারসম্ভাবনা রয়েছে : ড. দেলোয়ার হোসাইন

বর্তমানে মালেয়শিয়াতে বাংলাদেশের ব্যবসা বানিজ্যের মধ্যে manpower, export – import ছাড়া উল্লেখ যোগ্য কোনো ব্যবসা বানিজ্য নেই। যার মধ্যে শ্রমিকদের পাঠানো remittance বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে।পাশাপাশি ক্ষুদ্র পরিবেশে কিছু কিছু উদ্যোক্তা ছোটখাট ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত যেমন হোটেল, রেষ্টুরেন্ট, গ্রেসারীশপ ইত্যাদি।

বিশ্ব অর্থৈনৈতিক মন্দার কারনে যেহেতু বাংলাদেশের private sector এ large scale এ construction এবং real estate sector ব্যাবসা নিম্নগতি অন্যদিকে মালেয়শিয়াতে প্রচুর constructions কাজ হচ্ছে সেইক্ষেত্রে বাংলাদেশের বড় বড় বিনিয়োগকারীগণ আফ্রিকার কিছু দেশে যেভাবে বিনিয়োগ করছেন সেক্ষেত্রেতারা মালেয়শিয়ায় construction , real estate এবং agro Industry তে সরকারের অনুমোদন নিয়ে বিনিয়োগ করতে পারেন যা ultimately দেশের remittance প্রবাহকে ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখবে এবং ব্যবসায়িকিভাবেও বিনিয়োগকারীগন লাভবান হতে পারবেন।

 

অন্যদিকে নিজেরাই নিজেদের প্রতিষ্টানে শ্রমবাজার সৃষ্টি করে নিজ দেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ করে ত্রিমুখী পথ উন্মুক্ত করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে বিনিয়োগ অনুমোদন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে হবে এবং duel tex বিলুপ করলে ব্যাংকিং channel এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীগণ তাদের লভ্যাংশ দেশে পাঠাতে উৎসাহী হবেন ।উল্লেখযোগ্য যে মালেয়শিয়াতে ব্যবসায়িক অনুমোদন প্রক্রিয়া আমাদের দেশ থেকে অনেক সহজ এবং uninterrupted utility service এর নিশ্চয়তা আছে বিধায় উৎপাদন খরছ কমবে। অন্যদিকে মালেশিয়াতে hidden cost আমাদের দেশ থেকে অনেক কম।

পরিচিতি : বিশিষ্ট শিল্পপতি ও অর্থনীতিবিদ

যুক্তরাজ্য কনজারভেটিভ পার্টির প্রতিনিধি দল গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সন কার্যালয়ে

সোমবার বিকেলে গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সন কার্যালয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাজ্য কনজারভেটিভ পার্টির একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। এসময় তারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা সঙ্কটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।

ওই মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতা উপস্থিত ছিলেন।

বিস্তারিত আসছে…