আওয়ামী লীগ দেউলিয়া হয়ে গেছে, নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করছে

অনৈতিক ক্ষমতাকে স্থায়ী করতে সরকার নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ফটো র্জানালিস্ট এসোসিয়েশনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে খালেদা জিয়ার বক্তব্য বিকৃতি করে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ স্বীকার করতে চাইছে। বিএনপি ও ২০ দল স্বাধীনতা স্বপক্ষের দল। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে ৯ বছর আন্দোলন করেছেন। এখনও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য ৭ বছর যাবৎ ত্যাগ স্বীকার করে লড়াই করে যাচ্ছে। মূলত সরকার খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই তার নামে মামলা দিয়েছে।

 

সরকারের সব ‘ষড়যন্ত্র’ নসাৎৎ করে দিতে জনগণকে স্বোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাদের জনগণকে দেওয়ার আর কিছু নেই। গণতন্ত্রকামী মানুষকে কিছু দিতে পারছে না। তারা তথাকথিত উন্নয়নের নামে জনগণের সকল অধিকার কেড়ে নিয়েছে। মানুষ আজকে মত প্রকাশ করতে পারে না, অধিকারের কথা বলতে পারে না। আমাদের এ রকম দেশ দেখতে হবে তা কখনো ভাবিনি। এর জন্য মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করিনি।

 

তিনি বলেন, এখন শুধু দেশের মানুষ নয়, বিদেশিরিও এ সরকারের সমালোচনা করতে শুরু করেছেন। সম্প্রতি ভারতের এক সাংবাদিক বলেছেন, বাংলাদেশ এই পরিস্থিতির জন্য স্বাধীন হয়নাই। বর্তমান সরকার কর্তৃত্ববাদী। এ কারণে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ মাথাচারা দিয়ে উঠতে পারে।

 

ফখরুল বলেন, রাজনীতিবিদদের সম্মান নষ্ট করছে আরেকটি রাজনৈতিক দল। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশে একটি মাত্র রাজনৈতিক দল থাকবে। তারা লুণ্ঠন করবে, শোষণ করবে, এদেশের মানুষের উপর নির্যাতন করবে।  সরকারের এই অপরাজনীতির কারণে তারা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থ হয়েছে। মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। এদেশের মানুষ সব সময়ে আন্দোলন করে তাদের অধিকার রক্ষা করেছে।

 

ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মাদ ইবরাহিম বীর প্রতিক, জাতীয় গণতান্ত্রিক দলের সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুর রকিব, বিএলএর সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, সাম্যবাদী দলের চেয়ারম্যান কমরেড সাঈদ আহমেদ প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।