আজ শোকাবহ পিলখানা হত্যা দিবস

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাবিধূর দিন। বিডিআর বিদ্রোহের নামে ২০০৯ সালের এই দিনে রাজধানীর পিলখানায় সেনাবাহিনীর ৫৭ জন চৌকস অফিসারকে হত্যা করা হয়, যাদের মধ্যে বিডিআরের (বর্তমান বিজিবি) তৎকালীন ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদও ছিলেন।

 

ইতোমধ্যে সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্রোহের বিচারও সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সেদিনের ক্ষত শুকায়নি এখনো। সেই তাণ্ডবের কথা মনে উঠতে আজো আঁতকে ওঠেন মানুষ। উচ্ছৃঙ্খল জওয়ানদের সেই আস্ফালন এখনো ঘৃণাভরে স্মরণ করে সবাই।

 

নিম্ন আদালতে বিডিআর বিদ্রোহের বিচার হয়েছে। সেখানে বিচার হয়েছে ওই দিনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের। কিন্তু মানুষ সেই দিনের নির্মমতা ভুলতে পারছেন না। সেই বীভৎসদৃশ্য, মাটিচাপা লাশ, দেশপ্রেমিক সেনাকর্মকর্তাদের ক্ষতবিক্ষত দেহ চোখে ভেসে উঠতেই আঁতকে ওঠে মানুষ।

 

হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা। অফিসারদের স্ত্রী-সন্তান এবং বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনকে আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন চালায় তারা। তাদের বাড়ি-গাড়ি, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য সম্পদ আগুনে পুড়ে ফেলা হয়। সেনাকর্মকর্তাদের শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি ঘাতকেরা। আলামত নষ্ট করতে প্রথমে তাদের লাশগুলো পুড়ে ফেলার চেষ্টা করে তারা। ব্যর্থ হয়ে লাশগুলো মাটিচাপা এবং ম্যানহোলের মধ্যে ফেলে দেয় তারা। অস্ত্রাগার লুট করে উচ্ছৃঙ্খল জওয়ানরা সেই অস্ত্র দিয়ে সেনা অফিসারদের হত্যা করে।

 

নির্মম ওই হত্যাকাণ্ডের পর সাত বছর হচ্ছে আজ। নৃশংস এই ঘটনার পর বিডিআর আইনে মোট ৫৭টি মামলা দায়ের হয়। মামলায় অভিযুক্ত অনেকেই ইতোমধ্যে সাজা ভোগ করে বেরিয়ে গেছে। নিম্ন আদালতে হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়েছে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর। সাজাপ্রাপ্তরা উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন।

 

রক্তাক্ত বিদ্রোহের পর সীমান্ত রাবাহিনীর নাম বদলে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বদল করা হয় তাদের পোশাক। প্রতি বছরই নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালন করা হয় এই হত্যা দিবস। বিডিআর বিদ্রোহে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আজো সরকারি-বেসরকারিভাবে এ ব্যাপারে নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।