খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি ২৫ এপ্রিল

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের পরবর্তী শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ২৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেছে আদালত।

 

রবিবার দুপুরে বকশীবাজার আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদার এ দিন ধার্য করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে পুনরায় জেরা করার আবেদন ও খালেদার পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি পেছানোর আবেদন নাকচ করে আদালত। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আদালত খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন।

 

এর আগে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন খালেদা। সকাল সাড়ে দশটায় আদালত চত্বরে এসে পৌঁছে ১০টা ৩৫ মিনিটে এজলাসকক্ষে ঢোকেন তিনি।

 

এরপর ১০ মিনিট আসামির কাঠগড়ার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। ১০টা ৪৫ মিনিট বিচারক এজলাসে বসার পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া তার বসার অনুমতি প্রার্থনা করেন। আদালত অনুমতি দিলে কাঠগড়ার সামনে রাখা তার জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসেন খালেদা।

 

পরে খালেদার পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশিদের পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণের আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। এ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন খালেদার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। দেড় ঘণ্টা ধরে এ শুনানি শেষে আবেদনটি খারিজ করে দেন আদালত।

 

এরপর বেলা সোয়া বারটায় তদন্ত কর্মকর্তাকে পুনরায় জেরার আরো একটি আবেদন জমা দেন খালেদার আইনজীবীরা। এ আবেদনেরও শুনানি করেন এ জে মোহাম্মদ আলী।

 

গত ৭ এপ্রিল জামিনে থাকা তিন আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য থাকলেও খালেদা জিয়া হাজির না হয়ে আইনজীবীদের দিয়ে সময়ের আবেদন জানান। এ আবেদন মঞ্জুর করে ১৭ এপ্রিল দিন পুনর্নির্ধারণ করে তাকে হাজির থাকার আদেশ দেন আদালত।

 

ওইদিন জামিনে থাকা অন্য দুই আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে বক্তব্য দেন। তারা কোনো সাফাই সাক্ষী দেবেন না এবং পরে লিখিত বক্তব্য দেবেন বলেও জানান। রবিবার আদালতে লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান।

 

গত ৩১ মার্চ ৩২তম ও শেষ সাক্ষী তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশিদকে আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে শেষ হয় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা।

 

খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে ছিলেন তার আইনজীবী অ্যাড. খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়াসহ বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। দুদকের পক্ষে আছেন অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল।

 

খালেদার হাজিরাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে দলের সিনিয়র নেতারাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে আদালতপাড়া ও আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়। পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চার শতাধিক সদস্য মোতায়েন করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।