‘রাজনৈতিক চাপের’ কথা স্বীকার করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অবশেষে ‘রাজনৈতিক চাপে’ থাকার কথা স্বীকার করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, অনেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজ আছে যেগুলোর প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক বা ল্যাবরেটরি সুবিধা নেই। কিন্তু যখন আমরা ব্যবস্থা নিই, তখন বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাদের ওপর চাপ আসে। রবিবার সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

 

২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেসে’ বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বিএইচআরএফ সভাপতি তৌফিক মারুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক মাহমুদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আর্সলানও ছিলেন।

 

মেডিকেল কলেজ পরিচালনার নীতিমালা ভঙ্গ করায় গত ১২ জুন রংপুরের নর্দান মেডিকেল কলেজ, গাজীপুরের সিটি মেডিকেল কলেজ ও আশুলিয়ার নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে এরপের মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে চার দিনের মাথায় ওই আদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

 

নাসিম বলেন, মেডিকেল কলেজগুলো বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে তার উপর ‘চাপ’ আসতে থাকে। ওই ছাত্রদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে আমি আদেশটি প্রত্যাহার করেছি। কিন্তু ওই মেডিকেল কলেজগুলোতে নতুন শিক্ষার্থী নেওয়া বন্ধ রেখেছি। বাংলাদেশের ৬৮টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সবগুলোই পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান মন্ত্রী।

 

নতুন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অনুমোদন বা পুরনোগুলোর লাইসেন্স নবায়ন এবং সেগুলোতে শিক্ষার্থীর আসন সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএমডিসির প্রতিবেদনগুলো যৌথ পর্যালোচনা হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

 

আলোচনায় জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো চালিয়ে নেওয়ার জন্য বাজেটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আরো বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান মন্ত্রী। ‘ই-টেন্ডারিংয়ে বিশ্ব ব্যাংকের বাধা’ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ই-টেন্ডারিং চালুতে বিশ্ব ব্যাংকের বাধা আসছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, ক্রয় প্রক্রিয়ায় আমি স্বচ্ছতা আনতে চাই। সে কারণে আমি কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর ডিপো-সিএমএসডি) ই-টেন্ডারিং চালু করতে চেয়েছি। কিন্তু বিশ্ব ব্যাংক এর বিরোধিতা করছে।

 

তবে দুর্নীতি কমাতে ই-টেন্ডারিং চালু করবেন বলে জানান তিনি। বিশ্ব ব্যাংক কেন এই প্রক্রিয়ার ‘বিরোধিতা করছে’ তার কোনো কারণ উল্লেখ করেননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

 

তবে তিনি বলেন, দাতাদের দেওয়া শর্তগুলো মন্ত্রণালয়ের ‘কর্মসূচি বাস্তবায়ন বিলম্বিত করে’।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।