আবরারকে একাই দেড়শ’ আঘাত করে অনিক

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা বেরিয়ে আসছে। এ মামলায় গ্রেফতার ১৩ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এখন পর্যন্ত পাঁচজনের নাম পাওয়া গেছে, যারা সরাসরি আবরারের ওপর নির্যাতনে জড়িত ছিল। তবে সরাসরি নির্যাতন ছাড়াও তাকে ধরে আনা, মোবাইল ও ল্যাপটপ পরীক্ষা আর পরে তার নিস্তেজ দেহ নিয়ে দৌড়াদৌড়িতে আরও ২০-২৫ জন সংশ্নিষ্ট ছিল। বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন
সাহাদাত হোসেন পরশ ও আতাউর রহমান।

নির্যাতনকারীদের মধ্যে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. অনিক সরকার একাই অন্তত দেড়শ’ বার আবরারকে আঘাত করেন। অনিক মারধরের সময় নিজের ভূমিকার বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আবরার একেক সময়ে একেক তথ্য দিচ্ছিলেন। এজন্য তার মাথা গরম হয়ে যায়। ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি তাকে বারবার মারছিলেন। বর্বরোচিত নির্যাতনের একপর্যায়ে আবরার যখন নিস্তেজ হয়ে পড়ছিলেন, তারা বলছিল- ‘ও ঢং ধরেছে।’ হামলাকারীদের নানা পরামর্শ দেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল। আবরার হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃতরা রিমান্ডে এ ঘটনায় তাদের প্রত্যেকের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। কয়েকজন ‘অনুতপ্ত’ হয়ে গোয়েন্দাদের এও বলেন, ‘ক্রসফায়ার নইলে ফাঁসি দিয়ে দেন। ওই হত্যার দায় নিয়ে বাঁচতে চাই না।’ একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে, আবরার হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলা ও সুরতহাল প্রতিবেদনের তথ্যে গরমিল পাওয়া গেছে।

মোবাইলে ধর্মীয় গান দেখে সন্দেহ :আবরারের ওপর সরাসরি নির্যাতনে জড়িত ছিলেন বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা অনিক, মেহেদী হাসান রবিন, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ও ১৬ ব্যাচের ইফতি মোশাররফ সকাল, ছাত্রলীগের সদস্য ও ১৬তম ব্যাচের মুজাহিদুর রহমান। গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, রোববার রাত ৮টার দিকে আবরারের কক্ষে গিয়ে তাকে ডেকে আনেন রবিন। এ সময় আবরারকে মোবাইল ও ল্যাপটপ সঙ্গে নিতে বলেন তিনি। ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে তার মোবাইল-ল্যাপটপ পরীক্ষা করেন তারা।

এ সময় আবরারের মোবাইলে কিছু গজলসহ ধর্মীয় গান পাওয়া যায়। এটা দেখে হামলাকারীরা বলতে থাকে, ‘তুই শিবির করিস।’ তবে আবরার জানান, শিবিরের সঙ্গে তার কোনো সংশ্নিষ্টতা নেই। ২০১৬ সালে তার মোবাইলে গান রেকর্ড করার সময় দোকানি অন্যান্য গানের সঙ্গে ধর্মীয় গানও দিয়েছে। এরপর আবরারের কাছে হলের অন্য কারা শিবিরের কর্মী, তা জানতে চায় তারা। ভয়াবহ নির্যাতনের মুখে আবরার হলের কয়েকজন ছাত্রের নাম জানান। তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, আবরার যাদের নাম বলছেন, তারা শিবিরের কর্মী নন। এর পর তাকে আরও নির্যাতন করা হয়।

আগে থেকেই টার্গেট :হামলাকারীরা জানিয়েছে, শিবির সন্দেহে আবরারকে টর্চার সেলে নেওয়া হবে- এ পরিকল্পনা তাদের আগে থেকেই ছিল। তবে গ্রামের বাড়িতে থাকায় তাকে টর্চার সেলে নেওয়া সম্ভব হয়নি। রোববার বাড়ি থেকে ফেরার পরপরই তার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়। প্রথমে মারধর শুরু করেন অনিক। ক্রিকেট খেলার স্টাম্প ও মশারি টানানোর লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয় আবরারকে। এরপর মুজাহিদ, সকাল ও রবিনও তাকে দফায় দফায় মারতে থাকেন। মারধরের একপর্যায়ে অনিক ফোন করেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি রাসেল ও মুন্নাকে। অনিক তাদের জানান, ‘আবরারের শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। কোনো নড়াচড়া করছে না।’ তখন রাসেল ও মুন্না অনিককে বলেন, ‘ও ঢং ধরেছে।’ এরপর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে আবরারকে মুন্নার ‘২০০৫’ নম্বর কক্ষে নেওয়া হয়।

হলে হলে আতঙ্ক : আবরার হত্যার বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চললেও তাদের মধ্যে আছে অজানা শঙ্কা। নাম প্রকাশে ভীত বুয়েটের একাধিক ছাত্র জানান, দীর্ঘদিন ধরে বুয়েটের বিভিন্ন হলে র‌্যাগিং বা শিবিরকর্মী সন্দেহে অনেকেই মারধরের শিকার হয়ে আসছে।

শেরেবাংলাসহ বিভিন্ন হলে দেখা যায়, ভেতরে টানানো রয়েছে ব্যানার। তাতে লেখা, ‘র‌্যাগিং ইজ ক্রাইম’। কেউ র‌্যাগিংয়ের শিকার হলে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রতিকার পাওয়া যাবে, এমন বেশ কিছু মোবাইল নম্বরও ওই ব্যানারে রয়েছে। তাতে প্রভোস্টের নম্বর দেওয়া আছে।

তবে হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, অনেকে র‌্যাগিংয়ের শিকার হলেও ‘বড় ভাইদের’ ভয়ে তাদের নাম প্রকাশ করেন না। আবার যারা র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত, তাদের অনেকে র‌্যাগিং প্রতিরোধ কমিটিতেও রয়েছেন। শেরেবাংলা হলের নিরাপত্তারক্ষী নুরুল ইসলাম বলেন, আবরারের ঘটনায় বুধবার থেকে সংবাদকর্মীসহ কোনো বহিরাগতকে হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এদিকে রিমান্ডে থাকা আসামিরা পুলিশকে জানায়, বুয়েটে সিনিয়র-জুনিয়র ব্যাচের মধ্যে কমান্ড কন্ট্রোল শৃঙ্খলা বাহিনীর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। সিনিয়রদের নির্দেশনা অমান্যকে তারা ‘গুনাহর’ মতো বিবেচনা করে। রিমান্ডে থাকা সকাল জানান, আবরার তার নটর ডেম কলেজের ছোট ভাই। তার মৃত্যুর দায় নিয়ে তিনি আর বাঁচতে চান না। তাই ফাঁসি বা ক্রসফায়ার চান সকাল। তবে অনিক বলেছেন, আবরারের ঘটনায় জড়ানো ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। একবারের জন্য এই ভুল শোধরানোর সুযোগ চান তিনি।

এজাহার আর সুরতহালে অসঙ্গতি :আবরারের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনে চকবাজার থানার উপপরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন লিখেছেন, ৭ অক্টোবর ভোর ৪টা ৭ মিনিটে বেতারযন্ত্রে তিনি জানতে পারেন, বুয়েটের শেরেবাংলা হলে সমস্যা হয়েছে। থানা থেকে তাকে তা দেখার জন্য বলা হয়। তিনি ওই সংবাদের ভিত্তিতে ফোর্স নিয়ে হলে গিয়ে উত্তর গেটের বারান্দায় একটি স্ট্রেচারে আবরারের মৃতদেহ পান। এরপর হলের সিকিউরিটি ইনচার্জ এ কে আজাদের শনাক্ত অনুযায়ী সুরতহাল তৈরি করেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা সুরতহালে উল্লেখ করেছেন, প্রকাশ্য ও গোপন তদন্তে তিনি জানতে পারেন, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা অজ্ঞাত কারণে আবরারকে মারধর করে গুরুতর জখম ও অচেতন অবস্থায় শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির মাঝামাঝি ফেলে রেখে যায়। পরে খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে বুয়েটের চিকিৎসক মোহাম্মদ মাশুক এলাহী আবরারকে মৃত অবস্থায় পান।

সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে আবরারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে (মর্গে) পাঠিয়েছে। কিন্তু ৭ অক্টোবর রাতে আবরারের বাবা বরকতুল্লাহর দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, আবরারকে কয়েকজন ছাত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুরতহাল প্রস্তুতকারী উপপরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ যে অবস্থায় পেয়েছেন, তাই উল্লেখ করেছেন। তিনি সরকারি গাড়িতে (পুলিশের গাড়ি) আবরারের লাশ মর্গে পাঠিয়েছেন। মামলার এজাহারে কী লেখা রয়েছে, তা তার জানার কথা নয়।

অবশ্য নিহত আবরারের এক স্বজন জানিয়েছেন, আবরারের বাবা গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায় থাকেন। তিনি তো আসামিদের চিনতেন না, কীভাবে কী হয়েছে, তাও জানতেন না। ফুটেজ দেখে, ছাত্র ও হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ আসামি চিহ্নিত করে এজাহার করেছে। আবরারের বাবা বাদী হিসেবে সেখানে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

সুরতহাল ও এজাহারে এমন অসঙ্গতির ফলে মামলার বিচার কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে কি-না জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, কোনো হত্যা মামলায় সুরতহাল প্রতিবেদন ও এফআইআর (এজাহার) গুরুত্বপূর্ণ। এ দুটির মধ্যে সমন্বয় না থাকলে, অসঙ্গতি থাকলে মামলার মেরিটে প্রভাব পড়ে। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করবেন, সুযোগ নেবেন। কারণ বিচারক তো কাগজপত্রের ভিত্তিতে রায় দেবেন। বিষয়গুলো মামলা রেকর্ডকারী কর্মকর্তাদের দেখা উচিত ছিল। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও সতর্ক থাকতে হবে।

সব পরামর্শ দেন রাসেল, লাশ সরানোর চাপও দেন তিনি :শেরেবাংলা হলের একাধিক শিক্ষার্থী ও তদন্তসংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের নির্দেশেই আবরারকে তার রুম থেকে ২০১১ নম্বর রুমে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। আবরারের ওপর হামলার নেপথ্যে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া ছাড়াও অন্য কারণ খুঁজে দেখছে তদন্ত সংস্থা ডিবি। এরই মধ্যে তদন্তসংশ্নিষ্টরা জানতে পেরেছেন, ক্যান্টিনে খাবার নিয়েও রাসেলের সঙ্গে আবরারের তর্ক হয়েছিল।

তদন্তসংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, আবরারকে মারধরের পর হামলাকারীরা রাসেলকে পরিস্থিতি জানায়। তখন তিনি নিজের কর্মীদের বলেন, ও অভিনয় করছে। আরও মারতে হবে। মারধরের এক পর্যায়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বমি করে দেন আবরার। তখন রাসেল তাকে ওই রুম থেকে সরিয়ে ২০০৫ নম্বর কক্ষে নিতে বলেন। সেখানে আবরারকে সুস্থ করারও চেষ্টা হয়। জ্ঞান ফিরলে আবরারকে শিবিরকর্মী বলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ারও পরামর্শ দেন রাসেল। এরপর নিজেই রাত দেড়টার দিকে চকবাজার থানায় ফোন দেন। তখন পুলিশ হলে গেলেও আবার তিনিই তাদের ঢুকতে বাধা দেন।

চকবাজার থানার উপপরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন ওই রাতে শেরেবাংলা হলে যান। তিনি বলেন, ঝামেলার খবর পেয়ে থানা থেকে তাকে টহল ডিউটি দেওয়ার সময়ে ওই হলে যেতে বলা হয়। রাত সোয়া ২টার দিকে তিনি হলের অভ্যর্থনা কক্ষে যান। এরপর সাধারণ সম্পাদক রাসেলকে ফোন দেন। ওই সময় রাসেল তাকে বলেন, প্রভোস্ট ও প্রক্টর স্যারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তাদের অনুমতি ছাড়া হলে প্রবেশ করা যাবে না। পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, তিনি ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে টহল ডিউটিতে চলে আসেন।

জানা গেছে, খবর পেয়ে পুলিশ হলে পৌঁছার আগেই আবরার মারা যান। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ায় হামলাকারীরা ভয়ে আবরারের লাশ পুলিশের কাছে তুলে দেয়নি। তখন বাধ্য হয়ে তারা প্রভোস্টকে খবর দেয়।

ওই রাতের ঘটনার বিবরণ দিয়ে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে রাত পৌনে ৩টার দিকে প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্টের সঙ্গে তিনি শেরেবাংলা হলে যান। সেখানে আবরারের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপরই কিছু ছেলে সেখান থেকে লাশ নিয়ে যেতে চাপ দেয় তাদের।

ছাত্র পরিচালক বলেন, সেখানে অনেক ছাত্রই ছিল। এর মধ্যে তিনি শুধু ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেলকে চেনেন। রাসেলও তাকে লাশ সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু তিনি সাফ জানিয়ে দেন- এটা পুলিশ কেস, পুলিশ না আসা পর্যন্ত তা সম্ভব নয়। এরপর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা এসে চকবাজার থানায় ফোন দিলে পুলিশ কর্মকর্তারা আসেন।

বুয়েটের চিকিৎসক মোহাম্মদ মাশুক এলাহী জানান, তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন, আবরার আগেই মারা গেছে। পুলিশ তার পরনের ট্রাউজারের একটা অংশ খুলে পিটুনির অসংখ্য জখম পায়। কিন্তু বারান্দায় পুরো শরীর চেক করা সম্ভব ছিল না। এজন্য আবরারের লাশটি হলের ক্যান্টিনে নিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পুলিশ।

দুই পরিবারের দাবি : এদিকে আবরার হত্যায় ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন তার মা কুলসুমা আক্তার শেলি। তিনি বলেন, ঘটনার রাতে চুনারুঘাটে নিজ এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিল মুন্না। তাই ভিডিও ফুটেজেও তার ছেলের ছবি নেই। এছাড়া বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের বাবা রুহুল আমিন দাবি করেছেন, তার ছেলে রাসেল ষড়যন্ত্রের শিকার। সে নির্দোষ। সিসিটিভির ফুটেজে তার ছেলেকে দেখা যায়নি।

ধর্ষণে বাধা দেয়ায় মা-মেয়ের মাথা ন্যাড়া, আটক দুই

ধর্ষণে বাধা দেয়ায় শাস্তি হিসেবে এক পরিবারের মা ও মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার অভিযোগে ভারতের বিহার রাজ্যে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

একদল লোক ধর্ষণের উদ্দেশ্য নিয়ে ঐ নারীদের বাড়িতে হামলা চালায় বলে জানায় পুলিশ। খবর বিবিসি বাংলার

পুলিশের ভাষ্যমতে, হামলাকারী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও ছিল। ঐ নারীরা বাধা দিলে হামলাকারীরা তাদের মারধর করে, তাদের মাথা ন্যাড়া করে দেয় এবং তাদেরকে সারা গ্রাম জুড়ে হাঁটানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সাথে জড়িত আরো পাঁচজনকে খুঁজছে তারা।

এএনআিই সংবাদ সংস্থাকে ভুক্তভোগী মেয়েটির মা জানায়, লাঠি দিয়ে আমাদের বেদম প্রহার করা হয়। আমার শরীরে সব জায়গায় আঘাত পেয়েছি এবং আমার মেয়ের শরীরেও বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে।”

তিনি আরো জানান, সব গ্রামবাসীর সামনে তাদের মাথা ন্যাড়া করে দেয়া হয়।

আইনের প্রতি ভয় নেই

সাংবাদিক গীতা পান্ডে মনে করেন, আইনকে ভয় না করার কারণেই এ ধরণের অপরাধের মাত্রা দিনদিন বাড়ছে।

ধর্ষণের চেষ্টা করা যৌন সহিংসতামূলক অপরাধ। কিন্তু ধর্ষণে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে নির্যাতন এবং ঐ নারীদের মাথা ন্যাড়া করে দিয়ে গ্রাম জুড়ে হাঁটানোর মত ঘটনা প্রমাণ করে যে একটি সম্প্রদায় কতটা পুরুষকেন্দ্রিক চিন্তা করতে পারে।

আর সবচেয়ে অবাক করা এবং ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, হামলাকারীরা একজন সরকারি কর্মকর্তার নেতৃত্বে ঐ নারীদের ওপর হামলা করে – যিনি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং তার এলাকার মানুষের খোঁজ-খবর রাখা যার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

অপরাধীদের ঔদ্ধত্যের মাত্রাই বলে দেয় যে ভারতের কিছু অংশে আইনকে একেবারেই পরোয়া করে না মানুষ।

দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্যদের অনেকেই পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর জন্য পুলিশকে রাজি করাতে পারেন না বলে অভিযোগ করা হয়।

এরপর তাদের অভিযোগের তদন্তের ক্ষেত্রে যেমন গাফিলতি করা হয়, তেমনি ধীরগতির বিচার ব্যবস্থার ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালীরা অনেকসময়ই বড় অপরাধ করেও পার পেয়ে যান।

আর এরকম দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সদস্যদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধের প্রতিবাদও সাধারণ মানুষের মধ্যে যে খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়, তাও নয়।

স্থানীয় সংবদামাধ্যমকে একজন পুলিশ সদস্য বলেন, ভুক্তভোগীদের বাড়িতে প্রবেশ করে কমবয়সী মেয়েটিকে যৌন নির্যাতন করার চেষ্টা চালায় একদল লোক।

রাজ্যের নারী বিষয়ক কমিশন এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। কমিশন বলেছে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আরো ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এ ধরণের ঘটনা এই রাজ্যে এটিই কিন্তু প্রথম নয়।

এপ্রিলে গণধর্ষণ প্রতিরোধ করার কারণে একটি মেয়ের ওপর অ্যাসিড ছোঁড়া হয়। তার কয়েকমাস আগে বিহারের এক নারীকে নির্যাতনের পর নগ্ন অবস্থায় গ্রামের বাজারের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যেতে বাধ্য করা হয়।

২০১২ সালে দিল্লির একটি বাসে গণধর্ষনের পরে এক নারীকে হত্যা করার ঘটনার পর থেকে এ ধরণের ঘটনায় জনগণের বিক্ষোভ প্রকাশ করার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

দাউদকান্দিতে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন

যৌতুক না পেয়ে প্রেমিকা স্ত্রীকে সন্তানসহ মারধর করে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে গত ১৭ জুলাই কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নারী ও শিশু সহায়তা সেলে স্বামী শ্বশুর, শাশুড়ি এবং দেবরের বিরুদ্ধে এক অভিযোগ দায়ের করেন মনি চৌধুরী নামে এক গৃহবধূ।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায় দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর গ্রামের মৃত মমিন চৌধুরীর মেয়ে মনি চৌধুরী একই উপজেলার পেন্নাই গ্রামের মহি উদ্দীনের ছেলে মেহেদী হাসানের সঙ্গে ২০১৬ সালের ২২ মার্চ ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েকমাস পর মেহেদী স্ত্রী মনির নিকট ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করলে মনির স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবর, মিলে তার উপর নির্মম নির্যাতন চালায়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাবার বাড়িতে চলে আসে মনি। এরপর স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে আবারো মনিকে স্বামী মেহেদী হাসান বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে মনির কোলজুড়ে এক মেয়ে সন্তান জš§ নেয়। মেয়ে সন্তান হওয়ার পরে আবারো যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন শুরু করে মেহেদী।

 

মনি জানান মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়ার পর থেকে শ্বশুর শাশুড়ি ও দেবর মিলে ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে, যৌতুকের টাকা না দেয়াতে গত বছর তাকে এবং তার সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়, সে থেকে গত এক বছর যাবত বাবার বাড়িতে থাকছেন মনি। গত ৫ জুলাই সকালে মেহেদী, মনিদের বাড়িতে এসে আবারো ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে মেহেদী মনির গলাটিপে হত্যাচেষ্টা চালায়, এ সময় আমি চিৎকার করলে মেহেদী পালিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন মনি।

মনি জানান মেহেদী মাদকাসক্ত প্রতিদিনই তার উপর নির্যাতন করতো। এছাড়াও মাদক কারবারের সঙ্গেও জড়িত এজন্য বেশ কয়েকবার জেলেও গেছে। শুধু সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে তার সব অত্যাচার সহ্য করে গেছি কিন্তু দিন দিন তার অত্যাচার বাড়তে থাকে আর যৌতুকের দুই লাখ টাকার জন্য মারধোর করতো। মনি আরো জানান গত এক বছর মেহেদী আমার এবং আমার সন্তানের কোনো খোঁজ রাখেনি।

 

এ ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারদের জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি তাই নিরুপায় হয়ে পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগ দায়ের করি। মনি আরো বলেন গত ১৩ আগস্ট পুলিশ সুপারের অফিসে ডাকা হলেও তারা উপস্থিত হয়নি। এখন আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে, তার বিরোদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় মেহেদী মাদক কারবারের সাথে জড়িত এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী তাই তার বিরোদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পাচ্ছে না। তবে তারা মেহেদীর বিরোদ্ধে অপরাধ তদন্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

এ ব্যাপারে দাউদকান্দি থানার এএসআই ফিরোজ জানান মনি চৌধুরীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার স্যারের পত্র পেয়ে উভয়পক্ষকে নোটিসের মাধ্যমে ১৩ আগস্ট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হলেও মেহেদী বা তার পরিবারের কেউ উপস্থিত হননি। তিনি আরো বলেন মেহদীর বিরোদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং গ্রেফতার হয়ে জেলেও খেটেছে। এব্যাপারে মেহেদীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে না পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

 

কাউন্সিলর একরাম হত্যার অডিও: সামাজিক মাধ্যমে

টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সেখানকার পৌর কাউন্সিলর ও স্থানীয় যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো. একরামুল হকের নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে রেকর্ডকরা অডিও প্রকাশ হওয়ার পর ঘটনা নিয়ে সামাজিক নেটওয়ার্কে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

দেশটির কিছু সংবাদমাধ্যমেও তা প্রকাশ হয়েছে।

মাদক বিরোধী অভিযানে কক্সবাজারের টেকনাফে গত ২৬শে মে একরামুল হক নিহত হন।

তাকে বাসা থেকে র্যাাব এবং ডিজিএফআই এর স্থানীয় দু’জন কর্মকর্তা ডেকে নেওয়ার পর হত্যা করা হয়েছে বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছে।

এদিকে, র্যা ব বলেছে, প্রকাশ হওয়া অডিও খতিয়ে দেখছে বাহিনীটির সদর দপ্তর।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিবর্ষণের অন্যান্য ঘটনার মতো এই ঘটনাও তদন্ত করা হবে।

মাদক বিরোধী অভিযানে টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে অডিও ইউটিউবে প্রকাশ হওয়ার পর তা সামাজিক নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়েছে।

তার পরিবার বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সময়কার ফোনকলের এই অডিও সাংবাদিকদের শুনিয়েছে।

সেই অডিওতে শোনা যাচ্ছে যে, একরামুল হকের নিহত হওয়ার ঘটনার সময় এবং তার আগমুহুর্তে ঘটনাস্থলে মোবাইল ফোনে তিনবার কল এসেছিল।

শেষ ফোন কলটি রিসিভ হলেও ঘটনাস্থল থেকে ফোনটিতে কেউ উত্তর দিচ্ছে না।

যিনি ফোন করেছেন, প্রথমে তার কিছুটা কথা আছে। কিন্তু পরে ঘটনাস্থল বা সেই প্রান্ত থেকে একটা ভয়াবহ পরিবেশের চিত্র পাওয়া যায় এই অডিওতে।

একরামুল হকের স্ত্রী আয়শা বেগম বিবিসিকে বলেছেন, ঘটনার আগমুহুর্তে তার দুই মেয়ে প্রথমে একরামুল হকের মোবাইল ফোনে কল করে তার সাথে অল্প সময় কথা বলেছিল। এই কথোপকথনে পরিস্থিতি গুরুতর মনে হওয়ায় সাথে সাথে আয়শা বেগম নিজে ফোন করেন।

তার ফোন কলটি রিসিভ করা হয়, কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে কোনো জবাব পাননি। তিনি গুলি এবং ঘটনাস্থলের সব শব্দ শুনতে পেয়েছেন।

‘আমার মেয়ে কথা বলেছিল ওর আব্বুর সাথে। তারপর মেয়ে বললো, আম্মু আব্বুকে কান্না কান্না গলায় কথা বলছে। তখন আমি সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিলাম। আবার ফোন দিলাম। সেখানে আমার হাসবেন্ড বলতেছে, লোকটি নাজিরপাড়ার লোক হবে, আমি না। তারপর র্যালব একজন বলতেছে, এটাতো এটা না। আরেকজন র্যা ব বলতেছে, আপনারা এটা। তারপরে শ্যুট করে দিছে একজন। তারপরে বলছে, ওনাকে শেষ করেছি। এখন বাইকে শ্যুট করো। তখন গাড়িতে শ্যুট করে দিছে ওনারা।’

‘আমার বাচ্চারা কান্না করতেছে যে, আমার আব্বুকে এরকম নির্মমভাবে হত্যা করা হলো কেন? উনিতো কিছু করে নাই।’

আয়শা বেগম প্রকাশিত অডিওতে কন্ঠগুলো তাদের পরিবারের বলে নিশ্চিত করেছেন।

তবে র্যা বের মুখপাত্র কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানিয়েছেন, র্যা ব সদর দপ্তর এই অডিও খতিয়ে দেখছে।

আয়শা বেগম অভিযোগ করেছেন, তার স্বামীকে ডিজিএফআই এবং র্যা বের স্থানীয় দু’জন কর্মকর্তা ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে।

‘র্যা ব দুই মাস যাবৎ জায়গা নেবে বলে আমার হাসবেন্ডকে জায়গা দেখাতে বলতেছে। উনিতো তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। সেই সুবাদে ওনারা বলতেছে, আপনার পরিচিত থাকবে, আমাদের একটা জায়গা দেখান। অনেকবার জায়গা দেখতে গেছে র্যারবরা। জায়গাও দেখছে।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘এই জায়গা দেখার কথা বলে সেদিন ২৬ তারিখে র্যা।বও ফোন করছিল। আর টেকনাফের ডিজিএফআই এর মেজরও ফোন করছিল ওনার কাছে। দুপুর থেকে ডাকতেছে। বলতেছে যে, আসেন না। উনি বলছে,আমি আপনাদের বলছি না যে দুপুরের পর আসবো।’

‘ওরা ফোন করে করে ডাকছে। বলছে আসতে হবে। তারপর তারাবির পর ওনাদের কাছে গেছে। এভাবে কেন আমার স্বামীকে খুন করা হলো?’

ডিজিএফআই এর একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও কোন মন্তব্য করেননি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, অডিও তিনি শোনেননি। কিন্তু আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর গুলিবর্ষণের অন্যান্য ঘটনা যেভাবে তদন্ত হয়, এটিও সেভাবে তদন্ত হবে।

‘দেখুন ঐ অডিও আমি শুনিনি। আমি না দেখেতো বলতে পারবনা যে, কি অডিও বের হয়েছে। এটা আমরা সবসময় বলছি, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বা অন্যায়ভাবে কিছু করে থাকে, তারতো একটা ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল এনকোয়ারি হচ্ছে এবং হবে। সেখানে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তারও বিচার হবে। সেটা আমরা সবসময় বলে আসছি। কিন্তু এটা অডিও না দেখে আমি বলতে পারবো না।’

কিন্তু একরামুল হকের পরিবার অভিযোগ করেছে, র্যা ব এবং ডিজিএফআই এর স্থানীয় দু’জন কর্মকর্তা তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। প্রকাশিত অডিওতেও একরামুল হকের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ে কোনো অভিযোগ না থাকার দাবি করা হয়েছে।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘অভিযোগ নেই, সেগুলো আমরা এখন, মানে আমার জানামতে, তার তিনটি- মাদক অধিদপ্তর থেকে যে লিস্ট বানিয়েছে, সেটার ভেতরে তার নাম আছে। সেটাও আমি দেখেছি। আরও একটি সংস্থার লিস্টে তার নাম ছিল। এ সবগুলো নিয়ে তদন্ত হবে। তারপর বলতে পারবো যে, কে দোষী?’

তবে কক্সবাজারের এই ঘটনা আলাদাভাবে তদন্ত হবে কিনা, সেই প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘এটা সব গুলিবর্ষণের ঘটনাতেই তদন্ত হয়।’

একরামুল হক স্থানীয় যুবলীগের সভাপতি ছিলেন দীর্ঘসময়।

কক্সবাজারের পৌর মেয়র এবং সেখানকার ‌আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান চৌধুরী এর আগে ঘটনার বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন।

তিনি বিবিসিকে বলেছেন, তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চান।

তিনি মনে করেন, ‘এ ধরণের ঘটনার ঘটিয়ে মাদকবিরোধী পুরো অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ সূত্র: বিবিসি

হামলার পেছনে কারা আছে দেখতে চাই; যে করেই হোক এই হামলার বিচার করতে হবে: সুলতানা কামাল

মানবাধিকার কর্মী ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেছেন, ‘যে করেই হোক এই হামলার বিচার করতে হবে। আমরা দেখতে চাই এই হামলার পেছনে কারা আছে। এই দেশকে কোনো দুর্বৃত্তের হতে দিব না।’

রবিবার অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার করা এবং হামলার আসল পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করার দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন সুলতানা কামাল। জাতীয় জাদুঘরের সামনে ওই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে গণজাগরণ মঞ্চ।

সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমরা জানি জাফর ইকবাল কেন প্রিয়, কেন ভালবাসার পাত্র। কারণ তিনি মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধের বাণী তরুণ প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি, তা ধ্বংস করার জন্য এই হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের প্রেতাত্বারা এখনো রয়ে গেছে। তাই এ ধরনের হামলা হচ্ছে।’

মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির বলেন, ‘প্রগতিশীলদের ভয় দেখানোর জন্য এই হামলা হয়েছে। তবে হতাশার দিক রাষ্ট্র থেকে যে ধরনের ভূমিকা নেওয়ার দরকার তা রাষ্ট্র নিচ্ছেনা।’

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘অভিজিৎ রায়ের ওপর হামলার পর থেকে হামলা শুরু হয়েছে যা আর বন্ধ হয়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। এর আগে ঘরে প্রবেশ করে হামলা হয়েছে, এখন সবার সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা হচ্ছে।’

বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন, লেখক ও প্রকাশক রবীন আহসান, গণজাগরণ মঞ্চের নেতা আকরামুল হক, কেন্দ্রীয় খেলাঘরের সহ-সভাপতি ড. আবু সায়েদ, উন্নয়নকর্মী শাহীন আনাম, নারী সাংবাদিক ফোরামের আহ্বায়ক নাসনিম আরা মিনু, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জি এম জিলানী শুভ, সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী প্রমুখ।

জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ
জনপ্রিয় লেখক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগ।

এ দাবিতে গতকাল শনিবার রাত ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে একটি মিছিল বের হয়ে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স।

সমাবেশে বক্তারা মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী ও এর পেছনে মদদদাতাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মো. সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘আমরা হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। হামলাকারী ও যারা এ হামলার পেছনে থেকে হামলার পৃষ্ঠপোষকতা করেছে, তাদেরও শাস্তি দিতে হবে।’

ছাত্রলীগ নেতা আরো বলেন, ‘এখন থেকে যেখানে জঙ্গিবাদ জামায়াত-শিবিরকে পাওয়া যাবে, সেখানে গণধোলাই দেওয়া হবে। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যাবে, সেখানে গণধোলাই দিতে হবে। প্রতিটি ইঞ্চিতে তাদের খুঁজে বের করতে হবে। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করতে পারিনি, তাদের দায়িত্ব এখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিএনপি, জামায়াত-শিবিরকে বাংলাদেশ থেকে চিরতরে মুছে ফেলার।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর দেশে কখনো স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির ও বিএনপির আস্তানা থাকতে পারে না। ছাত্রলীগ বেঁচে থাকতে তাদের ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই সফল হবে না।’

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘জাফর ইকবালের মতো বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে খুনিরা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দুর্বল করতে চায়। শেখ হাসিনাকে বেকায়দায় ফেলে দিতে এ হামলা করা হচ্ছে।’

এর আগে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এমন একজন বহুমাত্রিক প্রতিভাবান শিক্ষকের ওপর যে বা যারা হামলা চালিয়ে আহত করেছে, আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এই সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের দ্রুত খুঁজে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করছি।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের একটি উৎসব ছিল। সেই উৎসবে অংশ নিয়ে অন্যদের সঙ্গে মুক্তমঞ্চে বসে ছিলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। এক যুবক হঠাৎ পেছন থেকে তাঁর মাথায় ছুরিকাঘাত করেন।

সঙ্গে সঙ্গেই হামলাকারীকে ধরে ফেলে পুলিশ ও শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে গণপিটুনি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। রাতে তাকে নেওয়া হয় র্যা ব হেফাজতে। হামলাকারী এখন সিলেট সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোতালেব নিখোঁজ

গতকাল শনিবার বিকেল ৩টার দিকে  শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনকে রাজধানীর বছিলা থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তুলে নিয়ে গেছে।

 

এ ব্যাপারে হাজারীবাগ থানায় জিডি করা হয়েছে। অন্যদিকে গতকাল গুলশান থেকে লেকহেড গ্রামার স্কুলের মালিক খালেদ হোসেন মতিন ‘নিখোঁজ’ হয়েছেন বলে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
জানা গেছে, বছিলা ব্রিজের কাছে মোতালেব হোসেনের বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে।

গতকাল বিকেলে তিনি নির্মাণ কাজ দেখতে যান। এ সময় তিন-চারজন নির্মাণাধীন ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর কাছে মোতালেব সম্পর্কে জানতে চায়। মোতালেব ছাদে আছেন জানার পর তারা সেখানে যায়। বাড়ি ভাড়া নেওয়ার কথা বলে  তাকে নিচে নামিয়ে এনে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় তারা। মোতালেবের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি। রাজধানীর গ্রিন রোডে সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে তিনি থাকতেন।

হাজারীবাগ থানার ওসি মীর আলিমুজ্জামান সমকালকে বলেন, রাতে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বনানী এলাকা থেকে নাসির উদ্দিন নামে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মচারী নিখোঁজ হন।

রাজধানীর গুলশানে লেকহেড গ্রামার স্কুলের মালিক খালেদ হোসেন মতিন নিখোঁজ হয়েছেন। গতকাল বিকেলে স্কুলের সামনে থেকে একটি মাইক্রোবাসে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করে গুলশান থানায় জিডি করা হয়েছে। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাউদ্দিন মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গুলশান-১ নম্বরের ১৩৫ নম্বর সড়কের ছয় নম্বর ভবনে লেকহেড গ্রামার স্কুল। গত বছর স্কুলটির বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ উঠেছিল। গতকাল বিকেল ৪টার দিকে খালেদ হোসেন স্কুল থেকে বের হলে এক ব্যক্তি তাকে সালাম দিয়ে একটু সামনে ডাকেন। এর পরই অপেক্ষমাণ একটি মাইক্রোবাসে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

মাইক্রোবাসের মধ্যে আরও ৩-৪ জন ছিল বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরএম গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে গুলশান থানায় জিডি করেন। গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাউদ্দিন মিয়া সমকালকে বলেন, নিখোঁজের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে।

সাংবাদিক ইভার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

খুলনায় সাংবাদিক ইশরাত ইভা’র বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন একটি আদালত। তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭/৬৬ ধারার মামলায় এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

গত বুধবার খুলনা মহানগর হাকিম মো. শাহীদুল ইসলাম এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে বিচারের জন্য মামলাটি ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল প্রেরণের নির্দেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৬ জানুয়ারি খালিশপুর হাউজিং এস্টেট এলাকার তকদির হোসেন বাবু মামলাটি দায়ের করেন। সাংবাদিক ইশরাত ইভা তিনটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এরই জের ধরে বাদী তকদির হোসেন বাবু তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে খালিশপুর থানায় (যার নং ৩২) মামলা দায়ের করে।

আরো জানা যায়, বিগত ২০১৭ সালের ৫, ৭ ও ২৪ জানুয়ারি ভূমিদস্যুতা নিয়ে ‘খুলনার কণ্ঠ’ অনলাইন পোর্টালে তিন পর্বের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এবিষয়ে মামলা দায়ের হলে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আবুল হাসান ২৬ ডিসেম্বর আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে ইভার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫৭ ও ৩৮৫ ধারায় হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়।

তিন পর্বের সিরিজের সংবাদের শিরোনাম ছিল ‘ভূমিদস্যু বাবুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ খালিশপুরের একটি পরিবার’, ‘খুটির জোর আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুল ইসলাম আশরাফ’, ‘নির্যাতিত পরিবারের সদস্য হালিমা বেগমের আহাজারি’। এর মধ্যে একটি সংবাদ ছিল ভিডিওসহ।

খুলনায় স্কুল ছাত্রীকে ইভটিজিং, ৫ পুলিশ সদস্য ক্লোজড
খুলনার বটিয়াঘাটায় বোনকে ইভটিজিং করার প্রতিবাদ করায় ভাই তারেক মাহমুদকে মারধর ও নির্যাতন করে পুলিশ। তারেক মাহমুদ বটিয়াঘাটার নারায়নখালী গ্রামের শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় উত্তেজিত এলাকাবাসী ফাঁড়ি ঘেরাও করে রাখে।

এসময় স্থানীয় গ্রামবাসী ফাঁড়িতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা ফাঁড়ি ঘেরাও করে রাখে।

খবর পেয়ে বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক মামুন ও স্থানীয় আমীরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গোলদার মিলন সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ জানার পর ৫ পুলিশ কনস্টেবলকে ক্লোজড করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা জানান, ওই ফাঁড়ির ৫ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে জেলা পুলিশ লাইনে আনা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় বাইনতলা গ্রামের খলিলুর রহমান বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্কুলে যাওয়ার পথে ওই ছাত্রীকে উত্যক্ত করেন কনস্টেবল নাঈম। এ ঘটনায় তার ভাই প্রতিবাদ করলে তাকে ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে মারধর করা হয়। এতে উত্তেজিত হয়ে পড়ে গ্রামবাসী।’

ছাত্রীর বাবা মুজিবুর রহমান বলেন, আমার মেয়ে বাইনতলা স্কুল এন্ড কলেজের ১০ শ্রেণীর ছাত্রী খাড়াবাদ-বাইনতলা পুলিশ ফাঁড়ির সামনে থেকে কোচিংয়ে যাওয়ার সময় বেশ কিছুদিন ধরে নাঈম, মামুন, রিয়াজ, আবির ও নায়েব জাহিদ উত্ত্যক্ত করছিলো। মঙ্গলবার দুপুরেও কোচিংয়ে যাওয়ার সময় তারা এ কাজ করে। মেয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে আমার দোকানে বসা ছেলে তারেক মাহমুদকে বিষয়টি বলে।

‘আমার ছেলে ক্যাম্প ইনচার্জ এএসআই তারেকুজ্জামানকে বিষয়টি জানাতে যায় কিন্তু তিনি না থাকায় সে দোকানে চলে আসে। পরে অভিযুক্ত ওই ৫ পুলিশ দোকানে এসে তাকে মারধর করে থানায় নিয়ে যায় এবং দোকানে ভাংচুর করে । খবর পেয়ে স্থানীয়রা ফাঁড়ি ঘেরাও করে। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

স্থানীয় আমিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গোলদার মিলন বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনাটি ওসিকে জানাই। পরে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করা হয়।

এ ব্যাপারে বটিয়াঘাটা থানার ওসি মোজাম্মেল হক মামুন বলেন, ছাত্রীকে উত্যক্তের অভিযোগ সত্য নয়। তবে তরিকুল নামে এক ছাত্র পুলিশের সঙ্গে তর্ক করলে তার সঙ্গে একজন কনস্টেবলের হাতাহাতি হয়। পরে তাকে ফাঁড়িতে নিয়ে মারধরের অভিযোগ করা হলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ওই পাঁচজন কনস্টেবলকে ক্লোজ করেন।

বৃদ্ধ বাবাকে রাস্তায় ফেলে চলে গেলো কোটিপতি প্রভাবশালী সন্তান

ঢাকার লালবাগের এক কোটিপতি তার অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে বাড়ি থেকে তুলে এনে নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফেলে চলে গেছে। এতে করে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে তাকে ভর্তি করলে রাতেই বৃদ্ধের মেয়ের ঘরের নাতি এসে তাকে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালের ডিউটিরত লোকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া বৃদ্ধকে তার নাতি নিয়ে গেছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এমনটাই জানিয়েছেন।

শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার হতে কুড়িয়ে পাওয়া বৃদ্ধের খোঁজখবর নিতে গেলে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানিয়েছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বৃদ্ধসহ তার নাতনির নাম ঠিকানা জানাতে পারেনি।

এদিকে বৃদ্ধের চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে থাকা চিকিৎসক তাহমিনা নাজনীনের সঙ্গে শুক্রবার বিকেলে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে বৃদ্ধের মেয়ের ঘরের নাতি এসে হাসপাতালে হৈচৈ করে নিয়ে গেছেন। তার নামটা মনে করতে পারছিনা। তবে বৃদ্ধের নাতনি জানিয়েছে বৃদ্ধের বাসা ঢাকার লালবাগে। বৃদ্ধের একমাত্র সন্তান রয়েছে। তাদের ঢাকা লালবাগে কয়েকটি বাড়ি রয়েছে। তার ছেলেই তার নানাকে নারায়ণগঞ্জে এসে ফেলে চলে যায়। কি কারণে ফেলে রেখে গেছে তা কিছুই জানাইনি। তাদের নাম ঠিকানা খাতায় এন্ট্রি করে রাখা হয়েছে রাত ১০টার পর আসলে নিতে পারবেন।

নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোমেন বলেন, আমি শুক্রবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ বৃদ্ধে খবর নিতে গিয়ে জানতে পারি রাতের বেলায় বৃদ্ধের নাতি এসে তাকে নিয়ে গেছে। কোনো নাম ঠিকানা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নোট করেনি। বৃদ্ধের স্বজনরা অনেকটা রাগারাগি করে নাকি নিয়ে গেছে। শুধু জানিয়েছে বৃদ্ধের বাসা ঢাকার লালবাগে। তিনি একজন সচ্ছল পরিবারের। তাকে কেন ঢাকা হতে নারায়ণগঞ্জের শহিদ মিনারে ফেলে গেলো তা কিছু জানতে পারেনি তিনি।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাড়া বেইলী টাওয়ারের সামনে ৭০ বছরের একজন বৃদ্ধকে দেখতে পায় লোকজন। তিনি কথা বলতে পারেন না। কিছু খেতেও পারেন না। হাটতে বসতে ওঠতে পারেন না। কে বা কাহারা তাকে ফেলে চলে যায়। সকাল হতে নারায়ণগঞ্জে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। সেই বৃষ্টিতে ভেজা কাকের মতো হয়ে গেছে সেই বৃদ্ধ। পরে বৃদ্ধকে পড়ে থাকতে দেখে কজন লোক প্রথমে শহীদ মিনারের ভেতরে এনে একটি গাছের নিচে শুয়ে দেন। সেখানে পরে থাকা অবস্থায় অনেকেই খেতে দেন। সারাদিন শহীদ মিনারে পুলিশ দায়িত্বে থাকলেও তাকে চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করেনি। শেষ বিকেলে সন্ধ্যার দিকে কজন সংবাদকর্মীর খবরে চাষাড়া ফাঁড়ি পুলিশ এসে ওই বৃদ্ধকে নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বৃদ্ধকে চিকিৎসা শুরু করে।

রাজধানীতে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

বুধবার ভোররাতে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে জাহাঙ্গীর নামের  এক  ব্যক্তি তার স্ত্রী লিপি আক্তার (২৫) গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কামরাঙ্গীরচরের আলী নগর তিন নম্বর গলিতে  একটি বাসায এই ঘটনা ঘটে।

গৃহবধূর স্বজনরা জানান, রাত ৩টার দিকে স্বামী জাহাঙ্গীর হোসেন ও দেবর রনি অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন।

তবে লিপির ভগ্নিপতি মহিউদ্দিন জানান, জাহাঙ্গীর নিউমার্কেট এলাকায় ফল বিক্রি করেন। সে জুয়া খেলতো। এ নিয়ে লিপির সঙ্গে জাহাঙ্গীরের প্রায়ই ঝগড়া হতো। এর জের ধরে রাতে লিপির গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করে জাহাঙ্গীর।

অভিযোগ অস্বীকার করে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই লিপি রান্না ঘরে গিয়ে নিজের গায়ে নিজে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি।’

কামরাঙ্গীরচর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন ফকির জানান, লিপি ঝগড়ার একপর্যায়ে স্বেচ্ছায় নিজের গায়ে আগুন দিয়েছেন। হাসপাতালে লিপি এ বিষয়ে তিনি পুলিশের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে লিপির পরিবার যদি অভিযোগ করে যে জাহাঙ্গীর আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, লিপিকে বার্ন ইউনিটে ভতি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নামে মিল থাকায় একজনের মামলা-জেল অন্যজনের কাধে

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী হত্যা মামলার আসামী হয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঐ শিক্ষার্থীর নাম মোঃ সাদ্দাম হোসেন।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ২য় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। গত ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারী টাঙ্গাইল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে আত্বসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত সাদ্দামকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। পরে একই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারী জামিনে মুক্তি পায় সে।

সাদ্দামের দাবী একই বিভাগের অন্য এক শিক্ষার্থীর সাথে তার নামের মিল থাকায় এমনটা হয়েছে এবং ঘটনার দিন সে বাইরে অবস্থান করছিল।

জানা যায়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২০১৫ সালের ১৩ মে ছাত্রলীগের  দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাদাত খালেদ মোশারফ নিহত হয়। এ ঘটনায় ১৬ মে মোশারফের বাবা মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৪ জনের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর আসামীদের জবানবন্দি ও স্বাক্ষীদের তথ্য যাচাই বাচাই শেষে বিশ^বিদ্যালয়ের ২৬ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করে টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক অশোক কুমার সিংহ। পরবর্তীতে ১৩ নং আসামী মোঃ সাদ্দাম হোসেন সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

এ ব্যাপারে মোঃ সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমি ঘটনার সাথে জড়িত নই। আমার বিভাগের অন্য এক শিক্ষার্থীর সাথে আমার নামের মিল থাকায় এমনটা হয়েছে। চার্জশীটে বলা হয়েছিল আসামী ৩য় বর্ষ ২য় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী কিন্তু আমি তখন ২য় বর্ষ ২য় সেমিস্টারের ছাত্র ছিলাম। সাদ্দাম আরো বলেন, যেহেতু আমার নামে মামলা হয়েছে, তাই আদালতকে সম্মান জানিয়ে গত ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারী হাজিরা দিয়েছিলাম। তখন জেলও খেটেছি ১৫ দিন। আমি যে বিষয়টির সাথে জড়িত নই, এই মর্মে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরীয় বডির সদস্যরা, আমার বিভাগীয় প্রধান ও কয়েকজন স্বাক্ষী প্রত্যয়ন করেছে। সাদ্দাম বলেন, দোষী না হয়েও জেল খাটতে হলো আর এখনো নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। অথচ যে দোষী তার কিছু হলো না।

মামলার ২ নং স্বাক্ষী বিশ^বিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আলী আহম্মেদ ফয়সাল, ৪ নং স্বাক্ষী বিশ^বিদ্যালয়ের মান্নান হলের নৈশ প্রহরী মোঃ নাজিম উদ্দিন ও ৫ নং স্বাক্ষী বিশ^বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরী মোঃ মোতালেব নোটারী পাবলিক টাঙ্গাইলের মাধ্যমে এফিডেভিট করে বলেন, মোঃ সাদ্দাম হোসেন সম্পর্কে যতটুকু জানি সে একজন মেধাবী ছাত্র। সে কোন রাজনৈতিক দল কিংবা কোন গ্রুপের সঙ্গে জড়িত নহে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক অশোক কুমার সিংহ বলেন, যাচাই বাচাই করেই চার্জশীট দেয়া হয়েছে। ঘটনাটি অনেকদিন আগের। এখন নানা কারণে স্বাক্ষীরা বক্তব্য পরিবর্তন করতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি মোঃ সাদ্দাম হোসেন ঘটনার সাথে জড়িত নয়।

খালাফ আল আলী হত্যার ঘটনায় হাইকোর্টের রায় আপিলে বিভাগেও বহাল

ঢাকাস্থ সৌদি আরব দূতাবাসের কর্মকর্তা খালাফ আল আলী হত্যার ঘটনায় এক আসামীর মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন এবং একজনকে খালাস দিয়েছে আপীল বিভাগ। এর রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে। বুধবার দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপীল বিভাগের একটি বেঞ্চ এ রায় দেয়।

২০১২ সালের মার্চ মাসে ঢাকার গুলশানে সৌদি কূটনীতিক খালাফ আল আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এর একমাস পরে তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল ঢাকায় এসেছিল।

২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল সে মামলায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

এরপর হাইকোর্ট ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে একজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে, তিনজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং একজনকে খালাস দেয়।

খালাফ আল আলী উদ্দেশ্যমূলক ডাকাতির ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন বলে হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়।

খালাফ আল আলী ছিলেন ঢাকাস্থ সৌদি আরব দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব।

সৌদি আরবের সাথে কূটনীতিক সম্পর্ককে বাংলাদেশের তরফ থেকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়।

খালাফ আল আলী হত্যাকাণ্ডের পর বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকার একধরনের চাপে পড়েছিল বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরা-খবর প্রকাশিত হয়।

সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যেও একধরনের উদ্বেগ কাজ করছিল। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরব গিয়ে সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে কথা বলেন।

নতুন বার্তা/কেকে

লন্ডনে বিশেষ অনুষ্ঠানে BHRC’র মহাসচিব ও বৃটিশ এমপি

 

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন-BHRC’র মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার এবং তার সফর সংগীগন ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ দুপুরে লন্ডনের কুইনস পার্কে বাংলাদেশ এসোসিয়েসনের এক সম্বোধনা অনুষ্ঠানে যোগদেন।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্হিত ছিলেন বৃটিশ পার্লামেন্টের এমপি কেরন বার্গ,কাউন্সেলর বারি টেইলর, কাউন্সেলর রিতা বেগম,বাংলাদেশ এসোসিয়েসনের সভাপতি রেফল মিয়া,সাধারন সম্পাদক বুল বুল মিয়া, BHRC’র গবর্নর বৃন্দ যথাএমে আবদুল আহাদ চৌধুরী(UK),এ্যামবেসডর এম এস রহমান(ই ইউ), তারাউল ইসলাম(EU), ড. আর কে ধর সিলেট বিভাগ), সেকান্দর আলী জাহিদ( ঢাকা সিটি) প্রমূখ নেতৃবৃনন্দ সহ শতাধিক মানবাধিকার কর্মী ।

 

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বর্তমান রোহিংগা সমস্যা তার সমাধানের বিষয় নিয়ে বিশদ অালোচনা হয়।

পরিবারের সামনে দুই বোনকে ধর্ষণ পাঁচজনকে যাবজ্জীবন

সিলেটের বিয়ানীবাজারে পরিবারের সামনে দুই বোনকে ধর্ষণের মামলায় পাঁচজনকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন । একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া একজনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে সিলেট অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াত এ রায় ঘোষণা করেন। জরিমানার পাঁচ লাখ টাকা দুই বোনকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

ঘটনাটি ঘটে ২০১৪ সালের ২৫ মে। সে দিন ভোররাতে ৭/৮ জন মুখোশধারী বিয়ানীবাজারের চারখাই ইউনিয়নের এক চানাচুর বিক্রেতার ঘরে সিঁধ কেটে ঢোকে। অস্ত্রের মুখে স্ত্রীসহ চানাচুর বিক্রেতাকে বেঁধে রেখে তাদের দুই মেয়েকে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় ২৫ মে রাতে উপজেলার পূর্ব পইলগ্রামের মকদম আলীর ছেলে জয়নুল ইসলামের নাম উল্লেখসহ আরো পাঁচজনকে আসামি করে বিয়ানীবাজার থানায় মামলা করেন মেয়ে দুটির বাবা।

দণ্ডিতরা হলেন- বিয়ানীবাজার উপজেলার পূর্ব পইলগ্রামের মকদম আলীর ছেলে জয়নুল ইসলাম, একই গ্রামের সেলিম আহমদ, কালাম আহমদ, হাসান আহমদ হাসু ও আব্দুল বাছিত।

এদের মধ্যে আব্দুল বাছিত পলাতক রয়েছেন। আরেক আসামি খায়রুল ইসলাম মাতুলকে খালাস দেয়া হয়েছে।

রংপুরে ছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে, ‘প্রেমিক’ গ্রেফতার

রংপুরে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করে তার স্থির ও ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার দায়ে নুর মোহাম্মদ (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার রংপুর নগরের কলেজপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি নীলফামারীর একটি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পড়াশোনা করেছেন।

রংপুর পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় পুলিশ সুপার মজিদ আলী জানান, নীলফামারী জেলার ডিমলা থানার দক্ষিণ ঝুনাগাছ চাপানী গ্রামের শফিয়ারের ছেলে নুর মোহাম্মদ দীর্ঘদিন ধরে মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করে আসছিলো। সর্বশেষ কারমাইকেল কলেজের এক ছাত্রীর সঙ্গে সে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর তাকে ধর্ষণ করে ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ব্যাপারে মেয়েটি নিজে কোতয়ালী থানায় ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করলে পিবিআই নুর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাসে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন নুর মোহাম্মদ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ওই ছাত্রী রংপুর শহরে একটি স্কুলে পড়াকালে নুর মোহাম্মদের সঙ্গে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রংপুরের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করে নুর মোহাম্মদ। তখন মোবাইল ফোনে ধর্ষণের চিত্র ধারণ করে নূর মোহাম্মদ। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে মেয়েটির ওপর বিভিন্ন রকম মানসিক নির্যাতন করতে থাকে নুর মোহাম্মদ। বিভিন্ন স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। দিনের পর দিন নির্যাতন সয়ে এক পর্যায়ে মেয়েটি বেঁকে বসলে নূর মোহাম্মদ মেয়েটির কিছু অশ্লীল ছবি তার পরিচিতদের ফেসবুক মেসেঞ্জারে পাঠায়।

বগুড়ায় ছাত্রী ধর্ষণ ও নির্যাতনের দুটি মামলার আসামি তুফান-রুমকি কারাগারে

বগুড়ায় ছাত্রী ধর্ষণ ও নির্যাতনের দুটি মামলার আসামি তুফান সরকার ও নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া আকতার রুমকির রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দিয়েছেন আদালত। রোববার তাদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি তুফান সরকার ও মার্জিয়া আক্তার রুমকিকে দুইদিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে আমরা বিজ্ঞ আদালতে হাজির করেছিলাম। পুনরায় পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আমরা আবেদন করেছিলাম। বিজ্ঞ আদালত রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের বক্তব্য শুনে রিমান্ড নামঞ্জুর করেছেন। আসামিরা জামিনের প্রার্থনা করেছিলেন। কিন্তু বিচারক জামিন নামঞ্জুর করেছেন। তবে আসামিদের সাতদিনের মধ্যে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদেশ দিয়েছেন।’

বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের সাময়িক বহিষ্কৃত আহ্বায়ক তুফান সরকারকে গ্রেফতারের পর পুলিশ প্রথম দফায় তিনদিন, পরে দুইদিন করে চারদিনসহ মোট সাতদিন রিমান্ডে নেয়। অন্যদিকে কাউন্সিলর রুমকিকে প্রথম দফায় তিনদিন, পরে আরো দুইদিন রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি তুফান সরকার ও তাঁর সহযোগীরা এসএসসি পাস এক ছাত্রীকে ভালো কলেজে ভর্তি করার কথা বলে গত ১৭ জুলাই শহরের নামাজগড় এলাকায় তাঁদের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে এ ঘটনা কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। ধর্ষণের ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে গত ২৮ জুলাই বিকেলে তুফান সরকারের স্ত্রী আশা ও তাঁর বড় বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া আক্তার রুমকিসহ কয়েকজন মিলে ওই ছাত্রী ও তাঁর মাকে বেধড়ক পিটিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেন। তাঁদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এসরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে তুফান গতিতে দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ চলবে : মওদুদ

দেশের প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনায় আওয়ামী পরিবার জড়িত। তারা যতদিন ক্ষমতায় থাকবে তুফান গতিতে ধর্ষণ চলবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, দেশে বর্তমানে তুফান গতিতে নারী ও শিশু ধর্ষণ চলছে। শ্রমিকলীগ নেতা তুফান সরকার বর্তমান ক্ষমতাসীনদের সত্যিকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। যতদিন এই আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকবে ততদিন এই তুফান চলতেই থাকবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষাতায় সহায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)।

মওদুদ বলেন,‘কারও টু শব্দ করার সাহস নেই। পাঁচজনকে ক্রসফায়ার দিয়েছি, আরও ১৪ জনের লিস্ট করেছি’ ক্ষমতাসীন দলের সাভারের এক সাংসদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘এই ঘটনার পর সেই এলাকা ভয়ে-আতঙ্কে এখন খালি হয়ে গেছে। এই অবস্থার জন্য বর্তমান সরকারই সম্পূর্ণভাবে দায়ী।’

ষোড়শ সংশোধনীর রায়কে ঐতিহাসিক এবং কালজয়ী রায় দাবি করে প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনীর উপর সুপ্রীমকোর্টের রায়ের পর সরকারের পদত্যাগ করা উচিত। এ ব্যাপারে সরকারি দল বিতর্ক সৃষ্টি করে এটাই প্রমাণ করেছে তারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চায় না।’

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য এটা একটি ঐতিহাসিক এবং কালজয়ী রায়। বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখার জন্য প্রধান বিচারপতির বক্তব্য সঠিক।’

তিনি বলেন, ‘আইনমন্ত্রী বলেছেন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সুপ্রীমকোর্ট নিয়ে নিতে চায়। অথচ কথাটা সত্য নয়। কারণ প্রধান বিচারপতি চান ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে অনুচ্ছেদ ১১৬-যা ছিল তা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য।’

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনীর এই রায়ে দেশের বর্তমান সংকটসমূহের উপর অনেক মূল্যবান মন্তব্য করা হয়েছে এবং দেশের সকল শ্রেণির মানুষের মনের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে।’

আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে এসময় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার প্রমুখ।

বগুড়ায় ছাত্রীকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে

বগুড়ার শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফানের হাতে নির্যাতনের শিকার ছাত্রীকে পরীক্ষা করে ধর্ষণের আলামত মিলেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ থেকে এই ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন এরইমধ্যে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ও বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদের হাতে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকদের দেয়া প্রতিবেদনে মেয়েটিকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। প্রতিবেদনে মেয়েটি প্রাপ্তবয়স্ক নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, মামলার প্রধান আসামী বহিষ্কৃত শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার, তার স্ত্রীর বড় বোন মারজিয়া হাসান রুমকি এবং তুফানের সহযোগী মুন্নার দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষ হয়েছে। তাদের আজ(শুক্রবার) আদালতে হাজির করা হবে।

তুফানের স্ত্রী আশা ও শাশুড়ি রুমাকে (বৃহস্পতিবার) অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে তৃতীয় দফা ৫ দিনের রিমান্ড চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট শ্যাম সুন্দর রায় আবেদন না মঞ্জুর করেন। তিনি ৭ দিনের মধ্যে তাদের জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বলেছেন। তুফানের সহযোগী আতিক ও নাপিত জীবন রবিদাস এরইমধ্যে ওই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। নির্যাতিত ছাত্রী আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

তুফান সরকার গত ১৭ জুলাই তার বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে ওই ছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। তুফানকে বাঁচাতে তার স্ত্রী আশা, তার বোন কাউন্সিলর রুমকি ও মা রুমা গত ২৮ জুলাই ছাত্রী ও তার মাকে রুমকির বাড়িতে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে মা ও মেয়ের ওপর চালানো হয় বর্বর নির্যাতন। এরপর কাঁচি দিয়ে দু’জনের চুল কেটে দেয়া হয়েছিল। পরে নাপিত ডেকে তাদের মাথা ন্যাড়া করে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় ছাত্রীর মা ২৯ জুলাই সদর থানায় তুফান, রুমকি, আশা, রুমা, ১০ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন। পুলিশ এরইমধ্যে এজাহারভুক্ত ৯ জনসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে।

সুত্র: নতুনবার্তা ডটকম

দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনেই বাড়ছে ধর্ষণ’

বাড্ডায় শিশু তানহাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর আবার আলোচনায় শিশু ধর্ষণ প্রসঙ্গ। সাম্প্রতিক সময়ে মেয়ে শিশু ধর্ষণের ঘটনা যেমন বেড়েছে, ধর্ষণের শিকার হচ্ছে ছেলে শিশুরাও। পুলিশের ধারণা শিশুরা একশ্রেণীর মানুষের যৌন বিকৃতির টার্গেটে পরিণত হয়েছে। কেন বাড়ছে শিশু ধর্ষণের ঘটনা।

ঘটনা ১

আট বছরের শিশু সামিয়াকে (প্রকৃত নাম ব্যবহার করা হচ্ছে না) ঘরে রেখে এলাকার পানির কল থেকে পানি আনতে গিয়েছিলেন তার মা। ঘিঞ্জি এলাকার খুপরি ঘরগুলো একটির সাথে আরেকটি লাগোয়া। মনের মাঝে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও শিশুকন্যাটিকে একাই রেখে যেতে বাধ্য হন। কিন্তু ফিরে এসে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তার মা।

“তিন মাস আগে রাত ৯টার দিকে আমি পানি আনতে গেলাম। মেয়ে বলল সে একাই ঘরে থাকতে পারবে। এরপরে আমি পানি নিয়ে এসে দেখি আমার বাচ্চা ঘরে নাই। তখন ভাবলাম পাশের বাড়িতে যে পুরুষলোকটি বসা ছিল, সে কোথায় গেল? তখন আমি পাশের বাড়ির দরজা ধাক্কাই, কিন্তু কেউ খোলে না।”

শিশুটির মা কিছুক্ষণ পরেই বুঝতে পারেন তার মাত্র আট বছরের শিশুটিকে প্রতিবেশী বৃদ্ধ ধর্ষণ করেছে।

“কী হয়েছে বাচ্চাটা পুরোপুরি খুলে বলতে পারছে না। বলে মা দাদা আমার পাজামা খুলে দিয়েছে। নিজের কাপড় খুলেছে। আমি খেলতেছিলাম। মুখ চেপে ধরে নিয়ে গেছে। প্রতিবেশী তো। তাই দাদা ডাকতো।” জানান শিশুটির মা।

‘জানুয়ারি থেকে জুলাই: ২৮০ শিশু ধর্ষণের শিকার’

আড়াইশোর বেশি মানবাধিকার সংগঠনের জোট শিশু অধিকার ফোরামে বলছ, গত ৭ মাসে বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২৮০টি।

শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আব্দুছ সহীদ মাহমুদ বিবিসিকে বলছিলেন, গতবছর এই সংখ্যা ছিল ১৯৯টি। আর ২০১৩ সালে ১৭০টি এবং ২০১২ সালে ছিল ৮৬টি। এই সংখ্যা পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এর বাইরেও থাকতে পারে।

ঘটনা ২

কিছুদিন আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি আবাসিক মাদরাসার ছাত্রটি তার নিজের শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠায় পুলিশ ওই শিক্ষককে আটক করেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মাদরাসা শিক্ষক নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ স্বীকার করেছেন।

তবে এই বিষয়টিতে ধর্ষণের শিকার ছেলেটির পরিবারের সদস্যরা প্রথমে উদ্যোগ নিলেও পরে আর মামলা করতে এগিয়ে আসেননি বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন।

পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিকবার তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয়নি।

বেশিরভাগ শিশু ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের ঘটনা এভাবেই আড়ালে থেকে যায় বলে উল্লেখ করছেন শিশু অধিকার ফোরামের আব্দুছ সহীদ মাহমুদ। তিনি জানান, মেয়ে শিশুদের পাশাপাশি ছেলে শিশু ধর্ষণের সংখ্যাও বাড়ছে। সেইসাথে ছেলে শিশুদের ধর্ষণের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্র এখন আরও বেড়েছে।

“ছেলে এবং মেয়ের আনুপাতিক হিসাবে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের যৌন নির্যাতনের সংখ্যা বেশি। কিন্তু ছেলেদের ধর্ষণের ঘটনা আগে সীমিত ছিল। বোর্ডিং স্কুল বা মাদরাসায় হতো। এখন সেই ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হয়েছে। লঞ্চ-ঘাটে, বাস টার্মিনালে কিংবা বিপণি বিতানে যেসব শ্রমজীবী শিশু থাকে কিংবা যারা পথশিুশ তারাও ধর্ষণের স্বীকার হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের দ্বারাও ধর্ষণের ঘটনা হচ্ছে। তবে সেগুলো চার দেয়ালের বাইরে আসে না।”

এ ধরনের ঘটনা যে হালে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে তেমনটি বলতে রাজি নন অনেকেই।

ঘটনা ৩

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন সদ্য স্নাতক শেষ করা রেজাউর রহমান (ছদ্মনাম)। খুব ছোটবেলায় কাছের একজন আত্মীয়ের দ্বারাই যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি।

তিনি জানান, “তখন আমি ক্লাস ফোর বা ফাইভে পড়ি। তো আমি আমার এক বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে বোনের দেবরের সাথে আমাকে রাতে ঘুমাতে দেয়া হয়। তো রাতে আমি ঘুমিয়ে পড়ার পর হঠাৎ খেয়াল করলাম সে তার পুরুষাঙ্গ দিয়ে আমার পশ্চাদ্দেশে গুঁতো দিচ্ছে। আমি উঠে কি হয়েছে জানতে চাইলে সে বলে তার হাত লেগেছে। এরপর আমি আবারও ঘুমিয়ে পড়লে সে একই কাজ আবার করে। এবং প্রায় সারারাতই সে এই কাজটি করে।”

এরপরও আর দুয়েকবার এ ধরনের নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। রেজাউরের শিশুমনে বিষয়টি তৈরি করেছিল ভয় আর আতঙ্কের এক প্রতিক্রিয়া। সেই অনুভূতি তাকে আজও তাড়া করে। বিষয়টি এই প্রতিবেদক ছাড়া আর কারও কাছেই শেয়ার করতে পারেননি তিনি।

সংখ্যা বাড়ছে নাকি খবর প্রকাশ হচ্ছে?

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাল্টিসেক্টরাল প্রকল্পের অধীনে নির্যাতিত নারী ও শিশুদের সেবায় গঠিত সরকারের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে ২০০০ সাল থেকে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে প্রকল্পটির পরিচালক আবুল হোসেন বলছেন, নির্যাতনের ঘটনাগুলো আগের মতোই ঘটে চলেছে। তবে তা প্রকাশ পাচ্ছে আগের তুলনায় বেশি। তিনি বলেন, আমাদের হিসেব মতে, সংখ্যা আসলে বাড়েনি, বরং মানুষের প্রকাশ বেড়েছে। সাম্প্রতিক কারণে মিডিয়ার কারণে খবরগুলো আসছে। বিষয়গুলো ঘটার সাথে সাথে মানুষ কমিউনিটিতে সেটা জানাচ্ছে।”

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান

শিশুদের ওপর নির্যাতন বাড়া কিংবা শিশু ধর্ষণ বাড়ার কারণ হিসেবে অনেকই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতাকে দায়ী করেন।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকেও স্বীকার করা হচ্ছে, শিশুদের ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে।

পুলিশ সদরদপ্তরের গণমাধ্যম বিভাগের এআইজি মোঃ নজরুল ইসলাম বলছেন, শিশুরা এখন একশ্রেণীর লোকের টার্গেটে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, “এটা ঠিক শিশু ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। তারা শিশুদের নিয়ে পর্নোগ্রাফি তৈরি করছে। নএকশ্রেণীর মানুষ শিশুদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখছে। এতে অনেক ক্ষেত্রে পর্নোগ্রাফির প্রভাব রয়েছে। শিশুদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনে ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। নানা শ্রেণীর এবং বয়সের ব্যক্তিরা এটি করছে।”

শিশুদের ওপর বল খাটানো বা প্রভাবিত করা, ভয় দেখানো সহজ হয়। ফলে সেই সুযোগটি নিচ্ছে অপরাধীরা।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি

শিশুদের ওপর নির্যাতনের বিভিন্ন দিক নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সমাজবিজ্ঞানী মাহবুবা নাসরীন। তিনি বলছেন, মূলত দরিদ্র শ্রেণীর শিশুরা বাবা শ্রমজীবী বাবা-মায়েদের এবং তাদের অনুপস্থিতিতে এইসব শিশুদের দেখার কেউ থাকে না। আরেকটি গ্রুপ যারা নিজেরাই কর্মজীবী তারা, এবং গৃহকর্মীরা ধর্ষণের ঝুঁকিতে থাকছে বেশি।

তিনি বলছেন, অনেকে অজ্ঞতার কারণে আর বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অনেকেই আদালত বা পুলিশের দোড়গোড়ায়া পৌঁছাচ্ছেন না। ফলে এসব অপরাধ ঘটছেই। অনেকে শিশু বা অভিভাবকই জানে না কোথায় অভিযোগ জানাতে হয়। আর অনেকে দেখছেন অনেক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে কিন্তু বিচার তো হচ্ছে না। বাইরে মিটমাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি শক্তিশালী হয়ে উঠছে। অনেক দেশে কিন্তু দ্রুত বিচার আইনে সাজা হয় এবং মানুষ তা দেখে সচেতন হয়।”

অধ্যাপক নাসরীন বলছেন, শিশু মনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ে।

“ভবিষ্যৎ জীবনে তারও এ ধরনের অপরাধ কর্মে জড়ানোর আশংকা থাকে। এইসব শিশুরা স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন না । সেও অন্যের প্রতি এমন আচরণ করে।”

বিচার প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা

ধর্ষণের মামলা চলাকালীন বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা আইনের আশ্রয় নিতে অনীহা তৈরি করে, বলছেন শিশু অধিকার কর্মীরা। ধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রে এসব প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে কি ভাবছে রাষ্ট্র?

মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ তুলছেন, জামিন অযোগ্য অপরাধ হওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে জামিন পেয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তরা। এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিবিসি বাংলাকে বলেন, অপরাধ করে সহজে জামিন পাওয়া গেলে অপরাধের মাত্রা বেড়ে যায়।

“অপরাধ করে সহজে জামিন পাওয়া গেলে হয়তো অপরাধের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তবে অপরাধী জামিন পাবে না -আইনজীবী হিসেবে তো সেটা বলা যায় না। সুতরাং শিশু ধর্ষণের ব্যাপারে যদি আলাদা সেল করা হয়, মামলার গতি তদারকি করা হয়, তাহলে এ ধরনের অপরাধ অনেকটা কমতে পারে।”

ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য আইনের সাহায্য নিতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের সন্নিবেশ ঘটাতে গিয়ে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।

বিষয়টি আরো সহজ করার যায় কি-না?

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, শিশু ধর্ষণের ঘটনার ক্ষেত্রে আইন সংশোধন করা যেতে পারে, যেখানে শিশু ভিকটিমকে আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দিতে হবে না।

“আইন সংশোধন করা যেতে পারে এভাবে যে, এক্সপার্টদের কাছে ভিকটিমকে নেয়া হবে। এরপর তারা রিপোর্ট দেবে। এরপর আর কোনও প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হবে না। ওই চিকিৎসকদের রিপোর্টের ভিত্তিতে চার্জশিট দেবে পুলিশ। চিকিৎসকদের সাথে মানবাধিকার কর্মীও থাকতে পারেন।”

বিচারের দীর্ঘসূত্রতা

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বলা আছে, ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।

কিন্তু এমন অনেক নজির আছে যে বছরের পর বছর ধরে মামলা চলছে। বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন শিশু অধিকার কর্মীরা।

তবে এ বিষয়ে অ্যটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিচারক স্বল্পতা এখানে একটি সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন।

এছাড়া মামলা ঝুলিয়ে রাখার ক্ষেত্রে ডিফেন্স ল ইয়ারের মানসিকতারও পরিবর্তন আনতে হবে।

সামাজিক হেনস্থা

শেষ করার আগে আরেকবার মনে করিয়ে দিতে চাই মিরপুরের আট বছরের শিশুটির কথা।

চলে আসবার আগে তার মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম শিশুটি এখন কেমন আছে? উত্তরে তিনি জানালেন, এই ঘটনার পর থেকে শিশুটি পুরুষ মানুষ দেখলেই আতঙ্কিত হয় পড়ছে।

তার নিজের পিতাকেও সে সহ্য করতে পারছিল না।

ধর্ষণকারী বর্তমানে কারাগারে আটক থাকলেও তার পরিবার বিষয়টি আপোষে মিটিয়ে ফেলতে চাপ দিচ্ছে।

নির্যাতিত শিশুর পরিবারটি আপোষে রাজি নয় মোটেই।

তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিন পেলে আবার কোনও ক্ষতির মুখে পড়তে হয় কি-না সেই আশংকায় রয়েছে এই পরিবারটি।

দেখা যাচ্ছে নির্যাতনের শিকার হয়েও সামাজিক হেনস্থার ভয়ে কোণঠাসা থাকছে নির্যাতিত শিশুটির পরিবারটিই। বিবিসি

আট বছর ধরে মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় সৎবাবা স্বীকারোক্তি

আট বছর ধরে মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় সৎবাবা আরমান হোসেন ওরফে সুমন (৩৮) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম আহসান হাবীবের আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এর আগে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং বিভাগের পরিদর্শক নাজমুল নিশাত আসামিকে আদালতে হাজির করেন। পরে জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। জবানবন্দি রেকর্ডের পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহারে তরুণী উল্লেখ করেন, আরমান হোসেন ওরফে সুমন তার সৎ বাবা। ২০০৫ সালে তরুণীর মা সুমনের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এর এক বছর পর থেকে মা ও সৎ বাবার সঙ্গে বসবাস শুরু করে মেয়েটি। মোহাম্মদপুরের নূর জাহান রোডে এক ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। তার মা চাকরির সুবাদে সকালেই বাসা থেকে বের হয়ে যেতেন অফিসে। ২০০৮ সালে মেয়েটি সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী, সেমময় ওই বাসায় তাকে ধর্ষণ করেন তার সৎ বাবা সুমন। মেয়েটির আপত্তিকর ছবি তোলেন মোবাইল ফোনে। কাউকে না জানাতে তিনি হুমকি দেন মেয়েটিকে।

তিনি এতে বলেন, ভয়ে ও মায়ের স্বামী হওয়ায় মেয়েটি বিষয়টি গোপন রাখেন। এরপর নগ্ন ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তার মায়ের অবর্তমানে বাসায় দিনের পর দিন মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ২০১২ সালে নূর জাহান রোড থেকে মগবাজার দিলু রোডে বাসা ভাড়া নিয়ে তারা চলে আসেন। এ বাসাতেও সুমন তাকে প্রায়ই নির্যাতন করে আসছিলেন।

এজাহারে আরো বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে মেয়েটি অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়লে সুমন তাকে হাসপাতালে নিয়ে গর্ভপাত ঘটান। এরপরও তার ওপর নির্যাতন থামেনি। ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর তরুণী ওই বাসা ছেড়ে তার মগবাজারে খালার বাসায় ওঠেন। সেখানেও তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে তার কাছে যেতে বলতেন ও নানাভাবে হুমকি দিতেন। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ক্লিপ তরুণীর এক বন্ধুর ফেসবুক ইনবক্সে পাঠিয়ে হুমকি দেন সুমন। তিনি ওই তরুণীর ছবিযুক্ত করে দুটি ফেসবুকে দুটি নকল আইডি খোলেন বলেও তরুণীর অভিযোগ।

এ বিষয়ে তরুণী চলতি বছরের ২১ জুন রমনা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপরও ওই ফেসবুক আইডি দুটি থেকে তরুণীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হত।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তরুণীর মা বিষয়টি জানলেও মেয়ের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে পারেননি।

কুমিল্লায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করল চাচাতো ভাই

কুমিল্লায় দ্বিতীয় শ্রেণির মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে মো. খোকন মিয়া (৩০) নামের এক যুবক। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ধর্ষক খোকন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ২ মে সকালে জেলার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভোষণা গ্রামে বাড়ির পাশে মক্তবে যাওয়ার পথে শিশুটিকে তার চাচাতো ভাই দুই সন্তানের জনক ভ্যানচালক মো. খোকন মিয়া ফুসলে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে আটকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর ঘটনাটি কাউকে বললে তাকে জীবনে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ভিকটিম আর্তচিৎকার করলে ধর্ষক খোকন মিয়া পালিয়ে যায় এবং স্থানীয় লোকজন এসে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়িতে তার মায়ের কাছে নিয়ে গেলে সে ঘটনার বর্ণনা দেয়। ভিক্টিমের মা’ ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রেখে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করাতে যায়।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দ্রুত রেফার করেন। পরে গত বুধবার এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে এবং জনমনে ক্ষোভ দেখা দিলে, পুলিশও ঘটনার অনুসন্ধানে মাঠে নামেন। দেবিদ্বার সার্কেল সিনিয়র এ এস পি শেখ মোহাম্মদ সেলিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান কুমিল্লার বার্তা ডটকমকে জানান, গত বুধবার রাতে ভিক্টিমের মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একই গ্রামের তমিজ উদ্দিনের ছেলে ধর্ষক মো. খোকন মিয়াকে একমাত্র আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছে। পরে বৃহস্পতিবার সকালে ভূষণা গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে ধর্ষক খোকনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের হাজির করলে তিনি ধর্ষণের ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে ৪নং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট বিপ্লব দেবনাথ তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড পূর্বক জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।